📘 ইসলামিক ম্যানারস > 📄 বিয়ে রাসূল সা.-এর সুন্নাহর একটি অংশ

📄 বিয়ে রাসূল সা.-এর সুন্নাহর একটি অংশ


যদি আপনাকে কোনো বিয়ের অনুষ্ঠানে দাওয়াত দেওয়া হয়, তা হলে সে নিমন্ত্রণ গ্রহণ করুন। বিয়ের দাওয়াত তখনই অগ্রাহ্য করতে পারবেন, যদি আপনার জানামতে সেখানে সুন্নাহ পরিপন্থি কোনো আচারাদি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। বিয়েতে অংশগ্রহণ করা রাসূল সা.-এর সুন্নাহর অংশ। ইসলাম বিয়েশদিকে এক ধরনের ইবাদত এবং আল্লাহর প্রতি আনুগত্যের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে চিহ্নিত করে। ইসলাম বিয়েশাদির চুক্তি বা আক্দ পর্বকে মসজিদে করতে উৎসাহ দেয়। আয়িশা রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন, “তোমরা বিয়ের ঘোষণা দেবে, বিয়ের কাজ মসজিদে সম্পন্ন করবে।” ইবনে মাজাহ : ১৮৯৫

আলিমগণ উল্লিখিত হাদিসের আলোকে এই মর্মে মত প্রদান করেছেন যে, “বিবাহকে ব্যাপকভিত্তিক প্রচার করুন। মসজিদে বিয়ের আয়োজন করুন এবং ঘটা করে সবাইকে বিয়ের খবর জানান।” বিয়ের খবর জোরেশোরে প্রচার করার ব্যাপারে মুসনাদে আহমাদ সহ অন্যান্য হাদিসগ্রন্থেও হাদিস পাওয়া যায়।

অনেকে বিয়েকে ধর্মীয় ইবাদত হিসেবে গণ্য করে তাতে সংশ্লিষ্ট কন্যার অনুমতির বিষয়টিকে অবজ্ঞা করে। এমন বহু বিয়েও আমাদের সমাজে হয়, যেখানে কন্যার কাছ থেকে ন্যূনতম সম্মতিটুকুও নেওয়া হয় না। ইসলামে এরূপ করার কোনো সুযোগ নেই। যার বিয়ে তার অনুমতি অপরিহার্য। অভিভাবক জোর খাটিয়ে বা ইমোশোনালি ব্ল্যাকমেইল করে মেয়েকে তার ইচ্ছের বিরুদ্ধে বিয়ে দিতে পারবেন না। আবু হুরায়রা রা. বর্ণনা করেন, রাসূল সা. বলেছেন, “কোনো বিধবা নারীকে তার সুস্পষ্ট সম্মতি ব্যতীত বিয়ে দেওয়া যাবে না এবং কুমারী মেয়েকে তাঁর অনুমতি ছাড়া বিয়ে দিতে পারবে না।' লোকেরা জিজ্ঞেস করল, 'হে আল্লাহর রাসূল! কেমন করে তার (কুমারীর) অনুমতি নেওয়া হবে?' তিনি বললেন, 'তার চুপ থাকাটাই তার অনুমতি'।" মুসলিম

বিয়েতে অংশগ্রহণের বিষয়টি একজন মুসলিমের সাথে অপর মুসলিমের ভ্রাতৃত্ববোধের অপরিহার্য দাবি। বিয়েতে ঘটা করে আয়োজন করলে হাদিসের নির্দেশনা মোতাবেক প্রচার করার কাজটি হয়ে যায়। সেই সঙ্গে পরবর্তী উত্তরাধিকারীরও ইসলামের এই মৌলিক আচারাদি সম্পর্কে অবগত হওয়ার সুযোগ পায়।

বিয়েতে দুটো পর্ব। প্রথম যেখানে বিয়ের মূল কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হবে, সেখানে পরবর্তী প্রজন্মকে দর্শক হিসেবে রাখতে হবে। আর বিয়ে হয়ে যাওয়ার পর যে আনন্দ আয়োজন সেখানে তাদের ইতিবাচক অংশগ্রহণ থাকা জরুরি। যারা বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হচ্ছেন সেই স্বামী-স্ত্রীর জন্যেও বিয়ের আয়োজনটি সৌভাগ্যের। কেননা, সেখানে তাদের অনেক আত্মীয়স্বজন ও পরিজন অংশ নেয়। আগত সকল মেহমান নতুন দম্পতির জন্য দুআ করেন। তাদের নেক দাম্পত্য জীবন, সফলতা এবং উন্নতির জন্য আল্লাহর সাহায্য কামনা করেন।

খাদিমে রাসূল আনাস রা. থেকে বর্ণনা করেন, "রাসূল সা. একদিন আবদুর রহমান ইবনে আওফ রা.-এর কাপড়ে হলুদ রঙের চিহ্ন দেখতে পেয়ে বললেন, 'এটা কী?' আবদুর রহমান রা. উত্তর দিলেন, 'আমি এক মহিলাকে একটি খেজুরের আঁটি পরিমাণ স্বর্ণের বিনিময়ে বিয়ে করেছি।' নবি সা. বললেন, 'আল্লাহ তায়ালা তোমার এ বিয়েতে বারাকাহ দান করুন। তুমি একটি ছাগল দিয়ে হলেও ওয়ালিমার আয়োজন করো'।"

বর্তমান সময়ে বিয়েশাদির অনুষ্ঠানে বিশাল জমকালো আয়োজন দেখা যায়। অনেক ক্ষেত্রেই এসব অনুষ্ঠানে খাওয়া-দাওয়া ও আয়োজনের যে বিশালতা থাকে, তা শরিয়তের বেঁধে দেওয়া সীমানাকে অতিক্রম করে যায়। অনেকেই এই বিয়েশাদির অনুষ্ঠানকে সামাজিক স্ট্যান্ডার্ড তৈরির প্রতিযোগিতা হিসেবে গণ্য করেন। মুখে স্বীকার না করলেও প্রকৃত বাস্তবতা তেমনটাই বলা যায়। অন্যদিকে, যারা বিয়েতে দাওয়াত পেয়ে যাচ্ছে, তারাও এই ধরনের জমকালো আয়োজনের প্রশংসা করেন। কার বিয়েতে কত লোক খেয়েছে, কার আয়োজন কত বেশি চোখ ধাঁধাল- এগুলো নিয়েই তারা গালগল্পে মেতে ওঠেন। অথচ ইসলামের নির্দেশনা এর বিপরীত।

আবদু ইবনে আব্বাস রা. বর্ণনা করেন, “রাসূলে কারিম সা. দুই প্রতিদ্বন্দ্বী অহংকারকারীর খাদ্য গ্রহণ করতে নিষেধ করেছেন। কেননা, এর মধ্যে রিয়া তথা মানুষকে দেখানোর মানসিকতাই বিদ্যমান থাকে।" আবু দাউদ: ৩৭৫৪

যদি আপনাকে কোনো বিয়ের অনুষ্ঠানে দাওয়াত দেওয়া হয়, তা হলে সে নিমন্ত্রণ গ্রহণ করুন। বিয়ের দাওয়াত তখনই অগ্রাহ্য করতে পারবেন, যদি আপনার জানামте সেখানে সুন্নাহ পরিপন্থি কোনো আচারাদি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। বিয়েতে অংশগ্রহণ করা রাসূল সা.-এর সুন্নাহর অংশ। ইসলাম বিয়েশদিকে এক ধরনের ইবাদত এবং আল্লাহর প্রতি আনুগত্যের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে চিহ্নিত করে। ইসলাম বিয়েশাদির চুক্তি বা আক্দ পর্বকে মসজিদে করতে উৎসাহ দেয়। আয়িশা রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন, “তোমরা বিয়ের ঘোষণা দেবে, বিয়ের কাজ মসজিদে সম্পন্ন করবে।” ইবনে মাজাহ : ১৮৯৫
আলিমগণ উল্লিখিত হাদিসের আলোকে এই মর্মে মত প্রদান করেছেন যে, “বিবাহকে ব্যাপকভিত্তিক প্রচার করুন। মসজিদে বিয়ের আয়োজন করুন এবং ঘটা করে সবাইকে বিয়ের খবর জানান।” বিয়ের খবর জোরেশোরে প্রচার করার ব্যাপারে মুসনাদে আহমাদ সহ অন্যান্য হাদিসগ্রন্থেও হাদিস পাওয়া যায়।
অনেকে বিয়েকে ধর্মীয় ইবাদত হিসেবে গণ্য করে তাতে সংশ্লিষ্ট কন্যার অনুমতির বিষয়টিকে অবজ্ঞা করে। এমন বহু বিয়েও আমাদের সমাজে হয়, যেখানে কন্যার কাছ থেকে ন্যূনতম সম্মতিটুকুও নেওয়া হয় না। ইসলামে এরূপ করার কোনো সুযোগ নেই। যার বিয়ে তার অনুমতি অপরিহার্য। অভিভাবক জোর খাটিয়ে বা ইমোশোনালি ব্ল্যাকমেইল করে মেয়েকে তার ইচ্ছের বিরুদ্ধে বিয়ে দিতে পারবেন না। আবু হুরায়রা রা. বর্ণনা করেন, রাসূল সা. বলেছেন, “কোনো বিধবা নারীকে তার সুস্পষ্ট সম্মতি ব্যতীত বিয়ে দেওয়া যাবে না এবং কুমারী মেয়েকে তাঁর অনুমতি ছাড়া বিয়ে দিতে পারবে না।' লোকেরা জিজ্ঞেস করল, 'হে আল্লাহর রাসূল! কেমন করে তার (কুমারীর) অনুমতি নেওয়া হবে?' তিনি বললেন, 'তার চুপ থাকাটাই তার অনুমতি'।" মুসলিম
বিয়েতে অংশগ্রহণের বিষয়টি একজন মুসলিমের সাথে অপর মুসলিমের ভ্রাতৃত্ববোধের অপরিহার্য দাবি। বিয়েতে ঘটা করে আয়োজন করলে হাদিসের নির্দেশনা মোতাবেক প্রচার করার কাজটি হয়ে যায়। সেই সঙ্গে পরবর্তী উত্তরাধিকারীরও ইসলামের এই মৌলিক আচারাদি সম্পর্কে অবগত হওয়ার সুযোগ পায়।
বিয়েতে দুটো পর্ব। প্রথম যেখানে বিয়ের মূল কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হবে, সেখানে পরবর্তী প্রজন্মকে দর্শক হিসেবে রাখতে হবে। আর বিয়ে হয়ে যাওয়ার পর যে আনন্দ আয়োজন সেখানে তাদের ইতিবাচক অংশগ্রহণ থাকা জরুরি। যারা বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হচ্ছেন সেই স্বামী-স্ত্রীর জন্যেও বিয়ের আয়োজনটি সৌভাগ্যের। কেননা, সেখানে তাদের অনেক আত্মীয়স্বজন ও পরিজন অংশ নেয়। আগত সকল মেহমান নতুন দম্পতির জন্য দুআ করেন। তাদের নেক দাম্পত্য জীবন, সফলতা এবং উন্নতির জন্য আল্লাহর সাহায্য কামনা করেন।
খাদিমে রাসূল আনাস রা. থেকে বর্ণনা করেন, "রাসূল সা. একদিন আবদুর রহমান ইবনে আওফ রা.-এর কাপড়ে হলুদ রঙের চিহ্ন দেখতে পেয়ে বললেন, 'এটা কী?' আবদুর রহমান রা. উত্তর দিলেন, 'আমি এক মহিলাকে একটি খেজুরের আঁটি পরিমাণ স্বর্ণের বিনিময়ে বিয়ে করেছি।' নবি সা. বললেন, 'আল্লাহ তায়ালা তোমার এ বিয়েতে বারাকাহ দান করুন। তুমি একটি ছাগল দিয়ে হলেও ওয়ালিমার আয়োজন করো'।"
বর্তমান সময়ে বিয়েশাদির অনুষ্ঠানে বিশাল জমকালো আয়োজন দেখা যায়। অনেক ক্ষেত্রেই এসব অনুষ্ঠানে খাওয়া-দাওয়া ও আয়োজনের যে বিশালতা থাকে, তা শরিয়তের বেঁধে দেওয়া সীমানাকে অতিক্রম করে যায়। অনেকেই এই বিয়েশাদির অনুষ্ঠানকে সামাজিক স্ট্যান্ডার্ড তৈরির প্রতিযোগিতা হিসেবে গণ্য করেন। মুখে স্বীকার না করলেও প্রকৃত বাস্তবতা তেমনটাই বলা যায়। অন্যদিকে, যারা বিয়েতে দাওয়াত পেয়ে যাচ্ছে, তারাও এই ধরনের জমকালো আয়োজনের প্রশংসা করেন। কার বিয়েতে কত লোক খেয়েছে, কার আয়োজন কত বেশি চোখ ধাঁধাল- এগুলো নিয়েই তারা গালগল্পে মেতে ওঠেন। অথচ ইসলামের নির্দেশনা এর বিপরীত।
আবদু ইবনে আব্বাস রা. বর্ণনা করেন, “রাসূলে কারিম সা. দুই প্রতিদ্বন্দ্বী অহংকারকারীর খাদ্য গ্রহণ করতে নিষেধ করেছেন। কেননা, এর মধ্যে রিয়া তথা মানুষকে দেখানোর মানসিকতাই বিদ্যমান থাকে।" আবু দাউদ: ৩৭৫৪

📘 ইসলামিক ম্যানারস > 📄 বিয়েতে অংশ নেওয়ার আদব

📄 বিয়েতে অংশ নেওয়ার আদব


যদি আপনাকে বিয়ের দাওয়াত দেওয়া হয়, তা হলে হাসিমুখে ও আনন্দচিত্তে উক্ত অনুষ্ঠানে আপনি অংশ নিতে পারেন। রাসূল সা. তাঁর উম্মাহর জন্য এরকম নির্দেশনাই দিয়ে গেছেন। আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত হাদিসে এসেছে, “যে ওয়ালিমায় কেবল ধনীদের দাওয়াত করা হয় এবং গরিবদের দাওয়াত করা হয় না, সেই ওয়ালিমা সবচেয়ে নিকৃষ্ট। আর যে ব্যক্তি দাওয়াত কবুল করে না, সে আল্লাহ এবং তাঁর রাসূলের সঙ্গে অবাধ্যতা করে।” মুসলিম : ১৪৩২

ইবনে উমর রা. বর্ণনা করেন, রাসূল সা. বলেছেন, “যদি তোমাদের বিয়ে অনুষ্ঠানে দাওয়াত দেওয়া হয়, তবে তা রক্ষা করো।”

এই ধরনের আয়োজনে যাওয়ার ক্ষেত্রে সঠিক পোশাক পরিধান করুন। রাসূল সা.-এর সাহাবিরা সব সময় বিয়ের আয়োজনে উত্তম পোশাক পরে যেতেন।

যদি সেখানে গিয়ে কারও সাথে কথা বলেন, তা হলে এমন কথা বলবেন যা বিয়ের আনন্দঘন উৎসবের সাথে সংগতিপূর্ণ হয়। এমন কোনো কথা বলবেন না, যাতে বিয়ের উৎসব আয়োজনটি বিষাদে ছেয়ে যায়। এসব অনুষ্ঠানের ক্ষেত্রে অনেক বেশি বিবেচক ও সহনশীল হওয়া মুসলিমের নৈতিক দায়িত্ব। বিয়ের অনুষ্ঠানে যাওয়ার ব্যাপারে মহিলা ও শিশুদের ব্যাপক আগ্রহ দেখা যায় এবং রাসূল সা. তাদেরকে এই আনন্দ আয়োজনে অংশ নেওয়ার বিষয়ে অনুমোদনও দিয়েছেন।

আনাস বিন মালিক রা. থেকে বর্ণিত, একদা রাসূল সা. কিছু মহিলা এবং শিশুকে বিয়ের অনুষ্ঠান শেষে আনন্দচিত্তে ফিরতে দেখলেন। তিনিও আনন্দে দাঁড়িয়ে গেলেন এবং বললেন, 'আল্লাহর নামে বলছি, তোমরা সকল মানুষের চেয়ে আমার কাছে প্রিয়।'

বর ও কনেকে তাদের নতুন জীবন শুরুর পথে অভিনন্দন জানাবেন। ইবনে মাজাহ ও তিরমিযিতে বর্ণিত হাদিসে পাওয়া যায়, নতুন দম্পতিকে উদ্দেশ্য করে রাসূল সা. বলতেন, بَارَكَ اللهُ لَكَ وَبَارَكَ عَلَيْكَ وَجَمَعَ بَيْنَكُمَا فِي خَيْرٍ (আল্লাহ তায়ালা তোমাদের জীবনকে বরকতময় করুন আর তোমাদেরকে কল্যাণের মধ্যে একত্রিত করুন)।" তিরমিযি : ১০৯১, ইবনে মাজাহ : ২৯০৫

ইসলাম আসার আগে জাহেলি যুগে আল্লাহর রহমত কামনা করা হতো না। বরং নতুন দম্পতি যেন আরামে ও সুখে থাকতে পারে এবং তাদের যেন অনেক সন্তানাদি হয় সেই কামনা করা হতো। রাসূল সা. তা পরিবর্তন করে নতুন দম্পতির জন্য আল্লাহর রহমত কামনা করে দুআ করার প্রথা চালু করেন।

উম্মুল মুমিনিন আয়িশা রা. বলেন, "যখন নবিজি সা. আমাকে বিয়ে করেন, আমার মা আমাকে আনসারদের একটি ঘরে নিয়ে গিয়েছিলেন, যেখানে আনসার মহিলারা আমাদের বিয়ে উপলক্ষ্যে আনন্দ উৎসব করছিল। আমি ভেতরে যাওয়ার পর তারা আমাকে অভিনন্দন জানায়, উপহার দেয় এবং শুভ কামনা করে দুআ করে।” আয়িশা রা. থেকে আরেকটি বর্ণনায় এসেছে, “কোনো এক আনসার সাহাবির বিয়েতে আয়িশা রা. কনেকে সাজালে নবি সা. বললেন, 'হে আয়িশা! কোনো আনন্দ-ফূর্তির ব্যবস্থা করোনি? আনসারগণ এসব আনন্দ-ূর্তি পছন্দ করে'।”

এই হাদিসটি থেকে বোঝা যায় যে, ইসলাম বিয়ে উপলক্ষ্যে মেয়েদের নিজ অঙ্গনে আনন্দ করা এবং সুন্দর সুন্দর শালীন গান গাওয়ার বিষয়টি অনুমোদন করে। তবে যে গানগুলো গাওয়া হবে বা যে কবিতাগুলো আবৃত্তি করা হবে, তা শালীন হওয়া অপরিহার্য। এমন কোনো গান গাওয়া যাবে না, যাতে শারীরিক ও যৌন কামনায় প্রভাব পড়ে। এমনভাবে গান গাওয়া বা নাচ করা যাবে না, যাতে মেয়েদের শারীরিক অবয়ব বোঝা যায়। বরং মার্জিত কিছু গান গাওয়া যায়, যাতে খুব সরলভাবে কেবল বিয়ের আনন্দটাই প্রকাশিত হয়; অন্য কোনো বাজে খায়েশ নয়।

যদি আপনাকে বিয়ের দাওয়াত দেওয়া হয়, তা হলে হাসিমুখে ও আনন্দচিত্তে উক্ত অনুষ্ঠানে আপনি অংশ নিতে পারেন। রাসূল সা. তাঁর উম্মাহর জন্য এরকম নির্দেশনাই দিয়ে গেছেন। আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত হাদিসে এসেছে, “যে ওয়ালিমায় কেবল ধনীদের দাওয়াত করা হয় এবং গরিবদের দাওয়াত করা হয় না, সেই ওয়ালিমা সবচেয়ে নিকৃষ্ট। আর যে ব্যক্তি দাওয়াত কবুল করে না, সে আল্লাহ এবং তাঁর রাসূলের সঙ্গে অবাধ্যতা করে।” মুসলিম : ১৪৩২
ইবনে উমর রা. বর্ণনা করেন, রাসূল সা. বলেছেন, “যদি তোমাদের বিয়ে অনুষ্ঠানে দাওয়াত দেওয়া হয়, তবে তা রক্ষা করো।”
এই ধরনের আয়োজনে যাওয়ার ক্ষেত্রে সঠিক পোশাক পরিধান করুন। রাসূল সা.-এর সাহাবিরা সব সময় বিয়ের আয়োজনে উত্তম পোশাক পরে যেতেন।
যদি সেখানে গিয়ে কারও সাথে কথা বলেন, তা হলে এমন কথা বলবেন যা বিয়ের আনন্দঘন উৎসবের সাথে সংগতিপূর্ণ হয়। এমন কোনো কথা বলবেন না, যাতে বিয়ের উৎসব আয়োজনটি বিষাদে ছেয়ে যায়। এসব অনুষ্ঠানের ক্ষেত্রে অনেক বেশি বিবেচক ও সহনশীল হওয়া মুসলিমের নৈতিক দায়িত্ব। বিয়ের অনুষ্ঠানে যাওয়ার ব্যাপারে মহিলা ও শিশুদের ব্যাপক আগ্রহ দেখা যায় এবং রাসূল সা. তাদেরকে এই আনন্দ আয়োজনে অংশ নেওয়ার বিষয়ে অনুমোদনও দিয়েছেন।
আনাস বিন মালিক রা. থেকে বর্ণিত, একদা রাসূল সা. কিছু মহিলা এবং শিশুকে বিয়ের অনুষ্ঠান শেষে আনন্দচিত্তে ফিরতে দেখলেন। তিনিও আনন্দে দাঁড়িয়ে গেলেন এবং বললেন, 'আল্লাহর নামে বলছি, তোমরা সকল মানুষের চেয়ে আমার কাছে প্রিয়।'
বর ও কনেকে তাদের নতুন জীবন শুরুর পথে অভিনন্দন জানাবেন। ইবনে মাজাহ ও তিরমিযিতে বর্ণিত হাদিসে পাওয়া যায়, নতুন দম্পতিকে উদ্দেশ্য করে রাসূল সা. বলতেন, بَارَكَ اللهُ لَكَ وَبَارَكَ عَلَيْكَ وَجَمَعَ بَيْنَكُمَا فِي خَيْرٍ (আল্লাহ তায়ালা তোমাদের জীবনকে বরকতময় করুন আর তোমাদেরকে কল্যাণের মধ্যে একত্রিত করুন)।" তিরমিযি : ১০৯১, ইবনে মাজাহ : ২৯০৫
ইসলাম আসার আগে জাহেলি যুগে আল্লাহর রহমত কামনা করা হতো না। বরং নতুন দম্পতি যেন আরামে ও সুখে থাকতে পারে এবং তাদের যেন অনেক সন্তানাদি হয় সেই কামনা করা হতো। রাসূল সা. তা পরিবর্তন করে নতুন দম্পতির জন্য আল্লাহর রহমত কামনা করে দুআ করার প্রথা চালু করেন।
উম্মুল মুমিনিন আয়িশা রা. বলেন, "যখন নবিজি সা. আমাকে বিয়ে করেন, আমার মা আমাকে আনসারদের একটি ঘরে নিয়ে গিয়েছিলেন, যেখানে আনসার মহিলারা আমাদের বিয়ে উপলক্ষ্যে আনন্দ উৎসব করছিল। আমি ভেতরে যাওয়ার পর তারা আমাকে অভিনন্দন জানায়, উপহার দেয় এবং শুভ কামনা করে দুআ করে।” আয়িশা রা. থেকে আরেকটি বর্ণনায় এসেছে, “কোনো এক আনসার সাহাবির বিয়েতে আয়িশা রা. কনেকে সাজালে নবি সা. বললেন, 'হে আয়িশা! কোনো আনন্দ-ফূর্তির ব্যবস্থা করোনি? আনসারগণ এসব আনন্দ-ফূর্তি পছন্দ করে'।”
এই হাদিসটি থেকে বোঝা যায় যে, ইসলাম বিয়ে উপলক্ষ্যে মেয়েদের নিজ অঙ্গনে আনন্দ করা এবং সুন্দর সুন্দর শালীন গান গাওয়ার বিষয়টি অনুমোদন করে। তবে যে গানগুলো গাওয়া হবে বা যে কবিতাগুলো আবৃত্তি করা হবে, তা শালীন হওয়া অপরিহার্য। এমন কোনো গান গাওয়া যাবে না, যাতে শারীরিক ও যৌন কামনায় প্রভাব পড়ে। এমনভাবে গান গাওয়া বা নাচ করা যাবে না, যাতে মেয়েদের শারীরিক অবয়ব বোঝা যায়। বরং মার্জিত কিছু গান গাওয়া যায়, যাতে খুব সরলভাবে কেবল বিয়ের আনন্দটাই প্রকাশিত হয়; অন্য কোনো বাজে খায়েশ নয়।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00