📄 যে ব্যক্তি তার অভাবগ্রস্ত আত্মীয়ের পরিবর্তে অন্যকে দান করে
عن أبي هريرة قال قال رسول الله ﷺ : « يا امة محمد والذي بعثني بالحق لا يقبل الله صدقة من رجل وله قرابة محتاجون إلى صلته ويصرفها إلى غيرهم . والذي نفسي بيده لا ينظر الله اليه يوم القيامة» (طبرانی)
আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, হে উম্মাতে মুহাম্মাদী! সেই সত্তার কসম, যিনি আমাকে সত্য দীনসহ পাঠিয়েছেন, আল্লাহ তা'আলা সেই ব্যক্তির দান কবুল করবেন না, যার আত্মীয়-স্বজন তার আত্মীয়তার হকে মুখাপেক্ষী থাকা সত্ত্বেও সে তাদের না দিয়ে অন্যদের দান করে। সেই আল্লাহর শপথ, যার হাতে আমার প্রাণ। আল্লাহ তা'আলা এমন ব্যক্তির প্রতি কিয়ামতের দিন রহমতের দৃষ্টিতে তাকাবেন না। (তাবারানী)
একজন মানুষের কাছে অন্য যে কোন মানুষের চাইতে তার আত্মীয়ের হক্ব সবচেয়ে বেশি। প্রতিটি ধনীর সম্পদে গরীবের হক্ব রয়েছে, যা দান, সাদকা ও যাকাতের মাধ্যমে ধনীদেরকে আদায় করতে হয়। আর উক্ত হক্বদার ব্যক্তি যদি তার কোন আত্মীয় হয়ে থাকে তাহলে সে আত্মীয়টি উক্ত দান বা যাকাতের বেশি হক্বদার হয়ে যায় দু'টি কারণে-
(ক) আত্মীয়তার সম্পর্ক (খ) দানের প্রাপক হিসেবে।
মহানবী সল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম অন্যান্যদের পূর্বে নিজ আত্মীয়কে দান করার জন্য উৎসাহ প্রদান করে বলেন, কোন অভাবগ্রস্ত ব্যক্তিকে সাহায্য করলে সাদকার সাওয়াব পাওয়া যাবে কিন্তু কোন নিকটাত্মীয়কে সাহায্য করলে একই সঙ্গে সাদকা এবং আত্মীয়তার হক আদায়ের সাওয়াব লাভ করবে। (মিশকাত)
অথচ সমাজে এমন বহু ধনী লোক রয়েছে যাদের অর্থের সহযোগিতায় কোন কল্যাণমূলক প্রতিষ্ঠান; যেমন- মাদ্রাসা, এতিমখানা বা মাসজিদ ইত্যাদি পরিচালিত হচ্ছে অথচ তারই কোন নিকটাত্মীয় অভাব-অনটনে দিন কাটাচ্ছে। কিন্তু সে তাতে কোনই ভ্রুক্ষেপ করছে না। এ ক্ষেত্রে দেখা যায় যে, হয়তো কয়েকটি কারণে সে অভাবী আত্মীয়কে অবহেলা করছে-
(১) আত্মীয়কে দান করার গুরুত্ব সে উপলব্ধি করেনি।
(২) সে চায় না তার আত্মীয়-স্বজন স্বচ্ছল অবস্থায় ফিরে আসুক।
(৩) হয়তো তার সাথে সম্পর্ক ভাল নয় তাই জিদের বশবর্তী হয়ে দান করা হতে বিরত রয়েছে।
(৪) জেনে শুনে নিজের বড়ত্ব প্রকাশের জন্য অভনাবী আত্মীয়কে দেখিয়ে অন্যকে দান করছে।
উপরোক্ত যে কোন কারণেই হোক না কেন আত্মীয় সম্পর্কে উল্লেখিত হাদীসে এটাই প্রমাণিত হচ্ছে যে, যার আত্মীয় তার আত্মীয়তার হজ্বে মুখাপেক্ষী থাকা সত্ত্বেও সে তাদের না দিয়ে অন্যদের দান করে আল্লাহ তা'আলা সেই ব্যক্তির দান কবুল করবেন না।
📄 মাসজিদ ব্যতীত মাসজিদের প্রতিবেশীর নামায
قال رسول الله ﷺ : « لا صلاة الجار المسجد إلا في المسجد »
(دارقطنی ١٦١، والحاكم ١/٢٤٦، بیهقی ٥٧/٣، وقال وهو ضعيف)
রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, মাসজিদের প্রতিবেশীর নামায মাসজিদ ব্যতীত হবে না। (দারাকুতনী, হাকিম, বাইহাকী)
আলোচ্য হাদীসকে কেন্দ্র করে কয়েকটি মত পাওয়া যায়।
(১) মাসজিদের প্রতিবেশী যদি প্রাপ্ত বয়স্ক সুস্থ ও পুরুষ হয় তবে তাকে মাসজিদে গিয়েই নামায পড়তে হবে। অন্যথায় তার নামায হবে না। কেননা রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম অন্য হাদীসে এরূপ ব্যক্তির ঘর-বাড়ি জ্বালিয়ে দেবার ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন, যারা মাসজিদের প্রতিবেশী হয়েও মাসজিদে নামায পড়তে আসে না।
এছাড়াও অন্য বর্ণনায় রয়েছে যে, এক অন্ধ সাহাবী আব্দুল্লাহ বিন উম্মে মাকতুন রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এসে তার অন্ধত্বের ওজর দেখিয়ে মাসজিদে না আসার অনুমতি চাইলে রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে অনুমতি দেন। কিন্তু পরক্ষণেই তাকে ডেকে বললেন যে, তুমি কি নিদা (আযান) শুনতে পাও? যদি শুনতে পাও তবে মাসজিদে এসেই নামায আদায় করবে। (আবূ দাউদ, ইবনু মাজাহ, ইরওয়া- আলবানী একে সহীহ বলেছেন)
কিন্তু মাসজিদের প্রতিবেশী মুসলিম ব্যক্তিটি যদি অসুস্থ বা অক্ষম হয় বা বাইরে বের হওয়াটা তার জন্য নিরাপদ নয় বলে মনে হয় বা নাবালক হয় বা মহিলা হয় তবে উক্ত ব্যক্তি উল্লেখিত হাদীসের পর্যায় পরবে না।
(২) হানাফীদের মতে 'নামায হবে না' কথা দ্বারা নামায পরিপূর্ণ হবে না বুঝানো বলা হয়েছে। অর্থাৎ নামায সম্পূর্ণ বাতিল না হয়ে অসম্পূর্ণভাবে আদায় হয়ে যাবে।
(৩) মাসজিদে জামা'আতে নামায পড়ার প্রতি গুরুত্ব ও উৎসাহ প্রদানের জন্য তা বলা হয়েছে। যেমন, রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: যে ব্যক্তি আযান শুনেছে আর তার অনুসরণ করতে তাকে কোন ওজর বাধা দেয়নি তথাপি সে জামা'আতে হাযির হয় নাই। তাঁর সেই নামায কবুল করা হবে না যা সে একা পড়েছে। সাহাবীগণ জিজ্ঞেস করলেন, ওজর কি? তিনি বললেন, (শত্রু প্রভৃতির) ভয় বা রোগ। (আবু দাউদ, দারাকুতনী, মিশকাত- আলবানীএকে যঈফ বলেছেন)
নাবী সল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি আযান শুনতে পেল অথচ (মাসজিদে জামাআতে) উপস্থিত হলো না তার নামায নেই। তবে ওজরের কথা ভিন্ন। (ইবনু মাজাহ, আবু দাউদ- আলবানী একে সহীহ বলেছেন)
(৪) মাসজিদ ব্যতীত বাড়িতে নামায পড়লে এতে ফরয আদায় হয়ে যাবে। কিন্তু মাসজিদে পড়লে যে সাওয়াব ও ফযীলত পেতো তা থেকে সে বঞ্চিত হবে। যেমন- রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, কোন ব্যক্তির মাসজিদে জামা'আতে নামায তার ঘরে বা দোকানে (একাকী) নামায আদায়ের অপেক্ষা পঁচিশ গুণ (অন্য বর্ণনা মতে- বিশ, চব্বিশ বা সাতাশ গুণ) বেশি সাওয়াব পাবে। (বুখারী, মুসলিম, আবূ দাউদ, ইবনু মাজাহ, রাওয, তা'লীকুর রাগীব, আলবানী উল্লেখিত বর্ণনাগুলোকে সহীহ বলেছেন)
উল্লেখ্য এ বিধান শুধু ফরয নামাযের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। সুন্নাত ও নফল নামায বাড়িতে পড়া উত্তম।
📄 মৃত্যু উপস্থিত হলে এবং সূর্য পশ্চিম দিকে উদিত হলে ঈমান ও তাওবাহ কবুল হবে না
وَلَيْسَتِ التَّوْبَةُ لِلَّذِينَ يَعْمَلُونَ السَّيَاتِ حَتَّى إِذَا حَضَرَ أَحَدَهُمُ. الْمَوْتُ قَالَ إِنِّي تُبْتَ النَّنَ
"আর সে সব লোকদের তাওবাহ কোনই কাজে আসবে না যারা সারা জীবন অন্যায় কাজ করেছে, যখনই তাদের কারো নিকট মৃত্যু এসে উপস্থিত হয় তখন বলে আমি এখন তাওবাহ করছি।” (সূরা আন-নিসা ১৮)
মানুষের কণ্ঠনালীর সামনে যখন মৃত্যু এসে উপস্থিত হয় তখন দুনিয়ার প্রতি তার আর কোন মোহ বা খেয়াল থাকে না। সে তখন আরেক জগতের দৃশ্য দেখতে থাকে। এমনি মুহূর্তে কেউ তাওবাহহ করলে তার তাওবাহ আল্লাহ কবুল করবেন না। কারণ সে সারা জীবনে শুধু পাপই করে গেছে, তখন তাওবাহ না করে এখন মৃত্যুর সময় তাওবাহ করে কি হবে। ঠিক এমন অবস্থা ফিরাউনের বেলায়ও ঘটেছিল। সে মৃত্যুর সময় ঈমানের স্বীকৃতি জানালে আল্লাহ তা কবুল করেননি। কুরআন মাজীদে ফিরাউনের অবস্থা বর্ণনা প্রসঙ্গে বলা হয়,
وجَاوَزْنَا بَنِي إِسْرَائِيلَ الْبَحْرَ فَأَتْبَعَهُمْ فِرْعَوْنُ وَجُنُودُهُ بَغْيًا وَعَدُوا حَتَّى إِذَا أَدْرَكَهُ الْغَرَقُ قَالَ آمَنْتُ أَنَّهُ لَا إِلَهَ إِلَّا الَّذِي آمَنَتْ بِهِ بَنْوا إِسْرَائِيلَ وَأَنَا مِنَ الْمُسْلِمِينَ * اَلْتَنَ وَقَدْ عَصَيْتُ قَبْلُ وَكُنْتَ مِنَ الْمُفْسِدِينَ
"ফিরাউন যখন ডুবে যাবে নিশ্চিত জেনে নেয় তখন বলল- আমি ঈমান এনেছি যে, প্রকৃত ইলাহ ছাড়া ইলাহ নেই। যার প্রতি ঈমান এনেছিল বনী ইসরাঈলগণ। আর আমি মুসলমানদের অন্তর্ভুক্ত। (এর জবাবে বলা হলো) এখন ঈমান এনেছিস? অথচ এর পূর্বে নাফরমানী করেছিলে এবং ফাসাদ সৃষ্টিকারীদের অন্তর্ভুক্ত ছিলে।” (সূরা ইউনুস ৯০-৯১)
আমাদের সমাজে প্রায় এমন প্রচলন লক্ষ্য করা যায় যে, যখন কারো গুনাহর জ্ঞান থাকে না, মৃত্যুর শয্যায় শায়িত বা জবান বন্ধ হয়ে যায় তখন কোন মৌলভীকে ডেকে এনে তাওবাহ করিয়ে নেন। এরূপ করাটা কতটুকু স্বার্থক তা উল্লেখিত আয়াত হতে জেনে রাখা দরকার। কারো মতে মৃত্যু উপস্থিত হলে যেহেতু তাওবাহ কবুল হবে না, তাই এ সময় তার দান সাদকাও কবুল হবে না।
أن رسول الله ﷺ قال : « لا تقوم الساعة حتى تطلع الشمس من مغربها فإذا طلعت من مغربها آمن الناس كلهم أجمعون فيومئذ لا ينفع نفسا إيمانها لم تكن امنت من قبل او كسبت في إيمانها خيرا »
রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: পশ্চিম দিকে সূর্যোদয়ের পূর্বে কিয়ামত সংঘটিত হবে না, আর যখন পশ্চিম আকাশে সূর্য উঠবে তখন সকল মানুষ একত্রে ঈমান আনবে। কিন্তু যে ইতিপূর্বে ঈমান আনে নাই অথবা যে ঈমান অনুযায়ী নেক কাজ করে নাই সে সময়ে ঈমান আনায় তার কোন উপকার হবে না। (সহীহ মুসলিম)
قال رسول الله ﷺ ثلاث إذا خرجن لا ينفع نفسا إيمانها لم تكن أمنت من قبل أوكسبت في إيمانها خيرا طلوع الشمس من مغربها والدجال ودابة الأرض». (صحيح مسلم)
রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: তিনটি বিষয় প্রকাশিত হওয়ার পূর্বে যারা ঈমান আনে নাই বা ঈমান অনুযায়ী নেক কাজ করে নাই, সেগুলো প্রকাশ পাওয়ার পর তাদের ঈমান কোন উপকারে আসবে না। (১) পশ্চিম দিকে সূর্যোদয় (২) দাজ্জাল ও (৩) দাব্বাতুল আরদ। (সহীহ মুসলিম)
রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন যে, আল্লাহ তাঁর রহমতের হাত প্রসারিত করেন রাতে যাতে দিনের গুনাহগার তাওবাহ করে নেয়। আর দিনে হাত প্রসারিত করেন যাতে রাতের গুনাহগার তাওবাহ করে নেয়। এভাবে করতে থাকবেন সূর্য পশ্চিম দিক হতে উদয় না হওয়া পর্যন্ত। (সহীহ মুসলিম, নাসাঈ)
অর্থাৎ সূর্য পশ্চিম দিকে উদিত হলে তাওবাহর দরজা বন্ধ হয়ে যাবে। তখন আর ঐ সব লোকের তাওবাহ কবুল করা হবে না যারা সে সময়ে জীবিত থাকবেন।
📄 মৃত ব্যক্তির 'আমলনামায় সাওয়াব পৌঁছানোর নামে মনগড়া কর্মকাণ্ড
قال رسول الله ﷺ : « إذا مات الإنسان (ابن آدم) انقطع عنه عمله إلا من ثلاثة : إلا من صدقة جارية أو علم ينتفع به او ولد صالح يدعوله» (صحیح بخاری، صحيح مسلم، أبو داود، نسائ، طحاوی، بيهقي، أحمد)
«خير ما يخلف الرجل من بعده ثلاث : ولد صلح يدعوله، وصدقة تجرى يبلغه أجرها وعلم يعمل من بعده» (ابن ماجه، ابن حبان، طبرانی صغیر، قال منذری : اسناد صحیح)
রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, মৃত্যুর পর মানুষের আমলের ধারা বন্ধ হয়ে যায় কিন্তু তিনটি আমলের ধারা অব্যাহত থাকে। সে তিনটি হচ্ছে-
১। সাদকায়ে জারিয়া। অর্থাৎ কেউ যদি জীবিত থাকা অবস্থায় মাসজিদ, মাদ্রাসা নির্মাণ ও দান সাদকা করে যায় তাহলে এর দ্বারা মানুষ যতদিন উপকার লাভ করবে তার সাওয়াব সে মৃত্যুর পরেও পেতে থাকবে।
২। এমন ইল্ম যা দ্বারা মানুষ উপকৃত হয়। অর্থাৎ যদি কোন লোক জীবিত থাকা অবস্থায় নিষ্ঠা ও ঐকান্তিকতার সাথে এমন ইল্ম রেখে যায় যা দ্বারা মানুষ উপকৃত হয়, যেমন- সে কোন ছাত্রকে দীনি ইল্ম শিক্ষা দিল, সে ছাত্রটি আবার অপর কাউকে শিক্ষা দিল এমনিভাবে ঐ ইল্মের চর্চা যতদিন পর্যন্ত চলতে থাকবে সেগুলোর সাওয়াবও তার 'আমলনামায় সংযোজিত হতে থাকবে। অনুরূপভাবে কোন ধর্মীয় গ্রন্থ রচনা করলেও এর সাওয়াব মৃত্যুর পরেও অব্যাহত থাকবে।
৩। সু-সন্তান যে তার জন্য দু'আ করে। অর্থাৎ মাতা-পিতা যদি সন্তানদেরকে পরহেজগার, দীনদার ও চরিত্রবান করে গড়ে তুলে তাহলে তাদের মৃত্যুর পরও সু-সন্তানের নেক দু'আ তাদের উপর অব্যাহত থাকে। আর সে দু'আও স্বয়ং আল্লাহ শিক্ষা দিয়েছেন- "রব্বির হামহুমা কামা রব্বা ইয়ানি সগিরা"।
কিন্তু দুঃখের বিষয় হচ্ছে রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর স্পষ্ট বক্তব্য থাকা সত্ত্বেও মৃত ব্যক্তির 'আমলনামায় সাওয়াব পৌঁছানোর জন্য মৃত ব্যক্তির নামে বিভিন্ন মনগড়া কার্যাবলী মুসলিম সমাজে পরিলক্ষিত হচ্ছে। যেমন-
(ক) কোন ব্যক্তি মারা গেলে তার জন্য সবিনা খতম পড়া, মৃত দেহের সামনে কুরআন তিলাওয়াত করা।
(খ) তাসবীহ পাঠ খতম বখসানো। যেমন- সুবহানাল্লাহ, আলহামদুলিল্লাহ, আল্লাহু আকবার ইত্যাদি হাজার বা লক্ষাধিকবার বিভিন্ন জনে ভাগাভাগি করে পাঠের পর তা একত্রিত করে বখসিয়ে দেয়া, আম্বিয়া খতম, মরিয়ম খতম, জালানী খতম, ইয়াসীন খতম বা দরূদে হাজারী ইত্যাদি মনগড়া দরূদ খতম বখসানো।
(গ) হিন্দুদের অনুকরণে তিন দিন, চল্লিশা, কুলখানি ইত্যাদি অনুষ্ঠানাদি।
(ঘ) মৃত ব্যক্তির নামে নামায পড়া। তবে জীবিত থাকা অবস্থায় যদি কাযা রোযা রেখে যায় বা হাজ্জের নিয়ত করে এবং অর্থও রেখে যান তবে তার উত্তরসূরী তার পক্ষ থেকে উক্ত রোযা ও হাজ্জ পালন করতে পারবে কিন্তু নামায পড়ার বিধান নেই।
(ঙ) কবরের পাশে বসে কুরআন পাঠ, দরূদ পাঠ ইত্যাদি।
মৃত ব্যক্তিকে কেন্দ্র করে উল্লেখিত যে সকল কর্মকাণ্ড করা হচ্ছে, তা না রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম করেছেন, না করতে বলেছেন, না করেছেন সাহাবা (রাঃ), না তাবিঈ বা তাবে তাবিঈ কিরামগণ। বরং কুরআন-সুন্নাহর সাথে ওসব কার্যাবলীর কোনরূপ সম্পর্ক নেই। তাই ওগুলো কবুল হওয়ার ব্যাপারে যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে। কেননা আল্লাহ বলেছেন-
ومن يبتغ غير الإِسْلَامِ دِينًا فَلَنْ يَقَبَلَ مِنْهُ
“ইসলামের নির্ধারিত নিয়মনীতি ছাড়া অন্য কোন নিয়মনীতির কার্যাবলী কস্মিনকালেও কবুল করা হবে না।” (সূরা আল-ইমরান ৮৫)