📄 গীতকারক ও কঠিন আযাব
গীবতকারী ও চুগলখোরেরা মানুষের মধ্যে বিচ্ছেদ ও ঝগড়া সৃষ্টির উদ্দেশ্যে একজনের কথা অন্যজনের কাছে বর্ণনা করে থাকে। মানুষের পারস্পরিক ভালবাসাকে শত্রুতায় পরিণত করে। তারা মানুষের মধ্যে সবচেয়ে নিকৃষ্ট লোক এবং বিশৃংখলা সৃষ্টিকারী। তাদেরকে আপনি দেখতে পাবেন একজনের কাছে একরকম এবং অন্যজনের কাছে অন্যরকম চেহারা নিয়ে উপস্থিত হচ্ছে। তারা নিজেদের ইচ্ছা মত যখন যা খুশী তাই বলে থাকে।
আল্লাহ তায়া'লা তাদেরকে ধমকি দিয়ে বলেনঃ وَيْلٌ لِكُلِّ هُمَزَةٍ لُمَزَةٍ ) অর্থঃ "প্রত্যেক পশ্চাতে ও সম্মুখে পরনিন্দাকারীর জন্য দুর্ভোগ”। (সূরা হুমাজাহঃ ১) তারা নিজেদের কথা এবং কাজের মাধ্যমে মানুষের
দোষ বর্ণনা করে থাকে। তারা ক্রোধ ও ঘৃণার হকদার। কারণ তারা মিথ্যা, গীবত, চুগলখোরী, খিয়ানত, হিংসা এবং ধোঁকা থেকে বিরত হয়না। এজন্যই কবরের আজাবের অন্যতম কারণ হলো চুগলখোরী করা। ইবনে আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
مَرَّ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِحَائِطٍ مِنْ حِيطَانِ الْمَدِينَةِ أَوْ مَكَّةَ فَسَمِعَ صَوْتَ إِنْسَانَيْنِ يُعَذِّبَانِ فِي قُبُورِهِمَا فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُعَذِّبَانِ وَمَا يُعَذِّبَانِ فِي كَبِيرٍ ثُمَّ قَالَ بَلَى كَانَ أَحَدُهُمَا لَا يَسْتَتِرُ مِنْ بَوْلِهِ وَكَانَ الْآخَرُ يَمْشِي بِالنَّمِيمَةِ ثُمَّ دَعَا بِجَرِيدَةٍ فَكَسَرَهَا كِسْرَتَيْنِ فَوَضَعَ عَلَى كُلِّ قَبْرٍ مِنْهُمَا كِسْرَةً فَقِيلَ لَهُ يَا رَسُولَ اللَّهِ لِمَ فَعَلْتَ هَذَا قَالَ لَعَلَّهُ أَنْ يُخَفِّفَ عَنْهُمَا مَا لَمْ تَيْبَسَا أَوْ إِلَى أَنْ يَيْبَسَا
অর্থঃ "একদা রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মদীনা বা মক্কার কোন একটি বাগানের পাশদিয়ে অতিক্রম করছিলেন। তথায় তিনি দু'জন এমন মানুষের আওয়াজ শুনতে পেলেন যাদেরকে কবরে শাস্তি দেয়া হচ্ছিল। রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ তাদেরকে আযাব দেয়া হচ্ছে অথচ বড় কোন অপরাধের কারণে আযাব দেয়া হচ্ছে না। অতঃপর তিনি বললেনঃ তাদের একজন পেশাব করার সময় আড়াল করতোনা। আর দ্বিতীয় ব্যক্তি একজনের কথা অন্যজনের কাছে লাগাত। এরপর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) একটি কাঁচা খেজুরের শাখা আনতে বললেন। অতঃপর উক্ত খেজুরের শাখাটিকে দু'ভাগে বিভক্ত করে প্রত্যেক কবরের উপর একটি করে রেখে দিলেন। রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কে জিজ্ঞেস করা হলো আপনি কেন এরকম করলেন? উত্তরে তিনি বললেনঃ হয়ত খেজুরের শাখা দু'টি জীবিত থাকা পর্যন্ত তাদের কবরের আযাব হালকা করা হবে"।
আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত, রাসূল (স) বলেনঃ
لَمَّا عُرِجَ بِي مَرَرْتُ بِقَوْمٍ لَهُمْ أَظْفَارٌ مِنْ نُحَاسٍ يَحْمُشُونَ وُجُوهَهُمْ وَصُدُورَهُمْ فَقُلْتُ مَنْ هَؤُلَاءِ يَا جِبْرِيلُ قَالَ هَؤُلَاءِ الَّذِينَ يَأْكُلُونَ لُحُومَ النَّاسِ وَيَقَعُونَ فِي أَعْرَاضِهِمْ
অর্থঃ "যখন আমাকে মি'রাজে নিয়ে যাওয়া হলো, তখন আমি তামার নখ বিশিষ্ট একদল লোকের কাছ দিয়ে অতিক্রম করলাম। তারা নখগুলো দিয়ে তাদের মুখমন্ডল ও বক্ষদেশে আঘাত করে ক্ষত-বিক্ষত করছিল। আমি জিজ্ঞেস করলামঃ হে জিবরীল! এসমস্ত লোক কারা? জিবরীল (আঃ) বললেনঃ এরা দুনিয়াতে মানুষের গোস্ত ভক্ষণ করত এবং তাদের মান- সম্মান নষ্ট করত। অর্থাৎ তারা মানুষের গীবত ও চুগলখোরী করত"।
কাতাদা (রঃ) বলেনঃ আমাদেরকে বলা হয়েছে কবরের আযাবের এক তৃতীয়াংশ হবে গীবতের কারণে, এক তৃতীয়াংশ পেশাব থেকে সাবধান না থাকার কারণে এবং এক তৃতীয়াংশ চুগলখোরীর কারণে। যেহেতু গীবতকারী এবং চুগলখোর মিথ্যা কথাও বলে থাকে তাই সে মিথ্যাবাদীর শাস্তিও ভোগ করবে। সামুরা বিন জুন্দুব (রাঃ) হতে বর্ণিত রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর স্বপ্নের দীর্ঘ হাদীছে এসেছে,
فَأَتَيْنَا عَلَى رَجُلٍ مُسْتَلْقٍ لِقَفَاهُ وَإِذَا آخَرُ قَائِمٌ عَلَيْهِ بِكَلُوبٍ مِنْ حَدِيدٍ وَإِذَا هُوَ يَأْتِي أَحَدَ شَقِّيْ وَجْهِهِ فَيُشَرْشِرُ شِدْقَهُ إِلَى قَفَاهُ وَمَنْخِرَهُ إِلَى قَفَاهُ وَعَيْنَهُ إِلَى قَفَاهُ قَالَ وَرُبَّمَا قَالَ أَبُو رَجَاء فَيَشُقُّ قَالَ ثُمَّ يَتَحَوَّلُ إِلَى الْجَانِبِ الآخر فَيَفْعَلُ بِهِ مِثْلَ مَا فَعَلَ بِالْجَانِبِ الْأَوَّلِ فَمَا يَفْرُغُ مِنْ ذَلِكَ الْجَانِبِ حَتَّى يصح ذَلِكَ الْجَانِبُ كَمَا كَانَ ثُمَّ يَعُودُ عَلَيْهِ فَيَفْعَلُ مِثْلَ مَا فَعَلَ الْمَرَّةَ الْأُولَى
অর্থঃ "অতঃপর আমরা এমন এক লোকের কাছে উপস্থিত হলাম যাকে চিৎকরে শায়িত অবস্থায় রাখা হয়েছে। একজন লোক লোহার কেঁচী হাতে নিয়ে তার মাথার পাশে দাঁড়িয়ে আছে। দাঁড়ানো ব্যক্তি শায়িত ব্যক্তির
মুখের একদিকে সেই কেঁচী প্রবেশ করিয়ে পিছনের দিকে ঘাড় পর্যন্ত চিরে ফেলছে। নাকের ছিদ্র দিয়ে প্রবেশ করিয়ে অনুরূপ করা হচ্ছে এবং চোখের ভিতর প্রবেশ করিয়েও অনুরূপ করা হচ্ছে। একদিকে চিরে শেষ করে অন্যদিকেও অনুরূপ করা হচ্ছে। দ্বিতীয় দিকে চিরে শেষ করার সাথে সাথে প্রথম দিক আগের মত হয়ে যাচ্ছে। আবার প্রথম দিকে নতুন করে চিরা হচ্ছে। হাদীছের শেষাংশে এসেছে, রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) জিবরীলকে জিজ্ঞেস করলেনঃ কি অপরাধের কারণে তাকে এভাবে শাস্তি দেয়া হচ্ছে? জিবরীল (আঃ) বললেনঃ এই ব্যক্তি হলো এমন লোক যে সকাল বেলা ঘর থেকে বের হয়েই মিথ্যা কথা বলত এবং সে মিথ্যা চতুর্দিকে ছড়িয়ে পড়তো"।
হুযায়ফা (রাঃ) রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হতে বর্ণনা করেন, لَا يَدْخُلُ الْجَنَّةَ فَتَّاتٌ অর্থঃ "চোগলখোর জান্নাতে প্রবেশ করবেনা"। আম্মার বিন ইয়াসির (রাঃ) নবী করীম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হতে বর্ণনা করেন, مَنْ كَانَ لَهُ وَجْهَانِ فِي الدُّنْيَا كَانَ لَهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ لِسَانَانِ مِنْ نَارٍ অর্থঃ “যে ব্যক্তি দুনিয়াতে দু'জনের নিকট দু'রকম কথা বলবে কিয়ামতের দিন তার আগুনের দু'টি জিহ্বা হবে"। ইবনে উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত, سَمِعْتُ رَسُولَ الله صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ مَنْ حَالَتْ شَفَاعَتُهُ دُونَ حَدٍ مِنْ حُدُودِ اللَّهِ فَقَدْ ضَادَّ اللَّهَ وَمَنْ خَاصَمَ فِي بَاطِلٍ وَهُوَ يَعْلَمُهُ لَمْ يَزَلْ فِي سَخَطِ اللَّهِ حَتَّى يَنْزِعَ عَنْهُ وَمَنْ قَالَ فِي مُؤْمِنٍ مَا لَيْسَ فِيهِ أَسْكَنَهُ اللَّهُ رَدْغَةً الْخَبَالِ حَتَّى يَخْرُجَ مِمَّا قَالَ)
অর্থঃ "আমি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কে বলতে শুনেছি যার সুপারিশ আল্লাহর নির্ধারিত কোন দন্ডবিধি বাস্তবায়ন করার প্রতিরোধ হয়ে দাঁড়াল সে আল্লাহর সাথে সংগ্রামে লিপ্ত হল। যে ব্যক্তি জেনে-বুঝে অন্যায়ভাবে কারো সাথে ঝগড়ায় লিপ্ত হল সে তা থেকে বিরত থাকার পূর্ব পর্যন্ত আল্লাহর ক্রোধের ভিতরে থাকবে। আর যে ব্যক্তি কোন মু'মিন সম্পর্কে এমন কথা বলবে যা তার ভিতরে নেই সে যদি তা বর্জন করতঃ তাওবা না করে মৃত্যু বরণ করে আল্লাহ তাকে রাদাগাতুল খাবালে' প্রবেশ করাবেন। তার উক্ত কথার প্রায়ঃশিচত্ত না হওয়া পর্যন্ত তারা সেখানে অবস্থান করবে"। আয়েশা (রাঃ) নবী করীম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হতে বর্ণনা করেন যে,
(مَنْ أَكَلَ لَحْمَ أَخِيهِ فِي الدُّنْيَا قُرِّبَ لَهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ فَيُقَالُ كُلُّهُ كَمَا أَكَلْتَهُ حَيًّا فَيَأْكُلُهُ وَ يَكْلَحُ وَيَصِيحُ) অর্থঃ "যে ব্যক্তি দুনিয়াতে তার ভাইয়ের গোশত ভক্ষণ করবে (গীবত করবে) কিয়ামতের দিন গীবতকারীর সামনে গীবতকৃত ব্যক্তিকে মৃত অবস্থায় উপস্থিত করা হবে এবং বলা হবে তুমি এখন মৃত অবস্থায় তার গোশত ভক্ষণ কর। যেমনভাবে জীবিতাবস্থায় তার গোশত ভক্ষণ করতে। অতঃপর সে অতি অনিচ্ছা সত্বেও চিৎকার করতে করতে তা ভক্ষণ করবে"।
📄 প্রতারক ও বিশ্বাসঘাতকের পরিণতি
নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ
إِذَا جَمَعَ اللهُ الْأَوَّلِينَ وَالْآخِرِينَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ يُرْفَعُ لِكُلِّ غَادِرٍ لِوَاءٌ فَقِيلَ هَذِهِ غَدْرَةُ فُلَانَ بْن فُلَانٍ
অর্থঃ "হাশরের মাঠে আল্লাহ যখন সমস্ত মানুষকে একত্রিত করবেন তখন প্রত্যেক বিশ্বাসঘাতক এবং প্রতারকের জন্য একটি করে নিশানা স্থাপন করা হবে এবং বলা হবে এটি অমুকের পুত্র অমুকের বিশ্বাস ঘাতকতার নিশানা।"
📄 অহংকারীদের অবস্থা
আমর বিন শুয়াইব (রাঃ) তার পিতা, তাঁর পিতা তাঁর দাদা হতে বর্ণনা করেন যে, রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ يُحْشَرُ الْمُتَكَبِّرُونَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ أَمْثَالَ الذَّرِّ فِي صُوَرِ الرِّجَالِ يَغْشَاهُمُ الذُّلُّ مِنْ كُلِّ مَكَانٍ فَيُسَاقُونَ إِلَى سِجْنٍ فِي جَهَنَّمَ يُسَمَّى بُولَسَ تَعْلُوهُمْ نَارُ الْأَنْيَارِ يُسْقَوْنَ مِنْ عُصَارَةِ أَهْلِ النَّارِ طِينَةَ الْخَبَالِ)
অর্থঃ "কিয়ামতের দিন অহংকারীদেরকে মানুষের আকৃতিতে ছোট ছোট পিপীলিকার ন্যায় হাশরের ময়দানে উপস্থিত করা হবে। অপমান ও লাঞ্ছনা তাদেরকে চতুর্দিক থেকে ঘিরে ফেলবে। তাদেরকে জাহান্নামের একটি জেলখানায় একত্রিত করা হবে যার নাম হবে "বুলাস"। আগুন তাদেরকে চতুর্দিক থেকে ঢেকে ফেলবে। জাহান্নামীদের শরীরের ঘাম তাদেরকে পান করতে বাধ্য করা হবে"।
নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ لَا يَدْخُلُ الْجَنَّةَ مَنْ كَانَ فِي قَلْبِهِ مِثْقَالُ ذَرَّةٍ مِنْ كِبُر
অর্থঃ "যার অন্তরে সরিষার দানা পরিমাণ অহংকার থাকবে সে জান্নাতে প্রবেশ করবেনা"।
📄 ঋণ পরিশোধ না করে মরার শাস্তি
সাহাবী সা'দ বিন আতওয়াল (রাঃ) বলেনঃ আমার ভাই মারা গেল। মরার সময় সে ৩০০ দিরহাম রেখে গেল। আমি স্থির করলাম যে ঐ ৩০০ দিরহাম তার ছেলে-মেয়েদের জন্য খরচ করবো। কিন্তু ভাই ছিল ঋণগ্রস্ত নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর কাছে এ খবর পৌঁছলে তিনি আমাকে বললেনঃ "তোমার ভাই ঋণের ফলে আটকে আছে। তার ঋণ পরিশোধ করে দাও"।
ন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ঋণ রেখে মৃত্যুবরণকারীর জানাযা পড়তেন না। একদা একটি জানাযা উপস্থিত হলে সকলে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কে জানাযা পড়ার অনুরোধ করল। তিনি প্রশ্ন করলেনঃ ওর কি কোন ঋণ পরিশোধ করা বাকী আছে? সকলে বললঃ "তিন দীনার"। তারপর বললেনঃ ও কি কোন সম্পদ ছেড়ে যাচ্ছে? সকলে বললঃ না। একথা শুনে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ তোমরা তোমাদের সাথীর জানাযা পড়ে নাও--।
নেক আমলের ফলে জান্নাতের অধিকারী মুসলিম ব্যক্তি যদি দুনিয়াতে ঋণ রেখে যায় তাহলে তার ঋণ বেহেশতে যাওয়ার পথে বাধা ও কাঁটা হয়ে দাঁড়াবে। ঋণ পরিশোধ না করে বেহেশতে যেতে পারবেনা। পরকালে টাকা দিয়ে ঋণ পরিশোধ করা যাবেনা। দুনিয়াতে অর্জিত নেকী দিয়ে তা পরিশোধ করতে হবে। নেকীর পরিমাণ যদি ঋণের চেয়ে কম হয়, তাহলে ঋণ দাতার গুনাহ ঋণ গ্রহীতার উপর চাপিয়ে দেয়া হবে। পরিণামে জান্নাতের হকদার হওয়া সত্ত্বেও তাকে জাহান্নামে যেতে হবে।
একদা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ তোমরা কি জান অসহায় কে? সাহাবীগণ বললেনঃ যার কোন টাকা-পয়সা নেই সেই তো অসহায়। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ আমার উম্মতের মধ্যে ঐ ব্যক্তি অসহায় যে কিয়ামতের দিন নামায, রোজা ও
যাকাত নিয়ে উপস্থিত হবে। কিন্তু সেই সঙ্গে এমন কিছু লোক নিয়ে উপস্থিত হবে যাদের কাউকে গালি দিয়েছে, কারো নামে মিথ্যা অপবাদ দিয়েছে, কারো ধন-সম্পদ আত্মসাৎ করেছে, কাউকে খুন করেছে, কাউকে প্রহার করেছে--- ইত্যাদি। সুতরাং প্রতিশোধ হলো একে নিজের নেকী দান করবে, ওকেও নিজের নেকী দান করবে। পরিশেষে যখন নেকী শেষ হয়ে যাবে অথচ তার ঋণ শেষ হবেনা তখন তাদের গুনাহ নিয়ে এর ঘাড়ে চাপানো হবে এবং সবশেষে তাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে"।