📘 যা হবে মরনের পরে > 📄 শৃঙ্খলাবদ্ধ হয়ে কাফেরদের হাশর

📄 শৃঙ্খলাবদ্ধ হয়ে কাফেরদের হাশর


আল্লাহ তা'আলা বলেনঃ
يَوْمَ تُبَدَّلُ الْأَرْضُ غَيْرَ الْأَرْضِ وَالسَّمَوَاتُ وَبَرَزُوا لِلَّهِ الْوَاحِدِ الْقَهَّارِ وَتَرَى الْمُجْرِمِينَ يَوْمَئِذٍ مُقَرَّنِينَ فِي الْأَصْفَادِ سَرَابِيلُهُمْ مِنْ قَطِرَانٍ وَتَغْشَى وُجُوهَهُمُ النَّارُ)
অর্থঃ "সেদিন পরিবর্তিত করা হবে এ পৃথিবীকে অন্য এক পৃথিবীতে এবং পরিবর্তিত করা হবে আসমানসমূহকে এবং লোকেরা পরাক্রমশালী এক আল্লাহর সামনে হাজির হবে। আপনি ঐদিন পাপীদেরকে পরস্পরে শৃংখলাবদ্ধ অবস্থায় দেখতে পাবেন। তাদের পোষাক হবে দাহ্য আলকাতরার এবং তাদের মুখমণ্ডল আগুন আচ্ছন্ন করে ফেলবে।” (সূরা ইবরাহীমঃ ৪৮-৫০)
অতঃপর সে ভয়ানক দিনে পৃথিবী পরিবর্তিত হয়ে যাবে। বর্তমানে যে অবস্থায় আছে সে অবস্থায় থাকবেনা। বুখারী ও মুসলিম শরীফে সাহল বিন সা'দ (রাঃ) হতে বর্ণিত হয়েছে, রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ يُحْشَرُ النَّاسُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ عَلَى أَرْضٍ بَيْضَاءَ عَفْرَاءَ كَقُرْصَةِ نَقِي قَالَ سَهْلُ أَوْ غَيْرُهُ لَيْسَ فِيهَا مَعْلَمُ لِأَحَدٍ
অর্থঃ "সকল মানুষকে কিয়ামতের দিন সাদা ময়দার রূটির মত পরিস্কার একটি ভূমিতে উপস্থিত করা হবে। তাতে কারও কোন নিশানা থাকবে না"। মানুষ তখন পুলসিরাতের উপর থাকবে। কেননা মুসলিম শরীফে আয়েশা (রাঃ) হতে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেনঃ আমিই সর্বপ্রথম রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কে আল্লাহর বাণী, يَوْمَ تُبَدَّلُ الْأَرْضُ غَيْرَ الْأَرْضِ وَالسَّمَوَاتُ )
অর্থঃ "সে দিন আকাশ ও যমিনের অবস্থা পরিবর্তন হয়ে যাবে" এর ব্যাখ্যা জিজ্ঞেস করেছি। আয়েশা (রাঃ) বলেনঃ আমি তাঁকে জিজ্ঞেস করলামঃ মানুষ তখন কোথায় অবস্থান করবে? তিনি বললেনঃ পুল সিরাতের উপর"।
সে দিন কাফের ও পাপিষ্ঠদের একজনকে অন্যজনের সাথে বাঁধা অবস্থায় দেখা যাবে। প্রত্যেককে তার স্বজাতীয় লোকের সাথে একত্রিত করা হবে। আল্লাহ তা'আলা বলেনঃ
( احْشُرُوا الَّذِينَ ظَلَمُوا وَأَزْوَاجَهُمْ وَمَا كَانُوا يَعْبُدُونَ )
অর্থঃ "জালেমদেরকে এবং তাদের সঙ্গীদেরকে একত্রিত কর”। (সূরা আস্-সাফ্ফাতঃ ২২) তাদের হাত, পা এবং ঘাড় শিকল দিয়ে বাঁধা অবস্থায় দেখা যাবে। তাদেরকে আলকাতরার পোষাক পরিয়ে দেয়া হবে। আগুন তাদের চেহারা ঢেকে ফেলবে।

📘 যা হবে মরনের পরে > 📄 অন্ধ অবস্থায় কাফেরদের হাশর

📄 অন্ধ অবস্থায় কাফেরদের হাশর


কাফেরদেরকে অন্ধ অবস্থায় টেনে হাশরের মাঠে আনা হবেঃ আল্লাহ তা'আলা বলেনঃ
( وَنَحْشُرُهُمْ يَوْمَ الْقِيَامَةِ عَلَى وُجُوهِهِمْ عُمْيًا وَبُكْمًا وَصُمًّا مَأْوَاهُمْ جَهَنَّمُ كُلَّمَا خَبَتْ زِدْنَاهُمْ سَعِيرًا )
অর্থঃ "আমি কিয়ামতের দিন তাদের সমবেত করব তাদের মুখে ভর দিয়ে চলা অবস্থায় এবং অন্ধ, বোবা ও বধির অবস্থায়। তাদের আবাসস্থল হবে জাহান্নাম। যখনই জাহান্নামের অগ্নি নির্বাপিত হওয়ার উপক্রম হবে তখনই আমি তাদের জন্য অগ্নি আরো বৃদ্ধি করে দিব।" (সূরা বানী ইসরাঈলঃ ৯৭)
বুখারী ও মুসলিম শরীফে আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত হয়েছে,
( إِنَّ رَجُلًا قَالَ يَا نَبِيَّ اللَّهِ كَيْفَ يُحْشَرُ الْكَافِرُ عَلَى وَجْهِهِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ؟ قَالَ أَلَيْسَ الَّذِي أَمْشَاهُ عَلَى الرِّجْلَيْنِ فِي الدُّنْيَا قَادِرًا عَلَى أَنْ يُمْشِيَهُ عَلَى وَجْهِهِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ؟ )
অর্থঃ "জনৈক ব্যক্তি জিজ্ঞেস করলঃ হে আল্লাহর রাসূল! কিভাবে কিয়ামতের দিন কাফেরকে মুখের উপর ভর দিয়ে হাঁটানো হবে? উত্তরে রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ দুনিয়াতে যিনি তাকে
দু'পায়ের উপর হাঁটাতে সক্ষম ছিলেন তিনি কি কিয়ামতের দিন মুখের উপর হাঁটাতে সক্ষম নন? আল্লাহ কাফেরদের আযাবের ব্যাপারে আরো বলেনঃ
(إِنَّ الْمُجْرِمِينَ فِي ضَلَالٍ وَسُعُرٍ يَوْمَ يُسْحَبُونَ فِي النَّارِ عَلَى وُجُوهِهِمْ ذُوقُوا مَسَّ سَقَرَ)
অর্থঃ "নিশ্চয়ই অপরাধীরা পথভ্রষ্ট ও আযাবে নিপতিত। যেদিন তাদেরকে মুখের উপর করে টেনে নেয়া হবে জাহান্নামের দিকে। বলা হবেঃ জাহান্নামের যন্ত্রনা আস্বাদন কর। (সূরা কামারঃ ৪৭-৪৮)
হাশরের মাঠে প্রচণ্ড গরমের সাথে সাথে তারা পিপাসায় কাতর থাকবে। আল্লাহ তা'আলা বলেনঃ
(وَنَسُوقُ الْمُجْرِمِينَ إِلَى جَهَنَّمَ وِرْدًا)
অর্থঃ "এবং আমি অপরাধীদেরকে পিপাসার্ত অবস্থায় জাহান্নামের দিকে হাঁকিয়ে নিয়ে যাব।” (সূরা মারইয়ামঃ ৮৬)
এটি নিঃসন্দেহে একটি কঠিন অবস্থা যেখানে তাদেরকে অপমানিত, লাঞ্ছিত, পিপাসিত ও ক্ষুধার্ত অবস্থায় জাহান্নামের দিকে হাঁকিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে। তারা পানি চেয়ে চিৎকার করবে, কিন্তু পানি দেয়া হবে না, তারা ডাকা-ডাকি করবে, কিন্তু তাদের ডাকে সাড়া দেয়া হবে না, তারা সুপারিশের অনুসন্ধান করবে, কিন্তু তাদের জন্যে কোন সুপারিশকারী থাকবেনা।

📘 যা হবে মরনের পরে > 📄 কাফেরেরা পরস্পরে ঝগড়া করবে

📄 কাফেরেরা পরস্পরে ঝগড়া করবে


যখন আল্লাহর শত্রু কাফেরেরা তাদের জন্যে নির্ধারিত শাস্তি প্রত্যক্ষ করবে তখন তাদের পারস্পরিক বন্ধুত্ব শত্রুতায় পরিণত হবে। একে অপরের সাথে শত্রুতা, ঝগড়া, এবং অভিসম্পাতে লিপ্ত হবে। আল্লাহ
তা'আলা বলেনঃ
وَبَرَزُوا لِلَّهِ جَمِيعًا فَقَالَ الضُّعَفَاءُ لِلَّذِينَ اسْتَكْبَرُوا إِنَّا كُنَّا لَكُمْ تَبَعًا فَهَلْ أَنْتُمْ مُغْنُونَ عَنَّا مِنْ عَذَابِ اللَّهِ مِنْ شَيْءٍ قَالُوا لَوْ هَدَانَا اللَّهُ لَهَدَيْنَاكُمْ سَوَاءٌ عَلَيْنَا أَجَزِعْنَا أَمْ صَبَرْنَا مَا لَنَا مِنْ مَحِيصٍ) অর্থঃ "সকলেই আল্লাহর সামনে দণ্ডায়মান হবে এবং দুর্বলরা সবলদেরকে বলবেঃ আমরা তো তোমাদের অনুসারী ছিলাম। অতএব তোমরা আল্লাহর আযাব থেকে আমাদেরকে কিছুমাত্র রক্ষা করবে কি? তারা বলবেঃ যদি আল্লাহ আমাদেরকে সৎপথ দেখাতেন তবে আমরা অবশ্যই তোমাদেরকে সৎপথ দেখাতাম। এখন তো আমরা ধৈর্যচ্যুত হই কিংবা সবর করি, সবই আমাদের জন্য সমান, আমাদের কোন রেহাই নেই। (সূরা ইবরাহীমঃ ২১)
আল্লাহ তা'আলা আরও বলেনঃ
وَإِذْ يَتَحَاجُّونَ فِي النَّارِ فَيَقُولُ الضُّعَفَاءُ لِلَّذِينَ اسْتَكْبَرُوا إِنَّا كُنَّا لَكُمْ تَبَعًا فَهَلْ أَنْتُمْ مُغْنُونَ عَنَّا نَصِيبًا مِنْ النَّارِ قَالَ الَّذِينَ اسْتَكْبَرُوا إِنَّا كُلٌّ فِيهَا إِنَّ اللَّهَ قَدْ حَكَمَ بَيْنَ الْعِبَادِ) অর্থঃ "যখন তারা জাহান্নামে পরস্পর বিতর্ক করবে, অতঃপর দুর্বলরা অহংকারীদেরকে বলবেঃ আমরা তোমাদের অনুসারী ছিলাম। তোমরা এখন জাহান্নামের আগুনের কিছু অংশ আমাদের থেকে লাঘব করবে কি? অহংকারীরা বলবেঃ আমরা সবাই তো জাহান্নামে আছি। আল্লাহ তাঁর বান্দাদের মাঝে ফয়সালা করে দিয়েছেন"। (সূরা গাফেরঃ ৪৭-৪৮)
সেই ভয়াবহ দিনে বিভিন্ন প্রকার ঝগড়া হবে। আল্লাহ ছাড়া অন্যান্য বাতিল মা'বূদ ও তাদের উপাসনাকারীদের মাধ্যে ঝগড়া হবে। গোমরাহীর নেতাদের সাথে তাদের অনুসারীদের ঝগড়া হবে। দুনিয়াতে যারা পাপের কাজে একে অপরের সহযোগী ও বন্ধু ছিল তারা পরস্পরে বাদানুবাদে লিপ্ত হবে। এমনকি মানুষ যখন তার নিজ অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের সাথে ঝগড়ায় লিপ্ত হবে তখন ঝগড়া আরো প্রকট আকার ধারণ করবে।
আল্লাহ তা'আলা বলেনঃ (وَيَوْمَ يُحْشَرُ أَعْدَاءُ اللهِ إِلَى النَّارِ فَهُمْ يُوزَعُونَ حَتَّى إِذَا مَا جَاءُوهَا شَهِدَ عَلَيْهِمْ سَمْعُهُمْ وَأَبْصَارُهُمْ وَجُلُودُهُمْ بِمَا كَانُوا يَعْمَلُونَ وَقَالُوا لِجُلُودِهِمْ لِمَ شَهِدْتُمْ عَلَيْنَا قَالُوا أَنطَقَنَا اللَّهُ الَّذِي أَنطَقَ كُلَّ شَيْءٍ وَهُوَ خَلَقَكُمْ أَوَّلَ مَرَّةٍ وَإِلَيْهِ تُرْجَعُونَ) অর্থঃ “যেদিন আল্লাহর শত্রুদেরকে অগ্নিকুন্ডের দিকে ঠেলে নেয়া হবে এবং ওদের বিন্যস্ত করা হবে বিভিন্ন দলে। পরিশেষে যখন তারা জাহান্নামের কাছে পৌঁছবে তখন তাদের কান, চক্ষু ও শরীরের চামড়া তাদের কৃতকর্ম সম্পর্কে সাক্ষ্য দিবে। তারা তাদের শরীরের চামড়াকে বলবে, তোমরা আমাদের বিপক্ষে সাক্ষ্য দিলে কেন? তারা বলবেঃ যে আল্লাহ সবকিছুকে বাকশক্তি দিয়েছেন তিনি আমাদেরকেও বাকশক্তি দিয়েছেন। তিনিই তোমাদেরকে প্রথমবার সৃষ্টি করেছেন এবং তোমরা তাঁরই দিকে প্রত্যাবর্তিত হবে।" (সূরা হা-মীম সাজদাহঃ ১৯-২১)
আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ আমরা একদা রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর পাশে ছিলাম। তখন তিনি হাসলেন। অতঃপর বললেনঃ তোমরা কি জান আমি কিসের কারণে হাসছি? আনাস (রাঃ) বলেনঃ আমরা বললামঃ আল্লাহ ও তাঁর রাসূলই (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ভাল জানেন। তিনি বললেনঃ আল্লাহর সামনে বান্দার কথোপকথন শুনে আমি হাসছি। সে বলবেঃ হে আমার প্রতিপালক! আমাকে জুলুম থেকে পরিত্রাণ দিবেন না? রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ আল্লাহ বলবেনঃ হ্যাঁ অবশ্যই। তখন সে বলবেঃ আমার বিরুদ্ধে আমার নিজের ভিতর থেকে কোন সাক্ষী ছাড়া অন্য কারও সাক্ষ্য গ্রহণ করবোনা। তিনি বলেনঃ তখন আল্লাহ বলবেনঃ আজকের দিনে তোমার বিরুদ্ধে তোমার নফস এবং সম্মানিত লেখকগণই (ফেরেশতা) সাক্ষী হিসাবে যথেষ্ট। অতঃপর তার মুখে তালা লাগিয়ে দেয়া হবে এবং তার অঙ্গসমূহকে কথা বলার আদেশ দেয়া হবে তখন তার অঙ্গসমূহ তার কৃতকর্ম সম্পর্কে কথা বলতে শুরু করবে। রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি
ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ অতঃপর তাকে তার অঙ্গের সাথে কথা বলার জন্যে ছেড়ে দেয়া হবে। এক পর্যায়ে সে বলবে ধ্বংস হও তোমরা; আফসোস তোমাদের জন্যে! দুনিয়াতে তোমাদের জন্যই তো আমি এত পরিশ্রম করতাম"।' কাফেরেরা জাহান্নামে প্রবেশ করার পর উঁচু আওয়াজে একে অপরের উপর অভিসম্পাত করবে এবং একজন অন্যজনকে দ্বিগুণ শাস্তি দেয়ার আবদার করবে।
আল্লাহ তা'আলা বলেনঃ
كُلَّمَا دَخَلَتْ أُمَّةٌ لَعَنَتْ أُخْتَهَا حَتَّى إِذَا ادَّارَكُوا فِيهَا جَمِيعًا قَالَتْ أُخْرَاهُمْ لِأُولَاهُمْ رَبَّنَا هَؤُلَاءِ أَضَلُّونَا فَآتِهِمْ عَذَابًا ضِعْفًا مِنْ النَّارِ)
অর্থঃ "যখন এক সম্প্রদায় নরকে প্রবেশ করবে তখন অন্য সম্প্রদায়কে অভিসম্পাত করবে। এমন কি যখন সবাই তাতে পতিত হবে তখন পরবর্তীরা পূর্ববর্তীদের সম্পর্কে বলবেঃ হে আমাদের প্রতিপালক! এরাই আমাদেরকে বিপদগামী করেছিল। অতএব আপনি এদেরকে দ্বিগুণ শাস্তি প্রদান করুন।" (সূরা আরাফঃ ৩৮)

📘 যা হবে মরনের পরে > 📄 কাফেরদের ধ্বংস কামনা

📄 কাফেরদের ধ্বংস কামনা


যখন কাফেরেরা আযাব ও লাঞ্ছনা প্রত্যক্ষ করবে তখন তারা অনুতপ্ত ও হতাশাগ্রস্ত হবে। এজন্যই কিয়ামতের দিনকে হতাশার দিন বলে আখ্যায়িত করা হয়েছে।
আল্লাহ তা'আলা বলেনঃ
وَأَنذِرْهُمْ يَوْمَ الْحَسْرَةِ إِذْ قُضِيَ الْأَمْرُ وَهُمْ فِي غَفْلَةٍ وَهُمْ لَا يُؤْمِنُونَ)
অর্থঃ "আপনি তাদেরকে পরিতাপের দিবস সম্পর্কে হুঁশিয়ার করে দিন যখন সব ব্যাপারে মীমাংসা হয়ে যাবে। এখন তারা অমনোযোগী অবস্থায় রয়েছে এবং তারা বিশ্বাস স্থাপন করছেনা।" (সূরা মারইয়ামঃ ৩৯) কাফের
তার নিকট প্রেরিত রাসূলের আনুগত্য না করার কারণে এবং রাসূলদের শত্রুদের অনুসরণের কারণে অনুতপ্ত ও লজ্জিত হয়ে আপন হাতে দাঁত দিয়ে কামড়াতে থাকবে। আল্লাহ তা'আলা বলেনঃ (وَيَوْمَ يَعَضُّ الظَّالِمُ عَلَى يَدَيْهِ يَقُولُ يَالَيْتَنِي اتَّخَذْتُ مَعَ الرَّسُولِ سَبِيلًا يَا لَيْتَنِي لَمْ أَتَّخِذْ فُلَانًا خَلِيلًا لَقَدْ أَضَلَّنِي عَنْ الذِّكْرِ بَعْدَ إِذْ جَاءَنِي وَكَانَ الشَّيْطَانُ لِلْإِنسَانِ خَذُولًا ) অর্থঃ "জালেম সেদিন আপন হস্তদ্বয় দংশন করতে করতে বলবেঃ হায় আফসোস! আমি যদি রাসূলের সাথে পথ অবলম্বন করতাম! হায় আমার দুর্ভাগ্য! আমি যদি অমুককে বন্ধুরূপে গ্রহণ না করতাম! আমার কাছে উপদেশ আসার পর সে আমাকে তা থেকে বিভ্রান্ত করেছে। শয়তান মানুষকে বিপদকালে ধোকা দেয়”। (সূরা ফুরকানঃ ২৭-২৯)
সেদিন কাফেরেরা নিশ্চিতরূপে অনুধাবন করতে পারবে যে, তাদের গুনাহসমূহ ক্ষমা করা হবেনা এবং তাদের ওজর-আপত্তি গ্রহণযোগ্য হবেনা। তাই তারা আল্লাহর রহমত হতে সম্পূর্ণ নিরাশ হয়ে যাবে। আল্লাহ তা'আলা বলেনঃ (وَيَوْمَ تَقُومُ السَّاعَةُ يُبْلِسُ الْمُجْرِمُونَ) অর্থঃ "যেদিন কিয়ামত সংঘটিত হবে সেদিন অপরাধীরা হতাশ হয়ে যাবে”। (সূরা রোমঃ ১২)
কাফেরেরা পুনরায় দুনিয়াতে আসার আবদার করবে যাতে তারা পরহেজগার ও ঈমানদার হয়ে সৎকর্ম সম্পাদন করতে পারে। আল্লাহ তা'আলা বলেনঃ (وَلَوْ تَرَى إِذْ وُقِفُوا عَلَى النَّارِ فَقَالُوا يَا لَيْتَنَا نُرَدُّ وَلَا نُكَذِّبَ بِآيَاتِ رَبِّنَا وَنَكُونَ مِنْ الْمُؤْمِنِينَ)
অর্থঃ "আর আপনি যদি দেখেন যখন তাদেরকে দোযখের উপর দাড় করানো হবে। তারা বলবেঃ কতই না ভাল হতো যদি আমরা দুনিয়ায় পুনঃপ্রেরিত হতাম তা হলে আমরা স্বীয় পালনকর্তার নিদর্শন সমূহের উপর মিথ্যারোপ করতাম না এবং আমরা বিশ্বাসীদের অন্তর্ভূক্ত হয়ে যেতাম।" (সূরা আনআমঃ ২৭)
আল্লাহ তা'আলা বলেনঃ (وَلَوْ تَرَى إِذْ الْمُجْرِمُونَ نَاكِسُوا رُءُوسِهِمْ عِنْدَ رَبِّهِمْ رَبَّنَا أَبْصَرْنَا وَسَمِعْنَا فَارْجِعْنَا نَعْمَلْ صَالِحًا إِنَّا مُوقِنُونَ)
অর্থঃ "যদি আপনি দেখতেন যখন অপরাধীরা তাদের পালনকর্তার সামনে নতশির হয়ে বলবেঃ হে আমাদের পালনকর্তা! আমরা দেখলাম ও শ্রবণ করলাম। এখন আমাদেরকে দুনিয়ায় পাঠিয়ে দিন। আমরা সৎকর্ম করব। আমরা দৃঢ় বিশ্বাসী হয়ে গেছি”। (সূরা সাজদাহঃ ১২)
সেদিন কাফেরেরা ভয়াবহ আযাব সহ্য করতে না পেরে আল্লাহর কাছে নিজেদেরকে ধ্বংস অথবা মাটিতে পরিণত করে দেয়ার আবেদন করবে।
আল্লাহ তা'আলা বলেনঃ (يَوْمَئِذٍ يَوَدُّ الَّذِينَ كَفَرُوا وَعَصَوْا الرَّسُولَ لَوْ تُسَوَّى بِهِمُ الْأَرْضُ)
অর্থঃ "সেদিন কাফেরেরা এবং রাসূলের বিরুদ্ধাচরণকারীরা কামনা করবে যে, তাদেরকে মাটির সাথে মিশিয়ে দেয়া হোক।" (সূরা নিসাঃ ৪১)
আল্লাহ তা'আলা আরো বলেনঃ (وَيَقُولُ الْكَافِرُ يَا لَيْتَنِي كُنتُ تُرَابًا)
অর্থঃ "সেদিন কাফেরেরা বলবে, হায় যদি আমি মাটি হয়ে যেতাম।" (সূরা নাবাঃ ৪০)

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00