📄 ঋণ পরিশোধ না করে মরার শাস্তি
সাহাবী সা'দ বিন আতওয়াল (রাঃ) বলেনঃ আমার ভাই মারা গেল। মরার সময় সে ৩০০ দিরহাম রেখে গেল। আমি স্থির করলাম যে ঐ ৩০০ দিরহাম তার ছেলে-মেয়েদের জন্য খরচ করবো। কিন্তু ভাই ছিল ঋণগ্রস্ত নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর কাছে এ খবর পৌঁছলে তিনি আমাকে বললেনঃ "তোমার ভাই ঋণের ফলে আটকে আছে। তার ঋণ পরিশোধ করে দাও"।
ন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ঋণ রেখে মৃত্যুবরণকারীর জানাযা পড়তেন না। একদা একটি জানাযা উপস্থিত হলে সকলে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কে জানাযা পড়ার অনুরোধ করল। তিনি প্রশ্ন করলেনঃ ওর কি কোন ঋণ পরিশোধ করা বাকী আছে? সকলে বললঃ "তিন দীনার"। তারপর বললেনঃ ও কি কোন সম্পদ ছেড়ে যাচ্ছে? সকলে বললঃ না। একথা শুনে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ তোমরা তোমাদের সাথীর জানাযা পড়ে নাও--।
নেক আমলের ফলে জান্নাতের অধিকারী মুসলিম ব্যক্তি যদি দুনিয়াতে ঋণ রেখে যায় তাহলে তার ঋণ বেহেশতে যাওয়ার পথে বাধা ও কাঁটা হয়ে দাঁড়াবে। ঋণ পরিশোধ না করে বেহেশতে যেতে পারবেনা। পরকালে টাকা দিয়ে ঋণ পরিশোধ করা যাবেনা। দুনিয়াতে অর্জিত নেকী দিয়ে তা পরিশোধ করতে হবে। নেকীর পরিমাণ যদি ঋণের চেয়ে কম হয়, তাহলে ঋণ দাতার গুনাহ ঋণ গ্রহীতার উপর চাপিয়ে দেয়া হবে। পরিণামে জান্নাতের হকদার হওয়া সত্ত্বেও তাকে জাহান্নামে যেতে হবে।
একদা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ তোমরা কি জান অসহায় কে? সাহাবীগণ বললেনঃ যার কোন টাকা-পয়সা নেই সেই তো অসহায়। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ আমার উম্মতের মধ্যে ঐ ব্যক্তি অসহায় যে কিয়ামতের দিন নামায, রোজা ও
যাকাত নিয়ে উপস্থিত হবে। কিন্তু সেই সঙ্গে এমন কিছু লোক নিয়ে উপস্থিত হবে যাদের কাউকে গালি দিয়েছে, কারো নামে মিথ্যা অপবাদ দিয়েছে, কারো ধন-সম্পদ আত্মসাৎ করেছে, কাউকে খুন করেছে, কাউকে প্রহার করেছে--- ইত্যাদি। সুতরাং প্রতিশোধ হলো একে নিজের নেকী দান করবে, ওকেও নিজের নেকী দান করবে। পরিশেষে যখন নেকী শেষ হয়ে যাবে অথচ তার ঋণ শেষ হবেনা তখন তাদের গুনাহ নিয়ে এর ঘাড়ে চাপানো হবে এবং সবশেষে তাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে"।
📄 মিথ্যাবাদীর পরিণাম
সামুরা বিন জুন্দুব (রাঃ) হতে বর্ণিত রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর স্বপ্নের দীর্ঘ হাদীছে এসেছে,
ফَأَتَيْنَا عَلَى رَجُلٍ مُسْتَلْقٍ لِقَفَاهُ وَإِذَا آخَرُ قَائِمٌ عَلَيْهِ بِكَلُوبٍ مِنْ حَدِيدٍ وَإِذَا هُوَ يَأْتِي أَحَدَ شَقَّيْ وَجْهِهِ فَيُشَرُشِرُ شَدْقَهُ إِلَى قَفَاهُ وَمَنْخِرَهُ إِلَى قَفَاهُ وَعَيْنَهُ إِلَى قَفَاهُ قَالَ وَرُبَّمَا قَالَ أَبُو رَجَاء فَيَشُقُّ قَالَ ثُمَّ يَتَحَوَّلُ إِلَى الْجَانِبِ الآخرِ فَيَفْعَلُ بِهِ مِثْلَ مَا فَعَلَ بِالْجَانِبِ الْأَوَّلِ فَمَا يَفْرُغُ مِنْ ذَلِكَ الْجَانِبِ حَتَّى يَصحُ ذَلِكَ الْجَانِبُ كَمَا كَانَ ثُمَّ يَعُودُ عَلَيْهِ فَيَفْعَلُ مِثْلَ مَا فَعَلَ الْمَرَّةَ الْأُولَى অর্থঃ "অতঃপর আমরা এমন এক লোকের কাছে উপস্থিত হলাম যাকে চিৎকরে শায়িত অবস্থায় রাখা হয়েছে। আর একজন লোক লোহার বড়শী হাতে নিয়ে তার মাথার পাশে দাঁড়িয়ে আছে। দাঁড়ানো ব্যক্তি শায়িত ব্যক্তির মুখের একদিকে লৌহাস্ত্র (চাকু) প্রবেশ করিয়ে পিছনের দিকে ঘাড় পর্যন্ত চিরে ফেলছে। নাকের ছিদ্র দিয়ে প্রবেশ করিয়ে এরূপ করা হচ্ছে। চোখের ভিতর প্রবেশ করিয়েও অনুরূপ করা হচ্ছে। একদিকে চিরে শেষ করে অন্যদিকেও অনুরূপ করা হচ্ছে। দ্বিতীয় দিকে চিরে শেষ করার সাথে সাথে প্রথম দিক আগের মত হয়ে যাচ্ছে। আবার প্রথম দিকে নতুন করে চিরা হচ্ছে। রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) জিবরীলকে জিজ্ঞেস
করলেনঃ কি অপরাধের কারণে তাকে এভাবে শাস্তি দেয়া হচ্ছে? জিবরীল (আঃ) বললেনঃ এ হলো এমন লোক যে সকাল বেলা ঘর থেকে বের হয়েই মিথ্যা কথা বলতে শুরু করতো এবং সে মিথ্যা চতুর্দিকে ছড়িয়ে পড়ত।' আব্দুল্লাহ বিন উমার (রাঃ) বলেনঃ
وَمَنْ قَالَ فِي مُؤْمِنِ مَا لَيْسَ فِيهِ أَسْكَنَهُ اللَّهُ رَدْغَةَ الْخَبَالِ حَتَّى يَخْرُجَ مِمَّا قَالَ অর্থঃ "আমি রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কে বলতে শুনেছি, তিনি বলেনঃ যে ব্যক্তি কোন মু'মিনের এমন দোষ বর্ণনা করলো যা তার মাঝে নেই সে যদি তা থেকে তাওবা না করে মৃত্যু বরণ করে আল্লাহ তাকে জাহান্নামের ভিতরে জাহান্নামীদের শরীরের ঘাম ও কাঁদা মিশ্রিত স্থানে বসবাস করাবেন"।
📄 আমলহীন আলেমের পরিণতি
উসামা বিন যায়েদ (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ আমি রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কে বলতে শুনেছি,
يُؤْتَى بِالرَّجُلِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ فَيُلْقَى فِي النَّارِ فَتَنْدَلِقُ أَقْتَابُ بَطْنِهِ فَيَدُورُ بِهَا كَمَا يَدُورُ الْحِمَارُ بِالرَّحَى فَيَجْتَمِعُ إِلَيْهِ أَهْلُ النَّارِ فَيَقُولُونَ يَا فُلَانُ مَا لَكَ أَلَمْ تَكُنْ تَأْمُرُ بِالْمَعْرُوفِ وَتَنْهَى عَنِ الْمُنْكَرِ فَيَقُولُ بَلَى قَدْ كُنْتُ آمُرُ بِالْمَعْرُوفِ وَلَا آتِيهِ وَأَنْهَى عَنِ الْمُنْكَرِ وَآتِيهِ
অর্থঃ "কিয়ামতের দিন এক ব্যক্তিকে উপস্থিত করা হবে এবং জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে। অতঃপর তার পেট থেকে নাড়িভুঁড়ি বেরিয়ে যাবে। সে ব্যক্তি তার নাড়িভুঁড়ি নিয়ে ঘুরতে থাকবে যেমনভাবে চাকি ঘুরাবার কাজে নিয়োজিত গাধা চাকির চার পাশে ঘুরতে থাকে। জাহান্নামীরা তার কাছে উপস্থিত হয়ে বলবেঃ হে অমুক! তোমার এ দুরাবস্থা কেন? তুমি কি দুনিয়াতে সৎ কাজের আদেশ এবং অসৎকাজের
নিষেধ করতে না? উত্তরে সে বলবেঃ হ্যাঁ, আমি সৎ কাজের আদেশ করতাম কিন্তু নিজে তা পালন করতাম না। অসৎ কাজ থেকে নিষেধ করতাম কিন্তু নিজে অসৎ কাজে লিপ্ত হতাম"।
📄 নবী (ﷺ)-এর নামে মিথ্যা বলা
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ
(مَنْ تَعَمَّدَ عَلَيَّ كَذِبًا فَلْيَتَبَوَّأْ مَقْعَدَهُ مِنَ النَّارِ) অর্থঃ "যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে আমার নামে মিথ্যা কথা বর্ণনা করবে সে যেন জাহান্নামে আপন ঠিকানা নির্ধারণ করে নেয়"।