📘 ইসলামিক ম্যানারস > 📄 বিয়েতে অংশ নেওয়ার আদব

📄 বিয়েতে অংশ নেওয়ার আদব


যদি আপনাকে বিয়ের দাওয়াত দেওয়া হয়, তা হলে হাসিমুখে ও আনন্দচিত্তে উক্ত অনুষ্ঠানে আপনি অংশ নিতে পারেন। রাসূল সা. তাঁর উম্মাহর জন্য এরকম নির্দেশনাই দিয়ে গেছেন। আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত হাদিসে এসেছে, “যে ওয়ালিমায় কেবল ধনীদের দাওয়াত করা হয় এবং গরিবদের দাওয়াত করা হয় না, সেই ওয়ালিমা সবচেয়ে নিকৃষ্ট। আর যে ব্যক্তি দাওয়াত কবুল করে না, সে আল্লাহ এবং তাঁর রাসূলের সঙ্গে অবাধ্যতা করে।” মুসলিম : ১৪৩২

ইবনে উমর রা. বর্ণনা করেন, রাসূল সা. বলেছেন, “যদি তোমাদের বিয়ে অনুষ্ঠানে দাওয়াত দেওয়া হয়, তবে তা রক্ষা করো।”

এই ধরনের আয়োজনে যাওয়ার ক্ষেত্রে সঠিক পোশাক পরিধান করুন। রাসূল সা.-এর সাহাবিরা সব সময় বিয়ের আয়োজনে উত্তম পোশাক পরে যেতেন।

যদি সেখানে গিয়ে কারও সাথে কথা বলেন, তা হলে এমন কথা বলবেন যা বিয়ের আনন্দঘন উৎসবের সাথে সংগতিপূর্ণ হয়। এমন কোনো কথা বলবেন না, যাতে বিয়ের উৎসব আয়োজনটি বিষাদে ছেয়ে যায়। এসব অনুষ্ঠানের ক্ষেত্রে অনেক বেশি বিবেচক ও সহনশীল হওয়া মুসলিমের নৈতিক দায়িত্ব। বিয়ের অনুষ্ঠানে যাওয়ার ব্যাপারে মহিলা ও শিশুদের ব্যাপক আগ্রহ দেখা যায় এবং রাসূল সা. তাদেরকে এই আনন্দ আয়োজনে অংশ নেওয়ার বিষয়ে অনুমোদনও দিয়েছেন।

আনাস বিন মালিক রা. থেকে বর্ণিত, একদা রাসূল সা. কিছু মহিলা এবং শিশুকে বিয়ের অনুষ্ঠান শেষে আনন্দচিত্তে ফিরতে দেখলেন। তিনিও আনন্দে দাঁড়িয়ে গেলেন এবং বললেন, 'আল্লাহর নামে বলছি, তোমরা সকল মানুষের চেয়ে আমার কাছে প্রিয়।'

বর ও কনেকে তাদের নতুন জীবন শুরুর পথে অভিনন্দন জানাবেন। ইবনে মাজাহ ও তিরমিযিতে বর্ণিত হাদিসে পাওয়া যায়, নতুন দম্পতিকে উদ্দেশ্য করে রাসূল সা. বলতেন, بَارَكَ اللهُ لَكَ وَبَارَكَ عَلَيْكَ وَجَمَعَ بَيْنَكُمَا فِي خَيْرٍ (আল্লাহ তায়ালা তোমাদের জীবনকে বরকতময় করুন আর তোমাদেরকে কল্যাণের মধ্যে একত্রিত করুন)।" তিরমিযি : ১০৯১, ইবনে মাজাহ : ২৯০৫

ইসলাম আসার আগে জাহেলি যুগে আল্লাহর রহমত কামনা করা হতো না। বরং নতুন দম্পতি যেন আরামে ও সুখে থাকতে পারে এবং তাদের যেন অনেক সন্তানাদি হয় সেই কামনা করা হতো। রাসূল সা. তা পরিবর্তন করে নতুন দম্পতির জন্য আল্লাহর রহমত কামনা করে দুআ করার প্রথা চালু করেন।

উম্মুল মুমিনিন আয়িশা রা. বলেন, "যখন নবিজি সা. আমাকে বিয়ে করেন, আমার মা আমাকে আনসারদের একটি ঘরে নিয়ে গিয়েছিলেন, যেখানে আনসার মহিলারা আমাদের বিয়ে উপলক্ষ্যে আনন্দ উৎসব করছিল। আমি ভেতরে যাওয়ার পর তারা আমাকে অভিনন্দন জানায়, উপহার দেয় এবং শুভ কামনা করে দুআ করে।” আয়িশা রা. থেকে আরেকটি বর্ণনায় এসেছে, “কোনো এক আনসার সাহাবির বিয়েতে আয়িশা রা. কনেকে সাজালে নবি সা. বললেন, 'হে আয়িশা! কোনো আনন্দ-ফূর্তির ব্যবস্থা করোনি? আনসারগণ এসব আনন্দ-ূর্তি পছন্দ করে'।”

এই হাদিসটি থেকে বোঝা যায় যে, ইসলাম বিয়ে উপলক্ষ্যে মেয়েদের নিজ অঙ্গনে আনন্দ করা এবং সুন্দর সুন্দর শালীন গান গাওয়ার বিষয়টি অনুমোদন করে। তবে যে গানগুলো গাওয়া হবে বা যে কবিতাগুলো আবৃত্তি করা হবে, তা শালীন হওয়া অপরিহার্য। এমন কোনো গান গাওয়া যাবে না, যাতে শারীরিক ও যৌন কামনায় প্রভাব পড়ে। এমনভাবে গান গাওয়া বা নাচ করা যাবে না, যাতে মেয়েদের শারীরিক অবয়ব বোঝা যায়। বরং মার্জিত কিছু গান গাওয়া যায়, যাতে খুব সরলভাবে কেবল বিয়ের আনন্দটাই প্রকাশিত হয়; অন্য কোনো বাজে খায়েশ নয়।

যদি আপনাকে বিয়ের দাওয়াত দেওয়া হয়, তা হলে হাসিমুখে ও আনন্দচিত্তে উক্ত অনুষ্ঠানে আপনি অংশ নিতে পারেন। রাসূল সা. তাঁর উম্মাহর জন্য এরকম নির্দেশনাই দিয়ে গেছেন। আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত হাদিসে এসেছে, “যে ওয়ালিমায় কেবল ধনীদের দাওয়াত করা হয় এবং গরিবদের দাওয়াত করা হয় না, সেই ওয়ালিমা সবচেয়ে নিকৃষ্ট। আর যে ব্যক্তি দাওয়াত কবুল করে না, সে আল্লাহ এবং তাঁর রাসূলের সঙ্গে অবাধ্যতা করে।” মুসলিম : ১৪৩২
ইবনে উমর রা. বর্ণনা করেন, রাসূল সা. বলেছেন, “যদি তোমাদের বিয়ে অনুষ্ঠানে দাওয়াত দেওয়া হয়, তবে তা রক্ষা করো।”
এই ধরনের আয়োজনে যাওয়ার ক্ষেত্রে সঠিক পোশাক পরিধান করুন। রাসূল সা.-এর সাহাবিরা সব সময় বিয়ের আয়োজনে উত্তম পোশাক পরে যেতেন।
যদি সেখানে গিয়ে কারও সাথে কথা বলেন, তা হলে এমন কথা বলবেন যা বিয়ের আনন্দঘন উৎসবের সাথে সংগতিপূর্ণ হয়। এমন কোনো কথা বলবেন না, যাতে বিয়ের উৎসব আয়োজনটি বিষাদে ছেয়ে যায়। এসব অনুষ্ঠানের ক্ষেত্রে অনেক বেশি বিবেচক ও সহনশীল হওয়া মুসলিমের নৈতিক দায়িত্ব। বিয়ের অনুষ্ঠানে যাওয়ার ব্যাপারে মহিলা ও শিশুদের ব্যাপক আগ্রহ দেখা যায় এবং রাসূল সা. তাদেরকে এই আনন্দ আয়োজনে অংশ নেওয়ার বিষয়ে অনুমোদনও দিয়েছেন।
আনাস বিন মালিক রা. থেকে বর্ণিত, একদা রাসূল সা. কিছু মহিলা এবং শিশুকে বিয়ের অনুষ্ঠান শেষে আনন্দচিত্তে ফিরতে দেখলেন। তিনিও আনন্দে দাঁড়িয়ে গেলেন এবং বললেন, 'আল্লাহর নামে বলছি, তোমরা সকল মানুষের চেয়ে আমার কাছে প্রিয়।'
বর ও কনেকে তাদের নতুন জীবন শুরুর পথে অভিনন্দন জানাবেন। ইবনে মাজাহ ও তিরমিযিতে বর্ণিত হাদিসে পাওয়া যায়, নতুন দম্পতিকে উদ্দেশ্য করে রাসূল সা. বলতেন, بَارَكَ اللهُ لَكَ وَبَارَكَ عَلَيْكَ وَجَمَعَ بَيْنَكُمَا فِي خَيْرٍ (আল্লাহ তায়ালা তোমাদের জীবনকে বরকতময় করুন আর তোমাদেরকে কল্যাণের মধ্যে একত্রিত করুন)।" তিরমিযি : ১০৯১, ইবনে মাজাহ : ২৯০৫
ইসলাম আসার আগে জাহেলি যুগে আল্লাহর রহমত কামনা করা হতো না। বরং নতুন দম্পতি যেন আরামে ও সুখে থাকতে পারে এবং তাদের যেন অনেক সন্তানাদি হয় সেই কামনা করা হতো। রাসূল সা. তা পরিবর্তন করে নতুন দম্পতির জন্য আল্লাহর রহমত কামনা করে দুআ করার প্রথা চালু করেন।
উম্মুল মুমিনিন আয়িশা রা. বলেন, "যখন নবিজি সা. আমাকে বিয়ে করেন, আমার মা আমাকে আনসারদের একটি ঘরে নিয়ে গিয়েছিলেন, যেখানে আনসার মহিলারা আমাদের বিয়ে উপলক্ষ্যে আনন্দ উৎসব করছিল। আমি ভেতরে যাওয়ার পর তারা আমাকে অভিনন্দন জানায়, উপহার দেয় এবং শুভ কামনা করে দুআ করে।” আয়িশা রা. থেকে আরেকটি বর্ণনায় এসেছে, “কোনো এক আনসার সাহাবির বিয়েতে আয়িশা রা. কনেকে সাজালে নবি সা. বললেন, 'হে আয়িশা! কোনো আনন্দ-ফূর্তির ব্যবস্থা করোনি? আনসারগণ এসব আনন্দ-ফূর্তি পছন্দ করে'।”
এই হাদিসটি থেকে বোঝা যায় যে, ইসলাম বিয়ে উপলক্ষ্যে মেয়েদের নিজ অঙ্গনে আনন্দ করা এবং সুন্দর সুন্দর শালীন গান গাওয়ার বিষয়টি অনুমোদন করে। তবে যে গানগুলো গাওয়া হবে বা যে কবিতাগুলো আবৃত্তি করা হবে, তা শালীন হওয়া অপরিহার্য। এমন কোনো গান গাওয়া যাবে না, যাতে শারীরিক ও যৌন কামনায় প্রভাব পড়ে। এমনভাবে গান গাওয়া বা নাচ করা যাবে না, যাতে মেয়েদের শারীরিক অবয়ব বোঝা যায়। বরং মার্জিত কিছু গান গাওয়া যায়, যাতে খুব সরলভাবে কেবল বিয়ের আনন্দটাই প্রকাশিত হয়; অন্য কোনো বাজে খায়েশ নয়।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00