📄 পিতা-মাতার সাথে আদব
পিতা ও মাতা জীবিত থাকলে তাদের আন্তরিকভাবে শ্রদ্ধা করুন। আপনার জন্য তারাই সবচেয়ে বেশি নিয়ামতের উৎস। এক ব্যক্তি নবিজি সা.-কে প্রশ্ন করল, -“হে আল্লাহর রাসূল! কে আমার সদাচরণের সবচেয়ে বেশি হকদার?' রাসূল সা. উত্তরে বললেন, 'তোমার মা।' 'এরপর কে?' 'তোমার মা।' 'এরপর?' 'তোমার বাবা। অতঃপর অন্যান্য নিকটাত্মীয়-স্বজন'।” সহিহ মুসলিম : ৬২৬৯
ইমাম বুখারি রহ. তাঁর আদাবুল মুফরাদ গ্রন্থে হিশাম বিন উরওয়ার রহ.-এর একটি ঘটনা উল্লেখ করেছেন। উরওয়া রহ. পুত্র হিশামকে জানিয়েছেন যে, “একবার আবু হুরায়রা রা. দেখতে পেলেন, এক ব্যক্তি তাঁর সঙ্গে থাকা লোকটিকে পেছনে ফেলে সামনে এগিয়ে যাচ্ছে। আবু হুরায়রা রা. কাছে গিয়ে লোকটিকে প্রশ্ন করলেন, 'তুমি যাকে পেছনে ফেলে এলে, তিনি তোমার কে হয়?' লোকটি উত্তর দিলো, 'তিনি আমার বাবা।' আবু হুরায়রা রা. বললেন, 'তাকে পেছনে রেখে কখনোই সামনে যেয়ো না। কোথাও গেলে তিনি না বসা পর্যন্ত তুমি আসন গ্রহণ করো না, আর কখনোই তাকে নাম ধরে ডেকো না'।”
ইমাম মালিক রহ.-এর ছাত্র আবদুর রহমান ইবনে কাসিম আল উতাকি আল মাসরি বলেন, “একবার ইমাম মালিক নিজের সংকলিত মুয়াত্তা পড়ছিলেন। হঠাৎ করেই তিনি দাঁড়িয়ে গেলেন। খানিক সময় দাঁড়িয়ে থেকে আবার বসলেন। আমি তাঁর এমন আচরণের কারণ জানতে চাইলাম। তিনি বললেন, 'আমার মা এসে আমার কাছে কিছু জানতে চেয়েছিলেন। তিনি দাঁড়িয়েছিলেন, তাই আমিও দাঁড়িয়েছিলাম। তিনি চলে যাওয়ার পর আমি আবার বসেছি'।”
তাবেয়ি তাউস বিন কিসান রহ. বলেন, “চার ধরনের মানুষকে শ্রদ্ধা করা সুন্নাতের অপরিহার্য দাবি- জ্ঞানী, বয়স্ক, নেতা ও পিতা। পিতাকে নাম ধরে ডাকা হলে তা রীতিমতো ধৃষ্টতাপূর্ণ আচরণ বলেই মনে করা হয়।”
ইমাম ইবনে আবদুল বার রহ. তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থ ফিকহুল কাফি-র শেষাংশে উল্লেখ করেছেন, “পিতামাতার প্রতি দরদি হওয়া বাধ্যতামূলক কর্তব্য। আর আল্লাহর রহমতে কাজটি বেশ সহজ। তাদের প্রতি দয়ালু হওয়ার অর্থ হলো বিনয়ী হওয়া, সুন্দর করে কথা বলা, তাদের প্রতি গভীর ভালোবাসা এবং শ্রদ্ধার চোখে দৃষ্টি দেওয়া, মৃদু স্বরে কথা বলা; যদি তারা কানে কম শোনে তবে ভিন্ন কথা। তবে তাদের সাথে কখনোই উচ্চৈঃস্বরে কথা বলা যাবে না। সন্তানের সম্পদেও তাদের পূর্ণ অধিকার প্রদান করতে হবে। তাদের সর্বোত্তম খাবারের ব্যবস্থা করার চেষ্টা করতে হবে।”
সন্তান কখনোই পিতামাতার আগে আগে হাঁটবে না। কোনো বিষয়েই সন্তান পিতামাতার আগে কথা বলবে না। সন্তানরা সর্বাত্মক চেষ্টা করবে, যাতে তাদের কোনো আচরণে মা-বাবা বিব্রত না হন। মা-বাবাকে খুশি করার জন্য তারা আপ্রাণ প্রচেষ্টা চালাবে। পিতামাতার জীবনকে উপভোগ্য ও শান্তিময় করা সন্তানের জন্য নেক আমলের সমতুল্য। পিতামাতা ডাকলে উচিত যতদ্রুত সম্ভব সাড়া দেওয়া। এমনকি যদি সন্তান একা একা নামাজ পড়ে আর ঠিক তখনই মা-বাবা কেউ ডেকে বসেন, তবে সন্তানের উচিত নামাজ সংক্ষেপ করা। বাবা-মায়ের সঙ্গে কথা বলার সময় সন্তানের শুধু ভালো কথাই বলা উচিত।
অন্যদিকে, পিতামাতার করণীয় হলো, সন্তানের দায়িত্ব পালনের প্রক্রিয়া সহজ করে দেওয়া। সন্তানদের প্রতি দরদি হওয়া, আচরণে ভারসাম্য বজায় রাখা, ন্যায়বিচার করা এবং তাদের প্রতি উদারতা প্রকাশ করা। তবে বাবা-মা কিংবা সন্তান কেউ-ই নিজেদের দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করতে পারবে না, যদি না আল্লাহ সাহায্য না করেন। তাই আল্লাহর রহম ও সাহায্য পাওয়ার জন্য সব সময় সচেষ্ট থাকতে হবে।
এমনও হতে পারে, আপনি অনেক কঠিন পরিস্থিতির ভেতর দিয়ে যাচ্ছেন, তারপরও পিতামাতার হক আদায় করার কথা ভুলে যাবেন না। আবার বাবা-মায়ের প্রতি সদাচরণ করতে গিয়েও নানা ধরনের বিড়ম্বনার শিকার হতে পারেন। কিন্তু তারপরও এই দায়িত্ব থেকে সরে আসা যাবে না। কুরআন আল্লাহ মাজিদে তায়ালা বলেছেন,
“তোমার পালনকর্তা আদেশ করেছেন যে, তাঁকে ছাড়া অন্য কারও ইবাদত করো না এবং পিতা-মাতার সাথে সদ্ব্যবহার করো। তাদের মধ্যে কেউ অথবা উভয়েই যদি তোমার জীবদ্দশায় বার্ধক্যে উপনীত হয়; তবে তাদেরকে ‘উহ’ শব্দটিও বলো না। তাদের ধমক দিয়ো না। বরং সব সময় আদবের সাথে কথা বলো। তাদের সামনে ভালোবাসার সাথে, নম্রভাবে আচরণ করো এবং বলো, 'হে আমার রব! তাদের উভয়ের প্রতি রহম করো, যেমন তারা আমাকে শৈশবকালে লালন- পালন করেছেন'।" সূরা ইসরা: ২৩-২৪
মনে রাখা উচিত, প্রত্যেকেই নিজের অবস্থানে সবচেয়ে ভালো থাকতে চায়। নিজের সম্মান ও জনপ্রিয়তা নিয়েই বাঁচতে চায়। অন্য কেউ তার চেয়ে ভালো অবস্থানে চলে গেলে মানুষ অনেকসময় তা সহজভাবে নিতে পারে না। দুনিয়াতে কেবল পিতা-মাতাই একমাত্র সত্তা, যারা আন্তরিকভাবে চায় সন্তানরা যেন তাদের চেয়েও ভালো অবস্থানে যায় এবং ভালোভাবে থাকে। তাই অন্য সবার তুলনায় তাদের সাথেই উত্তম ব্যবহার করা বেশি জরুরি।
পিতা ও মাতা জীবিত থাকলে তাদের আন্তরিকভাবে শ্রদ্ধা করুন। আপনার জন্য তারাই সবচেয়ে বেশি নিয়ামতের উৎস। এক ব্যক্তি নবিজি সা.-কে প্রশ্ন করল, -“হে আল্লাহর রাসূল! কে আমার সদাচরণের সবচেয়ে বেশি হকদার?' রাসূল সা. উত্তরে বললেন, 'তোমার মা।' 'এরপর কে?' 'তোমার মা।' 'এরপর?' 'তোমার বাবা। অতঃপর অন্যান্য নিকটাত্মীয়-স্বজন'।” সহিহ মুসলিম : ৬২৬৯
ইমাম বুখারি রহ. তাঁর আদাবুল মুফরাদ গ্রন্থে হিশাম বিন উরওয়ার রহ.-এর একটি ঘটনা উল্লেখ করেছেন। উরওয়া রহ. পুত্র হিশামকে জানিয়েছেন যে, “একবার আবু হুরায়রা রা. দেখতে পেলেন, এক ব্যক্তি তাঁর সঙ্গে থাকা লোকটিকে পেছনে ফেলে সামনে এগিয়ে যাচ্ছে। আবু হুরায়রা রা. কাছে গিয়ে লোকটিকে প্রশ্ন করলেন, 'তুমি যাকে পেছনে ফেলে এলে, তিনি তোমার কে হয়?' লোকটি উত্তর দিলো, 'তিনি আমার বাবা।' আবু হুরায়রা রা. বললেন, 'তাকে পেছনে রেখে কখনোই সামনে যেয়ো না। কোথাও গেলে তিনি না বসা পর্যন্ত তুমি আসন গ্রহণ করো না, আর কখনোই তাকে নাম ধরে ডেকো না'।”
ইমাম মালিক রহ.-এর ছাত্র আবদুর রহমান ইবনে কাসিম আল উতাকি আল মাসরি বলেন, “একবার ইমাম মালিক নিজের সংকলিত মুয়াত্তা পড়ছিলেন। হঠাৎ করেই তিনি দাঁড়িয়ে গেলেন। খানিক সময় দাঁড়িয়ে থেকে আবার বসলেন। আমি তাঁর এমন আচরণের কারণ জানতে চাইলাম। তিনি বললেন, 'আমার মা এসে আমার কাছে কিছু জানতে চেয়েছিলেন। তিনি দাঁড়িয়েছিলেন, তাই আমিও দাঁড়িয়েছিলাম। তিনি চলে যাওয়ার পর আমি আবার বসেছি'।”
তাবেয়ি তাউস বিন কিসান রহ. বলেন, “চার ধরনের মানুষকে শ্রদ্ধা করা সুন্নাতের অপরিহার্য দাবি- জ্ঞানী, বয়স্ক, নেতা ও পিতা। পিতাকে নাম ধরে ডাকা হলে তা রীতিমতো ধৃষ্টতাপূর্ণ আচরণ বলেই মনে করা হয়।”
ইমাম ইবনে আবদুল বার রহ. তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থ ফিকহুল কাফি-র শেষাংশে উল্লেখ করেছেন, “পিতামাতার প্রতি দরদি হওয়া বাধ্যতামূলক কর্তব্য। আর আল্লাহর রহমতে কাজটি বেশ সহজ। তাদের প্রতি দয়ালু হওয়ার অর্থ হলো বিনয়ী হওয়া, সুন্দর করে কথা বলা, তাদের প্রতি গভীর ভালোবাসা এবং শ্রদ্ধার চোখে দৃষ্টি দেওয়া, মৃদু স্বরে কথা বলা; যদি তারা কানে কম শোনে তবে ভিন্ন কথা। তবে তাদের সাথে কখনোই উচ্চৈঃস্বরে কথা বলা যাবে না। সন্তানের সম্পদেও তাদের পূর্ণ অধিকার প্রদান করতে হবে। তাদের সর্বোত্তম খাবারের ব্যবস্থা করার চেষ্টা করতে হবে।”
সন্তান কখনোই পিতামাতার আগে আগে হাঁটবে না। কোনো বিষয়েই সন্তান পিতামাতার আগে কথা বলবে না। সন্তানরা সর্বাত্মক চেষ্টা করবে, যাতে তাদের কোনো আচরণে মা-বাবা বিব্রত না হন। মা-বাবাকে খুশি করার জন্য তারা আপ্রাণ প্রচেষ্টা চালাবে। পিতামাতার জীবনকে উপভোগ্য ও শান্তিময় করা সন্তানের জন্য নেক আমলের সমতুল্য। পিতামাতা ডাকলে উচিত যতদ্রুত সম্ভব সাড়া দেওয়া। এমনকি যদি সন্তান একা একা নামাজ পড়ে আর ঠিক তখনই মা-বাবা কেউ ডেকে বসেন, তবে সন্তানের উচিত নামাজ সংক্ষেপ করা। বাবা-মায়ের সঙ্গে কথা বলার সময় সন্তানের শুধু ভালো কথাই বলা উচিত।
অন্যদিকে, পিতামাতার করণীয় হলো, সন্তানের দায়িত্ব পালনের প্রক্রিয়া সহজ করে দেওয়া। সন্তানদের প্রতি দরদি হওয়া, আচরণে ভারসাম্য বজায় রাখা, ন্যায়বিচার করা এবং তাদের প্রতি উদারতা প্রকাশ করা। তবে বাবা-মা কিংবা সন্তান কেউ-ই নিজেদের দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করতে পারবে না, যদি না আল্লাহ সাহায্য না করেন। তাই আল্লাহর রহম ও সাহায্য পাওয়ার জন্য সব সময় সচেষ্ট থাকতে হবে।
এমনও হতে পারে, আপনি অনেক কঠিন পরিস্থিতির ভেতর দিয়ে যাচ্ছেন, তারপরও পিতামাতার হক আদায় করার কথা ভুলে যাবেন না। আবার বাবা-মায়ের প্রতি সদাচরণ করতে গিয়েও নানা ধরনের বিড়ম্বনার শিকার হতে পারেন। কিন্তু তারপরও এই দায়িত্ব থেকে সরে আসা যাবে না। কুরআন আল্লাহ মাজিদে তায়ালা বলেছেন,
“তোমার পালনকর্তা আদেশ করেছেন যে, তাঁকে ছাড়া অন্য কারও ইবাদত করো না এবং পিতা-মাতার সাথে সদ্ব্যবহার করো। তাদের মধ্যে কেউ অথবা উভয়েই যদি তোমার জীবদ্দশায় বার্ধক্যে উপনীত হয়; তবে তাদেরকে ‘উহ’ শব্দটিও বলো না। তাদের ধমক দিয়ো না। বরং সব সময় আদবের সাথে কথা বলো। তাদের সামনে ভালোবাসার সাথে, নম্রভাবে আচরণ করো এবং বলো, 'হে আমার রব! তাদের উভয়ের প্রতি রহম করো, যেমন তারা আমাকে শৈশবকালে লালন- পালন করেছেন'।" সূরা ইসরা: ২৩-২৪
মনে রাখা উচিত, প্রত্যেকেই নিজের অবস্থানে সবচেয়ে ভালো থাকতে চায়। নিজের সম্মান ও জনপ্রিয়তা নিয়েই বাঁচতে চায়। অন্য কেউ তার চেয়ে ভালো অবস্থানে চলে গেলে মানুষ অনেকসময় তা সহজভাবে নিতে পারে না। দুনিয়াতে কেবল পিতা-মাতাই একমাত্র সত্তা, যারা আন্তরিকভাবে চায় সন্তানরা যেন তাদের চেয়েও ভালো অবস্থানে যায় এবং ভালোভাবে থাকে। তাই অন্য সবার তুলনায় তাদের সাথেই উত্তম ব্যবহার করা বেশি জরুরি।
📄 আপনার অবস্থান সম্পর্কে পরিবারকে জানিয়ে রাখুন
যদি কখনও নিয়মিত কাজের বাইরে অন্য কোনো কাজে দূরে কোথাও যেতে হয়, তবে পরিবারকে গন্তব্য সম্পর্কে অবহিত করা উচিত। আপনি কোথায় আছেন- এটা জানতে পারলে তারাও মানসিকভাবে স্বস্তি অনুভব করবে।
প্রখ্যাত তাবেয়ি কাতাদা রহ. গন্তব্য সম্পর্কে পরিবারকে অবহিত না করে দূরে কোথাও যাওয়াকে অনুমোদন দেননি। ইমাম আহমাদ রহ. তাঁর একটি ঘটনা বর্ণনা করেছেন। “একবার কাতাদা রহ. আবু মাশারকে সাথে নিয়ে শাবিকে দেখতে গিয়েছিলেন। সেখানে পৌঁছালে শাবির পরিবার তাদের জানায়, তিনি বাড়িতে নেই। কাতাদা বাড়ির লোকদের প্রশ্ন করলেন, 'তিনি কোথায় গেছেন?' তারা উত্তর দিলেন, 'আমরা জানি না।' কাতাদা তখন আশ্চর্যান্বিত হয়ে বললেন, 'তার মানে তোমরা কি বলতে চাইছো, তিনি কোথায় গেছেন তা বলে যাননি? পরিবারের লোকেরা বলল, 'হ্যাঁ, তিনি কিছুই বলে যাননি।' কাতাদা রহ. শাবির এ আচরণ অপছন্দ করলেন।"
পরিবারকে গন্তব্য সম্পর্কে অবহিত করা হলে তাদের দুশ্চিন্তা লাঘব হয়। সফরকারী ব্যক্তি এবং তার পরিবার স্বস্তিতে থাকে। কোনো কারণে আপনার ফিরতে দেরি হলেও তারা অহেতুক দুশ্চিন্তা করে না।
যদি কখনও নিয়মিত কাজের বাইরে অন্য কোনো কাজে দূরে কোথাও যেতে হয়, তবে পরিবারকে গন্তব্য সম্পর্কে অবহিত করা উচিত। আপনি কোথায় আছেন- এটা জানতে পারলে তারাও মানসিকভাবে স্বস্তি অনুভব করবে।
প্রখ্যাত তাবেয়ি কাতাদা রহ. গন্তব্য সম্পর্কে পরিবারকে অবহিত না করে দূরে কোথাও যাওয়াকে অনুমোদন দেননি। ইমাম আহমাদ রহ. তাঁর একটি ঘটনা বর্ণনা করেছেন। “একবার কাতাদা রহ. আবু মাশারকে সাথে নিয়ে শাবিকে দেখতে গিয়েছিলেন। সেখানে পৌঁছালে শাবির পরিবার তাদের জানায়, তিনি বাড়িতে নেই। কাতাদা বাড়ির লোকদের প্রশ্ন করলেন, 'তিনি কোথায় গেছেন?' তারা উত্তর দিলেন, 'আমরা জানি না।' কাতাদা তখন আশ্চর্যান্বিত হয়ে বললেন, 'তার মানে তোমরা কি বলতে চাইছো, তিনি কোথায় গেছেন তা বলে যাননি? পরিবারের লোকেরা বলল, 'হ্যাঁ, তিনি কিছুই বলে যাননি।' কাতাদা রহ. শাবির এ আচরণ অপছন্দ করলেন।"
পরিবারকে গন্তব্য সম্পর্কে অবহিত করা হলে তাদের দুশ্চিন্তা লাঘব হয়। সফরকারী ব্যক্তি এবং তার পরিবার স্বস্তিতে থাকে। কোনো কারণে আপনার ফিরতে দেরি হলেও তারা অহেতুক দুশ্চিন্তা করে না।
📄 ভ্রাতৃত্ববোধের শিষ্টাচার
ভ্রাতৃত্ববোধ তখনই মজবুত ও সুদৃঢ় হবে, যখন আমরা বস্তুগত কোনো প্রাপ্তির জন্য নয় কিংবা পার্থিব কোনো ফায়দা বা পদবি পাওয়ার লোভে নয়; বরং শুধু আল্লাহর জন্যই আমরা কাউকে ভালোবাসতে পারব। কাউকে যখন আমরা আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য ভালোবাসতে পারব, তখন দুনিয়া ও আখিরাত উভয় জগতেই সফলতার মুখ দেখতে পাব। রাসূল সা. বলেন, "কিয়ামতের দিন আল্লাহ প্রশ্ন করবেন, সেই সব বান্দারা কোথায়; যারা আমার সম্মানে একে অপরকে ভালোবেসেছিল। আজ আমি তাদেরকে আমার আরশের ছায়ায় আশ্রয় দান করব।” মুসলিম: ২৫৬৬
যখন আমরা আমাদের কোনো ভাইয়ের সাথে সাক্ষাৎ করব, চেষ্টা করব যাতে আর কিছু না পারি অন্তত মুখে হাসি ধরে রাখতে। মুসলিমদের প্রাথমিক আদব ও শিষ্টাচার হলো, সে যখনই তার দ্বীনি ভাইয়ের সাথে দেখা করবে, তখনই সে হাসবে। অহংকারী হবে না, বরং কথাবার্তায় ও আচরণে বিনয়ী হওয়ার চেষ্টা করবে। আবু জার গিফারি রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন, “ন্যায়সংগত ও কল্যাণকর কাজের কোনো বিষয়কেই যেন তোমাদের কেউ তুচ্ছ মনে না করে। সে (ভালো করার মতো) কিছু না পেলে অন্তত তার ভাইয়ের সাথে যেন হাসিমুখে মিলিত হয়।" মুসলিম: ২৬২৬, তিরমিজি: ১৮৩৩
মার্জিত আচরণ, ভালোবাসা, সহানুভূতি ও দয়া- এই মানবিক গুণগুলো ভ্রাতৃত্ববোধকে মজবুত করে। আল্লাহ নিজে দয়ালু ও কোমল, তাই যারা সকল ক্ষেত্রে কোমলতা প্রদর্শন ও ধারণ করতে পারে, আল্লাহ তাদের ভালোবাসেন। কোমলতা দিয়ে যা আদায় করা যায়, তা কখনোই কঠোরতা দিয়ে আদায় করা যায় না। ইবনে মাসউদ রা. থেকে বর্ণিত, রাসূল সা. বলেছেন, “আমি কি তোমাদের জানিয়ে দেবো না, কোন ব্যক্তির জন্য জাহান্নাম হারাম এবং জাহান্নামের জন্য কোন ব্যক্তি হারাম? যে ব্যক্তি মানুষের কাছাকাছি (জনপ্রিয়), সহজ-সরল, নম্রভাষী ও সদাচারী।" আহমাদ: ৩৯২৮, তিরমিজি: ২৪৮৮
ভ্রাতৃত্ব ও বন্ধুত্বের অন্যতম দাবি হলো সুপরামর্শ দেওয়া। এর মাধ্যমে পরস্পরের প্রতি দায়বদ্ধতাও প্রমাণিত হয়। তামিম দারি রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন, “দ্বীন হলো কল্যাণ কামনা, উত্তম উপদেশ ও সুপরামর্শ; দ্বীন হলো কল্যাণ কামনা, উত্তম উপদেশ ও সুপরামর্শ; দ্বীন হলো কল্যাণ কামনা, উত্তম উপদেশ ও সুপরামর্শ।” সাহাবিগণ বললেন, 'হে আল্লাহর রাসূল! কার জন্য?' তিনি বললেন, 'আল্লাহ, তাঁর রাসূল, মুমিন নেতাগণ এবং সর্বসাধারণের জন্য।'
আপনি যদি আপনার ভাই ও বন্ধুর প্রতি আন্তরিক থাকতে চান, তা হলে সব সময় তার জন্য শুভ কামনা করতে হবে। তার কাছে সত্যটাই তুলে ধরতে হবে। অহেতুক সেই ব্যক্তির তোষামোদিতে লিপ্ত হওয়া যাবে না। তার সামনে প্রকৃত অবস্থা উপস্থাপন করতে হবে। তাকে ভুল বুঝিয়ে সত্য থেকে দূরে রাখা এক ধরনের প্রতারণার শামিল। তাকে সব সময় ভালো কাজের আদেশ দিতে হবে এবং মন্দ কাজ থেকে বিরত রাখতে হবে। তবে মনে রাখবেন, কাউকে পরামর্শ দিতে গেলে আপনার ভেতর সেই সংক্রান্ত যথাযথ জ্ঞান থাকা জরুরি।
নিজের অন্তরকে রাগ, ঘৃণা ও হিংসামুক্ত রাখার চেষ্টা করতে হবে। অন্তরকে কলুষতামুক্ত রাখার জন্য রাসূল সা. নিয়মিত দুআ করতেন। ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সা. দুআ করতেন এবং বলতেন, “হে আল্লাহ! আমাকে সহযোগিতা করো এবং আমার বিরুদ্ধে (কাউকে) সহযোগিতা করো না। আমাকে সাহায্য করো এবং আমার বিরুদ্ধে কাউকে সাহায্য করো না। আমার পরিকল্পনাকে সফল করে দাও; আমার বিরুদ্ধে করা সকল পরিকল্পনা নস্যাৎ করে দাও। আমাকে হিদায়াত দান করো, আমার জন্য হিদায়াতের পথ সহজসাধ্য করো। যে আমার ওপর জুলুম ও সীমালঙ্ঘন করে, তার বিরুদ্ধে আমাকে সহযোগিতা করো। হে আল্লাহ! আমাকে তোমার কৃতজ্ঞ বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত করো। আমাকে তোমার অধিক জিকরকারী, তোমাকে বেশি ভয়কারী, তোমার নিবিড় আনুগত্যকারী, তোমার কাছে অনুনয়-বিনয়কারী ও তোমার দিকে প্রত্যাবর্তনকারী করো। হে আমার রব! আমার তওবা কবুল করো, আমার সকল গুনাহ ধুয়ে-মুছে দাও। আমার দুআ কবুল করো। আমার পক্ষে সাক্ষ্য-প্রমাণ বহাল করো। আমার জবানকে দৃঢ় করো। আমার অন্তরে হিদায়াত দান করো এবং আমার বুক হতে সমস্ত হিংসা দূর করে দাও।” আবু দাউদ : ১৫১০, আহমাদ : ১৯৯৮, তিরমিযি: ৩৫৫১
উপরোক্ত হাদিসটিতে দেখা যাচ্ছে, যারা জুলুম করেছে তাদের বিরুদ্ধেও রাসূল সা. প্রতিশোধ নিতে চাননি। বরং তিনি তাদেরকে মোকাবিলায় আল্লাহর সহযোগিতা চেয়েছেন। সেই সাথে রাসূল সা. নিজের বুক থেকে হিংসা দূর করার জন্যও দুআ করেছেন। কেননা, এটা খুব সহজ নয়।
কেউ যদি আপনার হক নষ্ট করে, আপনার সাথে প্রতারণা করে, তা হলে তাকে ক্ষমা করে দেওয়া সত্যিই কঠিন। তাই অধিকাংশ মানুষই একটি অন্যায়ের বিপরীতে আরেকটি অন্যায় করে বিষয়টার সূরাহা করতে চায়। ফলে তার মর্যাদাবান ভালো মানুষ হয়ে উঠা হয় না। কিন্তু কেউ যদি সত্যি নিজেকে সংযত করতে পারে, বুক থেকে হিংসাকে মুছে ফেলতে পারে, তা হলে সে চারিত্রিক উৎকর্ষতা লাভ করতে পারবে।
বন্ধুত্ব ও ভ্রাতৃত্বরক্ষার অন্যতম উপায় হলো, মিথ্যা অনুমান ও ভুল ধারণা থেকে বিরত থাকা। কোনোভাবেই কারও আড়ালে তার গিবত ও পরনিন্দা না করা। আল কুরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেন,
“হে ঈমানদারগণ! তোমরা অত্যধিক ধারণা বা অনুমান করা থেকে বেঁচে থাকো। কারণ, কোনো কোনো ধারণা পাপ। তোমরা অপরের গোপন বিষয় সন্ধান করো না, তোমাদের কেউ যেন কারও আড়ালে নিন্দা না করে। তোমাদের কেউ কি তার মৃত ভাইয়ের গোশত খেতে পছন্দ করবে? বস্তুত তোমরা তো একে ঘৃণাই করো। আল্লাহকে ভয় করো। নিশ্চয় আল্লাহ তওবা কবুলকারী, পরম দয়ালু।" সূরা হুজুরাত : ১২
আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, নবিজি সা. বলেছেন, “সাবধান! তোমরা সন্দেহ করা থেকে মুক্ত থাকো। কারণ, সন্দেহ সবচেয়ে বড়ো মিথ্যাচার। পরস্পরের বিরুদ্ধে তথ্য তালাশ করো না এবং গোয়েন্দাগিরি করো না।" বুখারি : ৫১৪৪, মুসলিম : ২৫৬৩, আবু দাউদ : ৪৯১৭
অনেকে হিংসা ও শত্রুতা করতে গিয়ে এতটাই বেপরোয়া হয়ে যায় যে, সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন করে দিতেও পরোয়া করে না। কিন্তু রাসূল সা. এই ধরনের আচরণকে স্পষ্টভাবে নিষেধ করে গেছেন। আনাস বিন মালিক রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন, “তোমরা পরস্পরকে ঘৃণা করো না, হিংসা করো না, একে অপরের পেছনে গোয়েন্দাগিরি করো না; বরং আল্লাহর বান্দারা পরস্পর ভাই ভাই হয়ে যাও। যেকোনো মুসলিমের জন্য তার কোনো ভাইয়ের সঙ্গে তিন দিনের বেশি সম্পর্ক বিচ্ছেদ করা জায়েজ নয়।” বুখারি : ৬০৬৫, মুসলিম : ২৫৫৯, আবু দাউদ : ৪৯১০
অসংখ্য হাদিস থেকে জানা যায় যে, দুজন বা তার বেশি মুসলিমদের মধ্যে বিবাদ নিরসনে কেউ যদি এগিয়ে আসে এবং সফলভাবে সম্পর্কের উন্নয়ন ঘটাতে পারে, তা হলে তার জন্য আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে উত্তম পুরস্কার ও সম্মান রয়েছে। সম্পর্ক নষ্ট হওয়ার একটা বড়ো কারণ অন্যের গোপন কোনো তথ্য ফাঁস করে দেওয়া। তাই আপনার কাছে কেউ যদি কোনো গোপন তথ্য শেয়ার করে, আপনি তা গোপন রাখবেন; যত্রতত্র বলে বেড়াবেন না। মনে রাখবেন, মুনাফিকের যে তিনটি নিদর্শন তার মধ্যে একটি হলো, আমানতের খেয়ানত করা। আর অন্যের গোপন কথা নিজের মধ্যে গোপন রাখাটাও বড়ো আকারের আমানত।
ভ্রাতৃত্ববোধ তখনই মজবুত ও সুদৃঢ় হবে, যখন আমরা বস্তুগত কোনো প্রাপ্তির জন্য নয় কিংবা পার্থিব কোনো ফায়দা বা পদবি পাওয়ার লোভে নয়; বরং শুধু আল্লাহর জন্যই আমরা কাউকে ভালোবাসতে পারব। কাউকে যখন আমরা আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য ভালোবাসতে পারব, তখন দুনিয়া ও আখিরাত উভয় জগতেই সফলতার মুখ দেখতে পাব। রাসূল সা. বলেন, "কিয়ামতের দিন আল্লাহ প্রশ্ন করবেন, সেই সব বান্দারা কোথায়; যারা আমার সম্মানে একে অপরকে ভালোবেসেছিল। আজ আমি তাদেরকে আমার আরশের ছায়ায় আশ্রয় দান করব।” মুসলিম: ২৫৬৬
যখন আমরা আমাদের কোনো ভাইয়ের সাথে সাক্ষাৎ করব, চেষ্টা করব যাতে আর কিছু না পারি অন্তত মুখে হাসি ধরে রাখতে। মুসলিমদের প্রাথমিক আদব ও শিষ্টাচার হলো, সে যখনই তার দ্বীনি ভাইয়ের সাথে দেখা করবে, তখনই সে হাসবে। অহংকারী হবে না, বরং কথাবার্তায় ও আচরণে বিনয়ী হওয়ার চেষ্টা করবে। আবু জার গিফারি রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন, “ন্যায়সংগত ও কল্যাণকর কাজের কোনো বিষয়কেই যেন তোমাদের কেউ তুচ্ছ মনে না করে। সে (ভালো করার মতো) কিছু না পেলে অন্তত তার ভাইয়ের সাথে যেন হাসিমুখে মিলিত হয়।" মুসলিম: ২৬২৬, তিরমিজি: ১৮৩৩
মার্জিত আচরণ, ভালোবাসা, সহানুভূতি ও দয়া- এই মানবিক গুণগুলো ভ্রাতৃত্ববোধকে মজবুত করে। আল্লাহ নিজে দয়ালু ও কোমল, তাই যারা সকল ক্ষেত্রে কোমলতা প্রদর্শন ও ধারণ করতে পারে, আল্লাহ তাদের ভালোবাসেন। কোমলতা দিয়ে যা আদায় করা যায়, তা কখনোই কঠোরতা দিয়ে আদায় করা যায় না। ইবনে মাসউদ রা. থেকে বর্ণিত, রাসূল সা. বলেছেন, “আমি কি তোমাদের জানিয়ে দেবো না, কোন ব্যক্তির জন্য জাহান্নাম হারাম এবং জাহান্নামের জন্য কোন ব্যক্তি হারাম? যে ব্যক্তি মানুষের কাছাকাছি (জনপ্রিয়), সহজ-সরল, নম্রভাষী ও সদাচারী।" আহমাদ: ৩৯২৮, তিরমিজি: ২৪৮৮
ভ্রাতৃত্ব ও বন্ধুত্বের অন্যতম দাবি হলো সুপরামর্শ দেওয়া। এর মাধ্যমে পরস্পরের প্রতি দায়বদ্ধতাও প্রমাণিত হয়। তামিম দারি রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন, “দ্বীন হলো কল্যাণ কামনা, উত্তম উপদেশ ও সুপরামর্শ; দ্বীন হলো কল্যাণ কামনা, উত্তম উপদেশ ও সুপরামর্শ; দ্বীন হলো কল্যাণ কামনা, উত্তম উপদেশ ও সুপরামর্শ।” সাহাবিগণ বললেন, 'হে আল্লাহর রাসূল! কার জন্য?' তিনি বললেন, 'আল্লাহ, তাঁর রাসূল, মুমিন নেতাগণ এবং সর্বসাধারণের জন্য।'
আপনি যদি আপনার ভাই ও বন্ধুর প্রতি আন্তরিক থাকতে চান, তা হলে সব সময় তার জন্য শুভ কামনা করতে হবে। তার কাছে সত্যটাই তুলে ধরতে হবে। অহেতুক সেই ব্যক্তির তোষামোদিতে লিপ্ত হওয়া যাবে না। তার সামনে প্রকৃত অবস্থা উপস্থাপন করতে হবে। তাকে ভুল বুঝিয়ে সত্য থেকে দূরে রাখা এক ধরনের প্রতারণার শামিল। তাকে সব সময় ভালো কাজের আদেশ দিতে হবে এবং মন্দ কাজ থেকে বিরত রাখতে হবে। তবে মনে রাখবেন, কাউকে পরামর্শ দিতে গেলে আপনার ভেতর সেই সংক্রান্ত যথাযথ জ্ঞান থাকা জরুরি।
নিজের অন্তরকে রাগ, ঘৃণা ও হিংসামুক্ত রাখার চেষ্টা করতে হবে। অন্তরকে কলুষতামুক্ত রাখার জন্য রাসূল সা. নিয়মিত দুআ করতেন। ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সা. দুআ করতেন এবং বলতেন, “হে আল্লাহ! আমাকে সহযোগিতা করো এবং আমার বিরুদ্ধে (কাউকে) সহযোগিতা করো না। আমাকে সাহায্য করো এবং আমার বিরুদ্ধে কাউকে সাহায্য করো না। আমার পরিকল্পনাকে সফল করে দাও; আমার বিরুদ্ধে করা সকল পরিকল্পনা নস্যাৎ করে দাও। আমাকে হিদায়াত দান করো, আমার জন্য হিদায়াতের পথ সহজসাধ্য করো। যে আমার ওপর জুলুম ও সীমালঙ্ঘন করে, তার বিরুদ্ধে আমাকে সহযোগিতা করো। হে আল্লাহ! আমাকে তোমার কৃতজ্ঞ বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত করো। আমাকে তোমার অধিক জিকরকারী, তোমাকে বেশি ভয়কারী, তোমার নিবিড় আনুগত্যকারী, তোমার কাছে অনুনয়-বিনয়কারী ও তোমার দিকে প্রত্যাবর্তনকারী করো। হে আমার রব! আমার তওবা কবুল করো, আমার সকল গুনাহ ধুয়ে-মুছে দাও। আমার দুআ কবুল করো। আমার পক্ষে সাক্ষ্য-প্রমাণ বহাল করো। আমার জবানকে দৃঢ় করো। আমার অন্তরে হিদায়াত দান করো এবং আমার বুক হতে সমস্ত হিংসা দূর করে দাও।” আবু দাউদ : ১৫১০, আহমাদ : ১৯৯৮, তিরমিযি: ৩৫৫১
উপরোক্ত হাদিসটিতে দেখা যাচ্ছে, যারা জুলুম করেছে তাদের বিরুদ্ধেও রাসূল সা. প্রতিশোধ নিতে চাননি। বরং তিনি তাদেরকে মোকাবিলায় আল্লাহর সহযোগিতা চেয়েছেন। সেই সাথে রাসূল সা. নিজের বুক থেকে হিংসা দূর করার জন্যও দুআ করেছেন। কেননা, এটা খুব সহজ নয়।
কেউ যদি আপনার হক নষ্ট করে, আপনার সাথে প্রতারণা করে, তা হলে তাকে ক্ষমা করে দেওয়া সত্যিই কঠিন। তাই অধিকাংশ মানুষই একটি অন্যায়ের বিপরীতে আরেকটি অন্যায় করে বিষয়টার সূরাহা করতে চায়। ফলে তার মর্যাদাবান ভালো মানুষ হয়ে উঠা হয় না। কিন্তু কেউ যদি সত্যি নিজেকে সংযত করতে পারে, বুক থেকে হিংসাকে মুছে ফেলতে পারে, তা হলে সে চারিত্রিক উৎকর্ষতা লাভ করতে পারবে।
বন্ধুত্ব ও ভ্রাতৃত্বরক্ষার অন্যতম উপায় হলো, মিথ্যা অনুমান ও ভুল ধারণা থেকে বিরত থাকা। কোনোভাবেই কারও আড়ালে তার গিবত ও পরনিন্দা না করা। আল কুরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেন,
“হে ঈমানদারগণ! তোমরা অত্যধিক ধারণা বা অনুমান করা থেকে বেঁচে থাকো। কারণ, কোনো কোনো ধারণা পাপ। তোমরা অপরের গোপন বিষয় সন্ধান করো না, তোমাদের কেউ যেন কারও আড়ালে নিন্দা না করে। তোমাদের কেউ কি তার মৃত ভাইয়ের গোশত খেতে পছন্দ করবে? বস্তুত তোমরা তো একে ঘৃণাই করো। আল্লাহকে ভয় করো। নিশ্চয় আল্লাহ তওবা কবুলকারী, পরম দয়ালু।" সূরা হুজুরাত : ১২
আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, নবিজি সা. বলেছেন, “সাবধান! তোমরা সন্দেহ করা থেকে মুক্ত থাকো। কারণ, সন্দেহ সবচেয়ে বড়ো মিথ্যাচার। পরস্পরের বিরুদ্ধে তথ্য তালাশ করো না এবং গোয়েন্দাগিরি করো না।" বুখারি : ৫১৪৪, মুসলিম : ২৫৬৩, আবু দাউদ : ৪৯১৭
অনেকে হিংসা ও শত্রুতা করতে গিয়ে এতটাই বেপরোয়া হয়ে যায় যে, সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন করে দিতেও পরোয়া করে না। কিন্তু রাসূল সা. এই ধরনের আচরণকে স্পষ্টভাবে নিষেধ করে গেছেন। আনাস বিন মালিক রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন, “তোমরা পরস্পরকে ঘৃণা করো না, হিংসা করো না, একে অপরের পেছনে গোয়েন্দাগিরি করো না; বরং আল্লাহর বান্দারা পরস্পর ভাই ভাই হয়ে যাও। যেকোনো মুসলিমের জন্য তার কোনো ভাইয়ের সঙ্গে তিন দিনের বেশি সম্পর্ক বিচ্ছেদ করা জায়েজ নয়।” বুখারি : ৬০৬৫, মুসলিম : ২৫৫৯, আবু দাউদ : ৪৯১০
অসংখ্য হাদিস থেকে জানা যায় যে, দুজন বা তার বেশি মুসলিমদের মধ্যে বিবাদ নিরসনে কেউ যদি এগিয়ে আসে এবং সফলভাবে সম্পর্কের উন্নয়ন ঘটাতে পারে, তা হলে তার জন্য আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে উত্তম পুরস্কার ও সম্মান রয়েছে। সম্পর্ক নষ্ট হওয়ার একটা বড়ো কারণ অন্যের গোপন কোনো তথ্য ফাঁস করে দেওয়া। তাই আপনার কাছে কেউ যদি কোনো গোপন তথ্য শেয়ার করে, আপনি তা গোপন রাখবেন; যত্রতত্র বলে বেড়াবেন না। মনে রাখবেন, মুনাফিকের যে তিনটি নিদর্শন তার মধ্যে একটি হলো, আমানতের খেয়ানত করা। আর অন্যের গোপন কথা নিজের মধ্যে গোপন রাখাটাও বড়ো আকারের আমানত।
📄 দরিদ্রদের সম্মান করা
যদি কোনো জনসমাগমস্থলে কোনো দরিদ্র ব্যক্তির সঙ্গে দেখা হয় কিংবা কোনো দরিদ্র ব্যক্তির সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে যান, তবে তার প্রতি অবহেলাভরে তাকাবেন না। দরিদ্র হওয়ায় তাকে হেয় মনে করবেন না। দারিদ্র্য এমন কোনো রোগ বা সংকট নয়, যার জন্য সে ছোটো হয়ে থাকবে কিংবা আপনি তাকে অবহেলা করার সুযোগ পাবেন।
দরিদ্র অতিথি ও বন্ধুদের সঙ্গে শ্রদ্ধাশীল আচরণ করুন। তাদের সঙ্গে কথা বলার সময় হাসিমুখে কথা বলুন। কোমল ভাষা ও উত্তম শব্দ প্রয়োগ করুন। দরিদ্রতা কোনো পাপ নয়। অনেক দরিদ্র ব্যক্তি আছেন, যারা অন্য অনেকের তুলনায় অনেক বেশি সৎ ও তাকওয়াবান।
ইসলাম বিয়ের দাওয়াত গ্রহণ করাকে জরুরি বলে ঘোষণা করেছে। মুসলিমদের বিয়েতে যাওয়ার ব্যাপারে উৎসাহ দেওয়া হয়েছে। এমনও দৃষ্টান্ত পাওয়া যায়- সাহাবি রোজাদার, তারপরও তিনি বিয়ের দাওয়াত রক্ষার্থে সেই অনুষ্ঠানে হাজির হয়েছেন। হাদিসে এসেছে, “যে ইচ্ছাকৃতভাবে বিয়ের দাওয়াত অগ্রাহ্য করল, সে প্রকারান্তরে আল্লাহ ও রাসূলের আনুগত্যকে অস্বীকার করল।” আবু দাউদ : ৩৭৪২
অথচ আরেকটি বিপরীত বাস্তবতাও আছে। হাদিসে সেই বিয়ের খাবারকে সবচেয়ে জঘন্য খাবার বলা হয়েছে, যে বিয়েতে দরিদ্র ব্যক্তিকে দাওয়াত দেওয়া হয়নি। তাই আমাদের দাওয়াতের তালিকায় যেন শুধু বড়োলোক আত্মীয় বা পরিচিতজনরাই না থাকে; বরং অভাবী মানুষগুলোকেও যেন গুরুত্বের সঙ্গে দাওয়াত দেওয়া হয়।
রাসূল সা. বলেছেন, “সবচেয়ে খারাপ খাবার হলো সেই বিয়ের অনুষ্ঠানের খাবার, যেখানে শুধু ধনী লোকদেরই দাওয়াত করা হয়। আর দরিদ্রদের অবজ্ঞার সঙ্গে এড়িয়ে যাওয়া হয়।" বুখারি: ৫১৭৭, মুসলিম : ১৪৩২
আমাদের মধ্যে এমন অনেককেই দেখা যায়, যারা প্রায়শ বাড়ির কাজের লোকদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করে। পত্র-পত্রিকায় গৃহ পরিচারিকাদের ওপর নির্মম নির্যাতনের অনেক ছবি ও সংবাদ পাওয়া যায়। অথচ ইসলাম এ ধরনের আচরণকে অনুমোদন করে না। কাজের লোকদের প্রতি সহানুভূতিশীল, দয়ার্দ্র হওয়া ইসলামের শিক্ষা। এমনকি কাজের লোকেরা কোনো ভুল করলেও রাসূল সা. তাদের ক্ষমা করে দেওয়ার কথা বলেছেন।
আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত, “এক ব্যক্তি রাসূল সা.-এর নিকট এসে বলল, 'হে আল্লাহর রাসূল! আমরা কাজের লোককে প্রতিদিন কতবার মাফ করব?' তিনি চুপ থাকলেন। লোকটি আবার একই প্রশ্ন করলে এবারও তিনি চুপ থাকলেন। তৃতীয়বার প্রশ্ন করলে তিনি বললেন, 'প্রতিদিন সত্তর বার'।” আবু দাউদ : ৫১৬৪
যদি কোনো জনসমাগমস্থলে কোনো দরিদ্র ব্যক্তির সঙ্গে দেখা হয় কিংবা কোনো দরিদ্র ব্যক্তির সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে যান, তবে তার প্রতি অবহেলাভরে তাকাবেন না। দরিদ্র হওয়ায় তাকে হেয় মনে করবেন না। দারিদ্র্য এমন কোনো রোগ বা সংকট নয়, যার জন্য সে ছোটো হয়ে থাকবে কিংবা আপনি তাকে অবহেলা করার সুযোগ পাবেন।
দরিদ্র অতিথি ও বন্ধুদের সঙ্গে শ্রদ্ধাশীল আচরণ করুন। তাদের সঙ্গে কথা বলার সময় হাসিমুখে কথা বলুন। কোমল ভাষা ও উত্তম শব্দ প্রয়োগ করুন। দরিদ্রতা কোনো পাপ নয়। অনেক দরিদ্র ব্যক্তি আছেন, যারা অন্য অনেকের তুলনায় অনেক বেশি সৎ ও তাকওয়াবান।
ইসলাম বিয়ের দাওয়াত গ্রহণ করাকে জরুরি বলে ঘোষণা করেছে। মুসলিমদের বিয়েতে যাওয়ার ব্যাপারে উৎসাহ দেওয়া হয়েছে। এমনও দৃষ্টান্ত পাওয়া যায়- সাহাবি রোজাদার, তারপরও তিনি বিয়ের দাওয়াত রক্ষার্থে সেই অনুষ্ঠানে হাজির হয়েছেন। হাদিসে এসেছে, “যে ইচ্ছাকৃতভাবে বিয়ের দাওয়াত অগ্রাহ্য করল, সে প্রকারান্তরে আল্লাহ ও রাসূলের আনুগত্যকে অস্বীকার করল।” আবু দাউদ : ৩৭৪২
অথচ আরেকটি বিপরীত বাস্তবতাও আছে। হাদিসে সেই বিয়ের খাবারকে সবচেয়ে জঘন্য খাবার বলা হয়েছে, যে বিয়েতে দরিদ্র ব্যক্তিকে দাওয়াত দেওয়া হয়নি। তাই আমাদের দাওয়াতের তালিকায় যেন শুধু বড়োলোক আত্মীয় বা পরিচিতজনরাই না থাকে; বরং অভাবী মানুষগুলোকেও যেন গুরুত্বের সঙ্গে দাওয়াত দেওয়া হয়।
রাসূল সা. বলেছেন, “সবচেয়ে খারাপ খাবার হলো সেই বিয়ের অনুষ্ঠানের খাবার, যেখানে শুধু ধনী লোকদেরই দাওয়াত করা হয়। আর দরিদ্রদের অবজ্ঞার সঙ্গে এড়িয়ে যাওয়া হয়।" বুখারি: ৫১৭৭, মুসলিম : ১৪৩২
আমাদের মধ্যে এমন অনেককেই দেখা যায়, যারা প্রায়শ বাড়ির কাজের লোকদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করে। পত্র-পত্রিকায় গৃহ পরিচারিকাদের ওপর নির্মম নির্যাতনের অনেক ছবি ও সংবাদ পাওয়া যায়। অথচ ইসলাম এ ধরনের আচরণকে অনুমোদন করে না। কাজের লোকদের প্রতি সহানুভূতিশীল, দয়ার্দ্র হওয়া ইসলামের শিক্ষা। এমনকি কাজের লোকেরা কোনো ভুল করলেও রাসূল সা. তাদের ক্ষমা করে দেওয়ার কথা বলেছেন।
আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত, “এক ব্যক্তি রাসূল সা.-এর নিকট এসে বলল, 'হে আল্লাহর রাসূল! আমরা কাজের লোককে প্রতিদিন কতবার মাফ করব?' তিনি চুপ থাকলেন। লোকটি আবার একই প্রশ্ন করলে এবারও তিনি চুপ থাকলেন। তৃতীয়বার প্রশ্ন করলে তিনি বললেন, 'প্রতিদিন সত্তর বার'।” আবু দাউদ : ৫১৬৪