📘 যা হবে মরনের পরে > 📄 সুদখোরের ভয়াবহ পরিণতি

📄 সুদখোরের ভয়াবহ পরিণতি


মহান আল্লাহ কুরআনুল কারীমে কিয়ামতের দিন সুদখোরদের অবস্থা বর্ণনা করেছেন। আল্লাহ তা'আলা বলেনঃ
الَّذِينَ يَأْكُلُونَ الرِّبَا لَا يَقُومُونَ إِلَّا كَمَا يَقُومُ الَّذِي يَتَخَبَّطُهُ الشَّيْطَانُ مِنَ الْمَسِ)
অর্থঃ "যারা সুদ খায় তারা কিয়ামতের দিন এমনভাবে দন্ডায়মান হবে যেমনভাবে দণ্ডায়মান হয় ঐ ব্যক্তি যাকে শয়তান আছর করে দিশেহারা করে দেয়। (সূরা বাকারাঃ ২৭৫)
অর্থাৎ তারা কিয়ামতের দিন জিনেধরা রোগীর মত দিশেহারা অবস্থায় কবর থেকে উঠবে। ইবনে আব্বাস (রাঃ) বলেনঃ সুদখোর কিয়ামতের দিন পাগল অবস্থায় হাশরের ময়দানে হাজির হবে"। অন্য বর্ণনায় আছে, তাদেরকে বড় বড় পেট বিশিষ্ট অবস্থায় হাশরের মাঠে উপস্থিত করা হবে। তারা হাঁটতে চাইলে উল্টে পড়ে যাবে। মানুষেরা তাদের উপর দিয়ে চলতে থাকবে।
কতিপয় বিদ্বান বলেছেনঃ কিয়ামতের দিন এটা তাদের জন্যে নিদর্শন স্বরূপ হবে যার মাধ্যমে তাদেরকে চেনা যাবে। অতঃপর তাদের জন্যে রয়েছে কঠিন শাস্তি।
সহীহ বুখারীতে সামুরা বিন জুনদুব (রাঃ) হতে বর্ণিত হয়েছে রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর স্বপ্নের দীর্ঘ হাদীছে এসেছে, فَأَتَيْنَا عَلَى نَهَرٍ حَسِبْتُ أَنَّهُ كَانَ يَقُولُ أَحْمَرَ مِثْلِ الدَّمِ وَإِذَا فِي النَّهَرِ رَجُلٌ سَابِحٌ يَسْبَحُ وَإِذَا عَلَى شَطِّ النَّهَرِ رَجُلٌ قَدْ جَمَعَ عِنْدَهُ حِجَارَةً كَثِيرَةً وَإِذَا ذَلِكَ السَّابِحُ يَسْبَحُ مَا يَسْبَحُ ثُمَّ يَأْتِي ذَلِكَ الَّذِي قَدْ جَمَعَ عِنْدَهُ الْحِجَارَةَ فَيَفْغَرُ لَهُ فَاهُ فَيُلْقِمُهُ حَجَرًا فَيَنْطَلِقُ يَسْبَحُ ثُمَّ يَرْجِعُ إِلَيْهِ كُلَّمَا رَجَعَ إِلَيْهِ فَغَرَ لَهُ فَاهُ فَأَلْقَمَهُ حَجَرًا
অর্থঃ "আমরা একটি রক্তের নদীর কাছে আসলাম। দেখলাম নদীতে একটি লোক সাঁতার কাটছে। নদীর তীরে অন্য একটি লোক কতগুলো পাথর একত্রিত করে তার পাশে দাঁড়িয়ে আছে। সাঁতার কাটতে কাটতে লোকটি যখন নদীর কিনারায় পাথরের কাছে দাঁড়ানো ব্যক্তির নিকটে আসে তখন দাঁড়ানো ব্যক্তি তার মুখে একটি পাথর ঢুকিয়ে দিচ্ছে। পাথর মুখে নিয়ে লোকটি আবার সাঁতরাতে শুরু করে। যখনই লোকটি নদীর তীরে আসতে চায় তখনই তার মুখে পাথর ঢুকিয়ে দেয়। রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর কারণ জানতে চাইলে ফেরেশতাদ্বয় বললেনঃ এরা হলো আপনার উম্মতের সুদখোর"।

📘 যা হবে মরনের পরে > 📄 ব্যভিচারীর করুণ অবস্থা

📄 ব্যভিচারীর করুণ অবস্থা


আল্লাহ তা'আলা এবং তদীয় রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ব্যভিচার হারাম করেছেন। ইহা হারাম হওয়া অতি সুস্পষ্ট বিষয়। এমন কোন মুসলিম নারী-পুরুষ পাওয়া যাবেনা যে এর হারাম হওয়া সম্পর্কে অবগত নয়।
আল্লাহ তা'আলা বলেনঃ
(وَلَا تَقْرَبُوا الزِّنَى إِنَّهُ كَانَ فَاحِشَةً وَسَاءَ سَبِيلًا)
অর্থঃ "আর তোমরা ব্যভিচারের কাছেও যেয়োনা। নিশ্চয় এটা অশ্লীল কাজ এবং খুবই মন্দ পথ"। (সূরা বানী ইসরাঈলঃ ৩২)
ব্যভিচারের ইহকালীন শাস্তি হলো বিবাহিত হলে রজম করা তথা পাথর মেরে হত্যা করা। আর অবিবাহিত হলে একশত বেত্রাঘাত করা।
সহীহ বুখারীতে সামুরা বিন জুনদুব (রাঃ) হতে বর্ণিত, রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর স্বপ্নের দীর্ঘ হাদীছে কবরে ব্যভিচারীর ভয়াবহ শাস্তির বর্ণনা এসেছে। তিনি বলেনঃ
فَأَتَيْنَا عَلَى مِثْلِ التَّنُّورِ قَالَ فَأَحْسِبُ أَنَّهُ كَانَ يَقُولُ فَإِذَا فِيهِ لَغَط وَأَصْوَاتٌ قَالَ فَاطَّلَعْنَا فِيهِ فَإِذَا فِيهِ رِجَالٌ وَنِسَاءٌ عُرَاةٌ وَإِذَا هُمْ يَأْتِيهِمْ لَهَبٌ مِنْ أَسْفَلَ مِنْهُمْ فَإِذَا أَتَاهُمْ ذَلِكَ اللَّهَبُ ضَوْضَوْا
অর্থঃ "আমরা একটি তন্দুর চুলার নিকট আসলাম। যার উপরিভাগ ছিল সংকীর্ণ এবং ভিতরের অংশ ছিল প্রশস্ত। তার ভিতরে আমরা কান্নার আওয়াজ শুনতে পেলাম। দেখতে পেলাম তাতে রয়েছে কতগুলো উলঙ্গ নারী-পুরুষ। তাদের নিচের দিক থেকে আগুনের শিখা প্রজ্বলিত করা হচ্ছে। অগ্নিশিখা প্রজ্বলিত হওয়ার সাথে সাথে তারা উচ্চঃস্বরে চিৎকার করছে। রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর কারণ জানতে চাইলে ফেরেশতাদ্বয় বললেনঃ এরা হলো আপনার উম্মতের ব্যভিচারী নারী-পুরুষ"।' তাদেরকে উলঙ্গ করে এভাবে শাস্তি দেয়ার কারণ এই যে,
তারা উলঙ্গ অবস্থায় নির্জনে একত্রিত হয়ে এই জঘন্য ঘৃণিত কাজে লিপ্ত হয়েছিল। আর নীচের দিক থেকে আগুন দিয়ে তাদেরকে শাস্তি দেয়ার কারণ হলো ব্যভিচার শরীরের নীচের অঙ্গ দিয়েই হয়ে থাকে।

📘 যা হবে মরনের পরে > 📄 ব্যভিচারীর শাস্তির অন্য একটি চিত্র

📄 ব্যভিচারীর শাস্তির অন্য একটি চিত্র


নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মি'রাজের রাত্রিতে একদল লোকের কাছে উপস্থিত হয়ে দেখতে পেলেন তাদের সামনে একটি পাত্রে গোশত রান্না করে রাখা হয়েছে। অদূরেই অন্য একটি পাত্রে রয়েছে পঁচা দুর্গন্ধযুক্ত কাঁচা গোশত। লোকদেরকে রান্না করে রাখা গোশত থেকে বিরত রেখে পঁচা এবং দুর্গন্ধযুক্ত, কাঁচা গোশত খেতে বাধ্য করা হচ্ছে। তারা চিৎকার করছে এবং একান্ত অনিচ্ছা সত্বেও তা থেকে ভক্ষণ করছে। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) জিবরীল ফেরেশতাকে জিজ্ঞেস করলেনঃ এরা কোন শ্রেণীর লোক? জিবরীল বললেনঃ এরা আপনার উম্মতের ঐ সমস্ত পুরুষ লোক যারা নিজেদের ঘরে পবিত্র এবং হালাল স্ত্রী থাকা সত্বেও অপবিত্র এবং খারাপ মহিলাদের সাথে রাত্রি যাপন করত।'
মুসলিম ভাই-বোনদের উচিত এই ধরণের জঘন্য পাপের কাজ থেকে বিরত থাকা এবং যেসমস্ত জিনিষ উহার প্রতি আকৃষ্ট করে তা থেকেও সতর্ক থাকা। যেমন নারী-পুরুষের নির্জনে সাক্ষাৎ, বেপর্দা হওয়া, মহিলাদের সৌন্দর্যের স্থান প্রকাশ করা ইত্যাদি। এসমস্ত কাজ মানুষকে ব্যভিচারের প্রতি উৎসাহ যোগায়। তাই এগুলো থেকেও সাবধান থাকতে হবে।

📘 যা হবে মরনের পরে > 📄 ব্যভিচারের অপবাদ দেয়ার শাস্তি

📄 ব্যভিচারের অপবাদ দেয়ার শাস্তি


আল্লাহ তা'আলা বলেনঃ
إِنَّ الَّذِينَ يَرْمُونَ الْمُحْصَنَاتِ الْغَافِلَاتِ الْمُؤْمِنَاتِ لُعِنُوا فِي الدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ وَلَهُمْ عَذَابٌ عَظِيمٌ يَوْمَ تَشْهَدُ عَلَيْهِمْ أَلْسِنَتُهُمْ وَأَيْدِيهِمْ وَأَرْجُلُهُمْ
بِمَا كَانُوا يَعْمَلُونَ يَوْمَئِذٍ يُوَفِّيهِمُ اللَّهُ دِينَهُمُ الْحَقَّ ) অর্থঃ "যারা সতী-সাধবী নিরীহ ঈমানদার নারীদের প্রতি অপবাদ আরোপ করে তারা ইহকালে ও পরকালে অভিশপ্ত হবে এবং তাদের জন্যে রয়েছে কঠিন শাস্তি। কিয়ামতের দিন তাদের বিরুদ্ধে তাদের কৃতকর্ম সম্পর্কে সাক্ষী দিবে তাদের জিহ্বা, তাদের হাত এবং তাদের পা। সেদিন আল্লাহ তাদের সমুচিত শাস্তি পুরোপুরি দেবেন”। (সূরা নূরঃ ২৩-২৫)

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00