📘 যা হবে মরনের পরে > 📄 জান্নাতের হুরদের বিবরণ

📄 জান্নাতের হুরদের বিবরণ


আপনি যদি জান্নাতবাসীদের স্ত্রীদের সৌন্দর্য্য সম্পর্কে জিজ্ঞেস করেন তাহলে জেনে নিন যে, তাঁরা হবেন উঠতি বয়সের যুবতী রমণী। তাঁদের প্রতিটি অঙ্গ-প্রত্যঙ্গে প্রবাহিত থাকবে নব যৌবনের স্বর্গীয় সুধা। তাদের গাল হবে গোলাপ ও আপেলের মত লাল মিশ্রিত সাদা বর্ণের। গলায় পরানো থাকবে মণি-মুক্তার অলংকার। তাদের চেহারা সূর্যের মত উজ্জ্বল চকচকে হবে। তারা যখন হাসবে তখন তাদের মুখমন্ডল থেকে বিজলির মত আলোর চমক বের হতে থাকবে। জান্নাতবাসী একজন পুরুষ তাঁর স্ত্রীর গালে নিজের চেহারা দেখতে পাবেন। যেমন আয়নায় নিজের ছবি দেখতে পাওয়া যায়। মাংস ও পোষাকের ভিতরে আচ্ছাদিত হাড়ের মগজসমূহ বাহির থেকে দেখা যাবে। জান্নাতের একজন হুর যদি দুনিয়াতে
একবার দৃষ্টি দিত তাহলে আকাশ ও যমিনের মধ্যবর্তী স্থান সুভাসে ভরে যেত, সমস্ত সৃষ্টি আল্লাহর প্রশংসা ও বড়ত্ব বর্ণনা করত, পূর্ব ও পশ্চিম প্রান্তকে তথা সমগ্র পৃথিবীটাকে সুসজ্জিত করে দিতো, প্রতিটি চোখ সকল জিনিষ থেকে দৃষ্টি ফিরিয়ে তাঁর দিকে চেয়ে থাকতো, সূর্যের আলোতে যেমন তারকারাজির আলো মিটে যায় তেমনি তাঁর চেহারার আলোতে সূর্যের আলো মিটে যেতো। বেহেশতের একজন হুরকে যদি দুনিয়ার মানুষেরা দেখতে পেতো, তাহলে সকল দুনিয়াবাসী আল্লাহর উপর ঈমান আনয়ন করতো। জান্নাতী মহিলার মাথার একটি ওড়নার মূল্য দুনিয়া ও তার মধ্যবর্তী সকল বস্তু হতেও বেশী হবে।
হুরদের কাছে তাদের স্বামীদের সাথে মিলিত হওয়া জান্নাতের অন্যান্য সকল বস্তু হতে অধিক আনন্দময় হবে। তাদের স্বামীদের সাথে দীর্ঘকাল অতিবাহিত হওয়ার পরও তাদের সৌন্দর্য্য ও ভালবাসার বিন্দুমাত্র কমতি হবেনা; বরং কাল যতই অতিবাহিত হবে ততই তাদের সৌন্দর্য্য ও ভালবাসা আরো বৃদ্ধি পেতে থাকবে।
বেহেশতের হুরগণ সকল দোষ-ত্রুটি ও নাপাকী থেকে পূত-পবিত্র হবেন। তারা গর্ভধারণ, সন্তান প্রসব, মাসিক রক্তস্রাব, প্রস্রাব-পায়খানা সহ সকল প্রকার অপবিত্রতা থেকে সম্পূর্ণ পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন থাকবেন। তাদের যৌবন শেষ হবেনা, পোষাক পুরাতন হবেনা। তাদের সাথে সহবাসে কোন ক্লান্তি বোধ হবেনা। তারা কেবল তাদের স্বামীদের উপরই দৃষ্টি অবনত রাখবেন। স্বামী ছাড়া অন্য কারও কথা মনে কল্পনাও করবেন না। স্বামীর চোখের দৃষ্টিও কেবল তাঁর দিকেই থাকবে। কারণ সেই তো তার একমাত্র চাওয়া-পাওয়ার বস্তু। তার দিকে তাকাইলে তাঁকে আনন্দিত করে তুলবেন। আদেশ দিলে তা পালন করবেন। তাকে রেখে কোথায়ও গেলে আমানতদারীর হেফাযত করবেন। মোট কথা জান্নাতী ব্যক্তি তার স্ত্রীকে নিয়ে চরম আনন্দে ও স্বচ্ছন্দে বসবাস করবেন।।
জান্নাতের স্ত্রীদেরকে তাদের স্বামীগণের পূর্বে কোন মানুষ বা জিন স্পর্শও করতে পারেনি। যখনই তার দিকে তাকাবেন আনন্দে মন ভরে দিবেন। যখন কথা বলবেন ছন্দময় মিষ্টি কথা দ্বারা হৃদয় ভরে দিবেন। জান্নাতের রুমসমূহে যখন তারা ঘুরাফেরা করবে তখন তাদের আলোতে রুমগুলো আলোকময় হয়ে যাবে। বেহেশতের অধিবাসী নারী-পুরুষগণ
হবেন একই বয়সের পরিপূর্ণ যুবক-যুবতী। আপনি যদি বেহেশতের হুরদের সৌন্দর্য্যের ব্যাপারে জিজ্ঞেস করেন তাহলে আপনি কি চন্দ্র ও সূর্যের সৌন্দর্য্য ও উজ্জ্বলতা প্রত্যক্ষ করেছেন? তাদের চোখের রং সম্পর্কে জানতে চাইলে জেনে নিন যে, তাদের চোখের রং হবে পরিস্কার সাদার মাঝে কাকের কালো চোখের মত কালো বর্ণের। তাদের শরীরের কোমলতা হবে বৃক্ষের কচি শাখা-পাতার ন্যায় নরম ও কোমল।
আপনি যদি তাদের শরীরের রং সম্পর্কে জিজ্ঞেস করেন তবে জেনে নিন যে তাদের শরীরের রং হবে প্রবাল ও পদ্মরাগের মত উজ্জ্বল। জান্নাতে মু'মিনদের জন্যে রয়েছে সচ্চরিত্রা সুন্দরী রমণীগণ। তাদের বাহিরের সৌন্দর্যের সাথে সাথে আভ্যন্তরীণ চরিত্রও হবে অত্যন্ত সুন্দর ও পূত- পবিত্র। তারা হবে অন্তরের প্রশান্তি ও চক্ষু শীতলকারিনী। তারা হবে স্বামীদের কাছে অতি প্রিয় কোমল দেহ বিশিষ্ট আরব্য রমণীতুল্য। সেই রমণী সম্পর্কে আপনাদের কিরূপ ধারণা? তিনি যখন তার স্বামীর চেহারার দিকে তাকাবেন তখন তার হাসিতে জান্নাত আলোকিত হয়ে উঠবে। যখন তিনি এক প্রাসাদ থেকে অন্য প্রাসাদে গমণ করবেন তখন আপনি দেখে বলবেন এই তো সূর্য তার কক্ষপথ ছেড়ে এখানে চলে এসেছে। যখন তিনি তার স্বামীর সাথে কথা বলবেন তখন কতইনা সুন্দর হবে সেই কথোপকথন!!। যখন তাঁর স্বামীর সাথে আলিঙ্গন করবেন তখন কতইনা সুন্দর হবে সেই আলিঙ্গন। হুরেরা যখন গান গাইবে তখন কতইনা সুন্দর হবে সে গানের কন্ঠ!!। যখন তাদের সাথে মেলামেশা করবেন কতইনা আনন্দময় হবে সেই মেলামেশা!! যখন তাকে চুম্বন করবেন তখন সেই চুম্বন হবে তার কাছে সবচেয়ে আকর্ষণীয় বস্তু।

📘 যা হবে মরনের পরে > 📄 জান্নাতে আল্লাহর দীদার

📄 জান্নাতে আল্লাহর দীদার


যদি আপনি মহা পরাক্রমশালী প্রশংসিত প্রভুর সাক্ষাৎ এবং কোন প্রকার উপমা ও সাদৃশ্য হতে পবিত্র তাঁর চেহারা দর্শন সম্পর্কে জিজ্ঞেস করেন তবে জেনে নিন যে আপনি কিয়ামতের দিন আল্লাহকে সেরকমই দেখতে পাবেন, যেমন পরিস্কার আকাশে দিনের বেলায় সূর্য এবং রাতের বেলায় পূর্ণিমার চন্দ্রকে দেখতে পান। এ সম্পর্কে রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হতে মুতাওয়াতির (ধারাবাহিক) সূত্রে হাদীছ বর্ণিত
হয়েছে। যারীর, সুহাইব, আনাস, আবু হুরায়রা, আবু মুসা, আবু সাঈদ ও অন্যান্য সাহাবী (রাঃ) হতে সহীহ এবং সুনানের কিতাবগুলোতে এসমস্ত হাদীছ বর্ণিত হয়েছে। অতএব আপনি শ্রবণ করুন, যে দিন ঘোষণাকারী এই বলে ঘোষণা করবে যে, হে জান্নাতবাসীগণ! আপনাদের প্রভু আপনাদের সাথে সাক্ষাৎ করবেন। আপনারা তাড়াতাড়ি বের হয়ে আসুন! জান্নাতবাসীগণ দ্রুত বের হয়ে এসে দ্রুতগামী বাহনগুলো প্রস্তুত অবস্থায় দেখতে পাবেন। বাহনের উপর তারা উঠে বসবেন। যখন তারা প্রশস্ত উপত্যকায় সমবেত হবেন তখন আল্লাহ তা'আলা সেখানে কুরসী স্থাপন করতে বলবেন। তারপর জান্নাতবাসীদের জন্যে মণি-মুক্তা, নূর, যাবারযাদ, এবং স্বর্ণ-রৌপ্যের মেম্বার স্থাপন করা হবে। তারা যখন স্থির হয়ে বসবেন তখন ঘোষণা দেয়া হবেঃ হে জান্নাতীগণ! সালামুন আলাইকুম (আপনাদের উপর শান্তি বর্ষিত হোক)। অতি সুন্দর ভাষায় তারা সালামের উত্তর দিবেনঃ
(اللَّهُمَّ أَنْتَ السَّلَامُ وَمِنْكَ السَّلَامُ تَبَارَكْتَ ذَا الْجَلَالِ وَالْإِكْرَامِ) وَفِي رِوَايَةِ ابْنِ نُمَيْرٍ يَا ذَا الْجَلَالِ وَالْإِكْرَامِ)
অর্থঃ হে আল্লাহ! আপনি শান্তিময়। আপনার পক্ষ হতেই শান্তির ধারা বর্ষিত হয়ে থাকে। হে মহা সম্মানের অধিকারী! আপনি অতি বরকতময়। তাদের উত্তর শুনে আল্লাহ তা'আলা সর্বপ্রথম বলবেনঃ আমার সেই বান্দাগণ কোথায়? যারা আমাকে না দেখেই আমার আনুগত্য করেছিল। আজ তাদের অতিরিক্ত পুরস্কারের দিন। তখন সকল জান্নাতবাসী এক বাক্যে বলবেনঃ হে আল্লাহ আমরা আপনার উপর সন্তুষ্ট। সুতরাং আপনিও আমাদের উপর সন্তুষ্ট হয়ে যান। তখন আল্লাহ বলবেনঃ হে জান্নাতীগণ! আমি যদি তোমাদের উপর সন্তুষ্ট না থাকতাম তাহলে তোমাদেরকে আমার এই জান্নাতে প্রবেশ করাতামনা। আজ তোমাদের জন্যে অতিরিক্ত পুরস্কারের দিন। তোমাদের মন যা চায়, তাই চাইতে পার। তখন সকলেই এক বাক্যে বলবেনঃ আমাদের জন্যে আপনার চেহারা মুবারাক উন্মুক্ত করুন। আমরা আপনার দিকে তাকিয়ে আপনার দর্শন লাভের নেয়া'মত ভোগ করব। তারপর আল্লাহ তা'আলা চেহারার পর্দা উন্মুক্ত করে তাদের
সামনে বের হবেন। আল্লাহর নূর তাদেরকে আচ্ছাদিত করে ফেলবে। আল্লাহ যদি এ ফয়সালা না করতেন যে তারা আল্লাহর নূরে প্রজ্বলিত হবেনা তাহলে তাঁরা অবশ্যই জ্বলে যেতেন। ঐ মজলিসে যারা উপস্থিত হবেন তাদের সবার সাথেই আল্লাহ রাব্বুল আলামীন কথা বলবেন। এমনকি আল্লাহ বলবেনঃ হে আমার বান্দা! তোমার কি মনে আছে? তুমি অমুক দিন এই কাজ করেছিলে। সে বলবে, হে দয়াময় আল্লাহ! আপনি কি আমাকে ক্ষমা করে দেননি? আল্লাহ বলবেনঃ আমার ক্ষমার বিনিময়েই তুমি এই মর্যাদায় পৌঁছতে সক্ষম হয়েছো। কতইনা সুন্দর হবে আল্লাহর এসমস্ত কথা শ্রবণ!!
সম্মানিত প্রভুর চেহারার দিকে তাকিয়ে চক্ষু শীতলকারী সৎকর্মশীলদের কতইনা সৌভাগ্য!! ক্ষতিগ্রস্ত প্রত্যাবত্তনকারীদের কতইনা দুর্ভাগ্য!! আল্লাহ বলেনঃ
(وُجُوهُ يَوْمَئِذٍ نَاضِرَةٌ إِلَى رَبِّهَا نَاظِرَةٌ وَوُجُوهُ يَوْمَئِذٍ بَاسِرَةٌ تَظُنُّ أَنْ يُفْعَلَ بِهَا فَاقِرَةٌ)
অর্থঃ "সেদিন অনেক মুখমন্ডল উজ্জ্বল হবে। তারা তাদের প্রতিপালকের দিকে তাকিয়ে থাকবে। আর অনেক মুখমন্ডল সেদিন উদাস হয়ে পড়বে। তারা ধারণা করবে যে, তাদের সাথে কোমর ভাঙ্গা আচরণ করা হবে"। (সূরা আল-কিয়ামাহঃ ২২-২৫)

📘 যা হবে মরনের পরে > 📄 মা’তের শেষ পরিণতি

📄 মা’তের শেষ পরিণতি


ইবনে উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ
إِذَا صَارَ أَهْلُ الْجَنَّةِ إِلَى الْجَنَّةِ وَأَهْلُ النَّارِ إِلَى النَّارِ جِيءَ بِالْمَوْتِ حَتَّى يُجْعَلَ بَيْنَ الْجَنَّةِ وَالنَّارِ ثُمَّ يُذْبَحُ ثُمَّ يُنَادِي مُنَادِ يَا أَهْلَ الْجَنَّةِ لَا مَوْتَ وَيَا أَهْلَ النَّارِ لَا مَوْتَ فَيَزْدَادُ أَهْلُ الْجَنَّةِ فَرَحًا إِلَى فَرَحِهِمْ وَيَزْدَادُ أَهْلُ النَّارِ حُزْنًا إِلَى حزنهم
অর্থঃ "যখন জান্নাতবাসীগণ জান্নাতে চলে যাবেন এবং জাহান্নামীরা জাহান্নামে প্রবেশ করবে তখন (সাদা-কালো মিশ্রিত রঙ্গের ভেড়ার আকৃতিতে) মৃত্যুকে নিয়ে আসা হবে এবং তাকে জান্নাত ও জাহান্নামের মধ্যবর্তী একটি স্থানে রেখে যবেহ করে ঘোষণা করা হবেঃ হে জান্নাতবাসীগণ! তোমাদের আর মৃত্যু হবেনা। এখানে তোমরা অনাদিকাল পর্যন্ত অবস্থান করবে। ওহে জাহান্নামীরা! তোমরা চিরকাল এ কঠিন আযাব ভোগ করবে। তোমাদের আর মৃত্যু হবেনা। একথা শুনে বেহেশতবাসীদের আনন্দ ও খুশী আরো বেড়ে যাবে এবং জাহান্নামীদের দুঃখ ও পেরেশানী আরও বৃদ্ধি পাবে।'
অন্য বর্ণনায় এসেছে প্রথমে জান্নাতের অধিবাসীদেরকে ডাক দিয়ে জিজ্ঞেস করা হবেঃ হে জান্নাতবাসীগণ! তোমরা কি একে চেন? তাঁরা বলবেনঃ আমরা তাকে চিনি। সে হলো মৃত্যু। অতঃপর জাহান্নামীদেরকে জিজ্ঞেস করা হবেঃ তোমরা কি একে চেন? তারাও বলবেঃ আমরা তাকে চিনি। সে হলো মৃত্যু। অতঃপর তাকে যবেহ করে দেয়া হবে। তারপর বলা হবেঃ হে জান্নাতীগণ! তোমরা এখানে চিরকাল থাকবে। তোমাদের আর কোন দিন মৃত্যু হবেনা। জাহান্নামীদেরকে ডাক দিয়ে বলা হবেঃ তোমরা চিরকাল শাস্তি ভোগ করবে। তোমাদের আর মৃত্যু হবেনা।
হে আল্লাহ! আমাদেরকে এবং আমাদের পিতা-মাতা ও আপনার প্রিয় বান্দাদেরকে জাহান্নামের আযাব থেকে রক্ষা করুন এবং জান্নাতের নেয়া'মত লাভে ধন্য করুন! আমীন।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00