📄 ইয়াতীমের সম্পদ ভক্ষণের পরিণাম
মহান আল্লাহ তা'আলা বলেনঃ
إِنَّ الَّذِينَ يَأْكُلُونَ أَمْوَالَ الْيَتَامَى ظُلْمًا إِنَّمَا يَأْكُلُونَ فِي بُطُونِهِمْ نَارًا وَسَيَصْلَوْنَ سَعِيرًا)
অর্থঃ "যারা অন্যায়ভাবে ইয়াতীমদের ধন-সম্পদ ভক্ষণ করে নিশ্চয় তারা স্বীয় উদরে অগ্নি ব্যতীত কিছুই ভক্ষণ করে না এবং সত্বরই তারা প্রজ্বলিত অগ্নিতে প্রবেশ করবে”। (সূরা নিসাঃ ১০)
অর্থাৎ যারা বিনা কারণে এবং অন্যায়ভাবে পিতৃহীন অনাথদের ধন-সম্পদ ভক্ষণ করে তারা মূলতঃ আগুন দিয়েই পেট ভর্তি করছে। কিয়ামতের দিন তাদের পেটে জাহান্নামের আগুন দাউ দাউ করে জ্বলতে থাকবে। আবু হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত, রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ
اجْتَنِبُوا السَّبْعَ الْمُوبِقَاتِ قَالُوا يَا رَسُولَ الله وَمَا هُنَّ قَالَ الشَّرْكُ بالله وَالسِّحْرُ وَقَتَلُ النَّفْسِ الَّتِي حَرَّمَ اللَّهُ إِلَّا بِالْحَقِّ وَأَكْلُ الرِّبَا وَأَكْلُ مَالِ الْيَتِيمِ وَالتَّوَلِّي يَوْمَ الزَّحْفِ وَقَذَفُ الْمُحْصَنَاتِ الْمُؤْمِنَاتِ الْغَافِلَاتِ
অর্থঃ "তোমরা সাতটি ধ্বংসাত্মক বিষয় হতে বিরত থাকবে। সাহাবাগণ জিজ্ঞেস করলেন সেগুলো কি কি? রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ তা হলো (১) আল্লাহর সাথে কোন কিছুকে শরীক করা (২) যাদু করা (৩) আল্লাহ তা'আলা যাকে হত্যা করা হারাম করেছেন তাকে অন্যায়ভাবে হত্যা করা। (৪) সুদ খাওয়া (৫) ইয়াতীমের সম্পদ আত্মসাৎ করা (৬) যুদ্ধের ময়দান হতে পলায়ন করা (৭) সতী-সাধ্বী মু'মিন মহিলার প্রতি মিথ্যা অপবাদ দেয়া"।
📄 সামর্থ থাকা সত্ত্বেও ভিক্ষাবৃত্তির শাস্তি
আবদুল্লাহ বিন মাসউদ (রাঃ) হতে বর্ণিত, নবী করীম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ
مَنْ سَأَلَ النَّاسَ وَلَهُ مَا يُغْنِيهِ جَاءَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَمَسْأَلَتُهُ فِي وَجْهَهُ خُمُوشٌ أَوْ خُدُوشٌ أَوْ كُدُوحٌ قِيلَ يَا رَسُولَ اللَّهُ وَمَا يُغْنِيهِ قَالَ خَمْسُونَ دِرْهَمًا أَوْ قِيمَتُهَا مِنَ الذَّهَبِ
অর্থঃ "সামর্থ থাকা সত্বেও যে ব্যক্তি মানুষের কাছে হাত পাতবে সে কিয়ামতের দিন গোশতবিহীন এবং ক্ষত-বিক্ষত চেহারা নিয়ে হাশরের মাঠে উপস্থিত হবে। রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কে জিজ্ঞেস করা হলো হে আল্লাহর রাসূল! সামর্থবান হওয়ার জন্যে কতটুকু সম্পদ থাকা প্রয়োজন? তিনি বললেনঃ পঞ্চাশ দিরহাম অথবা তার সমপরিমাণ স্বর্ণ বা অন্য কোন সম্পদ"।
📄 জনসাধারণের প্রয়োজন পূরণে বাধা প্রদান
মুআ'য বিন জাবাল (রাঃ) হতে বর্ণিত, রাসূল (সাঃ) বলেনঃ মَنْ وَلِيَ مِنْ أَمْرِ النَّاسِ شَيْئًا فَاحْتَجَبَ عَنْ أُولِيَ الضَّعَفَةِ وَالْحَاجَةِ احْتَجَبَ اللَّهُ عَنْهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ অর্থঃ "যে ব্যক্তি জনগণের কোন দায়িত্বভার গ্রহণ করার পর দুর্বল এবং অভাবীদের প্রয়োজন পূরণ করা থেকে দূরে থাকলো কিয়ামতের দিন আল্লাহ তার প্রয়োজন পূর্ণ করা থেকে দূরে সরে থাকবেন"।
📄 বিনা অনুমতিতে অন্যের কথা শ্রবণ
ইমাম বুখারী ইবনে আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ مَنْ تَحَلَّمَ بِحُلْمٍ لَمْ يَرَهُ كُلِّفَ أَنْ يَعْقِدَ بَيْنَ شَعِيرَتَيْنِ وَلَنْ يَفْعَلَ وَمَنِ اسْتَمَعَ إِلَى حَدِيثِ قَوْمٍ وَهُمْ لَهُ كَارِهُونَ أَوْ يَفِرُّونَ مِنْهُ صُبَّ فِي أُذُنِهِ الْأَنْكُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَمَنْ صَوَّرَ صُورَةً عُذَبَ وَكُلَّفَ أَنْ يَنْفُخَ فِيهَا وَلَيْسَ بِنَافِخِ অর্থঃ "যে ব্যক্তি স্বপ্নে কিছু না দেখেই মিথ্যা স্বপ্ন বর্ণনা করবে কিয়ামতের দিন তাকে দু'টি গমের দানা দিয়ে একসাথে ঘিরা দেয়ার আদেশ দেয়া হবে অথচ সে কোন ক্রমেই তা করতে পারবে না। আর যে
ব্যক্তি কোন গোত্রের অপছন্দ সত্ত্বেও তাদের কথা কান পেতে শ্রবণ করবে কিয়ামতের দিন তার কানে গলিত শিশা ঢেলে দেয়া হবে। যে ব্যক্তি কোন কিছুর ছবি আঁকবে তাকে কিয়ামতের দিন শাস্তি প্রদান করা হবে এবং ছবিগুলোতে প্রাণের সঞ্চার করতে বলা হবে। অথচ সে তা করতে কখনই সক্ষম হবে না"। এভাবে মানুষের কথা শ্রবণকারী মিথ্যা, গীবত এবং চুগলখোরীতেও লিপ্ত হয় বিধায় সে উক্ত অপরাধের শাস্তিতেও পাকড়াও হবে।