📄 মসজিদ মুমিনজীবনের কেন্দ্রস্থল
আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা বান্দাদের উদ্দেশে বলেন, “হে বনি আদম! তোমরা প্রত্যেক নামাজের সময় সুন্দর পোশাক পরিধান করে নাও। খাও এবং পান করো এবং অপব্যয় করো না। তিনি অপব্যয়ীদের পছন্দ করেন না।” সূরা আরাফ : ৩১
মসজিদে যাওয়া মুমিনের প্রতিদিনের কাজ। মুমিন জীবনের একটি কেন্দ্র ও মৌলিক প্রভাবক স্থান মসজিদ। মসজিদে গমন মুমিনের জন্য কতটা প্রয়োজনীয় তা বোঝা যায় নিন্মোক্ত হাদিস থেকে।
আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলল্লাহ সা. বলেছেন, “জামায়াতে নামাজ পড়ার নেকি বাজারে (কর্মস্থলে) ও বাড়িতে নামাজ পড়ার চেয়ে ২৫ বা ২৭ গুণ বেশি। আর তা এ জন্য যে, যখন কোনো ব্যক্তি উত্তমরূপে অজু করে নামাজের উদ্দেশ্যে মসজিদে আসে এবং নামাজই তাকে মসজিদে নিয়ে যায়, তখন তার মসজিদে প্রবেশ করা পর্যন্ত প্রত্যেক পদক্ষেপের বিনিময়ে একটি মর্যাদা উন্নত হয় এবং একটি করে গুনাহ মাফ করা হয়। অতঃপর যখন সে মসজিদে প্রবেশ করে, তখন যে পর্যন্ত নামাজ তাকে (মসজিদে) আটকে রাখে, সে পর্যন্ত সে নামাজের মধ্যেই থাকে। আর ফেরেশতারা ওই ব্যক্তির জন্য ততক্ষণ রহমতের দুআ করতে থাকে, যতক্ষণ নামাজের স্থানে সে বসে থাকে। তাঁরা বলে, 'হে আল্লাহ, এর প্রতি দয়া করো। হে আল্লাহ, একে ক্ষমা করো। হে আল্লাহ, এই বান্দার তওবা কবুল করো।' (ফেরেশতাদের এই দুআ চলতেই থাকে) যে পর্যন্ত সে কাউকে কষ্ট না দেয়, যে পর্যন্ত তার অজু নষ্ট না হয়।” বুখারি : ২১১৯, মুসলিম : ১৫৩৮
রাসূল সা. বলেছেন, “তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি নামাজের উদ্দেশ্যে সঠিকভাবে অজু করবে, তারপর নামাজ পড়ার জন্য বেরিয়ে যাবে এবং জামায়াতে নামাজ আদায় করবে, আল্লাহ তার গুনাহগুলোকে মাফ করে দেবেন।” মুসলিম
আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা বান্দাদের উদ্দেশে বলেন, “হে বনি আদম! তোমরা প্রত্যেক নামাজের সময় সুন্দর পোশাক পরিধান করে নাও। খাও এবং পান করো এবং অপব্যয় করো না। তিনি অপব্যয়ীদের পছন্দ করেন না।” সূরা আরাফ : ৩১
মসজিদে যাওয়া মুমিনের প্রতিদিনের কাজ। মুমিন জীবনের একটি কেন্দ্র ও মৌলিক প্রভাবক স্থান মসজিদ। মসজিদে গমন মুমিনের জন্য কতটা প্রয়োজনীয় তা বোঝা যায় নিন্মোক্ত হাদিস থেকে।
আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলল্লাহ সা. বলেছেন, “জামায়াতে নামাজ পড়ার নেকি বাজারে (কর্মস্থলে) ও বাড়িতে নামাজ পড়ার চেয়ে ২৫ বা ২৭ গুণ বেশি। আর তা এ জন্য যে, যখন কোনো ব্যক্তি উত্তমরূপে অজু করে নামাজের উদ্দেশ্যে মসজিদে আসে এবং নামাজই তাকে মসজিদে নিয়ে যায়, তখন তার মসজিদে প্রবেশ করা পর্যন্ত প্রত্যেক পদক্ষেপের বিনিময়ে একটি মর্যাদা উন্নত হয় এবং একটি করে গুনাহ মাফ করা হয়। অতঃপর যখন সে মসজিদে প্রবেশ করে, তখন যে পর্যন্ত নামাজ তাকে (মসজিদে) আটকে রাখে, সে পর্যন্ত সে নামাজের মধ্যেই থাকে। আর ফেরেশতারা ওই ব্যক্তির জন্য ততক্ষণ রহমতের দুআ করতে থাকে, যতক্ষণ নামাজের স্থানে সে বসে থাকে। তাঁরা বলে, 'হে আল্লাহ, এর প্রতি দয়া করো। হে আল্লাহ, একে ক্ষমা করো। হে আল্লাহ, এই বান্দার তওবা কবুল করো।' (ফেরেশতাদের এই দুআ চলতেই থাকে) যে পর্যন্ত সে কাউকে কষ্ট না দেয়, যে পর্যন্ত তার অজু নষ্ট না হয়।” বুখারি : ২১১৯, মুসলিম : ১৫৩৮
রাসূল সা. বলেছেন, “তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি নামাজের উদ্দেশ্যে সঠিকভাবে অজু করবে, তারপর নামাজ পড়ার জন্য বেরিয়ে যাবে এবং জামায়াতে নামাজ আদায় করবে, আল্লাহ তার গুনাহগুলোকে মাফ করে দেবেন।” মুসলিম
📄 মসজিদে যাওয়ার আগে মুখ দুর্গন্ধমুক্ত করুন
মসজিদে যাওয়ার সময় খেয়াল করতে হবে, মুখে কোনো দুর্গন্ধ আছে কিনা। বাজে গন্ধ বের হয় এমন কিছু খেয়ে মসজিদে না যাওয়াই উত্তম। কেননা, নামাজের সময় কোনো এক মুসল্লির মুখ থেকে দুর্গন্ধ বের হতে থাকলে তাতে অন্যদের ইবাদতে অস্বস্তিবোধ হবে। তাই নামাজে যাওয়ার আগে এ জাতীয় কোনো জিনিস না খেলেই ভালো। অথবা খেলেও এমনভাবে পরিষ্কার করা অথবা কোনো মাউথ ফ্রেশনার ব্যবহার করা দরকার যাতে সেই দুর্গন্ধ দূর হয়ে যায়।
মসজিদে যাওয়ার সময় খেয়াল করতে হবে, মুখে কোনো দুর্গন্ধ আছে কিনা। বাজে গন্ধ বের হয় এমন কিছু খেয়ে মসজিদে না যাওয়াই উত্তম। কেননা, নামাজের সময় কোনো এক মুসল্লির মুখ থেকে দুর্গন্ধ বের হতে থাকলে তাতে অন্যদের ইবাদতে অস্বস্তিবোধ হবে। তাই নামাজে যাওয়ার আগে এ জাতীয় কোনো জিনিস না খেলেই ভালো। অথবা খেলেও এমনভাবে পরিষ্কার করা অথবা কোনো মাউথ ফ্রেশনার ব্যবহার করা দরকার যাতে সেই দুর্গন্ধ দূর হয়ে যায়।
📄 আগে যাওয়ার চেষ্টা করা
মসজিদে যাওয়ার ক্ষেত্রে সব সময় আগে যাওয়ার চেষ্টা করা কাম্য। মসজিদে যাওয়ার সময় খুব হুড়োহুড়ি ও অস্বাভাবিক গতিতে চলা উচিত নয়। বরং মসজিদে যাওয়ার পথে হাঁটার সময় এক ধরনের শান্তভাব থাকতে হবে। তা হলে মানসিকভাবেও ভালো থাকা যায় এবং নামাজে যথাযথ মনোযোগ দেওয়া যায়। দৌড়াতে দৌড়াতে নামাজে ঢুকলে নামাজে মনোযোগ দেওয়া কঠিন হয়। এমনকি নামাজ শুরু হয়ে গেলেও দৌড় দেওয়া উচিত নয়।
আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, আমি রাসূল সা.-কে বলতে শুনেছি, “সালাতের ইকামত দেওয়া হলে, তোমরা সালাতের জন্য দৌড়ে আসবে না; বরং স্বাভাবিক গতিতে শান্তভাবে হেঁটে আসবে এবং (ইমামের সাথে) যতটুকু সালাত পাবে আদায় করে নেবে। আর যেটুকু ছুটে গেছে তা পূর্ণ করে নেবে।" বুখারি : ৯০৮, তিরমিযি: ৩২৮, আবু দাউদ : ৫৭২
মসজিদে যাওয়ার ক্ষেত্রে সব সময় আগে যাওয়ার চেষ্টা করা কাম্য। মসজিদে যাওয়ার সময় খুব হুড়োহুড়ি ও অস্বাভাবিক গতিতে চলা উচিত নয়। বরং মসজিদে যাওয়ার পথে হাঁটার সময় এক ধরনের শান্তভাব থাকতে হবে। তা হলে মানসিকভাবেও ভালো থাকা যায় এবং নামাজে যথাযথ মনোযোগ দেওয়া যায়। দৌড়াতে দৌড়াতে নামাজে ঢুকলে নামাজে মনোযোগ দেওয়া কঠিন হয়। এমনকি নামাজ শুরু হয়ে গেলেও দৌড় দেওয়া উচিত নয়।
আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, আমি রাসূল সা.-কে বলতে শুনেছি, “সালাতের ইকামত দেওয়া হলে, তোমরা সালাতের জন্য দৌড়ে আসবে না; বরং স্বাভাবিক গতিতে শান্তভাবে হেঁটে আসবে এবং (ইমামের সাথে) যতটুকু সালাত পাবে আদায় করে নেবে। আর যেটুকু ছুটে গেছে তা পূর্ণ করে নেবে।" বুখারি : ৯০৮, তিরমিযি: ৩২৮, আবু দাউদ : ৫৭২
📄 মসজিদে প্রবেশ, অবস্থান ও বের হওয়ার আদব
মসজিদে প্রবেশ করার সময় এবং মসজিদ থেকে বের হওয়ার সময় দুআ করা সুন্নাত। রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন, “তোমাদের কেউ যখন মসজিদে প্রবেশ করে, তখন সে যেন বলে, اللَّهُمَّ افْتَحْ لِي أَبْوَابَ رَحْمَتِكَ (হে আল্লাহ! আমার জন্য আপনার রহমতের দরজা খুলে দিন)। আর যখন বের হয় তখন যেন বলে, اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ مِنْ فَضْلِكَ (হে আল্লাহ! আমি আপনার নিকট আপনার অনুগ্রহ প্রার্থনা করছি।” মুসলিম: ৭১৩, নাসায়ি : ৭২৯, আবু দাউদ : ৪৬৫
মসজিদে প্রবেশ করেই দুই রাকাত নামাজ আদায়ের বিধান আছে। আমাদের মধ্যে মসজিদে একেবারে শেষ মুহূর্তে হাজির হওয়ার মানসিকতা রয়েছে। পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ তো বটেই, জুমার নামাজেও একেবারে জামাত দাঁড়ানোর সময়ে গিয়ে আমরা হাজির হই। আবার নামাজ পড়েই আমরা বের হয়ে যাওয়ার জন্য ব্যস্ত হয়ে যাই। এমনকি অনেককে ডিঙিয়ে বেরিয়ে যেতেও আমরা পরোয়া করি না। কিন্তু রাসূল সা.-এর হাদিস আমাদেরকে এই জাতীয় আচরণ থেকে বিরত থাকার তাগিদ দিচ্ছে।
আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন, “তোমাদের কেউ মসজিদে প্রবেশে করার পর সেখানে যতক্ষণ নামাজের জন্য অবস্থান করবে, সেই সময়টাকে সালাতের মধ্যে গণ্য করা হবে। ততক্ষণ ফেরেশতারা তার জন্য নিম্নরূপ দুআ করতে থাকে, 'হে আল্লাহ, তাকে ক্ষমা করে দিন। হে আল্লাহ, এই বান্দার প্রতি দয়া করুন।' যতক্ষণ পর্যন্ত সে কাউকে কষ্ট না দেয় অথবা তার অজু না ভাঙে, ততক্ষণ পর্যন্তই ফেরেশতাগণ তার জন্য এই দুআ করতেই থাকে।” বুখারি : ১৭৬, মুসলিম: ৬৪৯
অনেকেরই মসজিদে শোয়ার একটি অভ্যাস থাকে। যদিও কিছু হাদিসে তথ্য পাওয়া যায় যে, রাসূল সা.-কে বেশ কিছু সাহাবি মাসজিদে তাঁর এক পায়ের ওপর অপর পা রেখে চিত হয়ে শুয়ে থাকতে দেখেছেন। তাই বলে বিষয়টাকে নিয়মিত চর্চা বানিয়ে নেওয়াও ঠিক নয়। আর যদি কেউ মসজিদে শুয়ে থাকেন, তা হলে সতর্ক থাকবেন যাতে তার গোপনাঙ্গগুলো উন্মচিত না হয়।
অনেকেই মনে করে, মসজিদে দুনিয়াবি বিষয় নিয়ে কথা বলা হারাম। এটা সঠিক নয়। মসজিদে অবশ্যই দুনিয়াবি কথা বলা যাবে। তবে এক্ষেত্রে খেয়াল রাখতে হবে, যাতে আমার কথার কারণে অন্য কারও মনোসংযোগে ব্যাঘাত না ঘটে। যারা নামাজ পড়ছেন, কুরআন তিলাওয়াত করছেন অথবা পড়াশোনা করছেন, আমাদের কথায় যেন তাদের কোনো সমস্যা না হয়। তাদের কান যেন আমাদের কথা শুনতে না পায়। দুনিয়াবি কথা বলার সুযোগ দেওয়া হয়েছে বলে এটাকে নিয়মিত অভ্যাস বানিয়ে ফেলা ঠিক নয়। সব রকমের আজেবাজে বিষয় নিয়ে মসজিদে কথা বলাও কোনো শিষ্টাচারের মধ্যে পড়ে না। মসজিদে প্রবেশ করার পর কোনোভাবেই সেই ধরনের কথা বলা যাবে না বা সেই ধরনের কাজ করা যাবে না- যেগুলোকে শরিয়াত অনুমোদন দেয়নি।
মসজিদে যদি মহিলাদের যাওয়ার পরিবেশ, ব্যবস্থা ও সুযোগ থাকে; আর বাড়ির মহিলারা মসজিদে সালাত আদায় করতে চায়, তা হলে তাদেরকে সহযোগিতা করতে হবে। রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন, “তোমাদের কারও স্ত্রী যদি মসজিদে যাওয়ার অনুমতি চায়, তবে সে যেন তাকে নিষেধ না করে।" মুসলিম: ১০১৭
আবু হুরায়রা রা. থেকে আরেকটি বর্ণনায় এসেছে, রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন, "তোমরা নারীদের আল্লাহর ঘরে (মসজিদে) যেতে নিষেধ করো না। তবে তারা বের হওয়ার সময় যেন সুগন্ধি ব্যবহার না করে।" আবু দাউদ: ৫৬৫
সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন দেশের শুরা কাউন্সিলও যথাযথ পরিবেশ রক্ষা সাপেক্ষে মহিলাদের মসেিজদ যাওয়ার বিষয়টি অনুমোদন করেছে। তবে মহিলাদেরকে আলাদা স্থানে বা পেছনের কাতারে দাঁড়িয়ে নামাজ আদায় করতে হবে। পুরুষদের পাশে মহিলাদের নামাজে দাঁড়ানোর কোনো সুযোগ নেই।
মসজিদে প্রবেশ করার সময় এবং মসজিদ থেকে বের হওয়ার সময় দুআ করা সুন্নাত। রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন, “তোমাদের কেউ যখন মসজিদে প্রবেশ করে, তখন সে যেন বলে, اللَّهُمَّ افْتَحْ لِي أَبْوَابَ رَحْمَتِكَ (হে আল্লাহ! আমার জন্য আপনার রহমতের দরজা খুলে দিন)। আর যখন বের হয় তখন যেন বলে, اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ مِنْ فَضْلِكَ (হে আল্লাহ! আমি আপনার নিকট আপনার অনুগ্রহ প্রার্থনা করছি।” মুসলিম: ৭১৩, নাসায়ি : ৭২৯, আবু দাউদ : ৪৬৫
মসজিদে প্রবেশ করেই দুই রাকাত নামাজ আদায়ের বিধান আছে। আমাদের মধ্যে মসজিদে একেবারে শেষ মুহূর্তে হাজির হওয়ার মানসিকতা রয়েছে। পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ তো বটেই, জুমার নামাজেও একেবারে জামাত দাঁড়ানোর সময়ে গিয়ে আমরা হাজির হই। আবার নামাজ পড়েই আমরা বের হয়ে যাওয়ার জন্য ব্যস্ত হয়ে যাই। এমনকি অনেককে ডিঙিয়ে বেরিয়ে যেতেও আমরা পরোয়া করি না। কিন্তু রাসূল সা.-এর হাদিস আমাদেরকে এই জাতীয় আচরণ থেকে বিরত থাকার তাগিদ দিচ্ছে।
আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন, “তোমাদের কেউ মসজিদে প্রবেশে করার পর সেখানে যতক্ষণ নামাজের জন্য অবস্থান করবে, সেই সময়টাকে সালাতের মধ্যে গণ্য করা হবে। ততক্ষণ ফেরেশতারা তার জন্য নিম্নরূপ দুআ করতে থাকে, 'হে আল্লাহ, তাকে ক্ষমা করে দিন। হে আল্লাহ, এই বান্দার প্রতি দয়া করুন।' যতক্ষণ পর্যন্ত সে কাউকে কষ্ট না দেয় অথবা তার অজু না ভাঙে, ততক্ষণ পর্যন্তই ফেরেশতাগণ তার জন্য এই দুআ করতেই থাকে।” বুখারি : ১৭৬, মুসলিম: ৬৪৯
অনেকেরই মসজিদে শোয়ার একটি অভ্যাস থাকে। যদিও কিছু হাদিসে তথ্য পাওয়া যায় যে, রাসূল সা.-কে বেশ কিছু সাহাবি মাসজিদে তাঁর এক পায়ের ওপর অপর পা রেখে চিত হয়ে শুয়ে থাকতে দেখেছেন। তাই বলে বিষয়টাকে নিয়মিত চর্চা বানিয়ে নেওয়াও ঠিক নয়। আর যদি কেউ মসজিদে শুয়ে থাকেন, তা হলে সতর্ক থাকবেন যাতে তার গোপনাঙ্গগুলো উন্মোচিত না হয়।
অনেকেই মনে করে, মসজিদে দুনিয়াবি বিষয় নিয়ে কথা বলা হারাম। এটা সঠিক নয়। মসজিদে অবশ্যই দুনিয়াবি কথা বলা যাবে। তবে এক্ষেত্রে খেয়াল রাখতে হবে, যাতে আমার কথার কারণে অন্য কারও মনোসংযোগে ব্যাঘাত না ঘটে। যারা নামাজ পড়ছেন, কুরআন তিলাওয়াত করছেন অথবা পড়াশোনা করছেন, আমাদের কথায় যেন তাদের কোনো সমস্যা না হয়। তাদের কান যেন আমাদের কথা শুনতে না পায়। দুনিয়াবি কথা বলার সুযোগ দেওয়া হয়েছে বলে এটাকে নিয়মিত অভ্যাস বানিয়ে ফেলা ঠিক নয়। সব রকমের আজেবাজে বিষয় নিয়ে মসজিদে কথা বলাও কোনো শিষ্টাচারের মধ্যে পড়ে না। মসজিদে প্রবেশ করার পর কোনোভাবেই সেই ধরনের কথা বলা যাবে না বা সেই ধরনের কাজ করা যাবে না- যেগুলোকে শরিয়াত অনুমোদন দেয়নি।
মসজিদে যদি মহিলাদের যাওয়ার পরিবেশ, ব্যবস্থা ও সুযোগ থাকে; আর বাড়ির মহিলারা মসজিদে সালাত আদায় করতে চায়, তা হলে তাদেরকে সহযোগিতা করতে হবে। রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন, “তোমাদের কারও স্ত্রী যদি মসজিদে যাওয়ার অনুমতি চায়, তবে সে যেন তাকে নিষেধ না করে।" মুসলিম: ১০১৭
আবু হুরায়রা রা. থেকে আরেকটি বর্ণনায় এসেছে, রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন, "তোমরা নারীদের আল্লাহর ঘরে (মসজিদে) যেতে নিষেধ করো না। তবে তারা বের হওয়ার সময় যেন সুগন্ধি ব্যবহার না করে।" আবু দাউদ: ৫৬৫
সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন দেশের শুরা কাউন্সিলও যথাযথ পরিবেশ রক্ষা সাপেক্ষে মহিলাদের মসেিজদ যাওয়ার বিষয়টি অনুমোদন করেছে। তবে মহিলাদেরকে আলাদা স্থানে বা পেছনের কাতারে দাঁড়িয়ে নামাজ আদায় করতে হবে। পুরুষদের পাশে মহিলাদের নামাজে দাঁড়ানোর কোনো সুযোগ নেই।