📘 যা হবে মরনের পরে > 📄 কতিপয় জান্নাতী আমল

📄 কতিপয় জান্নাতী আমল


উপরে জান্নাতের যে সুন্দর বিবরণ পেশ করা হয়েছে তা শুনে প্রতিটি মানুষই তা পাওয়ার জন্যে আকাঙ্খা করবে- এটাই স্বাভাবিক। শুধু তাই নয় মু'মিন ব্যক্তির একান্ত কামনাও তাই। এ জন্যেই সে যাবতীয় সৎ আমল করে থাকে। এখানে এমন কতিপয় আমল সম্পর্কে আলোচনা করবো যা পালন করলে জান্নাতের নেয়া'মত লাভ করা খুবই সহজ হবে।
এককভাবে আল্লাহর এবাদত করাঃ
যে ব্যক্তি মৃত্যু বরণ করবে এঅবস্থায় যে সে আল্লাহর সাথে কাউকে শরীক করেনি সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।
জনৈক সাহাবী রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কে বললেনঃ আমাকে সংবাদ দিন এমন আমল সম্পর্কে যা আমাকে জান্নাতের নিকটবর্তী করে দিবে এবং জাহান্নাম থেকে দূরে রাখবে? তিনি বললেনঃ "নিশ্চয়ই তাকে একটি বিরাট বিষয়ে প্রশ্ন করার তাওফীক দেয়া হয়েছে। তুমি আল্লাহর এবাদত করবে, তাঁর সাথে কাউকে শরীক করবেনা, সালাত প্রতিষ্ঠা করবে, যাকাত প্রদান করবে এবং নিকটাত্মীয়দের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখবে"।
পাঁচ ওয়াক্ত নামায আদায় করাঃ
আল্লাহ তা'আলা পাঁচ ওয়াক্ত নামায বান্দার উপর ফরয করেছেন। যে ব্যক্তি উহা আদায় করবে এবং এগুলোকে হালকা ও তুচ্ছ মনে করে তার কোন কিছু বিনষ্ট করবেনা তার জন্য আল্লাহ্র কাছে অঙ্গীকার রয়েছে তিনি তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন। যে ব্যক্তি এগুলো আদায় করবেনা তার জন্যে আল্লাহ্র কাছে কোন অঙ্গিকার নেই। ইচ্ছা করলে তিনি তাকে শাস্তি দিবেন। ইচ্ছা করলে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন"।
প্রকাশ্যে ও গোপনে আল্লাহকে ভয় করাঃ নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কে জিজ্ঞেস করা হলো মানুষকে কোন আমলটি বেশী করে জান্নাতে প্রবেশ করাবে? উত্তরে তিনি বললেনঃ "আল্লাহর ভয় এবং উত্তম চরিত্র"।'
আল্লাহ বলেনঃ (وَسِيقَ الَّذِينَ اتَّقَوْا رَبَّهُمْ إِلَى الْجَنَّةِ زُمَرًا حَتَّى إِذَا جَاءُوهَا وَفُتِحَتْ أَبْوَابُهَا وَقَالَ لَهُمْ خَزَنَتُهَا سَلَامٌ عَلَيْكُمْ طِبْتُمْ فَادْخُلُوهَا خَالِدِينَ) অর্থঃ "যারা তাদের পালনকর্তাকে ভয় করতো, তাদেরকে দলে দলে জান্নাতের দিকে নিয়ে যাওয়া হবে। যখন তারা উন্মুক্ত দরজা দিয়ে জান্নাতে পৌঁছবে এবং জান্নাতের রক্ষীরা তাদেরকে বলবেঃ তোমাদের প্রতি সালাম, তোমরা সুখে থাক, অতঃপর সদাসর্বদা বসবাসের জন্যে তোমরা জান্নাতে প্রবেশ কর”। (সূরা যুমারঃ ৭৩)
বুখারী শরীফে এই মর্মে একটি ঘটনা বর্ণিত হয়েছে যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ তোমাদের পূর্ববর্তীদের ভিতরে একজন গুনাহগার লোক ছিল। সে বৃদ্ধ বয়সে উপনীত হয়ে পরিবারের লোকদেরকে ডেকে বললঃ আমি জীবনে অনেক পাপের কাজ করেছি। আল্লাহ যদি আমাকে ধরতে পারেন তাহলে কঠিন শাস্তি প্রদান করবেন। তাই আমি যখন মৃত্যু বরণ করবো তোমরা অনেক কাঠ সংগ্রহ করে বিরাট একটি অগ্নি প্রজ্বলিত করে আমাকে তাতে নিক্ষেপ করবে। আমার শরীর আগুনে জ্বলে যখন ছাই হয়ে যাবে তখন ছাইগুলোকে ভাল করে পিষবে। অতঃপর তোমরা অপেক্ষা করতে থাকবে। সাগরের ভিতরে যে দিন ঝড় সৃষ্টি হবে এবং প্রচন্ড ঢেউ উঠবে তখন ছাইগুলোকে তাতে নিক্ষেপ করবে। তারা তাই করল। আল্লাহ রাব্বুল আলামীন তাকে একত্রিত করে জিজ্ঞেস করলেনঃ তুমি কেন এরকম করেছো? সে বললঃ হে আল্লাহ! আপনার শাস্তির ভয়ে আমি এরকম করেছি। অতঃপর আল্লাহ তাকে ক্ষমা করে দিয়ে জান্নাতে প্রবেশ করালেন"।
প্রতিদিন ১২ রাকা'আত সুন্নাত নামায আদায় করাঃ নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ “যে ব্যক্তি দিন ও রাতে বার রাকাআত নফল নামায আদায় করবে তার জন্যে জান্নাতে একটি ঘর তৈরী করা হবে"।' এই ১২ রাকা'আত নামায হলো জোহরের আগে চার এবং পরে দুই, মাগরিবের পরে দুই, এশার পরে দুই এবং ফজরের আগে দুই রাকা'আত।
প্রত্যেকবার অযু করে দু'রাকাআত নফল নামায আদায় করাঃ নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এক দিন বেলাল (রাঃ) কে বললেনঃ হে বেলাল! আমাকে বল তো ইসলামের এমনকি আমল তুমি করে থাক যার মাধ্যমে আল্লাহর কাছে সর্বাধিক প্রতিদানের আশা করে থাক? কেননা জান্নাতে আমার সামনে তোমার জুতার আওয়াজ শুনেছি। তিনি বললেনঃ আমার কাছে তেমন আশান্বিত কোন আমল নেই, তবে আমি রাতে বা দিনে যখনই পবিত্রতা অর্জন করি তখনই সে অযু দ্বারা সাধ্যানুযায়ী নামায আদায় করে থাকি।
কবুল হজ্জ্বঃ নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ "মাকবুল হজ্জের বিনিময় জান্নাত ছাড়া অন্য কিছু নয়"।
মসজিদ নির্মাণ করাঃ নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ যে ব্যক্তি আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে মসজিদ নির্মাণ করবেঃ আল্লাহ তার জন্যে জান্নাতে অনুরূপ একটি ঘর তৈরী করবেন। কোন মসজিদের নির্মাণ কাজে সামান্য অর্থ দিয়ে বা অন্য কোনভাবে সহায়তা করলেও উক্ত ছাওয়াব অর্জিত হবে ইনশাআল্লাহ।
নবী (সাঃ)কে ভালবাসা এবং তাঁর অনুসরণ করাঃ নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কে ভালাবাসা ঈমানের অন্যতম শাখা। তিনি বলেনঃ-
وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ لَا يُؤْمِنُ أَحَدُكُمْ حَتَّى أَكُونَ أَحَبَّ إِلَيْهِ مِنْ وَالِدِهِ وَوَلَدِهِ والناسِ أَجْمَعَيْنَ
অর্থঃ “ঐ সত্বার শপথ! যার হাতে আমার প্রাণ রয়েছে, তোমাদের কেউ ততক্ষণ পর্যন্ত ঈমানদার হতে পারবেনা যতক্ষণ না আমি তার কাছে তার পিতা-মাতা, সন্তান-সন্ততি এবং দুনিয়ার সকল মানুষ হতে প্রিয় হতে পারব"।' নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আরো বলেনঃ আমার উম্মাতের সবাই জান্নাতে প্রবেশ করবে তবে সে ব্যক্তি নয় যে জান্নাতে যেতে অস্বীকার করে। সাহাবাগণ জিজ্ঞেস করলেনঃ কে জান্নাতে যেতে অস্বীকার করে? উত্তরে নবী তিনি বললেনঃ যে ব্যক্তি আমার অনুসরণ করবে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। যে আমার নাফরমানী করবে সে জান্নাতে প্রবেশ করতে অস্বীকার করল।
আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্যে একে অপরকে ভালবাসাঃ নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ
إِنَّ اللَّهَ يَقُولُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ أَيْنَ الْمُتَحَابُّونَ بِجَلَالِي الْيَوْمَ أُظِلُّهُمْ فِي ظِلِّي يَوْمَ لَا ظِلَّ إِلَّا ظِلَّي
অর্থঃ "আল্লাহ তা'আলা কিয়ামতের দিন বলবেনঃ আমার সন্তুষ্টির জন্যে যারা একে অপরকে ভালবাসতো তারা আজ কোথায়? আমি তাদেরকে আমার আরশের ছায়া প্রদান করব। আজ আমার আরশের ছায়া ব্যতীত আর কোন ছায়া নেই"।
মুসলমানের সাথে হিংসা না রাখাঃ
আনাস বিন মালিক (রাঃ) বলেনঃ একদা আমরা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর কাছে বসা ছিলাম। তখন তিনি বললেনঃ তোমাদের কাছে এখনই একজন জান্নাতী লোক আগমণ করবেন। অতঃপর একজন আনসারী লোক আগমণ করলেন। তার দাড়ি বেয়ে ওযুর পানি ঝড়ে পড়ছিল। তার পায়ের জুতা দু'টি বাম হাতে ছিল। পরের দিন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) একই কথা বললেন। কিছুক্ষণ পর সেই আনসারী সাহাবী একই অবস্থায় আগমণ করলেন। তৃতীয় দিনেও তিনি একই কথা বললেন এবং উক্ত আনসারী সাহাবী আগমণ করলেন। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যখন চলে গেলেন, তখন আবদুল্লাহ বিন আমর বিন আস (রাঃ) আনসারী সাহাবীর পিছনে ছুটলেন এবং বললেন আমি আমার পিতার নিকট থেকে তিন দিনের জন্যে অনুমতি নিয়ে এসেছি। আপনি যদি অনুমতি দেন তা হলে এই তিন দিন আপনার কাছে থাকব।
আনসারী সাহাবী বললেনঃ কোন অসুবিধা নেই। আনাস (রাঃ) বলেনঃ আবদুল্লাহ বিন আমর (রাঃ) পরবর্তীতে বলতেন, তিনি তাঁর সাথে পরপর তিনটি রাত্রি যাপন করেছেন। রাত্রিতে তাকে কোন তাহাজ্জুদের নামায বা অতিরিক্ত কোন নামায আদায় করতে দেখেন নি। তবে রাত্রিতে তিনি যখন বিনিদ্রা অনুভব করতেন এবং বিছানায় পার্শ্ব পরিবর্তন করতেন তখন আল্লাহর যিক্র করতেন এবং তাঁর বড়ত্ব বর্ণনা করতেন। অতঃপর যখন ফজরের নামাযের সময় হতো, তখন তিনি নামাযের জন্যে উঠতেন।
আবদুল্লাহ বিন আমর বলেনঃ তবে আমি তাকে কখনও খারাপ কথা বলতে শুনি নাই। তিন দিন অতিবাহিত হওয়ার পর আমি তাঁর আমলকে খুবই সামান্য মনে করলাম এবং বললামঃ হে আল্লাহর বান্দা! আপনার কাছে তিন দিন যাবৎ অবস্থানের কারণ হল, আমি তিনবার নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কে বলতে শুনেছি, এখন তোমাদের নিকট একজন জান্নাতী লোক উপস্থিত হবে। প্রত্যেকবারই আপনি এসে উপস্থিত হয়েছন। তাই আমি তোমার আমল দেখার জন্য এবং আপনার মত আমল করার জন্যে তিন দিন ধরে আপনার সাথে আছি। কিন্তু আমি আপনাকে বেশী আমল করতে দেখিনি। তা হলে বলুন তো কি আমল করার কারণে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আপনার ব্যাপারে এরকম মন্তব্য করেছেন? অর্থাৎ, আপনাকে জান্নাতের সুসংবাদ দিলেন। তিনি বললেনঃ তুমি যা দেখলে তার বেশী অতিরিক্ত কোন আমল করার অভ্যাস আমার নেই। আমি যখন চলে আসার জন্যে বের হলাম তখন আমাকে ডেকে বললেনঃ তবে আমার
অতিরিক্ত একটি আমল আছে। তা হলো আল্লাহ তাঁর মু'মিন বান্দাকে যে কল্যাণ দান করেছেন তার প্রতি আমার অন্তরে কোন হিংসা নেই। আব্দুল্লাহ বিন আমর (রাঃ) বললেনঃ ইহাই আপনাকে এতো মর্যাদাবান করেছে।'
সূরা ইখলাসের সাথে ভালবাসা রাখাঃ জনৈক আনসারী সাহাবী মসজিদে কুবায় ইমামতি করতেন। যখনই তিনি সূরা ফাতিহার পর কোন সূরা দিয়ে কিরাত আরম্ভ করতেন তখন প্রথমে সূরা ইখলাস পড়ে নিতেন। তারপর অন্য কোন সূরা পড়তেন। আর এরূপ তিনি প্রতি রাকাআতেই করতেন। মুসল্লীগণ তাকে বললেনঃ আপনি প্রথমে এই সূরা দিয়ে কিরাত শুরু করছেন তারপর তা যথেষ্ট নয় ভেবে অন্য সূরা পাঠ করছেন। আপনি হয় শুধু এই সূরাটি পাঠ করুন অথবা এটা ছেড়ে অন্য কোন সূরা পাঠ করুন। তিনি বললেনঃ আমি উহা পরিত্যাগ করতে রাজি নই। তোমরা যদি চাও তাহলে এভাবেই তোমাদের ইমামতি করবো। আর যদি অপছন্দ কর তবে তোমাদের ইমামতি ছেড়ে দিবো। তারা মনে করতেন, তিনি তাদের মাঝে সর্বাধিক যোগ্য ব্যক্তি, আর অন্য কেউ তাদের ইমামতি করুক এটাও অপছন্দ করতেন। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়া সাল্লাম) একদা তাদের নিকট আগমণ করে তারা ব্যাপারটি তাঁর কাছে পেশ করলেন। তিনি সেই ব্যক্তিকে জিজ্ঞেস করলেনঃ "হে অমুক! তোমার সাথীরা তোমাকে যে পরামর্শ দিচ্ছে, তা গ্রহণ করতে কিসে তোমাকে বাঁধা দিচ্ছে? আর কেনইবা তুমি উক্ত সূরা প্রতি রাকা'আতে পাঠ করছ? জবাবে তিনি বললেনঃ আমি উহাকে খুব ভালবাসি। তিনি বললেনঃ "এই ভালবাসা তোমাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবে।"
মুসলমানের দুঃখ-কষ্ট মোচনকারীর প্রতিদানঃ নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ
الْمُسْلِمُ أَخُو الْمُسْلِمِ لَا يَظْلِمُهُ وَلَا يُسْلِمُهُ وَمَنْ كَانَ فِي حَاجَةٍ أَخِيهِ كَانَ اللهُ فِي حَاجَتِهِ وَمَنْ فَرَّجَ عَنْ مُسْلِمٍ كُرْبَةً فَرَّجَ اللَّهُ عَنْهُ كُرْبَةً مِنْ كُرُبَاتِ يَوْمِ الْقِيَامَةِ وَمَنْ سَتَرَ مُسْلِمًا سَتَرَهُ اللَّهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ
অর্থঃ এক মুসলমান অপর মুসলমানের ভাই। সে তার ভাইয়ের প্রতি জুলুম করবেনা। তাকে বিপদাপদে অসহায় অবস্থায় ছেড়ে দিবেনা। যে ব্যক্তি তার মুসলিম ভাইয়ের প্রয়োজনে সহায়তা করবে আল্লাহ তার প্রয়োজন পূরণে সহায়তা করবেন। আর যে ব্যক্তি কোন মুসলমানের উপর হতে দুনিয়ার কোন মুসিবত দূর করবে আল্লাহ কিয়ামতের দিন তার বিপদাপদ দূর করবেন। যে ব্যক্তি মুসলমানের দোষ-ত্রুটি গোপন করবে আল্লাহ তা'আলা কিয়ামতের দিন তার দোষ-ত্রুটি গোপন রাখবেন।'
ন্যায়ভাবে বিচার-ফয়সালাকারী জান্নাতে যাবেঃ নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ الْقُضَاةُ ثَلَاثَةٌ قَاضِيَان فِي النَّارِ وَقَاضِ فِي الْجَنَّةِ رَجُلٌ قَضَى بِغَيْرِ الْحَقِّ فَعَلِمَ ذَاكَ فَذَاكَ فِي النَّارِ وَقَاضِ لَا يَعْلَمُ فَأَهْلَكَ حُقُوقِ النَّاسِ فَهُوَ فِي النَّارِ وَقَاضِ قَضَى بِالْحَقِّ فَذَلِكَ فِي الْجَنَّةِ
অর্থঃ "বিচারক তিন প্রকার। দু'প্রকার বিচারক জাহান্নামে যাবে এবং এক প্রকার বিচারক জান্নাতে প্রবেশ করবে। যে বিচারক সত্যকে জেনে শুনে অন্যায়ভাবে বিচার করবে সে জাহান্নামে যাবে। আর যে বিচারক অজ্ঞতা বশতঃ বিচার-ফয়সালা করতে গিয়ে মানুষের হক নষ্ট করবে সেও জাহান্নামে যাবে। আর যে বিচারক সত্যকে ভালভাবে বুঝবে এবং সে অনুযায়ী মানুষের মাঝে বিচার ফয়সালা করবে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে"।
রোগীর সেবা ও জানাযায় শরীক হওয়ার বিনিময় জান্নাতঃ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ مَنْ أَصْبَحَ مِنْكُمُ الْيَوْمَ صَائِمًا قَالَ أَبُو بَكْرِ أَنَا قَالَ فَمَنْ تَبِعَ مِنْكُمُ الْيَوْمَ جَنَازَةً قَالَ أَبُو بَكْرٍ أَنَا قَالَ فَمَنْ أَطْعَمَ مِنْكُمُ الْيَوْمَ مِسْكِينًا قَالَ أَبُو بَكْرٍ أَنَا قَالَ فَمَنْ عَادَ مِنْكُمُ الْيَوْمَ مَرِيضًا قَالَ أَبُو بَكْرٍ أَنَا فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ مَا اجْتَمَعْنَ فِي امْرِئٍ إِلَّا دَخَلَ الْجَنَّةَ
অর্থঃ “আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ তোমাদের মধ্যে কে আজ রোযাদার অবস্থায় ঘুম থেকে উঠেছে? আবু বকর (রাঃ) বললেনঃ আমি। আবার বললেনঃ তোমাদের মধ্যে কে আজ একটি জানাযায় অংশ গ্রহণ করেছে? আবু বকর (রাঃ) বললেনঃ আমি। আবার বললেনঃ কে আজ একজন মিসকীনকে খাদ্য দান করেছে? আবু বকর (রাঃ) বললেনঃ আমি। পুনরায় জিজ্ঞেস করলেনঃ এমন কে আছে যে আজ একজন রোগী দেখতে গিয়েছিল? আবু বকর (রাঃ) বললেনঃ আমি। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ যার ভিতরে এ সমস্ত গুণের সমাহার ঘটবে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে"।
মুআজ্জিনের পুরস্কারঃ নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ الْمُؤَذِّنُونَ أَطْوَلُ النَّاسِ أَعْنَاقًا يَوْمَ الْقِيَامَةِ
অর্থঃ "কিয়ামতের দিন মুআজ্জিনের ঘাড় সবচেয়ে লম্বা হবে। এই নিদর্শন মর্যাদা স্বরূপ মুআজ্জিনকে প্রদান করা হবে। যা দেখে মানুষেরা তাঁকে চিনতে পারবে। কোন কোন বিদ্বান বলেনঃ এখানে ঘাড় লম্বা হওয়ার অর্থ তার সম্মান সবচেয়ে বেশী হবে। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আরও বলেনঃ মুআজ্জিনের আওয়াজ যতদূর পৈৗঁছবে ততদূর পর্যন্ত জিন-ইনসানসহ সমস্ত মাখলুক তার ঈমানের পক্ষে কিয়ামতের দিন সাক্ষ্য দিবে"।
ক্রোধ নিবারণকারীর সুসংবাদঃ নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ مَنْ كَظَمَ غَيْظًا وَهُوَ قَادِرٌ عَلَى أَنْ يُنْفِذَهُ دَعَاهُ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ عَلَى رُءُوسِ الْخَلَائِقِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ حَتَّى يُخَيِّرَهُ اللَّهُ مِنَ الْحُورِ الْعِينِ مَا شَاءَ
অর্থঃ “ক্রোধ বাস্তবায়নের ক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও যে ব্যক্তি তা সংবরণ করতে সক্ষম হবে, কিয়ামতের দিন আল্লাহ তা’আলা তাঁকে সমস্ত মাখলুকের সামনে ডেকে এনে হুরদের মধ্যে থেকে যাকে ইচ্ছা নিজের জন্যে নির্বাচন করার অধিকার দিবেন”।
আয়াতুল কুরসী পাঠ করাঃ নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ যে ব্যক্তি প্রত্যেক ফরজ সালাতের পর আয়াতুল কুরসী পাঠ করবে মৃত্যু ছাড়া কোন কিছু তাকে জান্নাতে যেতে বারণ করতে পারবেনা।
রোযাদারদের রাইয়্যান নামক দরজা দিয়ে জান্নাতে প্রবেশঃ রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ إِنَّ فِي الْجَنَّةِ بَابًا يُقَالُ لَهُ الرَّيَّانُ يَدْخُلُ مِنْهُ الصَّائِمُونَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ لَا يَدْخُلُ مَعَهُمْ أَحَدٌ غَيْرُهُمْ يُقَالُ أَيْنَ الصَّائِمُونَ فَيَدْخُلُونَ مِنْهُ فَإِذَا دَخَلَ آخِرُهُمْ أُغْلِقَ فَلَمْ يَدْخُلُ مِنْهُ أَحَدٌ
অর্থঃ “জান্নাতের একটি দরজা রয়েছে যার নাম হল ‘রাইয়্যান’। কিয়ামতের দিন ঐ দরজা দিয়ে জান্নাতে প্রবেশ করবে কেবল রোজাদারগণ। বলা হবে রোজাদারগণ কোথায়? তখন তারা উঠে সেই দরজা দিয়ে প্রবেশ করবেন। তাঁরা ব্যতীত ঐ দরজা দিয়ে আর কেউ প্রবেশ করতে পারবেনা। যখন তাদের প্রবেশ করা শেষ হবে তখন সেই দরজা বন্ধ করে দেয়া হবে। ফলে আর কেউ সেই দরজা দিয়ে প্রবেশ করতে পারবেনা”।
ক্ষুধার্তকে খাদ্যদানকারীর প্রতিদানঃ রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ
أَيُّمَا مُؤْمِنٍ أَطْعَمَ مُؤْمِنًا عَلَى جُوعٍ أَطْعَمَهُ اللَّهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ مِنْ ثِمَارِ الْجَنَّةِ وَأَيُّمَا مُؤْمِنٍ سَقَى مُؤْمِنًا عَلَى ظَمَا سَقَاهُ اللَّهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ مِنَ الرَّحِيقِ الْمَحْتُومِ অর্থঃ "যে মু'মিন ব্যক্তি কোন ক্ষুধার্ত মু'মিনকে আহার করাবে আল্লাহ তাকে জান্নাতের ফল ভক্ষণ করাবেন। আর যে ব্যক্তি কোন তৃষ্ণার্ত মু'মিনের পিপাসা নিবারণ করবে আল্লাহ তাকে রাহীকে মাখতুম তথা মোহরাংকিত স্বর্গীয় সুধা পান করাবেন।'
পিপাসিত পশু-পাখিকে পানি পান করানোর প্রতিদানঃ بَيْنَا رَجُلٌ بِطَرِيقِ اشْتَدَّ عَلَيْهِ الْعَطَشِ فَوَجَدَ بِرًا فَنَزَلَ فِيهَا فَشَرِبَ ثُمَّ خَرَجَ فَإِذَا كَلْبٌ يَلْهَثْ يَأْكُلُ الثَّرَى مِنَ الْعَطَشِ فَقَالَ الرَّجُلُ لَقَدْ بَلَغَ هَذَا الْكَلْبَ مِنَ الْعَطَشِ مِثْلُ الَّذِي كَانَ بَلَغَ مِنِّي فَنَزَلَ الْبُرَ فَمَلَا خُفَّهُ مَاءً فَسَقَى الْكَلْبَ فَشَكَرَ اللَّهُ لَهُ فَغَفَرَ لَهُ অর্থঃ "পূর্বযুগের একজন লোক পথ চলছিল। পথিমধ্যে তার প্রচন্ড পানির পিপাসা হলো। রাস্তার পাশেই একটি কূপের সন্ধান পেয়ে তাতে নেমে পানি পান করে পিপাসা নিবারণ করল। কূপ থেকে উঠে দেখল একটি কুকুর পানির পিপাসায় কাতর হয়ে জিহ্বা দিয়ে ভিজা মাটি চাটছে। লোকটি কুকুরটিকে পিপাসিত ভেবে কূপে নেমে পায়ের মোজা ভর্তি করে পানি এনে কুকুরকে পান করালো। আল্লাহ তার এ কাজে সন্তুষ্ট হয়ে তাকে ক্ষমা করে দিলেন"।
ইয়াতীমের পরিচর্যাকারী জান্নাতে নবী (সাঃ) এর সাথে থাকবেঃ নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ أَنَا وَكَافِلُ الْيَتِيمِ فِي الْجَنَّةِ هَكَذَا وَقَالَ بِإِصْبَعَيْهِ السَّبَّابَةِ وَالْوُسْطَى অর্থঃ "আমি এবং ইয়াতীমের তত্ত্বাবধানকারী এভাবে জান্নাতে থাকব। এই কথা বলে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তর্জনি এবং মধ্যমা আঙ্গুলকে এক সাথে মিলালেন"।
পিতা-মাতার সাথে সদ্ব্যবহার করাঃ নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ ঐ ব্যক্তির নাক ধূলিমলিন হোক যে তার পিতা-মাতাকে বা তাদের একজনকে বৃদ্ধাবস্থায় পেল অথচ তাদের খেদমত করে জান্নাতে প্রবেশ করতে পারলনা।।
কন্যা সন্তান প্রতিপালনে কষ্ট স্বীকার করাঃ নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ “যে ব্যক্তিকে কন্যা সন্তান দ্বারা পরীক্ষায় ফেলা হয় সে যদি তাদের প্রতি করুণাশীল হয় তবে তারা তার জন্য জাহান্নামের পর্দা স্বরূপ হয়ে যাবে"।
যে মহিলার উপর তার স্বামী সন্তুষ্ট থাকবে সে জান্নাতে যাবেঃ নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ أَيُّمَا امْرَأَةٍ مَاتَتْ وَزَوْجُهَا عَنْهَا رَاضٍ دَخَلَتِ الْجَنَّةَ অর্থঃ “স্বামী সন্তুষ্ট থাকাবস্থায় যদি কোন মহিলা মৃত্যু বরণ করে তাহলে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে"। সুতরাং হে রমণী! তুমি চিন্তা করে দেখ তোমার ঠিকানা কোথায়।
অন্ধ হয়ে গেলে ধৈর্য ধারণ করাঃ নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ আল্লাহ বলেনঃ আমি যার দু'টি প্রিয় বস্তু তথা চোখ নষ্ট করে দেয়ার মাধ্যমে পরীক্ষা করি আর সে ধৈর্য ধারণ করে তার বিনিময়ে আমি তাকে জান্নাত প্রদান করবো। হাদীছ থেকে জানতে পারা যায় যে, জন্মান্ধরাও যদি সবুর করে এবং আল্লাহর অনুগত থাকে তাদেরকেও আল্লাহ তা'আলা জান্নাত প্রদান করবেন।
যারা আল্লাহর নিরানব্বইটি নাম মুখস্থ করবেঃ আল্লাহ তা'আলার নিরানব্বইটি নাম রয়েছে। যে ব্যক্তি উহা মুখস্থ করবে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।' এখানে মুখস্থ করার অর্থ হলো সেগুলো মুখস্থ করা, অর্থ বুঝা, তার দাবী অনুযায়ী আমল করা এবং সেগুলোর উসীলা দিয়ে আল্লাহর কাছে দু'আ করা।
যে ব্যক্তি মুখ ও লজ্জাস্থানের হেফাযত করবেঃ قَالَ مَنْ يَضْمَنْ لِي مَا بَيْنَ لَحْيَيْهِ وَمَا بَيْنَ رِجْلَيْهِ أَضْمَنْ لَهُ الْجَنَّةَ অর্থঃ “নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ “যে ব্যক্তি তার মুখ ও লজ্জাস্থানের হেফাযত করবে আমি তার জন্যে বেহেশতের জিম্মাদার হব"।

📘 যা হবে মরনের পরে > 📄 যাদেরকে জান্নাতের সকল দরজা দিয়ে ডাকা হবে

📄 যাদেরকে জান্নাতের সকল দরজা দিয়ে ডাকা হবে


নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ মَنْ أَنْفَقَ زَوْجَيْنِ فِي سَبِيلِ اللَّهِ نُودِيَ مِنْ أَبْوَابِ الْجَنَّةِ يَا عَبْدَ اللَّهِ هَذَا خَيْرٌ فَمَنْ كَانَ مِنْ أَهْلِ الصَّلَاةِ دُعِيَ مِنْ بَاب الصَّلَاةِ وَمَنْ كَانَ مِنْ أَهْلِ الْجِهَادِ دُعِيَ مِنْ بَابِ الْجِهَادِ وَمَنْ كَانَ مِنْ أَهْلِ الصِّيَامِ دُعِيَ مِنْ بَابِ الرَّيَّانِ وَمَنْ كَانَ مِنْ أَهْلِ الصَّدَقَةِ دُعِيَ مِنْ بَابِ الصَّدَقَةِ فَقَالَ أَبُو بَكْرٍ رَضِي اللَّهُ عَنْهُ بِأَبِي أَنتَ وَأُمِّي يَا رَسُولَ اللَّهِ مَا عَلَى مَنْ دُعِيَ مِنْ تِلْكَ الْأَبْوَابِ مِنْ ضَرُورَةٍ فَهَلْ يُدْعَى أَحَدٌ مِنْ تِلْكَ الْأَبْوَابِ كُلَهَا قَالَ نَعَمْ وَأَرْجُو أَنْ تَكُونَ مِنْهُمْ অর্থঃ “যে ব্যক্তি আল্লাহর রাস্তায় জোড়া জোড়া জিনিষ দান করবে তাকে জান্নাতের সকল দরজা দিয়েই প্রবেশের জন্যে ডাকা হবে। তাকে বলা হবেঃ হে আল্লাহর বান্দা এটি তোমার জন্য কতই না উত্তম! সুতরাং নামাযীকে নামাযের দরজা দিয়ে, মুজাহিদকে জিহাদের দরজা দিয়ে, রোযাদারকে 'রাইয়‍্যান' নামক দরজা দিয়ে এবং দাতাকে দানের দরজা
দিয়ে জান্নাতে প্রবেশ করার আহবান করা হবে। আবু বকর (রাঃ) বললেনঃ হে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)! ঐ সকল দরজা থেকে যাদেরকে আহবান করা হবে তাদের জান্নাতে প্রবেশ করতে কোন অসুবিধা হবেনা। আর এমন কেউ আছে কি, যাকে উক্ত সকল দরজা দিয়ে জান্নাতে প্রবেশ করার জন্য আহবান জানানো হবে? উত্তরে রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, হ্যাঁ। আমার বিশ্বাস তুমি তাদের অন্তর্ভূক্ত হবে”।

📘 যা হবে মরনের পরে > 📄 যারা আল্লাহর আরশের ছায়া পাবেন

📄 যারা আল্লাহর আরশের ছায়া পাবেন


আবু হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ سَبْعَةٌ يُظِلُّهُمُ اللَّهُ تَعَالَى فِي ظلّه يَوْمَ لَا ظِلَّ إِلَّا ظِلُّهُ إِمَامٌ عَادِلٌ وَشَابٌ نَشَأَ في عِبَادَةِ اللهِ وَرَجُلٌ قَلْبُهُ مُعَلَّقٌ فِي الْمَسَاجِدِ وَرَجُلَانِ تَحَابًا فِي اللَّهِ اجْتَمَعَا عَلَيْهِ وَتَفَرَّقَا عَلَيْهِ وَرَجُلٌ دَعَتْهُ امْرَأَةٌ ذَاتُ مَنْصِبٍ وَجَمَالٍ فَقَالَ إِنِّي أَخَافُ الله وَرَجُلٌ تَصَدَّقَ بِصَدَقَةٍ فَأَخْفَاهَا حَتَّى لَا تَعْلَمَ شِمَالُهُ مَا تُنْفِقُ يَمِينُهُ وَرَجُلٌ ذَكَرَ اللَّهُ خَالِيًا فَفَاضَتْ عَيْنَاهُ
অর্থঃ "যে দিন আল্লাহর আরশের ছায়া ছাড়া কোন ছায়া থাকবেনা সে দিন সাত ব্যক্তিকে আল্লাহ তাঁর আরশের নীচে ছায়া দান করবেন। তারা হলেনঃ (১) ন্যায় পরায়ণ শাসক (২) যে যুবক তাঁর প্রভুর এবাদতের মাঝে প্রতিপালিত হয়ে বড় হয়েছে। (৩) যে ব্যক্তির মন সর্বদা মসজিদের সাথে সম্পৃক্ত থাকে। (৪) এমন দুই ব্যক্তি, যারা আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্যে একে অপরকে ভালবাসে। আল্লাহর জন্য তারা পরস্পরে একত্রিত হয় এবং আল্লাহর জন্য পরস্পরে বিচ্ছিন্ন হয়। (৫) এমন পুরুষ যাকে একজন সুন্দরী ও সম্ভ্রান্ত বংশের মহিলা নিজের দিকে আহবান করে, আর সে পুরুষ বলেঃ আমি আল্লাহকে ভয় করি। (তাই তোমার ডাকে সাড়া দেয়া আমার পক্ষে সম্ভব নয়)। (৬) যে দানশীল ব্যক্তি এমন গোপনে দান করে,
ডান হাত দিয়ে যা দান করে, বাম হাত তা অবগত হতে পারেনা। অর্থাৎ তিনি কেবল আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্যেই দান করেন। তাই মানুষকে শুনানো বা দেখানোর প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেনা। (৭) যে ব্যক্তি নির্জনে বসে আল্লাহকে স্মরণ করে চোখের পানি প্রবাহিত করে"।'
হাফেয ইবনে হাজার আসকালানী (রঃ) বলেনঃ যদিও উক্ত হাদীছে সাতজনের কথা বলা হয়েছে, তথাপি আল্লাহর আরশের নীচে ছায়া প্রাপ্তদের সংখ্যা সাতের মধ্যে সীমিত নয়। আল্লাহ তা'আলা আরও কয়েক প্রকার মানুষকে বিশেষ ধরণের আমলের বিনিময়ে কিয়ামতের দিন তাঁর আরশের নীচে ছায়া দান করবেন। তাদের মধ্যে রয়েছেনঃ
(১) যে ব্যক্তি কোন অভাবী ঋণগ্রস্তকে অবকাশ দিবেঃ মَنْ أَنظَرَ مُعْسِرًا أَوْ وَضَعَ لَهُ أَظَلَّهُ اللَّهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ تَحْتَ ظِلَّ عَرْشِهِ يَوْمَ لَا ظِلَّ إِلَّا ظِلُّهُ
অর্থঃ “যে ব্যক্তি কোন অভাবী ঋণগ্রস্তকে অবকাশ দিবে অথবা ঋণের কিছু অংশ ছেড়ে দিবে, কিয়ামতের দিন আল্লাহ তাকে স্বীয় আরশের ছায়ার নীচে স্থান দিবেন। সে দিন আল্লাহর আরশের ছায়া ব্যতীত অন্য কোন ছায়া থাকবেনা"।
(২) যে ব্যক্তি কোন মুজাহিদকে সহযোগিতা করবেঃ مَنْ أَعَانَ مُجَاهِدًا فِي سَبِيلِ اللَّهِ أَوْ غَارِمًا فِي عُسْرَتِهِ أَوْ مُكَاتَبًا فِي رَقَبَتِهِ أَظَلَّهُ اللَّهُ فِي ظِلَّهِ يَوْمَ لَا ظِلَّ إِلَّا ظِلُّهُ
অর্থঃ “যে ব্যক্তি আল্লাহর রাস্তায় কোন মুজাহিদকে সহযোগিতা করবে অথবা কোন অভাবীকে তার অভাব মোচনে সাহায্য করবে অথবা মনিবের সাথে চুক্তিতে আবদ্ধ কোন কৃতদাসকে তার দাসত্ব মুক্তিতে সহযোগিতা করবে, আল্লাহ তাকে রোজ কিয়ামতে স্বীয় আরশের ছায়ার নীচে স্থান দিবেন। সে দিন আল্লাহর আরশের ছায়া ব্যতীত কোন ছায়া থাকবেনা"।
(৩) যে ব্যক্তি কোন অভাবীকে সাহায্য করবেঃ নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ “যে ব্যক্তি তার মুসলিম ভাইয়ের প্রয়োজনে সহায়তা করবে আল্লাহ তার প্রয়োজন পূরণে সহায়তা করবেন। আর যে ব্যক্তি কোন মুসলমানের উপর হতে দুনিয়ার কোন মুসিবত দূর করবে, আল্লাহ কিয়ামতের দিন তার বিপদাপদ দূর করবেন”।
(৪) সত্যবাদী ব্যবসায়ীঃ নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ (التَّاجِرُ الصَّدُوقُ الْأَمِينُ مَعَ النَّبِيِّينَ وَالصِّدِّيقِينَ وَالشُّهَدَاءِ) অর্থঃ “সত্যবাদী বিশ্বস্ত ব্যবসায়ীগণ নবী, সিদ্দীক এবং শহীদদের সাথে থাকবেন”।
উপরের আলোচনায় আল্লাহর আরশের ছায়া পাওয়ার ক্ষেত্রে পুরুষের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এর অর্থ এই নয় যে, মহিলাগণ উক্ত আমলগুলোতে পুরুষদের শরীক হলেও তারা আল্লাহর আরশের ছায়ার নীচে স্থান পাবেন না এবং উক্ত ছাওয়াবের হকদার হবেন না। বরং মহিলাগণ যদি উক্ত আমলগুলো সম্পাদন করেন তাঁরাও পুরুষের মত মর্যাদা লাভ করবেন। তবে রাষ্ট্র পরিচালনা এবং সব সময় মসজিদের সাথে সম্পর্ক রাখার বিষয়টি পুরুষের সাথে নির্দিষ্ট।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00