📄 সামর্থ থাকা সত্ত্বেও ভিক্ষাবৃত্তির শাস্তি
আবদুল্লাহ বিন মাসউদ (রাঃ) হতে বর্ণিত, নবী করীম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ
مَنْ سَأَلَ النَّاسَ وَلَهُ مَا يُغْنِيهِ جَاءَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَمَسْأَلَتُهُ فِي وَجْهَهُ خُمُوشٌ أَوْ خُدُوشٌ أَوْ كُدُوحٌ قِيلَ يَا رَسُولَ اللَّهُ وَمَا يُغْنِيهِ قَالَ خَمْسُونَ دِرْهَمًا أَوْ قِيمَتُهَا مِنَ الذَّهَبِ
অর্থঃ "সামর্থ থাকা সত্বেও যে ব্যক্তি মানুষের কাছে হাত পাতবে সে কিয়ামতের দিন গোশতবিহীন এবং ক্ষত-বিক্ষত চেহারা নিয়ে হাশরের মাঠে উপস্থিত হবে। রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কে জিজ্ঞেস করা হলো হে আল্লাহর রাসূল! সামর্থবান হওয়ার জন্যে কতটুকু সম্পদ থাকা প্রয়োজন? তিনি বললেনঃ পঞ্চাশ দিরহাম অথবা তার সমপরিমাণ স্বর্ণ বা অন্য কোন সম্পদ"।
📄 জনসাধারণের প্রয়োজন পূরণে বাধা প্রদান
মুআ'য বিন জাবাল (রাঃ) হতে বর্ণিত, রাসূল (সাঃ) বলেনঃ মَنْ وَلِيَ مِنْ أَمْرِ النَّاسِ شَيْئًا فَاحْتَجَبَ عَنْ أُولِيَ الضَّعَفَةِ وَالْحَاجَةِ احْتَجَبَ اللَّهُ عَنْهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ অর্থঃ "যে ব্যক্তি জনগণের কোন দায়িত্বভার গ্রহণ করার পর দুর্বল এবং অভাবীদের প্রয়োজন পূরণ করা থেকে দূরে থাকলো কিয়ামতের দিন আল্লাহ তার প্রয়োজন পূর্ণ করা থেকে দূরে সরে থাকবেন"।
📄 বিনা অনুমতিতে অন্যের কথা শ্রবণ
ইমাম বুখারী ইবনে আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ مَنْ تَحَلَّمَ بِحُلْمٍ لَمْ يَرَهُ كُلِّفَ أَنْ يَعْقِدَ بَيْنَ شَعِيرَتَيْنِ وَلَنْ يَفْعَلَ وَمَنِ اسْتَمَعَ إِلَى حَدِيثِ قَوْمٍ وَهُمْ لَهُ كَارِهُونَ أَوْ يَفِرُّونَ مِنْهُ صُبَّ فِي أُذُنِهِ الْأَنْكُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَمَنْ صَوَّرَ صُورَةً عُذَبَ وَكُلَّفَ أَنْ يَنْفُخَ فِيهَا وَلَيْسَ بِنَافِخِ অর্থঃ "যে ব্যক্তি স্বপ্নে কিছু না দেখেই মিথ্যা স্বপ্ন বর্ণনা করবে কিয়ামতের দিন তাকে দু'টি গমের দানা দিয়ে একসাথে ঘিরা দেয়ার আদেশ দেয়া হবে অথচ সে কোন ক্রমেই তা করতে পারবে না। আর যে
ব্যক্তি কোন গোত্রের অপছন্দ সত্ত্বেও তাদের কথা কান পেতে শ্রবণ করবে কিয়ামতের দিন তার কানে গলিত শিশা ঢেলে দেয়া হবে। যে ব্যক্তি কোন কিছুর ছবি আঁকবে তাকে কিয়ামতের দিন শাস্তি প্রদান করা হবে এবং ছবিগুলোতে প্রাণের সঞ্চার করতে বলা হবে। অথচ সে তা করতে কখনই সক্ষম হবে না"। এভাবে মানুষের কথা শ্রবণকারী মিথ্যা, গীবত এবং চুগলখোরীতেও লিপ্ত হয় বিধায় সে উক্ত অপরাধের শাস্তিতেও পাকড়াও হবে।
📄 বিলাসকারীর পরিণতি
আবু মালেক আল আশয়া'রী (রাঃ) হতে বর্ণিত, রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ قَالَ أَرْبَعٌ فِي أُمَّتِي مِنْ أَمْرِ الْجَاهِلِيَّةِ لَا يَتْرُكُونَهُنَّ الْفَحْرُ فِي الْأَحْسَابِ وَالطَّعْنُ فِي الْأَنْسَابِ وَالاسْتِسْقَاءُ بِالنُّجُومِ وَالنِّيَاحَةُ وَقَالَ النَّائِحَةُ إِذَا لَمْ تَتُبْ قَبْلَ مَوْتِهَا تُقَامُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَعَلَيْهَا سِرْبَالٌ مِنْ قَطِرَانِ وَدِرْعٌ مِنْ جَرَبٍ অর্থঃ "আমার উম্মতের মধ্যে জাহেলী যামানার চারটি জিনিষ বর্তমান থাকবে। তারা এ গুলো ছাড়তে পারবে না। (১) বংশ মর্যাদা নিয়ে গর্ব করা। (২) কারো বংশে আঘাত করা। (৩) তারকার মাধ্যমে বৃষ্টি প্রার্থনা করা। (৪) মৃত ব্যক্তির জন্য উচ্চৈঃস্বরে ক্রন্দন করা। মৃতব্যক্তির জন্যে উচ্চৈঃস্বরে বিলাপকারীনী মহিলা যদি মৃত্যুর পূর্বে তাওবা না করে মৃত্যু বরণ করে কিয়ামতের দিন তাকে আলকাতরার পায়জামা ও খুজলিযুক্ত জামা পরিয়ে হাশরের মাঠে উপস্থিত করা হবে"।
হাদীছের অর্থ এই যে বিলাপকারীনীকে কিয়ামতের দিন গলিত শীশার প্রলেপযুক্ত জামা পরিয়ে দেয়া হবে। শাস্তি ও অপমান স্বরূপ তাকে এ ধরণের পোষাক পরিয়ে সবার সামনে উপস্থিত করা হবে।