📄 কারও সম্পদ আত্মসাৎ করার শাস্তি
আবু হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) একদা আমাদের মাঝে দাঁড়িয়ে গণীমতের মাল খেয়ানত সম্পর্কে আলোচনা করতে গিয়ে তার ভয়াবহ পরিণতির কথা উল্লেখ করলেন। অতঃপর তিনি বললেনঃ
لَا أَلْفَيَنَّ أَحَدَكُمْ يَوْمَ الْقِيَامَةِ عَلَى رَقَبَتِهِ شَاةٌ لَهَا ثُغَاءُ عَلَى رَقَبَتِهِ فَرَسٌ لَهُ حَمْحَمَةٌ يَقُولُ يَا رَسُولَ اللهُ أَعْثَنِي فَأَقُولُ لَا أَمْلِكُ لَكَ شَيْئًا قَدْ أَبْلَغْتُكَ وَعَلَى رَقَبَتِهِ بَعِيرٌ لَهُ رُغَاء يَقُولُ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَعْثَنِي فَأَقُولُ لَا أَمْلِكُ لَكَ شَيْئًا قَدْ أَبْلَغْتُكَ وَعَلَى رَقَبَتِهِ صَامِتٌ فَيَقُولُ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَعْتُنِي فَأَقُولُ لَا أَمْلِكُ لَكَ شَيْئًا قَدْ أَبْلَغْتُكَ أَوْ عَلَى رَقَبَتِهِ رِقَاعٌ تَخْفِقُ فَيَقُولُ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَعْثَنِي فَأَقُولُ لَا أَمْلِكُ لَكَ شَيْئًا قَدْ أَبْلَغْتُكَ
অর্থঃ "আমি কিয়ামতের দিন তোমাদের কাউকে এমন অবস্থায় দেখতে চাইনা যে, সে ঘাড়ে একটি চিৎকাররত ছাগল কিংবা ঘোড়া বহন করছে। সে আমাকে ডেকে বলছেঃ হে আল্লাহর রাসূল! আমাকে এ বিপদ থেকে রক্ষা করুন!! তখন আমি বলবঃ আমি তোমার কোন উপকার করতে পারবোনা। আমি আমার দায়িত্ব পালন করেছি এবং তোমাদের কাছে আল্লাহর দ্বীন পৌছিয়ে দিয়েছি। তোমাদের কেউ যেন কিয়ামতের দিন গলায় এমন একটি উট ঝুলন্ত অবস্থায় আমার সাথে সাক্ষাৎ না করে যে উটটি আওয়াজ করতে থাকবে। সে বলবেঃ হে আল্লাহর রাসূল! আমাকে সাহায্য করুন!! আমি তখন বলবঃ আমি তোমার কোন উপকার করতে পারবনা। আমি আমার দায়িত্ব পালন করেছি এবং তোমাদের কাছে আল্লাহর দ্বীন পৌঁছিয়ে দিয়েছি। তোমাদের কেউ যেন কিয়ামতের দিন গলায় স্বর্ণ-রৌপ্য ঝুলন্ত অবস্থায় আমার সাথে সাক্ষাৎ না করে। সে বলবেঃ হে আল্লাহর রাসূল! আমাকে সাহায্য করুন!! তখন আমি বলবঃ আমি তোমার কোন উপকার করতে পারবোনা। আমি আমার দায়িত্ব পালন করেছি এবং তোমাদের কাছে আল্লাহর দ্বীন পৌঁছিয়ে দিয়েছি। তোমাদের কেউ যেন কিয়ামতের দিন গলায় কাপড়ের বোঝা ঝুলন্ত অবস্থায় আমার সাথে সাক্ষাৎ না করে। সে বলবেঃ হে আল্লাহর রাসূল! আমাকে সাহায্য করুন!! তখন আমি বলবঃ আমি তোমার কোন উপকার করতে পারবনা। আমি আমার দায়িত্ব পালন করেছি এবং তোমাদের কাছে আল্লাহর দ্বীন পৌঁছিয়ে দিয়েছি"।
উপরোক্ত হাদীছের অর্থ এই যে, প্রত্যেক খেয়ানতকারী যাই খেয়ানত করুক না কেন কিয়ামতের দিনে তা বহন করে নিয়ে হাশরের মাঠে উপস্থিত হবে। যাতে সে হাশরের ময়দানে সমস্ত মাখলুকের সামনে অপমানিত ও লজ্জিত হয়। চাই খেয়ানতকৃত বস্তু কোন পশু হোক বা স্বর্ণ-রৌপ্য হোক বা অন্য কিছু হোক।
আল্লাহ তা'আলা বলেনঃ وَمَنْ يَغْلُلْ يَأْتِ بِمَا غَلَّ يَوْمَ الْقِيَامَةِ) অর্থঃ "যে ব্যক্তি যা আত্মসাৎ করবে কিয়ামতের দিন তা নিয়ে হাজির হবে"। (সূরা আল-ইমরানঃ ১৬১)
📄 মাপে কম দেয়ার পরিণতি
কুরআন ও হাদীছে মাপে এবং ওজনে কম দেয়াকে হারাম ঘোষণা করা হয়েছে। মানুষের কাছ থেকে কোন কিছু মেপে নেয়ার সময় পূর্ণ মাত্রায় বা বেশী গ্রহণ করা এবং দেয়ার সময় মাপে কম করে দেয়ার শাস্তি অত্যন্ত ভয়াবহ। আল্লাহর নবী শুয়াইব (আঃ) এর জাতিকে মাপে কম দেয়ার কারণেই ধ্বংস করে দেয়া হয়েছে।
আল্লাহ তা'আলা বলেনঃ وَيْلٌ لِلْمُطَفِّفِينَ الَّذِينَ إِذَا اكْتَالُوا عَلَى النَّاسِ يَسْتَوْفُونَ وَإِذَا كَالُوهُمْ أَوْ وَزَنُوهُمْ يُخْسِرُونَ أَلَا يَظُنُّ أُولَئِكَ أَنَّهُمْ مَبْعُوثُونَ لِيَوْمٍ عَظِيمٍ يَوْمَ يَقُومُ النَّاسُ لِرَبِّ الْعَالَمِينَ) অর্থঃ "যারা মাপে কম দেয় তাদের জন্য রয়েছে দুর্ভোগ। যারা লোকদের কাছ থেকে যখন মেপে নেয় তখন পূর্ণ মাত্রায় নেয় এবং যখন লোকদেরকে মেপে দেয় কিংবা ওজন করে দেয় তখন কম করে দয়। তারা কি ভয় করেনা যে তারা পুনরুত্থিত হবে? একটি মহান দিবসে যেদিন মানুষ আপন কৃতকর্মের হিসাব দেয়ার সময় বিশ্বজাহানের প্রতিপালকের সামনে দাঁড়াবে”। (সূরা তাতফীফঃ ১-৬)
📄 ছবি অঙ্কনকারীদের অবস্থা
নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ إِنَّ الَّذِينَ يَصْنَعُونَ هَذِهِ الصُّوَرَ يُعَذِّبُونَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ يُقَالُ لَهُمْ أَحْيُوا مَا خَلَقْتُمْ অর্থঃ "যারা এসমস্ত ছবি অঙ্কন করবে কিয়ামতের দিন তাদেরকে শাস্তি দেয়া হবে। তাদেরকে বলা হবেঃ তোমরা যা তৈরী করেছ তা জীবিত করে দেখাও"।'
আয়েশা (রাঃ) বলেনঃ قَالَتْ حَشَوْتُ لِلنَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وِسَادَةً فِيهَا تَمَاثِيلُ كَأَنَّهَا نُمْرُقَةٌ فَجَاءَ فَقَامَ بَيْنَ الْبَابَيْنِ وَجَعَلَ يَتَغَيَّرُ وَجْهُهُ فَقُلْتُ مَا لَنَا يَا رَسُولَ اللَّهِ قَالَ مَا بَالُ هَذِهِ الْوِسَادَةِ قَالَتْ وِسَادَةً جَعَلْتُهَا لَكَ لِتَضْطَجِعَ عَلَيْهَا قَالَ أَمَا عَلِمْتِ أَنَّ الْمَلَائِكَةَ لَا تَدْخُلُ بَيْتًا فِيهِ صُورَةٌ وَأَنْ مَنْ صَنَعَ الصُّورَةَ يُعَذِّبُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ يَقُولُ أَحْيُوا مَا خَلَقْتُمْ
অর্থঃ "আমি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর জন্য একটি বালিশ তৈরী করলাম। তাতে কিছু ছবি ছিল। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ঘরের দরজার কাছে দাঁড়িয়ে থাকলেন। তা দেখে ক্রোধে তাঁর মুখমণ্ডলের রং পরিবর্তন হতে লাগল। আমি বললামঃ হে আল্লাহর রাসূল! আমাদের কি হলো? তিনি বললেনঃ এই বালিশগুলোর অবস্থা এমন কেন? আয়েশা (রাঃ) বললেনঃ এগুলো আমি আপনার বসার জন্যে তৈরী করেছি। রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ তুমি কি জান না যে ঘরে ছবি থাকে আল্লাহর রহমতের ফেরেশতা সে ঘরে প্রবেশ করেনা? যে ব্যক্তি ছবি তৈরী করবে আল্লাহ তাকে কিয়ামতের দিন কঠিন শাস্তি দিবেন এবং বলবেনঃ তোমরা যা তৈরী করেছ তাতে রূহ্ প্রদান কর"।
ইবনে আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত তিনি বলেনঃ আমি রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কে বলতে শুনেছি,
مَنْ صَوَّرَ صُورَةً فِي الدُّنْيَا كُلَّفَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ أَنْ يَنْفُخَ فِيهَا الرُّوحَ وَلَيْسَ بنافخ
অর্থঃ “দুনিয়াতে যে ব্যক্তি কোন ছবি অংকন করবে কিয়ামতের দিন তাকে উহাতে রূহ্ প্রদান করার আদেশ দেয়া হবে। সে তাতে রূহ্ সঞ্চার করতে সক্ষম হবেনা"।' ইবনে মাসউদ (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ আমি রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কে বলতে শুনেছি,
إِنْ أَشَدَّ النَّاسِ عَذَابًا عِنْدَ اللَّهِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ الْمُصَوِّرُونَ
অর্থঃ "কিয়ামতের দিন ছবি অঙ্কনকারীদেরকে সবচেয়ে কঠিন শাস্তি প্রদান করা হবে"। উম্মুল মুমেনীন আয়েশা (রাঃ) বলেনঃ
دَخَلَ عَلَيَّ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَفِي الْبَيْتِ قِرَامٌ فِيهِ صُوَرٌ فَتَلَوَّنَ وَجْهُهُ ثُمَّ تَنَاوَلَ السِّتْرَ فَهَتَكَهُ وَقَالَتْ قَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِنَّ مِنْ أَشَدَّ النَّاسِ عَذَابًا يَوْمَ الْقِيَامَةِ الَّذِينَ يُصَوِّرُونَ هَذِهِ الصُّوَرَ
অর্থঃ “একদা রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমার কাছে আগমণ করলেন। সেসময় বাড়ীতে একটি চাদর ছিল। তাতে ছিল বিভিন্ন রকম ছবি। কাপড়টি দেখে ক্রোধে তাঁর চেহারা পরিবর্তন হয়ে গেল। অতঃপর তিনি সেটিকে নিয়ে ছিঁড়ে ফেললেন। আয়েশা (রাঃ) বলেনঃ অতঃপর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ যারা এসমস্ত ছবি আঁকবে কিয়ামতের দিন তাদেরকে সবচেয়ে কঠিন শাস্তি দেয়া হবে"।
📄 অকারণে প্রাণী হত্যা করার পরিণাম
বিনা প্রয়োজনে কোন প্রাণী হত্যা করা জায়েয নয়। তবে যেসমস্ত ক্ষতিকর প্রাণীকে হত্যা করার কথা বলা হয়েছে তার কথা ভিন্ন। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ
عُرِضَتْ عَلَيَّ النَّارُ فَرَأَيْتُ فِيهَا امْرَأَةً مِنْ بَنِي إِسْرَائِيلَ تُعَذِّبُ فِي هِرَّة لَهَا رَبَطَتْهَا فَلَمْ تُطْعِمُهَا وَلَمْ تَدَعْهَا تَأْكُلُ مِنْ خَشَاشِ الْأَرْضِ
অর্থঃ "আমার কাছে জাহান্নামকে পেশ করা হল। তাতে দেখলাম বনী ইসরাঈলের একটি মহিলাকে একটি বিড়াল হত্যা করার অপরাধে শাস্তি দেয়া হচ্ছে। উক্ত মহিলা বিড়ালটিকে বেধে রাখত। সে নিজেও বিড়ালকে কোন কিছু খেতে দেয়নি এবং যমিন থেকে পোকা-মাকড় ধরে খাওয়ার জন্য ছেড়েও দেয়নি। এভাবে ক্ষুধার তাড়নায় বিড়ালটি মৃত্যু বরণ করে"।' সহীহ বুখারীর অন্য বর্ণনায় এসেছে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ
دنت مِنِّي الْجَنَّةُ حَتَّى لَوِ اجْتَرَأَتُ عَلَيْهَا لَجِئْتُكُمْ بِقِطَافَ مِنْ قِطَافِهَا وَدَنَتْ مني النَّارُ حَتَّى قُلْتُ أَيْ رَبِّ وَأَنَا مَعَهُمْ فَإِذَا امْرَأَةٌ حَسِبْتُ أَنَّهُ قَالَ تَحْدِشُهَا هِرَّةٌ قُلْتُ مَا شَأْنُ هَذِهِ قَالُوا حَبَسَتَهَا حَتَّى مَاتَتْ جُوعًا لَا أَطْعَمَتُهَا وَلَا أَرْسَلَتْهَا تَأْكُلُ مِنْ خَشَاشِ الْأَرْضِ
অর্থঃ "জান্নাতকে আমার নিকটবর্তী করা হলো। আমার ইচ্ছা হলে আমি তোমাদেরকে জান্নাতের একছড়া ফল এনে দেখাতে পারতাম। এমনিভাবে জাহান্নামকেও আমার কাছে হাজির করা হলো। আমি তাতে একটি মহিলাকে দেখতে পেলাম। হাদীছের বর্ণনাকারী বলেনঃ আমার মনে হয় রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ একটি বিড়াল উক্ত মহিলাকে নখ দিয়ে খামচিয়ে ক্ষত-বিক্ষত করছিল। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ আমি বললামঃ কি অপরাধের কারণে
মহিলাকে এভাবে শাস্তি দেয়া হচ্ছে? ফেরেশতাগণ বললেনঃ এই মহিলা বিড়ালটিকে আটকিয়ে রেখেছিল। বিড়ালটিকে সে কোন কিছু পানাহার করতে দেয়নি এবং যমিন থেকে তার খাবার সংগ্রহ করার জন্যে স্বাধীনভাবে ছেড়েও দেয়নি। শেষ পর্যন্ত ক্ষুধার তাড়নায় বিড়ালটি মারা গিয়েছিল"।