📘 ইসলাম ও ঈমান ভঙ্গের কারণ > 📄 মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের শরী‘আতের বৈশিষ্ট্যসমূহ

📄 মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের শরী‘আতের বৈশিষ্ট্যসমূহ


خَصَائِصُ شَرِيعَةِ مُحَمَّدٍ صَلَّي اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
(১) আল্লাহ আয্যা ওয়াজাল্লা মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে সকল মানুষ, জিন, শিক্ষিত, অশিক্ষিত, আরব, অনারব সকলের নিকট নবী ও রাসূল হিসেবে পাঠিয়েছেন। সকল মানুষ ও জিনের উপর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অনুসরণ করা (إِتِّبَاعُ) আল্লাহ তাআলা ফরয করে দিয়েছেন। এটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের একটি বৈশিষ্ট্য।
জাবির বিন আব্দুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,
وَكَانَ النَّبِيُّ يُبْعَثُ إِلَى قَوْمِهِ خَاصَّةً، وَبُعِثْتُ إِلَى النَّاسِ كَافَّةً»
"অন্যান্য নবী নিজেদের বিশেষ গোত্রের প্রতি প্রেরিত হতেন আর আমাকে সকল মানবের প্রতি প্রেরণ করা হয়েছে।" [সহীহ বুখারী: ৪৩৮, সহীহ মুসলিম: ৫২১]
মহান আল্লাহ বলেন, ﴿وَمَا أَرْسَلْنَٰكَ إِلَّا كَآفَّةً لِّلنَّاسِ بَشِيرًا وَنَذِيرًا﴾
"আর আমি তো কেবল তোমাকে সমগ্র মানবজাতির জন্য সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারী হিসেবে প্রেরণ করেছি।" [সূরা ৩৪; সাবা ২৮] ﴿قُلْ يَٰٓأَيُّهَا ٱلنَّاسُ إِنِّى رَسُولُ ٱللَّهِ إِلَيْكُمْ جَمِيعًا ٱلَّذِى لَهُۥ مُلْكُ ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَٱلْأَرْضِ ۖ لَآ إِلَٰهَ إِلَّا هُوَ يُحْىِۦ وَيُمِيتُ ۖ فَـَٔامِنُوا۟ بِٱللَّهِ وَرَسُولِهِ ٱلنَّبِىِّ ٱلْأُمِّىِّ ٱلَّذِى يُؤْمِنُ بِٱللَّهِ وَكَلِمَٰتِهِۦ وَٱتَّبِعُوهُ لَعَلَّكُمْ تَهْتَدُونَ﴾
“বল, 'হে মানুষ, আমি তোমাদের সবার প্রতি আল্লাহর রাসূল, যার রয়েছে আসমানসমূহ ও জমিনের রাজত্ব। তিনি ছাড়া কোনো (সত্য) ইলাহ নেই। তিনি জীবন দান করেন ও মৃত্যু দেন। সুতরাং তোমরা আল্লাহর প্রতি ঈমান আন ও তাঁর প্রেরিত উম্মী নবীর প্রতি, যে আল্লাহ ও তাঁর বাণীসমূহের প্রতি ঈমান রাখে। আর তোমরা তাঁর অনুসরণ কর, আশা করা যায়, তোমরা হিদায়াত লাভ করবে।" [সূরা ৮; আল-আ'রাফ ১৫৮]
ইয়াহুদী ও নাসারাদের ব্যাপারে মহান আল্লাহ বলেন, ﴿ٱلَّذِينَ يَتَّبِعُونَ ٱلرَّسُولَ ٱلنَّبِىَّ ٱلْأُمِّىَّ ٱلَّذِى يَجِدُونَهُۥ مَكْتُوبًا عِندَهُمْ فِى ٱلتَّوْرَٰةِ وَٱلْإِنجِيلِ يَأْمُرُهُم بِٱلْمَعْرُوفِ وَيَنْهَىٰهُمْ عَنِ ٱلْمُنكَرِ وَيُحِلُّ لَهُمُ ٱلطَّيِّبَٰتِ وَيُحَرِّمُ عَلَيْهِمُ ٱلْخَبَٰٓئِثَ وَيَضَعُ عَنْهُمْ إِصْرَهُمْ وَٱلْأَغْلَٰلَ ٱلَّتِى كَانَتْ عَلَيْهِمْ ۚ فَٱلَّذِينَ ءَامَنُوا۟ بِهِۦ وَعَزَّرُوهُ وَنَصَرُوهُ وَٱتَّبَعُوا۟ ٱلنُّورَ ٱلَّذِىٓ أُنزِلَ مَعَهُۥٓ ۙ أُولَٰٓئِكَ هُمُ ٱلْمُفْلِحُونَ﴾
“যারা অনুসরণ করে রাসূলের, যে উম্মী নবী; যার গুণাবলি তারা নিজেদের কাছে তাওরাত ও ইঞ্জীলে লিখিত পায়, যে তাদেরকে সৎ কাজের আদেশ দেয় ও বারণ করে অসৎ কাজ থেকে এবং তাদের জন্য পবিত্র বস্তু হালাল করে আর অপবিত্র বস্তু হারাম করে। আর তাদের থেকে বোঝা ও শৃঙ্খল, যা তাদের উপরে ছিল- অপসারণ করে। সুতরাং, যারা তার প্রতি ঈমান আনে, তাকে সম্মান করে, তাকে সাহায্য করে এবং তার সাথে যে নূর নাযিল করা হয়েছে, তা অনুসরণ করে তারাই সফলকাম।" [সূরা ৮; আল-আ'রাফ ১৫৭]
আবূ হুরায়রাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
«وَالَّذِي نَفْسُ مُحَمَّدٍ بِيَدِهِ لَا يَسْمَعُ بِي أَحَدٌ مِنْ هَذِهِ الْأُمَّةِ يَهُودِيُّ وَلَا نَصْرَانِي ثُمَّ يَمُوْتُ وَلَمْ يُؤْمِنُ بِالَّذِي أُرْسِلْتُ بِهِ إِلَّا كَانَ مِنْ أَصْحَابِ النَّارِ»
“সে সত্তার কসম, যাঁর হাতে মুহাম্মাদের প্রাণ! ইয়াহুদী হোক আর খ্রিস্টান হোক, যে ব্যক্তিই আমার এ রিসালাতের খবর শুনেছে অথচ আমার রিসালাতের উপর ঈমান না এনে মৃত্যুবরণ করবে, অবশ্যই সে জাহান্নামী হবে।" [সহীহ মুসলিম: ১৫৩]
উমার রাদিয়াল্লাহু আনহুর হাতে তাওরাতের কয়েকটি পাতা দেখে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাগান্বিত হয়ে গেলেন এবং বললেন,
أَمْتَهَوَّكُوْنَ فِيْهَا يَا ابْنَ الْخَطَابِ، وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ لَقَدْ جِئْتُكُمْ بِهَا بَيْضَاءَ نَقِيَّةً، لَا تَسْأَلُوهُمْ عَنْ شَيْءٍ فَيُخْبِرُوْكُمْ بِحَقَّ فَتُكَذِّبُوا بِهِ، أَوْ بِبَاطِلٍ فَتُصَدِّقُوْا بِهِ، وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ لَوْ أَنَّ مُوسَى كَانَ حَيَّا، مَا وَسِعَهُ إِلَّا أَنْ يَتَّبِعَنِي
“হে খাত্তাবের বেটা! তোমরা কি এ বিষয়ে সংশয়ী? ঐ সত্তার কসম, যার হাতে আমার প্রাণ! আমি তো তোমাদের কাছে আল্লাহর দীন নিয়ে এসেছি শুভ্র-সমুজ্জ্বলরূপে। ওদেরকে কোনো বিষয় জিজ্ঞেস করো না। হতে পারে ওরা কোনো হক কথা বলবে, কিন্তু তোমরা তা অস্বীকার করবে অথবা কোনো নাহক কথা বলবে আর তোমরা তা কবুল করবে। ঐ সত্তার কসম, যাঁর হাতে আমার প্রাণ! মূসা যদি জীবিত থাকতেন তাহলে তাঁরও আমার অনুসরণ ছাড়া অন্য কোনো অবকাশ থাকত না।” [আহমদ, আল-মুসনাদ (২৩/৩৪৯): ১৫১৫৬; আলবানী, ইরওয়াউল-গালীল (৬/৩৪): ১৫৮৯; হাদীসটি হাসান]
(২) আল্লাহ আয্যা ওয়াজাল্লা সমস্ত নবী আলাইহিমুস সালামগণ থেকে এ মর্মে অঙ্গীকার নিয়েছেন যে, যখন মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আগমন করবেন, তাদের কেউ জীবিত থাকলে যেন অবশ্যই তাঁর অনুসরণ (إتباعٌ) করে। মহান আল্লাহ বলেন,
وَإِذْ أَخَذَ اللَّهُ مِيْثَاقَ النَّبِيِّنَ لَمَا أَتَيْتُكُمْ مِّنْ كِتَبٍ وَ حِكْمَةٍ ثُمَّ جَاءَكُمْ رَسُولٌ مُصَدِّقٌ لِمَا مَعَكُمْ لَتُؤْمِنُنَّ بِهِ وَلَتَنْصُرَنَّهُ قَالَ وَأَقْرَرْتُمْ وَأَخَذْتُمْ عَلَى ذُلِكُمْ إِصْرِي قَالُوا أَقْرَرْنَا قَالَ فَاشْهَدُوا وَأَنَا مَعَكُمْ مِّنَ الشَّهِدِينَ (81) فَمَنْ تَوَلَّى بَعْدَ ذلِكَ فَأُولَبِكَ هُمُ الْفُسِقُوْنَ (3) أَفَغَيْرَ دِيْنِ اللَّهِ يَبْغُوْنَ وَلَهُ أَسْلَمَ مَنْ فِي السَّمَاتِ وَ الْأَرْضِ طَوْعًا وَكَرْهًا وَإِلَيْهِ يُرْجَعُوْنَ (3)
"আর স্মরণ কর, যখন আল্লাহ নবীদের থেকে অঙ্গীকার নিয়েছেন, আমি তোমাদেরকে যে কিতাব ও হিকমত দিয়েছি, অতঃপর তোমাদের সাথে যা আছে তা সত্যায়নকারীরূপে একজন রাসূল তোমাদের কাছে আসবে, তখন অবশ্যই তোমরা তার প্রতি ঈমান আনবে এবং তাকে সাহায্য করবে। তিনি বললেন, 'তোমরা কি স্বীকার করেছ এবং এর উপর আমার প্রতিশ্রুতি গ্রহণ করেছ'? তারা বলল, 'আমরা স্বীকার করলাম'। আল্লাহ বললেন, 'তবে তোমরা সাক্ষী থাক এবং আমিও তোমাদের সাথে সাক্ষী রইলাম'। সুতরাং এরপর যারা ফিরে যাবে, তারা তো ফাসিক। তারা কি আল্লাহর দীনের পরিবর্তে অন্য কিছু তালাশ করছে? অথচ আসমানসমূহ ও জমিনে যা আছে তা তাঁরই আনুগত্য করে ইচ্ছায় কিংবা অনিচ্ছায় এবং তাদেরকে তাঁরই নিকট প্রত্যাবর্তন করা হবে।" [সূরা ৩; আলে-ইমরান ৮১-৮৩]
(৩) মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আনীত দীন পূর্ববর্তী সকল দীনকে রহিত করে দিয়েছে। এজন্য শেষ যুগে যখন ঈসা আলাইহিস সালাম আসবেন, তিনি মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে অনুসরণ করবেন, তাঁর শরী'আত অনুযায়ী ফায়সালা করবেন। সুতরাং কিয়ামত পর্যন্ত কোন জিন ও মানুষ মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের শরী'আত থেকে বের হওয়ার সুযোগ নেই। আল্লাহ আয্যা ওয়া জাল্লা বলেন,
ج وَإِذْ صَرَفْنَا إِلَيْكَ نَفَرًا مِّنَ الْجِنِّ يَسْتَمِعُونَ الْقُرْآنَ فَلَمَّا حَضَرُوهُ قَالُوا أَنْصِتُوا فَلَمَّا قُضِيَ وَلَّوْا إِلَى قَوْمِهِمْ مُنْذِرِينَ (3) قَالُوا يُقَوْمَنَا إِنَّا سَمِعْنَا كِتَبًا أُنْزِلَ مِنْ بَعْدِ مُوسَى مُصَدِّقًا لِمَا بَيْنَ يَدَيْهِ يَهْدِى إِلَى الْحَقِّ وَ إِلَى طَرِيقٍ مُسْتَقِيمٍ يُقَوْمَنَا أَجِيبُوا دَاعِيَ اللهِ وَ آمِنُوا بِهِ يَغْفِرُ لَكُمْ مِّنْ ذُنُوبِكُمْ وَ يُجِرُكُمْ مِّنْ عَذَابٍ الِيمِ (3) وَ مَنْ لَّا يُجِبْ دَاعِيَ اللَّهِ فَلَيْسَ بِمُعْجِزِ فِي الْأَرْضِ وَلَيْسَ لَهُ مِنْ دُونِةٍ أَوْلِيَاءُ أُولَبِكَ فِي ضَلَلٍ مُّبِينٍ ()
“আর স্মরণ কর, যখন আমি জিনদের একটি দলকে তোমার কাছে ফিরিয়ে দিয়েছিলাম। তারা কুরআন পাঠ শুনছিল। যখন তারা তার কাছে উপস্থিত হল, তখন তারা বলল, 'চুপ করে শোনো। তারপর যখন পাঠ শেষ হলো তখন তারা তাদের কাওমের কাছে সতর্ককারী হিসেবে ফিরে গেল। তারা বলল, 'হে আমাদের কাওম, আমরা তো এক কিতাবের বাণী শুনেছি, যা মূসার পরে নাযিল করা হয়েছে। যা পূর্ববর্তী কিতাবকে সত্যায়ন করে আর সত্য ও সরল পথের প্রতি হিদায়াত করে'। 'হে আমাদের কাওম, আল্লাহর দিকে আহ্বানকারীর প্রতি সাড়া দাও এবং তার প্রতি ঈমান আন, আল্লাহ তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করবেন। আর তোমাদেরকে যন্ত্রণাদায়ক আযাব থেকে রক্ষা করবেন'। আর যে আল্লাহর দিকে আহ্বানকারীর ডাকে সাড়া দেবে না সে জমিনে তাকে অপারগকারী নয়। আর আল্লাহ ছাড়া তার কোনো অভিভাবক নেই। এরাই স্পষ্ট বিভ্রান্তির মধ্যে রয়েছে।" [সূরা ৪৬; আল-আহক্বাফ ২৯-৩২]
সুতরাং যে জিন ও মানুষ মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের শরী'আত গ্রহণ করবে না, তাঁর অনুসরণ করবে না, সে ব্যক্তি কাফির ও জাহান্নামী।

📘 ইসলাম ও ঈমান ভঙ্গের কারণ > 📄 শরী‘আতের আওতায়ুক্ত মনে করার বিকৃত দলীল

📄 শরী‘আতের আওতায়ুক্ত মনে করার বিকৃত দলীল


যারা বলে থাকে, মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের শরী'আত থেকে বের হওয়ার সুযোগ রয়েছে, তারা মুসা আলাইহিস সালামের সঙ্গে খিদির আলাইহিস সালামের ঘটনাকে দলীল হিসেবে পেশ করে থাকে। আল্লাহ 'আয্যা ওয়া জাল্লা আল কুরআনুল কারীমে সূরা আল-কাহফ খিদিরের ঘটনা বর্ণনা করেছেন। মূসা আলাইহিস সালাম তার জাতির সামনে আলোচনা করতে গিয়ে তারা মূসা আলাইহিস সালামকে জিজ্ঞাসা করলেন, বর্তমানে পৃথিবীতে আপনার চাইতে কোন বড় জ্ঞানী আছে কি-না? তিনি বললেন, না। মহান আল্লাহ বললেন, পৃথিবীতে আমার একজন বান্দা রয়েছে এরূপ, এরূপ। তার কাছে এমন ইলম রয়েছে, যা তোমার কাছে নেই। অতঃপর মূসা আলাইহিস সালাম ঐ বান্দাটির নিকট গেলেন, তার থেকে ইলম নেওয়ার উদ্দেশ্যে। মহান আল্লাহ বলেন,
وَإِذْ قَالَ مُوسَى لِفَتْهُ لَا أَبْرَحُ حَتَّى أَبْلُغَ مَجْمَعَ الْبَحْرَيْنِ أَوْ أَمْضِيَ حُقُبًا . فَلَمَّا بَلَغَا مَجْمَعَ بَيْنِهِمَا نَسِيَا حُوْتَهُمَا فَاتَّخَذَ سَبِيلَهُ فِي الْبَحْرِ سَرَبًا ) فَلَمَّا جَاوَزَا قَالَ لِفَتْهُ اتِنَا غَدَاءَنَا لَقَدْ لَقِينَا مِنْ سَفَرِنَا هَذَا نَصَبًا ) قَالَ ارَعَيْتَ إِذْ أَوَيْنَا إِلَى الصَّخْرَةِ فَإِنِّي نَسِيْتُ الْحُوْتَ وَ مَا أَنْسُنِيْهُ إِلَّا الشَّيْطَنُ أَنْ اذْكُرَةً وَاتَّخَذَ سَبِيلَهُ فِي الْبَحْرِ عَجَبًا ) قَالَ ذَلِكَ مَا كُنَّا نَبْغِ فَارْتَدَّا عَلَى اَثَارِهِمَا قَصَصًا فَوَجَدَا عَبْدًا مِّنْ عِبَادِنَا أَتَيْنُهُ رَحْمَةً مِّنْ عِنْدِنَا وَ عَلَّمْتُهُ مِنْ لَدُنَّا عِلْمًا 3 قَالَ لَهُ مُوسَى هَلْ أَتَّبِعُكَ عَلَى أَنْ تُعَلِّمَنِ مِمَّا عُلِّمْتَ رُشْدًا قَالَ إِنَّكَ لَنْ تَسْتَطِيعَ مَعِيَ صَبْرًا 3
“আর স্মরণ কর, যখন মূসা তার সহচর যুবকটিকে বলল, আমি চলতে থাকব যতক্ষণ না দুই সমুদ্রের মিলনস্থলে উপনীত হব কিংবা দীর্ঘ সময় কাটিয়ে দেব। এরপর যখন তারা তাদের দুই সমুদ্রের মিলনস্থলে উপনীত হলো, তখন তারা তাদের মাছের কথা ভুলে গেল। ফলে মাছটি নালার মতো করে সমুদ্রে তার পথ করে নিল। অতঃপর যখন তারা অগ্রসর হলো তখন সে তার যুবককে বলল, 'আমাদের সকালের খাবার নিয়ে আস। আমাদের এই সফরে আমরা অনেক ক্লান্তির মুখোমুখি হয়েছি'। সে বলল, আপনি কি লক্ষ করেছেন যে, যখন আমরা পাথরটিতে বিশ্রাম নিচ্ছিলাম, তখন আমি মাছটি হারিয়ে ফেলি। আর আমাকে তা স্মরণ করতে ভুলিয়েছে কেবল শয়তান এবং আশ্চর্যজনকভাবে তা সমুদ্রে তার পথ করে নিয়েছে'। সে বলল, 'ঐ স্থানটিই আমরা খুঁজছি। তাই তারা তাদের পদচিহ্ন অনুসরণ করে পেছনে ফিরে গেল'। অতঃপর তারা আমার বান্দাদের মধ্য থেকে এক বান্দাকে পেল, যাকে আমি আমার পক্ষ থেকে রহমত দান করেছি এবং তাকে আমার পক্ষ থেকে জ্ঞান শিক্ষা দিয়েছি। মূসা তাঁকে বলল, 'আমি কি আপনাকে এই শর্তে অনুসরণ করব যে, আপনাকে যে সঠিক জ্ঞান দেয়া হয়েছে, তা আমাকে শিক্ষা দেবেন'? সে বলল, 'আপনি কখনো আমার সাথে ধৈর্যধারণ করতে পারবেন না'।" [সূরা ১৮; আল-কাহফ ৬০-৬৭]
সর্বশেষে খিদির আলাইহিস সালাম বললেন, وَمَا فَعَلْتُهُ عَنْ أَمْرِي )
"আমি নিজ থেকে তা করিনি।" [সূরা ১৮; আল-কাহফ ৮২]
উবাই ইবনু কা'ব রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত হাদীসে এসেছে, তিনি (খিদির) মূসা আলাইহিস সালামকে বললেন, إِنَّكَ عَلَى عِلْمٍ مِنْ عِلْمِ اللهِ عَلَّمَكَهُ اللهُ لَا أَعْلَمُهُ وَأَنَا عَلَى عِلْمٍ مِنْ عِلْمٍ اللَّهِ عَلَّمَنِيْهِ لَا تَعْلَمُهُ»
“আল্লাহ তাঁর ইলম হতে এমন এক ইলম তোমাকে দিয়েছেন, যা আমি জানি না এবং আল্লাহ তাঁর ইলম হতে এমন এক ইলম আমাকে দিয়েছেন, যা তুমি জান না।” [সহীহ বুখারী: ৪৭২৭; সহীহ মুসলিম: ২৩৮০]

📘 ইসলাম ও ঈমান ভঙ্গের কারণ > 📄 খিযির আলাইহিস সালামের পরিচয়

📄 খিযির আলাইহিস সালামের পরিচয়


(أَهْلُ الْعِلْمِ) খিদির আলাইহিস সালামকে নিয়ে আহলুল ইলমদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে-
প্রথমত: তিনি নবী নাকি ওলী?
কারো কারো কাছে- তিনি একজন নবী ছিলেন। কেননা এ সকল অস্বাভাবিক ঘটনা নবীদের মু'জিযার মতো।
কারো কারো কাছে- তিনি নবী ছিলেন না, তিনি একজন ওলী ছিলেন। এ সকল কর্মকাণ্ড মু'জিযা নয়, এগুলো কারামাত।
দ্বিতীয়ত: খিদির আলাইহিস সালাম জীবিত নাকি মৃত? বিশুদ্ধ দলীল প্রমাণের ভিত্তিতে প্রমাণিত হয় যে, খিদির আলাইহিস সালাম মারা গিয়েছেন।
মহান আল্লাহর বাণী- (وَمَا جَعَلْنَا لِبَشَرٍ مِنْ قَبْلِكَ الْخُلْدَ أَفَإِنْ مِتَّ فَهُمُ الْخَالِدُونَ) "আর তোমার পূর্বে কোনো মানুষকে আমি স্থায়ী জীবন দান করিনি। সুতরাং, তোমার মৃত্যু হলে তারা কি অনন্ত জীবনসম্পন্ন হয়ে থাকবে?” [সূরা ২১; আল- আম্বিয়া ৩৪]
আল্লাহ 'আয্যা ওয়া জাল্লা জানিয়ে দিলেন যে, এ সৃষ্টিজগতের কেউ স্থায়ী নয়, সবাইকে মৃত্যুবরণ করতেই হবে। মহান আল্লাহর বাণী- (كُلٌّ مَنْ عَلَيْهَا فَانٍ) “জমিনের উপর যা কিছু রয়েছে, সবই ধ্বংসশীল।” [সূরা ৫৫; আর-রাহমান ২৬]
খিদির আলাইহিস সালাম আল্লাহর একজন বান্দা। তিনি অন্যান্য বান্দাদের মতোই ধ্বংসশীল।
তিনি যদি জীবিত থাকতেন, তাহলে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট আসতেন এবং তাঁর অনুসরণ করতেন। কেননা, তিনি সকল মানুষের নিকট প্রেরিত হয়েছেন। এমন কোনো বর্ণনা পাওয়া যায়নি যে, খিদির আলাইহিস সালাম নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে এসেছেন। এতে স্পষ্ট বুঝা যায় যে, তিনি মৃত্যুবরণ করেছেন।
তৃতীয়ত: খিদির আলাইহিস সালাম কেন মূসা আলাইহিস সালামের শরী'আত অনুসরণ করেননি?
মূসা আলাইহিস সালামের শরী'আত সমগ্র মানুষের জন্য ছিল না। শুধুমাত্র বনী ইসরাঈলের জন্য খাস ছিল। পূর্ববর্তী সকল নবী-রাসূল আলাইহিমুস সালামগণ একটি নির্দিষ্ট জাতির জন্য প্রেরিত হয়েছিলেন, শুধুমাত্র মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সকল মানুষের জন্য প্রেরিত হয়েছেন।
জাবির বিন আব্দুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
(وَكَانَ النَّبِيُّ يُبْعَثُ إِلَى قَوْمِهِ خَاصَّةً، وَبُعِثْتُ إِلَى النَّاسِ كَافَّةً)
"অন্যান্য নবী নিজেদের বিশেষ গোত্রের প্রতি প্রেরিত হতেন আর আমাকে সকল মানবের প্রতি প্রেরণ করা হয়েছে।" [সহীহ বুখারী: ৪৩৮; সহীহ মুসলিম: ৫২১]
খিদির আলাইহিস সালাম মূসা আলাইহিস সালামের শরী'আতের আওতামুক্ত ছিলেন, একথা বলা যাবে না। কারণ, তিনি তো মূলত মূসা আলাইহিস সালামের উম্মাতই ছিলেন না। তাহলে আওতামুক্ত হবেন কিভাবে?

📘 ইসলাম ও ঈমান ভঙ্গের কারণ > 📄 শরী‘আতের আওতামুক্ত মনে করার ধরনসমূহ

📄 শরী‘আতের আওতামুক্ত মনে করার ধরনসমূহ


(كَيْفِيَّاتُ الْخُرُوجِ عَنْ شَرِيعَةِ مُحَمَّدٍ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ)
মুহাম্মাদ আলাইহিস সালামের শরী'আত থেকে বের হওয়া কয়েক ধরনের হতে পারে। তন্মধ্যে কিছু কুফরী, আর কিছু কুফরী নয়, ভ্রষ্টতা )ضَلَالَةٌ(। শরী'আত থেকে সম্পূর্ণ বের হওয়া, অথবা আংশিক বের হওয়া। যদি কোনো ব্যক্তি শরী'আত থেকে বের হয়, আর বের হওয়াকে বৈধ মনে করে তাহলে তা কুফরী হবে। আর কোনো ব্যক্তি শরী'আত থেকে বের হয়েছে, কিন্তু বের হওয়াকে বৈধ মনে করে না, তাহলে এটি কুফরী হবে না, গোমরাহী হবে।
(ক) কিছু সুফী বলে থাকে, যখন কেউ আল্লাহর মা'রিফাতের )الْمَعْرِفَةُ بِاللَّهِ( স্তরে পৌঁছে যায়, তখন তার আর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের শরী'আতের অনুসরণ প্রয়োজন হয় না )نَعُوْذُ بِاللهِ(। কারণ, শরী'আত সাধারণ মানুষের জন্য, এ ব্যক্তি এখন আর সাধারণ মানুষ নেই, এ ব্যক্তি এখন আল্লাহ পর্যন্ত পৌঁছে গেছে। সুতরাং, এ ব্যক্তির এখন আর মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের শরী'আত অনুসরণ করার প্রয়োজন নেই।
তারা আরো বলে, আমরা ইল্ম গ্রহণ করি আল্লাহর থেকে সরাসরি, আর তোমরা ইল্ম গ্রহণ কর মৃত ব্যক্তিদের থেকে। "مَيِّتُ عَنْ مَيِّتٍ” অর্থাৎ হাদীসের সনদ ও তাফসীরকে বুঝায়। তারা আরো বলে, এ ধরনের ব্যক্তি আল্লাহ পর্যন্ত পৌঁছে যাওয়ার কারণে তাদের থেকে শরী'আত রহিত হয়ে যায়। তাদের আর সালাতের প্রয়োজন নেই, আল্লাহর কোনো ইবাদাতের প্রয়োজন নেই। তারা হালাল-হারামের বিধি-বিধান মানতে বাধ্য নয়, তাদের জন্য ব্যভিচার, সমকামিতা, গান-বাজনা প্রভৃতি হালাল )نَعُوذُ بِاللهِ (।
এ জাতীয় কথা-বার্তা যারা বলে থাকে, তারা আসলেই পাগল। আর পাগলের উপর শরী'আতের বিধি-বিধান প্রযোজ্য নয়। আর যদি কেউ সজ্ঞানে বলে তাহলে তা হবে আল্লাহ 'আয্যা ওয়া জাল্লার প্রতি মিথ্যারোপ এবং আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামগণের প্রতি কুফরী। ইবাদাত, ইলম, আল্লাহর মা'রিফাত যত বেশিই হোক না কেন, কোনো ব্যক্তিরই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের শরী'আত থেকে বের হওয়ার সুযোগ নেই, বরং ইলম যত বাড়বে ততই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অনুসরণ )إِتَّبَاعُ( বৃদ্ধি পাবে। সুতরাং যে ব্যক্তি এ জাতীয় আকীদাসমূহ পোষণ করবে, সে মুরতাদ হয়ে যাবে। কারণ সে কুরআনের প্রতি, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি কুফরী করল। তাদের কুফরীর ব্যাপারে উম্মাতের ইজমা হয়ে গিয়েছে।
(খ) আবার কেউ কেউ এ আকীদা পোষণ করে যে, দীন ও রাষ্ট্র আলাদা। দীন ও ইবাদাতসমূহ মসজিদের ভেতর সীমাবদ্ধ, অর্থনীতি, রাজনীতি, সমাজনীতি প্রভৃতি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দীনের অন্তর্ভুক্ত নয়। এগুলো মানুষেরাই নির্ধারণ করবে। এ মতবাদের সূত্র হলো, "ধর্ম আল্লাহর, দেশ সবার )الدَّيْنُ لِلَّهِ وَالْوَطَنُ لِلْجَمِيعِ(” । এ মতবাদে বিশ্বাসীরাও ঐ জাহেল সুফীদের মতোই। অজ্ঞ সুফীরা বলে, কিছু ব্যক্তি মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের শরী'আত থেকে আওতামুক্ত। এ মতবাদে বিশ্বাসীরা বলে, অর্থনীতি, রাজনীতি প্রভৃতি মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের শরী'আতের আওতামুক্ত। সুতরাং এ মতবাদে বিশ্বাসী হলে তাদেরও ঈমান ভেঙে যাবে।
(গ) আবার এক শ্রেণির ধার্মিক রয়েছে, যারা বিশ্বাস করে যে, আকীদার বিষয় কুরআন ও সুন্নাহ থেকে নেওয়া জরুরি নয়। আকীদা আকলী বা যৌক্তিক দলীলের উপর নির্ভরশীল। এজন্য তারা আকীদার ক্ষেত্রে কুরআনের আয়াত ও রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সহীহ হাদীসকে সরল অর্থে দলীল হিসেবে গ্রহণ করে না, বরং তারা ইলমে কালাম )عِلْمُ الْكَلَام( ও যুক্তিবিদ্যা (عِلْمُ الْمَنْطِقِ) প্রভৃতির মাধ্যমে আকীদা গ্রহণ করে। তারা আকীদাকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের শরী'আতের আওতামুক্ত মনে করে। অথচ আক্বীদাই হলো নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের শরী'আতের মূল বিষয়। মহান আল্লাহ বলেন,
وَإِنَّهُ لَكِتَبٌ عَزِيزٌ لَّا يَأْتِيْهِ الْبَاطِلُ مِنْ بَيْنِ يَدَيْهِ وَلَا مِنْ خَلْفِهِ ﴾تَنزِيلٌ مِنْ حَكِيمٍ حَمِيدٍ ﴿
"...অবশ্যই এক মহিমাময় গ্রন্থ। কোনো মিথ্যা এতে অনুপ্রবেশ করবে না। সম্মুখ হতেও নয়, পশ্চাৎ হতেও নয়; এটা প্রজ্ঞাময় প্রশংসা আল্লাহর নিকট হতে অবতীর্ণ।" [সূরা ৪১; ফুসসিলাত ৪১-৪২]
(ঘ) আবার কিছু কিছু লোক রয়েছে, যারা বলে, মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের শরী'আত ঐ যুগের জন্য প্রযোজ্য ছিল। বর্তমানে আধুনিক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির যুগে এ শরী'আত প্রযোজ্য নয়। এটিও কুফরী। কারণ মহান আল্লাহ বলেন,
الْيَوْمَ أَكْمَلْتُ لَكُمْ دِينَكُمْ وَأَتْمَمْتُ عَلَيْكُمْ نِعْمَتِي وَرَضِيتُ لَكُمُ الْإِسْلَامَ دِينًا ﴾
“আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দীনকে পূর্ণ করলাম এবং তোমাদের উপর আমার নিয়ামত সম্পূর্ণ করলাম এবং তোমাদের জন্য দীন হিসেবে ইসলামকে পছন্দ করলাম।" [সূরা ৫; আল-মায়িদাহ ৩]
(ঙ) অনুরূপ তারাও এ হুকুমের অন্তর্ভুক্ত হবে, যারা দীনের মধ্যে কোন বিদ'আত তৈরি করবে, আর বিশ্বাস করবে যে, এ বিদ'আতটিই উত্তম এবং আল্লাহ 'আয্যা ওয়া জাল্লার নিকটবর্তী হওয়ার এটিই সহজ উপায়। এটিও কিছু কিছু বিষয়কে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের শরী'আতের বাইরে মনে করার শামিল। আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
مَنْ عَمِلَ عَمَلًا لَيْسَ عَلَيْهِ أَمْرُنَا فَهُوَ رَدُّ)
“যে ব্যক্তি এমন কোনো কর্ম করল যাতে আমাদের নির্দেশনা নেই, তা প্রত্যাখ্যাত হবে।” [সহীহ মুসলিম: ১৭১৮]
আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,
مَنْ أَحْدَثَ فِي أَمْرِنَا هَذَا مَا لَيْسَ فِيْهِ فَهُوَ رَدُّ
"কেউ আমাদের এ শরী'আতে নাই এমন কিছুর অনুপ্রবেশ ঘটালে তা প্রত্যাখ্যাত।” [সহীহ বুখারী: ২৬৯৭; সহীহ মুসলিম: ১৭১৮]
ইরবাদ ইবনে সারিয়‍্যাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
وَإِيَّاكُمْ وَمُحْدَثَاتِ الْأُمُورِ فَإِنَّ كُلَّ مُحْدَثَةٍ بِدْعَةٌ وَكُلَّ بِدْعَةٍ ضَلَالَةٌ»
“সাবধান! (ধর্মে) প্রতিটি নব আবিষ্কার সম্পর্কে! কারণ প্রতিটি নব আবিষ্কার হলো বিদ'আত এবং প্রতিটি বিদ'আত হলো ভ্রষ্টতা।” [সুনান আবূ দাউদ: ৪৬০৭: শাইখ আলবানী হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন।
এটিও ঈমান ভঙ্গের কারণ। তবে যদি সুন্নাতটিকে উত্তম বলে বিশ্বাস করে, আবার বিদ'আতটিও করে তা কুফরী নয়, তা গোমরাহী।
(চ) অনুরূপ যে ব্যক্তি মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পরে কিয়ামত পর্যন্ত নবুওয়াতের দাবি করবে এবং যারা ঐ মিথ্যা নবুওয়াতের দাবিদারকে অনুসরণ করবে তারা কাফির বলে গণ্য হবে। মহান আল্লাহ বলেন,
مَا كَانَ مُحَمَّدٌ أَبَا أَحَدٍ مِنْ رِجَالِكُمْ وَلَكِنْ رَّسُولَ اللَّهِ وَخَاتَمَ النَّبِيِّنَ )
“মুহাম্মাদ তোমাদের কোনো পুরুষের পিতা নয়; তবে আল্লাহর রাসূল ও সর্বশেষ নবী।” [সূরা ৩৩; আল-আহযাব ৪০]
ছাওবান রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
سَيَكُونُ فِي أُمَّتِي ثَلَاثُوْنَ كَذَّابُوْنَ كُلُّهُمْ يَزْعُمُ أَنَّهُ نَبِيٌّ وَأَنَا خَاتَمُ النَّبِيِّينَ لَا نَبِيَّ بَعْدِي
“আমার উম্মাতের মধ্যে খুব শীঘ্রই ত্রিশজন ডাহা মিথ্যাবাদীর আবির্ভাব হবে। এদের সকলেই দাবি করবে যে, সে নবী। অথচ আমিই সর্বশেষ নবী, আমার পরে কোনো নবী নেই।” [জামে' আত-তিরমিযী: ২২১৯; সুনান আবু দাউদ: ৪২৫২; শাইখ আলবানী হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন।]

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00