📄 কাফেরেরা পরস্পরে ঝগড়া করবে
যখন আল্লাহর শত্রু কাফেরেরা তাদের জন্যে নির্ধারিত শাস্তি প্রত্যক্ষ করবে তখন তাদের পারস্পরিক বন্ধুত্ব শত্রুতায় পরিণত হবে। একে অপরের সাথে শত্রুতা, ঝগড়া, এবং অভিসম্পাতে লিপ্ত হবে। আল্লাহ
তা'আলা বলেনঃ
وَبَرَزُوا لِلَّهِ جَمِيعًا فَقَالَ الضُّعَفَاءُ لِلَّذِينَ اسْتَكْبَرُوا إِنَّا كُنَّا لَكُمْ تَبَعًا فَهَلْ أَنْتُمْ مُغْنُونَ عَنَّا مِنْ عَذَابِ اللَّهِ مِنْ شَيْءٍ قَالُوا لَوْ هَدَانَا اللَّهُ لَهَدَيْنَاكُمْ سَوَاءٌ عَلَيْنَا أَجَزِعْنَا أَمْ صَبَرْنَا مَا لَنَا مِنْ مَحِيصٍ) অর্থঃ "সকলেই আল্লাহর সামনে দণ্ডায়মান হবে এবং দুর্বলরা সবলদেরকে বলবেঃ আমরা তো তোমাদের অনুসারী ছিলাম। অতএব তোমরা আল্লাহর আযাব থেকে আমাদেরকে কিছুমাত্র রক্ষা করবে কি? তারা বলবেঃ যদি আল্লাহ আমাদেরকে সৎপথ দেখাতেন তবে আমরা অবশ্যই তোমাদেরকে সৎপথ দেখাতাম। এখন তো আমরা ধৈর্যচ্যুত হই কিংবা সবর করি, সবই আমাদের জন্য সমান, আমাদের কোন রেহাই নেই। (সূরা ইবরাহীমঃ ২১)
আল্লাহ তা'আলা আরও বলেনঃ
وَإِذْ يَتَحَاجُّونَ فِي النَّارِ فَيَقُولُ الضُّعَفَاءُ لِلَّذِينَ اسْتَكْبَرُوا إِنَّا كُنَّا لَكُمْ تَبَعًا فَهَلْ أَنْتُمْ مُغْنُونَ عَنَّا نَصِيبًا مِنْ النَّارِ قَالَ الَّذِينَ اسْتَكْبَرُوا إِنَّا كُلٌّ فِيهَا إِنَّ اللَّهَ قَدْ حَكَمَ بَيْنَ الْعِبَادِ) অর্থঃ "যখন তারা জাহান্নামে পরস্পর বিতর্ক করবে, অতঃপর দুর্বলরা অহংকারীদেরকে বলবেঃ আমরা তোমাদের অনুসারী ছিলাম। তোমরা এখন জাহান্নামের আগুনের কিছু অংশ আমাদের থেকে লাঘব করবে কি? অহংকারীরা বলবেঃ আমরা সবাই তো জাহান্নামে আছি। আল্লাহ তাঁর বান্দাদের মাঝে ফয়সালা করে দিয়েছেন"। (সূরা গাফেরঃ ৪৭-৪৮)
সেই ভয়াবহ দিনে বিভিন্ন প্রকার ঝগড়া হবে। আল্লাহ ছাড়া অন্যান্য বাতিল মা'বূদ ও তাদের উপাসনাকারীদের মাধ্যে ঝগড়া হবে। গোমরাহীর নেতাদের সাথে তাদের অনুসারীদের ঝগড়া হবে। দুনিয়াতে যারা পাপের কাজে একে অপরের সহযোগী ও বন্ধু ছিল তারা পরস্পরে বাদানুবাদে লিপ্ত হবে। এমনকি মানুষ যখন তার নিজ অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের সাথে ঝগড়ায় লিপ্ত হবে তখন ঝগড়া আরো প্রকট আকার ধারণ করবে।
আল্লাহ তা'আলা বলেনঃ (وَيَوْمَ يُحْشَرُ أَعْدَاءُ اللهِ إِلَى النَّارِ فَهُمْ يُوزَعُونَ حَتَّى إِذَا مَا جَاءُوهَا شَهِدَ عَلَيْهِمْ سَمْعُهُمْ وَأَبْصَارُهُمْ وَجُلُودُهُمْ بِمَا كَانُوا يَعْمَلُونَ وَقَالُوا لِجُلُودِهِمْ لِمَ شَهِدْتُمْ عَلَيْنَا قَالُوا أَنطَقَنَا اللَّهُ الَّذِي أَنطَقَ كُلَّ شَيْءٍ وَهُوَ خَلَقَكُمْ أَوَّلَ مَرَّةٍ وَإِلَيْهِ تُرْجَعُونَ) অর্থঃ “যেদিন আল্লাহর শত্রুদেরকে অগ্নিকুন্ডের দিকে ঠেলে নেয়া হবে এবং ওদের বিন্যস্ত করা হবে বিভিন্ন দলে। পরিশেষে যখন তারা জাহান্নামের কাছে পৌঁছবে তখন তাদের কান, চক্ষু ও শরীরের চামড়া তাদের কৃতকর্ম সম্পর্কে সাক্ষ্য দিবে। তারা তাদের শরীরের চামড়াকে বলবে, তোমরা আমাদের বিপক্ষে সাক্ষ্য দিলে কেন? তারা বলবেঃ যে আল্লাহ সবকিছুকে বাকশক্তি দিয়েছেন তিনি আমাদেরকেও বাকশক্তি দিয়েছেন। তিনিই তোমাদেরকে প্রথমবার সৃষ্টি করেছেন এবং তোমরা তাঁরই দিকে প্রত্যাবর্তিত হবে।" (সূরা হা-মীম সাজদাহঃ ১৯-২১)
আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ আমরা একদা রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর পাশে ছিলাম। তখন তিনি হাসলেন। অতঃপর বললেনঃ তোমরা কি জান আমি কিসের কারণে হাসছি? আনাস (রাঃ) বলেনঃ আমরা বললামঃ আল্লাহ ও তাঁর রাসূলই (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ভাল জানেন। তিনি বললেনঃ আল্লাহর সামনে বান্দার কথোপকথন শুনে আমি হাসছি। সে বলবেঃ হে আমার প্রতিপালক! আমাকে জুলুম থেকে পরিত্রাণ দিবেন না? রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ আল্লাহ বলবেনঃ হ্যাঁ অবশ্যই। তখন সে বলবেঃ আমার বিরুদ্ধে আমার নিজের ভিতর থেকে কোন সাক্ষী ছাড়া অন্য কারও সাক্ষ্য গ্রহণ করবোনা। তিনি বলেনঃ তখন আল্লাহ বলবেনঃ আজকের দিনে তোমার বিরুদ্ধে তোমার নফস এবং সম্মানিত লেখকগণই (ফেরেশতা) সাক্ষী হিসাবে যথেষ্ট। অতঃপর তার মুখে তালা লাগিয়ে দেয়া হবে এবং তার অঙ্গসমূহকে কথা বলার আদেশ দেয়া হবে তখন তার অঙ্গসমূহ তার কৃতকর্ম সম্পর্কে কথা বলতে শুরু করবে। রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি
ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ অতঃপর তাকে তার অঙ্গের সাথে কথা বলার জন্যে ছেড়ে দেয়া হবে। এক পর্যায়ে সে বলবে ধ্বংস হও তোমরা; আফসোস তোমাদের জন্যে! দুনিয়াতে তোমাদের জন্যই তো আমি এত পরিশ্রম করতাম"।' কাফেরেরা জাহান্নামে প্রবেশ করার পর উঁচু আওয়াজে একে অপরের উপর অভিসম্পাত করবে এবং একজন অন্যজনকে দ্বিগুণ শাস্তি দেয়ার আবদার করবে।
আল্লাহ তা'আলা বলেনঃ
كُلَّمَا دَخَلَتْ أُمَّةٌ لَعَنَتْ أُخْتَهَا حَتَّى إِذَا ادَّارَكُوا فِيهَا جَمِيعًا قَالَتْ أُخْرَاهُمْ لِأُولَاهُمْ رَبَّنَا هَؤُلَاءِ أَضَلُّونَا فَآتِهِمْ عَذَابًا ضِعْفًا مِنْ النَّارِ)
অর্থঃ "যখন এক সম্প্রদায় নরকে প্রবেশ করবে তখন অন্য সম্প্রদায়কে অভিসম্পাত করবে। এমন কি যখন সবাই তাতে পতিত হবে তখন পরবর্তীরা পূর্ববর্তীদের সম্পর্কে বলবেঃ হে আমাদের প্রতিপালক! এরাই আমাদেরকে বিপদগামী করেছিল। অতএব আপনি এদেরকে দ্বিগুণ শাস্তি প্রদান করুন।" (সূরা আরাফঃ ৩৮)
📄 কাফেরদের ধ্বংস কামনা
যখন কাফেরেরা আযাব ও লাঞ্ছনা প্রত্যক্ষ করবে তখন তারা অনুতপ্ত ও হতাশাগ্রস্ত হবে। এজন্যই কিয়ামতের দিনকে হতাশার দিন বলে আখ্যায়িত করা হয়েছে।
আল্লাহ তা'আলা বলেনঃ
وَأَنذِرْهُمْ يَوْمَ الْحَسْرَةِ إِذْ قُضِيَ الْأَمْرُ وَهُمْ فِي غَفْلَةٍ وَهُمْ لَا يُؤْمِنُونَ)
অর্থঃ "আপনি তাদেরকে পরিতাপের দিবস সম্পর্কে হুঁশিয়ার করে দিন যখন সব ব্যাপারে মীমাংসা হয়ে যাবে। এখন তারা অমনোযোগী অবস্থায় রয়েছে এবং তারা বিশ্বাস স্থাপন করছেনা।" (সূরা মারইয়ামঃ ৩৯) কাফের
তার নিকট প্রেরিত রাসূলের আনুগত্য না করার কারণে এবং রাসূলদের শত্রুদের অনুসরণের কারণে অনুতপ্ত ও লজ্জিত হয়ে আপন হাতে দাঁত দিয়ে কামড়াতে থাকবে। আল্লাহ তা'আলা বলেনঃ (وَيَوْمَ يَعَضُّ الظَّالِمُ عَلَى يَدَيْهِ يَقُولُ يَالَيْتَنِي اتَّخَذْتُ مَعَ الرَّسُولِ سَبِيلًا يَا لَيْتَنِي لَمْ أَتَّخِذْ فُلَانًا خَلِيلًا لَقَدْ أَضَلَّنِي عَنْ الذِّكْرِ بَعْدَ إِذْ جَاءَنِي وَكَانَ الشَّيْطَانُ لِلْإِنسَانِ خَذُولًا ) অর্থঃ "জালেম সেদিন আপন হস্তদ্বয় দংশন করতে করতে বলবেঃ হায় আফসোস! আমি যদি রাসূলের সাথে পথ অবলম্বন করতাম! হায় আমার দুর্ভাগ্য! আমি যদি অমুককে বন্ধুরূপে গ্রহণ না করতাম! আমার কাছে উপদেশ আসার পর সে আমাকে তা থেকে বিভ্রান্ত করেছে। শয়তান মানুষকে বিপদকালে ধোকা দেয়”। (সূরা ফুরকানঃ ২৭-২৯)
সেদিন কাফেরেরা নিশ্চিতরূপে অনুধাবন করতে পারবে যে, তাদের গুনাহসমূহ ক্ষমা করা হবেনা এবং তাদের ওজর-আপত্তি গ্রহণযোগ্য হবেনা। তাই তারা আল্লাহর রহমত হতে সম্পূর্ণ নিরাশ হয়ে যাবে। আল্লাহ তা'আলা বলেনঃ (وَيَوْمَ تَقُومُ السَّاعَةُ يُبْلِسُ الْمُجْرِمُونَ) অর্থঃ "যেদিন কিয়ামত সংঘটিত হবে সেদিন অপরাধীরা হতাশ হয়ে যাবে”। (সূরা রোমঃ ১২)
কাফেরেরা পুনরায় দুনিয়াতে আসার আবদার করবে যাতে তারা পরহেজগার ও ঈমানদার হয়ে সৎকর্ম সম্পাদন করতে পারে। আল্লাহ তা'আলা বলেনঃ (وَلَوْ تَرَى إِذْ وُقِفُوا عَلَى النَّارِ فَقَالُوا يَا لَيْتَنَا نُرَدُّ وَلَا نُكَذِّبَ بِآيَاتِ رَبِّنَا وَنَكُونَ مِنْ الْمُؤْمِنِينَ)
অর্থঃ "আর আপনি যদি দেখেন যখন তাদেরকে দোযখের উপর দাড় করানো হবে। তারা বলবেঃ কতই না ভাল হতো যদি আমরা দুনিয়ায় পুনঃপ্রেরিত হতাম তা হলে আমরা স্বীয় পালনকর্তার নিদর্শন সমূহের উপর মিথ্যারোপ করতাম না এবং আমরা বিশ্বাসীদের অন্তর্ভূক্ত হয়ে যেতাম।" (সূরা আনআমঃ ২৭)
আল্লাহ তা'আলা বলেনঃ (وَلَوْ تَرَى إِذْ الْمُجْرِمُونَ نَاكِسُوا رُءُوسِهِمْ عِنْدَ رَبِّهِمْ رَبَّنَا أَبْصَرْنَا وَسَمِعْنَا فَارْجِعْنَا نَعْمَلْ صَالِحًا إِنَّا مُوقِنُونَ)
অর্থঃ "যদি আপনি দেখতেন যখন অপরাধীরা তাদের পালনকর্তার সামনে নতশির হয়ে বলবেঃ হে আমাদের পালনকর্তা! আমরা দেখলাম ও শ্রবণ করলাম। এখন আমাদেরকে দুনিয়ায় পাঠিয়ে দিন। আমরা সৎকর্ম করব। আমরা দৃঢ় বিশ্বাসী হয়ে গেছি”। (সূরা সাজদাহঃ ১২)
সেদিন কাফেরেরা ভয়াবহ আযাব সহ্য করতে না পেরে আল্লাহর কাছে নিজেদেরকে ধ্বংস অথবা মাটিতে পরিণত করে দেয়ার আবেদন করবে।
আল্লাহ তা'আলা বলেনঃ (يَوْمَئِذٍ يَوَدُّ الَّذِينَ كَفَرُوا وَعَصَوْا الرَّسُولَ لَوْ تُسَوَّى بِهِمُ الْأَرْضُ)
অর্থঃ "সেদিন কাফেরেরা এবং রাসূলের বিরুদ্ধাচরণকারীরা কামনা করবে যে, তাদেরকে মাটির সাথে মিশিয়ে দেয়া হোক।" (সূরা নিসাঃ ৪১)
আল্লাহ তা'আলা আরো বলেনঃ (وَيَقُولُ الْكَافِرُ يَا لَيْتَنِي كُنتُ تُرَابًا)
অর্থঃ "সেদিন কাফেরেরা বলবে, হায় যদি আমি মাটি হয়ে যেতাম।" (সূরা নাবাঃ ৪০)
📄 তারা চিরকাল জাহান্নামে থাকবে
কাফের, মুশরেক ও মুনাফেকেরা চিরস্থায়ীভাবে জাহান্নামে অবস্থান
করবে। কখনও তা থেকে বের হতে পারবেনা। আল্লাহ তা'আলা বলেনঃ (وَالَّذِينَ كَذَّبُوا بِآيَاتِنَا وَاسْتَكْبَرُوا عَنْهَا أُوْلَئِكَ أَصْحَابُ النَّارِ هُمْ فِيهَا خَالِدُونَ)
অর্থঃ "যারা আমার আয়াতসমূহকে মিথ্যা বলবে এবং তা থেকে অহংকার করবে তারাই দোযখী এবং তথায় তারা চিরকাল থাকবে”। (সূরা আ'রাফঃ ৩৬)
আল্লাহ আরো বলেনঃ (وَالَّذِينَ كَفَرُوا وَكَذَّبُوا بِآيَاتِنَا أُوْلَئِكَ أَصْحَابُ النَّارِ هُمْ فِيهَا خَالِدُونَ)
অর্থঃ "যারা আমার আয়াত সমূহের সাথে কুফরী করেছে এবং তাকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করেছে তারা জাহান্নামী। তথায় তারা অনাদিকাল অবস্থান করবে।" (সূরা বাকারাঃ ৩৯)
আল্লাহ তা'আলা মুনাফেকদের ব্যাপারে বলেনঃ (إِنَّ الْمُنَافِقِينَ فِي الدَّرْكِ الْأَسْفَلِ مِنْ النَّارِ وَلَنْ تَجِدَ لَهُمْ نَصِيرًا )
অর্থঃ "নিশ্চয় মুনাফেকরা জাহান্নামের সর্বনিম্নস্তরে অবস্থান করবে আর আপনি তাদের জন্যে কোন সাহায্যকারী পাবেন না।” (সূরা নিসাঃ ১৪৫)
যখন কাফেরদের আযাব কঠিন আকার ধারণ করবে এবং দীর্ঘ দিন পর্যন্ত তারা সকল প্রকার কল্যাণ থেকে নিরাশ ও বঞ্চিত থাকবে তখন তাদের মনে নতুন এক আশার উদয় হবে। তাই জাহান্নামের প্রহরী 'মালেক' ফেরেশতাকে আহবান করে তারা বলবেঃ হে মালেক! আমাদেরকে মৃত্যু দান করা হোক, যাতে আমরা এই কঠিন শাস্তি হতে রেহাই পেয়ে যাই। কারণ আমরা মহা পেরেশানী এবং এমন ভয়াবহ আযাবের মধ্যে রয়েছি যা সহ্য করার মত ধৈর্য নিঃশেষ হয়ে গেছে। ইবনে আব্বাস (রাঃ) বলেনঃ এক হাজার বছর পর মালেক ফেরেশতা তাদের কথার উত্তর দিয়ে বলবেনঃ তোমাদেরকে এখানেই থাকতে হবে। তোমাদের জন্যে এখান থেকে বের হওয়ার কোন ব্যবস্থা রাখা হয়নি। একথা শুনে তাদের পেরেশানী ও দুঃখ আরও বেড়ে যাবে।
আল্লাহ তা'আলা বলেনঃ
يُرِيدُونَ أَنْ يَخْرُجُوا مِنْ النَّارِ وَمَا هُمْ بِخَارِجِينَ مِنْهَا وَلَهُمْ عَذَابٌ مُقِيمٌ) অর্থঃ "তারা জাহান্নামের আগুন থেকে বের হওয়ার ইচ্ছা করবে অথচ তাদের জন্যে বের হওয়ার কোন উপায় থাকবেনা। আর তাদের জন্য রয়েছে চিরস্থায়ী শাস্তি।” (সূরা মায়িদাহঃ ৩৭)
তারা দুনিয়াতে ফেরত পাঠানোর আবেদন করবে, কিন্তু তাদের কথার প্রতি কর্ণপাত করা হবেনা। আল্লাহ তা'আলা বলেনঃ رَبَّنَا أَخْرِجْنَا مِنْهَا فَإِنْ عُدْنَا فَإِنَّا ظَالِمُونَ قَالَ اخْسَئُوا فِيهَا وَلَا تُكَلِّمُونِي)
অর্থঃ "তারা বলবেঃ হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদেরকে পুনরায় দুনিয়াতে পাঠিয়ে দিন। আমরা যদি আবার দুনিয়াতে পাপের কাজে লিপ্ত হই তাহলে জালেমদের অন্তর্ভূক্ত হব। আল্লাহ বলবেনঃ তোমরা এখানেই পড়ে থাক এবং আমার সাথে কোন কথা বলো না।" (সূরা মুমিনূনঃ ১০৭-১০৮) ইবনে উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত, রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ
إِذَا صَارَ أَهْلُ الْجَنَّةِ إِلَى الْجَنَّةِ وَأَهْلُ النَّارِ إِلَى النَّارِ جِيءَ بِالْمَوْتِ حَتَّى يُجْعَلَ بَيْنَ الْجَنَّةِ وَالنَّارِ ثُمَّ يُذْبَحُ ثُمَّ يُنَادِي مُنَادِ يَا أَهْلَ الْجَنَّةِ لَا مَوْتَ وَيَا أَهْلَ النَّارِ لَا مَوْتَ فَيَزْدَادُ أَهْلُ الْجَنَّةِ فَرَحًا إِلَى فَرَحِهِمْ وَيَزْدَادُ أَهْلُ النَّارِ حُزْنًا إِلَى حزنهم
অর্থঃ "যখন জান্নাতবাসীগণ জান্নাতে চলে যাবেন এবং জাহান্নামীরা জাহান্নামে প্রবেশ করবে তখন মৃত্যুকে নিয়ে আসা হবে এবং তাকে জান্নাত ও জাহান্নামের মধ্যবর্তী একটি স্থানে রেখে যবেহ করে দিয়ে ঘোষণা করা হবেঃ হে জান্নাতবাসীগণ! তোমাদের আর মৃত্যু হবেনা। তোমরা এখানে অনাদিকাল অবস্থান করবে। ওহে জাহান্নামীরা! তোরা চিরকাল একঠিন আযাব ভোগ করবে। তোদের আর মৃত্যু হবেনা। একথা শুনে বেহেশতের
অধিবাসীদের আনন্দ ও খুশী আরো বেড়ে যাবে এবং জাহান্নামীদের দুঃখ ও পেরেশানী আরো বৃদ্ধি পাবে।"
অন্য বর্ণনায় এসেছে, কিয়ামতের দিন মৃত্যুকে সাদা-কালো মিশ্রিত রঙ্গের একটি দুম্বার আকৃতিতে জান্নাত এবং জাহন্নামের মবধ্যবর্তী একটি নির্দিষ্ট স্থানে উপস্থিত করে প্রথমে জান্নাতের অধিবাসীদেরকে ডাক দিয়ে জিজ্ঞেস করা হবে, হে জান্নাতবাসীগণ! তোমরা কি একে চেন? তাঁরা বলবেনঃ আমরা তাকে চিনি। সে হলো মৃত্যু। অতঃপর জাহান্নামীদেরকে জিজ্ঞেস করা হবেঃ তোমরা কি একে চেন? তারা বলবেঃ আমরা তাকে চিনি। সে হলো মৃত্যু। অতঃপর তাকে যবেহ করে দেয়া হবে।
এই হাদীছটি বর্ণনা করার পর ইমাম কুরতুবী (রঃ) বলেনঃ এই হাদীছটি কাফেরদের চিরস্থায়ী জাহান্নামী হওয়ার ব্যাপারে সুস্পষ্ট দলীল। নির্দিষ্ট কোন সীমা বা কাল পর্যন্ত নয়। বরং তারা কোন প্রকার জীবন-মৃত্যু, আরাম-আয়েশ ও নাজাত ছাড়াই অনাদিকাল পর্যন্ত জাহান্নামে অবস্থান করবে। আল্লাহ তা'আলা তাঁর মহাগ্রন্থ আল-কুরআনে কাফেরদের শান্তি বর্ণনা করতে গিয়ে বলেনঃ
وَالَّذِينَ كَفَرُوا لَهُمْ نَارُ جَهَنَّمَ لَا يُقْضَى عَلَيْهِمْ فَيَمُوتُوا وَلَا يُخَفَّفُ عَنْهُمْ مِنْ عَذَابِهَا كَذَلِكَ نَجْزِي كُلَّ كَفُورٍ)
অর্থঃ "যারা কুফরী করেছে তাদের জন্যে রয়েছে জাহান্নামের আগুনের শাস্তি। তাদেরকে মৃত্যুর আদেশও দেয়া হবে না যে তারা মরে যাবে এবং তাদের থেকে শাস্তিও লাঘব করা হবেনা। আমি প্রত্যেক কাফেরকে এভাবেই শাস্তি দিয়ে থাকি।" (সূরা ফাতিরঃ ৩৬)
আল্লাহ বলেনঃ
كَلَّمَا نَضِجَتْ جُلُودُهُمْ بَدَّلْنَاهُمْ جُلُودًا غَيْرَهَا )
অর্থঃ "আগুনের তাপে যখন তাদের চামড়াগুলো জ্বলে-পুড়ে যাবে তখন আবার আমি তা পালটে দেব অন্য চামড়া দিয়ে।" (সূরা নিসাঃ ৫৬)
আল্লাহ তা'আলা আরো বলেনঃ
(فَالَّذِينَ كَفَرُوا قُطِعَتْ لَهُمْ ثِيَابٌ مِنْ نَارٍ يُصَبُّ مِنْ فَوْقِ رُءُوسِهِمْ الْحَمِيمُ يُصْهَرُ بِهِ مَا فِي بُطُونِهِمْ وَالْجُلُودُ وَلَهُمْ مَقَامِعُ مِنْ حَدِيدٍ كُلَّمَا أَرَادُوا أَنْ يَخْرُجُوا مِنْهَا مِنْ غَمٍّ أُعِيدُوا فِيهَا)
অর্থঃ "অতএব যারা কাফের তাদের জন্যে আগুনের পোশাক তৈরী করা হয়েছে। তাদের মাথার উপর ফুটন্ত পানি ঢেলে দেয়া হবে। ফলে তাদের পেটে যা আছে তা এবং চর্ম গলে বের হয়ে যাবে। তাদের জন্য রয়েছে লোহার হাতুড়ি। তারা যখনই যন্ত্রনায় অতিষ্ট হয়ে জাহান্নাম থেকে বের হতে চাইবে তখনই তাতে ফেরত দেয়া হবে।" (সূরা হজ্জঃ ১৯-২২)
📄 ইবলীস শয়তানের ভাষণ
হাশরের মাঠে মানুষের মাঝে যখন ফয়সালা শেষ হওয়ার পর মুমিনগণ জান্নাতে চলে যাবেন এবং কাফেরেরা জাহান্নামে নিপতিত হবে। শয়তানের অনুসারী জাহান্নামীরা যখন শয়তানকে এই বলে দোষারোপ করবে যে, আমরা তোমার কথায় সাড়া দিয়েছিলাম। দুনিয়াতে তুমি আমাদেরকে গোমরাহ করেছিলে, ইত্যাদি বলে শয়তানকে দোষারোপ করবে। শয়তান তখন নিজেকে সম্পূর্ণ দোষমুক্ত ঘোষণা করে একটি ভাষণ প্রদান করবে। আল্লাহ তাআ'লা কুরআনে শয়তানের সেই ভাষণটি তুলে ধরেছেন।
আল্লাহ বলেনঃ
(وَقَالَ الشَّيْطَانُ لَمَّا قُضِيَ الْأَمْرُ إِنَّ اللَّهَ وَعَدَكُمْ وَعْدَ الْحَقِّ وَوَعَدْتُكُمْ فَأَخْلَفْتُكُمْ وَمَا كَانَ لِي عَلَيْكُمْ مِنْ سُلْطَانٍ إِلَّا أَنْ دَعَوْتُكُمْ فَاسْتَجَبْتُمْ لِي فَلَا تَلُومُونِي وَلُومُوا أَنْفُسَكُمْ مَا أَنَا بِمُصْرِخِكُمْ وَمَا أَنْتُمْ بِمُصْرِخِيَّ إِنِّي كَفَرْتُ بِمَا أَشْرَكْتُمُونِي مِنْ قَبْلُ إِنَّ الظَّالِمِينَ لَهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌ)
অর্থঃ "কিয়ামত দিবসে যখন ফয়সালা হয়ে যাবে তখন শয়তান বলবেঃ নিশ্চয় আল্লাহ্ তোমাদেরকে সত্য ওয়াদা দিয়েছিলেন। আমিও ওয়াদা দিয়েছিলাম। কিন্তু আমার ওয়াদা ছিল মিথ্যা এবং আমি সেই ওয়াদা ভঙ্গ করেছি। তোমাদের উপর আমার কোন কর্তৃত্ব ছিলনা। শুধুমাত্র আমি তোমাদেরকে ডেকেছিলাম আর তোমরা আমার ডাকে সাড়া দিয়েছিলে। অতএব আজ তোমরা আমাকে দোষারোপ করোনা। নিজেদেরকে দোষারোপ কর। আমি তোমাদেরকে শাস্তি থেকে বাঁচাতে পারবনা। তোমরাও আমাকে বাঁচাতে পারবেনা। তোমরা ইতিপূর্বে আমাকে আল্লাহর সাথে শরীক স্থাপন করেছিলে। আমি তা অস্বীকার করছি। নিশ্চয়ই জালেমদের জন্যে রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক কঠিন শাস্তি।" (সূরা ইবরাহীমঃ ২২)