📘 ইসলামিক ম্যানারস > 📄 ঘুমানোর প্রস্তুতি

📄 ঘুমানোর প্রস্তুতি


কুরআনে হাকিমে আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা বলেন, “তাঁর আরও একটি নিদর্শন হলো রাত ও দিনে তোমাদের ঘুম এবং আল্লাহর অনুগ্রহ থেকে তোমাদের (জীবিকা) অন্বেষণ।” সূরা রূম : ২৩

তিনি আরও বলেন, “তোমাদের ঘুমকে করেছি ক্লান্তি দূরকারী, রাত্রিকে করেছি আবরণ।” সূরা নাবা: ৯-১০

ঘুম মানুষের একটি সহজাত বৈশিষ্ট্য। কিন্তু ঘুমানোর ক্ষেত্রেও সুন্নাহ থেকে সুন্দর আদব ও শিষ্টাচারের নির্দেশনা পাওয়া যায়। সাধারণভাবে আমরা ঘুমাতে যাওয়ার বিষয়টিকে অত্যন্ত হালকা বিষয় মনে করলেও প্রকৃতপক্ষে এই সময়েও বেশ কিছু আমল আছে, যা আমাদের নিয়মিত অনুশীলন করা উচিত।

ঘুমাতে যাওয়ার আগে ভালোভাবে পবিত্র হওয়া জরুরি। সব সময় ডান কাত হয়ে শোয়ার অভ্যাস করতে হবে। বারা ইবনু আযিব রা. থেকে বর্ণিত, একদিন রাসূলুল্লাহ সা. আমাকে বললেন, “যখন রাতে ঘুমানোর প্রস্তুতি নেবে, তখন নামাজের অজুর মতো অজু করে ডান কাতে শুয়ে বলবে, 'হে আল্লাহ! আমি নিজেকে আপনার নিকট সমর্পণ করলাম এবং অনুগত হলাম। আমার কাজ আপনার ওপর ন্যস্ত করলাম, আমার পিঠ আপনার নিকট সোপর্দ করলাম এবং আপনার প্রতি আগ্রহে ও ভয়ের সাথে আপনার সাহায্যের প্রতি ভরসা করলাম। আপনি ছাড়া অন্য কোথাও মুক্তি ও নিরাপত্তার স্থান নেই। আমি আপনার সেই কিতাবে বিশ্বাস করি, যা আপনার প্রেরিত নবির ওপর অবতীর্ণ করেছেন।” অতঃপর নবি সা. বলেন, “এভাবে (ওই রাতে) যদি তোমার মৃত্যু হয়, তাহলে তুমি ইসলামের ওপরেই মারা গেলে। এটাই হবে তোমার সর্বশেষ কথা।” বুখারি: ২৪৭, মুসলিম: ২৭১০

বিছানায় শোয়ার আগে ভালোমতো গায়ের পোশাক এবং শোয়ার বিছানা- দুটোই ভালোভাবে ঝেড়ে নেওয়া উচিত। আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন, “যখন তোমাদের কেউ তার বিছানায় বিশ্রাম নেয়, সে যেন তার পরিধেয় বস্ত্রের ভেতরের দিক দিয়ে বিছানা ঝেড়ে নেয়। কেননা, সে জানে না তার চলে যাওয়ার পর বিছানায় কী এসেছে।" মুসলিম : ২৭১৪, আহমাদ : ৭৭৫২

শোবার ঘর, ঘুমের সময় পাশে থাকা সঙ্গীকে কেন্দ্র করে আমাদের এখানে প্রায়শই ঘরের ভেতর অনেক মন্দ ঘটনা এমনকি যৌন হয়রানি ঘটনা শোনা যায়। অনেক সময় আমাদের পরিচিত অনেকের সন্তানরাও নানা ধরনের বাজে অভিজ্ঞতার শিকার হয়। অথচ এর সহজ সমাধান ইসলাম অনেক আগেই দিয়ে দিয়েছে। আমর ইবনু শুআইব রহ. তাঁর পিতা থেকে ও তিনি তাঁর দাদার থেকে বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন, “তোমাদের সন্তানদের বয়স সাত বছর হলে তাদেরকে সালাতের জন্য নির্দেশ দাও। যখন তাদের বয়স দশ বছর হয়ে যাবে তখন (সালাত আদায় না করলে) তাদেরকে শাসন করবে এবং তাদের বিছানা আলাদা করে দেবে।" আবু দাউদ: ৪৯৫

ক্লান্তি বা অন্য কারণে রাতের নামাজ পড়ার সময় কারও কারও ঘুম আসতে পারে। সেই সময়, অনেকে জোর করে জেগে থেকে নামাজ আদায় করে, যা কাম্য নয়। কেননা, এতে নামাজের হক নষ্ট হয়। বরং ঘুম এলে অল্প পরিমাণে ঘুমিয়ে নেওয়াই উচিত। উম্মুল মুমিনিন আয়িশা রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সা. বলেন, "যখন নামাজ পড়া অবস্থায় তোমাদের কারও ঘুম আসবে, তখন তার ঘুমিয়ে যাওয়া উচিত, যতক্ষণ না তার ঘুম চলে যাবে। কারণ, তোমাদের কেউ যদি তন্দ্রা অবস্থায় নামাজ পড়ে, তাহলে সে বুঝতে পারবে না যে সম্ভবত সে ক্ষমা প্রার্থনা করতে গিয়ে প্রকৃতপক্ষে নিজেকে যেন গালি দিয়ে দিচ্ছে।” বুখারি: ২১২, মুসলিম : ৪৮৬

অনেকেরই উপুড় হয়ে শোয়ার অভ্যাস থাকে। তবে হাদিসের বর্ণনানুযায়ী, উপুড় হয়ে শোয়ার ব্যাপারে রাসূল সা. নিরুৎসাহিত করেছেন। ঘুমাতে যাওয়ার আগে ঘরের দরজা বন্ধ আছে কিনা ও লাইটগুলো (বাতি) ভালোমতো নেভানো হয়েছে কিনা তা দেখে নেবেন।

জাবির ইবনে আবদুল্লাহ রা. থেকে বর্ণিত, রাসূল সা. বলেন, "তোমরা (রাতে ঘুমানোর পূর্বে) ঘরের দরজাগুলো বন্ধ করো, পানির পাত্রের মুখ ঢেকে বা বেঁধে দাও, থালাগুলো উপুড় করে রেখো বা ঢেকে দিয়ো এবং আলো নিভিয়ে দিয়ো। কেননা, শয়তান বন্ধ দরজা খুলতে পারে না, পাত্রের বন্ধ মুখ খুলতে পারে না এবং উপুড় করা বা ঢেকে দেয়া থালাও উন্মুক্ত করতে পারে না। আর (বাতি না নেভালে) দুষ্ট ইঁদুর মানুষের ঘরে আগুন লাগিয়ে দিতে পারে।” বুখারি, মুসলিম

হুযাইফা রা. থেকে বর্ণিত, “নবি সা. ঘুমানোর সময় বলতেন, اللَّهُمَّ بِاسْمِكَ أَمُوتُ وَأَحْيا (হে আল্লাহ! আমি আপনার নামে মরি ও বাঁচি)। তিনি যখন জাগতেন তখন বলতেন, الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي أَحْيَانَا بَعْدَ مَا أَمَاتَنَا وَإِلَيْهِ النُّشُورُ (সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য যিনি আমাদের মৃত্যুর পর পুনারায় জীবিত করবেন।)"

কুরআনে হাকিমে আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা বলেন, “তাঁর আরও একটি নিদর্শন হলো রাত ও দিনে তোমাদের ঘুম এবং আল্লাহর অনুগ্রহ থেকে তোমাদের (জীবিকা) অন্বেষণ।” সূরা রূম : ২৩

তিনি আরও বলেন, “তোমাদের ঘুমকে করেছি ক্লান্তি দূরকারী, রাত্রিকে করেছি আবরণ।” সূরা নাবা: ৯-১০

ঘুম মানুষের একটি সহজাত বৈশিষ্ট্য। কিন্তু ঘুমানোর ক্ষেত্রেও সুন্নাহ থেকে সুন্দর আদব ও শিষ্টাচারের নির্দেশনা পাওয়া যায়। সাধারণভাবে আমরা ঘুমাতে যাওয়ার বিষয়টিকে অত্যন্ত হালকা বিষয় মনে করলেও প্রকৃতপক্ষে এই সময়েও বেশ কিছু আমল আছে, যা আমাদের নিয়মিত অনুশীলন করা উচিত।

ঘুমাতে যাওয়ার আগে ভালোভাবে পবিত্র হওয়া জরুরি। সব সময় ডান কাত হয়ে শোয়ার অভ্যাস করতে হবে। বারা ইবনু আযিব রা. থেকে বর্ণিত, একদিন রাসূলুল্লাহ সা. আমাকে বললেন, “যখন রাতে ঘুমানোর প্রস্তুতি নেবে, তখন নামাজের অজুর মতো অজু করে ডান কাতে শুয়ে বলবে, 'হে আল্লাহ! আমি নিজেকে আপনার নিকট সমর্পণ করলাম এবং অনুগত হলাম। আমার কাজ আপনার ওপর ন্যস্ত করলাম, আমার পিঠ আপনার নিকট সোপর্দ করলাম এবং আপনার প্রতি আগ্রহে ও ভয়ের সাথে আপনার সাহায্যের প্রতি ভরসা করলাম। আপনি ছাড়া অন্য কোথাও মুক্তি ও নিরাপত্তার স্থান নেই। আমি আপনার সেই কিতাবে বিশ্বাস করি, যা আপনার প্রেরিত নবির ওপর অবতীর্ণ করেছেন।” অতঃপর নবি সা. বলেন, “এভাবে (ওই রাতে) যদি তোমার মৃত্যু হয়, তাহলে তুমি ইসলামের ওপরেই মারা গেলে। এটাই হবে তোমার সর্বশেষ কথা।” বুখারি: ২৪৭, মুসলিম: ২৭১০

বিছানায় শোয়ার আগে ভালোমতো গায়ের পোশাক এবং শোয়ার বিছানা- দুটোই ভালোভাবে ঝেড়ে নেওয়া উচিত। আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন, “যখন তোমাদের কেউ তার বিছানায় বিশ্রাম নেয়, সে যেন তার পরিধেয় বস্ত্রের ভেতরের দিক দিয়ে বিছানা ঝেড়ে নেয়। কেননা, সে জানে না তার চলে যাওয়ার পর বিছানায় কী এসেছে।" মুসলিম : ২৭১৪, আহমাদ : ৭৭৫২

শোবার ঘর, ঘুমের সময় পাশে থাকা সঙ্গীকে কেন্দ্র করে আমাদের এখানে প্রায়শই ঘরের ভেতর অনেক মন্দ ঘটনা এমনকি যৌন হয়রানি ঘটনা শোনা যায়। অনেক সময় আমাদের পরিচিত অনেকের সন্তানরাও নানা ধরনের বাজে অভিজ্ঞতার শিকার হয়। অথচ এর সহজ সমাধান ইসলাম অনেক আগেই দিয়ে দিয়েছে। আমর ইবনু শুআইব রহ. তাঁর পিতা থেকে ও তিনি তাঁর দাদার থেকে বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন, “তোমাদের সন্তানদের বয়স সাত বছর হলে তাদেরকে সালাতের জন্য নির্দেশ দাও। যখন তাদের বয়স দশ বছর হয়ে যাবে তখন (সালাত আদায় না করলে) তাদেরকে শাসন করবে এবং তাদের বিছানা আলাদা করে দেবে।" আবু দাউদ: ৪৯৫

ক্লান্তি বা অন্য কারণে রাতের নামাজ পড়ার সময় কারও কারও ঘুম আসতে পারে। সেই সময়, অনেকে জোর করে জেগে থেকে নামাজ আদায় করে, যা কাম্য নয়। কেননা, এতে নামাজের হক নষ্ট হয়। বরং ঘুম এলে অল্প পরিমাণে ঘুমিয়ে নেওয়াই উচিত। উম্মুল মুমিনিন আয়িশা রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সা. বলেন, "যখন নামাজ পড়া অবস্থায় তোমাদের কারও ঘুম আসবে, তখন তার ঘুমিয়ে যাওয়া উচিত, যতক্ষণ না তার ঘুম চলে যাবে। কারণ, তোমাদের কেউ যদি তন্দ্রা অবস্থায় নামাজ পড়ে, তাহলে সে বুঝতে পারবে না যে সম্ভবত সে ক্ষমা প্রার্থনা করতে গিয়ে প্রকৃতপক্ষে নিজেকে যেন গালি দিয়ে দিচ্ছে।” বুখারি: ২১২, মুসলিম : ৪৮৬

অনেকেরই উপুড় হয়ে শোয়ার অভ্যাস থাকে। তবে হাদিসের বর্ণনানুযায়ী, উপুড় হয়ে শোয়ার ব্যাপারে রাসূল সা. নিরুৎসাহিত করেছেন। ঘুমাতে যাওয়ার আগে ঘরের দরজা বন্ধ আছে কিনা ও লাইটগুলো (বাতি) ভালোমতো নেভানো হয়েছে কিনা তা দেখে নেবেন।

জাবির ইবনে আবদুল্লাহ রা. থেকে বর্ণিত, রাসূল সা. বলেন, "তোমরা (রাতে ঘুমানোর পূর্বে) ঘরের দরজাগুলো বন্ধ করো, পানির পাত্রের মুখ ঢেকে বা বেঁধে দাও, থালাগুলো উপুড় করে রেখো বা ঢেকে দিয়ো এবং আলো নিভিয়ে দিয়ো। কেননা, শয়তান বন্ধ দরজা খুলতে পারে না, পাত্রের বন্ধ মুখ খুলতে পারে না এবং উপুড় করা বা ঢেকে দেয়া থালাও উন্মুক্ত করতে পারে না। আর (বাতি না নেভালে) দুষ্ট ইঁদুর মানুষের ঘরে আগুন লাগিয়ে দিতে পারে।” বুখারি, মুসলিম

হুযাইফা রা. থেকে বর্ণিত, “নবি সা. ঘুমানোর সময় বলতেন, اللَّهُمَّ بِاسْمِكَ أَمُوتُ وَأَحْيا (হে আল্লাহ! আমি আপনার নামে মরি ও বাঁচি)। তিনি যখন জাগতেন তখন বলতেন, الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي أَحْيَانَا بَعْدَ مَا أَمَاتَنَا وَإِلَيْهِ النُّشُورُ (সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য যিনি আমাদের মৃত্যুর পর পুনারায় জীবিত করবেন।)"

📘 ইসলামিক ম্যানারস > 📄 ঘুম থেকে উঠার পরে যা করণীয়

📄 ঘুম থেকে উঠার পরে যা করণীয়


আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন, “তোমাদের কেউ ঘুম হতে জেগে উঠলে অজুর পাত্রে হাত দেওয়ার আগে হাত ধুয়ে নেবে। কেননা, তার জানা নেই যে, তার হাত কোথায় রাত্রি যাপন করেছে।” বুখারি : ১৬২, মুসলিম : ২৭৮

উম্মুল মুমিনিন আয়িশা রা. বলেন, “নবি সা. যখনই ঘুম থেকে জাগতেন, অজুর পূর্বে মিসওয়াক করতেন।”

হযরত মুআয ইবনু জাবাল রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সা. ইরশাদ করেছেন, “যে মুসলিম রাতে পাক-পবিত্র অবস্থায় আল্লাহর যিকর করে ঘুমিয়ে যায়, তারপর রাতেই জেগে উঠে আল্লাহর নিকট কল্যাণ কামনা করে, আল্লাহ তাকে (দুনিয়া ও আখিরাতে) অবশ্যই কল্যাণ দান করেন।” আবু দাউদ : ৫০৪২

শারিক আল হাওযানি রহ. বর্ণনা করেন, “আমি উম্মুল মুমিনিন আয়িশা রা.-এর নিকট গিয়ে প্রশ্ন করেছি, 'রাসূলুল্লাহ সা. রাত্রে ঘুম থেকে সজাগ হওয়ার পর কোন বিষয় দিয়ে ইবাদত আরম্ভ করতেন?' তখন আয়িশা রা. বললেন, 'তুমি আমাকে এমন বিষয়ে জিজ্ঞেস করেছ, যা তোমার পূর্বে আমাকে কোনো লোক জিজ্ঞেস করেনি। তিনি রাত্রে ঘুম থেকে জেগে উঠার পর প্রথম দশবার আল্লাহু আকবার পাঠ করতেন। আলহামদু লিল্লাহ বলতেন দশবার। সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহী পাঠ করতেন দশবার। সুবহানাল মালিকিল কুদ্দুস পাঠ করতেন দশবার। আসতাগফিরুল্লাহ পাঠ করতেন দশবার। লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ পাঠ করতেন দশবার। আর দশবার পড়তেন এ দুআ, আল্লাহুম্মা ইন্নী আউযুবিকা মিন যীকিদ দুনইয়া ওয়া যীকি ইয়াওমিল কিয়ামাহ। এরপর তিনি (তাহাজ্জুদের) সালাত আরম্ভ করতেন।" আবু দাউদ : ৫০৮৫

ঘুমের আগে কোনো নামাজ বাদ গেলে বা ঘুমের কারণে কোনো নামাজ না পড়তে পারলে ঘুম থেকে উঠেই সেই নামাজগুলো পড়ে নেওয়া জরুরি। আবু সাঈদ খুদরি রা. থেকে বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন, “যে ব্যক্তি বিতর না পড়ে ঘুমিয়ে গেল বা তা পড়তে ভুলে গেল, সে যেন ভোরবেলা অথবা যখন তার স্মরণ হয় তখন তা পড়ে নেয়।" আবু দাউদ : ১৪৩১, তিরমিযি: ৪৬৫

আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন, “তোমাদের কেউ ঘুম হতে জেগে উঠলে অজুর পাত্রে হাত দেওয়ার আগে হাত ধুয়ে নেবে। কেননা, তার জানা নেই যে, তার হাত কোথায় রাত্রি যাপন করেছে।” বুখারি : ১৬২, মুসলিম : ২৭৮

উম্মুল মুমিনিন আয়িশা রা. বলেন, “নবি সা. যখনই ঘুম থেকে জাগতেন, অজুর পূর্বে মিসওয়াক করতেন।”

হযরত মুআয ইবনু জাবাল রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সা. ইরশাদ করেছেন, “যে মুসলিম রাতে পাক-পবিত্র অবস্থায় আল্লাহর যিকর করে ঘুমিয়ে যায়, তারপর রাতেই জেগে উঠে আল্লাহর নিকট কল্যাণ কামনা করে, আল্লাহ তাকে (দুনিয়া ও আখিরাতে) অবশ্যই কল্যাণ দান করেন।” আবু দাউদ : ৫০৪২

শারিক আল হাওযানি রহ. বর্ণনা করেন, “আমি উম্মুল মুমিনিন আয়িশা রা.-এর নিকট গিয়ে প্রশ্ন করেছি, 'রাসূলুল্লাহ সা. রাত্রে ঘুম থেকে সজাগ হওয়ার পর কোন বিষয় দিয়ে ইবাদত আরম্ভ করতেন?' তখন আয়িশা রা. বললেন, 'তুমি আমাকে এমন বিষয়ে জিজ্ঞেস করেছ, যা তোমার পূর্বে আমাকে কোনো লোক জিজ্ঞেস করেনি। তিনি রাত্রে ঘুম থেকে জেগে উঠার পর প্রথম দশবার আল্লাহু আকবার পাঠ করতেন। আলহামদু লিল্লাহ বলতেন দশবার। সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহী পাঠ করতেন দশবার। সুবহানাল মালিকিল কুদ্দুস পাঠ করতেন দশবার। আসতাগফিরুল্লাহ পাঠ করতেন দশবার। লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ পাঠ করতেন দশবার। আর দশবার পড়তেন এ দুআ, আল্লাহুম্মা ইন্নী আউযুবিকা মিন যীকিদ দুনইয়া ওয়া যীকি ইয়াওমিল কিয়ামাহ। এরপর তিনি (তাহাজ্জুদের) সালাত আরম্ভ করতেন।" আবু দাউদ : ৫০৮৫

ঘুমের আগে কোনো নামাজ বাদ গেলে বা ঘুমের কারণে কোনো নামাজ না পড়তে পারলে ঘুম থেকে উঠেই সেই নামাজগুলো পড়ে নেওয়া জরুরি। আবু সাঈদ খুদরি রা. থেকে বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন, “যে ব্যক্তি বিতর না পড়ে ঘুমিয়ে গেল বা তা পড়তে ভুলে গেল, সে যেন ভোরবেলা অথবা যখন তার স্মরণ হয় তখন তা পড়ে নেয়।" আবু দাউদ : ১৪৩১, তিরমিযি: ৪৬৫

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00