📄 উপসংহার
ঈমান ও ইসলাম বিনষ্টকারী এ সকল বিশ্বাস ও কর্ম হাসি-ঠাট্টা, কৌতুক বা ইচ্ছাকৃত যেভাবেই করুক না কেন, তার ঈমান ও ইসলাম ভেঙ্গে যাবে এবং তার আমলসমূহ বিনষ্ট হয়ে যাবে। কাফিরদের ভয়ে কোনো কুফরী বাক্য উচ্চারণ করা বা কোনো কুফরী কর্ম করা বৈধ নয়। যেমন- আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো উদ্দেশ্য যবেহ করা, ইসলাম ও মুসলিমদের গালি দেয়া প্রভৃতি। তবে যখন কাফিররা তাকে বাধ্য করবে, তখন শর্ত সাপেক্ষে কুফরী করা বৈধ, যেমন-
১. কুফরী করতে বাধ্য হওয়া। তবে আগে থেকে তাদের ভয়ে নয়।
২. অন্তরে ঈমান পরিপূর্ণরূপে থাকা। শুধুমাত্র মুখে কুফরী শব্দ উচ্চারণ করবে, কিন্তু অন্তর ঈমান দ্বারা পরিপূর্ণ থাকবে।
৩. তার উদ্দেশ্য থাকবে শুধুমাত্র নির্যাতন প্রতিরোধ করা, কাফিরদের সন্তুষ্ট করা নয়। এ ব্যাপারে মহান আল্লাহর বাণী- مَنْ كَفَرَ بِاللَّهِ مِنْ بَعْدِ إِيْمَانِهِ إِلَّا مَنْ أُكْرِهَ وَقَلْبُهُ مُطْمَئِنٌّ بِالْإِيْمَانِ وَلَكِنْ مَنْ شَرَحَ بِالْكُفْرِ صَدْرًا فَعَلَيْهِمْ غَضَبٌ مِّنَ اللَّهِ وَلَهُمْ عَذَابٌ عَظِيمٌ ذَلِكَ بِأَنَّهُمُ اسْتَحَبُّوا الْحَيُوةَ الدُّنْيَا عَلَى الْآخِرَةِ وَأَنَّ اللَّهَ لَا يَهْدِي الْقَوْمَ الْكُفِرِينَ “যে ঈমান আনার পর আল্লাহর সাথে কুফরী করেছে এবং যারা তাদের অন্তর কুফরী দ্বারা উন্মুক্ত করেছে, তাদের উপরই আল্লাহর ক্রোধ এবং তাদের জন্য রয়েছে মহা আযাব। ঐ ব্যক্তি ছাড়া যাকে বাধ্য করা হয় (কুফরী করতে) অথচ তার অন্তর থাকে ঈমানে পরিতৃপ্ত। এটা এ জন্য যে, তারা আখিরাতের তুলনায় দুনিয়ার জীবনকে পছন্দ করেছে। আর নিশ্চয়ই আল্লাহ কাফির কাওমকে হিদায়াত করেন না।” [সূরা ১৬; আন-নাহল ১০৬-১০৭]
তবে কেউ যদি বাধ্য হওয়ার পরেও কুফরী শব্দ উচ্চারণ না করে, এটা আরো উত্তম। যেমন- ইমাম আহমদ বিন হাম্বল রাহিমাহুল্লাহ কুরআন সৃষ্ট (خَلْقُ الْقُرْآنِ) আকীদা প্রসঙ্গে নির্যাতিত হওয়ার পরেও কুফরী উচ্চারণ করেন নি।
'ইসলাম ও ঈমান ভঙ্গের কারণ' বইটি অধ্যয়নের পর আমরা যে বিষয়গুলো জানতে পারলাম, তার সারসংক্ষেপ হলো, ইসলাম ও ঈমান ভঙ্গের প্রধান দশটি কারণ নিম্নরূপ-
১. মহান আল্লাহর ইবাদাতে কাউকে শরিক বা অংশীদার সাব্যস্ত করা। আল্লাহ তাআলা বলেন,
إِنَّ اللَّهَ لَا يَغْفِرُ أَنْ يُشْرَكَ بِهِ وَيَغْفِرُ مَا دُونَ ذَلِكَ لِمَنْ يَشَاءُ وَمَنْ يُشْرِكْ بِاللَّهِ فَقَدْ ضَلَّ ضَلَلًا بَعِيدًا ))
"নিশ্চয়ই আল্লাহ ইবাদাতে তাঁর সাথে কাউকে অংশীদার সাব্যস্ত করাকে ক্ষমা করবেন না, এতদ্ব্যতীত যা কিছু অপরাধ আছে তা যাকে ইচ্ছা করেন ক্ষমা করবেন।" [সূরা ৪; আন-নিসা ১১৬]
إِنَّهُ مَنْ يُشْرِكْ بِاللَّهِ فَقَدْ حَرَّمَ اللَّهُ عَلَيْهِ الْجَنَّةَ وَمَأْوِيهُ النَّارُ وَ مَا لِلظَّلِمِينَ مِنْ أَنْصَارٍ
"নিশ্চয়ই যে ব্যক্তি আল্লাহর সাথে কাউকে শরিক করে তার উপর আল্লাহ তাআলা জান্নাত হারাম করে দিয়েছেন। তার আবাস হবে জাহান্নামে, আর (শির্ককারী) অত্যাচারীদের কোনো সাহায্যকারী নেই।” [সূরা ৫; আল-মায়িদাহ ৭২]
২. যে ব্যক্তি মহান আল্লাহ ও তাঁর মাঝে কোনো মাধ্যম নির্ধারণ করে তাদের কাছে কিছু চাইবে ও তাদের সুপারিশ প্রার্থনা করবে এবং তাদের উপর ভরসা করবে, সে ব্যক্তি উম্মাতের সর্বসম্মত মতে কাফির হয়ে যাবে। মহান আল্লাহ বলেন,
آلَا لِلَّهِ الدِّينُ الْخَالِصُ وَ الَّذِينَ اتَّخَذُوا مِنْ دُونِةٍ أَوْلِيَاءَ مَا نَعْبُدُهُمْ إِلَّا لِيُقَرِّبُوْنَا إِلَى اللَّهِ زُلْفَى إِنَّ اللَّهَ يَحْكُمُ بَيْنَهُمْ فِي مَا هُمْ فِيْهِ يَخْتَلِفُوْنَ إِنَّ اللَّهَ لَا يَهْدِي مَنْ هُوَ كَذِبٌ كَفَّارٌ )
"জেনে রাখুন! অবিমিশ্র-বিশুদ্ধ আনুগত্য (হবে) একমাত্র আল্লাহরই জন্য। যারা তাঁর পরিবর্তে অন্যদেরকে অভিভাবক হিসেবে গ্রহণ করে, (তারা নিজেদের এ যুলুমের সাফাই দিতে গিয়ে বলে যে) 'আমরা তো আসলে তাদের ইবাদত করি এ জন্য, যেন তারা আমাদেরকে আল্লাহর নিকট পৌছে দেয়।' তারা যেসব বিষয়ে নিজেদের মধ্যে মতভেদ করছে, (কিয়ামতের দিন) নিশ্চয়ই আল্লাহ তাদের মধ্যে সে বিষয়ে ফায়সালা করে দেবেন। (আর) আল্লাহ মিথ্যাবাদী চরম কাফিরকে হেদায়াত করেন না।" [সূরা ৩৯; আয-যুমার ৩]
۞ وَيَعْبُدُونَ مِنْ دُونِ اللَّهِ مَا لَا يَضُرُّهُمْ وَلَا يَنْفَعُهُمْ وَيَقُولُونَ هَؤُلَاءِ شُفَعَاؤُنَا عِنْدَ اللَّهِ قُلْ أَتُنَبِّئُونَ اللَّهَ بِمَا لَا يَعْلَمُ فِي السَّمَوَاتِ وَلَا فِي الْأَرْضِ سُبْحَانَهُ وَتَعَالَى عَمَّا يُشْرِكُونَ ۞
“তারা আল্লাহকে বাদ দিয়ে এমন (সব) কিছুর ইবাদাত করে, যা না পারে তাদের কোনো ক্ষতি করতে, না পারে তাদের উপকার করতে (কিছুই পারে না)। তারা দাবি করে, 'এরা আল্লাহর কাছে আমাদের জন্য সুপারিশকারী (হবে), আপনি বলে দিন, 'তোমরা কি আল্লাহকে আসমানসমূহ ও জমিনের এমন কোনো সংবাদ দিতে চাচ্ছ, যা তিনি জানেন না? তিনি মহান, পবিত্র এবং তারা (তাঁর সাথে) যে শির্ক করে, তা থেকে তিনি অনেক ঊর্ধ্বে'।" [সূরা ১০; ইউনুস ১৮]
৩. যেসব মুশরিক, যারা আল্লাহর ইবাদাতে এবং তাঁর সার্বভৌমত্বে অন্য কাউকে অংশীদার মনে করে, তাদেরকে কাফির মনে করবে না বা তাদের কাফির হওয়া সম্পর্কে সন্দেহ পোষণ করবে অথবা তাদের দীনকে সঠিক মনে করবে, সে উম্মতের ঐকমত্যে কাফির বলে বিবেচিত হবে।
মহান আল্লাহ বলেন,
۞ إِنَّ الدِّينَ عِنْدَ اللَّهِ الْإِسْلَامُ ۞
“নিশ্চয়ই ইসলামই আল্লাহর নিকট একমাত্র (গ্রহণযোগ্য) দীন (তথা জীবনব্যবস্থা)।” [সূরা ৩; আলে-ইমরান ১৯]
۞ وَمَنْ يَبْتَغِ غَيْرَ الْإِسْلَامِ دِينًا فَلَنْ يُقْبَلَ مِنْهُ وَهُوَ فِي الْآخِرَةِ مِنَ الْخَاسِرِينَ ۞
“কেউ যদি ইসলাম ছাড়া অন্য কোনো দীন (মতাদর্শ, জীবনব্যবস্থা) গ্রহণ করতে চায়, কস্মিনকালেও তার পক্ষ থেকে তা গ্রহণ করা হবে না। আর আখিরাতে সে হবে ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত।” [সূরা ৩; আলে-ইমরান ৮৫]
৪. যে ব্যক্তি মনে করবে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রদর্শিত পথের চেয়ে অন্য কারো প্রদর্শিত পথ বেশি পূর্ণাঙ্গ অথবা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের শাসনব্যবস্থার চেয়ে অন্য কারো শাসনব্যবস্থা বেশি ভালো, কিংবা যে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বিচারপদ্ধতির উপর তাগূতি শক্তির তথা আল্লাহদ্রোহী শক্তির বিচারব্যবস্থাকে প্রাধান্য দেবে, সে কাফিরদের মধ্যে গণ্য হবে। মহান আল্লাহ বলেন,
﴿هُوَ الَّذِي أَرْسَلَ رَسُولَهُ بِالْهُدَى وَدِيْنِ الْحَقِّ لِيُظْهِرَهُ عَلَى الدِّينِ كُلِّهِ وَلَوْ كَرِهَ الْمُشْرِكُونَ )
“তিনিই সেই সত্তা, যিনি তাঁর রাসূলকে হেদায়াত ও সত্য দীন-সহ প্রেরণ করেছেন, সকল দীনের উপর তাকে বিজয়ী করার জন্য; এবার মুশরিকরা যতই তা অপছন্দ করুক!” [সূরা ৪১; আস-সাফফ ৯]
জাবের বিন আবদুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণিত হাদীসে এসেছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, إِنَّ خَيْرَ الْحَدِيْثِ كِتَابُ اللهِ ، وَخَيْرُ الْهُدَى هُدَى مُحَمَّدٍ»
“উত্তম বাণী হলো, আল্লাহর কিতাব (আল-কুরআন) এবং উত্তম পথ হলো, মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রদর্শিত পথ।” [সহীহ মুসলিম: ৮৬৭]
৫. রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে আদর্শ নিয়ে এসেছেন, এর সামান্য কিছুও যদি অপছন্দ করে সে কাফির হয়ে যাবে। যদিও সে তার উপর আমলকারী হয় তবুও সে কাফির হয়ে যাবে। এর প্রমাণ আল- কুরআনের বাণী, ذَلِكَ بِأَنَّهُمْ كَرِهُوا مَا أَنْزَلَ اللَّهُ فَأَحْبَطَ أَعْمَالَهُمْ )
"আর এটা তথা জাহান্নামে যাওয়া এ জন্যই যে, তারা আল্লাহ যা অবতীর্ণ করেছেন তা অপছন্দ করেছে, ফলে তিনি তাদের কর্মকাণ্ড নষ্ট করে দিয়েছেন।” [সূরা ৪৭; মুহাম্মাদ ৯]
৬. রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতিষ্ঠিত দীনের (জীবন বিধানের) মৌলিক বিষয়গুলোর সামান্যতম কিছু নিয়ে যদি কেউ ঠাট্টা করে বা দীনের কোনো আমলের পুরস্কার বা শাস্তি নিয়ে বিদ্রূপ করে, তবে সেও কাফির হয়ে যাবে। তার প্রমাণ আল্লাহ তাআলার বাণী, قُلْ أَبِاللَّهِ وَايْتِهِ وَرَسُوْلِهِ كُنْتُمْ تَسْتَهْزِءُونَ (3) لَا تَعْتَذِرُوا قَدْ كَفَرْتُمْ بَعْدَ إِيْمَانِكُمْ ))
"বলুন! তোমরা কি আল্লাহ ও তাঁর প্রদত্ত বিধানসমূহ এবং তাঁর রাসূলের সাথে ঠাট্টা করছ? তোমরা কোনো প্রকার ওজর পেশ করো না। কারণ, তোমরা ঈমান আনার পরে কুফরী আচরণ করেছ।" [সূরা ৯; আত-তাওবাহ ৬৫-৬৬]
৭. জাদু, বাণ-টোনা ও মায়াবিদ্যা দ্বারা সম্পর্ক বিচ্যুতি ঘটানো বা সম্পর্ক স্থাপন করানো। যদি কেউ এগুলো করে বা করতে রাজি হয়, তবে সে কাফির হয়ে যাবে। এর প্রমাণ আল-কুরআনের বাণী,
وَ مَا أُنْزِلَ عَلَى الْمَلَكَيْنِ بِبَابِلَ هَارُوتَ وَمَارُوتَ وَ مَا يُعَلِّمْنِ مِنْ أَحَدٍ حَتَّى يَقُولَا إِنَّمَا نَحْنُ فِتْنَةٌ فَلَا تَكْفُرْ )
“ঐন্দ্রজালিকরা ব্যাবিলন নগরের হারূত ও মারূত নামীয় দুই ফেরেশতার উপর অবতারিত জাদু বিদ্যার অনুসরণ করত। এরা কাউকে জাদু শিক্ষাদানের পূর্বে প্রত্যেককে বলত, দেখ! আমরা পরীক্ষাস্বরূপ। সুতরাং, তোমরা কুফরী করো না।" [সূরা ২; আল-বাক্বারাহ ১০২]
৮. মুসলিমদের বিরুদ্ধে মুশরিকদের পক্ষ অবলম্বন করা এবং তাদেরকে সাহায্য-সহযোগিতা করা কুফরী। মহান আল্লাহর বাণী,
يَأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَا تَتَّخِذُوا الْيَهُودَ وَ النَّصْرَى أَوْلِيَاءَ بَعْضُهُمْ أَوْلِيَاءُ بَعْضٍ وَمَنْ يَتَوَلَّهُمْ مِنْكُمْ فَإِنَّهُ مِنْهُمْ )
“হে ঈমানদারগণ! তোমরা ইহুদী-খ্রিস্টানদেরকে বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করো না। তারা আপোষে পরস্পরের বন্ধু। তোমাদের মধ্যে কেউ তাদের সাথে বন্ধুত্ব করলে সে তাদেরই দলভুক্ত হবে।” [সূরা ৫; আল-মায়িদাহ ৫১]
৯. যে ব্যক্তি এ কথা বিশ্বাস করবে যে, যেমনিভাবে খিদির আলাইহিস সালামের জন্য মূসা আলাইহিস সালামের শরী'আতের বাইরে থাকা সম্ভব হয়েছিল, তেমনিভাবে কারো কারো জন্য রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রবর্তিত শরী'আতের বাইরে থাকা সম্ভব, সেও কাফির বলে গণ্য হবে। মহান আল্লাহ বলেন,
قُلْ يَأَيُّهَا النَّاسُ إِنِّي رَسُولُ اللَّهِ إِلَيْكُمْ جَمِيعًا الَّذِي لَهُ مُلْكُ السَّمَاتِ وَالْأَرْضِ )
“(হে রাসূল!) আপনি বলুন, 'হে মানুষ! নিশ্চয়ই আমি তোমাদের সবার প্রতি সেই আল্লাহর রাসূল, যিনি আসমানসমূহ ও জমিনের সার্বভৌমত্বের একচ্ছত্র মালিক।” [সূরা ৭; আল-আ'রাফ ১৫৮]
وَمَا أَرْسَلْتُكَ إِلَّا كَافَّةً لِلنَّاسِ بَشِيرًا وَنَذِيرًا وَلَكِنَّ أَكْثَرَ النَّاسِ لَا يَعْلَمُونَ ) “(হে নবী!) আমি তো আপনাকে সমগ্র মানবজাতির জন্য সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারীরূপে প্রেরণ করেছি, কিন্তু অধিকাংশ মানুষই তা জানে না।” [সূরা ৩৪; সাবা ২৮]
১০. আল্লাহর দীন থেকে বিমুখ হওয়া, দীন শিখতে বা দীনের আদেশ-নিষেধ অনুসারে কাজ করার ব্যাপারে অনীহা প্রকাশ করা। এর দলীল মহান আল্লাহর বাণী,
وَمَنْ أَظْلَمُ مِمَّنْ ذُكِّرَ بِأَيْتِ رَبِّهِ ثُمَّ أَعْرَضَ عَنْهَا إِنَّا مِنَ الْمُجْرِمِينَ مُنْتَقِمُونَ ) “তার চেয়ে বেশি অত্যাচারী আর কে হতে পারে? যাকে আল্লাহর আয়াতসমূহ স্মরণ করিয়ে দেয়ার পর সে তা এড়িয়ে গেল। নিশ্চয়ই আমি পাপিদের থেকে প্রতিশোধ নেব।” [সূরা ৪১; আস-সাজদাহ ২২]
এ সমস্ত ইসলাম ও ঈমান বিনষ্টকারী বিষয় ঠাট্টা করেই বলুক আর মন থেকে বলুক অথবা ভয়ে ভীত হয়েই বলুক, যেকোনো লোক এ সমস্ত কাজের কোনো একটি করলে কাফির বলে বিবেচিত হবে। তবে যাকে জোর করে এ রকম কোনো কাজ করতে বাধ্য করা হয়েছে তার হুকুম আলাদা।
এসবই অত্যন্ত বিপজ্জনক, যা আমাদের সমাজে অত্যধিক হারে সংঘটিত হয়ে থাকে। সুতরাং মুসলিমমাত্রই এগুলো থেকে সাবধানতা অবলম্বন করা ও এগুলো থেকে বেঁচে থাকা বাঞ্ছনীয়। আমরা মহান আল্লাহর কাছে তাঁর আযাব-গযবে পড়া ও তাঁর কঠিন শাস্তিতে নিপতিত হওয়া থেকে আশ্রয় চাচ্ছি।
মহান আল্লাহ আমাদেরকে ইসলাম ও ঈমান ভঙ্গের কারণগুলো জানার ও বুঝার তাওফীক দান করুন। এগুলোর ব্যাপারে সর্তক থাকার তাওফীক দিন। দুনিয়াতে ইসলামের সাথে বেঁচে থাকার এবং ঈমান নিয়ে মৃত্যুবরণ করার তাওফীক দিন। আমীন!
وَصَلَّى اللَّهُ عَلَى خَيْرٍ خَلْقِهِ مُحَمَّدٍ وَ آلِهِ وَأَصْحَابِهِ أَجْمَعِيْنَ