📘 যা হবে মরনের পরে > 📄 লোক দেখানো আমলকারীর বিচার

📄 লোক দেখানো আমলকারীর বিচার


রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ
إِنَّ أَوَّلَ النَّاسِ يُقْضَى يَوْمَ الْقِيَامَةِ عَلَيْهِ رَجُلٌ اسْتُشْهِدَ فَأُتِيَ بِهِ فَعَرَّفَهُ نِعَمَهُ فَعَرَفَهَا قَالَ فَمَا عَمِلْتَ فِيهَا قَالَ قَاتَلْتُ فِيكَ حَتَّى اسْتُشْهِدْتُ قَالَ كَذَبْتَ وَلَكِنَّكَ قَاتَلْتَ لِأَنْ يُقَالَ جَرِيءٌ فَقَدْ قِيلَ ثُمَّ أُمِرَ بِهِ فَسُحِبَ عَلَى وَجْهِهِ حَتَّى أُلْقِيَ فِي النَّارِ وَرَجُلٌ تَعَلَّمَ الْعِلْمَ وَعَلَّمَهُ وَقَرَأَ الْقُرْآنَ فَأُتِيَ بِهِ فَعَرَّفَهُ نِعَمَهُ فَعَرَفَهَا قَالَ فَمَا عَمِلْتَ فِيهَا قَالَ تَعَلَّمْتُ الْعِلْمَ وَعَلَّمْتُهُ وَقَرَأْتُ فِيكَ الْقُرْآنَ قَالَ كَذَبْتَ وَلَكِنَّكَ تَعَلَّمْتَ الْعِلْمَ لِيُقَالَ عَالِمٌ وَقَرَأْتَ الْقُرْآنَ لِيُقَالَ هُوَ قَارِئُ
فَقَدْ قِيلَ ثُمَّ أَمَرَ بِهِ فَسُحِبَ عَلَى وَجْهِهِ حَتَّى أُلْقِيَ فِي النَّارِ وَرَجُلٌ وَسَّعَ اللهُ عَلَيْهِ وَأَعْطَاهُ مِنْ أَصْنَافِ الْمَالِ كُلَّه فَأْتِيَ بِه فَعَرَّفَهُ نِعَمَهُ فَعَرَفَهَا قَالَ فَمَا عَمِلْتَ فِيهَا قَالَ مَا تَرَكْتُ مِنْ سَبِيلٍ تُحِبُّ أَنْ يُنْفَقَ فِيهَا إِلَّا أَنْفَقْتُ فِيهَا لَكَ قَالَ كَذَبْتَ وَلَكِنَّكَ فَعَلْتَ لِيُقَالَ هُوَ جَوَادٌ فَقَدْ قِيلَ ثُمَّ أُمِرَ بِهِ فَسُحِبَ عَلَى وَجْهِهِ ثُمَّ أُلْقِيَ فِي النَّارِ
অর্থঃ "কিয়ামতের দিন প্রথমে যেসব লোকের বিচার করা হবে তাদের মধ্যে একজন শহীদ ব্যক্তি। তাকে উপস্থিত করে আল্লাহ তাঁর নেয়া'মতসমূহ স্মরণ করিয়ে দিবেন। সে তা স্বীকার করবে। অতঃপর আল্লাহ তাকে জিজ্ঞেস করবেন আমার দেয়া নেয়া'মতের বিনিময়ে তুমি কি আমল করেছ? উত্তরে সে বলবেঃ আপনার রাস্তায় জেহাদ করে শহীদ হয়েছি। আল্লাহ বলবেনঃ তুমি মিথ্যা বলছে; বরং তুমি এই উদ্দেশ্যে জিহাদ করে শহীদ হয়েছিলে যাতে তোমাকে শহীদ বলে আখ্যায়িত করা হয়। পৃথিবীতে তা বলা হয়ে গেছে। অতঃপর তাকে মুখের উপর উপুড় করে টেনে হিঁচড়ে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে। অতঃপর এমন একজন আলেমকে উপস্থিত করা হবে যে দ্বীনি ইলম অর্জন করেছে এবং মানুষকে তা শিক্ষা দিয়েছে এবং কুরআন পাঠ করেছে। অতঃপর তাকে আল্লাহর নেয়া'মতসমূহ স্মরণ করানো হবে। সেও তা স্বীকার করবে। আল্লাহ তাকে জিজ্ঞেস করবেনঃ আমার দেয়া নেয়া'মতের বিনিময়ে তুমি কি আমল করেছ? সে বলবেঃ দ্বীনি ইলম অর্জন করেছি, অন্যকে তা শিক্ষা দিয়েছি এবং আপনার জন্যে কুরআন পাঠ করেছি। আল্লাহ বলবেনঃ তুমি মিথ্যা বলছো; বরং তুমি এই জন্যে বিদ্যা শিক্ষা করেছিলে যাতে মানুষ তোমাকে আলেম বলে। আর এই জন্যে কুরআন পাঠ করেছিলে যাতে তোমাকে কারী বলা হয়। পৃথিবীতে তোমাকে এই সব বলা হয়ে গেছে। এরপর তাকে জাহান্নামে নিক্ষেপের আদেশ দেয়া হবে। অতঃপর নাক ও মুখের উপর উপুড় করে তাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে। এরপর ঐ ব্যক্তিকে আনা হবে যাকে আল্লাহ নানারকম ধন-সম্পদ দান করেছিলেন। আল্লাহ তাকে জিজ্ঞেস করবেন, আমার দেয়া নেয়ামতের বিনিময়ে তুমি কি আমল করেছ? সে বলবেঃ আপনি যেসমস্ত পথে খরচ করা পছন্দ করেন তার কোন পথই আমি বাদ দেইনি। সকল পথেই খরচ করেছি। আল্লাহ
বলবেনঃ তুমি মিথ্যা বলছো; বরং তুমি এই জন্য খরচ করেছো যাতে মানুষ তোমাকে দানবীর বলে। পৃথিবীতে তোমাকে তা বলা হয়ে গেছে। অতঃপর তাকে মুখ ও নাকের উপর উপুড় করে জাহান্নামে নিক্ষেপের আদেশ দেয়া হবে এবং তাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে"।

📘 যা হবে মরনের পরে > 📄 বিদআতীরা হাউজ থেকে বঞ্চিত হবে

📄 বিদআতীরা হাউজ থেকে বঞ্চিত হবে


হাশরের মাঠে রয়েছে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর হাউজে কাউছার যার পানি হবে দুধের চেয়ে সাদা, মধুর চেয়ে মিষ্টি, এবং তার সুঘ্রাণ হবে কস্তুরীর সুঘ্রাণের চেয়েও অধিক পবিত্র। যে ব্যক্তি একবার তা থেকে পান করবে চিরদিনের জন্যে তার পিপাসা মিটে যাবে। বিদআতীরা কিয়ামতের দিন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর হাউজে কাউছার থেকে বঞ্চিত হবে।
তিনি বলেনঃ إِنِّي فَرَطُكُمْ عَلَى الْحَوْضِ مَنْ مَرَّ عَلَيَّ شَرِبَ وَمَنْ شَرِبَ لَمْ يَظْمَا أَبَدًا لَيَرِدَنْ عَلَيَّ أَقْوَامٌ أَعْرِفُهُمْ وَيَعْرِفُونِي ثُمَّ يُحَالُ بَيْنِي وَبَيْنَهُمْ فَأَقُولُ إِنَّهُمْ مِنِّي فَيُقَالُ إِنَّكَ لَا تَدْرِي مَا أَحْدَثُوا بَعْدَكَ فَأَقُولُ سُحْقًا سُحْقًا لِمَنْ غَيْرَ بَعْدِي
অর্থঃ "কিয়ামতের দিন আমি তোমাদের জন্যে হাউজে' কাউছারের নিকট উপস্থিত থাকব। যে ব্যক্তি আমার কাছে আসবে আমি তাকে তা থেকে পান করাবো। আমার হাউজ থেকে যে একবার পানি পান করবে সে আর কখনও পিপাসিত হবেনা। এমন সময় আমার কাছে একদল লোক আগমণ করবে। আমি তাদেরকে চিনতে পারব। তারাও আমাকে চিনতে পারবে। অতঃপর আমার ও তাদের মাঝে প্রতিবন্ধক সৃষ্টি করা হবে। আমি বলবোঃ এরা আমার উম্মত। তখন আমাকে বলা হবেঃ আপনি জানেন না তারা আপনার পরে কত বিদআত তৈরী করেছিল। আমি বলবঃ আমার রেখে আসা দ্বীনের মধ্যে যারা পরিবর্তন করেছো তারা এখান থেকে সরে যাও। অতঃপর তাদেরকে সেখান থেকে
বিতাড়িত করা হবে"।

📘 যা হবে মরনের পরে > 📄 হাশরে কিছু লোকের কঠিন পরিণতি

📄 হাশরে কিছু লোকের কঠিন পরিণতি


কুরআন ও হাদীছে এমন কতগুলো পাপের বর্ণনা এসেছে তাতে লিপ্ত ব্যক্তিদের ব্যাপারে ধমকি এসেছে যে কিয়ামতের দিন আল্লাহ তাদের সাথে কথা বলবেন না, তাদের দিকে করুণার দৃষ্টিতে তাকাবেন না, তাদেরকে গুনাহ থেকে পবিত্রও করবেন না এবং তাদের জন্যে রয়েছে কঠিন শাস্তি।
১) যারা আল্লাহর কিতাব গোপন করে। তারা হলো ঐ সমস্ত আলেম যারা দুনিয়ার স্বার্থ লাভ অথবা কোন শাসককে সন্তুষ্ট করার জন্য ইলম গোপন করে থাকে।
আল্লাহ তা'আলা তাদের ব্যাপারে বলেনঃ
(إِنَّ الَّذِينَ يَكْتُمُونَ مَا أَنزَلَ اللهُ مِنْ الْكِتَابِ وَيَشْتَرُونَ بِهِ ثَمَنًا قَلِيلًا أُوْلَئِكَ مَا يَأْكُلُونَ فِي بُطُونِهِمْ إِلَّا النَّارَ وَلَا يُكَلِّمُهُمُ اللَّهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَلَا يُزَكِّيهِمْ وَلَهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌ أُوْلَئِكَ الَّذِينَ اشْتَرَوْا الضَّلَالَةَ بِالْهُدَى وَالْعَذَابَ بِالْمَغْفِرَةِ فَمَا أَصْبَرَهُمْ عَلَى النَّارِ)
অর্থঃ "নিশ্চয় যারা সে সব বিষয় গোপন করে যা আল্লাহ কিতাবে নাযিল করেছেন এবং এর বিনিময়ে অল্প মূল্য গ্রহণ করে তারা আগুন ছাড়া নিজেদের পেটে আর কিছুই ঢুকায়না। আল্লাহ কিয়ামতের দিন তাদের সাথে কথা বলবেন না, তাদেরকে গুনাহ থেকে পবিত্রও করবেন না এবং তাদের জন্য রয়েছে বেদনা দায়ক শাস্তি। তারাই সুপথের বিনিময়ে কুপথ এবং ক্ষমার পরিবর্তে শাস্তি ক্রয় করেছে। অতঃপর কিরূপে তারা জাহান্নাম সহ্য করবে? (সূরা বাকারাঃ ১৭৪-১৭৫)
ইমাম বগবী (রঃ) বলেনঃ আল্লাহ তাদের সাথে এমন কথা বলবেন না যাতে তারা খুশী হবে; বরং তিনি তাদের সাথে ধমকের স্বরে কথা বলবেন। কেউ কেউ বলেছেনঃ তিনি তাদের উপর ক্রুদ্ধ থাকবেন। যেমন
বলা হয়ে থাকে অমুক ব্যক্তি অমুকের সাথে কথা বলবেনা। এটা ঐ সময় বলা হয় যখন সে তার উপর ক্রুদ্ধ থাকে। আবু হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ "কোন আলেমকে শরীয়তের কোন বিষয় সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে সে যদি জানা সত্ত্বেও তা গোপন করে কিয়ামতের দিন তার মুখে আগুনের লাগাম পরিয়ে দেয়া হবে"।
২) যারা আল্লাহর সাথে কৃত ওয়াদা ভঙ্গ করে ও সামান্য মূল্যের বিনিময়ে প্রতিজ্ঞা ভঙ্গ করে এবং দুনিয়ার সামান্য স্বার্থের বিনিময়ে মিথ্যা শপথ করে। আল্লাহ তা'আলা তাদের সম্পর্কে বলেনঃ
إِنَّ الَّذِينَ يَشْتَرُونَ بِعَهْدِ اللَّهِ وَأَيْمَانِهِمْ ثَمَنًا قَلِيلًا أُوْلَئِكَ لَا خَلَاقَ لَهُمْ فِي الْآخِرَةِ وَلَا يُكَلِّمُهُمُ اللهُ وَلَا يَنْظُرُ إِلَيْهِمْ يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَلَا يُزَكِّيهِمْ وَلَهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌ)
অর্থঃ "যারা আল্লাহর নামে কৃত অঙ্গীকার এবং প্রতিজ্ঞা সামান্য মূল্যে বিক্রয় করে আখেরাতে তাদের কোন অংশ নেই। তাদের সাথে কিয়ামতের দিন আল্লাহ কথা বলবেন না। তাদের প্রতি করুণার দৃষ্টিতে তাকাবেন না। আর তাদেরকে গুনাহ থেকে পবিত্রও করবেন না। বস্তুতঃ তাদের জন্যে রয়েছে যন্ত্রনাদায়ক আযাব"। (সূরা আল ইমরানঃ ৭৭)
৩) যে ব্যক্তি টাখনুর নীচে যমিন পর্যন্ত লুঙ্গী ও অন্যান্য কাপড় ঝুলিয়ে পরিধান করে। যে ব্যক্তি মানুষকে কোন কিছু দান করার পর খোঁটা দেয়। আর যে ব্যক্তি পণ্যদ্রব্য বিক্রয় ও চালু করার জন্যে মিথ্যা শপথ করে তাদের জন্য রয়েছে কঠিন শাস্তি। আবু যার (রাঃ) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ
ثَلَاثَةٌ لَا يُكَلِّمُهُمُ اللَّهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَلَا يَنْظُرُ إِلَيْهِمْ وَلَا يُزَكِّيهِمْ وَلَهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌ قَالَ فَقَرَأَهَا رَسُولُ اللهِ ﷺ ثَلَاثَ مِرَارًا قَالَ أَبُو ذَرِّ خَابُوا وَخَسِرُوا مَنْ هُمْ يَا رَسُولَ اللهُ قَالَ الْمُسْبِلُ وَالْمَنَّانُ وَالْمُنَفَقُ سِلْعَتَهُ بِالْحَلِفِ الْكَاذِبِ
অর্থঃ "তিন জন লোকের সাথে আল্লাহ কিয়ামতের দিন কথা বলবেন না, তাদের দিকে করুণার দৃষ্টিতে তাকাবেন না, তাদেরকে গুনাহ থেকে পবিত্রও করবেন না। আর তাদের জন্য রয়েছে কঠিন শাস্তি। রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কথাটি তিনবার বললেন। আবু যার (রাঃ) বলেনঃ তাহলে তারা ক্ষতিগ্রস্ত ও ধ্বংস হবে। হে আল্লাহর রাসূল! তারা কোন শ্রেণীর লোক? জবাবে তিনি বললেনঃ টাখনুর নীচে কাপড় ঝুলিয়ে পরিধানকারী, কোন কিছু দান করার পর খোঁটাদানকারী ও মিথ্যা শপথের মাধ্যমে পণ্যদ্রব্য বিক্রয়কারী"।
৪) যে ব্যক্তি এমন স্থানে বসবাস করে যাতে পানির খুব সংকট অথচ তার নিকট প্রয়োজনের অতিরিক্ত পানি রয়েছে। আর সে অন্যদেরকে পানি ব্যবহার করা থেকে বাধা দিয়ে থাকে। আর যে ব্যক্তি দুনিয়ার কোন স্বার্থ হাসিলের জন্যে ইমামের হাতে বায়আত করে।
আবু হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত, রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ ثَلَاثَةٌ لَا يُكَلِّمُهُمُ اللَّهُ وَلَا يَنْظُرُ إِلَيْهِمْ وَلَا يُزَكِّيهِمْ وَلَهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌ رَجُلٌ عَلَى فَضْلِ مَاء بِطَرِيقِ يَمْنَعُ مِنْهُ ابْنَ السَّبِيلِ وَرَجُلٌ بَايَعَ رَجُلًا لَا يُبَايِعُهُ إِلَّا لِلدُّنْيَا فَإِنْ أَعْطَاهُ مَا يُرِيدُ وَفَى لَهُ وَإِلَّا لَمْ يَفِ لَهُ وَرَجُلٌ سَاوَمَ رَجُلًا بِسِلْعَةٍ بَعْدَ الْعَصْرِ فَحَلَفَ بِاللَّهِ لَقَدْ أُعْطِيَ بِهَا كَذَا وَكَذَا فَأَخَذَهَا
অর্থঃ "তিন ব্যক্তির সাথে আল্লাহ কথা বলবেন না, তাদের দিকে করুণার দৃষ্টিতে তাকাবেন না এবং তাদেরকে গুনাহ থেকে পবিত্রও
করবেন না। আর তাদের জন্য রয়েছে কঠিন শাস্তি। (১) এমন ব্যক্তি, যে কোন ময়দানে বসবাস করে, তার কাছে রয়েছে অতিরিক্ত পানি। অথচ সে মুসাফিরদেরকে তা ব্যবহার করতে নিষেধ করে থাকে। (২) এমন ব্যক্তি যে দুনিয়ার স্বার্থে কোন শাসকের হাতে বায়আত করে। শাসক যদি কিছু দেয় তবে তার সাথে কৃত অঙ্গিকার পূর্ণ করে আর না দিলে অঙ্গিকার ভঙ্গ করে। (৩) এমন ব্যক্তি যে কারও কাছে আসরের নামাযের পরে শপথ করে কোন জিনিষ বিক্রি করে। সে বলেঃ আল্লাহর কসম! আমি জিনিষটি এত টাকা দিয়ে ক্রয় করেছি। যাতে মানুষেরা তার কথা বিশ্বাস করে অথচ সে তাতে মিথ্যাবাদী"।
৫) তাদের মধ্যে রয়েছে বৃদ্ধ ব্যভিচারী, মিথ্যাবাদী বাদশাহ, অহংকারী ফকীর। এসকল লোক সম্পর্কে আবু হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদীছে রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ ثَلَاثَةٌ لَا يُكَلِّمُهُمُ اللَّهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَلَا يُزَكِّيهِمْ وَلَا يَنْظُرُ إِلَيْهِمْ وَلَهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌ شَيْخٌ زَانٍ وَمَلِكٌ كَذَّابٌ وَعَائِلٌ مُسْتَكْبِرُ
অর্থঃ "তিন জন লোকের সাথে আল্লাহ কিয়ামতের দিন কথা বলবেন না, তাদের দিকে করুণার দৃষ্টিতে তাকাবেন না এবং তাদেরকে গুনাহ থেকে পবিত্রও করবেন না। আর তাদের জন্য রয়েছে কঠিন আজাব। (১) বৃদ্ধ ব্যভিচারী (২) মিথ্যাবাদী বাদশাহ (৩) অহংকারী ফকীর"।
৬) তাদের মধ্যে আরও রয়েছে পিতামাতার অবাধ্য সন্তান ঐ মহিলা যে পোষাক ও আকৃতিতে পুরুষের সাদৃশ্যতা অবলম্বন করে এবং দাইউছ। দাইউছ ঐ ব্যক্তিকে বলা হয় যে নিজের স্ত্রী-পরিবারের ভিতরে অশ্লীল কাজ কর্ম দেখা সত্বেও কোন প্রতিবাদ করেনা। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ
ثَلَاثَةٌ لَا يَنْظُرُ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ إِلَيْهِمْ يَوْمَ الْقِيَامَةِ الْعَاقُ لِوَالِدَيْهِ وَالْمَرْأَةُ الْمُتَرَجِّلَةُ وَالدَّيُّوتُ وَثَلَاثَةٌ لَا يَدْخُلُونَ الْجَنَّةَ الْعَاقُ لِوَالِدَيْهِ وَالْمُدْمِنُ عَلَى الْخَمْرِ وَالْمَنَّانُ بِمَا أَعْطَى
অর্থঃ আল্লাহ তা'আলা তিন ব্যক্তির দিকে করুণার দৃষ্টিতে তাকাবেন না (১) পিতা-মাতার অবাধ্য সন্তান (২) পুরুষের সাথে সাদৃশ্যকারী মহিলা (৩) দাইউছ। তিনি আরও বলেনঃ তিন ব্যক্তি জান্নাতে প্রবেশ করবে না (১) পিতা-মাতার অবাধ্য সন্তান (২) মদ পানকারী (৩) কোন কিছু দান করে খোঁটাদানকারী"।
৭) তাদের মধ্যে রয়েছে ঐ পুরুষ যে তার স্ত্রীর পিছনের রাস্তা দিয়ে সহবাস করে। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ لَا يَنْظُرُ اللَّهُ عَزَّ وَجَلٌ إِلَى رَجُلٍ جَامَعَ امْرَأَتَهُ فِي دُبُرِهَا
অর্থঃ “যে ব্যক্তি তার স্ত্রীর পিছনের রাস্তা দিয়ে সহবাস করবে, রোজ কিয়ামতে আল্লাহ তার দিকে রহমতের দৃষ্টিতে তাকাবেন না"। অন্য বর্ণনায় এসেছে স্ত্রীর গুহ্যদ্বার দিয়ে সঙ্গমকারী আল্লাহর রহমত থেকে বঞ্চিত হবে।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00