📘 ইসলামিক ম্যানারস 📄 আল্লাহর নামে শপথ করা

📄 আল্লাহর নামে শপথ করা


কোনো একটি কথাকে সত্য প্রমাণ করতে গিয়ে অনেকেই অনেক ক্ষেত্রে আল্লাহর নামে কসম বা শপথ করে। এই বাজে অভ্যাসটি সমূলে পরিহার করা উচিত। আল্লাহর নাম এত হালকাভাবে ব্যবহার করা শোভন নয়। আল্লাহর নামে শপথ করা খুবই তাৎপর্যপূর্ণ। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেন, “তোমরা তোমাদের কসমসমূহকে পারস্পরিক কলহ দ্বন্দ্বের বাহানা হিসেবে ব্যবহার করো না। কেননা, এই শপথ দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর যদি পা ফসকে যায়, তা হলে তোমরা শাস্তির স্বাদ আস্বাদন করবে।” সূরা নাহল: ৯৪

এ বিষয়ে রাসূল সা.-এর একটি হাদিস আমাদের মনে রাখা প্রয়োজন, “তোমাদের মধ্যে যারা আল্লাহ ও শেষ বিচারের দিনের ওপর ঈমান এনেছ, তারা হয় ভালো কিছু বলবে, না হয় চুপ থাকবে।” বুখারি: ৬১৩৬

আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, রাসূল সা. বলেছেন, “দুমুখো মানুষই নিকৃষ্টতম মানুষ। আর দুমুখো হলো তারা, যারা এক দলের সঙ্গে এক রকম কথা বলে এবং অপর দলের সঙ্গে আরেক রকম কথা বলে।” মুসলিম: ২৫২৬
কোনো একটি কথাকে সত্য প্রমাণ করতে গিয়ে অনেকেই অনেক ক্ষেত্রে আল্লাহর নামে কসম বা শপথ করে। এই বাজে অভ্যাসটি সমূলে পরিহার করা উচিত। আল্লাহর নাম এত হালকাভাবে ব্যবহার করা শোভন নয়। আল্লাহর নামে শপথ করা খুবই তাৎপর্যপূর্ণ। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেন, “তোমরা তোমাদের কসমসমূহকে পারস্পরিক কলহ দ্বন্দ্বের বাহানা হিসেবে ব্যবহার করো না। কেননা, এই শপথ দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর যদি পা ফসকে যায়, তা হলে তোমরা শাস্তির স্বাদ আস্বাদন করবে।” সূরা নাহল: ৯৪
এ বিষয়ে রাসূল সা.-এর একটি হাদিস আমাদের মনে রাখা প্রয়োজন, “তোমাদের মধ্যে যারা আল্লাহ ও শেষ বিচারের দিনের ওপর ঈমান এনেছ, তারা হয় ভালো কিছু বলবে, না হয় চুপ থাকবে।” বুখারি: ৬১৩৬

📘 ইসলামিক ম্যানারস 📄 প্রশ্নের উত্তর দেওয়া

📄 প্রশ্নের উত্তর দেওয়া


যদি আপনার কোনো সহকর্মীর কাছে কেউ কোনো প্রশ্নের উত্তর জানতে চায়, তবে আপনি সেই প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার জন্য তাড়াহুড়ো করবেন না। বরং যতক্ষণ পর্যন্ত আপনাকে প্রশ্ন করা না হচ্ছে, ততক্ষণ সংযত থাকুন। এটাই উত্তম পন্থা। এতে মানুষের আপনার মতামত জানার প্রতি আগ্রহ বাড়বে। একই সঙ্গে আপনার ব্যাপারে শ্রদ্ধাবোধ বৃদ্ধি পাবে এবং সুধারণাও তৈরি হবে।

প্রখ্যাত তাবেয়ি মুজাহিদ ইবনে জাবের রহ. প্রায়শই লুকমান আ.-এর সেই সব অমৃত বচনের কথা স্মরণ করতেন, যা তিনি তাঁর সন্তানকে বলেছিলেন। লুকমান আ. বলেছিলেন, “যদি অন্য কাউকে কোনো প্রশ্ন করা হয় তা হলে তুমি তার উত্তর দেওয়ার জন্য ব্যস্ত হয়ো না। এমন আচরণ করো না যেন উত্তরটি দিতে পারলেই তোমাকে পুরস্কৃত করা হবে। বরং তোমার এরকম তাড়াহুড়ো করে উত্তর দেওয়ার কারণে, যাকে প্রশ্ন করা হলো, তিনি বিব্রতবোধ করবেন। সেই সাথে আশেপাশের অন্যদের কাছে তোমার এই অসৌজন্যমূলক আচরণের কারণে তুমি সমালোচিত হবে।”

হাম্বলি মাযহাবের অন্যতম শ্রেষ্ঠ শিক্ষাবিদ ইবনে বাত্তা আল আকবারি রহ. বলেন, “আমি একবার উমর জাহিদ বাগদাদি রহ.-এর সান্নিধ্যে কিছু সময় থাকার সুযোগ পেয়েছিলাম। তাকে একটি বিষয়ে প্রশ্ন করা হয়েছিল। আমি নিজেই চটজলদি তাঁর উত্তর দিয়ে ফেলেছিলাম। তখন তিনি আমার দিকে তাকিয়ে বললেন, 'তোমার এই কাজটি যে ঠিক হয়নি, তা কি বুঝতে পেরেছ?' তিনি ইঙ্গিতে আমাকে তাঁর অসন্তুষ্টির বিষয়টিও বুঝিয়ে দিলেন। ফলে আমি খুবই বিব্রত হয়েছিলাম।”

যদি আপনার কোনো সহকর্মীর কাছে কেউ কোনো প্রশ্নের উত্তর জানতে চায়, তবে আপনি সেই প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার জন্য তাড়াহুড়ো করবেন না। বরং যতক্ষণ পর্যন্ত আপনাকে প্রশ্ন করা না হচ্ছে, ততক্ষণ সংযত থাকুন। এটাই উত্তম পন্থা। এতে মানুষের আপনার মতামত জানার প্রতি আগ্রহ বাড়বে। একই সঙ্গে আপনার ব্যাপারে শ্রদ্ধাবোধ বৃদ্ধি পাবে এবং সুধারণাও তৈরি হবে।
প্রখ্যাত তাবেয়ি মুজাহিদ ইবনে জাবের রহ. প্রায়শই লুকমান আ.-এর সেই সব অমৃত বচনের কথা স্মরণ করতেন, যা তিনি তাঁর সন্তানকে বলেছিলেন। লুকমান আ. বলেছিলেন, “যদি অন্য কাউকে কোনো প্রশ্ন করা হয় তা হলে তুমি তার উত্তর দেওয়ার জন্য ব্যস্ত হয়ো না। এমন আচরণ করো না যেন উত্তরটি দিতে পারলেই তোমাকে পুরস্কৃত করা হবে। বরং তোমার এরকম তাড়াহুড়ো করে উত্তর দেওয়ার কারণে, যাকে প্রশ্ন করা হলো, তিনি বিব্রতবোধ করবেন। সেই সাথে আশেপাশের অন্যদের কাছে তোমার এই অসৌজন্যমূলক আচরণের কারণে তুমি সমালোচিত হবে।”
হাম্বলি মাযহাবের অন্যতম শ্রেষ্ঠ শিক্ষাবিদ ইবনে বাত্তা আল আকবারি রহ. বলেন, “আমি একবার উমর জাহিদ বাগদাদি রহ.-এর সান্নিধ্যে কিছু সময় থাকার সুযোগ পেয়েছিলাম। তাকে একটি বিষয়ে প্রশ্ন করা হয়েছিল। আমি নিজেই চটজলদি তাঁর উত্তর দিয়ে ফেলেছিলাম। তখন তিনি আমার দিকে তাকিয়ে বললেন, 'তোমার এই কাজটি যে ঠিক হয়নি, তা কি বুঝতে পেরেছ?' তিনি ইঙ্গিতে আমাকে তাঁর অসন্তুষ্টির বিষয়টিও বুঝিয়ে দিলেন। ফলে আমি খুবই বিব্রত হয়েছিলাম।”

📘 ইসলামিক ম্যানারস 📄 রাগ বা ক্রোধ নিয়ন্ত্রণ করা

📄 রাগ বা ক্রোধ নিয়ন্ত্রণ করা


মানুষের নিজেকে ধরে রাখতে না পারা কিংবা শিষ্টাচার বজায় না রাখা অথবা কারও সাথে কথা বলতে গিয়ে ধৈর্যচ্যুতি ঘটার একটি বড়ো কারণ হলো, রাগ নিয়ন্ত্রণ করতে না পারা। আমরা যার ওপর বিরক্ত বা ক্ষুব্ধ থাকি, তার সঙ্গে কথা বলার সময় আদবের তোয়াক্কা করি না। ইসলাম এ ধরনের কঠোরতাকে সামাজিক বন্ধন ও ভ্রাতৃত্ববোধের সাথে সাংঘর্ষিক মনে করে। তাই রাসূল সা. সব সময় মুমিন বান্দাদের ক্রোধ বা রাগ নিয়ন্ত্রণ করার তাগিদ দিয়েছেন।

হুমাইদ ইবনে আবদুর রহমান ইবনে আউফ রা. থেকে বর্ণিত, “এক ব্যক্তি রাসূল সা.-এর কাছে এসে বলল, 'হে আল্লাহর রাসূল! আমাকে এমন কয়েকটি কথা শিখিয়ে দিন, যা দ্বারা উপকার লাভ করতে পারি। আর অনেক কথা বলবেন না, তা হলে আমি মনে রাখতে পারব না।' রাসূল সা. তাকে বললেন, 'রাগ করা থেকে বিরত থাকবে'।” বুখারি

আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন, “ওই ব্যক্তি বীর নয় যে অন্যকে ধরাশায়ী করে দেয়; বরং প্রকৃত বীর ওই ব্যক্তি যে রাগের সময় নিজেকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারে।”

মানুষের নিজেকে ধরে রাখতে না পারা কিংবা শিষ্টাচার বজায় না রাখা অথবা কারও সাথে কথা বলতে গিয়ে ধৈর্যচ্যুতি ঘটার একটি বড়ো কারণ হলো, রাগ নিয়ন্ত্রণ করতে না পারা। আমরা যার ওপর বিরক্ত বা ক্ষুব্ধ থাকি, তার সঙ্গে কথা বলার সময় আদবের তোয়াক্কা করি না। ইসলাম এ ধরনের কঠোরতাকে সামাজিক বন্ধন ও ভ্রাতৃত্ববোধের সাথে সাংঘর্ষিক মনে করে। তাই রাসূল সা. সব সময় মুমিন বান্দাদের ক্রোধ বা রাগ নিয়ন্ত্রণ করার তাগিদ দিয়েছেন।
হুমাইদ ইবনে আবদুর রহমান ইবনে আউফ রা. থেকে বর্ণিত, “এক ব্যক্তি রাসূল সা.-এর কাছে এসে বলল, 'হে আল্লাহর রাসূল! আমাকে এমন কয়েকটি কথা শিখিয়ে দিন, যা দ্বারা উপকার লাভ করতে পারি। আর অনেক কথা বলবেন না, তা হলে আমি মনে রাখতে পারব না।' রাসূল সা. তাকে বললেন, 'রাগ করা থেকে বিরত থাকবে'।” বুখারি
আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন, “ওই ব্যক্তি বীর নয় যে অন্যকে ধরাশায়ী করে দেয়; বরং প্রকৃত বীর ওই ব্যক্তি যে রাগের সময় নিজেকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারে।”

📘 ইসলামিক ম্যানারস 📄 গিবত ও পরনিন্দা করা

📄 গিবত ও পরনিন্দা করা


রাসূল সা. গিবতের সংজ্ঞা দিতে গিয়ে বলেছেন, "গিবত হলো কোনো ব্যক্তি সমন্ধে এমন কিছু বলা যা সে পছন্দ করবে না।” কুরআন ও সুন্নাহর অসংখ্য স্থানে গিবত ও পরনিন্দা সম্পর্কে আমাদের বিরত থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তারপরও আমরা কোনোভাবেই নিজেদের জিহ্বাকে সংযত রাখতে পারছি না। মূলত, মুসলিমদের মাঝে বিভাজন ও বিভক্তি সৃষ্টির উদ্দেশ্যেই শয়তান কাজ করে থাকে। তাই শয়তান নানাভাবে আমাদের সামনে গিবতের বিষয়টিকে যৌক্তিক ও প্রাসঙ্গিক আকারে উপস্থাপন করতে চায়। ইসলাম মুমিনদের মনকে কাছাকাছি নিয়ে আসতে চায়, আর শয়তান শুধু দূরত্বই বাড়াতে চায়। আর এক্ষেত্রে গিবত হলো শয়তানের সবচেয়ে বড়ো হাতিয়ার।

যেহেতু মুসলিমরা আল্লাহর ইবাদত থেকে মুখ ফিরিয়ে শয়তানের ইবাদতে লিপ্ত হয়নি, তাই মুসলিমদের কতভাবে বিপথগামী করা যায়, বিভ্রান্ত করা যায় এবং আল্লাহর নির্দেশিত হিদায়াতের পথ থেকে সরিয়ে নেওয়া যায়, শয়তানের যাবতীয় তৎপরতাই সেভাবেই আবর্তিত হয়। আল্লাহ তায়ালা বলেন, "শয়তান তোমাদের শত্রু; অতএব তাকে শত্রু হিসেবেই গ্রহণ করো। সে তার দলবলকে আহ্বান করে ভারী করার চেষ্টা করে, যেন তারা জাহান্নামি হয়।" সূরা ফাতির : ৬

শয়তান তার দলবলকে সংখ্যায় আরও বৃদ্ধি করার জন্য যে কৌশলগুলোর আশ্রয় নেয়, তার মধ্যে অন্যতম প্রধান দুটি কৌশল হলো গিবত ও পরচর্চা। আমাদের বুঝতে হবে, গিবত ও পরনিন্দার কারণে আমরা দুনিয়া ও আখিরাত দুটোতেই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি। এই মন্দ অভ্যাসটির চর্চা করার কারণে একদিকে দুনিয়াতে আমাদের পরিবার, আত্মীয়স্বজন ও বন্ধুদের মধ্যে যেমন বিভাজন দেখা দিচ্ছে, সম্পর্ক খারাপ হচ্ছে, ঠিক তেমনিভাবে আখিরাতেও নিজেদের জন্য কঠিন শাস্তিকে নিশ্চিত করে ফেলছি। কুরআন মাজিদে আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা বলেন, “হে মুমিনগণ, তোমরা অতি ধারণা থেকে বিরত থাকো। নিশ্চয় কিছু ধারণা পাপ। আর গোপনীয় বিষয় অনুসন্ধান করো না। তোমাদের কেউ যেন কারও পশ্চাতে নিন্দা না করে। তোমাদের কেউ কি তার মৃত ভাইয়ের গোশত খেতে পছন্দ করবে? বস্তুত তোমরা তো একে ঘৃণাই করো। আল্লাহকে ভয় করো। নিশ্চয় আল্লাহ তওবা কবুলকারী, পরম দয়ালু।" সূরা হুজুরাত: ১২

আবু বারযাহ আসলামি রা. থেকে বর্ণিত, রাসূল সা. বলেছেন, “যেসব লোক যারা কেবল মুখেই ঈমান এনেছে কিন্তু ঈমান অন্তরে প্রবেশ করেনি! তোমরা মুসলিমদের গিবত করবে না ও দোষত্রুটি তালাশ করবে না। কারণ, যারা তাদের দোষ খুঁজে বেড়াবে, আল্লাহও তাদের দোষ খুঁজবেন। আর আল্লাহ কারও দোষত্রুটি তালাশ করলে তাকে তার ঘরের মধ্যেই অপদস্থ করে ছাড়বেন।" আবু দাউদ: ৪৮৮০

আল-মুসতাওরিদ রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন, “যে ব্যক্তি অপর মুসলিমের গিবত করে এক লোকমা খাবে, আল্লাহ তাকে এজন্য জাহান্নাম হতে সমপরিমাণ খাওয়াবেন। আর যে ব্যক্তি অপর মুসলিমের দোষ বর্ণনার পোশাক পরবে আল্লাহ তাকে অনুরূপ জাহান্নামের পোশাক পরাবেন। আর যে ব্যক্তি অপর ব্যক্তির কুৎসা রটিয়ে খ্যাতি ও প্রদর্শনীর স্তরে পৌঁছবে, মহান আল্লাহ কিয়ামতের দিন তাকে ওই খ্যাতি ও প্রদর্শনীর জায়গাতেই (জাহান্নামে) স্থান দেবেন।” সুনানে আবু দাউদ : ৪৮৮১

রাসূল সা. গিবতের সংজ্ঞা দিতে গিয়ে বলেছেন, "গিবত হলো কোনো ব্যক্তি সমন্ধে এমন কিছু বলা যা সে পছন্দ করবে না।” কুরআন ও সুন্নাহর অসংখ্য স্থানে গিবত ও পরনিন্দা সম্পর্কে আমাদের বিরত থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তারপরও আমরা কোনোভাবেই নিজেদের জিহ্বাকে সংযত রাখতে পারছি না। মূলত, মুসলিমদের মাঝে বিভাজন ও বিভক্তি সৃষ্টির উদ্দেশ্যেই শয়তান কাজ করে থাকে। তাই শয়তান নানাভাবে আমাদের সামনে গিবতের বিষয়টিকে যৌক্তিক ও প্রাসঙ্গিক আকারে উপস্থাপন করতে চায়। ইসলাম মুমিনদের মনকে কাছাকাছি নিয়ে আসতে চায়, আর শয়তান শুধু দূরত্বই বাড়াতে চায়। আর এক্ষেত্রে গিবত হলো শয়তানের সবচেয়ে বড়ো হাতিয়ার।
যেহেতু মুসলিমরা আল্লাহর ইবাদত থেকে মুখ ফিরিয়ে শয়তানের ইবাদতে লিপ্ত হয়নি, তাই মুসলিমদের কতভাবে বিপথগামী করা যায়, বিভ্রান্ত করা যায় এবং আল্লাহর নির্দেশিত হিদায়াতের পথ থেকে সরিয়ে নেওয়া যায়, শয়তানের যাবতীয় তৎপরতাই সেভাবেই আবর্তিত হয়। আল্লাহ তায়ালা বলেন, "শয়তান তোমাদের শত্রু; অতএব তাকে শত্রু হিসেবেই গ্রহণ করো। সে তার দলবলকে আহ্বান করে ভারী করার চেষ্টা করে, যেন তারা জাহান্নামি হয়।" সূরা ফাতির : ৬
শয়তান তার দলবলকে সংখ্যায় আরও বৃদ্ধি করার জন্য যে কৌশলগুলোর আশ্রয় নেয়, তার মধ্যে অন্যতম প্রধান দুটি কৌশল হলো গিবত ও পরচর্চা। আমাদের বুঝতে হবে, গিবত ও পরনিন্দার কারণে আমরা দুনিয়া ও আখিরাত দুটোতেই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি। এই মন্দ অভ্যাসটির চর্চা করার কারণে একদিকে দুনিয়াতে আমাদের পরিবার, আত্মীয়স্বজন ও বন্ধুদের মধ্যে যেমন বিভাজন দেখা দিচ্ছে, সম্পর্ক খারাপ হচ্ছে, ঠিক তেমনিভাবে আখিরাতেও নিজেদের জন্য কঠিন শাস্তিকে নিশ্চিত করে ফেলছি। কুরআন মাজিদে আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা বলেন, “হে মুমিনগণ, তোমরা অতি ধারণা থেকে বিরত থাকো। নিশ্চয় কিছু ধারণা পাপ। আর গোপনীয় বিষয় অনুসন্ধান করো না। তোমাদের কেউ যেন কারও পশ্চাতে নিন্দা না করে। তোমাদের কেউ কি তার মৃত ভাইয়ের গোশত খেতে পছন্দ করবে? বস্তুত তোমরা তো একে ঘৃণাই করো। আল্লাহকে ভয় করো। নিশ্চয় আল্লাহ তওবা কবুলকারী, পরম দয়ালু।" সূরা হুজুরাত: ১২
আবু বারযাহ আসলামি রা. থেকে বর্ণিত, রাসূল সা. বলেছেন, “যেসব লোক যারা কেবল মুখেই ঈমান এনেছে কিন্তু ঈমান অন্তরে প্রবেশ করেনি! তোমরা মুসলিমদের গিবত করবে না ও দোষত্রুটি তালাশ করবে না। কারণ, যারা তাদের দোষ খুঁজে বেড়াবে, আল্লাহও তাদের দোষ খুঁজবেন। আর আল্লাহ কারও দোষত্রুটি তালাশ করলে তাকে তার ঘরের মধ্যেই অপদস্থ করে ছাড়বেন।" আবু দাউদ: ৪৮৮০
আল-মুসতাওরিদ রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন, “যে ব্যক্তি অপর মুসলিমের গিবত করে এক লোকমা খাবে, আল্লাহ তাকে এজন্য জাহান্নাম হতে সমপরিমাণ খাওয়াবেন। আর যে ব্যক্তি অপর মুসলিমের দোষ বর্ণনার পোশাক পরবে আল্লাহ তাকে অনুরূপ জাহান্নামের পোশাক পরাবেন। আর যে ব্যক্তি অপর ব্যক্তির কুৎসা রটিয়ে খ্যাতি ও প্রদর্শনীর স্তরে পৌঁছবে, মহান আল্লাহ কিয়ামতের দিন তাকে ওই খ্যাতি ও প্রদর্শনীর জায়গাতেই (জাহান্নামে) স্থান দেবেন।” সুনানে আবু দাউদ : ৪৮৮১

ফন্ট সাইজ
15px
17px