📘 যা হবে মরনের পরে > 📄 যারা আল্লাহর আরশের ছায়া পাবেন

📄 যারা আল্লাহর আরশের ছায়া পাবেন


আবু হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ سَبْعَةٌ يُظِلُّهُمُ اللَّهُ تَعَالَى فِي ظلّه يَوْمَ لَا ظِلَّ إِلَّا ظِلُّهُ إِمَامٌ عَادِلٌ وَشَابٌ نَشَأَ في عِبَادَةِ اللهِ وَرَجُلٌ قَلْبُهُ مُعَلَّقٌ فِي الْمَسَاجِدِ وَرَجُلَانِ تَحَابًا فِي اللَّهِ اجْتَمَعَا عَلَيْهِ وَتَفَرَّقَا عَلَيْهِ وَرَجُلٌ دَعَتْهُ امْرَأَةٌ ذَاتُ مَنْصِبٍ وَجَمَالٍ فَقَالَ إِنِّي أَخَافُ الله وَرَجُلٌ تَصَدَّقَ بِصَدَقَةٍ فَأَخْفَاهَا حَتَّى لَا تَعْلَمَ شِمَالُهُ مَا تُنْفِقُ يَمِينُهُ وَرَجُلٌ ذَكَرَ اللَّهُ خَالِيًا فَفَاضَتْ عَيْنَاهُ
অর্থঃ "যে দিন আল্লাহর আরশের ছায়া ছাড়া কোন ছায়া থাকবেনা সে দিন সাত ব্যক্তিকে আল্লাহ তাঁর আরশের নীচে ছায়া দান করবেন। তারা হলেনঃ (১) ন্যায় পরায়ণ শাসক (২) যে যুবক তাঁর প্রভুর এবাদতের মাঝে প্রতিপালিত হয়ে বড় হয়েছে। (৩) যে ব্যক্তির মন সর্বদা মসজিদের সাথে সম্পৃক্ত থাকে। (৪) এমন দুই ব্যক্তি, যারা আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্যে একে অপরকে ভালবাসে। আল্লাহর জন্য তারা পরস্পরে একত্রিত হয় এবং আল্লাহর জন্য পরস্পরে বিচ্ছিন্ন হয়। (৫) এমন পুরুষ যাকে একজন সুন্দরী ও সম্ভ্রান্ত বংশের মহিলা নিজের দিকে আহবান করে, আর সে পুরুষ বলেঃ আমি আল্লাহকে ভয় করি। (তাই তোমার ডাকে সাড়া দেয়া আমার পক্ষে সম্ভব নয়)। (৬) যে দানশীল ব্যক্তি এমন গোপনে দান করে,
ডান হাত দিয়ে যা দান করে, বাম হাত তা অবগত হতে পারেনা। অর্থাৎ তিনি কেবল আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্যেই দান করেন। তাই মানুষকে শুনানো বা দেখানোর প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেনা। (৭) যে ব্যক্তি নির্জনে বসে আল্লাহকে স্মরণ করে চোখের পানি প্রবাহিত করে"।'
হাফেয ইবনে হাজার আসকালানী (রঃ) বলেনঃ যদিও উক্ত হাদীছে সাতজনের কথা বলা হয়েছে, তথাপি আল্লাহর আরশের নীচে ছায়া প্রাপ্তদের সংখ্যা সাতের মধ্যে সীমিত নয়। আল্লাহ তা'আলা আরও কয়েক প্রকার মানুষকে বিশেষ ধরণের আমলের বিনিময়ে কিয়ামতের দিন তাঁর আরশের নীচে ছায়া দান করবেন। তাদের মধ্যে রয়েছেনঃ
(১) যে ব্যক্তি কোন অভাবী ঋণগ্রস্তকে অবকাশ দিবেঃ মَنْ أَنظَرَ مُعْسِرًا أَوْ وَضَعَ لَهُ أَظَلَّهُ اللَّهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ تَحْتَ ظِلَّ عَرْشِهِ يَوْمَ لَا ظِلَّ إِلَّا ظِلُّهُ
অর্থঃ “যে ব্যক্তি কোন অভাবী ঋণগ্রস্তকে অবকাশ দিবে অথবা ঋণের কিছু অংশ ছেড়ে দিবে, কিয়ামতের দিন আল্লাহ তাকে স্বীয় আরশের ছায়ার নীচে স্থান দিবেন। সে দিন আল্লাহর আরশের ছায়া ব্যতীত অন্য কোন ছায়া থাকবেনা"।
(২) যে ব্যক্তি কোন মুজাহিদকে সহযোগিতা করবেঃ مَنْ أَعَانَ مُجَاهِدًا فِي سَبِيلِ اللَّهِ أَوْ غَارِمًا فِي عُسْرَتِهِ أَوْ مُكَاتَبًا فِي رَقَبَتِهِ أَظَلَّهُ اللَّهُ فِي ظِلَّهِ يَوْمَ لَا ظِلَّ إِلَّا ظِلُّهُ
অর্থঃ “যে ব্যক্তি আল্লাহর রাস্তায় কোন মুজাহিদকে সহযোগিতা করবে অথবা কোন অভাবীকে তার অভাব মোচনে সাহায্য করবে অথবা মনিবের সাথে চুক্তিতে আবদ্ধ কোন কৃতদাসকে তার দাসত্ব মুক্তিতে সহযোগিতা করবে, আল্লাহ তাকে রোজ কিয়ামতে স্বীয় আরশের ছায়ার নীচে স্থান দিবেন। সে দিন আল্লাহর আরশের ছায়া ব্যতীত কোন ছায়া থাকবেনা"।
(৩) যে ব্যক্তি কোন অভাবীকে সাহায্য করবেঃ নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ “যে ব্যক্তি তার মুসলিম ভাইয়ের প্রয়োজনে সহায়তা করবে আল্লাহ তার প্রয়োজন পূরণে সহায়তা করবেন। আর যে ব্যক্তি কোন মুসলমানের উপর হতে দুনিয়ার কোন মুসিবত দূর করবে, আল্লাহ কিয়ামতের দিন তার বিপদাপদ দূর করবেন”।
(৪) সত্যবাদী ব্যবসায়ীঃ নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ (التَّاجِرُ الصَّدُوقُ الْأَمِينُ مَعَ النَّبِيِّينَ وَالصِّدِّيقِينَ وَالشُّهَدَاءِ) অর্থঃ “সত্যবাদী বিশ্বস্ত ব্যবসায়ীগণ নবী, সিদ্দীক এবং শহীদদের সাথে থাকবেন”।
উপরের আলোচনায় আল্লাহর আরশের ছায়া পাওয়ার ক্ষেত্রে পুরুষের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এর অর্থ এই নয় যে, মহিলাগণ উক্ত আমলগুলোতে পুরুষদের শরীক হলেও তারা আল্লাহর আরশের ছায়ার নীচে স্থান পাবেন না এবং উক্ত ছাওয়াবের হকদার হবেন না। বরং মহিলাগণ যদি উক্ত আমলগুলো সম্পাদন করেন তাঁরাও পুরুষের মত মর্যাদা লাভ করবেন। তবে রাষ্ট্র পরিচালনা এবং সব সময় মসজিদের সাথে সম্পর্ক রাখার বিষয়টি পুরুষের সাথে নির্দিষ্ট।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00