📘 যাদের ইবাদত কবুল হয় না > 📄 জাফরান রং ব্যবহারকারী পুরুষ

📄 জাফরান রং ব্যবহারকারী পুরুষ


قال رسول الله ﷺ : « لا يقبل الله صلواة رجل في جسده شيئ من خلوق (أبو داود مشكاة، ضعفه الباني)
আবূ মূসা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আল্লাহ সে ব্যক্তির নামায কবুল করেন না, যার দেহে জাফরান রঙের কিছু থাকে। (আবূ দাউদ, মিশকাত)
আম্মার ইবনু ইয়াসির (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, 'একরাতে দু'হাত ফাটা অবস্থায় আমি আমার পরিবারের কাছে হাজির হলে তারা আমার দু'হাতে জাফরান রঙের প্রলেপ লাগিয়ে দেয়। পরদিন সকালে আমি নাবী সল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট উপস্থিত হয়ে তাকে সালাম করলে তিনি আমার সালামের জবাব দেননি এবং মারহাবাও বলেননি বরং তিনি বলেন, তুমি ফিরে যাও এবং একে ধুয়ে ফেল। আমি তা ধুয়ে পুনরায় তার নিকট হাজির হই, কিন্তু সে রঙের কিছু তখনও অবশিষ্ট ছিল। এরপর আমি তাকে সালাম দিলে তিনি আমার সালামের জবাব দেননি এবং মারহাবাও বলেননি। তিনি বলেন, ফিরে যাও এবং হাত থেকে এ রং ধুয়ে ফেল। আমি ফিরে গিয়ে ধুয়ে ফেলে তাঁর কাছে এসে তাকে সালাম করি। তখন তিনি আমার সালামের জবাব দেন এবং মারহাবা বলেন। তারপর তিনি বলেন, ফেরেশতারা কাফিরের জানাযা, জাফরান রং ব্যবহারকারী ও অপবিত্র লোকদের নিকট আসে না। তবে তিনি নাপাক অবস্থায় অযু করার পর পানাহার করতে ও নিদ্রা যেতে অনুমতি দিয়েছেন। (আবূ দাউদ)
আবদুল্লাহ বিন আমর বিন আস (রাঃ) বলেন, নাবী সল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার পরিধানে জাফরান রং এর দু'খানা কাপড় দেখে জিজ্ঞেস করলেন, তোমার মা' কি এগুলি পড়তে বলেছে? আমি বললাম, আমি কাপড়খানা ধুয়ে ফেলব? তিনি বললেন বরং জালিয়ে ফেল। অন্য বর্ণনায় আছে, তিনি বলেন, এগুলো কাফিরদের পোশাক সুতরাং এসব পোশাক পড়বে না। (সহীহ মুসলিম)

📘 যাদের ইবাদত কবুল হয় না > 📄 যে মহিলা খুশবু লাগিয়ে বাইরে বা মাসজিদে যায়

📄 যে মহিলা খুশবু লাগিয়ে বাইরে বা মাসজিদে যায়


عن أبي هريرة قال لقيته امراة وجد منها ريح الطيب ولذيلها اعصار ، فقال : يا امة الجبار جئت من المسجد قالت نعم قال وتطيبت قالت نعم قال اني سمعت حبى ابا القاسم ﷺ يقول : «لا تقبل صلوة امرأة تطيبت لهذا المسجد حتى ترجع فتغسل غسلها من الجنابة»
(ابو داود - صححه الباني، مسلم)
আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন: একদা আমার সাথে এক মহিলার দেখা হয়, যার শরীর থেকে সুগন্ধি বের হচ্ছিল এবং তার (পাতলা) কাপড়ও বাতাসে উড়ছিল। তখন আমি তাকে বলি, হে বেহায়া মহিলা! তুমি কি মাসজিদ থেকে আসছো? সে বলে হ্যাঁ। তিনি বলেন, তুমি কি খুশবু ব্যবহার করেছো? সে বলল, হ্যাঁ। তখন আবূ হুরাইরা (রাঃ) বলেন, আমি আমার প্রিয় আবুল কাসিম রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি: যে মহিলা খুশবু লাগিয়ে এ মাসজিদে আসে, তার নামায কবুল হয় না, যতক্ষণ না সে ফিরে গিয়ে নাপাকীর গোসলের ন্যায় গোসল করে। (অর্থাৎ এমন উত্তমরূপে গোসল করে যাতে তার দেহে কোন সুগন্ধি না থাকে।) (আবূ দাউদ: অনুচ্ছেদ-বাইরে যাওয়ার সময় মহিলাদের খুশবু লাগানো, আলবানী একে সহীহ বলেছেন, মুসলিম)
قال رسول الله ﷺ ايما إمراة أصابت بخورا فلا تشهدن معنا العشاء» (ابو داود - صححه الباني، مسلم)
রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: যে মহিলা লোবান (এক জাতীয় খুশবু) ইত্যাদি দিয়ে খুশবু ব্যবহার করবে সে যেন আমাদের সাথে 'ইশার নামায আদায়ের জন্য উপস্থিত না হয়। (আবূ দাউদ- আলবানী একে সহীহ বলেছেন, মুসলিম)
[ স্ত্রী স্বামীকে খুশি করার জন্য রং ও খুশবু ব্যবহার করতে পারবে। ]

📘 যাদের ইবাদত কবুল হয় না > 📄 যে জাতি নিজ হাতে কামানো আযাবে পতিত হয়

📄 যে জাতি নিজ হাতে কামানো আযাবে পতিত হয়


فسمعته يقول : «يأيها الناس إن الله عزوجل يقول مروا بالمعروف وانهو عن المنكر من قبل ان تدعوني فلا أجيبكم وتسألوني فلا أعطيكم وتستنصروني فلا أنصروكم» (احمد، ابن ماجة، حسنه الباني)
আয়িশা (রাঃ) বর্ণনা করেন যে, একদা রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার ঘরে আসলেন। তখন তাঁর মুখমণ্ডল দেখে মনে হলো যে, কোন জিনিস যেন তাকে আঘাত করেছে। অতঃপর তিনি অযু করলেন এবং বের হয়ে গেলেন। এ সময়ের মধ্যে তিনি কাউকেও কিছু বললেন না। আমি হুজরার ভেতর থেকেই তাঁর নিকট উপস্থিত হলাম। তখন আমি শুনতে পেলাম, তিনি বলছেন- হে লোক সমাজ! আল্লাহ তা'আলা নিশ্চয় বলেছেন যে, "তোমরা অবশ্যই সৎকাজের আদেশ করবে এবং অসৎকাজ হতে লোকদের বিরত রাখবে সেই অবস্থা সৃষ্টির পূর্বে যখন তোমরা আমাকে ডাকবে কিন্তু আমি তাতে সাড়া দেব না, তোমরা আমার নিকট চাইবে কিন্তু আমি তোমাদেরকে দেব না। তোমরা আমার কাছে সাহায্য প্রার্থনা করবে, কিন্তু আমি তোমাদের সাহায্য করবো না”। (মুসনাদে আহমাদ, ইবনু মাজাহ- আলবানী একে হাসান বলেছেন)
عن حذيفة بن اليمان عن النبي قال : «والذي نفسي بيده لتأمرن بالمعروف ولتنهون عن المنكر او ليوشكن الله ان يبعث عليكم عقابا منه ثم تدعونه فلا يستجاب لكم» (ترمزی، وحسنه)
হুযাইফা ইবনুল ইয়ামান (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, সেই সত্তার শপথ যার হাতে আমার প্রাণ! তোমরা অবশ্যই সৎকাজের আদেশ করবে এবং অন্যায়ের প্রতিরোধ করবে। নতুবা অবিলম্বে আল্লাহ তোমাদের উপর তাঁর আযাব নাযিল করবেন। তখন তোমরা তাঁর কাছে দু'আ করলেও তিনি তোমাদের সেই দু'আ কবুল করবেন না। (তিরমিযী, ইমাম তিরমিযী একে হাসান বলেছেন)
عن حذيفة بن اليمان قال قال رسول الله ﷺ : «التأمرن بالمعروف ولتنهون عن المنكر ولتحاضن على الخير او ليسحتنكم الله جميعا بعذاب أو ليؤمرن عليكم شراركم ثم يدعوا خياركم فلا يستجاب لهم» (مسند أحمد)
হুযাইফা বিন ইয়ামান (রাঃ) হতে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমরা অবশ্যই সৎকাজের আদেশ এবং অসৎকাজের প্রতিরোধ করবে। অন্যথায় আল্লাহ তা'আলা যে কোন আযাবে তোমাদের সকলকে ধ্বংস করে দিবেন কিংবা তোমাদের মধ্য হতে সর্বাধিক পাপাচারী অন্যায়কারী জালিম লোকদেরকে তোমাদের উপর শাসনকর্তা নিযুক্ত করে দিবেন। এমতাবস্থায় তোমাদের মধ্যকার সৎ লোকেরা আল্লাহর কাছে মুক্তি লাভের জন্য দু'আ করবে কিন্তু তখন তা কবুল করা হবে না। (মুসনাদে আহমাদ)
কুরআন হাদীসে বর্ণিত নির্দেশাবলী মেনে চলার আহ্বান ও নিষিদ্ধ তথা নাফরমানী কাজের নিষেধ ও প্রতিরোধ করার দায়িত্ব আল্লাহ তা'আলা সর্বস্তরের মুসলমানের জন্য বিধিবদ্ধ করে দিয়েছেন। এটা এমনি একটি দায়িত্ব যা বাস্তবায়নে অলসতা, উদাসীনতা ও অনীহা প্রকাশ কোন জাতির ভাগ্যে করুণ পরিণতি ডেকে আনার জন্য যথেষ্ট। যে দেশের রাষ্ট্র নায়ক, সমাজের নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিবর্গ এবং জনসাধারণ 'সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজ প্রতিরোধে ব্যর্থ, যেখানে হত্যা, সন্ত্রাস, চুরি, চাঁদাবাজী, সুদ, ঘুষ, যিনা, ব্যভিচারী, জীবনের নিরাপত্তার হুমকি, অর্থনৈতিক দূরবস্থা, পারিবারিক কোন্দল, রাজনৈতিক অস্থিরতা ও বিশ্বাসঘাতকতা, সামাজিক বিশৃঙ্খলা, অসৎ লোকের নেতৃত্ব কর্তৃত্ব, বন্যা, খড়া, মহামারি প্রভৃতি আযাব তাদেরকে চারদিক থেকে অক্টোপাসের মত ঘিরে ধরবে। ঠিক এমনি মুহূর্তে অশান্তির আগুনে জর্জরিত অতিষ্ঠ মানবের আল্লাহর দরবারে ফরিয়াদ করাটাই স্বাভাবিক কিন্তু এ তো নিজেদের হাতের কামাই। ঐরূপ অবস্থার জন্য তো নিজেরাই দায়ী। তাই এরূপ অবস্থায় দু'আ কিভাবে কাজে লাগবে? অথচ রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরূপ পরিস্থিতি সৃষ্টির ব্যাপারে আগেই সতর্ক করে দিয়েছিলেন যে, "মানুষ কোন অত্যাচারীকে অত্যাচার করতে দেখেও তার দু'হাত চেপে ধরে তাকে প্রতিহত না করলে অচিরেই আল্লাহ তা'আলা তাদের সকলকে তাঁর ব্যাপক আযাবে নিক্ষিপ্ত করবেন"- (তিরমিযী, তিনি একে সহীহ বলেছেন)।

📘 যাদের ইবাদত কবুল হয় না > 📄 যে ব্যক্তি তার অভাবগ্রস্ত আত্মীয়ের পরিবর্তে অন্যকে দান করে

📄 যে ব্যক্তি তার অভাবগ্রস্ত আত্মীয়ের পরিবর্তে অন্যকে দান করে


عن أبي هريرة قال قال رسول الله ﷺ : « يا امة محمد والذي بعثني بالحق لا يقبل الله صدقة من رجل وله قرابة محتاجون إلى صلته ويصرفها إلى غيرهم . والذي نفسي بيده لا ينظر الله اليه يوم القيامة» (طبرانی)
আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, হে উম্মাতে মুহাম্মাদী! সেই সত্তার কসম, যিনি আমাকে সত্য দীনসহ পাঠিয়েছেন, আল্লাহ তা'আলা সেই ব্যক্তির দান কবুল করবেন না, যার আত্মীয়-স্বজন তার আত্মীয়তার হকে মুখাপেক্ষী থাকা সত্ত্বেও সে তাদের না দিয়ে অন্যদের দান করে। সেই আল্লাহর শপথ, যার হাতে আমার প্রাণ। আল্লাহ তা'আলা এমন ব্যক্তির প্রতি কিয়ামতের দিন রহমতের দৃষ্টিতে তাকাবেন না। (তাবারানী)
একজন মানুষের কাছে অন্য যে কোন মানুষের চাইতে তার আত্মীয়ের হক্ব সবচেয়ে বেশি। প্রতিটি ধনীর সম্পদে গরীবের হক্ব রয়েছে, যা দান, সাদকা ও যাকাতের মাধ্যমে ধনীদেরকে আদায় করতে হয়। আর উক্ত হক্বদার ব্যক্তি যদি তার কোন আত্মীয় হয়ে থাকে তাহলে সে আত্মীয়টি উক্ত দান বা যাকাতের বেশি হক্বদার হয়ে যায় দু'টি কারণে-
(ক) আত্মীয়তার সম্পর্ক (খ) দানের প্রাপক হিসেবে।
মহানবী সল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম অন্যান্যদের পূর্বে নিজ আত্মীয়কে দান করার জন্য উৎসাহ প্রদান করে বলেন, কোন অভাবগ্রস্ত ব্যক্তিকে সাহায্য করলে সাদকার সাওয়াব পাওয়া যাবে কিন্তু কোন নিকটাত্মীয়কে সাহায্য করলে একই সঙ্গে সাদকা এবং আত্মীয়তার হক আদায়ের সাওয়াব লাভ করবে। (মিশকাত)
অথচ সমাজে এমন বহু ধনী লোক রয়েছে যাদের অর্থের সহযোগিতায় কোন কল্যাণমূলক প্রতিষ্ঠান; যেমন- মাদ্রাসা, এতিমখানা বা মাসজিদ ইত্যাদি পরিচালিত হচ্ছে অথচ তারই কোন নিকটাত্মীয় অভাব-অনটনে দিন কাটাচ্ছে। কিন্তু সে তাতে কোনই ভ্রুক্ষেপ করছে না। এ ক্ষেত্রে দেখা যায় যে, হয়তো কয়েকটি কারণে সে অভাবী আত্মীয়কে অবহেলা করছে-
(১) আত্মীয়কে দান করার গুরুত্ব সে উপলব্ধি করেনি।
(২) সে চায় না তার আত্মীয়-স্বজন স্বচ্ছল অবস্থায় ফিরে আসুক।
(৩) হয়তো তার সাথে সম্পর্ক ভাল নয় তাই জিদের বশবর্তী হয়ে দান করা হতে বিরত রয়েছে।
(৪) জেনে শুনে নিজের বড়ত্ব প্রকাশের জন্য অভনাবী আত্মীয়কে দেখিয়ে অন্যকে দান করছে।
উপরোক্ত যে কোন কারণেই হোক না কেন আত্মীয় সম্পর্কে উল্লেখিত হাদীসে এটাই প্রমাণিত হচ্ছে যে, যার আত্মীয় তার আত্মীয়তার হজ্বে মুখাপেক্ষী থাকা সত্ত্বেও সে তাদের না দিয়ে অন্যদের দান করে আল্লাহ তা'আলা সেই ব্যক্তির দান কবুল করবেন না।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00