📘 ইসলামিক ম্যানারস > 📄 রোগীকে দেখার আদব

📄 রোগীকে দেখার আদব


রোগী দেখতে যাওয়ার সময় পরিষ্কার পোশাক পরিধান করবেন। গায়ে সুগন্ধি ব্যবহার করা যেতে পারে। তা হলে রোগী আধ্যাত্মিক ও শারীরিকভাবে স্বস্তি অনুভব করবেন। তবে খুব কড়া মানের সুগন্ধি ব্যবহার না করাই শ্রেয়। কেননা, তাতে রোগী বিরক্ত হতে পারেন। রোগী দেখতে যাওয়ার সময় খুব আমুদে বা উৎসব উপযোগী পোশাক পরা উচিত নয়। কেননা, এই ধরনের পোশাক আনন্দ উৎসব আয়োজনের জন্যই বেশি মানানসই। বরং সাদাসিধা পরিচ্ছন্ন সিগ্ধ পোশাক বাছাই করবেন।

রোগী দেখতে গেলে কথাবার্তা খুবই হালকা মানের হওয়া উচিত। এমন কোনো কথা বলা উচিত নয়, যাতে রোগীর মন খারাপ হয়ে যায় কিংবা তার মনে হতাশা ভর করে। এরকম সাক্ষাতের ক্ষেত্রে রোগীকে কোনো খারাপ সংবাদ দেওয়া উচিত নয়। উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, ব্যবসার অবস্থা খুব খারাপ কিংবা কারও মৃত্যু সংবাদ দেওয়া মোটেও উচিত নয়।

সাক্ষাৎ করতে গেলে রোগীর অসুখের বিস্তারিত জানতে চাওয়াও ঠিক নয়। সাক্ষাৎপ্রার্থী যদি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক হয় তা হলে অবশ্য ভিন্ন কথা। ঠিক একইভাবে, ভালো জানাশোনা না থাকলে সাক্ষাৎ করতে গিয়ে রোগীকে কোনো খাবার বা ওষুধ খাওয়ার পরামর্শ দেওয়াও ঠিক নয়। এটা তারাই বলতে পারেন যারা বিষয়টি সম্পর্কে ভালোভাবে জানেন। না জেনে পরামর্শ দিয়ে বসলে তাতে বরং রোগীর ক্ষতি হতে পারে। রোগটি আরও জটিলতর হয়ে শেষে রোগী মারাও যেতে পারেন।

একজন ডাক্তার হয়তো একভাবে রোগীর চিকিৎসা করছেন। রোগী দেখতে গিয়ে কারও সেই চিকিৎসা পদ্ধতি নিয়ে আপত্তি তোলা বা সমালোচনা করা ঠিক নয়। কেননা, এতে রোগীর মনে তার চিকিৎসা সম্বন্ধে সংশয়ের সৃষ্টি হতে পারে। যদি আপনি নিজেই চিকিৎসক হন, তা হলে এই ধরনের আলাপ করতে পারেন। তবে তা রোগী বা রোগীর অ্যাটেনডেন্টদেন সাথে না করে বরং সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের সঙ্গে করাই বাঞ্ছনীয়।

রোগী দেখতে যাওয়ার সময় পরিষ্কার পোশাক পরিধান করবেন। গায়ে সুগন্ধি ব্যবহার করা যেতে পারে। তা হলে রোগী আধ্যাত্মিক ও শারীরিকভাবে স্বস্তি অনুভব করবেন। তবে খুব কড়া মানের সুগন্ধি ব্যবহার না করাই শ্রেয়। কেননা, তাতে রোগী বিরক্ত হতে পারেন। রোগী দেখতে যাওয়ার সময় খুব আমুদে বা উৎসব উপযোগী পোশাক পরা উচিত নয়। কেননা, এই ধরনের পোশাক আনন্দ উৎসব আয়োজনের জন্যই বেশি মানানসই। বরং সাদাসিধা পরিচ্ছন্ন সিগ্ধ পোশাক বাছাই করবেন।
রোগী দেখতে গেলে কথাবার্তা খুবই হালকা মানের হওয়া উচিত। এমন কোনো কথা বলা উচিত নয়, যাতে রোগীর মন খারাপ হয়ে যায় কিংবা তার মনে হতাশা ভর করে। এরকম সাক্ষাতের ক্ষেত্রে রোগীকে কোনো খারাপ সংবাদ দেওয়া উচিত নয়। উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, ব্যবসার অবস্থা খুব খারাপ কিংবা কারও মৃত্যু সংবাদ দেওয়া মোটেও উচিত নয়।
সাক্ষাৎ করতে গেলে রোগীর অসুখের বিস্তারিত জানতে চাওয়াও ঠিক নয়। সাক্ষাৎপ্রার্থী যদি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক হয় তা হলে অবশ্য ভিন্ন কথা। ঠিক একইভাবে, ভালো জানাশোনা না থাকলে সাক্ষাৎ করতে গিয়ে রোগীকে কোনো খাবার বা ওষুধ খাওয়ার পরামর্শ দেওয়াও ঠিক নয়। এটা তারাই বলতে পারেন যারা বিষয়টি সম্পর্কে ভালোভাবে জানেন। না জেনে পরামর্শ দিয়ে বসলে তাতে বরং রোগীর ক্ষতি হতে পারে। রোগটি আরও জটিলতর হয়ে শেষে রোগী মারাও যেতে পারেন।
একজন ডাক্তার হয়তো একভাবে রোগীর চিকিৎসা করছেন। রোগী দেখতে গিয়ে কারও সেই চিকিৎসা পদ্ধতি নিয়ে আপত্তি তোলা বা সমালোচনা করা ঠিক নয়। কেননা, এতে রোগীর মনে তার চিকিৎসা সম্বন্ধে সংশয়ের সৃষ্টি হতে পারে। যদি আপনি নিজেই চিকিৎসক হন, তা হলে এই ধরনের আলাপ করতে পারেন। তবে তা রোগী বা রোগীর অ্যাটেনডেন্টদেন সাথে না করে বরং সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের সঙ্গে করাই বাঞ্ছনীয়।

📘 ইসলামিক ম্যানারস > 📄 একজন রোগী কীভাবে নিজের অবস্থা বর্ণনা করবেন

📄 একজন রোগী কীভাবে নিজের অবস্থা বর্ণনা করবেন


একজন রোগীর কাছে কেউ যদি শারীরিক অবস্থা জানতে চায়, তা হলে সর্বাগ্রে সেই অসুস্থ মানুষটির উচিত আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করে তারপর তার অবস্থা বর্ণনা করা। যদি এই পথে না গিয়ে রোগী সরাসরি অভাব-অভিযোগ শুরু করে, তা হলে মনে হতে পারে যে, রোগী আল্লাহর ফয়সালার বিরুদ্ধেই অভিযোগ করছেন। রাসূল সা. এবং তাঁর সাহাবিগণ তো বটেই এমনকি তাবেয়িগণও এই রীতিরই অনুসরণ করেছেন।

আবদুর রহমান আত তাবিবের জীবনীগ্রন্থতেও এই ধরনের অনুশীলনের তথ্য পাওয়া যায়। আবদুর রহমান আত তাবিব ছিলেন ইমাম আহমাদ এবং বিশর আল হাফির ব্যক্তিগত চিকিৎসক। আবদুর রহমান বলেন, “একবার ইমাম আহমাদ ও বিশর আল হাফি একইসাথে অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং তাদেরকে একই স্থানে চিকিৎসা প্রদান করা হচ্ছিল। যখন আমি বিশরকে দেখতে গেলাম এবং তাঁর অবস্থা জানতে চাইলাম, তিনি প্রথম আল্লাহকে ধন্যবাদ জানালেন। তারপর তিনি বললেন, 'আমি শরীরের অমুক স্থানে ব্যথা অনুভব করছি।' এরপর আমি যখন ইমাম আহমাদকে দেখতে গেলাম এবং জানতে চাইলাম, তিনি কেমন বোধ করছেন। উত্তরে ইমাম আহমাদ রহ. বললেন, 'আমাদের ভাই বিশর তো আরও অসুস্থ।' আমি যখন আবার সুনির্দিষ্টভাবে তাঁর অবস্থা জানতে চাইলাম, তখন তিনিও প্রথম আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করলেন এবং তারপর নিজের অবস্থা জানালেন।"

ইবনে সিরিন রহ.-এর বর্ণনানুযায়ী, “যদি কেউ আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তারপর তার অভিযোগ বর্ণনা করে, তা হলে এটা আর অভিযোগ থাকে না; বরং বিষয়টি এমন হয় যে, বান্দা তার রব আল্লাহ তায়ালার একটি ফয়সালার বর্ণনা দিচ্ছেন।”

উপরোক্ত বর্ণনাগুলোর আলোকে দেখা যাচ্ছে যে, একজন রোগীর সবার আগে আল্লাহর প্রশংসা করা উচিত এবং তারপর অভিযোগগুলো প্রকাশ করা উচিত। এমনটা হলে আল্লাহর বিরুদ্ধে অভিযোগ করার দায় বান্দার ওপর পড়বে না।

একজন রোগীর কাছে কেউ যদি শারীরিক অবস্থা জানতে চায়, তা হলে সর্বাগ্রে সেই অসুস্থ মানুষটির উচিত আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করে তারপর তার অবস্থা বর্ণনা করা। যদি এই পথে না গিয়ে রোগী সরাসরি অভাব-অভিযোগ শুরু করে, তা হলে মনে হতে পারে যে, রোগী আল্লাহর ফয়সালার বিরুদ্ধেই অভিযোগ করছেন। রাসূল সা. এবং তাঁর সাহাবিগণ তো বটেই এমনকি তাবেয়িগণও এই রীতিরই অনুসরণ করেছেন।
আবদুর রহমান আত তাবিবের জীবনীগ্রন্থতেও এই ধরনের অনুশীলনের তথ্য পাওয়া যায়। আবদুর রহমান আত তাবিব ছিলেন ইমাম আহমাদ এবং বিশর আল হাফির ব্যক্তিগত চিকিৎসক। আবদুর রহমান বলেন, “একবার ইমাম আহমাদ ও বিশর আল হাফি একইসাথে অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং তাদেরকে একই স্থানে চিকিৎসা প্রদান করা হচ্ছিল। যখন আমি বিশরকে দেখতে গেলাম এবং তাঁর অবস্থা জানতে চাইলাম, তিনি প্রথম আল্লাহকে ধন্যবাদ জানালেন। তারপর তিনি বললেন, 'আমি শরীরের অমুক স্থানে ব্যথা অনুভব করছি।' এরপর আমি যখন ইমাম আহমাদকে দেখতে গেলাম এবং জানতে চাইলাম, তিনি কেমন বোধ করছেন। উত্তরে ইমাম আহমাদ রহ. বললেন, 'আমাদের ভাই বিশর তো আরও অসুস্থ।' আমি যখন আবার সুনির্দিষ্টভাবে তাঁর অবস্থা জানতে চাইলাম, তখন তিনিও প্রথম আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করলেন এবং তারপর নিজের অবস্থা জানালেন।"
ইবনে সিরিন রহ.-এর বর্ণনানুযায়ী, “যদি কেউ আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তারপর তার অভিযোগ বর্ণনা করে, তা হলে এটা আর অভিযোগ থাকে না; বরং বিষয়টি এমন হয় যে, বান্দা তার রব আল্লাহ তায়ালার একটি ফয়সালার বর্ণনা দিচ্ছেন।”
উপরোক্ত বর্ণনাগুলোর আলোকে দেখা যাচ্ছে যে, একজন রোগীর সবার আগে আল্লাহর প্রশংসা করা উচিত এবং তারপর অভিযোগগুলো প্রকাশ করা উচিত। এমনটা হলে আল্লাহর বিরুদ্ধে অভিযোগ করার দায় বান্দার ওপর পড়বে না।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00