📘 ইসলামিক ম্যানারস > 📄 খাওয়ার আদবসমূহ

📄 খাওয়ার আদবসমূহ


খাওয়ার সময় কিছু আদব আছে যা মেনে চলা খুবই জরুরি। যেমন শুরু করার আগে 'বিসমিল্লাহ' বলা। রিজিকদাতা আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান এবং খাবার শেষ করার পর বলুন 'আলহামদুলিল্লাহ'। ইমাম ইবনুল কাইয়িম রহ. বলেন, “খাওয়ার আগে বিসমিল্লাহ পড়া শরীর ও মন উভয়ের জন্যই কল্যাণকর।" আর ইমাম আহমাদ রহ. বলেন, "চারটি জিনিস একসঙ্গে ঘটলেই খাবারের আয়োজনটি পরিপূর্ণ হয়। ১. খাবার আগে আল্লাহর নাম নেওয়া ২. খাওয়া শেষে আল্লাহর নাম নেওয়া এবং তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা ৩. কয়েকজন মিলে খাবারটি শেয়ার করে খাওয়া বা একসঙ্গে কয়েকজন মিলে খাওয়া এবং ৪. হালাল উপার্জনের মাধ্যমে খাবার ক্রয় করা।"

হুযাইফা ইবনে ইয়ামান রা. বর্ণনা করেন, “আমরা রাসূলুল্লাহ সা.-এর সঙ্গে খেতে বসলে তাঁর খাওয়া আরম্ভ করার পূর্বে আমরা কেউ খাদ্যের দিকে হাত বাড়াতাম না। একদিন আমরা তাঁর সাথে খেতে বসি। এমন সময় এক বেদুইন এমনভাবে দৌড়ে এলো, যেন কেউ তাকে পেছন হতে তাড়া করছে। সে খাবারের পাত্রে হাত দিতে যাচ্ছিল। রাসূলুল্লাহ সা. তার হাত ধরে ফেললেন। অতঃপর একটি বালিকা দৌড়ে এলো, তাকেও যেন কেউ পেছন হতে তাড়া করছে। সেও খাদ্যের মধ্যে হাত ঢুকাতে যাচ্ছিল। রাসূল সা. তার হাতও ধরে ফেললেন। তিনি বললেন, “যে খাদ্য আল্লাহর নাম নিয়ে খাওয়া হয় না, তাতে শয়তান শরিক হয়। শয়তান প্রথমে বেদুইনকে নিয়ে এসেছিল তার সঙ্গে খাদ্যে অনুপ্রবেশ করতে। আমি তার হাত ধরে ফেলি। ওই সত্তার শপথ যাঁর হাতে আমার প্রাণ! শয়তানের হাত এখন এই দুজনের হাতের সাথে আমার হাতের মধ্যে বন্দি।” আবু দাউদ: ৩৭৬৬

কেউ যদি কোনো কারণে খাওয়ার আগে বিসমিল্লাহ বলতে ভুলে যায় তারও সমাধান আছে। উম্মুল মুমিনিন আয়িশা রা. থেকে বর্ণিত, রাসূল সা. বলেন, “যখন তোমরা খাওয়া শুরু করো, তখন আল্লাহর নাম স্মরণ করো। আর যদি আল্লাহর নাম স্মরণ করতে ভুলে যাও, তা হলে বলো, 'বিসমিল্লাহি আওয়ালাহু ওয়া আখিরাহু'- আল্লাহর নাম শুরুতেও শেষেও।” আবু দাউদ : ৩৭৬৭, তিরমিযি: ১৮৫৮

আপনার সামনে যে খাবার দেওয়া থাকবে, তা থেকেই খাবেন। সব সময় ডান হাত দিয়ে খাবেন। একবার এক মুনাফিক বাম হাত দিয়ে খাচ্ছিল। রাসূল সা. দৃশ্যটি দেখার পর বিরক্ত হন এবং তাকে ডান হাত দিয়ে খেতে বলেন। মুনাফিক রাসূল সা.-এর কথা শুনেনি; বরং সে একটি মিথ্যা অজুহাত তুলে বলে, 'আমি তো ডান হাত ব্যবহার করতে পারি না।' তখন রাসূল সা. উত্তরে বলেন, 'তাই যেন হয়।' এই ঘটনার পর থেকে সেই মুনাফিক আর কখনোই তার ডান হাত উঁচু করতে পারেনি। মুসলিম : ২০২১

আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত, নবি সা. বলেছেন, "বাম হাতে যেন তোমাদের কেউ না খায় এবং পান না করে। কেননা, শয়তান বাম হাতে পানাহার করে।"

রাসূল সা.-এর নির্দেশনা থাকায় সাহাবিরাও সব সময় ডান হাত দিয়ে খাবার খেতেন। সাইয়িদুনা উমর রা. খলিফা হিসেবে দায়িত্ব পাওয়ার পর একবার একটি অনুষ্ঠানে খাওয়ার সময় এক ব্যক্তিকে বাম হাত দিয়ে খেতে দেখেন। তিনি লোকটিকে ডান হাত ব্যবহার করার পরামর্শ দেন। লোকটি জানায়, আমার ডান হাতটি দিয়ে আমি অন্য কাজ করছি, তাই এই মুহূর্তে সেই হাত দিয়ে খেতে পারছি না। উমর রা. আবারও তাকে ডান হাত দিয়ে খাওয়ার অনুরোধ করলেন এবং লোকটি এবারও একই উত্তর দিলো। এবার উমর রা. একটু কৌতূহলী হয়ে জানতে চাইলেন, 'আমি কি জানতে পারি, আপনার ডান হাতটি কী কাজে এখন ব্যস্ত আছে?' তখন লোকটি জানায় যে, 'আমার ডান হাত যুদ্ধ করতে গিয়ে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় আমি তা ব্যবহার করতে পারছি না।' বিষয়টি জানার পর উমর রা. লজ্জিত হন। তিনি কেন যুদ্ধাহত একজন ব্যক্তিকে এভাবে বললেন, তা ভেবে মর্মাহত হন। সাথে সাথেই তিনি রাজকোষের জিম্মাদারকে দায়িত্ব দেন, যাতে লোকটিকে রাষ্ট্রীয়ভাবে একজন সেবক সরবরাহ করা হয় যে খাবার খাওয়া এবং অন্যান্য ব্যক্তিগত কাজে লোকটিকে সাহায্য করতে পারে।

যদি হাত দিয়ে খাবার খান, তা হলে তিন আঙুল ব্যবহার করবেন। ছোটো ছোটো লোকমায় খাবেন। তিন আঙুল দিয়ে খাবার নিয়ে খুবই নমনীয়ভাবে খাবেন এবং আগ্রাসীভাব পরিহার করবেন। অনাকাঙ্ক্ষিত শব্দ যেন না হয় সে জন্য খাবার মুখে দিয়েই মুখ বন্ধ করে ফেলুন। রাসূল সা. সব সময় মাটিতে বসে খেতেন। তাই সুন্নাত হিসেবে এই আচরণটি অনুসরণ করা যায়। তবে টেবিলে বসে খেতেও কোনো সমস্যা নেই। ইমাম গাজালি রহ. বলেন, “টেবিলে বসে খাবার খেলে অনেকের জন্য খাবার গ্রহণ করতে সুবিধা হয় আর তাতে আপত্তি করার কোনো কারণ নেই।" টেবিলে বয়স্ক কোনো ব্যক্তি থাকলে তিনি খাবার খেতে শুরু না করার আগে আপনি খাবেন না। আর আপনি যদি সবার মধ্যে মুরব্বি হন, তা হলে টেবিলে অন্য সবার জন্য অপেক্ষা করুন। সবাই এসে চেয়ারে বসলেই আপনি খাওয়া শুরু করুন।

একেকবার প্লেটের একেক জায়গা থেকে খাওয়া ঠিক নয়। তা দেখতে যেমন অসুন্দর, ঠিক একইভাবে হাদিসও এভাবে খেতে বারণ করা হয়েছে। যদি খেতে খেতে নামাজের ওয়াক্ত হয়ে যায়, তা হলে তাড়াহুড়ো করে খাবার খাওয়া বা খাবার রেখে উঠে যাওয়া ঠিক নয়। বরং খাওয়াটা যতদূর সম্ভব জলদি শেষ করে তারপর নামাজে যেতে হবে।

খাওয়ার সময় কম কথা বলা শ্রেয়। যদি বলতেই হয় তা হলে সুন্দর করে কথা বলুন। এমন বিষয়াবলি নিয়ে কথা বলুন যা খাওয়ার সাথে সম্পৃক্ত। অযথা ও অপ্রাসঙ্গিক কথা বলে খাবারের পরিবেশ বা রুচি নষ্ট করা ঠিক নয়। খাওয়ার সময় রবের প্রশংসা করা উত্তম। ইমাম আহমাদ বিন হাম্বল রহ. একবার কথা প্রসঙ্গে বলেছিলেন যে, “নীরবতার সাথে খেয়ে যাওয়ার তুলনায় খাবার গ্রহণের পাশাপাশি আল্লাহর প্রশংসা করা উত্তম।” খাওয়া শেষে হাত ধোয়ার সময় মুরব্বিদের অগ্রাধিকার দিন।

খাবার খেতে গিয়ে যদি কিছু অংশ প্লেটের বাইরে পড়ে যায়, তা হলে তা উঠিয়ে খাওয়া বাঞ্ছনীয়। রাসূল সা. বলেছেন, “শয়তান তোমাদের সাথেই থাকে এবং তোমাদের প্রতিটি কাজের সময়ও সে উপস্থিত থাকে। যখন তোমরা খাও, তখনও সেখানে শয়তান উপস্থিত থাকে। তাই তোমাদের খাবার খাওয়ার সময় যদি কোনো অংশ বাইরে পড়ে যায়, তা হলে যদি তাতে কোনো ময়লা থাকে, তা শয়তানের জন্য রেখে দাও আর বাকি অংশটুকু নিজেরাই খেয়ে নাও। ময়লার সাথে খাবারের ওই অংশটাও শয়তানের জন্য রেখে দিয়ো না। খাবার খাওয়া শেষ হলে তোমরা প্লেট এবং আঙুলগুলো চেটে খেয়ো। কেননা, তোমরা জানো না যে, খাবারের কোন অংশে বরকত রয়েছে।” মুসলিম: ২০৩৩

আবু দাউদ ও নাসায়ি-র 'দিন ও রাতের আমল' শীর্ষক অধ্যায়ের একটি হাদিসে বলা হয়েছে, “তোমরা খাবার শেষ করার পর আল্লাহ তায়ালার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করো।” আবু আইয়ুব আনসারি রা. থেকে বর্ণিত, “রাসূলুল্লাহ সা. খাওয়া বা পান করার পর বলতেন- সমস্ত প্রশংসা সেই আল্লাহর জন্য, যিনি খাওয়ালেন, পান করালেন, উদরে প্রবেশ করা সহজ করে দিলেন এবং এগুলো বের হওয়ারও ব্যবস্থা রাখলেন।" আবু দাউদ: ৩৮৫১

খাওয়া শেষে রাসূল সা. আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া জানাতেন ও দুআ করতেন। আবু উমামা রা. থেকে বর্ণিত, রাসূল সা. খাবার শেষ করে বলতেন, الحمد لله حمداً كثيراً طيباً مباركاً فيه غير مكفي ولا مودع ولا مستغنى عنه ربنا الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي أَطْعَمَنَا وَسَقَانَا وَجَعَلْنَا مُسْلِمِينَ । অর্থাৎ "সকল প্রশংসা আল্লাহর, যিনি খাবার খাইয়েছেন, পানি পান করিয়েছেন এবং আমাদেরকে মুসলিমদের অন্তর্ভুক্ত করেছেন।" বুখারি: ৫৪৫৮

সেই আল্লাহ তায়ালার প্রতি অবশ্যই কৃতজ্ঞ হতে হবে, যিনি আমাদের খাদ্য ও পানীয় দান করেন। কোনো অনুষ্ঠানে বা আয়োজনে গেলে যারা এই আয়োজনটি করেছেন, তাদের জন্যও খাবার শেষে দুআ করা উচিত। মুসলিম শরিফে মিকদাদ ইবনে আসওয়াদ রা. থেকে বর্ণিত, "রাসূল সা. খাওয়ানোর আয়োজকের জন্য দুআ বলতেন, 'যারা আমাদের খাওয়ালো তাদের জন্য আল্লাহ উত্তম রিজিকের ব্যবস্থা করে দিন। যারা পানীয় সরবরাহ করলেন, তাদেরও আল্লাহ পানীয় দিয়ে তৃষ্ণা নিবারণের ব্যবস্থা করে দিন'।"

কোনো আয়োজনে গেলে খাবার দেখে নিজের পছন্দ বা অপছন্দের খাবারের বিষয়ে প্রকাশ্যে কিছু বলবেন না। হয় খাবারটি খেয়ে নিন অথবা নীরবে আপনার পাশের মানুষটির দিকে এগিয়ে দিন। আবু হুরায়রা রা. বর্ণনা করেন, “রাসূল সা. কখনোই কোনো খাবার নিয়ে তাঁর অপছন্দের ব্যাপারটি প্রকাশ করতেন না। তিনি পছন্দ করলে নীরবে খেতেন। আর যদি অপছন্দ করতেন, তা হলে নীরবেই তিনি খাবারটি পাশে সরিয়ে রাখতেন।” আবু দাউদ : ৩৭৬৩

কখনোই প্লেটে আপনার সাধ্যের চেয়ে বেশি খাবার তুলে নেবেন না। খাবার বেঁচে গেলে তা বাইরে ছুড়ে ফেলবেন না, অপচয় করবেন না। বেশি করে একবারে খাবার না নিয়ে বরং অল্প পরিমাণে বার বার নিন। রাসূল সা. প্লেটে খাবার ফেলে রাখতে নিষেধ করে বলেছেন, “তোমরা প্লেটে খাবার রেখে উঠে যেয়ো না। কেননা, তোমরা জানো না যে খাবারের কোন অংশে আল্লাহর বরকত ছিল।” ইবনে মাজাহ : ১৯১৪

খাবার হলো আল্লাহর পক্ষ থেকে নিয়ামত। তাই খাবারের অপব্যবহার বা অপচয়কে ইসলাম অনুমোদন দেয় না। কখনও দরিদ্র ব্যক্তিদের কথা ভুলে যাবেন না। আপনি যে খাবারটি নষ্ট করছেন বা অপচয় করছেন, সে হয়তো ততটুকু খাবারও খেতে পায় না।

খাবারের পরিমাণের ব্যাপারে সতর্ক হওয়া প্রয়োজন। খাবার যদি অতিরিক্ত পরিমাণে খান, তা হলে শরীরে অলসতা ভর করবে। বেশি পরিমাণে খেলে শরীরটা ভারী অনুভব হবে। ফলে স্বাভাবিক কোনো কাজ বা আল্লাহর ইবাদত সঠিকভাবে করতে পারবে না। আবার কেউ যদি খুবই কম পরিমাণে খাবার খায়, তা হলেও সে হয়তো এতটাই দুর্বল হয়ে যাবে যে, ঠিকমতো নিজের বা আল্লাহর হক আদায় করতে পারবে না।

ইবনে আবদুল বার রহ.-এর বর্ণনা করেছেন, একদিন উমর রা. একটি খুতবায় বলছিলেন, "অতিরিক্ত খাওয়ার ব্যাপারে সতর্ক হও। কেননা, অতিভোজন মানুষকে ইবাদত করার ক্ষেত্রে অলস বানিয়ে দেয়। শরীরের জন্যও অতিভোজন ভালো নয়। খাওয়ার বেলায় মধ্যমপন্থা অবলম্বন করো। তা হলে তোমরা শুকরিয়া আদায় করতে শিখবে, শরীর ভালো থাকবে এবং ভালোভাবে ইবাদত করতে পারবে। একজন মানুষ তখনই ধ্বংস হয়, যখন সে তার দ্বীনের চেয়ে নিজের স্বাদ, লালসা আর খায়েসকে বেশি গুরুত্ব দেয়।”

ফুদাইল ইবনে ইয়াজ রহ. বলেন, “দুটো কাজ মানুষের অন্তরকে কঠিন ও ভারাক্রান্ত করে দেয়। অতিরিক্ত কথা বলা আর অতিভোজন।”

খাওয়ার সময় কিছু আদব আছে যা মেনে চলা খুবই জরুরি। যেমন শুরু করার আগে 'বিসমিল্লাহ' বলা। রিজিকদাতা আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান এবং খাবার শেষ করার পর বলুন 'আলহামদুলিল্লাহ'। ইমাম ইবনুল কাইয়িম রহ. বলেন, “খাওয়ার আগে বিসমিল্লাহ পড়া শরীর ও মন উভয়ের জন্যই কল্যাণকর।" আর ইমাম আহমাদ রহ. বলেন, "চারটি জিনিস একসঙ্গে ঘটলেই খাবারের আয়োজনটি পরিপূর্ণ হয়। ১. খাবার আগে আল্লাহর নাম নেওয়া ২. খাওয়া শেষে আল্লাহর নাম নেওয়া এবং তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা ৩. কয়েকজন মিলে খাবারটি শেয়ার করে খাওয়া বা একসঙ্গে কয়েকজন মিলে খাওয়া এবং ৪. হালাল উপার্জনের মাধ্যমে খাবার ক্রয় করা।"
হুযাইফা ইবনে ইয়ামান রা. বর্ণনা করেন, “আমরা রাসূলুল্লাহ সা.-এর সঙ্গে খেতে বসলে তাঁর খাওয়া আরম্ভ করার পূর্বে আমরা কেউ খাদ্যের দিকে হাত বাড়াতাম না। একদিন আমরা তাঁর সাথে খেতে বসি। এমন সময় এক বেদুইন এমনভাবে দৌড়ে এলো, যেন কেউ তাকে পেছন হতে তাড়া করছে। সে খাবারের পাত্রে হাত দিতে যাচ্ছিল। রাসূলুল্লাহ সা. তার হাত ধরে ফেললেন। অতঃপর একটি বালিকা দৌড়ে এলো, তাকেও যেন কেউ পেছন হতে তাড়া করছে। সেও খাদ্যের মধ্যে হাত ঢুকাতে যাচ্ছিল। রাসূল সা. তার হাতও ধরে ফেললেন। তিনি বললেন, “যে খাদ্য আল্লাহর নাম নিয়ে খাওয়া হয় না, তাতে শয়তান শরিক হয়। শয়তান প্রথমে বেদুইনকে নিয়ে এসেছিল তার সঙ্গে খাদ্যে অনুপ্রবেশ করতে। আমি তার হাত ধরে ফেলি। ওই সত্তার শপথ যাঁর হাতে আমার প্রাণ! শয়তানের হাত এখন এই দুজনের হাতের সাথে আমার হাতের মধ্যে বন্দি।” আবু দাউদ: ৩৭৬৬
কেউ যদি কোনো কারণে খাওয়ার আগে বিসমিল্লাহ বলতে ভুলে যায় তারও সমাধান আছে। উম্মুল মুমিনিন আয়িশা রা. থেকে বর্ণিত, রাসূল সা. বলেন, “যখন তোমরা খাওয়া শুরু করো, তখন আল্লাহর নাম স্মরণ করো। আর যদি আল্লাহর নাম স্মরণ করতে ভুলে যাও, তা হলে বলো, 'বিসমিল্লাহি আওয়ালাহু ওয়া আখিরাহু'- আল্লাহর নাম শুরুতেও শেষেও।” আবু দাউদ : ৩৭৬৭, তিরমিযি: ১৮৫৮
আপনার সামনে যে খাবার দেওয়া থাকবে, তা থেকেই খাবেন। সব সময় ডান হাত দিয়ে খাবেন। একবার এক মুনাফিক বাম হাত দিয়ে খাচ্ছিল। রাসূল সা. দৃশ্যটি দেখার পর বিরক্ত হন এবং তাকে ডান হাত দিয়ে খেতে বলেন। মুনাফিক রাসূল সা.-এর কথা শুনেনি; বরং সে একটি মিথ্যা অজুহাত তুলে বলে, 'আমি তো ডান হাত ব্যবহার করতে পারি না।' তখন রাসূল সা. উত্তরে বলেন, 'তাই যেন হয়।' এই ঘটনার পর থেকে সেই মুনাফিক আর কখনোই তার ডান হাত উঁচু করতে পারেনি। মুসলিম : ২০২১
আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত, নবি সা. বলেছেন, "বাম হাতে যেন তোমাদের কেউ না খায় এবং পান না করে। কেননা, শয়তান বাম হাতে পানাহার করে।"
রাসূল সা.-এর নির্দেশনা থাকায় সাহাবিরাও সব সময় ডান হাত দিয়ে খাবার খেতেন। সাইয়িদুনা উমর রা. খলিফা হিসেবে দায়িত্ব পাওয়ার পর একবার একটি অনুষ্ঠানে খাওয়ার সময় এক ব্যক্তিকে বাম হাত দিয়ে খেতে দেখেন। তিনি লোকটিকে ডান হাত ব্যবহার করার পরামর্শ দেন। লোকটি জানায়, আমার ডান হাতটি দিয়ে আমি অন্য কাজ করছি, তাই এই মুহূর্তে সেই হাত দিয়ে খেতে পারছি না। উমর রা. আবারও তাকে ডান হাত দিয়ে খাওয়ার অনুরোধ করলেন এবং লোকটি এবারও একই উত্তর দিলো। এবার উমর রা. একটু কৌতূহলী হয়ে জানতে চাইলেন, 'আমি কি জানতে পারি, আপনার ডান হাতটি কী কাজে এখন ব্যস্ত আছে?' তখন লোকটি জানায় যে, 'আমার ডান হাত যুদ্ধ করতে গিয়ে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় আমি তা ব্যবহার করতে পারছি না।' বিষয়টি জানার পর উমর রা. লজ্জিত হন। তিনি কেন যুদ্ধাহত একজন ব্যক্তিকে এভাবে বললেন, তা ভেবে মর্মাহত হন। সাথে সাথেই তিনি রাজকোষের জিম্মাদারকে দায়িত্ব দেন, যাতে লোকটিকে রাষ্ট্রীয়ভাবে একজন সেবক সরবরাহ করা হয় যে খাবার খাওয়া এবং অন্যান্য ব্যক্তিগত কাজে লোকটিকে সাহায্য করতে পারে।
যদি হাত দিয়ে খাবার খান, তা হলে তিন আঙুল ব্যবহার করবেন। ছোটো ছোটো লোকমায় খাবেন। তিন আঙুল দিয়ে খাবার নিয়ে খুবই নমনীয়ভাবে খাবেন এবং আগ্রাসীভাব পরিহার করবেন। অনাকাঙ্ক্ষিত শব্দ যেন না হয় সে জন্য খাবার মুখে দিয়েই মুখ বন্ধ করে ফেলুন। রাসূল সা. সব সময় মাটিতে বসে খেতেন। তাই সুন্নাত হিসেবে এই আচরণটি অনুসরণ করা যায়। তবে টেবিলে বসে খেতেও কোনো সমস্যা নেই। ইমাম গাজালি রহ. বলেন, “টেবিলে বসে খাবার খেলে অনেকের জন্য খাবার গ্রহণ করতে সুবিধা হয় আর তাতে আপত্তি করার কোনো কারণ নেই।" টেবিলে বয়স্ক কোনো ব্যক্তি থাকলে তিনি খাবার খেতে শুরু না করার আগে আপনি খাবেন না। আর আপনি যদি সবার মধ্যে মুরব্বি হন, তা হলে টেবিলে অন্য সবার জন্য অপেক্ষা করুন। সবাই এসে চেয়ারে বসলেই আপনি খাওয়া শুরু করুন।
একেকবার প্লেটের একেক জায়গা থেকে খাওয়া ঠিক নয়। তা দেখতে যেমন অসুন্দর, ঠিক একইভাবে হাদিসও এভাবে খেতে বারণ করা হয়েছে।
যদি খেতে খেতে নামাজের ওয়াক্ত হয়ে যায়, তা হলে তাড়াহুড়ো করে খাবার খাওয়া বা খাবার রেখে উঠে যাওয়া ঠিক নয়। বরং খাওয়াটা যতদূর সম্ভব জলদি শেষ করে তারপর নামাজে যেতে হবে।
খাওয়ার সময় কম কথা বলা শ্রেয়। যদি বলতেই হয় তা হলে সুন্দর করে কথা বলুন। এমন বিষয়াবলি নিয়ে কথা বলুন যা খাওয়ার সাথে সম্পৃক্ত। অযথা ও অপ্রাসঙ্গিক কথা বলে খাবারের পরিবেশ বা রুচি নষ্ট করা ঠিক নয়। খাওয়ার সময় রবের প্রশংসা করা উত্তম। ইমাম আহমাদ বিন হাম্বল রহ. একবার কথা প্রসঙ্গে বলেছিলেন যে, “নীরবতার সাথে খেয়ে যাওয়ার তুলনায় খাবার গ্রহণের পাশাপাশি আল্লাহর প্রশংসা করা উত্তম।” খাওয়া শেষে হাত ধোয়ার সময় মুরব্বিদের অগ্রাধিকার দিন।
খাবার খেতে গিয়ে যদি কিছু অংশ প্লেটের বাইরে পড়ে যায়, তা হলে তা উঠিয়ে খাওয়া বাঞ্ছনীয়। রাসূল সা. বলেছেন, “শয়তান তোমাদের সাথেই থাকে এবং তোমাদের প্রতিটি কাজের সময়ও সে উপস্থিত থাকে। যখন তোমরা খাও, তখনও সেখানে শয়তান উপস্থিত থাকে। তাই তোমাদের খাবার খাওয়ার সময় যদি কোনো অংশ বাইরে পড়ে যায়, তা হলে যদি তাতে কোনো ময়লা থাকে, তা শয়তানের জন্য রেখে দাও আর বাকি অংশটুকু নিজেরাই খেয়ে নাও। ময়লার সাথে খাবারের ওই অংশটাও শয়তানের জন্য রেখে দিয়ো না। খাবার খাওয়া শেষ হলে তোমরা প্লেট এবং আঙুলগুলো চেটে খেয়ো। কেননা, তোমরা জানো না যে, খাবারের কোন অংশে বরকত রয়েছে।” মুসলিম: ২০৩৩
আবু দাউদ ও নাসায়ি-র 'দিন ও রাতের আমল' শীর্ষক অধ্যায়ের একটি হাদিসে বলা হয়েছে, “তোমরা খাবার শেষ করার পর আল্লাহ তায়ালার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করো।” আবু আইয়ুব আনসারি রা. থেকে বর্ণিত, “রাসূলুল্লাহ সা. খাওয়া বা পান করার পর বলতেন- সমস্ত প্রশংসা সেই আল্লাহর জন্য, যিনি খাওয়ালেন, পান করালেন, উদরে প্রবেশ করা সহজ করে দিলেন এবং এগুলো বের হওয়ারও ব্যবস্থা রাখলেন।" আবু দাউদ: ৩৮৫১
খাওয়া শেষে রাসূল সা. আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া জানাতেন ও দুআ করতেন। আবু উমামা রা. থেকে বর্ণিত, রাসূল সা. খাবার শেষ করে বলতেন, الحمد لله حمداً كثيراً طيباً مباركاً فيه غير مكفي ولا مودع ولا مستغنى عنه ربنا الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي أَطْعَمَنَا وَسَقَانَا وَجَعَلْنَا مُسْلِمِينَ । অর্থাৎ "সকল প্রশংসা আল্লাহর, যিনি খাবার খাইয়েছেন, পানি পান করিয়েছেন এবং আমাদেরকে মুসলিমদের অন্তর্ভুক্ত করেছেন।" বুখারি: ৫৪৫৮
সেই আল্লাহ তায়ালার প্রতি অবশ্যই কৃতজ্ঞ হতে হবে, যিনি আমাদের খাদ্য ও পানীয় দান করেন। কোনো অনুষ্ঠানে বা আয়োজনে গেলে যারা এই আয়োজনটি করেছেন, তাদের জন্যও খাবার শেষে দুআ করা উচিত। মুসলিম শরিফে মিকদাদ ইবনে আসওয়াদ রা. থেকে বর্ণিত, "রাসূল সা. খাওয়ানোর আয়োজকের জন্য দুআ বলতেন, 'যারা আমাদের খাওয়ালো তাদের জন্য আল্লাহ উত্তম রিজিকের ব্যবস্থা করে দিন। যারা পানীয় সরবরাহ করলেন, তাদেরও আল্লাহ পানীয় দিয়ে তৃষ্ণা নিবারণের ব্যবস্থা করে দিন'।"
কোনো আয়োজনে গেলে খাবার দেখে নিজের পছন্দ বা অপছন্দের খাবারের বিষয়ে প্রকাশ্যে কিছু বলবেন না। হয় খাবারটি খেয়ে নিন অথবা নীরবে আপনার পাশের মানুষটির দিকে এগিয়ে দিন। আবু হুরায়রা রা. বর্ণনা করেন, “রাসূল সা. কখনোই কোনো খাবার নিয়ে তাঁর অপছন্দের ব্যাপারটি প্রকাশ করতেন না। তিনি পছন্দ করলে নীরবে খেতেন। আর যদি অপছন্দ করতেন, তা হলে নীরবেই তিনি খাবারটি পাশে সরিয়ে রাখতেন।” আবু দাউদ : ৩৭৬৩
কখনোই প্লেটে আপনার সাধ্যের চেয়ে বেশি খাবার তুলে নেবেন না। খাবার বেঁচে গেলে তা বাইরে ছুড়ে ফেলবেন না, অপচয় করবেন না। বেশি করে একবারে খাবার না নিয়ে বরং অল্প পরিমাণে বার বার নিন। রাসূল সা. প্লেটে খাবার ফেলে রাখতে নিষেধ করে বলেছেন, “তোমরা প্লেটে খাবার রেখে উঠে যেয়ো না। কেননা, তোমরা জানো না যে খাবারের কোন অংশে আল্লাহর বরকত ছিল।” ইবনে মাজাহ : ১৯১৪
খাবার হলো আল্লাহর পক্ষ থেকে নিয়ামত। তাই খাবারের অপব্যবহার বা অপচয়কে ইসলাম অনুমোদন দেয় না। কখনও দরিদ্র ব্যক্তিদের কথা ভুলে যাবেন না। আপনি যে খাবারটি নষ্ট করছেন বা অপচয় করছেন, সে হয়তো ততটুকু খাবারও খেতে পায় না।
খাবারের পরিমাণের ব্যাপারে সতর্ক হওয়া প্রয়োজন। খাবার যদি অতিরিক্ত পরিমাণে খান, তা হলে শরীরে অলসতা ভর করবে। বেশি পরিমাণে খেলে শরীরটা ভারী অনুভব হবে। ফলে স্বাভাবিক কোনো কাজ বা আল্লাহর ইবাদত সঠিকভাবে করতে পারবে না। আবার কেউ যদি খুবই কম পরিমাণে খাবার খায়, তা হলেও সে হয়তো এতটাই দুর্বল হয়ে যাবে যে, ঠিকমতো নিজের বা আল্লাহর হক আদায় করতে পারবে না।
ইবনে আবদুল বার রহ.-এর বর্ণনা করেছেন, একদিন উমর রা. একটি খুতবায় বলছিলেন, "অতিরিক্ত খাওয়ার ব্যাপারে সতর্ক হও। কেননা, অতিভোজন মানুষকে ইবাদত করার ক্ষেত্রে অলস বানিয়ে দেয়। শরীরের জন্যও অতিভোজন ভালো নয়। খাওয়ার বেলায় মধ্যমপন্থা অবলম্বন করো। তা হলে তোমরা শুকরিয়া আদায় করতে শিখবে, শরীর ভালো থাকবে এবং ভালোভাবে ইবাদত করতে পারবে। একজন মানুষ তখনই ধ্বংস হয়, যখন সে তার দ্বীনের চেয়ে নিজের স্বাদ, লালসা আর খায়েসকে বেশি গুরুত্ব দেয়।”
ফুদাইল ইবনে ইয়াজ রহ. বলেন, “দুটো কাজ মানুষের অন্তরকে কঠিন ও ভারাক্রান্ত করে দেয়। অতিরিক্ত কথা বলা আর অতিভোজন।”

📘 ইসলামিক ম্যানারস > 📄 পান করার আদব

📄 পান করার আদব


পান করার আদবও গুরুত্বপূর্ণ। পানি বা অন্য কোনো পানীয় পান করার সময়ও আল্লাহর নাম নিয়েই শুরু করতে হবে। সব সময় ডান হাতে পান করতে হবে। হারিসাহ ইবনু ওয়াহাব আল-খুযায়ি রহ. বলেন, উম্মুল মুমিনিন হাফসা বিনতে উমর রা. আমাকে বলেছেন, "নবি সা. খাবার গ্রহণ, পানীয় পান ও পোশাক পরিধানের কাজ ডান হাতে করতেন।” আবু দাউদ : ৩২

একবারে পুরো গ্লাসের পানি মুখের ভেতর ঢেলে দেবেন না। বরং তিনবারে থেমে থেমে এক গ্লাস পানি খাবেন। ইবনে আব্বাস রা. বর্ণনা করেন, রাসূল সা. বলেছেন, “তোমরা উটের মতো পান করো না। দুবারে বা তিনবারে নির্ধারিত পানি পান করো। পান করার আগে আল্লাহর নাম নাও। আবার পান শেষে আল্লাহর প্রতি শুকরিয়া জানাও।" তিরমিযি: ১৮৮৫

গ্লাসে নিশ্বাস ছেড়ে বা ফুঁ দিয়ে গ্লাসটি ঘোলা করবেন না। এই আচরণ অন্যদের বিরক্ত ও বিব্রত করে। ইবনে আব্বাস রা. আরেকটি বর্ণনায় বলেন, “রাসূল সা. গ্লাসের ভেতর ফুঁ দিতে নিষেধ করেছেন।” আবু দাউদ: ৩৭২৮

জগ বা কন্টেইনার থেকে সরাসরি পান করবেন না। আপনার পর আরও যদি কেউ পান করার মতো থাকে, তা হলে এই ধরনের আচরণে তারা পান করতে নিরুৎসাহিত হতে পারে। আবু হুরায়রা রা. জানিয়েছেন, রাসূল সা. সরাসরি মূল পাত্রের ছিপিতে মুখ লাগিয়ে পানি পান করতে নিষেধ করেছেন।

পান করার আদবও গুরুত্বপূর্ণ। পানি বা অন্য কোনো পানীয় পান করার সময়ও আল্লাহর নাম নিয়েই শুরু করতে হবে। সব সময় ডান হাতে পান করতে হবে। হারিসাহ ইবনু ওয়াহাব আল-খুযায়ি রহ. বলেন, উম্মুল মুমিনিন হাফসা বিনতে উমর রা. আমাকে বলেছেন, "নবি সা. খাবার গ্রহণ, পানীয় পান ও পোশাক পরিধানের কাজ ডান হাতে করতেন।” আবু দাউদ : ৩২
একবারে পুরো গ্লাসের পানি মুখের ভেতর ঢেলে দেবেন না। বরং তিনবারে থেমে থেমে এক গ্লাস পানি খাবেন। ইবনে আব্বাস রা. বর্ণনা করেন, রাসূল সা. বলেছেন, “তোমরা উটের মতো পান করো না। দুবারে বা তিনবারে নির্ধারিত পানি পান করো। পান করার আগে আল্লাহর নাম নাও। আবার পান শেষে আল্লাহর প্রতি শুকরিয়া জানাও।" তিরমিযি: ১৮৮৫
গ্লাসে নিশ্বাস ছেড়ে বা ফুঁ দিয়ে গ্লাসটি ঘোলা করবেন না। এই আচরণ অন্যদের বিরক্ত ও বিব্রত করে। ইবনে আব্বাস রা. আরেকটি বর্ণনায় বলেন, “রাসূল সা. গ্লাসের ভেতর ফুঁ দিতে নিষেধ করেছেন।” আবু দাউদ: ৩৭২৮
জগ বা কন্টেইনার থেকে সরাসরি পান করবেন না। আপনার পর আরও যদি কেউ পান করার মতো থাকে, তা হলে এই ধরনের আচরণে তারা পান করতে নিরুৎসাহিত হতে পারে। আবু হুরায়রা রা. জানিয়েছেন, রাসূল সা. সরাসরি মূল পাত্রের ছিপিতে মুখ লাগিয়ে পানি পান করতে নিষেধ করেছেন।

📘 ইসলামিক ম্যানারস > 📄 মাত্রাতিরিক্ত ভোজন পরিহার করুন

📄 মাত্রাতিরিক্ত ভোজন পরিহার করুন


মার্জিত আচরণই হলো মানুষের প্রধান সম্পদ। এটা মানুষের মুকুটের মতো। তাই যদি কেউ আপনাকে কোনো দাওয়াতে বা আয়োজনে যেতে বলে এবং আপনার সামনে খাবার ও পানীয় পরিবেশন করে, তা হলে তখনও এই মুকুট পরিধান করে থাকাই শ্রেয়। অর্থাৎ ওই ধরনের পরিস্থিতিতেও মার্জিত আচরণ করাটা জরুরি। তাই এত বেশি পরিমাণে অতিভোজনে লিপ্ত হবেন না, যা দেখে মনে হবে যে আপনি বোধ হয় অনেকটা সময় ধরে না খেয়ে আছেন। অথবা আপনার খাওয়ার ধরন দেখে যেন এমনও মনে না হয় যে, আপনি জীবনে কখনও এত সুস্বাদু খাবার চোখে দেখেননি। অনেক আইটেম পরিবেশিত থাকলেই সব খাবারই যে আপনাকে খেতে হবে- এমন নয়। যারা বেশি খায়, তাদের নিয়ে আয়োজকরাও বিব্রত থাকেন। তাই যেকোনো আয়োজনে গেলে খাবার গ্রহণের ক্ষেত্রে মার্জিত আচরণ ও শালীনতা বজায় রাখুন।

মার্জিত আচরণই হলো মানুষের প্রধান সম্পদ। এটা মানুষের মুকুটের মতো। তাই যদি কেউ আপনাকে কোনো দাওয়াতে বা আয়োজনে যেতে বলে এবং আপনার সামনে খাবার ও পানীয় পরিবেশন করে, তা হলে তখনও এই মুকুট পরিধান করে থাকাই শ্রেয়। অর্থাৎ ওই ধরনের পরিস্থিতিতেও মার্জিত আচরণ করাটা জরুরি। তাই এত বেশি পরিমাণে অতিভোজনে লিপ্ত হবেন না, যা দেখে মনে হবে যে আপনি বোধ হয় অনেকটা সময় ধরে না খেয়ে আছেন। অথবা আপনার খাওয়ার ধরন দেখে যেন এমনও মনে না হয় যে, আপনি জীবনে কখনও এত সুস্বাদু খাবার চোখে দেখেননি। অনেক আইটেম পরিবেশিত থাকলেই সব খাবারই যে আপনাকে খেতে হবে- এমন নয়। যারা বেশি খায়, তাদের নিয়ে আয়োজকরাও বিব্রত থাকেন। তাই যেকোনো আয়োজনে গেলে খাবার গ্রহণের ক্ষেত্রে মার্জিত আচরণ ও শালীনতা বজায় রাখুন।

📘 ইসলামিক ম্যানারস > 📄 সোনা ও রুপার প্লেট বা চামচ প্রসঙ্গে

📄 সোনা ও রুপার প্লেট বা চামচ প্রসঙ্গে


কখনও সোনা বা রুপার তৈরি প্লেট বা চামচ ব্যবহার করে খাবেন না। এগুলো ইসলামি আদবের বিরোধী। ইসলাম এই ধরনের দাম্ভিকতাকে অনুমোদন দেয় না। সহিহ বুখারিতে হুজাইফা ইবনুল ইয়ামান রা. বর্ণিত, রাসূল সা. বলেছেন, “তোমরা স্বর্ণ ও রুপার পাত্রে বা প্লেটে খাবার খেয়ো না। কেননা, এই পার্থিব জীবনে এগুলো কাফিরদের জন্য আর আখিরাতে এগুলো তোমাদের জন্য। যদি মেহমান হিসেবে কোথাও যাও আর তোমাদের সামনে এই জাতীয় দামি তৈজসপত্র দেওয়া হয় তা হলে মেজবানকে বলো যাতে তোমাদের সাধারণ মানের প্লেট ও পেয়ালা সরবরাহ করা হয়।”

কেন স্বর্ণ বা রুপার বাসনে খেতে না করা হলো তার কারণ নিয়ে ইসলামি চিন্তাবিদদের মধ্যে মতপার্থক্য আছে। কেউ কেউ বলেন, এজন্য এইসব পাত্রে খেতে না করা হয়েছে, কারণ আগে যে স্বৈরশাসকেরা রাজত্ব করে গেছেন, এটা তাদের রীতি। তাই তাদের অনুকরণ হয় এমন কিছু করা যাবে না। আরেকটি মত হলো- মানুষের মধ্যে অপব্যয়, ঔদ্ধত্যু ও অহংকারকে নিরুৎসাহিত করার জন্যই রাসূল সা. সোনা ও রুপার পাত্রে খাবার খেতে নিষেধ করেছেন।

কখনও সোনা বা রুপার তৈরি প্লেট বা চামচ ব্যবহার করে খাবেন না। এগুলো ইসলামি আদবের বিরোধী। ইসলাম এই ধরনের দাম্ভিকতাকে অনুমোদন দেয় না। সহিহ বুখারিতে হুজাইফা ইবনুল ইয়ামান রা. বর্ণিত, রাসূল সা. বলেছেন, “তোমরা স্বর্ণ ও রুপার পাত্রে বা প্লেটে খাবার খেয়ো না। কেননা, এই পার্থিব জীবনে এগুলো কাফিরদের জন্য আর আখিরাতে এগুলো তোমাদের জন্য। যদি মেহমান হিসেবে কোথাও যাও আর তোমাদের সামনে এই জাতীয় দামি তৈজসপত্র দেওয়া হয় তা হলে মেজবানকে বলো যাতে তোমাদের সাধারণ মানের প্লেট ও পেয়ালা সরবরাহ করা হয়।”
কেন স্বর্ণ বা রুপার বাসনে খেতে না করা হলো তার কারণ নিয়ে ইসলামি চিন্তাবিদদের মধ্যে মতপার্থক্য আছে। কেউ কেউ বলেন, এজন্য এইসব পাত্রে খেতে না করা হয়েছে, কারণ আগে যে স্বৈরশাসকেরা রাজত্ব করে গেছেন, এটা তাদের রীতি। তাই তাদের অনুকরণ হয় এমন কিছু করা যাবে না। আরেকটি মত হলো- মানুষের মধ্যে অপব্যয়, ঔদ্ধত্যু ও অহংকারকে নিরুৎসাহিত করার জন্যই রাসূল সা. সোনা ও রুপার পাত্রে খাবার খেতে নিষেধ করেছেন।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00