📘 ইসলাম ও ঈমান ভঙ্গের কারণ > 📄 মুশরিকদের কাফির মনে করার আবশ্যকতা

📄 মুশরিকদের কাফির মনে করার আবশ্যকতা


কেউ যদি মুশরিকদের কাফির মনে করেন, তিনি অবশ্যই নিম্নের নীতিমালাসমূহ মেনে চলবেন。
)১) কাফিরদেরকে অন্তর থেকে অপছন্দ )اَلْبُغْضُ( করা এবং তাদের সাথে কোনো অন্তরঙ্গ বন্ধুত্ব )اَلْمُوَالَةُ( না করা। যদিও তারা মুসলিমদের নিকটবর্তী প্রতিবেশী বা আত্মীয় স্বজনও হয়।
মহান আল্লাহ বলেন, يَأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَا تَتَّخِذُوا عَدُوِّي وَعَدُوَّكُمْ أَوْلِيَاءَ تُلْقُوْنَ إِلَيْهِمْ بِالْمَوَدَّةِ وَ قَدْ كَفَرُوا بِمَا جَاءَكُمْ مِّنَ الْحَقِّ يُخْرِجُونَ الرَّسُوْلَ وَإِيَّاكُمْ أَنْ تُؤْمِنُوا بِاللَّهِ رَبِّكُمْ إِنْ كُنْتُمْ خَرَجْتُمْ جِهَادًا فِي سَبِيلِي وَ ابْتِغَاءَ مَرْضَاتِي تُسِرُّونَ إِلَيْهِمْ بِالْمَوَدَّةِ * وَأَنَا أَعْلَمُ بِمَا أَخْفَيْتُمْ وَمَا أَعْلَنْتُمْ وَمَنْ يَفْعَلُهُ مِنْكُمْ فَقَدْ ضَلَّ سَوَاءَ السَّبِيلِ إِنْ يَثْقَفُوْكُمْ يَكُونُوا لَكُمْ أَعْدَاء وَ يَبْسُطُوا إِلَيْكُمْ أَيْدِيَهُمْ وَالْسِنَتَهُمْ بِالسُّوءِ وَ وَدُّوا لَوْ تَكْفُرُونَ لَنْ تَنْفَعَكُمْ أَرْحَامُكُمْ وَلَا أَوْلَادُكُمْ يَوْمَ الْقِيمَةِ يَفْصِلُ بَيْنَكُمْ وَاللَّهُ بِمَا تَعْمَلُونَ بَصِيرٌ قَدْ كَانَتْ لَكُمْ أُسْوَةٌ حَسَنَةٌ فِي إِبْرَاهِيمَ وَالَّذِينَ مَعَهُ إِذْ قَالُوا لِقَوْمِهِمْ إِنَّا بُرَغَؤُا مِنْكُمْ وَ مِمَّا تَعْبُدُونَ مِنْ دُونِ اللَّهِ كَفَرْنَا بِكُمْ وَبَدَا بَيْنَنَا وَ بَيْنَكُمُ الْعَدَاوَةُ وَالْبَغْضَاءُ أَبَدًا حَتَّى تُؤْمِنُوا بِاللَّهِ وَحْدَةً
“হে ঈমানদারগণ, তোমরা আমার ও তোমাদের শত্রুদেরকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করে তাদের প্রতি ভালোবাসা প্রদর্শন করো না, অথচ তোমাদের কাছে যে সত্য এসেছে তা তারা অস্বীকার করেছে এবং রাসূলকে ও তোমাদেরকে বের করে দিয়েছে এজন্য যে, তোমরা তোমাদের রব আল্লাহর প্রতি ঈমান এনেছ। তোমরা যদি আমার পথে সংগ্রামে ও আমার সন্তুষ্টির সন্ধানে বের হও (তবে কাফিরদেরকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করো না) তোমরা গোপনে তাদের সাথে বন্ধুত্ব প্রকাশ কর অথচ তোমরা যা গোপন কর এবং যা প্রকাশ কর তা আমি জানি। তোমাদের মধ্যে যে এমন করবে সে সরল পথ হতে বিচ্যুত হবে। তারা যদি তোমাদেরকে বাগে পায় তবে তোমাদের শত্রু হবে এবং মন্দ নিয়ে তোমাদের দিকে তাদের হাত ও জবান বাড়াবে; তারা কামনা করে, যদি তোমরা কুফরী করতে! কিয়ামত দিবসে তোমাদের আত্মীয়তা ও সন্তান-সন্ততি তোমাদের কোনো উপকার করতে পারবে না। তিনি তোমাদের মাঝে ফায়সালা করে দেবেন। তোমরা যা কর আল্লাহ তার সম্যক দ্রষ্টা। ইবরাহীম ও তার সাথে যারা ছিল তাদের মধ্যে তোমাদের জন্য রয়েছে উত্তম আদর্শ। তারা যখন স্বীয় সম্প্রদায়কে বলছিল, 'তোমাদের সাথে এবং আল্লাহর পরিবর্তে তোমরা যা কিছুর উপাসনা কর তা হতে আমরা সম্পর্কমুক্ত। আমরা তোমাদেরকে অস্বীকার করি; এবং উদ্রেক হলো আমাদের- তোমাদের মাঝে শত্রুতা ও বিদ্বেষ চিরকালের জন্য; যতক্ষণ না তোমরা এক আল্লাহর প্রতি ঈমান আন।..." [সূরা ৬০; আল-মুমতাহিনা ১-৪]
﴿لَا تَجِدُ قَوْمًا يُؤْمِنُونَ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ يُوَادُّونَ مَنْ حَادَّ اللَّهَ وَرَسُولَهُ وَلَوْ كَانُوا آبَاءَهُمْ أَوْ أَبْنَاءَهُمْ أَوْ إِخْوَانَهُمْ أَوْ عَشِيرَتَهُمْ أُولَبِكَ كَتَبَ فِي قُلُوبِهِمُ الْإِيْمَانَ وَأَيَّدَهُمْ بِرُوحِ مِنْهُ ﴾
“তুমি পাবে না এমন জাতিকে যারা আল্লাহ ও পরকালের প্রতি ঈমান আনে, বন্ধুত্ব করতে তার সাথে যে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের বিরোধিতা করে, যদিও তারা তাদের পিতা, অথবা পুত্র, অথবা ভাই, অথবা জ্ঞাতি-গোষ্ঠী হয়। এরাই তারা, যাদের অন্তরে আল্লাহ ঈমান লিখে দিয়েছেন এবং তাঁর পক্ষ থেকে রূহ দ্বারা তাদের শক্তিশালী করেছেন।” [সূরা ৫৮; আল-মুজাদালাহ ২২]
﴿ مَا كَانَ لِلنَّبِيِّ وَالَّذِينَ آمَنُوا أَنْ يَسْتَغْفِرُوا لِلْمُشْرِكِينَ وَلَوْ كَانُوا أُولِي قُرْنِي مِنْ بَعْدِ مَا تَبَيَّنَ لَهُمْ أَنَّهُمْ أَصْحُبُ الْجَحِيمِ وَمَا كَانَ اسْتِغْفَارُ إِبْرَاهِيمَ لِأَبِيهِ إِلَّا عَنْ مَّوْعِدَةٍ وَعَدَهَا إِيَّاهُ فَلَمَّا تَبَيَّنَ لَهُ أَنَّهُ عَدُوٌّ لِلَّهِ تَبَرًا مِنْهُ إِنَّ إِبْرَاهِيمَ لأَوَّاهُ حَلِيمٌ وَمَا كَانَ اللَّهُ لِيُضِلَّ قَوْمًا بَعْدَ إِذْ هَدُهُمْ حَتَّى يُبَيِّنَ لَهُمْ مَّا يَتَّقُونَ ... ﴾
"নবী ও মুমিনদের জন্য উচিত নয় যে, তারা মুশরিকদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করবে। যদিও তারা আত্মীয় হয়। তাদের নিকট এটা স্পষ্ট হয়ে যাওয়ার পর যে, নিশ্চয়ই তারা প্রজ্বলিত আগুনের অধিবাসী। নিজ পিতার জন্য ইবরাহীমের ক্ষমা প্রার্থনা তো ছিল একটি ওয়াদার কারণে, যে ওয়াদা সে তাকে দিয়েছিল। অতঃপর যখন তার নিকট স্পষ্ট হয়ে গেল যে, নিশ্চয়ই সে আল্লাহর শত্রু, সে তার সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করল। নিশ্চয়ই ইবরাহীম ছিল অধিক প্রার্থনাকারী ও সহনশীল। আর আল্লাহ এমন নন যে, তিনি কোনো সম্প্রদায়কে হিদায়াত দানের পর তাদেরকে পথভ্রষ্ট করবেন। যতক্ষণ না তাদের জন্য সুস্পষ্টভাবে বর্ণনা করবেন, যা থেকে তারা সাবধান থাকবে।" [সূরা ৯; আত-তাওবাহ ১১৩-১১৫]
(২) কাফির-মুশরিক যখন মারা যাবে, মুসলিম তার শেষকৃত্য অনুষ্ঠানে যোগ দেবে না। তবে তাকে দাফন করার মতো কাফিরদের কেউ যদি না থাকে, তাহলে মুসলিম তাকে গর্ত করে মাটিতে দাফন করবে, তাকে গোসল দেবে না, কাফনের কাপড় পরাবে না, তাকে খাটে বহন করবে না, মুসলিমদের কবরস্থানে তাকে দাফন করবে না। ﴿ وَلَا تُصَلِّ عَلَى أَحَدٍ مِّنْهُم مَّاتَ أَبَدًا وَلَا تَقُمْ عَلَى قَبْرِهِ إِنَّهُمْ كَفَرُوا بِاللَّهِ وَ رَسُولِهِ وَمَاتُوا وَهُمْ فَاسِقُونَ )
"আর তাদের মধ্যে যে মারা গিয়েছে, তার উপর তুমি জানাযা পড়বে না এবং তার কবরের উপর দাঁড়াবে না। নিশ্চয়ই তারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলকে অস্বীকার করেছে এবং তারা ফাসিক অবস্থায় মারা গেছে।” [সূরা ৯; আত-তাওবাহ ৮৪]
আর কাফির যদি অসুস্থ হয়, তাহলে তাকে মহান আল্লাহর দিকে দাওয়াত দেয়ার উদ্দেশ্যে দেখাশোনা করবে। অসুস্থ কাফিরদের দেখাশোনা করবে এবং মহান আল্লাহর দিকে দাওয়াত দেবে। যেমনিভাবে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অসুস্থ ইয়াহুদীকে দেখতে গেলেন এবং তাকে ইসলামের দাওয়াত দিলেন। অতঃপর সে ইসলাম গ্রহণ করলো এবং ইসলামের উপর মৃত্যুবরণ করলো। সে সাক্ষ্য দিলো- لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ مُحَمَّدُ رَّسُولُ اللَّهِ
“আল্লাহ ছাড়া সত্য কোনো মা'বুদ নাই, মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর রাসূল।" [সহীহ বুখারী: ১৩৫৬]
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর চাচা আবূ তালিব মৃত্যুরোগে আক্রান্ত হলে তাকে দেখতে যান, এবং তাকে বললেন, «يَا عَمَّ، قُلْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ»
“চাচাজান! لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ কালেমা পাঠ করুন।” [সহীহ বুখারী: ১৩৬০; সহীহ মুসলিম: ২৪]
কিন্তু যখন সে কুফরীর উপর মৃত্যুবরণ করলো, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার দাফন কাফনে হাজির হননি বরং আলী রাদিয়াল্লাহু আনহুকে নির্দেশ দিলেন- তাকে মাটিতে দাফন করার জন্য। কারণ জমিনের উপর পড়ে থাকলে মানুষ কষ্ট পাবে। [সুনান আবূ দাউদ: ৩২১৪, সুনান আন-নাসাঈ: ২০০৬; শাইখ আলবানী হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন]
(৩) একজন মুসলিম কাফিরের ওয়ারিশ হবে না এবং কাফির মুসলিমের ওয়ারিশ হবে না। কারণ আল্লাহ তাআলা তাদের মাঝে আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করে দিয়েছেন। উসামা বিন যায়েদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,
«لَا يَرِثُ الْمُسْلِمُ الْكَافِرَ وَلَا الْكَافِرُ الْمُسْلِمَ»
"মুসলিম কাফিরের উত্তরাধিকারী হয় না আর কাফিরও মুসলিমের উত্তরাধিকারী হয় না।” [সহীহ বুখারী: ৬৭৬৮; সহীহ মুসলিম: ১৬১৪] আহলুল ইল্যুদের দৃষ্টিতে কুফর উত্তরাধিকারের প্রতিবন্ধক।
(৪) কোন মুসলিম নারীকে কাফিরের নিকট বিবাহ দেয়া বৈধ নয়। কেননা, সে মহিলা তার অধীনে তার দীনকে রক্ষা করতে পারবে না।
মহান আল্লাহ বলেন,
وَ لَا تُنْكِحُوا الْمُشْرِكِينَ حَتَّى يُؤْمِنُوا وَ لَعَبْدٌ مُّؤْمِنٌ خَيْرٌ مِّنْ مُّشْرِكٍ وَ لَوْ أَعْجَبَكُمْ
“আর মুশরিক পুরুষদের সাথে বিয়ে দিয়ো না, যতক্ষণ না তারা ঈমান আনে। আর একজন মুমিন দাস একজন মুশরিক পুরুষের চেয়ে উত্তম, যদিও সে তোমাদেরকে মুগ্ধ করে।” [সূরা ২; আল-বাক্বারাহ ২২১]
কোনো মুসলিম নারীকে ইয়াহুদী, খ্রিস্টান ও মূর্তিপূজারীর নিকটও বিবাহ দেয়া বৈধ নয়। কোনো মুসলিম পুরুষ মূর্তিপূজারী নারীকে বিবাহ করা বৈধ নয়। মহান আল্লাহ বলেন,
وَلَا تَنْكِحُوا الْمُشْرِكْتِ حَتَّى يُؤْمِنَّ وَلَامَةٌ مُّؤْمِنَةٌ خَيْرٌ مِّنْ مُّشْرِكَةٍ وَلَوْ أَعْجَبَتْكُمْ وَلَا تُنْكِحُوا الْمُشْرِكِينَ حَتَّى يُؤْمِنُوا وَلَعَبْدٌ مُّؤْمِنٌ خَيْرٌ مِّنْ مُّشْرِكٍ وَ لَوْ أَعْجَبَكُمْ أُولَئِكَ يَدْعُوْنَ إِلَى النَّارِ وَاللَّهُ يَدْعُوا إِلَى الْجَنَّةِ وَالْمَغْفِرَةِ بِإِذْنِهِ )
“আর তোমরা মুশরিক নারীদের বিয়ে করো না, যতক্ষণ না তারা ঈমান আনে এবং মুমিন দাসী মুশরিক নারীর চেয়ে নিশ্চয়ই উত্তম, যদিও সে তোমাদেরকে মুগ্ধ করে। আর মুশরিক পুরুষদের সাথে বিয়ে দিয়ো না, যতক্ষণ না তারা ঈমান আনে। আর একজন মুমিন দাস একজন মুশরিক পুরুষের চেয়ে উত্তম, যদিও সে তোমাদেরকে মুগ্ধ করে। তারা তোমাদেরকে আগুনের দিকে আহ্বান করে, আর আল্লাহ তাঁর অনুমতিতে তোমাদেরকে জান্নাত ও ক্ষমার দিকে আহ্বান করেন” [সূরা ২; আল-বাক্বারাহ ২২১]
তবে কোনো মুসলিম পুরুষ আহলে কিতাব অর্থাৎ ইয়াহুদী অথবা খ্রিস্টান নারীকে শর্তসাপেক্ষে বিবাহ করা জায়েয হবে। অন্যতম শর্ত হলো, মহান আল্লাহ প্রদত্ত কিতাবের প্রতি বিশ্বাসী হতে হবে, নাস্তিক বা শির্ককারিণী হবে না। সৎ চরিত্রের অধিকারিণী হতে হবে। কোনো কোনো আহলুল ইলম ইসলামী রাষ্ট্রের অধীনে বসবাসকে শর্ত করেছেন।
মহান আল্লাহ বলেন, وَطَعَامُ الَّذِينَ أُوتُوا الْكِتَبَ حِلٌّ لَكُمْ وَطَعَامُكُمْ حِلٌّ لَّهُمْ وَالْمُحْصَنْتُ مِنَ الْمُؤْمِنَتِ وَالْمُحْصَنْتُ مِنَ الَّذِينَ أُوتُوا الْكِتَبَ مِنْ قَبْلِكُمْ ﴾
“আজ তোমাদের জন্য বৈধ করা হলো সব ভালো বস্তু এবং যাদেরকে কিতাব প্রদান করা হয়েছে, তাদের খাবার তোমাদের জন্য বৈধ এবং তোমাদের খাবার তাদের জন্য বৈধ। আর মুমিন সচ্চরিত্রা নারী এবং তোমাদের পূর্বে যাদেরকে কিতাব দেয়া হয়েছে, তাদের সচ্চরিত্রা নারীদের সাথে তোমাদের বিবাহ বৈধ।” [সূরা ৫; আল-মায়িদাহ ৫]
(৫) যে মুসলিম তার দীনকে অমুসলিম দেশে থাকার কারণে সঠিকভাবে পালন করতে পারবে না, তার জন্য মুসলিম দেশে হিজরত করা বাধ্যতামূলক। যেমনিভাবে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও সাহাবায়ে কিরাম রাদিয়াল্লাহু আনহুম হিজরত করেছিলেন।
আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা বলেন, إِنَّ الَّذِينَ تَوَفَّهُمُ الْمَلَئِكَةُ ظَالِمِي أَنْفُسِهِمْ قَالُوا فِيمَ كُنْتُمْ قَالُوا كُنَّا مُسْتَضْعَفِينَ فِي الْأَرْضِ قَالُوا أَلَمْ تَكُنْ أَرْضُ اللَّهِ وَاسِعَةً فَتُهَاجِرُوا فِيهَا فَأُولَبِكَ مَأْوَاهُمْ جَهَنَّمُ وَسَاءَتْ مَصِيرًا إِلَّا الْمُسْتَضْعَفِينَ مِنَ الرِّجَالِ وَ النِّسَاءِ وَ الْوِلْدَانِ لَا يَسْتَطِيعُونَ حِيْلَةً وَلَا يَهْتَدُونَ سَبِيلًا فَأُولَبِكَ عَسَى اللَّهُ أَنْ يَعْفُوَ عَنْهُمْ وَكَانَ اللَّهُ عَفُوًا غَفُوْرًا ))
"নিশ্চয়ই যারা নিজেদের প্রতি যুলমকারী, ফেরেশতারা তাদের জান কবজ করার সময় বলে, 'তোমরা কী অবস্থায় ছিলে'? তারা বলে, 'আমরা জমিনে দুর্বল ছিলাম'। ফেরেশতারা বলে, 'আল্লাহর জমিন কি প্রশস্ত ছিল না যে, তোমরা তাতে হিজরত করতে'? সুতরাং ওরাই তারা, যাদের আশ্রয়স্থল জাহান্নাম। আর তা মন্দ প্রত্যাবর্তনস্থল। তবে যে দুর্বল পুরুষ, নারী ও শিশুরা কোনো উপায় অবলম্বন করতে পারে না এবং কোনো রাস্তা খুঁজে পায় না। অতঃপর আশা করা যায় যে, আল্লাহ তাদেরকে ক্ষমা করবেন। আর আল্লাহ মার্জনাকারী, ক্ষমাশীল।" [সূরা ৪; আন-নিসা ৯৭-৯৯]
(৬) মুশরিক ও কাফিরদেরকে প্রথমে সালাম না দেয়া। আবূ হুরায়রাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,
لَا تَبْدَءُوا الْيَهُودَ وَلَا النَّصَارَى بِالسَّلَامِ» “ইয়াহুদী ও নাসারাদের আগ বাড়িয়ে সালাম করো না।” [সহীহ মুসলিম: ২১৬৭] আনাস ইবনু মালিক রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,
إِذَا سَلَّمَ عَلَيْكُمْ أَهْلُ الْكِتَابِ فَقُوْلُوْا وَعَلَيْكُمْ» “যখন কোনো আহলে কিতাব তোমাদের সালাম দেয়, তখন তোমরা বলবে ওয়া আলাইকুম (তোমাদের উপরও)।” [সহীহ বুখারী: ৬২৫৮]
(৭) মুশরিক ও কাফিরদের কোনো অনুষ্ঠানে নেতৃত্বের আসনে বসাবে না। তাদের জন্য সম্মান জানিয়ে রাস্তাকে প্রশস্ত করবে না। আবূ হুরায়রাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,
فَإِذَا لَقِيتُمْ أَحَدَهُمْ فِي طَرِيقٍ فَاضْطَرُّوهُ إِلَى أَضْيَقِهِ» "এবং তাদের কাউকে রাস্তায় দেখলে তাকে রাস্তার পাশে চলতে বাধ্য করো।" [সহীহ মুসলিম: ২১৬৭; জামে' আত-তিরমিযী: ১৬০২]
(৮) মক্কার হারামের সীমানায় কোনো কাফির ও মুশরিক অবস্থান করতে পারবে না। মহান আল্লাহ বলেন,
يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُوٓا۟ إِنَّمَا ٱلْمُشْرِكُونَ نَجَسٌ فَلَا يَقْرَبُوا۟ ٱلْمَسْجِدَ ٱلْحَرَامَ بَعْدَ عَامِهِمْ هَٰذَا ۚ وَإِنْ خِفْتُمْ عَيْلَةً فَسَوْفَ يُغْنِيكُمُ ٱللَّهُ مِن فَضْلِهِۦٓ إِن شَآءَ ۚ إِنَّ ٱللَّهَ عَلِيمٌ حَكِيمٌ
“হে ঈমানদারগণ, নিশ্চয়ই মুশরিকরা নাপাক। সুতরাং তারা যেন মাসজিদুল হারামের নিকটবর্তী না হয় তাদের এ বছরের পর। আর যদি তোমরা দারিদ্র্যকে ভয় কর, তবে আল্লাহ চাইলে নিজ অনুগ্রহে তোমাদের অভাবমুক্ত করবেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ মহাজ্ঞানী, প্রজ্ঞাময়।” [সূরা ৯; আত-তাওবাহ ২৮]
এ আয়াত নাযিলের পরে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হজ্জের মৌসুমে আলী রাদিয়াল্লাহু আনহুকে পাঠালেন এ ঘোষণা দেয়ার জন্য যে, এ বছরের পরে যেন কোনো মুশরিক হজ্জ করতে না আসে এবং আল্লাহর ঘরে উলঙ্গভাবে তাওয়াফ না করে। [সহীহ বুখারী: ৩৬৯; সহীh মুসলিম: ১৩৪৭]
(৯) কাফির ও মুশরিকদেরকে আরব উপদ্বীপে স্থায়ীভাবে বসবাস করতে না দেয়া। তবে তারা ব্যবসা-বাণিজ্যের উদ্দেশ্যে, ভ্রমণের উদ্দেশ্যে বা অন্য কোনো গুরুত্বপূর্ণ কাজে আসতে বাধা নেই। মুসলিমগণ যদি কাউকে কাজের জন্য নিয়ে আসে তাতেও অসুবিধা নেই। কারণ ইবনু আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণিত হাদীসে এসেছে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর ওফাতের সময় বলেছেন,
«أَخْرِجُوا الْمُشْرِكِينَ مِنْ جَزِيرَةِ الْعَرَبِ»
“মুশরিকদের আরব উপদ্বীপ হতে বিতাড়িত কর।" [সহীহ বুখারী: ৩০৫৩; সহীহ মুসলিম: ১৬৩৭]
(১০) কাফির ও মুশরিকদের প্রশংসা না করা। কারণ, তারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের শত্রু হওয়ায় মহান আল্লাহ তাদের নিন্দা করেছেন।
(১১) কাফির ও মুশরিকদের পোশাকাদি এবং তাদের সংস্কৃতির সাদৃশ্য হওয়া হারাম। ইবনু উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,
مَنْ تَشَبَّهَ بِقَوْمٍ فَهُوَ مِنْهُمْ
“যে ব্যক্তি বিজাতির সাদৃশ্য অবলম্বন করে, সে তাদের দলভুক্ত গণ্য হবে।” [আহমাদ, আল-মুসনাদ: ৫১১৫; সুনান আবু দাউদ: ৪০৩১; শাইখ আলবানী হাদীসটিকে হাসান সহীহ বলেছেন]
কারণ তাদের সংস্কৃতি অনুসরণ গোপনে তাদেরকে ভালোবাসার প্রমাণ বহন করে।
(১২) কাফিরদের সাথে যে সকল বিষয় বৈধ: নিম্নোক্ত কর্মসমূহ কাফির মুশরিকদের সাথে বৈধ হবে, তার অর্থ این নয় যে, তাদের সাথে অন্তরঙ্গ (اَلْمُوَالَاةُ) বন্ধুত্ব অথবা ভালোবাসা (اَلْمَحَبَّةُ) করা হবে বরং এ কর্মসমূহ বৈধ (اَلْمُبَاحَةُ) হবে।
(ক) কাফিরদের সাথে ব্যবসা-বাণিজ্যের মাধ্যমে লেনদেন করে কোনো জিনিস ক্রয় বা বিক্রয় করা বৈধ।
(খ) কাফিরদের আবিষ্কার থেকে উপকার গ্রহণ করা।
(গ) যে বিষয়ে মুসলিম কর্মচারী পাওয়া যায় না, সে বিষয়ে অমুসলিমদের নিয়োগ দেয়া। তবে মুসলিমদের গোপন কর্মকাণ্ডে তাদেরকে নিয়োগ দেয়া যাবে না।
(ঘ) মুসলিমদের কল্যাণে তাদের সাথে চুক্তি করা। যেমন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদীনায় ইয়াহুদীদের সাথে চুক্তি করেছিলেন, হুদাইবিয়ায় মুশরিকদের সাথে চুক্তি করেছেন।
যখন তারা আমাদের সাথে সদাচরণ করবে, তখন তাদের সাথে বাহ্যিক সদাচরণ করা। তবে তাদের সাথে ভালোবাসা (اَلْمَحَبَّةُ) বা বন্ধুত্ব (اَلْمُوَالَاةُ) করা যাবে না।
মহান আল্লাহ বলেন,
لَا يَنْهُكُمُ اللَّهُ عَنِ الَّذِينَ لَمْ يُقَاتِلُوكُمْ فِي الدِّيْنِ وَلَمْ يُخْرِجُوكُمْ مِّنْ دِيَارِكُمْ أَنْ تَبَرُّوهُمْ وَتُقْسِطُوا إِلَيْهِمْ إِنَّ اللَّهَ يُحِبُّ الْمُقْسِطِينَ )
“দীনের ব্যাপারে যারা তোমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেনি এবং তোমাদেরকে তোমাদের বাড়ি-ঘর থেকে বের করে দেয়নি, তাদের প্রতি সদয় ব্যবহার করতে এবং তাদের প্রতি ন্যায়বিচার করতে আল্লাহ তোমাদেরকে নিষেধ করছেন না। নিশ্চয়ই আল্লাহ ন্যায়পরায়ণদের ভালোবাসেন।” [সূরা ৬০; আল-মুমতাহিনাহ ৮]
(ঙ) মাতাপিতা কাফির ও মুশরিক হলেও তাদের সাথে বাহ্যিক সদাচরণ অব্যাহত রাখবে।
মহান আল্লাহ বলেন, ج وَوَصَّيْنَا الْإِنْسَانَ بِوَالِدَيْهِ حَمَلَتْهُ أُمُّهُ وَهُنَا عَلَى وَهْنٍ وَفِصْلُهُ فِي عَامَيْنِ أَنِ اشْكُرْ لِي وَلِوَالِدَيْكَ إِلَى الْمَصِيرُ (٣) وَإِنْ جَاهَدُكَ عَلَى أَنْ تُشْرِكَ بِي مَا لَيْسَ لَكَ بِهِ عِلْمٌ فَلَا تُطِعْهُمَا وَصَاحِبْهُمَا فِي الدُّنْيَا مَعْرُوفًا وَاتَّبِعْ سَبِيلَ مَنْ آنَابَ إِلَيَّ )
“আর আমি মানুষকে তার মাতাপিতার ব্যাপারে (সদাচরণের) নির্দেশ দিয়েছি। তার মা কষ্টের পর কষ্ট ভোগ করে তাকে গর্ভে ধারণ করে। আর তার দুধ ছাড়ানো হয় দু'বছরে; সুতরাং আমার ও তোমার পিতা-মাতার শুকরিয়া আদায় কর। প্রত্যাবর্তন তো আমার কাছেই। আর যদি তারা তোমাকে আমার সাথে শির্ক করতে জোর চেষ্টা করে, যে বিষয়ে তোমার কোনো জ্ঞান নেই, তখন তাদের আনুগত্য করবে না এবং দুনিয়ায় তাদের সাথে বসবাস করবে সদ্ভাবে। আর অনুসরণ কর তার পথ, যে আমার অভিমুখী হয়।” [সূরা ৩১; লুকমান ১৪-১৫]
আসমা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত হাদীসে এসেছে, قَدِمَتْ أُتِي وَهْيَ مُشْرِكَةً فِي عَهْدِ قُرَيْشٍ وَمُدَّتِهِمْ، إِذْ عَاهَدُوا النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَعَ أَبِيْهَا، فَاسْتَفْتَيْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقُلْتُ إِنَّ أُمِّي قَدِمَتْ وَهْيَ رَاغِبَةٌ، أَفَأَصِلُهَا. قَالَ نَعَمْ صِلِي أُمَّكِ»
অর্থাৎ, (বর্ণনাকারী বলেন,) কুরাইশরা যে সময়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সঙ্গে সন্ধি চুক্তি করেছিল, ঐ চুক্তিবদ্ধ সময়ে আমার মা তাঁর পিতার সঙ্গে এলেন। আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে জিজ্ঞাসা করলাম, আমার মা এসেছেন, তবে তিনি অমুসলিম। আমি কি তার সঙ্গে উত্তম ব্যবহার করবো? তিনি বললেন, “হ্যাঁ! তোমার মায়ের সঙ্গে উত্তম ব্যবহার করো।” [সহীহ বুখারী: ৫৯৭৯; সহীহ মুসলিম: ১০০৩]

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00