📘 যাদের ইবাদত কবুল হয় না > 📄 মুশরিকের ইবাদত

📄 মুশরিকের ইবাদত


وَلَوْ أَشْرَكُوا لَحَبِطَ عَنْهُمْ مَا كَانُوا يَعْمَلُونَ
"যদি তারা শির্ক করে তাহলে তাদের সমস্ত ভাল 'আমল বরবাদ হয়ে যাবে।” (সূরা আল-আন'আম ৮৮)
وَلَقَدْ أُوحِيَ إِلَيْكَ وَإِلَى الَّذِينَ مِنْ قَبْلِكَ لَئِنْ أَشْرَكْتَ لَيَحْبَطَنَ عَمَلُكَ وَلَتَكُونَنَّ مِنَ الْخَسِرِينَ
“(হে নবী) আপনার প্রতি এবং আপনার পূর্ববর্তীদের প্রতি অহী করা হয়েছে যে, যদি আল্লাহর সাথে শরীক স্থাপন করেন, তাহলে আপনার সকল কর্ম বরবাদ হয়ে যাবে এবং আপনি ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হবেন।” (সূরা আয-যুমার ৬৫)
لا يقبل الله عز وجل من مشرك بعد ما أسلم عمل». (سلسلة صحيحة ٨٤٨/٦ مكتب الرياض)
ইসলাম গ্রহণ করার পর কোন শিক্ককারীর 'আমল আল্লাহ কবুল করবেন না। (সিলসিলাতুল আহাদীসুস সহীহা- ৬ষ্ঠ খণ্ড ৮৪৮ পৃষ্ঠা)
শিরক অর্থ হচ্ছে অংশীদার স্থাপন করা। শরীয়তের পরিভাষায় শিক হলো যে সব গুণাবলী কেবল আল্লাহর জন্যই নির্দিষ্ট, সে সব গুণে অন্য কাউকে গুণান্বিত ভাবা বা এতেও কারোর অংশ আছে মনে করা।
আল্লাহর সাথে অংশীদার স্থাপন জঘন্য অপরাধ। যে ব্যক্তি ইবাদতের ক্ষেত্রে বা আল্লাহর গুণাবলী ও ক্ষমতার সাথে অন্য কাউকে শরীক করবে সে ব্যক্তি মুশরিক বলে গণ্য হবে। এমন ব্যক্তির অপরাধ ক্ষমার অযোগ্য এবং তার কোন প্রকার সৎকর্মই গ্রহণযোগ্য হবে না। এ কারণেই রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম কঠোরভাবে হুশিয়ার করে বলেছেন, "সাবধান! আল্লাহর সাথে কাউকে শরীক করবে না, যদিও তোমাকে এজন্য কেটে টুকরো টুকরো করে ফেলা হয় অথবা আগুনে পুড়িয়ে ফেলা হয়।” (ইবনু মাজাহ)

অংশীদার স্থাপন কখন প্রয়োজন হয়
অংশীদার স্থাপন করা তখনই প্রয়োজন হয় যখন কারো মাঝে কোন কিছুর অপূর্ণতা লক্ষ্য করা যায়। যেমন, কেউ ব্যবসায়ে কাউকে পার্টনার বা অংশীদার করতে চাইলে এ জন্যই করে যে, হয়তো তার কাছে টাকা আছে কিন্তু দক্ষতা নেই বা দক্ষতা আছে কিন্তু টাকা নেই বা টাকা ও দক্ষতা উভয়ই আছে কিন্তু প্রয়োজনের তুলনায় কম বিধায় সে ব্যবসা করতে সক্ষম নয় ইত্যাদি। এক কথায় সে নিজের মধ্যে কোন অপূর্ণতা লক্ষ্য করছে যা পূর্ণ করার জন্য তার অংশীদার প্রয়োজন হয়ে দাঁড়ায়।

আল্লাহ কি অপূর্ণাঙ্গ (নাউযুবিল্লাহ)?
এর উপযুক্ত জবাব স্বয়ং আল্লাহ তা'আলাই স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন-
قل هو الله أحد * الله الصمد * لَمْ يَلِدْ وَلَمْ يُولَدُ * وَلَمْ يَكُنْ له كفوا أحد
“হে নবী! বল : তিনি অর্থাৎ আল্লাহ একক, অমুখাপেক্ষী, তার কোন সন্তান-সন্ততি নেই, আর তিনি কারো সন্তান নন, আর কেউই তাঁর সমতুল্য নয়।” (সূরা ইখলাস)
ولله المثل الْأَعْلَى وَهُوَ الْعَزِيزُ الْحَكِيمُ
"আল্লাহর জন্যই তো সর্বোত্তম গুণাবলী, তিনিই তো সবার উপর পরাক্রমশালী এবং জ্ঞানের দিক দিয়ে পূর্ণতার অধিকারী।" (সূরা আন-নাহল ৬০)
اللهُ خَالِقٌ كُلِّ شَيْءٍ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ وَكِيلُ
“আল্লাহই সব কিছুর স্রষ্টা এবং তিনিই সব কিছু রক্ষণাবেক্ষণ করেন।” (সূরা আয-যুমার ৬২)
وَإِذَا قَضَى أَمْرًا فَإِنَّمَا يَقُولُ لَهُ كُنْ فَيَكُونَ
“যখন তিনি কোন কিছু করার সিদ্ধান্ত নেন, তখন শুধু এতটুকুই বলেন যে, হও, আর অমনিতেই তা হয়ে থাকে।" (সূরা আল-বাকারা ১১৭)
وَمَا كَانَ اللهُ لِيُعْجَزَهُ مِنْ شَيْءٍ فِي السَّمَوتِ وَلَا فِي الْأَرْضِ إِنَّهُ كَانَ عَلِيمًا قَدِيرًا
“আল্লাহ এমন নন যে, আসমান জমিনের কোন কিছু তাকে অক্ষম করতে পারে। তিনি সর্বজ্ঞ, সর্বশক্তিমান।” (সূরা ফাতির ৪৪)
لَا يُسْأَلُ عَمَّا يَفْعَلْ
"তাঁর ক্রিয়াকলাপের কৈফিয়ত কাউকে দিতে হয় না।” (সূরা আম্বিয়া ২৩)
وَاللَّهُ يَحْكُمُ لَا مُعْقِبُ الحُكْمِهِ
“তিনি রাজত্ব করছেন, তাঁর সিদ্ধান্তসমূহ বিবেচনা করার কেউ নেই।” (সূরা রাদ ৪১)
وَعِنْدَهُ مَفَاتِحُ الْغَيْبِ لَا يَعْلَمُهَا إِلَّا هُوَ وَيَعْلَمُ مَا فِي الْبَرِّ وَالْبَحْرِ وَمَا تَسْقُطُ مِنْ وَرَقَةٍ إِلَّا يَعْلَمُهَا وَلَا حَبَّةٍ فِي ظُلْمَتِ الْأَرْضِ
তাঁরই নিকট অদৃশ্য জগতের চাবি রয়েছে। তিনি ব্যতীত এগুলো কেউ জানে না। জলে ও স্থলে যা কিছু আছে তিনিই জানেন। গাছের একটি পাতাও তাঁর অবগতি ছাড়া ঝড়ে না এবং কোন শস্য কণা মৃত্তিকার অন্ধকার অংশে পতিত হয় না। (সূরা আল-আন'আম ৫৯)
فَتَعْلَى اللَّهُ الْمُلِكَ الْحَقِّ
অতএব, আল্লাহই মহান, শ্রেষ্ঠ, প্রকৃত বাদশা। (সূরা মু'মিনূন ১১৬)

তবুও মানুষ শির্কে লিপ্ত হলো
জাহান্নাম যেহেতু তৈরী করা হয়েছে তাই দুনিয়াতে তার উপযুক্ত অধিবাসীর বসবাস থাকবে এটাই স্বাভাবিক। তাইতো আল্লাহ তা'আলার স্পষ্ট বক্তব্য এবং বিভিন্ন ভ্রান্ত যুক্তি ও ধারণার উপযুক্ত জবাব পেশের পরও মানুষ শির্ক থেকে নিজেদেরকে বিরত রাখতে পারেনি। কল্পিত শয়তানী চিন্তা ও গুমরাহীর অন্ধকার মানুষের অন্তরকে এমনিভাবে আচ্ছন্ন করে ফেলল যে হিদায়াতের স্বচ্ছ আলো সামনে থাকা সত্ত্বেও তা যেন তাদের চোখের আড়াল হয়ে রইল। সত্যের নূর তাদের বক্ষে প্রবেশ করল না। অকাট্য দলিল ও বাস্তবতাকে প্রত্যাখ্যান করে নিজেদের প্রবৃত্তিকে ইলাহর আসনে বসিয়ে মানুষ শির্কী কর্মকাণ্ড সূচনা করে দিল।

বিধর্মীদের শির্কের ধরন
বিধর্মী মুশরিকরা বিভিন্নভাবে আল্লাহ তা'আলার সাথে অংশীস্থাপন করেছে। তাদের মধ্যে হিন্দুদের শিরকের ধরন এতই আশ্চর্য যে, তারা একটি দু'টি নয়, তেত্রিশ কোটি দেবতা গ্রহণ করেছে। আল্লাহর সৃষ্টি পাথর, গাছপালা, গরু-বাছুরকেও তারা মহান প্রতিপালকের আসনে বসাতে দ্বিধাবোধ করেনি। অপরদিকে বৌদ্ধ ধর্মের লোকেরাও গৌতম বুদ্ধের মূর্তিকে রূপক ইলাহ বানিয়ে নিয়েছে। খৃষ্টানরা ঈসা (আঃ)-কে আল্লাহর পুত্র ও মারইয়াম (আঃ)-কে আল্লাহর স্ত্রী (নাউযুবিল্লাহ) সাব্যস্ত করে তিন ইলাহ গ্রহণ করেছে। অপরদিকে ইহুদীরাও 'উযাইর (আঃ)-এর প্রকৃত শিক্ষা বর্জন করে তাকে আল্লাহর পুত্র সাব্যস্ত করেছে। এভাবেই কাফির মুশরিকরা আল্লাহ তা'আলার সাথে একের পর এক অংশীদার স্থাপন করে বিভিন্ন গোত্রে বিভক্ত হয়ে গেছে এবং আল্লাহর একত্ববাদের কথা জেনেও তারা তা গ্রহণ করতে অস্বীকার করেছে।

মুসলমান কিভাবে মুশরিক হয়?
অন্যান্য জাতি যেমন শিক্কের কারণে মুশরিক হয়েছে তেমনি কোন মুসলমান শির্ক করলে সেও মুশরিক বলে গণ্য হবে। শিক্কের কারণে মুসলমানদের মুশরিক হবার কথা আল্লাহ নিজেই বলে দিয়েছেন-
وَمَا يُؤْمِنُ أَكْثَرُهُمْ بِاللَّهِ إِلَّا وَهُمْ مُشْرِكُونَ
"অনেক মানুষ আল্লাহর প্রতি ঈমান এনেছে বটে কিন্তু সাথে সাথে তারা মুশরিকও।” (সূরা ইউসুফ ১০৬)
এর দ্বারা বুঝা গেল, মুসলমানদের দ্বারাও শির্ক সংগঠিত হচ্ছে। তবে অমুসলিমদের মত কাউকে আল্লাহর পুত্র বা স্ত্রী সাব্যস্ত করে নয় বরং ভিন্ন কায়দায়। যেমন-
(ক) কবর পূজা, মাজার পূজা, পীর পূজা এবং তাদের নামে মানৎ, যবেহ ইত্যাদি। [প্রাসঙ্গিক দেখুন বইয়ের ১৪ পৃষ্ঠা (১)]
(খ) মানুষের আইন রচনার অধিকার আছে বলে স্বীকার করা ও মানুষের তৈরী আইন মেনে নেয়া। [প্রাসঙ্গিক দেখুন ১৪ পৃষ্ঠা (৩)]
(গ) জনসাধারণকে সকল ক্ষমতার উৎস বলে আখ্যায়িত করা।
(ঘ) মূর্তি-ভাস্কর্য তৈরী করা, আগুনকে সম্মান দেখানো।
(ঙ) তাবিজ ব্যবহার করা, তাবিজকে বিপদের রক্ষাকারী মনে করা।
(চ) কুরআন-সুন্নাহ বিরোধী আক্বীদা পোষণ করা।
(ছ) মানুষ বা জীনকে গায়েব জানে বলে মনে করা। (দেখুন ৩৬-৩৮ পৃষ্ঠা)
(জ) কাউকে পৃথিবীতে যা ইচ্ছে করার অধিকারী ভাবা ইত্যাদি।

📘 যাদের ইবাদত কবুল হয় না > 📄 মুনাফিকের জানাযা

📄 মুনাফিকের জানাযা


سَوَاءٌ عَلَيْهِمْ اِسْتَغْفَرْتُ لَهُمْ أَمْ لَمْ تَسْتَغْفِرْ لَهُمْ لَنْ يَغْفِرَ اللَّهُ لَهُمْ
“(হে রসূল) তুমি তাদের (মুনাফিকদের) জন্য ক্ষমা প্রার্থনা কর বা না কর উভয়ই সমান। আল্লাহ তাদের ক্ষমা করবেন না। (অর্থাৎ তাদের ব্যাপারে তোমার প্রার্থনা মঞ্জুর হবে না)।" (সূরা মুনাফিকুন ৬)
إِنْ تَسْتَغْفِرْ لَهُمْ سَبْعِينَ مَرَّةً فَلَنْ يَغْفِرَ اللهُ لَهُمْ ذَلِكَ بِأَنَّهُمْ كَفَرُوا بِاللهِ وَرَسُولِهِ وَاللَّهُ لَا يَهْدِي الْقَوْمَ الْفَسِقِينَ
"যদি তুমি তাদের জন্য সত্তরবারও ক্ষমা প্রার্থনা কর তবুও কখনোই আল্লাহ তাদেরকে ক্ষমা করবেন না। তা এজন্য যে, তারা আল্লাহ ও রসূলের সাথে কুফরী করেছে। বস্তুত আল্লাহ না-ফরমানদের পথ দেখান না।” (সূরা আত-তাওবাহ ৮০)
وَلَا تُصَلِّ عَلَى أَحَدٍ مِنْهُمْ مَاتَ أَبَدًا وَلَا تَقُمْ عَلَى قَبْرِهِ إِنَّهُمْ كَفَرُوا بِاللَّهِ وَرَسُولِهِ وَمَا تُوْا وَهُمْ فَسِقُوْنَ
"তাদের মধ্য হতে কেউ মারা গেলে কখনো তাদের জানাযা পড়বে না এবং তাদের কবর যিয়ারতও করবে না। কেননা এই লোকেরাই তো আল্লাহ ও রসূলের সাথে কুফরী করেছে এবং ফাসিক হয়ে মৃত্যুবরণ করেছে।” (সূরা আত-তাওবাহ ৮৪)

অত্র আয়াতের শানে নুযূল বর্ণনা করতে গিয়ে ইবনু উমার (রাঃ) বলেন-
لما توفي عبد الله بن أبي جاء ابنه عبد الله بن عبد الله إلى رسول الله ﷺ فأعطاه قميصه وأمره أن يكفنه فيه. ثم قام يصلى عليه فأخذ عمر بن الخطاب بثوبه فقال : تصلى عليه وهو منافق وقد نهاك الله ان تستغفر لهم ؟ قال : انما خيرني الله أو اخبرني الله فقال : «استغفر لهم او لا تستغفر لهم سبعين مرة فلن يغفر الله لهم» فقال : سأزيده على سبعين . قال : فصلى عليه وسول الله ﷺ وصلينا معه ثم أنزل الله عليه ولا تصلى على أحد منهم مات أبدا ولا تقم على قبره إنهم كفروا بالله ورسوله وماتوا وهم فاسقون. (صحیح بخاری)
(মুনাফিক নেতা) আব্দুল্লাহ ইবনু 'উবাই মারা গেলে তার পুত্র আব্দুল্লাহ ইবনু আব্দুল্লাহ রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এসে তার পিতার কাফন হিসেবে ব্যবহারের জন্য রসূলের নিকট তাঁর জামাটি দেবার আবেদন জানালে নাবী সল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম জামাটি দিয়ে দিলেন। পুনরায় সে পিতার জানাযার নামায পড়ার জন্য রসূলের নিকট আবেদন জানালে রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম জানাযার নামায আদায়ের জন্য উঠতে চাইলেন। এমনি সময় উমার (রাঃ) রসূলের কাপড় টেনে ধরে আরজ করলেন, হে আল্লাহর রসূল সল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম! আপনি তার জানাযার নামায আদায় করতে এবং তার জন্য দু'আ করতে চাইছেন, অথচ আপনার প্রতিপালক তো তা করতে নিষেধ করেছেন। রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, এ ব্যাপারে আল্লাহ আমাকে এখতিয়ার দিয়েছেন। আর আল্লাহ তো বলেছেন, “তুমি তাদের জন্য মাগফিরাতের দু'আ কর বা না কর, যদি সত্তরবারও তাদের জন্য মাগফিরাতের দু'আ কর তবুও আমি তাদেরকে ক্ষমা করব না।” সুতরাং আমি সত্তরবারের চেয়েও বেশি মাগফিরাত কামনা করব। উমার (রাঃ) বললেন, সে তো মুনাফিক। (যা হোক) রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম শেষ পর্যন্ত তার জানাযার নামায আদায় করলেন। তৎক্ষণাৎ আল্লাহ তা'আলাও এই আয়াত নাযিল করে রসূলকে জানিয়ে দিলেন যে, তাদের কেউ মারা গেলে আপনি কখনো তাদের জানাযার নামায আদায় না এবং তাদের কবরের পাশেও দাঁড়াবেন না। নিশ্চয়ই তারা আল্লাহ ও রসূলের সাথে কুফরী করেছে এবং ফাসিক হয়েই মারা গেছে। (সহীহ বুখারী)
মুসনাদে আহমাদেও হাদীসটি বর্ণিত হয়েছে, সেখানে এও বর্ণনা করা হয়েছে,
فما صلى رسول الله بعده على منافق ولا قام على قبره حتى قبضه الله عز وجل » . (احمد - مسند عمر بن الخطاب)
এরপর থেকে রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম মৃত্যু পর্যন্ত আর কোন মুনাফিকের জানাযা পড়েননি এবং কবর যিয়ারতও করেননি।
এতে বুঝা গেল যে, মুনাফিকের ব্যাপারে আল্লাহ তা'আলা স্বয়ং রসূলে আকরাম সল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দু'আ কবুল করেননি। সাইয়্যেদ কুতুব শহীদ (রহঃ) বলেন, মুনাফিকদের জানাযা না পড়া ও তাদের কবরের পাশে দাঁড়িয়ে দু'আ করার প্রতি নিষেধাজ্ঞার কারণ এটাই ছিল যে, দীন প্রতিষ্ঠায় জিহাদের ডাক পাওয়া সত্ত্বেও তারা তাতে সাড়া দেয়নি। দুনিয়ার লোভ-লালসা চরিতার্থ করা ও ভোগ বিলাসে মেতে থাকার জন্য জিহাদে না গিয়ে তারা শুধু আল্লাহর হুকুম অমান্যই করেনি বরং অবজ্ঞা করার মাধ্যমে কুফরীও করেছে। এছাড়া তাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা কবুল না হওয়ার পেছনে এটাও কারণ ছিল যে, তারা আল্লাহর কোন কোন বিধান এবং মু'মিন বান্দাদের সম্পর্কে ঠাট্টা বিদ্রূপ করত। সুতরাং মুসলিম জামা'আতকে ঐরূপ লোকদের সম্পর্কে সতর্ক হতে হবে। তাদেরকে কোনরূপ সামাজিক সম্মান বা মূল্যায়ন করা হতে বিরত থাকতে হবে।
অতএব মুসলমান পরিচয় বহনকারী কোন ব্যক্তি যদি জেনে শুনে আল্লাহর দীন প্রতিষ্ঠায় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে বা দীন প্রতিষ্ঠায় অংশগ্রহণ না করে (শর'য়ী ওজর ব্যতীত) এবং ইসলামী আদর্শের অনুসারী আল্লাহর অনুগত বান্দাদেরকে বিদ্রূপ করে তবে সে ঐরূপ অবস্থায় মারা গেলে তার জানাযা পড়া মোটেই সঠিক হবে না।

📘 যাদের ইবাদত কবুল হয় না > 📄 বিদ'আতী

📄 বিদ'আতী


فمن أحدث فيها حدثا فعليه لعنة الله والملائكة والناس أجمعين، لا يقبل الله منه صرفا ولا عدلا ». (صحیح بخاری، مسلم)
যে কেউ এ দীনের মধ্যে নতুন কিছু সৃষ্টি করবে তার উপর আল্লাহ ও ফেরেশতা এবং সমগ্র মানবকূলের অভিশাপ বর্ষিত হোক। তার কোন ফরয বা নফল ইবাদত কবুল হবে না। (সহীহ বুখারী, সহীহ মুসলিম)
আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত, রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, বিদ'আতী যতক্ষণ পর্যন্ত বিদ'আত পরিত্যাগ না করবে, ততক্ষণ পর্যন্ত আল্লাহ তার কোন প্রকার তাওবাহই কবুল করবেন না। (তারগীব আত্তারহীব, হাদীস হাসান)
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا أَطِيعُوا اللَّهَ وَأَطِيعُوا الرَّسُولَ وَلَا تَبْطِلُوا أَعْمَالَكُمْ
“হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহর আনুগত্য কর এবং আনুগত্য কর রসূলের। আর (এরূপ না করে) তোমাদের 'আমলকে নষ্ট করো না।" (সূরা মুহাম্মাদ ৩৩)
'আমল কবুলের জন্য যেমন আল্লাহর সন্তুষ্টি কামনা অপরিহার্য তেমনি রসূলের যথাযথ অনুসরণ আবশ্যক। রসূলের দেখানো পদ্ধতি পরিত্যাগ করে অন্য কোন পদ্ধতিতে ইবাদত করলে তা গৃহীত হবে না। কুরআন-সুন্নাহতে নেই এমন কিছু সাওয়াবের উদ্দেশে ইবাদতের নামে চালু করাই হলো বিদ'আত এবং উক্ত 'আমল সম্পাদনকারী বিদ'আতী। যে কেউ বিদ'আত করলে তার সকল সৎকর্মই বাতিল বলে গণ্য হবে।

📘 যাদের ইবাদত কবুল হয় না > 📄 যে বিদ'আতীকে আশ্রয় দেয়

📄 যে বিদ'আতীকে আশ্রয় দেয়


আলী (রাঃ) বলেন, রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যারা বিদ'আতীকে আশ্রয় দেবে তাদের উপর আল্লাহর অভিশাপ বর্ষিত হোক, বর্ষিত হোক সকল ফেরেশতা ও মানবকূলের অভিশাপ। তার কোন ফরয ও নফল ইবাদত আল্লাহ কবুল করবেন না। (বুখারী ও মুসলিম)
আল্লাহ যাকে অপছন্দ করেন, রসূলুল্লাহ যাকে ইসলাম হতে খারিজ বলে ঘোষণা দেন, ফেরেশতামণ্ডলী যাকে অভিসম্পাত করেন, সে বিদ'আতীকে আশ্রয় প্রশ্রয় দানকারী কিভাবে আল্লাহর প্রিয় বান্দা হতে পারে, হতে পারে নাবী সল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর প্রিয় উম্মত বা ফেরেশতামণ্ডলী কিভাবে তার জন্য দু'আ করতে পারে? বরং আল্লাহর লা'নত, ফেরেশতাকূলের লা'নতই তার উপযুক্ত প্রাপ্য। উপরন্তু নাবী সল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইসলামের ধ্বংসকারী বিদ'আতীদেরকে যারা আশ্রয় প্রশ্রয় দেবে তাদের ইবাদত কবুল হবে না বলে সতর্ক করে দিয়েছেন।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00