📘 যাদের ইবাদত কবুল হয় না > 📄 যে জাতি নিজ হাতে কামানো আযাবে পতিত হয়

📄 যে জাতি নিজ হাতে কামানো আযাবে পতিত হয়


فسمعته يقول : «يأيها الناس إن الله عزوجل يقول مروا بالمعروف وانهو عن المنكر من قبل ان تدعوني فلا أجيبكم وتسألوني فلا أعطيكم وتستنصروني فلا أنصروكم» (احمد، ابن ماجة، حسنه الباني)
আয়িশা (রাঃ) বর্ণনা করেন যে, একদা রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার ঘরে আসলেন। তখন তাঁর মুখমণ্ডল দেখে মনে হলো যে, কোন জিনিস যেন তাকে আঘাত করেছে। অতঃপর তিনি অযু করলেন এবং বের হয়ে গেলেন। এ সময়ের মধ্যে তিনি কাউকেও কিছু বললেন না। আমি হুজরার ভেতর থেকেই তাঁর নিকট উপস্থিত হলাম। তখন আমি শুনতে পেলাম, তিনি বলছেন- হে লোক সমাজ! আল্লাহ তা'আলা নিশ্চয় বলেছেন যে, "তোমরা অবশ্যই সৎকাজের আদেশ করবে এবং অসৎকাজ হতে লোকদের বিরত রাখবে সেই অবস্থা সৃষ্টির পূর্বে যখন তোমরা আমাকে ডাকবে কিন্তু আমি তাতে সাড়া দেব না, তোমরা আমার নিকট চাইবে কিন্তু আমি তোমাদেরকে দেব না। তোমরা আমার কাছে সাহায্য প্রার্থনা করবে, কিন্তু আমি তোমাদের সাহায্য করবো না”। (মুসনাদে আহমাদ, ইবনু মাজাহ- আলবানী একে হাসান বলেছেন)
عن حذيفة بن اليمان عن النبي قال : «والذي نفسي بيده لتأمرن بالمعروف ولتنهون عن المنكر او ليوشكن الله ان يبعث عليكم عقابا منه ثم تدعونه فلا يستجاب لكم» (ترمزی، وحسنه)
হুযাইফা ইবনুল ইয়ামান (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, সেই সত্তার শপথ যার হাতে আমার প্রাণ! তোমরা অবশ্যই সৎকাজের আদেশ করবে এবং অন্যায়ের প্রতিরোধ করবে। নতুবা অবিলম্বে আল্লাহ তোমাদের উপর তাঁর আযাব নাযিল করবেন। তখন তোমরা তাঁর কাছে দু'আ করলেও তিনি তোমাদের সেই দু'আ কবুল করবেন না। (তিরমিযী, ইমাম তিরমিযী একে হাসান বলেছেন)
عن حذيفة بن اليمان قال قال رسول الله ﷺ : «التأمرن بالمعروف ولتنهون عن المنكر ولتحاضن على الخير او ليسحتنكم الله جميعا بعذاب أو ليؤمرن عليكم شراركم ثم يدعوا خياركم فلا يستجاب لهم» (مسند أحمد)
হুযাইফা বিন ইয়ামান (রাঃ) হতে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমরা অবশ্যই সৎকাজের আদেশ এবং অসৎকাজের প্রতিরোধ করবে। অন্যথায় আল্লাহ তা'আলা যে কোন আযাবে তোমাদের সকলকে ধ্বংস করে দিবেন কিংবা তোমাদের মধ্য হতে সর্বাধিক পাপাচারী অন্যায়কারী জালিম লোকদেরকে তোমাদের উপর শাসনকর্তা নিযুক্ত করে দিবেন। এমতাবস্থায় তোমাদের মধ্যকার সৎ লোকেরা আল্লাহর কাছে মুক্তি লাভের জন্য দু'আ করবে কিন্তু তখন তা কবুল করা হবে না। (মুসনাদে আহমাদ)
কুরআন হাদীসে বর্ণিত নির্দেশাবলী মেনে চলার আহ্বান ও নিষিদ্ধ তথা নাফরমানী কাজের নিষেধ ও প্রতিরোধ করার দায়িত্ব আল্লাহ তা'আলা সর্বস্তরের মুসলমানের জন্য বিধিবদ্ধ করে দিয়েছেন। এটা এমনি একটি দায়িত্ব যা বাস্তবায়নে অলসতা, উদাসীনতা ও অনীহা প্রকাশ কোন জাতির ভাগ্যে করুণ পরিণতি ডেকে আনার জন্য যথেষ্ট। যে দেশের রাষ্ট্র নায়ক, সমাজের নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিবর্গ এবং জনসাধারণ 'সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজ প্রতিরোধে ব্যর্থ, যেখানে হত্যা, সন্ত্রাস, চুরি, চাঁদাবাজী, সুদ, ঘুষ, যিনা, ব্যভিচারী, জীবনের নিরাপত্তার হুমকি, অর্থনৈতিক দূরবস্থা, পারিবারিক কোন্দল, রাজনৈতিক অস্থিরতা ও বিশ্বাসঘাতকতা, সামাজিক বিশৃঙ্খলা, অসৎ লোকের নেতৃত্ব কর্তৃত্ব, বন্যা, খড়া, মহামারি প্রভৃতি আযাব তাদেরকে চারদিক থেকে অক্টোপাসের মত ঘিরে ধরবে। ঠিক এমনি মুহূর্তে অশান্তির আগুনে জর্জরিত অতিষ্ঠ মানবের আল্লাহর দরবারে ফরিয়াদ করাটাই স্বাভাবিক কিন্তু এ তো নিজেদের হাতের কামাই। ঐরূপ অবস্থার জন্য তো নিজেরাই দায়ী। তাই এরূপ অবস্থায় দু'আ কিভাবে কাজে লাগবে? অথচ রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরূপ পরিস্থিতি সৃষ্টির ব্যাপারে আগেই সতর্ক করে দিয়েছিলেন যে, "মানুষ কোন অত্যাচারীকে অত্যাচার করতে দেখেও তার দু'হাত চেপে ধরে তাকে প্রতিহত না করলে অচিরেই আল্লাহ তা'আলা তাদের সকলকে তাঁর ব্যাপক আযাবে নিক্ষিপ্ত করবেন"- (তিরমিযী, তিনি একে সহীহ বলেছেন)।

📘 যাদের ইবাদত কবুল হয় না > 📄 যে ব্যক্তি তার অভাবগ্রস্ত আত্মীয়ের পরিবর্তে অন্যকে দান করে

📄 যে ব্যক্তি তার অভাবগ্রস্ত আত্মীয়ের পরিবর্তে অন্যকে দান করে


عن أبي هريرة قال قال رسول الله ﷺ : « يا امة محمد والذي بعثني بالحق لا يقبل الله صدقة من رجل وله قرابة محتاجون إلى صلته ويصرفها إلى غيرهم . والذي نفسي بيده لا ينظر الله اليه يوم القيامة» (طبرانی)
আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, হে উম্মাতে মুহাম্মাদী! সেই সত্তার কসম, যিনি আমাকে সত্য দীনসহ পাঠিয়েছেন, আল্লাহ তা'আলা সেই ব্যক্তির দান কবুল করবেন না, যার আত্মীয়-স্বজন তার আত্মীয়তার হকে মুখাপেক্ষী থাকা সত্ত্বেও সে তাদের না দিয়ে অন্যদের দান করে। সেই আল্লাহর শপথ, যার হাতে আমার প্রাণ। আল্লাহ তা'আলা এমন ব্যক্তির প্রতি কিয়ামতের দিন রহমতের দৃষ্টিতে তাকাবেন না। (তাবারানী)
একজন মানুষের কাছে অন্য যে কোন মানুষের চাইতে তার আত্মীয়ের হক্ব সবচেয়ে বেশি। প্রতিটি ধনীর সম্পদে গরীবের হক্ব রয়েছে, যা দান, সাদকা ও যাকাতের মাধ্যমে ধনীদেরকে আদায় করতে হয়। আর উক্ত হক্বদার ব্যক্তি যদি তার কোন আত্মীয় হয়ে থাকে তাহলে সে আত্মীয়টি উক্ত দান বা যাকাতের বেশি হক্বদার হয়ে যায় দু'টি কারণে-
(ক) আত্মীয়তার সম্পর্ক (খ) দানের প্রাপক হিসেবে।
মহানবী সল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম অন্যান্যদের পূর্বে নিজ আত্মীয়কে দান করার জন্য উৎসাহ প্রদান করে বলেন, কোন অভাবগ্রস্ত ব্যক্তিকে সাহায্য করলে সাদকার সাওয়াব পাওয়া যাবে কিন্তু কোন নিকটাত্মীয়কে সাহায্য করলে একই সঙ্গে সাদকা এবং আত্মীয়তার হক আদায়ের সাওয়াব লাভ করবে। (মিশকাত)
অথচ সমাজে এমন বহু ধনী লোক রয়েছে যাদের অর্থের সহযোগিতায় কোন কল্যাণমূলক প্রতিষ্ঠান; যেমন- মাদ্রাসা, এতিমখানা বা মাসজিদ ইত্যাদি পরিচালিত হচ্ছে অথচ তারই কোন নিকটাত্মীয় অভাব-অনটনে দিন কাটাচ্ছে। কিন্তু সে তাতে কোনই ভ্রুক্ষেপ করছে না। এ ক্ষেত্রে দেখা যায় যে, হয়তো কয়েকটি কারণে সে অভাবী আত্মীয়কে অবহেলা করছে-
(১) আত্মীয়কে দান করার গুরুত্ব সে উপলব্ধি করেনি।
(২) সে চায় না তার আত্মীয়-স্বজন স্বচ্ছল অবস্থায় ফিরে আসুক।
(৩) হয়তো তার সাথে সম্পর্ক ভাল নয় তাই জিদের বশবর্তী হয়ে দান করা হতে বিরত রয়েছে।
(৪) জেনে শুনে নিজের বড়ত্ব প্রকাশের জন্য অভনাবী আত্মীয়কে দেখিয়ে অন্যকে দান করছে।
উপরোক্ত যে কোন কারণেই হোক না কেন আত্মীয় সম্পর্কে উল্লেখিত হাদীসে এটাই প্রমাণিত হচ্ছে যে, যার আত্মীয় তার আত্মীয়তার হজ্বে মুখাপেক্ষী থাকা সত্ত্বেও সে তাদের না দিয়ে অন্যদের দান করে আল্লাহ তা'আলা সেই ব্যক্তির দান কবুল করবেন না।

📘 যাদের ইবাদত কবুল হয় না > 📄 মাসজিদ ব্যতীত মাসজিদের প্রতিবেশীর নামায

📄 মাসজিদ ব্যতীত মাসজিদের প্রতিবেশীর নামায


قال رسول الله ﷺ : « لا صلاة الجار المسجد إلا في المسجد »
(دارقطنی ١٦١، والحاكم ١/٢٤٦، بیهقی ٥٧/٣، وقال وهو ضعيف)
রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, মাসজিদের প্রতিবেশীর নামায মাসজিদ ব্যতীত হবে না। (দারাকুতনী, হাকিম, বাইহাকী)
আলোচ্য হাদীসকে কেন্দ্র করে কয়েকটি মত পাওয়া যায়।
(১) মাসজিদের প্রতিবেশী যদি প্রাপ্ত বয়স্ক সুস্থ ও পুরুষ হয় তবে তাকে মাসজিদে গিয়েই নামায পড়তে হবে। অন্যথায় তার নামায হবে না। কেননা রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম অন্য হাদীসে এরূপ ব্যক্তির ঘর-বাড়ি জ্বালিয়ে দেবার ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন, যারা মাসজিদের প্রতিবেশী হয়েও মাসজিদে নামায পড়তে আসে না।
এছাড়াও অন্য বর্ণনায় রয়েছে যে, এক অন্ধ সাহাবী আব্দুল্লাহ বিন উম্মে মাকতুন রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এসে তার অন্ধত্বের ওজর দেখিয়ে মাসজিদে না আসার অনুমতি চাইলে রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে অনুমতি দেন। কিন্তু পরক্ষণেই তাকে ডেকে বললেন যে, তুমি কি নিদা (আযান) শুনতে পাও? যদি শুনতে পাও তবে মাসজিদে এসেই নামায আদায় করবে। (আবূ দাউদ, ইবনু মাজাহ, ইরওয়া- আলবানী একে সহীহ বলেছেন)
কিন্তু মাসজিদের প্রতিবেশী মুসলিম ব্যক্তিটি যদি অসুস্থ বা অক্ষম হয় বা বাইরে বের হওয়াটা তার জন্য নিরাপদ নয় বলে মনে হয় বা নাবালক হয় বা মহিলা হয় তবে উক্ত ব্যক্তি উল্লেখিত হাদীসের পর্যায় পরবে না।
(২) হানাফীদের মতে 'নামায হবে না' কথা দ্বারা নামায পরিপূর্ণ হবে না বুঝানো বলা হয়েছে। অর্থাৎ নামায সম্পূর্ণ বাতিল না হয়ে অসম্পূর্ণভাবে আদায় হয়ে যাবে।
(৩) মাসজিদে জামা'আতে নামায পড়ার প্রতি গুরুত্ব ও উৎসাহ প্রদানের জন্য তা বলা হয়েছে। যেমন, রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: যে ব্যক্তি আযান শুনেছে আর তার অনুসরণ করতে তাকে কোন ওজর বাধা দেয়নি তথাপি সে জামা'আতে হাযির হয় নাই। তাঁর সেই নামায কবুল করা হবে না যা সে একা পড়েছে। সাহাবীগণ জিজ্ঞেস করলেন, ওজর কি? তিনি বললেন, (শত্রু প্রভৃতির) ভয় বা রোগ। (আবু দাউদ, দারাকুতনী, মিশকাত- আলবানীএকে যঈফ বলেছেন)
নাবী সল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি আযান শুনতে পেল অথচ (মাসজিদে জামাআতে) উপস্থিত হলো না তার নামায নেই। তবে ওজরের কথা ভিন্ন। (ইবনু মাজাহ, আবু দাউদ- আলবানী একে সহীহ বলেছেন)
(৪) মাসজিদ ব্যতীত বাড়িতে নামায পড়লে এতে ফরয আদায় হয়ে যাবে। কিন্তু মাসজিদে পড়লে যে সাওয়াব ও ফযীলত পেতো তা থেকে সে বঞ্চিত হবে। যেমন- রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, কোন ব্যক্তির মাসজিদে জামা'আতে নামায তার ঘরে বা দোকানে (একাকী) নামায আদায়ের অপেক্ষা পঁচিশ গুণ (অন্য বর্ণনা মতে- বিশ, চব্বিশ বা সাতাশ গুণ) বেশি সাওয়াব পাবে। (বুখারী, মুসলিম, আবূ দাউদ, ইবনু মাজাহ, রাওয, তা'লীকুর রাগীব, আলবানী উল্লেখিত বর্ণনাগুলোকে সহীহ বলেছেন)
উল্লেখ্য এ বিধান শুধু ফরয নামাযের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। সুন্নাত ও নফল নামায বাড়িতে পড়া উত্তম।

📘 যাদের ইবাদত কবুল হয় না > 📄 মৃত্যু উপস্থিত হলে এবং সূর্য পশ্চিম দিকে উদিত হলে ঈমান ও তাওবাহ কবুল হবে না

📄 মৃত্যু উপস্থিত হলে এবং সূর্য পশ্চিম দিকে উদিত হলে ঈমান ও তাওবাহ কবুল হবে না


وَلَيْسَتِ التَّوْبَةُ لِلَّذِينَ يَعْمَلُونَ السَّيَاتِ حَتَّى إِذَا حَضَرَ أَحَدَهُمُ. الْمَوْتُ قَالَ إِنِّي تُبْتَ النَّنَ
"আর সে সব লোকদের তাওবাহ কোনই কাজে আসবে না যারা সারা জীবন অন্যায় কাজ করেছে, যখনই তাদের কারো নিকট মৃত্যু এসে উপস্থিত হয় তখন বলে আমি এখন তাওবাহ করছি।” (সূরা আন-নিসা ১৮)
মানুষের কণ্ঠনালীর সামনে যখন মৃত্যু এসে উপস্থিত হয় তখন দুনিয়ার প্রতি তার আর কোন মোহ বা খেয়াল থাকে না। সে তখন আরেক জগতের দৃশ্য দেখতে থাকে। এমনি মুহূর্তে কেউ তাওবাহহ করলে তার তাওবাহ আল্লাহ কবুল করবেন না। কারণ সে সারা জীবনে শুধু পাপই করে গেছে, তখন তাওবাহ না করে এখন মৃত্যুর সময় তাওবাহ করে কি হবে। ঠিক এমন অবস্থা ফিরাউনের বেলায়ও ঘটেছিল। সে মৃত্যুর সময় ঈমানের স্বীকৃতি জানালে আল্লাহ তা কবুল করেননি। কুরআন মাজীদে ফিরাউনের অবস্থা বর্ণনা প্রসঙ্গে বলা হয়,
وجَاوَزْنَا بَنِي إِسْرَائِيلَ الْبَحْرَ فَأَتْبَعَهُمْ فِرْعَوْنُ وَجُنُودُهُ بَغْيًا وَعَدُوا حَتَّى إِذَا أَدْرَكَهُ الْغَرَقُ قَالَ آمَنْتُ أَنَّهُ لَا إِلَهَ إِلَّا الَّذِي آمَنَتْ بِهِ بَنْوا إِسْرَائِيلَ وَأَنَا مِنَ الْمُسْلِمِينَ * اَلْتَنَ وَقَدْ عَصَيْتُ قَبْلُ وَكُنْتَ مِنَ الْمُفْسِدِينَ
"ফিরাউন যখন ডুবে যাবে নিশ্চিত জেনে নেয় তখন বলল- আমি ঈমান এনেছি যে, প্রকৃত ইলাহ ছাড়া ইলাহ নেই। যার প্রতি ঈমান এনেছিল বনী ইসরাঈলগণ। আর আমি মুসলমানদের অন্তর্ভুক্ত। (এর জবাবে বলা হলো) এখন ঈমান এনেছিস? অথচ এর পূর্বে নাফরমানী করেছিলে এবং ফাসাদ সৃষ্টিকারীদের অন্তর্ভুক্ত ছিলে।” (সূরা ইউনুস ৯০-৯১)
আমাদের সমাজে প্রায় এমন প্রচলন লক্ষ্য করা যায় যে, যখন কারো গুনাহর জ্ঞান থাকে না, মৃত্যুর শয্যায় শায়িত বা জবান বন্ধ হয়ে যায় তখন কোন মৌলভীকে ডেকে এনে তাওবাহ করিয়ে নেন। এরূপ করাটা কতটুকু স্বার্থক তা উল্লেখিত আয়াত হতে জেনে রাখা দরকার। কারো মতে মৃত্যু উপস্থিত হলে যেহেতু তাওবাহ কবুল হবে না, তাই এ সময় তার দান সাদকাও কবুল হবে না।
أن رسول الله ﷺ قال : « لا تقوم الساعة حتى تطلع الشمس من مغربها فإذا طلعت من مغربها آمن الناس كلهم أجمعون فيومئذ لا ينفع نفسا إيمانها لم تكن امنت من قبل او كسبت في إيمانها خيرا »
রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: পশ্চিম দিকে সূর্যোদয়ের পূর্বে কিয়ামত সংঘটিত হবে না, আর যখন পশ্চিম আকাশে সূর্য উঠবে তখন সকল মানুষ একত্রে ঈমান আনবে। কিন্তু যে ইতিপূর্বে ঈমান আনে নাই অথবা যে ঈমান অনুযায়ী নেক কাজ করে নাই সে সময়ে ঈমান আনায় তার কোন উপকার হবে না। (সহীহ মুসলিম)
قال رسول الله ﷺ ثلاث إذا خرجن لا ينفع نفسا إيمانها لم تكن أمنت من قبل أوكسبت في إيمانها خيرا طلوع الشمس من مغربها والدجال ودابة الأرض». (صحيح مسلم)
রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: তিনটি বিষয় প্রকাশিত হওয়ার পূর্বে যারা ঈমান আনে নাই বা ঈমান অনুযায়ী নেক কাজ করে নাই, সেগুলো প্রকাশ পাওয়ার পর তাদের ঈমান কোন উপকারে আসবে না। (১) পশ্চিম দিকে সূর্যোদয় (২) দাজ্জাল ও (৩) দাব্বাতুল আরদ। (সহীহ মুসলিম)
রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন যে, আল্লাহ তাঁর রহমতের হাত প্রসারিত করেন রাতে যাতে দিনের গুনাহগার তাওবাহ করে নেয়। আর দিনে হাত প্রসারিত করেন যাতে রাতের গুনাহগার তাওবাহ করে নেয়। এভাবে করতে থাকবেন সূর্য পশ্চিম দিক হতে উদয় না হওয়া পর্যন্ত। (সহীহ মুসলিম, নাসাঈ)
অর্থাৎ সূর্য পশ্চিম দিকে উদিত হলে তাওবাহর দরজা বন্ধ হয়ে যাবে। তখন আর ঐ সব লোকের তাওবাহ কবুল করা হবে না যারা সে সময়ে জীবিত থাকবেন।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00