📘 যাদের ইবাদত কবুল হয় না > 📄 মদ্যপায়ী

📄 মদ্যপায়ী


قال عبد الله بن عمر قال رسول الله صلى الله عليه وسلم : « من شرب الخمر لم يقبل الله له صلاة أربعين صباحا ، فإن تاب تاب الله عليه فإن عاد لم يقبل الله له صلاة أربعين صباحا ، فإن تاب تاب الله عليه، فإن عاد لم يقبل الله له صلاة أربعين صباحا ، فإن تاب تاب الله عليه فإن عاد الرابعة لم يقبل له صلاة أربعين صباحا ، فان تاب لم يتب الله عليه وسقاه من نهر الخبال قيل يا ابا عبد الرحمن وما نهر الخبال ؟ قال : نهر من صديد أهل النار » . (رواه الترمزي وحسنه)
আব্দুল্লাহ ইবনু উমার (রাঃ) বলেন, রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি মদপান করে তার চল্লিশ দিনের নামায কবুল হয় না। যদি সে তাওবাহ করে তবে আল্লাহ তার তাওবাহ কবুল করেন। যদি সে পুনরায় মদপান করে তবে আল্লাহ তার চল্লিশ দিনের নামায কবুল করেন না। যদি সে তাওবাহ করে তবে আল্লাহ তার তাওবাহ কবول করেন। যদি সে পুনরায় মদপানে লিপ্ত হয় তবে আল্লাহ তার চল্লিশ দিন নামায কবুল করেন না। যদি সে তাওবাহ করে আল্লাহ তার তাওবাহ কবুল করেন। সে যদি চতুর্থবার মদপানে লিপ্ত হয় তবে আল্লাহ তার চল্লিশ দিনের নামায কবুল করেন না এবং সে যদি তাওবাহ করে আল্লাহ কখনো তার তাওবাহ কবুল করেন না এবং তাকে 'নাহরুল খাবাল' থেকে পান করাবেন। জিজ্ঞেস করা হলো, হে আব্দুর রহমান (ইবনু উমার)। নাহুরুল খাবাল বা খাবাল নামক ঝর্ণা কি? তিনি বলেন, দোযখীদের পুঁজের নহর। (তিরমিযী, ইমাম তিরমিযী এটিকে হাসান বলেছেন)
أن النبي ﷺ يقول : «لا يشرب الخمر رجل من أمتي فيقبل له صلاة أربعين صباحا ». (صحيح ابن خزيمة، الحاكم، النسائ استاده صحيح ... )
রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আমার উম্মাতের মধ্যে যে ব্যক্তি মদ্যপান করবে, তার চল্লিশ দিনের নামায কবুল হবে না। (সহীহ ইবনু খুযাইমাহ, হাকিম, নাসাঈ- আলবানী বলেছেন, এর সনদ মুসলিমের শর্তে সহীহ; হাকিম বলেছেন, এটি বুখারী ও মুসলিমের শর্তে সহীহ; ইমাম যাহাবী'র মতও তাই)
হাদীসের মাধ্যমে প্রমাণিত হচ্ছে মদ্যপায়ীর চল্লিশ দিনের ইবাদত কবুল হয় না যদি না সে একনিষ্ঠভাবে তাওবাহ করে ফিরে আসে। কেউ কেউ বলেছেন, মদ্যপায়ী যদি তাওবাহ না করে বা এমন কাজ করলে তাওবাহ করতে হয় এটা সে না জানে এমতাবস্থায় সে নামায আদায় করলে তার ফরযিয়াত আদায় হয়ে যাবে তবে সে নামাযের ফযীলত ও সাওয়াব থেকে বঞ্চিত হবে। কিন্তু আহলে জাহির বা যারা কুরআন-সুন্নাহ এর প্রকাশ্য অর্থ গ্রহণ করেন তারা বলেন, রসূল সল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম যেহেতু কবুল না হবার কথা বলেছেন তাই তার নামায কবুল হবে না। এখানে উল্লেখ্য যে, রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রত্যেকটি নেশা জাতীয় দ্রব্যকে মদ বলেছেন। তাই হেরোইন, ফেনসিডিল, গাঁজা, আফীম, হুইসকি ইত্যাদি সেবী এদের কারোই চল্লিশ দিন পর্যন্ত নামায কবুল হবে না। যদি না তারা তাওবাহ করে উক্ত নেশা জাতীয় দ্রব্য পরিত্যাগ করে।

📘 যাদের ইবাদত কবুল হয় না > 📄 অপবিত্রাবস্থায় ইবাদত

📄 অপবিত্রাবস্থায় ইবাদত


عن ابن عمر عن النبي ﷺ قال : « لا تقبل صلاة بغير طهور » .
(سنن اربعة ومسلم - صحيح الباني)
ইবনু উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। নাবী সল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, পবিত্রতা ছাড়া নামায কবুল হয় না। (তিরমিযী, আবু দাউদ, নাসাঈ, ইবনু মাজাহ, মুসলিম- আলবানী একে সহীহ বলেছেন)
قال رسول الله ﷺ : « لا تقبل صلاة من أحدث حتى يتوضأ » .
(صحیح بخاری، صحیح مسلم)
রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরো বলেছেন, আল্লাহ তা'আলা তোমাদের কারো নামায কবুল করবেন না যতক্ষণ না তোমরা অপবিত্রতা থেকে পবিত্রতা অর্জন কর। (সহীহ বুখারী, সহীহ মুসলিম)
বান্দা আল্লাহর সাথে কথা বলার জন্য দণ্ডায়মান হবে অপবিত্রাবস্থায় তা আল্লাহ কখনোই চান না। তাই নামাযের পূর্বে পবিত্র হয়ে নেয়াকে ফরয ও পূর্ব শর্ত করা হয়েছে। এমতাবস্থায় কেউ যদি অপবিত্র অবস্থায় নামায আদায় করে তবে তার নামায কবুল হবে না।

📘 যাদের ইবাদত কবুল হয় না > 📄 ওড়না পরিধান ছাড়া প্রাপ্ত বয়স্কার নামায

📄 ওড়না পরিধান ছাড়া প্রাপ্ত বয়স্কার নামায


عن عائشة قالت قال رسول الله ﷺ : « لا تقبل صلاة الحائض إلا بخمار». (أبو داود، ترمزي، ابن ماجه ابن أبي شيبة، ابن العربي، "المعجم" الحاكم، بیهقی، احمد - قال الترمزى حديث حسن، قال الحاكم صحيح على شرط شيخان، صححه الباني)
'আয়িশা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ওড়না ছাড়া প্রাপ্তবয়স্কা মেয়েদের নামায কবুল হয় না। (তিরমিযী, আবু দাউদ, ইবনু মাজাহ, ইবনু আবী শায়বা, ইবনুল আরাবী, হাকিম, বাইহাকী, আহমাদ, ইমাম তিরমিযী একে হাসান বলেছেন; ইমাম হাকিম বলেছেন, হাদীসটি মুসলিমের শর্তে সহীহ; আলবানী একে সহীহ বলেছেন)
পর্দা প্রথা এমনই গুরুত্বপূর্ণ বিষয় যা ঈমানকে মজবুত ও ইবাদতকে স্বার্থক করে তুলতে সাহায্য করে। এজন্য ইসলাম প্রত্যেক প্রাপ্ত বয়স্ক নর-নারীর জন্য পর্দা ফরয করেছে। এ বিধান ঘরে, বাইরে এমনকি নামায আদায়ের সময়ও যথাযথভাবে পালন করতে হয়। বিশেষ করে মহিলাদের জন্য পর্দার বিষয়টি আরো গুরুত্বপূর্ণ। কেননা রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম নামাযের সময় ওড়না পরিধান করে না এমন প্রাপ্ত বয়স্কা মেয়ে সম্পর্কেই বলেছেন যে, ঐরূপ করাতে তার নামায কবুল হবে না।
মনীষীগণ এ হাদীসের ভিত্তিতে বলেছেন, কোন মহিলা বালেগ হওয়ার পর নামাযের সময় মাথায় চুলের কিছু অংশ খোলা রাখলে তার নামায জায়িয হবে না। ইমাম শাফিঈ এ মত পোষণ করেছেন। তিনি বলেছেন, তার শরীরের কোন অংশ অনাবৃত থাকলে তার নামায হবে না, তবে পায়ের পাতা খোলা থাকলে নামায হবে। কারো মতে পায়ের পাতা, হাতের কব্জি ও মুখমণ্ডল খোলা রাখা যাবে যদি ফিতনায় পতিত হবার ভয় না থাকে। কেউ কেউ নামায কবুল না হবার অর্থ করেছেন যথাযথভাবে কবুল না হওয়া।

📘 যাদের ইবাদত কবুল হয় না > 📄 হারাম পন্থায় উপার্জিত সম্পদের ব্যয়

📄 হারাম পন্থায় উপার্জিত সম্পদের ব্যয়


قال رسول الله ﷺ : ولا تقبل صدقة من غلول. (مسلم، أبو داود، ترمزی، نسای، ابن ماجه - صححه الباني)
রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, হারাম পন্থায় উপার্জিত মালের সাদকা কবুল হয় না। (মুসলিম, আবু দাউদ, তিরমিযী, নাসাঈ, ইবনু মাজাহ- আলবানী একে সহীহ বলেছেন)
عن عبد الله بن مسعود عن رسول الله ﷺ قال : «لا يكسب عبد مال حرام فيتصدق منه فيقبل منه ولا ينفق منه فيبارك له فيه ولا يتركه خلف ظهره إلا كان زاده إلى النار إن الله لا يمحوا السيء بالسيء ولكن يمحوا السيء بالحسن إن الخبيث لا يمحوا الخبيث».. (رواه أحمد وكذا في شرح سنة)
আব্দুল্লাহ বিন মাসউদ (রাঃ) হতে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, কোন বান্দা হারাম বা অবৈধ উপায়ে উপার্জিত অর্থ দান করলে তা কবুল হবে না। আর তা নিজ কাজে ব্যয় করলে বরকত হবে না। তার ঐ ধন-সম্পদ তার উত্তরাধিকারদের জন্য রেখে গেলে তা তার জন্য দোযখের পুঁজি হবে। আল্লাহ মন্দের দ্বারা মন্দ কাটেন না (অর্থাৎ হারাম মাল দান করায় গুনাহ মাফ করেন না) কিন্তু ভাল দ্বারা মন্দ কেটে যায় (অর্থাৎ হালাল মাল দান করলে গুনাহ মাফ করা হয়) মন্দ মন্দকে বিদূরিত করতে পারে না। (আহমাদ, শরহে সুন্নাহ)
যেসব পন্থায় উপার্জন ইসলাম নিষিদ্ধ করেছে তা-ই হারাম। যেমন- বেশ্যাবৃত্তি, কুকুর বিক্রি, (যদি তা বাড়ি বা ক্ষেত পাহারা কাজের জন্য না হয়) নেশা দ্রব্য বিক্রি, অপরের সম্পদ লুণ্ঠন, চোরাচালানী, সুদ, ঘুষ, ছিনতাই, ডাকাতি, চুরি, প্রতারণা, শির্ক-বিদ'আত মূলক কার্যের উপার্জিত অর্থ ইত্যাদি।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00