📄 জান্নাতের বৃক্ষরাজির বর্ণনা
জান্নাতের বৃক্ষসমূহ ও তার পাতাগুলো সোনালী ও রূপালী বর্ণের হবে। ফলগুলো হবে কলসীর ন্যায় বৃহদাকার ও মাখনের ন্যায় নরম এবং মধুর চেয়েও মিষ্টি। বেহেশতের একটি বৃক্ষের ছায়া এত দীর্ঘ হবে যে একজন দ্রুতগামী অশ্বারোহী একশত বছরেও তার একপ্রান্ত থেকে অপর প্রান্তে পৌঁছতে পারবেনা। জান্নাতের বৃক্ষসমূহে বাতাস প্রবাহের ফলে পাতাগুলো থেকে এমন বাজনার শব্দ শোনা যাবে যার তালে তালে জান্নাতবাসীগণ আনন্দে মেতে উঠবেন।
📄 জান্নাত ও জান্নাতীদের বর্ণনা
আল্লাহর প্রিয় মু'মিন বান্দাগণ জান্নাতের বিভিন্ন প্রকার চিরস্থায়ী নেয়া'মতের মাঝে অবস্থান করবেন। হে মুসলিম ভাই! মুসলিম বোন! জান্নাতের নেয়া'মত এবং তার মধ্যে আল্লাহ মু'মিনদের জন্যে যা কিছু তৈরী করে রেখেছেন তার পরিপূর্ণ বর্ণনা দেয়া সম্ভব নয়। যতই দীর্ঘ বর্ণনা দেয়া হোক না কেন অসম্পূর্ণ থেকেই যাবে। তাই এখানে সকল বর্ণনাকে একত্রিতকারী হাদীছটি উল্লেখ করা হলো। রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ আল্লাহ তা'আলা হাদীছে কুদছীতে বলেনঃ
(أَعْدَدْتُ لِعِبَادِي الصَّالِحِينَ مَا لَا عَيْنُ رَأَتْ وَلَا أُذُنٌ سَمِعَتْ وَلَا خَطَرَ عَلَى قَلْبِ بَشَرٍ قَالَ أَبُو هُرَيْرَةَ اقْرَءُوا إِنْ شِئْتُمْ ( فَلَا تَعْلَمُ نَفْسٌ مَا أُخْفِيَ لَهُمْ مِنْ قُرَّةِ أَعْيُنٍ
অর্থঃ "আমি আমার প্রিয় বান্দাদের জন্যে এমন নেয়া'মত তৈরী করে রেখেছি যা কোন চোখ দেখেনি, যার বর্ণনা কোন কান শ্রবণ করেনি এবং যা কোন মানুষের হৃদয় কল্পনাও করতে পারেনা। অতঃপর আবু হুরায়রা (রাঃ) বললেনঃ তোমরা চাইলে এই আয়াতটি পাঠ কর,
(فَلَا تَعْلَمُ نَفْسٌ مَا أُخْفِيَ لَهُمْ مِنْ قُرَّةِ أَعْيُنٍ
অর্থঃ কোন ব্যক্তিই জানেনা যে মু'মিন বান্দাদের জন্য কি ধরণের চক্ষু শীতলকারী বিষয় গোপন রাখা হয়েছে"। (সূরা সিজদাহঃ ১৭)'
ইমাম ইবনুল কাইয়্যিম (রঃ) বলেনঃ কিভাবে সেই জান্নাতের বর্ণনা দেয়া সম্ভব হবে যার বৃক্ষসমূহ আল্লাহ নিজ হাতে রোপন করেছেন, তাঁর প্রিয় বান্দাদের জন্যে উহাকে বাসস্থান হিসেবে নির্ধারণ করেছেন, তাঁর রহমত ও সন্তুষ্টি দিয়ে উহাকে পরিপূর্ণ করে দিয়েছেন, যার নেয়া'মত অর্জন করাকে মহান সাফল্য বলে আখ্যায়িত করেছেন, যার রাজত্বকে বিশাল রাজ্য বলে উল্লেখ করেছেন, যাতে সকল প্রকার নেয়ামত গচ্ছিত রেখেছেন এবং যাকে সকল প্রকার দোষ-ত্রুটি থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত রেখেছেন!!!
যদি তুমি জান্নাতের মাটি সম্পর্কে প্রশ্ন কর তবে জেনে নাও যে উহার মাটি তৈরী করা হয়েছে মিস্ক এবং জাফরান দিয়ে।
তুমি জান্নাতের ছাদ সম্পর্কে জানতে চাইলে জেনে রাখো যে উহার ছাদ হল আল্লাহর আরশ।
আর যদি তুমি জান্নাতের নির্মাণ সম্পর্কে জিজ্ঞেস কর তবে জেনে নাও যে উহার একটি ইট রূপার তৈরী এবং অপরটি স্বর্ণের তৈরী।
জান্নাতের বৃক্ষরাজিঃ
জান্নাতের বৃক্ষসমূহ ও তার পাতাগুলো সোনালী ও রূপালী বর্ণের হবে। ফলগুলো হবে কলসীর ন্যায় বৃহদাকার ও মাখনের ন্যায় নরম এবং মধুর চেয়েও মিষ্টি। বেহেশতের একটি বৃক্ষের ছায়া এত দীর্ঘ হবে যে একজন দ্রুতগামী অশ্বারোহী একশত বছরেও তার একপ্রান্ত থেকে অপর প্রান্তে পৌঁছতে পারবেনা। জান্নাতের বৃক্ষসমূহে বাতাস প্রবাহের ফলে পাতাগুলো থেকে এমন বাজনার শব্দ শোনা যাবে যার তালে তালে জান্নাতবাসীগণ আনন্দে মেতে উঠবেন।
বেহেশতের নদীসমূহঃ
জান্নাতে বিভিন্ন প্রকার নদী থাকবে। (১) দুধের নদী থাকবে যার স্বাদ কখনও পরিবর্তন হওয়ার নয়। (২) মদের নদী প্রবাহিত হবে। তবে তা দুনিয়ার মদের মত নয়। তা হবে অত্যন্ত সুস্বাদু। জান্নাতের শরাব পান করার পর মাথা ব্যথা, নেশা বা বমি হবেনা যা দুনিয়ার মদ পান করার পর হয়ে থাকে; বরং তা পান করার পর শরীরের শক্তি বৃদ্ধি পাবে। (৩) জান্নাতে আরও থাকবে পরিচ্ছন্ন খাঁটি মধুর নহর যা আল্লাহর প্রিয় বান্দাদের জন্যে তৈরী করে রাখা হয়েছে। (৪) পরিস্কার পানির নদীও থাকবে সেখানে।
হাউজের বর্ণনাঃ বেহেশতের মধ্যে থাকবে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর হাউজের পানি হবে দুধের চেয়ে সাদা, মধুর চেয়ে মিষ্টি এবং তার সুঘ্রাণ হবে কস্তুরীর চেয়েও অধিক পবিত্র। আকাশের তারকার সমপরিমাণ তার পেয়ালার সংখ্যা হবে। যে ব্যক্তি একবার তা থেকে পান করবে চিরদিনের জন্যে তার পিপাসা মিটে যাবে।
জান্নাতে পানাহারের বর্ণনাঃ আপনি যদি জান্নাতীদের খাদ্য সম্পর্কে জিজ্ঞেস করেন তবে জেনে নিন তাদের খাদ্য হবে তাদের পছন্দ মত ফলমূল এবং রুচী সম্মত পাখীর গোশত। তাদের পানীয় হবে তাসনিমের পানি এবং কপূর ও আদার রস মিশ্রিত শরবত। তাদের পানাহারের পাত্রগুলো হবে সোনা ও রূপার তৈরী। তবে তার রং হবে পানপাত্রের রঙ্গের মত। তারা পানাহার করবে; কিন্তু প্রস্রাব-পায়খানার প্রয়োজন হবেনা। শরীর থেকে এমন ঘাম বের হবে যার সুগন্ধ হবে কস্তুরীর সুঘ্রাণ থেকেও উত্তম।
জান্নাতীদের পোষাকের বর্ণনাঃ তাদেরকে রেশমের পোষাক ও স্বর্ণের অলংকার পরিধান করানো হবে। তাদের বিছানাও হবে মোটা রেশমের তৈরী।
জান্নাতের প্রশস্ততা আপনি যদি বেহেশতের প্রশস্ততা সম্পর্কে জানতে চান তাহলে জেনে নিন যে, বেহেশতের দরজার দুই কপাটের মধ্যখানের প্রশস্ততা হবে চল্লিশ বছরের রাস্তা। বেহেশতের ছাদের উচ্চতা হবে আকাশে উদীয়মান নক্ষত্রের দূরত্বের সমান।
টিকাঃ
১. বুখারী, অধ্যায়ঃ আহাদীছুল আম্বীয়া।
📄 বেহেশতের নদীসমূহ
জান্নাতে বিভিন্ন প্রকার নদী থাকবে। (১) দুধের নদী থাকবে যার স্বাদ কখনও পরিবর্তন হওয়ার নয়। (২) মদের নদী প্রবাহিত হবে। তবে তা দুনিয়ার মদের মত নয়। তা হবে অত্যন্ত সুস্বাদু। জান্নাতের শরাব পান করার পর মাথা ব্যথা, নেশা বা বমি হবেনা যা দুনিয়ার মদ পান করার পর হয়ে থাকে; বরং তা পান করার পর শরীরের শক্তি বৃদ্ধি পাবে। (৩) জান্নাতে আরও থাকবে পরিচ্ছন্ন খাঁটি মধুর নহর যা আল্লাহর প্রিয় বান্দাদের জন্যে তৈরী করে রাখা হয়েছে। (৪) পরিস্কার পানির নদীও থাকবে সেখানে।
📄 হাউজে কাউছারের বর্ণনা
বেহেশতের মধ্যে থাকবে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর হাউজের পানি হবে দুধের চেয়ে সাদা, মধুর চেয়ে মিষ্টি এবং তার সুঘ্রাণ হবে কস্তুরীর চেয়েও অধিক পবিত্র। আকাশের তারকার সমপরিমাণ তার পেয়ালার সংখ্যা হবে। যে ব্যক্তি একবার তা থেকে পান করবে চিরদিনের জন্যে তার পিপাসা মিটে যাবে।