📘 ইসলামিক ম্যানারস > 📄 আলাপের জন্য সঠিক বিষয় বাছাই করতে হবে

📄 আলাপের জন্য সঠিক বিষয় বাছাই করতে হবে


সূরা হজে ঈমানদারদের বৈশিষ্ট্যের কথা বলতে গিয়ে আল্লাহ তায়ালা বলেন, “তারা পথপ্রদর্শিত হয়েছিল পবিত্র কথার দিকে এবং পরিচালিত হয়েছিল প্রশংসিত আল্লাহর পথে।” সূরা হজ: ২৪

কারও সাথে যখন কথা বলবেন, তখন খেয়াল রাখবেন, উক্ত পরিস্থিতিতে কোন ধরনের কথা বলা উচিত। কথা সংক্ষেপ করার চেষ্টা করুন। যারা সেখানে উপস্থিত আছে, তাদের মাঝে যদি আপনি সবচেয়ে কম বয়সি হন, তা হলে অনুমতি দেওয়ার আগে কথা শুরু করবেন না। যদি নিশ্চিত হতে পারেন, আপনার কথা সবাই ভালোভাবে নেবে এবং অন্যান্য উপস্থিতিও বিষয়টাকে ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করবে, তবেই কেবল কথা বলবেন। আলোচনা অযথা টেনে লম্বা করবেন না। কথা বলার সময় গলার স্বর সংযত রাখুন।

খাদিমে রাসূল আনাস বিন মালিক রা. বলেছেন, "রাসূল সা.-এর কথা ছিল খুবই সুস্পষ্ট এবং পরিমিত। তিনি খুব বেশি কথা বলতেন না, আবার খুব কমও নয়। তিনি বাচালের মতো বেশি কথা বলা কিংবা গাল ভরে কথা বলে যাওয়াকে পছন্দ করতেন না।” আমাদের মা আয়িশা রা. থেকে বর্ণিত বুখারি ও তিরমিযি শরিফের একটি হাদিস থেকে জানা যায়, রাসূল সা.-এর কথা এতটাই সংক্ষেপ ও স্পষ্ট ছিল যে, তার শব্দগুলো গোনা যেত। তিনি অবিরাম এবং তাড়াতাডি কথা বলতেন না। বরং ধীরে ধীরে স্পষ্টভাবে কথা বলতেন। ফলে একটি বিষয় অপর বিষয় থেকে পৃথক হয়ে যেত এবং শ্রোতারা খুব ভালোভাবে তাঁর কথা উপলব্ধি করতে পারত। তিরমিযি : ৩৬৩৯

জাবির রা. থেকে বর্ণিত, রাসূল সা. বলেছেন, “তোমাদের যে ব্যক্তির চরিত্র ও আচরণ সর্বোত্তম, তোমাদের মধ্যে সে-ই আমার নিকট সর্বাধিক প্রিয় এবং কিয়ামত দিবসেও আমার খুবই নিকটে থাকবে। তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি আমার নিকট সবচেয়ে বেশি ঘৃণ্য, সে ব্যক্তি কিয়ামত দিবসে আমার নিকট হতে অনেক দূরে থাকবে। আর তারা হলো, বাচাল, ধৃষ্ট-নির্লজ্জ এবং অহংকারে মত্ত ব্যক্তিরা।” তিরমিযি : ২০১৮

আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, রাসূল সা. বলেছেন, “(অনেক সময়) মানুষ কথা বলে, কিন্তু সে কথা তাকে কোথায় টেনে নিয়ে যাবে, সে তা জানে না। অথচ সেই কথার জন্য আল্লাহ তায়ালা তার জন্য সন্তুষ্টি কিয়ামত পর্যন্ত লিখে দেন। আবার কোনো সময় আল্লাহর অসন্তুষ্টিমূলক এমন কথা কেউ বলে, সেই কথা তাকে কোথায় নিয়ে যাবে সে তা জানে না, অথচ সেই কথার জন্য আল্লাহ তায়ালা তার জন্য কিয়ামত পর্যন্ত স্বীয় অসন্তুষ্টি লিখে দেন।” বুখারি : ৬৪৭৭, মুসলিম: ২৯৮৮

যদি আলোচনার সময় আজান শোনা যায়, তবে আজান শুনুন এবং আজানের জবাব দিন। অনেক মানুষ, এমনকি ইসলামি জ্ঞানসম্পন্ন অনেক মানুষকে আজানের সময় দিব্যি কথা বলে যেতে দেখা যায়। এটা একদমই উচিত নয়। শুধু আলোচনা করা নয়; কেউ যদি কুরআন তিলাওয়াত বা অন্য কোনো বই পড়ার সময়ও আজান শুনে, তারপরও অধ্যয়ন বন্ধ রেখে আজান শোনা এবং জবাব দেওয়া উচিত। আমরা বাড়িতে থাকি অথবা অফিসে কিংবা দোকানে, যেখানেই থাকি না কেন আজানের শব্দ কানে আসামাত্রই হাতের কাজ থামিয়ে দিয়ে আজান শোনা প্রয়োজন।

ইমাম কাসানি রহ. তাঁর বাদাইয়ুস সানায়ি গ্রন্থে বলেন, “যার কানে আজান বা ইকামতের শব্দ প্রবেশ করবে, তার সঙ্গে সঙ্গে কথা বলা থামিয়ে দেওয়া উচিত। যদি সেই সময় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি কুরআন পড়ে বা এরকম কোনো ভালো কাজও করে, তারপরও সব কাজ বাদ দিয়ে আজান শোনা এবং জবাব দেওয়া উচিত।”

আজান হলো অন্তরের খোরাক। আজান অন্তরে ঈমানি চেতনাকে প্রতিষ্ঠিত করে এবং অন্তরকে উন্নত করে। তাই, আজানের যে উপকারিতা তা অন্য কিছুর জন্য নষ্ট করা উচিত নয়। আজানের সময় অন্য কোনো কাজে ব্যস্ত থাকলে আজানের উপকারিতা আস্বাদন করা যায় না। আপনার সন্তান ও পরবর্তী প্রজন্মকেও এই বিষয়টি শেখানো দরকার।

সহিহ বুখারিতে আবু সাইদ খুদরি রা.-এর বর্ণনায় এসেছে, রাসূল সা. বলেছেন, “যদি তোমরা আজান শুনতে পাও, তা হলে মুয়াজ্জিন যা বলছে তোমরাও তাই পাঠ করো।” বুখারি: ৬১১, আজান অধ্যায়

ইমাম আবদুর রাজ্জাক রহ. তার মুসান্নাফ গ্রন্থে ইবনে জুরাইযের এই উদ্ধৃতিটি উল্লেখ করেছেন, “আমি জেনেছি যে, সোনালি যুগের মানুষেরা যেভাবে মনোযোগ দিয়ে কুরআন তিলাওয়াত শুনতেন, ঠিক একই রকম মনোযোগ দিয়ে আজানও শুনতেন। যদি মুয়াজ্জিন বলতেন, 'নামাজের দিকে আসো', তা হলে তারা বলতেন, 'আল্লাহর রহমত ও সাহায্যের বরকতে আমরা আসব।' যদি মুয়াজ্জিন বলতেন, 'তোমরা কল্যাণের পথে আসো', তখনও তারা বলতেন, 'আল্লাহর ইচ্ছায় আমরা কল্যাণের পথে আসব'।"

সূরা হজে ঈমানদারদের বৈশিষ্ট্যের কথা বলতে গিয়ে আল্লাহ তায়ালা বলেন, “তারা পথপ্রদর্শিত হয়েছিল পবিত্র কথার দিকে এবং পরিচালিত হয়েছিল প্রশংসিত আল্লাহর পথে।” সূরা হজ: ২৪
কারও সাথে যখন কথা বলবেন, তখন খেয়াল রাখবেন, উক্ত পরিস্থিতিতে কোন ধরনের কথা বলা উচিত। কথা সংক্ষেপ করার চেষ্টা করুন। যারা সেখানে উপস্থিত আছে, তাদের মাঝে যদি আপনি সবচেয়ে কম বয়সি হন, তা হলে অনুমতি দেওয়ার আগে কথা শুরু করবেন না। যদি নিশ্চিত হতে পারেন, আপনার কথা সবাই ভালোভাবে নেবে এবং অন্যান্য উপস্থিতিও বিষয়টাকে ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করবে, তবেই কেবল কথা বলবেন। আলোচনা অযথা টেনে লম্বা করবেন না। কথা বলার সময় গলার স্বর সংযত রাখুন।
খাদিমে রাসূল আনাস বিন মালিক রা. বলেছেন, "রাসূল সা.-এর কথা ছিল খুবই সুস্পষ্ট এবং পরিমিত। তিনি খুব বেশি কথা বলতেন না, আবার খুব কমও নয়। তিনি বাচালের মতো বেশি কথা বলা কিংবা গাল ভরে কথা বলে যাওয়াকে পছন্দ করতেন না।” আমাদের মা আয়িশা রা. থেকে বর্ণিত বুখারি ও তিরমিযি শরিফের একটি হাদিস থেকে জানা যায়, রাসূল সা.-এর কথা এতটাই সংক্ষেপ ও স্পষ্ট ছিল যে, তার শব্দগুলো গোনা যেত। তিনি অবিরাম এবং তাড়াতাডি কথা বলতেন না। বরং ধীরে ধীরে স্পষ্টভাবে কথা বলতেন। ফলে একটি বিষয় অপর বিষয় থেকে পৃথক হয়ে যেত এবং শ্রোতারা খুব ভালোভাবে তাঁর কথা উপলব্ধি করতে পারত। তিরমিযি : ৩৬৩৯
জাবির রা. থেকে বর্ণিত, রাসূল সা. বলেছেন, “তোমাদের যে ব্যক্তির চরিত্র ও আচরণ সর্বোত্তম, তোমাদের মধ্যে সে-ই আমার নিকট সর্বাধিক প্রিয় এবং কিয়ামত দিবসেও আমার খুবই নিকটে থাকবে। তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি আমার নিকট সবচেয়ে বেশি ঘৃণ্য, সে ব্যক্তি কিয়ামত দিবসে আমার নিকট হতে অনেক দূরে থাকবে। আর তারা হলো, বাচাল, ধৃষ্ট-নির্লজ্জ এবং অহংকারে মত্ত ব্যক্তিরা।” তিরমিযি : ২০১৮
আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, রাসূল সা. বলেছেন, “(অনেক সময়) মানুষ কথা বলে, কিন্তু সে কথা তাকে কোথায় টেনে নিয়ে যাবে, সে তা জানে না। অথচ সেই কথার জন্য আল্লাহ তায়ালা তার জন্য সন্তুষ্টি কিয়ামত পর্যন্ত লিখে দেন। আবার কোনো সময় আল্লাহর অসন্তুষ্টিমূলক এমন কথা কেউ বলে, সেই কথা তাকে কোথায় নিয়ে যাবে সে তা জানে না, অথচ সেই কথার জন্য আল্লাহ তায়ালা তার জন্য কিয়ামত পর্যন্ত স্বীয় অসন্তুষ্টি লিখে দেন।” বুখারি : ৬৪৭৭, মুসলিম: ২৯৮৮
যদি আলোচনার সময় আজান শোনা যায়, তবে আজান শুনুন এবং আজানের জবাব দিন। অনেক মানুষ, এমনকি ইসলামি জ্ঞানসম্পন্ন অনেক মানুষকে আজানের সময় দিব্যি কথা বলে যেতে দেখা যায়। এটা একদমই উচিত নয়। শুধু আলোচনা করা নয়; কেউ যদি কুরআন তিলাওয়াত বা অন্য কোনো বই পড়ার সময়ও আজান শুনে, তারপরও অধ্যয়ন বন্ধ রেখে আজান শোনা এবং জবাব দেওয়া উচিত। আমরা বাড়িতে থাকি অথবা অফিসে কিংবা দোকানে, যেখানেই থাকি না কেন আজানের শব্দ কানে আসামাত্রই হাতের কাজ থামিয়ে দিয়ে আজান শোনা প্রয়োজন।
ইমাম কাসানি রহ. তাঁর বাদাইয়ুস সানায়ি গ্রন্থে বলেন, “যার কানে আজান বা ইকামতের শব্দ প্রবেশ করবে, তার সঙ্গে সঙ্গে কথা বলা থামিয়ে দেওয়া উচিত। যদি সেই সময় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি কুরআন পড়ে বা এরকম কোনো ভালো কাজও করে, তারপরও সব কাজ বাদ দিয়ে আজান শোনা এবং জবাব দেওয়া উচিত।”
আজান হলো অন্তরের খোরাক। আজান অন্তরে ঈমানি চেতনাকে প্রতিষ্ঠিত করে এবং অন্তরকে উন্নত করে। তাই, আজানের যে উপকারিতা তা অন্য কিছুর জন্য নষ্ট করা উচিত নয়। আজানের সময় অন্য কোনো কাজে ব্যস্ত থাকলে আজানের উপকারিতা আস্বাদন করা যায় না। আপনার সন্তান ও পরবর্তী প্রজন্মকেও এই বিষয়টি শেখানো দরকার।
সহিহ বুখারিতে আবু সাইদ খুদরি রা.-এর বর্ণনায় এসেছে, রাসূল সা. বলেছেন, “যদি তোমরা আজান শুনতে পাও, তা হলে মুয়াজ্জিন যা বলছে তোমরাও তাই পাঠ করো।” বুখারি: ৬১১, আজান অধ্যায়
ইমাম আবদুর রাজ্জাক রহ. তার মুসান্নাফ গ্রন্থে ইবনে জুরাইযের এই উদ্ধৃতিটি উল্লেখ করেছেন, “আমি জেনেছি যে, সোনালি যুগের মানুষেরা যেভাবে মনোযোগ দিয়ে কুরআন তিলাওয়াত শুনতেন, ঠিক একই রকম মনোযোগ দিয়ে আজানও শুনতেন। যদি মুয়াজ্জিন বলতেন, 'নামাজের দিকে আসো', তা হলে তারা বলতেন, 'আল্লাহর রহমত ও সাহায্যের বরকতে আমরা আসব।' যদি মুয়াজ্জিন বলতেন, 'তোমরা কল্যাণের পথে আসো', তখনও তারা বলতেন, 'আল্লাহর ইচ্ছায় আমরা কল্যাণের পথে আসব'।"

📘 ইসলামিক ম্যানারস > 📄 মার্জিত স্বরে কথা বলুন

📄 মার্জিত স্বরে কথা বলুন


যদি কোনো অনুষ্ঠানে বা একান্তে কোনো মেহমানের সঙ্গে কথা বলেন, তবে চেষ্টা করবেন যেন কথা বলার সময় আপনার স্বর শালীন পর্যায়ে থাকে। আওয়াজ তুলনামূলক নিচু ও শ্রুতিমধুর থাকে। গলার স্বর বেশি উচ্চকিত হওয়াটা আদব ও শিষ্টাচারের বরখেলাফ। তা ছাড়া চড়া গলায় কথা বললে মনে হয় যেন শ্রোতাদের প্রতি আপনার শ্রদ্ধাবোধেরও ঘাটতি রয়েছে। এই আদবটি বন্ধুবান্ধব, সঙ্গী-সঙ্গিনি, সহযোগী, সহকর্মী, আগন্তুক, মুসাফির, আত্মীয়স্বজন, যুবক বা বৃদ্ধ- সকলের ক্ষেত্রেই বজায় রাখা উচিত। পিতামাতা কিংবা এ পর্যায়ের অভিভাবকের সাথে কথা বলার সময় বিষয়টা আরও সতর্কতার সঙ্গে লক্ষ রাখা দরকার。

যারা শ্রদ্ধার পাত্র, তাদের সঙ্গে কথা বলার সময় সচেতন থাকুন। যদি সম্ভব হয়, তবে কথা বলার সময় মুখে ধরে রাখুন মৃদু হাসি। কারণ, বক্তা নিজের চেহারা খুব রুক্ষ করে থাকলে শ্রোতারা কথাগুলোকে সহজভাবে নিতে পারে না। আলিমদের মধ্যে অনেককেই সাধারণ মানুষ কঠোর ও কট্টরপন্থি মনে করে। তাই আলিম ও ইমামদের উচিত কথা বলার সময় মুখে নমনীয়ভাব প্রদর্শন করা।

কুরআনের হাকিমের সূরা লুকমান থেকে আমরা এমনই শিক্ষা পাই। লুকমান আ. নিজ সন্তানকে উদ্দেশ্য করে বলেছিলেন, “চলাফেরায় মধ্যপন্থা অবলম্বন করো এবং কণ্ঠস্বর নিচু রাখো। নিঃসন্দেহে গাধার স্বরই সবচেয়ে শ্রুতিকটু।” সূরা লুকমান: ১৯

সূরা হুজুরাতে আল্লাহ তায়ালা বলছেন, “হে মুমিনগণ! তোমরা নবির কণ্ঠস্বরের ওপর তোমাদের আওয়াজ উঁচু করো না এবং তোমরা একে অপরের সাথে যেভাবে উঁচুস্বরে কথা বলো, তাঁর সাথে সেভাবে উঁচুস্বরে কথা বলো না। এতে তোমাদের কর্ম নিষ্ফল হয়ে যাবে, যা তোমরা টেরও পাবে না। যারা আল্লাহর রাসূলের সামনে নিজেদের আওয়াজ নিচু করে, আল্লাহ তাদের অন্তরকে শিষ্টাচারের জন্য শোধিত করেছেন। তাদের জন্যে রয়েছে ক্ষমা ও মহাপুরস্কার।" সূরা হুজুরাত: ২-৩

সহিহ বুখারিতে আবদুল্লাহ ইবনে যুবাইর রা. থেকে বর্ণিত, “সূরা হুজুরাতের এই আয়াতগুলো নাজিল হওয়ার পর উমর ফারুক রা. এমনভাবে নবিজি সা.-এর সাথে কথা বলতেন, যেন মনে হচ্ছে উমর ফিসফিস করে শব্দ করছেন। উমর ফারুক রা. এতটাই নিচুস্বরে কথা বলতেন যে, রাসূল সা. অনেক সময় উমরের কথা বুঝতে পারতেন না। তাই তিনি দ্বিতীয়বার উমর ফারুককে প্রশ্ন করে কথা বুঝে নিতেন।”

আবদুল্লাহ ইবনু মুগাফফাল রা. থেকে বর্ণিত, রাসূল সা. বলেছেন, “নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ নম্র এবং তিনি নম্রতা পছন্দ করেন। তিনি নমনীয় লোককে যা দান করেন তা কঠিন স্বভাবের লোককে দান করেন না।" আবু দাউদ : ৪৮০৭

আপনার কথাবার্তা অবশ্যই পরিষ্কার, স্পষ্ট, সংক্ষেপ এবং বস্তুনিষ্ঠ হতে হবে; বাচালের মতো শুধু কথা বলে গেলেই হবে না। বুখারি ও মুসলিম শরিফের একটি হাদিসে খাদিমে রাসূল আনাস রা.-এর বর্ণনায় জানা যায়, রাসূল সা.-এর কথাবার্তা ছিল পরিমিত, স্পষ্ট ও গোছানো। তিনি অযাচিতভাবে কথা বাড়াতেন না। উম্মুল মুমিনিন আয়িশা রা. বলেন, "রাসূলুল্লাহ সা.-এর বক্তব্য ছিল সুস্পষ্ট, প্রত্যেক শ্রোতাই তাঁর বক্তব্য বুঝতে পারত।” আবু দাউদ: ৪৮৩৯

কথা বলার সময় খুব আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে কথা বলা শোভনীয় নয়। ঝগড়ার ভঙ্গিমাতেও কথোপকথন চালিয়ে যাওয়া ঠিক নয়। কথা এমনভাবে বলা উচিত নয়, যাতে শ্রোতার কাছে তা নেতিবাচক মনে হয়।

রাসূল সা. বলেছেন, “মুমিন দোষারোপকারী ও নিন্দুক হয় না, অভিসম্পাতকারী হয় না, অশ্লীল কাজ করে না এবং কটুভাষীও হয় না।” তিরমিযি : ১৯৭৭

কারও সম্বন্ধে কথা বলতে গিয়ে কিংবা কারও সঙ্গে কথোপকথনের সময় তাকে তুচ্ছ করা উচিত নয়। আমাদের অনেকের মাঝেই এমন বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান রয়েছে। আমরা কথা বলতে বলতে এক ধরনের দাম্ভিকতায় ডুবে যাই। তখন সামনে থাকা মানুষটিকে আর পাত্তা দিতে চাই না। বিশেষ করে, যদি সে বয়সে ছোটো বা পদে ছোটো হয়, তবে তাকে নানাভাবে হেয় করা হয়। ইসলাম এই ধরনের দৃষ্টিভঙ্গি ও মানসিকতা পছন্দ করে না।

রাসূল সা. বলেছেন, “একজন মুসলিমের জন্য অন্য মুসলিমের সম্পদ, সম্মান ও জীবনে হস্তক্ষেপ করা হারাম। কোনো ব্যক্তি নিকৃষ্ট প্রমাণিত হওয়ার জন্য এটুকুই যথেষ্ট, সে তার মুসলিম ভাইকে তুচ্ছজ্ঞান করে।” আবু দাউদ : ৪৮৮২

আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন, “আল্লাহ তায়ালা তোমাদের তিনটি কাজে সন্তুষ্ট হন এবং তিনটি কাজে অসন্তুষ্ট হন। যেসব কাজে তিনি সন্তুষ্ট হন সেগুলো হলো- ১) তোমরা তাঁরই ইবাদত করবে এবং তাঁর সাথে কাউকে শরিক করবে না। ২) আল্লাহর রজ্জু (অর্থাৎ কুরআন) মজবুত করে ধরবে। ৩) আল্লাহ যাকে শাসনের ভার দিয়েছেন তাকে নসিহত করবে। যেসব কাজে তিনি অসন্তুষ্ট হন সেগুলো হলো- ১) অধিক কথা বলা, ২) অপব্যয় করা, ৩) অধিক চাহিদা।” মুসলিম: ১৭১৫

হাফিজ যাহাবি রহ. প্রখ্যাত তাবেয়ি ইমাম ইবনে সিরিন রহ.-এর জীবনীতে লিখেছেন, “যখন তিনি মায়ের কাছে যেতেন, তিনি এতটাই মৃদুস্বরে কথা বলতেন যে, মনে হতো, তিনি যেন অসুস্থ হয়ে পড়েছেন।"

অন্যদিকে আবদুল্লাহ বিন আওন আল বাসরি তাঁর শিক্ষক ইমাম ইবনে শিরিন সম্পর্কে বলেছেন, "একবার তাঁর মা তাকে ডেকে পাঠালেন। মা তাকে যে স্বরে ডেকেছেন, তিনি তাঁর থেকে একটু উঁচু স্বরে উত্তর দিয়েছিলেন। এতে তিনি অনেক বেশি লজ্জা ও ভয় পেয়েছিলেন, অনুশোচনায় রীতিমতো কাবু হয়ে পড়েছিলেন। শুধু তা-ই নয়, এই ভুলের প্রায়শ্চিত্ত হিসেবে তিনি দুজন ক্রীতদাস মুক্ত করে দিয়েছিলেন।"

প্রখ্যাত কারি আসিম রহ. বলেন, “আমি একবার উমর ইবনে আবদুল আজিজ রহ.-এর সাথে সাক্ষাতে গিয়েছিলাম। তখন দেখলাম, একজন ব্যক্তি উমরের সাথে একটু উঁচুগলায় কথা বলছে। সাথে সাথেই উমর ইবনে আবদুল আজিজ তাকে থামিয়ে দিলেন এবং বললেন, তোমার এত জোরে কথা বলার দরকার নেই। এতটুকু জোরে কথা বলো যেন শ্রোতারা তোমার কথা শুনতে পায়, তাতেই চলবে।"

যে বিষয়ে জ্ঞান নেই, পরিষ্কার ধারণা নেই, সেই বিষয়ে কথা না বলাই শ্রেয়। কুরআন মাজিদে আল্লাহ পাক বলেন, “যে বিষয়ে তোমার কোনো জ্ঞান নেই, সেই বিষয়ে কথা বলো না, আবার সাক্ষ্য দিতেও যেয়ো না। নিশ্চয় কান, চোখ ও অন্তর প্রত্যেকটির ব্যাপারেই তোমাদের প্রশ্ন করা হবে।” সূরা ইসরা : ৩৬

কথা বলার সময় সত্য ও যথাযথ কথা বলারই চেষ্টা করতে হবে। অনেকে নিজের অবস্থা সম্পর্কে উচ্চ ধারণা দেওয়ার উদ্দেশ্যে অতিরঞ্জিত কথা বলে। অনেক সময় কথা বাড়িয়েও বলে। এগুলো পরোক্ষ মিথ্যার সমতুল্য। প্রত্যক্ষ বা সরাসরি মিথ্যা তো বলা যাবেই না, এমনকি ঘুরিয়ে ফিরিয়ে মিথ্যা বলারও অনুমতি ইসলামে নেই।

আবদুল্লাহ রা. থেকে বর্ণিত, রাসূল সা. বলেছেন, “তোমরা মিথ্যা বর্জন করো। কেননা, মিথ্যা পাপের দিকে ধাবিত করে এবং পাপ জাহান্নামে নিয়ে যায়। কোনো ব্যক্তি সর্বদা মিথ্যা বললে এবং মিথ্যাচারকে স্বভাবে পরিণত করলে শেষ পর্যন্ত আল্লাহর কাছে তার নাম মিথ্যুক হিসেবেই লেখা হয়। তোমরা অবশ্যই সততা অবলম্বন করবে। কারণ, সত্য নেক কাজের দিকে পথ দেখায় এবং নেক, কাজ জান্নাতের দিকে নিয়ে যায়। আর কোনো ব্যক্তি সর্বদা সততা বজায় রাখলে এবং সততাকে নিজের স্বভাবে পরিণত করলে শেষ পর্যন্ত আল্লাহর কাছে তার নাম পরম সত্যবাদী হিসেবে লিপিবদ্ধ হয়।” আবু দাউদ : ৪৯৮৯

আবু উমামাহ রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন, “যে ব্যক্তি নিজের অবস্থান ন্যায়সংগত হওয়া সত্ত্বেও বাগড়া পরিহার করবে, আমি তার জন্য জান্নাতের মধ্যে একটি ঘরের জিম্মাদার। যে ব্যক্তি তামাশার ছলেও মিথ্যা বলে না, আমি তার জন্য জান্নাতের মাঝে একটি ঘরের জিম্মাদার। আর যে ব্যক্তি তার চরিত্রকে সৌন্দর্যমণ্ডিত করেছে, আমি তার জন্য জান্নাতের সর্বোচ্চ স্থানে অবস্থিত একটি ঘরের জিম্মাদার।” আবু দাউদ: ৪৮৮০

এক্ষেত্রে আরও একটি বিষয় উল্লেখ করা প্রয়োজন। আমরা অনেককে নিয়েই হাসাহাসি করি। কোনো আয়োজনে বা ঘরোয়া অনুষ্ঠানে যদি কেউ হাস্যকর কিছু করে, আনন্দ দেওয়ার চেষ্টা করে, তবে তাতে দোষের কিছু নেই। কিন্তু এক্ষেত্রে আমরা প্রায়শ শালীনতার সীমানা অতিক্রম করে যাই। আমরা অন্য কোনো মানুষকে তুচ্ছ করে, তাকে অনেকের সামনে অপমান করে মজা পেতে পছন্দ করি। অনেকে আবার অহেতুক মিথ্যা কথা বলেও হাসানোর চেষ্টা করে। রাসূল সা. বলেছেন, “মানুষকে হাসানোর জন্য যে ব্যক্তি মিথ্যা বলে তার জন্য ধ্বংস, তার জন্য ধ্বংস, তার জন্য ধ্বংস।” আবু দাউদ: ৪৯৯০

যদি কোনো অনুষ্ঠানে বা একান্তে কোনো মেহমানের সঙ্গে কথা বলেন, তবে চেষ্টা করবেন যেন কথা বলার সময় আপনার স্বর শালীন পর্যায়ে থাকে। আওয়াজ তুলনামূলক নিচু ও শ্রুতিমধুর থাকে। গলার স্বর বেশি উচ্চকিত হওয়াটা আদব ও শিষ্টাচারের বরখেলাফ। তা ছাড়া চড়া গলায় কথা বললে মনে হয় যেন শ্রোতাদের প্রতি আপনার শ্রদ্ধাবোধেরও ঘাটতি রয়েছে। এই আদবটি বন্ধুবান্ধব, সঙ্গী-সঙ্গিনি, সহযোগী, সহকর্মী, আগন্তুক, মুসাফির, আত্মীয়স্বজন, যুবক বা বৃদ্ধ- সকলের ক্ষেত্রেই বজায় রাখা উচিত। পিতামাতা কিংবা এ পর্যায়ের অভিভাবকের সাথে কথা বলার সময় বিষয়টা আরও সতর্কতার সঙ্গে লক্ষ রাখা দরকার।
যারা শ্রদ্ধার পাত্র, তাদের সঙ্গে কথা বলার সময় সচেতন থাকুন। যদি সম্ভব হয়, তবে কথা বলার সময় মুখে ধরে রাখুন মৃদু হাসি। কারণ, বক্তা নিজের চেহারা খুব রুক্ষ করে থাকলে শ্রোতারা কথাগুলোকে সহজভাবে নিতে পারে না। আলিমদের মধ্যে অনেককেই সাধারণ মানুষ কঠোর ও কট্টরপন্থি মনে করে। তাই আলিম ও ইমামদের উচিত কথা বলার সময় মুখে নমনীয়ভাব প্রদর্শন করা।
কুরআনের হাকিমের সূরা লুকমান থেকে আমরা এমনই শিক্ষা পাই। লুকমান আ. নিজ সন্তানকে উদ্দেশ্য করে বলেছিলেন, “চলাফেরায় মধ্যপন্থা অবলম্বন করো এবং কণ্ঠস্বর নিচু রাখো। নিঃসন্দেহে গাধার স্বরই সবচেয়ে শ্রুতিকটু।” সূরা লুকমান: ১৯
সূরা হুজুরাতে আল্লাহ তায়ালা বলছেন, “হে মুমিনগণ! তোমরা নবির কণ্ঠস্বরের ওপর তোমাদের আওয়াজ উঁচু করো না এবং তোমরা একে অপরের সাথে যেভাবে উঁচুস্বরে কথা বলো, তাঁর সাথে সেভাবে উঁচুস্বরে কথা বলো না। এতে তোমাদের কর্ম নিষ্ফল হয়ে যাবে, যা তোমরা টেরও পাবে না। যারা আল্লাহর রাসূলের সামনে নিজেদের আওয়াজ নিচু করে, আল্লাহ তাদের অন্তরকে শিষ্টাচারের জন্য শোধিত করেছেন। তাদের জন্যে রয়েছে ক্ষমা ও মহাপুরস্কার।" সূরা হুজুরাত: ২-৩
সহিহ বুখারিতে আবদুল্লাহ ইবনে যুবাইর রা. থেকে বর্ণিত, “সূরা হুজুরাতের এই আয়াতগুলো নাজিল হওয়ার পর উমর ফারুক রা. এমনভাবে নবিজি সা.-এর সাথে কথা বলতেন, যেন মনে হচ্ছে উমর ফিসফিস করে শব্দ করছেন। উমর ফারুক রা. এতটাই নিচুস্বরে কথা বলতেন যে, রাসূল সা. অনেক সময় উমরের কথা বুঝতে পারতেন না। তাই তিনি দ্বিতীয়বার উমর ফারুককে প্রশ্ন করে কথা বুঝে নিতেন।”
আবদুল্লাহ ইবনু মুগাফফাল রা. থেকে বর্ণিত, রাসূল সা. বলেছেন, “নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ নম্র এবং তিনি নম্রতা পছন্দ করেন। তিনি নমনীয় লোককে যা দান করেন তা কঠিন স্বভাবের লোককে দান করেন না।" আবু দাউদ : ৪৮০৭
আপনার কথাবার্তা অবশ্যই পরিষ্কার, স্পষ্ট, সংক্ষেপ এবং বস্তুনিষ্ঠ হতে হবে; বাচালের মতো শুধু কথা বলে গেলেই হবে না। বুখারি ও মুসলিম শরিফের একটি হাদিসে খাদিমে রাসূল আনাস রা.-এর বর্ণনায় জানা যায়, রাসূল সা.-এর কথাবার্তা ছিল পরিমিত, স্পষ্ট ও গোছানো। তিনি অযাচিতভাবে কথা বাড়াতেন না। উম্মুল মুমিনিন আয়িশা রা. বলেন, "রাসূলুল্লাহ সা.-এর বক্তব্য ছিল সুস্পষ্ট, প্রত্যেক শ্রোতাই তাঁর বক্তব্য বুঝতে পারত।” আবু দাউদ: ৪৮৩৯
কথা বলার সময় খুব আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে কথা বলা শোভনীয় নয়। ঝগড়ার ভঙ্গিমাতেও কথোপকথন চালিয়ে যাওয়া ঠিক নয়। কথা এমনভাবে বলা উচিত নয়, যাতে শ্রোতার কাছে তা নেতিবাচক মনে হয়।
রাসূল সা. বলেছেন, “মুমিন দোষারোপকারী ও নিন্দুক হয় না, অভিসম্পাতকারী হয় না, অশ্লীল কাজ করে না এবং কটুভাষীও হয় না।” তিরমিযি : ১৯৭৭
কারও সম্বন্ধে কথা বলতে গিয়ে কিংবা কারও সঙ্গে কথোপকথনের সময় তাকে তুচ্ছ করা উচিত নয়। আমাদের অনেকের মাঝেই এমন বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান রয়েছে। আমরা কথা বলতে বলতে এক ধরনের দাম্ভিকতায় ডুবে যাই। তখন সামনে থাকা মানুষটিকে আর পাত্তা দিতে চাই না। বিশেষ করে, যদি সে বয়সে ছোটো বা পদে ছোটো হয়, তবে তাকে নানাভাবে হেয় করা হয়। ইসলাম এই ধরনের দৃষ্টিভঙ্গি ও মানসিকতা পছন্দ করে না।
রাসূল সা. বলেছেন, “একজন মুসলিমের জন্য অন্য মুসলিমের সম্পদ, সম্মান ও জীবনে হস্তক্ষেপ করা হারাম। কোনো ব্যক্তি নিকৃষ্ট প্রমাণিত হওয়ার জন্য এটুকুই যথেষ্ট, সে তার মুসলিম ভাইকে তুচ্ছজ্ঞান করে।” আবু দাউদ : ৪৮৮২
আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন, “আল্লাহ তায়ালা তোমাদের তিনটি কাজে সন্তুষ্ট হন এবং তিনটি কাজে অসন্তুষ্ট হন। যেসব কাজে তিনি সন্তুষ্ট হন সেগুলো হলো- ১) তোমরা তাঁরই ইবাদত করবে এবং তাঁর সাথে কাউকে শরিক করবে না। ২) আল্লাহর রজ্জু (অর্থাৎ কুরআন) মজবুত করে ধরবে। ৩) আল্লাহ যাকে শাসনের ভার দিয়েছেন তাকে নসিহত করবে। যেসব কাজে তিনি অসন্তুষ্ট হন সেগুলো হলো- ১) অধিক কথা বলা, ২) অপব্যয় করা, ৩) অধিক চাহিদা।” মুসলিম: ১৭১৫
হাফিজ যাহাবি রহ. প্রখ্যাত তাবেয়ি ইমাম ইবনে সিরিন রহ.-এর জীবনীতে লিখেছেন, “যখন তিনি মায়ের কাছে যেতেন, তিনি এতটাই মৃদুস্বরে কথা বলতেন যে, মনে হতো, তিনি যেন অসুস্থ হয়ে পড়েছেন।"
অন্যদিকে আবদুল্লাহ বিন আওন আল বাসরি তাঁর শিক্ষক ইমাম ইবনে শিরিন সম্পর্কে বলেছেন, "একবার তাঁর মা তাকে ডেকে পাঠালেন। মা তাকে যে স্বরে ডেকেছেন, তিনি তাঁর থেকে একটু উঁচু স্বরে উত্তর দিয়েছিলেন। এতে তিনি অনেক বেশি লজ্জা ও ভয় পেয়েছিলেন, অনুশোচনায় রীতিমতো কাবু হয়ে পড়েছিলেন। শুধু তা-ই নয়, এই ভুলের প্রায়শ্চিত্ত হিসেবে তিনি দুজন ক্রীতদাস মুক্ত করে দিয়েছিলেন।"
প্রখ্যাত কারি আসিম রহ. বলেন, “আমি একবার উমর ইবনে আবদুল আজিজ রহ.-এর সাথে সাক্ষাতে গিয়েছিলাম। তখন দেখলাম, একজন ব্যক্তি উমরের সাথে একটু উঁচুগলায় কথা বলছে। সাথে সাথেই উমর ইবনে আবদুল আজিজ তাকে থামিয়ে দিলেন এবং বললেন, তোমার এত জোরে কথা বলার দরকার নেই। এতটুকু জোরে কথা বলো যেন শ্রোতারা তোমার কথা শুনতে পায়, তাতেই চলবে।"
যে বিষয়ে জ্ঞান নেই, পরিষ্কার ধারণা নেই, সেই বিষয়ে কথা না বলাই শ্রেয়। কুরআন মাজিদে আল্লাহ পাক বলেন, “যে বিষয়ে তোমার কোনো জ্ঞান নেই, সেই বিষয়ে কথা বলো না, আবার সাক্ষ্য দিতেও যেয়ো না। নিশ্চয় কান, চোখ ও অন্তর প্রত্যেকটির ব্যাপারেই তোমাদের প্রশ্ন করা হবে।” সূরা ইসরা : ৩৬
কথা বলার সময় সত্য ও যথাযথ কথা বলারই চেষ্টা করতে হবে। অনেকে নিজের অবস্থা সম্পর্কে উচ্চ ধারণা দেওয়ার উদ্দেশ্যে অতিরঞ্জিত কথা বলে। অনেক সময় কথা বাড়িয়েও বলে। এগুলো পরোক্ষ মিথ্যার সমতুল্য। প্রত্যক্ষ বা সরাসরি মিথ্যা তো বলা যাবেই না, এমনকি ঘুরিয়ে ফিরিয়ে মিথ্যা বলারও অনুমতি ইসলামে নেই।
আবদুল্লাহ রা. থেকে বর্ণিত, রাসূল সা. বলেছেন, “তোমরা মিথ্যা বর্জন করো। কেননা, মিথ্যা পাপের দিকে ধাবিত করে এবং পাপ জাহান্নামে নিয়ে যায়। কোনো ব্যক্তি সর্বদা মিথ্যা বললে এবং মিথ্যাচারকে স্বভাবে পরিণত করলে শেষ পর্যন্ত আল্লাহর কাছে তার নাম মিথ্যুক হিসেবেই লেখা হয়। তোমরা অবশ্যই সততা অবলম্বন করবে। কারণ, সত্য নেক কাজের দিকে পথ দেখায় এবং নেক, কাজ জান্নাতের দিকে নিয়ে যায়। আর কোনো ব্যক্তি সর্বদা সততা বজায় রাখলে এবং সততাকে নিজের স্বভাবে পরিণত করলে শেষ পর্যন্ত আল্লাহর কাছে তার নাম পরম সত্যবাদী হিসেবে লিপিবদ্ধ হয়।” আবু দাউদ : ৪৯৮৯
আবু উমামাহ রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন, “যে ব্যক্তি নিজের অবস্থান ন্যায়সংগত হওয়া সত্ত্বেও বাগড়া পরিহার করবে, আমি তার জন্য জান্নাতের মধ্যে একটি ঘরের জিম্মাদার। যে ব্যক্তি তামাশার ছলেও মিথ্যা বলে না, আমি তার জন্য জান্নাতের মাঝে একটি ঘরের জিম্মাদার। আর যে ব্যক্তি তার চরিত্রকে সৌন্দর্যমণ্ডিত করেছে, আমি তার জন্য জান্নাতের সর্বোচ্চ স্থানে অবস্থিত একটি ঘরের জিম্মাদার।” আবু দাউদ: ৪৮৮০
এক্ষেত্রে আরও একটি বিষয় উল্লেখ করা প্রয়োজন। আমরা অনেককে নিয়েই হাসাহাসি করি। কোনো আয়োজনে বা ঘরোয়া অনুষ্ঠানে যদি কেউ হাস্যকর কিছু করে, আনন্দ দেওয়ার চেষ্টা করে, তবে তাতে দোষের কিছু নেই। কিন্তু এক্ষেত্রে আমরা প্রায়শ শালীনতার সীমানা অতিক্রম করে যাই। আমরা অন্য কোনো মানুষকে তুচ্ছ করে, তাকে অনেকের সামনে অপমান করে মজা পেতে পছন্দ করি। অনেকে আবার অহেতুক মিথ্যা কথা বলেও হাসানোর চেষ্টা করে। রাসূল সা. বলেছেন, “মানুষকে হাসানোর জন্য যে ব্যক্তি মিথ্যা বলে তার জন্য ধ্বংস, তার জন্য ধ্বংস, তার জন্য ধ্বংস।” আবু দাউদ: ৪৯৯০

📘 ইসলামিক ম্যানারস > 📄 কথা শোনার আদব

📄 কথা শোনার আদব


যদি কোনো বক্তা বা আলোচক এমন কিছু বলে যা আপনি জানেন, তারপরও এটা তাৎক্ষণিক প্রকাশ করার চেয়ে এভাবে থাকুন যে, আজই প্রথম শুনলেন। আপনি যে বিষয়টি জানেন, তা জানান দিতে খুব বেশি তৎপর হওয়ার দরকার নেই। আপনি জানেন বলে তার আলোচনায় হস্তক্ষেপ করা বা থামিয়ে দেওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই; বরং পূর্ণ মনোযোগিভাব প্রদর্শন করুন।

প্রখ্যাত তাবেয়ি আতা ইবনে আবি রাবাহ রহ. বলেন, “একবার আমার কাছে একটি যুবক এলো। সে আমাকে এমন কিছু কথা বলল, যা হয়তো তার জন্মের আগে থেকেই জানি। তারপরও মনোযোগ দিয়ে তার কথা শুনলাম এবং এমন ভঙ্গিতে শুনলাম, যেন কথাগুলো তার মুখ থেকেই প্রথম শুনছি।"

দুই উমাইয়া খলিফা উমর ইবনে আবদুল আজিজ এবং হিশাম ইবনে আবদুল মালিকের সান্নিধ্য পাওয়ার সৌভাগ্য হয়েছিল খালিদ বিন সাফওয়ান আত তামিমির। তিনি কথা শোনার নম্রতা প্রসঙ্গে বলেন, "যদি, কোনো মানুষ আপনার সামনে এমন কিছু বলে, যা আগে থেকেই জানেন, তবে তাকে থামিয়ে দেবেন না। তার সামনে পূর্ব থেকেই জানার বিষয়টি খোলাসা করবেন না। কারণ, এটা খুবই রুক্ষ ও অশোভন আচরণ।”

ইমাম মালিক রহ.-এর ঘনিষ্ঠ সহযোগী আবদুল্লাহ বিন ওয়াহাব আল কুরাইশি আল মাসরি রহ. বলেন, “এমন অনেকবার হয়েছে, কোনো একজন ব্যক্তি আমার কাছে একটি ঘটনা বলছে, যা আমি সেই ব্যক্তির পিতামাতার বিয়ের সময় থেকেই জানি। তারপরও আমি উক্ত বক্তার সামনে এমন মনোযোগ দিয়েছি, যেন তার বলা ঘটনাটি আজই প্রথম শুনছি।”

ইবরাহিম বিন জুনাইদ রহ. তাঁর সন্তানকে উদ্দেশ্য করে বলেছিলেন, “যেভাবে তুমি কথা বলার বিদ্যা রপ্ত করেছ, ঠিক একইভাবে কথা শোনার কৌশলও রপ্ত করবে। ভালো করে কথা শোনার মানে হলো, বক্তার চোখের দিকে চোখ রাখা। বক্তাকে বক্তব্য পুরোপুরি শেষ করার সুযোগ দেওয়া এবং তার কথায় কোনো রকমের হস্তক্ষেপ না করা।"

রাসূল সা.-এর এরকম হাদিস আছে, তিনি এক ভরা মজলিসে কথা বলছিলেন। এমন সময় একজন আগন্তুক এসে তাকে একটি প্রশ্ন করল। তিনি তা শুনলেন, কিন্তু কোনো উত্তর দিলেন না। সবাই মনে করল, রাসূল সা. হয়তো শুনতে পাননি। এরপর আবার তাকে প্রশ্ন করা হলো, সেবারও তিনি জবাব দিলেন না। নিজের আলোচনা শেষ করে তারপর তিনি প্রশ্নকারীকে প্রশ্ন করার সুযোগ দেন এবং তার উত্তর প্রদান করেন।

এ থেকে আমরা বুঝতে পারি, যখন কোনো আলোচক বক্তব্য প্রদান করেন, তখন তাকে থামিয়ে দিয়ে অন্য কথা তোলা অশোভন। আমরা নিজেরা কথা বলার সময় যদি কেউ থামিয়ে দেয় কিংবা ভালোভাবে না শোনে তবে আমরা বিরক্ত ও অসন্তুষ্ট হই। এটা অন্যের বেলায়ও একইরকম হয়। তাই আমরা যা নিজের জন্য পছন্দ করি না, তা অন্যের বেলায়ও হতে দেওয়া অনুচিত। কোনো বক্তা আলোচনা করলে তা আমাদের মনোযোগের সঙ্গে শোনা প্রয়োজন।

যদি কোনো বক্তা বা আলোচক এমন কিছু বলে যা আপনি জানেন, তারপরও এটা তাৎক্ষণিক প্রকাশ করার চেয়ে এভাবে থাকুন যে, আজই প্রথম শুনলেন। আপনি যে বিষয়টি জানেন, তা জানান দিতে খুব বেশি তৎপর হওয়ার দরকার নেই। আপনি জানেন বলে তার আলোচনায় হস্তক্ষেপ করা বা থামিয়ে দেওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই; বরং পূর্ণ মনোযোগিভাব প্রদর্শন করুন।
প্রখ্যাত তাবেয়ি আতা ইবনে আবি রাবাহ রহ. বলেন, “একবার আমার কাছে একটি যুবক এলো। সে আমাকে এমন কিছু কথা বলল, যা হয়তো তার জন্মের আগে থেকেই জানি। তারপরও মনোযোগ দিয়ে তার কথা শুনলাম এবং এমন ভঙ্গিতে শুনলাম, যেন কথাগুলো তার মুখ থেকেই প্রথম শুনছি।"
দুই উমাইয়া খলিফা উমর ইবনে আবদুল আজিজ এবং হিশাম ইবনে আবদুল মালিকের সান্নিধ্য পাওয়ার সৌভাগ্য হয়েছিল খালিদ বিন সাফওয়ান আত তামিমির। তিনি কথা শোনার নম্রতা প্রসঙ্গে বলেন, "যদি, কোনো মানুষ আপনার সামনে এমন কিছু বলে, যা আগে থেকেই জানেন, তবে তাকে থামিয়ে দেবেন না। তার সামনে পূর্ব থেকেই জানার বিষয়টি খোলাসা করবেন না। কারণ, এটা খুবই রুক্ষ ও অশোভন আচরণ।”
ইমাম মালিক রহ.-এর ঘনিষ্ঠ সহযোগী আবদুল্লাহ বিন ওয়াহাব আল কুরাইশি আল মাসরি রহ. বলেন, “এমন অনেকবার হয়েছে, কোনো একজন ব্যক্তি আমার কাছে একটি ঘটনা বলছে, যা আমি সেই ব্যক্তির পিতামাতার বিয়ের সময় থেকেই জানি। তারপরও আমি উক্ত বক্তার সামনে এমন মনোযোগ দিয়েছি, যেন তার বলা ঘটনাটি আজই প্রথম শুনছি।”
ইবরাহিম বিন জুনাইদ রহ. তাঁর সন্তানকে উদ্দেশ্য করে বলেছিলেন, “যেভাবে তুমি কথা বলার বিদ্যা রপ্ত করেছ, ঠিক একইভাবে কথা শোনার কৌশলও রপ্ত করবে। ভালো করে কথা শোনার মানে হলো, বক্তার চোখের দিকে চোখ রাখা। বক্তাকে বক্তব্য পুরোপুরি শেষ করার সুযোগ দেওয়া এবং তার কথায় কোনো রকমের হস্তক্ষেপ না করা।"
রাসূল সা.-এর এরকম হাদিস আছে, তিনি এক ভরা মজলিসে কথা বলছিলেন। এমন সময় একজন আগন্তক এসে তাকে একটি প্রশ্ন করল। তিনি তা শুনলেন, কিন্তু কোনো উত্তর দিলেন না। সবাই মনে করল, রাসূল সা. হয়তো শুনতে পাননি। এরপর আবার তাকে প্রশ্ন করা হলো, সেবারও তিনি জবাব দিলেন না। নিজের আলোচনা শেষ করে তারপর তিনি প্রশ্নকারীকে প্রশ্ন করার সুযোগ দেন এবং তার উত্তর প্রদান করেন।
এ থেকে আমরা বুঝতে পারি, যখন কোনো আলোচক বক্তব্য প্রদান করেন, তখন তাকে থামিয়ে দিয়ে অন্য কথা তোলা অশোভন। আমরা নিজেরা কথা বলার সময় যদি কেউ থামিয়ে দেয় কিংবা ভালোভাবে না শোনে তবে আমরা বিরক্ত ও অসন্তুষ্ট হই। এটা অন্যের বেলায়ও একইরকম হয়। তাই আমরা যা নিজের জন্য পছন্দ করি না, তা অন্যের বেলায়ও হতে দেওয়া অনুচিত। কোনো বক্তা আলোচনা করলে তা আমাদের মনোযোগের সঙ্গে শোনা প্রয়োজন।

📘 ইসলামিক ম্যানারস > 📄 অপেক্ষাকৃত কম গ্রহণযোগ্য মানুষের সাথেও সুন্দরভাবে কথা বলা

📄 অপেক্ষাকৃত কম গ্রহণযোগ্য মানুষের সাথেও সুন্দরভাবে কথা বলা


অনেক সময় আমরা যাকে একটু কম পছন্দ করি, তার সাথে সুন্দরভাবে কথা বলতে চাই না। এমনও হয়, আমরা এমন চেহারা করে রাখি অথবা আমাদের শারীরিক ভাষা এমন থাকে, যা দেখেই বোঝা যায় যে আমরা সাক্ষাৎপ্রার্থীকে পছন্দ করতে পারছি না। ইসলামে এ ধরনের আচরণ গ্রহণযোগ্য নয়।

উম্মুল মুমিনিন আয়িশা রা. থেকে বর্ণিত, “কেউ একজন রাসূল সা.-এর কাছে সাক্ষাৎ করতে অনুমতি চাইল। আমি তখন নবিজির সাথে ঘরে ছিলাম। তিনি বললেন, 'এই লোকটি ভালো নয়।' এরপর তাকে আসার অনুমতি প্রদান করলেন।

বেশিক্ষণ না যেতেই আমি ওই লোকটির সাথে রাসূল সা.-কে হাসিমুখে কথা বলতে শুনতে পেলাম।' লোকটি চলে যাওয়ার পর বললাম, 'হে আল্লাহর রাসূল! এইমাত্র আপনি তাকে মন্দ বললেন, আর এখনই তার সাথে হাসছিলেন!' তখন রাসূল সা. বললেন, 'সকলের চাইতে মন্দ ওই ব্যক্তি, যার অনিষ্টতার জন্য মানুষ তাকে ভয় করে।' অর্থাৎ মানুষ এই ভয়ে থাকে যে, লোকটা যেকোনো সময় আমাদের কষ্ট দিতে পারে।" বুখারি: ৬০৩২, মুসলিম: ২৫৯১

অনেক সময় আমরা যাকে একটু কম পছন্দ করি, তার সাথে সুন্দরভাবে কথা বলতে চাই না। এমনও হয়, আমরা এমন চেহারা করে রাখি অথবা আমাদের শারীরিক ভাষা এমন থাকে, যা দেখেই বোঝা যায় যে আমরা সাক্ষাৎপ্রার্থীকে পছন্দ করতে পারছি না। ইসলামে এ ধরনের আচরণ গ্রহণযোগ্য নয়।
উম্মুল মুমিনিন আয়িশা রা. থেকে বর্ণিত, “কেউ একজন রাসূল সা.-এর কাছে সাক্ষাৎ করতে অনুমতি চাইল। আমি তখন নবিজির সাথে ঘরে ছিলাম। তিনি বললেন, 'এই লোকটি ভালো নয়।' এরপর তাকে আসার অনুমতি প্রদান করলেন। বেশিক্ষণ না যেতেই আমি ওই লোকটির সাথে রাসূল সা.-কে হাসিমুখে কথা বলতে শুনতে পেলাম।' লোকটি চলে যাওয়ার পর বললাম, 'হে আল্লাহর রাসূল! এইমাত্র আপনি তাকে মন্দ বললেন, আর এখনই তার সাথে হাসছিলেন!' তখন রাসূল সা. বললেন, 'সকলের চাইতে মন্দ ওই ব্যক্তি, যার অনিষ্টতার জন্য মানুষ তাকে ভয় করে।' অর্থাৎ মানুষ এই ভয়ে থাকে যে, লোকটা যেকোনো সময় আমাদের কষ্ট দিতে পারে।" বুখারি: ৬০৩২, মুসলিম: ২৫৯১

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00