📄 ভূমিকা
সমস্ত প্রশংসা আকাশ-যমীনের সৃষ্টিকর্তা মহান আল্লাহর জন্যে যিনি জীবন- মরণের একমাত্র মালিক। সৎ কর্মশীলদেরকে পুরস্কৃত করার জন্যে এবং সীমা লংঘণকারীদেরকে শাস্তি দেয়ার জন্যে তিনি সমস্ত মাখলুকের উপর মৃত্যু ও পুনরুত্থান অবধারিত করেছেন। সৎ কর্মশীলদেরকে আল্লাহ তাঁর দরবারে সম্মানিত মেহমান হিসেবে উপস্থিত করবেন এবং গুনাহগারদেরকে জাহান্নামের দিকে হাঁকিয়ে নিয়ে যাওয়ার আদেশ দিবেন। মহাপবিত্র ঐ সত্বা যিনি জান্নাতুল ফেরদাউসকে মু'মিনদের জন্য আপ্যায়ন হিসেবে নির্ধারণ করেছেন এবং সীমালংঘণকারীদের জন্যে জাহান্নামকে আবাসস্থল হিসেবে তৈরী করেছেন। দরূদ ও সালাম বর্ষিত হোক প্রিয় নবী মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম), তাঁর বংশধর ও তাঁর সৎকর্মশীল সাথীদের উপর।
আল্লাহ তা'আলা সৃষ্টি জীবকে অযথা সৃষ্টি করেননি এবং তাদেরকে দায়িত্বহীনভাবে ছেড়ে দেননি; বরং তিনি তাদের উপর এক মহান দায়িত্ব চাপিয়ে দিয়েছেন। যে দায়িত্ব পেশ করা হয়েছিল আকাশ-যমিনের কাছে, কিন্তু আকাশ-যমিন ভীত-সন্ত্রস্ত হয়ে তা গ্রহণ করতে অস্বীকার করেছে। অথচ মানুষ অত্যন্ত দুর্বল হওয়া সত্ত্বেও সে দায়িত্বভার গ্রহণ করেছে। অধিকাংশ মানুষই এ মহান দায়িত্ব পালন না করে গাফেল হয়ে জীবন যাপন করছে। তাদের সৃষ্টিকর্তার পরিচয় সম্পর্কে এবং তাদেরকে এই পৃথিবীতে প্রেরণের উদ্দেশ্য সম্পর্কে চিন্তা- ভাবনা করছেনা। ক্ষণস্থায়ী দুনিয়াতে তাদের অবস্থান এবং দীর্ঘস্থায়ী আখেরাতের দিকে দ্রুত প্রস্থান সম্পর্কে তাদের কোন চিন্তা-ভাবনা নেই।
মানুষ এ পৃথিবীতে স্বল্প সময় অবস্থান করলেও তার যাত্রা সীমাহীন। ক্ষণস্থায়ী এ পৃথিবীতে প্রতিটি মানুষই পার্থিব জীবনের বিষয়াদি সম্পর্কে অবগত রয়েছে। কিন্তু চিরস্থায়ী জীবন তথা পরকালীন জীবন ও তার বিষয়াদি সম্পর্কে অধিকাংশ মানুষই অজ্ঞ। তাই বলে পরজগতের ব্যাপারে এবং আত্মার যাত্রা সম্পর্কে তার জানার আগ্রহ শেষ হয়ে যায়নি। আখেরাত সম্পর্কে জ্ঞানের সল্পতার কারণেই মানুষ আল্লাহর পথ হতে অনেক দূরে। দুনিয়ার কোন সম্পদ দেখতে পেলে সেদিকে দ্রুত অগ্রসর হয় এবং পরকালের নেয়ামত ও আল্লাহর সন্তুষ্টির উপর উহাকে প্রাধান্য দিয়ে থাকে। আল্লাহ তা'আলা বলেনঃ
(يَعْلَمُونَ ظَاهِرًا مِنْ الْحَيَاةِ الدُّنْيَا وَهُمْ عَنْ الْآخِرَةِ هُمْ غَافِلُونَ)
অর্থঃ "তারা কেবলমাত্র পার্থিব জীবনের প্রকাশ্য বিষয়সমূহ সম্পর্কে অবগত আছে এবং তারা পরকালের বিষয় সম্পর্কে কোন খবরই রাখেনা"। (সূরা রূমঃ ৭) আল্লাহ তা'আলা আরও বলেনঃ
(وَلَا تَكُوْنُوْا كَالَّذِينَ نَسُوا اللَّهَ فَأَنْسَاهُمْ أَنْفُسَهُمْ أُولَئِكَ هُمُ الفَاسِقُوْنَ)
অর্থঃ "তোমরা তাদের মত হয়োনা যারা আল্লাহ তা'আলাকে ভুলে গেছে। ফলে তিনি তাদেরকে আত্মবিস্মৃত করে দিয়েছেন। মূলতঃ তারাই অবাধ্য"। (সূরা হাশরঃ ১৯)
যখন অধিকাংশ মানুষের অবস্থা এরকমই ছিল তখন এমন বিষয়সমূহের অনুসন্ধান করতে থাকলাম যা অন্তরে ভয়ের সঞ্চার ও চোখের অশ্রু প্রবাহিত করবে এবং পরকালের কথা স্মরণ করিয়ে দিবে।
এ লক্ষ্যে আমি আল্লাহর কিতাব ও রাসূলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সুন্নাত এবং অতীত জাতির অবস্থা ও তাদের উপদেশ সমূহের উপর গভীরভাবে দৃষ্টি দিয়ে কিছু শিক্ষণীয় বিষয়ের জ্ঞান অর্জন করলাম। এ বিষয়গুলো সামনে রেখে এমন একটি কিতাব রচনা করার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করলাম যা আমার নিজের জন্য জীবন চলার পাথেয় হয়ে থাকবে এবং পরকালে আমার জন্য আমলে সালেহ বা সৎকর্ম হিসাবে পরিগণিত হবে। কুরআন ও সুন্নাহর পাশাপাশি এ লক্ষ্যে আমি নির্ভরযোগ্য আলেমদের কিতাব থেকেও কিছু উক্তি সংগ্রহ করলাম। আল্লাহর কাছে প্রার্থনা, তিনি যেন এর মাধ্যমে পাঠকদের উপকার সাধন করেন।
এটি একটি সংক্ষিপ্ত পুস্তিকা যাতে রূহ কবজ করার জন্যে ফেরেশতার আগমণ থেকে শুরু করে জান্নাতীদের জান্নাতে প্রবেশ এবং জাহান্নামীদের জাহান্নামে প্রবেশ পর্যন্ত অধিকাংশ অবস্থার বিবরণ পেশ করা হয়েছে।
আল্লাহর কাছে প্রার্থনা, তিনি যেন পুস্তিকাটিকে তাঁর সন্তুষ্টি জন্য কবুল করেন এবং তা রচনা ও প্রকাশে যারা বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করেছেন তাদের সবাইকে জান্নাতবাসী করেন।
বিনীত : আবদুল্লাহ শাহেদ আল-মাদানী