📄 বিলাসকারীর পরিণতি
আবু মালেক আল আশয়া'রী (রাঃ) হতে বর্ণিত, রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ قَالَ أَرْبَعٌ فِي أُمَّتِي مِنْ أَمْرِ الْجَاهِلِيَّةِ لَا يَتْرُكُونَهُنَّ الْفَحْرُ فِي الْأَحْسَابِ وَالطَّعْنُ فِي الْأَنْسَابِ وَالاسْتِسْقَاءُ بِالنُّجُومِ وَالنِّيَاحَةُ وَقَالَ النَّائِحَةُ إِذَا لَمْ تَتُبْ قَبْلَ مَوْتِهَا تُقَامُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَعَلَيْهَا سِرْبَالٌ مِنْ قَطِرَانِ وَدِرْعٌ مِنْ جَرَبٍ অর্থঃ "আমার উম্মতের মধ্যে জাহেলী যামানার চারটি জিনিষ বর্তমান থাকবে। তারা এ গুলো ছাড়তে পারবে না। (১) বংশ মর্যাদা নিয়ে গর্ব করা। (২) কারো বংশে আঘাত করা। (৩) তারকার মাধ্যমে বৃষ্টি প্রার্থনা করা। (৪) মৃত ব্যক্তির জন্য উচ্চৈঃস্বরে ক্রন্দন করা। মৃতব্যক্তির জন্যে উচ্চৈঃস্বরে বিলাপকারীনী মহিলা যদি মৃত্যুর পূর্বে তাওবা না করে মৃত্যু বরণ করে কিয়ামতের দিন তাকে আলকাতরার পায়জামা ও খুজলিযুক্ত জামা পরিয়ে হাশরের মাঠে উপস্থিত করা হবে"।
হাদীছের অর্থ এই যে বিলাপকারীনীকে কিয়ামতের দিন গলিত শীশার প্রলেপযুক্ত জামা পরিয়ে দেয়া হবে। শাস্তি ও অপমান স্বরূপ তাকে এ ধরণের পোষাক পরিয়ে সবার সামনে উপস্থিত করা হবে।
📄 বেপর্দা মহিলার অবস্থা
যে সমস্ত মহিলা দুনিয়াতে বেপর্দা হয়ে চলা-ফেরা করবে তাদের সম্পর্কে রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ
صِنْفَانِ مِنْ أَهْلِ النَّارِ لَمْ أَرَهُمَا قَوْمٌ مَعَهُمْ سِيَاطٌ كَأَذْنَابِ الْبَقَرِ يَضْرِبُونَ بِهَا النَّاسَ وَنِسَاءً كَاسِيَاتٌ عَارِيَاتٌ مُمِيلَاتٌ مَائِلَاتٌ رُءُوسُهُنَّ كَأَسْنِمَةِ الْبُخْتِ الْمَائِلَةِ لَا يَدْخُلْنَ الْجَنَّةَ وَلَا يَجِدْنَ رِيحَهَا وَإِنَّ رِيحَهَا لَيُوجَدُ مِنْ مَسِيرَةِ كَذَا وَكَذَا
অর্থঃ “দুই প্রকারের লোক জাহান্নামে প্রবেশ করবে। কিন্তু আমি তাদেরকে দেখিনি। তাদের এক প্রকার হলো এমন লোক যাদের হাতে গরুর লেজের মত লাঠি থাকবে। তা দিয়ে মানুষকে প্রহার করবে। আর দ্বিতীয় প্রকার হল এমন সব মহিলা যারা দুনিয়াতে পোষাক পরিধান করবে কিন্তু পোষাক সংকীর্ণ হওয়ার কারণে অথবা পোষাক দিয়ে সমস্ত শরীর আবৃত না করার কারণে তাদেরকে উলঙ্গের মত দেখা যাবে। তারা বেহায়াপনা ও অশ্লীল আচরণের মাধ্যমে পুরুষদেরকে নিজেদের দিকে আকৃষ্ট করবে। তাদের মাথার চুলগুলো উটের কুঁজের মত সামনের দিকে ঝুলে থাকবে। তারা জান্নাতে প্রবেশ করা তো দূরের কথা জান্নাতের সুঘ্রাণও পাবেনা। অথচ জান্নাতের সুঘ্রাণ বহুদূর থেকে পাওয়া যাবে"।'
মুসলিম রমণীর জন্য বেপর্দায় ঘর থেকে বের হওয়া কবীরা গুনাহর অন্তর্ভূক্ত। এ ব্যাপারে কঠোর সতর্কবাণী এসেছে। পর্দাহীনা মহিলা পর্দা না করার কারণে জাহান্নামের অধিবাসী হওয়ার ভয় রয়েছে। রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ
كَمْ مِنْ كَاسِيَة فِي الدُّنْيَا عَارِيَةِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ
অর্থঃ “দুনিয়াতে পোষাক পরিধানকারী অনেক মহিলা কিয়ামতের দিন বিবস্ত্র অবস্থায় থাকবে"।
রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর উপরোক্ত কথাটির
কয়েক ধরণের ব্যাখ্যা হতে পারে।
১) অনেক মহিলা ধন-সম্পদ ও প্রাচুর্যের মাঝে থেকে দুনিয়াতে সুন্দর পোষাক পরিধান করে শরীর ঢেকে রাখবে। কিন্তু দুনিয়াতে ভাল আমল না করার কারণে আখেরাতে ছাওয়াব থেকে খালী থাকবে।
২) মহিলা দুনিয়াতে কাপড় পরিধান করতো, কিন্তু এমন সংকীর্ণ ও পাতলা পোষাক পরিধান করত যা দ্বারা সতর আবৃত হতনা। তাই প্রতিদান স্বরূপ কিয়ামতের দিন উলঙ্গ করার মাধ্যমে তাকে শাস্তি দেয়া হবে।
৩) মহিলা দুনিয়াতে পোষাক পরিধান করতো, কিন্তু পিছনের দিকে ওড়না ঝুলিয়ে দিত যাতে বক্ষ ও শরীরের অধিকাংশ প্রকাশ হয়ে যেত। যার ফলে তাকে উলঙ্গের মত দেখা যেত। পরিণামে তাকে কিয়ামতের দিন বিবস্ত্র করে শাস্তি দেয়া হবে।
তাই বুদ্ধিমতী মহিলাদের উচিত এ ভয়াবহ অবস্থা ও পরিণতির কথা চিন্তা করা যার একমাত্র কারণ বেপর্দা ও বেহায়াপনা। মুসলিম রমণী যেন ঐ সমস্ত পোষাক ও ওড়নার প্রতি দৃষ্টি না দেয় যা পর্দার মাধ্যম না হয়ে ফিতনার কারণে পরিণত হয়েছে। ভেবে দেখা উচিৎ ঐ রমণীর! যে নিজেকে মু'মিন পুরুষদের জন্যে ফিতনার কারণে পরিণত হয়ে তাদেরকে জান্নাতের পথে চলা থেকে পদস্খলন করছে।
📄 লোক দেখানো আমলকারীর বিচার
রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ
إِنَّ أَوَّلَ النَّاسِ يُقْضَى يَوْمَ الْقِيَامَةِ عَلَيْهِ رَجُلٌ اسْتُشْهِدَ فَأُتِيَ بِهِ فَعَرَّفَهُ نِعَمَهُ فَعَرَفَهَا قَالَ فَمَا عَمِلْتَ فِيهَا قَالَ قَاتَلْتُ فِيكَ حَتَّى اسْتُشْهِدْتُ قَالَ كَذَبْتَ وَلَكِنَّكَ قَاتَلْتَ لِأَنْ يُقَالَ جَرِيءٌ فَقَدْ قِيلَ ثُمَّ أُمِرَ بِهِ فَسُحِبَ عَلَى وَجْهِهِ حَتَّى أُلْقِيَ فِي النَّارِ وَرَجُلٌ تَعَلَّمَ الْعِلْمَ وَعَلَّمَهُ وَقَرَأَ الْقُرْآنَ فَأُتِيَ بِهِ فَعَرَّفَهُ نِعَمَهُ فَعَرَفَهَا قَالَ فَمَا عَمِلْتَ فِيهَا قَالَ تَعَلَّمْتُ الْعِلْمَ وَعَلَّمْتُهُ وَقَرَأْتُ فِيكَ الْقُرْآنَ قَالَ كَذَبْتَ وَلَكِنَّكَ تَعَلَّمْتَ الْعِلْمَ لِيُقَالَ عَالِمٌ وَقَرَأْتَ الْقُرْآنَ لِيُقَالَ هُوَ قَارِئُ
فَقَدْ قِيلَ ثُمَّ أَمَرَ بِهِ فَسُحِبَ عَلَى وَجْهِهِ حَتَّى أُلْقِيَ فِي النَّارِ وَرَجُلٌ وَسَّعَ اللهُ عَلَيْهِ وَأَعْطَاهُ مِنْ أَصْنَافِ الْمَالِ كُلَّه فَأْتِيَ بِه فَعَرَّفَهُ نِعَمَهُ فَعَرَفَهَا قَالَ فَمَا عَمِلْتَ فِيهَا قَالَ مَا تَرَكْتُ مِنْ سَبِيلٍ تُحِبُّ أَنْ يُنْفَقَ فِيهَا إِلَّا أَنْفَقْتُ فِيهَا لَكَ قَالَ كَذَبْتَ وَلَكِنَّكَ فَعَلْتَ لِيُقَالَ هُوَ جَوَادٌ فَقَدْ قِيلَ ثُمَّ أُمِرَ بِهِ فَسُحِبَ عَلَى وَجْهِهِ ثُمَّ أُلْقِيَ فِي النَّارِ
অর্থঃ "কিয়ামতের দিন প্রথমে যেসব লোকের বিচার করা হবে তাদের মধ্যে একজন শহীদ ব্যক্তি। তাকে উপস্থিত করে আল্লাহ তাঁর নেয়া'মতসমূহ স্মরণ করিয়ে দিবেন। সে তা স্বীকার করবে। অতঃপর আল্লাহ তাকে জিজ্ঞেস করবেন আমার দেয়া নেয়া'মতের বিনিময়ে তুমি কি আমল করেছ? উত্তরে সে বলবেঃ আপনার রাস্তায় জেহাদ করে শহীদ হয়েছি। আল্লাহ বলবেনঃ তুমি মিথ্যা বলছে; বরং তুমি এই উদ্দেশ্যে জিহাদ করে শহীদ হয়েছিলে যাতে তোমাকে শহীদ বলে আখ্যায়িত করা হয়। পৃথিবীতে তা বলা হয়ে গেছে। অতঃপর তাকে মুখের উপর উপুড় করে টেনে হিঁচড়ে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে। অতঃপর এমন একজন আলেমকে উপস্থিত করা হবে যে দ্বীনি ইলম অর্জন করেছে এবং মানুষকে তা শিক্ষা দিয়েছে এবং কুরআন পাঠ করেছে। অতঃপর তাকে আল্লাহর নেয়া'মতসমূহ স্মরণ করানো হবে। সেও তা স্বীকার করবে। আল্লাহ তাকে জিজ্ঞেস করবেনঃ আমার দেয়া নেয়া'মতের বিনিময়ে তুমি কি আমল করেছ? সে বলবেঃ দ্বীনি ইলম অর্জন করেছি, অন্যকে তা শিক্ষা দিয়েছি এবং আপনার জন্যে কুরআন পাঠ করেছি। আল্লাহ বলবেনঃ তুমি মিথ্যা বলছো; বরং তুমি এই জন্যে বিদ্যা শিক্ষা করেছিলে যাতে মানুষ তোমাকে আলেম বলে। আর এই জন্যে কুরআন পাঠ করেছিলে যাতে তোমাকে কারী বলা হয়। পৃথিবীতে তোমাকে এই সব বলা হয়ে গেছে। এরপর তাকে জাহান্নামে নিক্ষেপের আদেশ দেয়া হবে। অতঃপর নাক ও মুখের উপর উপুড় করে তাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে। এরপর ঐ ব্যক্তিকে আনা হবে যাকে আল্লাহ নানারকম ধন-সম্পদ দান করেছিলেন। আল্লাহ তাকে জিজ্ঞেস করবেন, আমার দেয়া নেয়ামতের বিনিময়ে তুমি কি আমল করেছ? সে বলবেঃ আপনি যেসমস্ত পথে খরচ করা পছন্দ করেন তার কোন পথই আমি বাদ দেইনি। সকল পথেই খরচ করেছি। আল্লাহ
বলবেনঃ তুমি মিথ্যা বলছো; বরং তুমি এই জন্য খরচ করেছো যাতে মানুষ তোমাকে দানবীর বলে। পৃথিবীতে তোমাকে তা বলা হয়ে গেছে। অতঃপর তাকে মুখ ও নাকের উপর উপুড় করে জাহান্নামে নিক্ষেপের আদেশ দেয়া হবে এবং তাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে"।
📄 বিদআতীরা হাউজ থেকে বঞ্চিত হবে
হাশরের মাঠে রয়েছে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর হাউজে কাউছার যার পানি হবে দুধের চেয়ে সাদা, মধুর চেয়ে মিষ্টি, এবং তার সুঘ্রাণ হবে কস্তুরীর সুঘ্রাণের চেয়েও অধিক পবিত্র। যে ব্যক্তি একবার তা থেকে পান করবে চিরদিনের জন্যে তার পিপাসা মিটে যাবে। বিদআতীরা কিয়ামতের দিন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর হাউজে কাউছার থেকে বঞ্চিত হবে।
তিনি বলেনঃ إِنِّي فَرَطُكُمْ عَلَى الْحَوْضِ مَنْ مَرَّ عَلَيَّ شَرِبَ وَمَنْ شَرِبَ لَمْ يَظْمَا أَبَدًا لَيَرِدَنْ عَلَيَّ أَقْوَامٌ أَعْرِفُهُمْ وَيَعْرِفُونِي ثُمَّ يُحَالُ بَيْنِي وَبَيْنَهُمْ فَأَقُولُ إِنَّهُمْ مِنِّي فَيُقَالُ إِنَّكَ لَا تَدْرِي مَا أَحْدَثُوا بَعْدَكَ فَأَقُولُ سُحْقًا سُحْقًا لِمَنْ غَيْرَ بَعْدِي
অর্থঃ "কিয়ামতের দিন আমি তোমাদের জন্যে হাউজে' কাউছারের নিকট উপস্থিত থাকব। যে ব্যক্তি আমার কাছে আসবে আমি তাকে তা থেকে পান করাবো। আমার হাউজ থেকে যে একবার পানি পান করবে সে আর কখনও পিপাসিত হবেনা। এমন সময় আমার কাছে একদল লোক আগমণ করবে। আমি তাদেরকে চিনতে পারব। তারাও আমাকে চিনতে পারবে। অতঃপর আমার ও তাদের মাঝে প্রতিবন্ধক সৃষ্টি করা হবে। আমি বলবোঃ এরা আমার উম্মত। তখন আমাকে বলা হবেঃ আপনি জানেন না তারা আপনার পরে কত বিদআত তৈরী করেছিল। আমি বলবঃ আমার রেখে আসা দ্বীনের মধ্যে যারা পরিবর্তন করেছো তারা এখান থেকে সরে যাও। অতঃপর তাদেরকে সেখান থেকে
বিতাড়িত করা হবে"।