📄 মুমিনগণ নির্ভয়ে হাশরের মাঠে
আল্লাহ তা'আলা বলেনঃ (يَوْمَ نَحْشُرُ الْمُتَّقِينَ إِلَى الرَّحْمَنِ وَفْدًا)
অর্থঃ "সেদিন দয়াময় আল্লাহর কাছে পরহেজগারদেরকে সম্মানিত অতিথিরূপে সমবেত করা হবে"। (সূরা মারইয়ামঃ ৮৫)
আল্লামা ইবনে কাছীর (রঃ) এই আয়াতের তাফসীরে বলেনঃ আল্লাহর যেসমস্ত পরহেজগার বান্দা দুনিয়াতে আল্লাহকে ভয় করে চলবেন, তাঁর রাসূলদের আনুগত্য করতঃ রাসূলগণ কর্তৃক প্রদত্ত সংবাদ সত্য বলে বিশ্বাস করবেন, তারা যে বিষয়ের আদেশ দিবেন তা মেনে নিবেন এবং রাসূলগণ যা থেকে নিষেধ করবেন তা থেকে বিরত থাকবেন তাদেরকে আল্লাহ তা'আলা সম্মানিত অতিথি রূপে আপন দরবারে উপস্থিত করবেন।
আল্লাহ তাআ'লা আরও বলেনঃ (وَسِيقَ الَّذِينَ اتَّقَوْا رَبَّهُمْ إِلَى الْجَنَّةِ زُمَرًا حَتَّى إِذَا جَاؤُوْهَا وَفُتِحَتْ أَبْوَابُهَا وَقَالَ لَهُمْ خَزَنَتُهَا سَلَامٌ عَلَيْكُمْ طِبْتُمْ فَادْخُلُوهَا خَالِدِينَ ) অর্থঃ "যারা তাদের পালনকর্তাকে ভয় করতো তাদেরকে দলে দলে জান্নাতের দিকে নিয়ে যাওয়া হবে। যখন তারা জান্নাতের নিকটস্থ হবেন এবং তাদের জন্যে জান্নাতের দরজাসমূহ খুলে দেয়া হবে তখন জান্নাতের রক্ষীগণ তাদেরকে বলবেনঃ তোমাদের প্রতি সালাম। তোমরা সুখে থাক। অতঃপর স্থায়ীভাবে বসবাসের জন্যে তোমরা জান্নাতে প্রবেশ কর"। (সূরা যুমারঃ ৭৩)
অত্র আয়াতে আল্লাহ সৌভাগ্যবান মু'মিনদের অবস্থা বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন যে, তাদেরকে দ্রুতগামী বাহনে করে সম্মানিত মেহমান রূপে জান্নাতে নিয়ে যাওয়া হবে। নৈকট্যশীলদেরকে সর্বপ্রথম জান্নাতে প্রবেশ করানো হবে। তার পর নেককারদেরকে অতঃপর তাদের পরবর্তীদেরকে। প্রত্যেক দলকে তাদের সাথীদের সঙ্গে বেহেশতে প্রবেশ করানো হবে। নবীগণকে নবীদের সাথে, সত্যবাদীগণকে সত্যবাদীদের সাথে, শহীদদেরকে তাঁদের সঙ্গীদের সাথে এবং আলেমদেরকে তাদের বন্ধুদের সাথে বেহেশতের দিকে নিয়ে যাওয়া হবে। পুলসিরাত পার হওয়ার পর যখন তারা জান্নাতের দরজার কাছে পৌঁছবেন তখন জান্নাত ও জাহান্নামের মাঝামাঝি একটি স্থানে তাদেরকে আটকানো হবে এবং তাদের মাঝে পারস্পরিক জুলুম থেকে প্রতিশোধ নেয়ার সুযোগ দেয়া হবে। তাদেরকে সকল প্রকার দোষ-ত্রুটি থেকে পবিত্র করে বেহেশতে প্রবেশের অনুমতি দেয়া হবে।
📄 মুমিনদের পুলসিরাত পার
জাহান্নামের উপরে যে পুলসিরাত স্থাপন করা হবে তার উপর দিয়ে পার হয়ে মু'মিনগণ জান্নাতে চলে যাবেন আর কাফের ও অপরাধীরা তা থেকে পড়ে গিয়ে জাহান্নামে পতিত হবে।
আল্লাহ তায়া'লা বলেনঃ
(وَإِنْ مِنْكُمْ إِلَّا وَارِدُهَا كَانَ عَلَى رَبِّكَ حَتْمًا مَقْضِيًّا ثُمَّ نُنَجِّي الَّذِينَ اتَّقَوْا وَنَذَرُ الظَّالِمِينَ فِيهَا جِثِيًّا) অর্থঃ "তোমাদের মধ্যে এমন কেউ নেই যে তথায় পৌঁছবেনা। এটা আপনার পালনকর্তার অনিবার্য ফয়সালা। অতঃপর আমি আল্লাহ ভীরুদেরকে উদ্ধার করবো এবং জালেমদেরকে সেখানে নতজানু অবস্থায় ছেড়ে দিবো"। (সূরা মারইয়ামঃ ৭১-৭২) সহীহ হাদীছে নবী করীম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হতে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেনঃ
يَرِدُ النَّاسُ النَّارَ ثُمَّ يَصْدُرُونَ مِنْهَا بِأَعْمَالِهِمْ فَأَوَّلُهُمْ كَلَمْحِ الْبَرْقِ ثُمَّ كَالرِّيحِ ثُمَّ كَحُضْرِ الْفَرَسِ ثُمَّ كَالرَّاكِبِ فِي رَحْلِهِ ثُمَّ كَشَدِ الرَّجُلِ ثُمَّ كَمَشِيهِ অর্থঃ "মানুষদেরকে জাহান্নামের আগুনের উপর পেশ করা হবে। অতঃপর প্রত্যেকেই নিজ নিজ আমল অনুযায়ী তা পার হবে। তাদের মধ্যে সর্বপ্রথম ব্যক্তি চোখের পলকে পার হবে। কেউ পার হবে দ্রুতগামী বাতাসের গতিতে, কেউ দ্রুতগামী ঘোড়ার গতিতে, কেউ দ্রুতগামী উটের গতিতে, কেউ দৌড়িয়ে আবার কেউ পায়ে হেঁটে হেঁটে পার হবে"।
📄 একটি শিক্ষণীয় ঘটনা
আব্দুল্লাহ ইবনে রাওয়াহা (রাঃ) একবার অসুস্থ হয়ে পড়লেন। তিনি তাঁর স্ত্রীর কোলে মাথা রেখে কাঁদতে লাগলেন। তাঁর স্ত্রীও ক্রন্দন শুরু করলেন। তিনি জিজ্ঞেস করলেনঃ তুমি ক্রন্দন করছো কেন? স্ত্রী বললেনঃ আপনাকে ক্রন্দন করতে দেখে আমিও কাঁদছি। আবদুল্লাহ ইবনে রাওয়াহা (রাঃ) বললেনঃ আমি আল্লাহর বাণী, (وَإِنْ مِنْكُمْ إِلَّا وَارِدُهَا (তোমাদের মধ্যে এমন কেউ নেই, যাকে তথায় (পুলসিরাতে) উপস্থিত করা হবেনা)- এই কথাটি স্মরণ করে কাঁদছি। কারণ আমি জানিনা যে, তা থেকে মুক্তি পাব কি না।