📘 ইসলামিক ম্যানারস > 📄 মেহমানদের সাথে সদ্ব্যবহার করা

📄 মেহমানদের সাথে সদ্ব্যবহার করা


কুরআনে হাকিমে আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালার বাণী, "আপনার কাছে ইবরাহিমের সম্মানিত মেহমানদের খবর এসেছে কি? যখন তারা তাঁর কাছে উপস্থিত হয়ে বলল, সালাম। তিনিও বললেন, সালাম! আপনারাতো অপরিচিত লোক। অতঃপর তিনি ঘরে ফিরে গেলেন এবং একটি স্বাস্থ্যবান বাছুর ভুনা করে নিয়ে এলেন। সেই বাছুরটি তাদের সামনে রেখে বললেন, আপনারা আহার করছেন না কেন?" সূরা যারিয়াত: ২৪-২৭

রাসূল সা. বলেছেন, "তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি আল্লাহ তায়ালা ও শেষ বিচারের দিনের ওপর ঈমান এনেছে, সে যেন কখনও প্রতিবেশীর ক্ষতি না করে। তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি আল্লাহ তায়ালা ও শেষ বিচারের দিনের ওপর ঈমান এনেছে, সে যেন তার মেহমানকে সম্মান করে। তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি আল্লাহ তায়ালা ও শেষ বিচারের দিনের ওপর ঈমান এনেছে, সে যেন ভালো কথা বলে অথবা চুপ থাকে।" বুখারি: ৬০১৮, মুসলিম: ৪৭

যদি সঠিকভাবে মেহমানদারি করা না হয়, তবে মেহমান স্বউদ্যোগেই নিজের ন্যায্য অধিকারটুকু আদায় করে নিতে পারবে। ইসলাম তাকে সেই সুযোগ দিয়েছে। বাড়ির মহিলাদের এই পরিশ্রম ও কষ্টকে আমলেই নিতে চায় না। শিষ্টাচার হলো, মেহমানের সাথে ততটুকু ভালো ব্যবহার করা, যা করলে নিজের বা পরিবারের ওপর মাত্রাতিরিক্ত কষ্ট না হয়। কোনো কিছুর ক্ষেত্রেই অতিরঞ্জন, বাড়াবাড়ি বা সীমালঙ্ঘন কাম্য নয়।

মেহমানদারি ও আপ্যায়ন শেষ হওয়ার পর মেহমানের উচিত আয়োজক, বাড়ির কর্তা এবং যারা কষ্ট করে রান্না করেছেন, সকলের জন্য দুআ করা। আনাস বিন মালিক রা. থেকে বর্ণিত, “একদিন নবি সা. সাদ ইবনে উবাদাহর বাড়িতে গেলেন। সাদ তাঁর জন্য রুটি ও যাইতুন তেল আনলেন। খাওয়ার পর নবি সা. বললেন, তোমাদের নিকট রোজাদারগণ ইফতার করেছে, সৎলোকেরা তোমাদের খাদ্য খেয়েছে এবং ফেরেশতাগণ তোমার জন্য রহমতের দুআ করেছে।" আবু দাউদ: ৩৮৫৪

এই হাদিসটির আলোকে কিছু কিছু ফকিহ মত দিয়েছেন, শুধু ইফতার করার ক্ষেত্রেই এমন দুআ করা যায়। তবে অধিকাংশ আলিম মনে করেন, সব ধরনের খাবার ও দাওয়াতের বেলায় এভাবে দুআ করার সুযোগ রয়েছে।

কুরআনে হাকিমে আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালার বাণী, "আপনার কাছে ইবরাহিমের সম্মানিত মেহমানদের খবর এসেছে কি? যখন তারা তাঁর কাছে উপস্থিত হয়ে বলল, সালাম। তিনিও বললেন, সালাম! আপনারাতো অপরিচিত লোক। অতঃপর তিনি ঘরে ফিরে গেলেন এবং একটি স্বাস্থ্যবান বাছুর ভুনা করে নিয়ে উকবাহ ইবনু আমির রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, "একবার আমরা বললাম, 'হে আল্লাহ্র রাসূল! কখনও কখনও আপনি আমাদের এমন কবিরার কাছে পাঠান, যারা মেহমানদারি করে না। এ ব্যাপারে আপনার হুকুম কী?' তিনি বললেন, 'যদি তোমরা কোনো সম্প্রদায়ের নিকট হাজির হও, আর তারা মেহমানদারি করে, তবে তোমরা তা গ্রহণ করবে। আর যদি না করে, তবে তাদের সামর্থ্য অনুযায়ী মেহমানদারির হক আদায় করে নেবে'।”

এমন অনেক মেহমান আছে যাদের সামনে খাবার পরিবেশন করা মাত্রই খেয়ে নেয়। আবার অনেক সময় এমনও হয়, কিছু মেহমান থাকে যারা মেজবানকে ছাড়া খেতে চায় না। যদি মেহমানরা ইচ্ছা প্রকাশ করে, তাদের সাথে বাড়ির মালিককে খেতে হবে, তবে অন্য কোনো সীমাবদ্ধতা না থাকলে খাওয়া সৌজন্যতা। মেহমানদের সাথে দুর্ব্যবহার করা যাবে না, এমনকি তাদের সামনে মেজবানের বাড়ির লোকদেরও বকা দেওয়া যাবে না। কেননা, এতে মেহমান বিব্রত হতে পারেন।

মেহমান চলে যাওয়ার সময় শিষ্টাচারের দাবি হলো, তাকে দরজা পর্যন্ত এগিয়ে দেওয়া। যদিও এ ব্যাপারে রাসূল সা.-এর সরাসরি কোনো হাদিস পাওয়া যায় না। তবে আমাদের পূর্বসূরি সকল মনীষীই এই চর্চা করে গেছেন। যেমন একটি ঘটনার কথা এখানে উল্লেখ করা এলেন। সেই বাছুরটি তাদের সামনে রেখে বললেন, আপনারা আহার করছেন না কেন?" সূরা যারিয়াত: ২৪-২৭

রাসূল সা. বলেছেন, "তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি আল্লাহ তায়ালা ও শেষ বিচারের দিনের ওপর ঈমান এনেছে, সে যেন কখনও প্রতিবেশীর ক্ষতি না করে। তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি আল্লাহ তায়ালা ও শেষ বিচারের দিনের ওপর ঈমান এনেছে, সে যেন তার মেহমানকে সম্মান করে। তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি আল্লাহ তায়ালা ও শেষ বিচারের দিনের ওপর ঈমান এনেছে, সে যেন ভালো কথা বলে অথবা চুপ থাকে।" বুখারি: ৬০১৮, মুসলিম: ৪৭

যদি সঠিকভাবে মেহমানদারি করা না হয়, তবে মেহমান স্বউদ্যোগেই নিজের ন্যায্য অধিকারটুকু আদায় করে নিতে পারবে। ইসলাম তাকে সেই সুযোগ দিয়েছে। উকবাহ ইবনু আমির রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, "একবার আমরা বললাম, 'হে আল্লাহ্র রাসূল! কখনও কখনও আপনি আমাদের এমন কবিরার কাছে পাঠান, যারা মেহমানদারি করে না। এ ব্যাপারে আপনার হুকুম কী?' তিনি বললেন, 'যদি তোমরা কোনো সম্প্রদায়ের নিকট হাজির হও, আর তারা মেহমানদারি করে, তবে তোমরা তা গ্রহণ করবে। আর যদি না করে, তবে তাদের সামর্থ্য অনুযায়ী মেহমানদারির হক আদায় করে নেবে'।”

এমন অনেক মেহমান আছে যাদের সামনে খাবার পরিবেশন করা মাত্রই খেয়ে নেয়। আবার অনেক সময় এমনও হয়, কিছু মেহমান থাকে যারা মেজবানকে ছাড়া খেতে চায় না। যদি মেহমানরা ইচ্ছা প্রকাশ করে, তাদের সাথে বাড়ির মালিককে খেতে হবে, তবে অন্য কোনো সীমাবদ্ধতা না থাকলে খাওয়া সৌজন্যতা। মেহমানদের সাথে দুর্ব্য যায়। আবু উবাইদ আল কাসিম ইবনে সালাম একবার আহমাদ বিন হাম্বল রহ.-এর সাথে সাক্ষাৎ করতে গেলেন। আবু উবাইদ জানান, "যখন আমি বিদায় নেওয়ার জন্য উঠে দাঁড়ালাম, ইমাম আহমাদও আমার সাথে উঠে দাঁড়ালেন। আমি তাকে দাঁড়াতে না করলাম। জবাবে তিনি বললেন, 'মেহমানদারি পরিপূর্ণভাবে তখনই করা হয়, যখন একজন ব্যক্তি তার বাড়িতে আগত অতিথিকে বিদায় বেলায় দরজা পর্যন্ত এগিয়ে দেয় এবং যে যানবাহনে করে যাবে, তাতে উঠা পর্যন্ত সঙ্গ দেয়'।”

কুরআনে হাকিমে আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালার বাণী, "আপনার কাছে ইবরাহিমের সম্মানিত মেহমানদের খবর এসেছে কি? যখন তারা তাঁর কাছে উপস্থিত হয়ে বলল, সালাম। তিনিও বললেন, সালাম! আপনারাতো অপরিচিত লোক। অতঃপর তিনি ঘরে ফিরে গেলেন এবং একটি স্বাস্থ্যবান বাছুর ভুনা করে নিয়ে এলেন। সেই বাছুরটি তাদের সামনে রেখে বললেন, আপনারা আহার করছেন না কেন?" সূরা যারিয়াত: ২৪-২৭
রাসূল সা. বলেছেন, "তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি আল্লাহ তায়ালা ও শেষ বিচারের দিনের ওপর ঈমান এনেছে, সে যেন কখনও প্রতিবেশীর ক্ষতি না করে। তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি আল্লাহ তায়ালা ও শেষ বিচারের দিনের ওপর ঈমান এনেছে, সে যেন তার মেহমানকে সম্মান করে। তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি আল্লাহ তায়ালা ও শেষ বিচারের দিনের ওপর ঈমান এনেছে, সে যেন ভালো কথা বলে অথবা চুপ থাকে।" বুখারি: ৬০১৮, মুসলিম: ৪৭
যদি সঠিকভাবে মেহমানদারি করা না হয়, তবে মেহমান স্বউদ্যোগেই নিজের ন্যায্য অধিকারটুকু আদায় করে নিতে পারবে। ইসলাম তাকে সেই সুযোগ দিয়েছে। উকবাহ ইবনু আমির রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, "একবার আমরা বললাম, 'হে আল্লাহ্র রাসূল! কখনও কখনও আপনি আমাদের এমন কবিরার কাছে পাঠান, যারা মেহমানদারি করে না। এ ব্যাপারে আপনার হুকুম কী?' তিনি বললেন, 'যদি তোমরা কোনো সম্প্রদায়ের নিকট হাজির হও, আর তারা মেহমানদারি করে, তবে তোমরা তা গ্রহণ করবে। আর যদি না করে, তবে তাদের সামর্থ্য অনুযায়ী মেহমানদারির হক আদায় করে নেবে'।”
এমন অনেক মেহমান আছে যাদের সামনে খাবার পরিবেশন করা মাত্রই খেয়ে নেয়। আবার অনেক সময় এমনও হয়, কিছু মেহমান থাকে যারা মেজবানকে ছাড়া খেতে চায় না। যদি মেহমানরা ইচ্ছা প্রকাশ করে, তাদের সাথে বাড়ির মালিককে খেতে হবে, তবে অন্য কোনো সীমাবদ্ধতা না থাকলে খাওয়া সৌজন্যতা। মেহমানদের সাথে দুর্ব্যবহার করা যাবে না, এমনকি তাদের সামনে মেজবানের বাড়ির লোকদেরও বকা দেওয়া যাবে না। কেননা, এতে মেহমান বিব্রত হতে পারেন।
মেহমান চলে যাওয়ার সময় শিষ্টাচারের দাবি হলো, তাকে দরজা পর্যন্ত এগিয়ে দেওয়া। যদিও এ ব্যাপারে রাসূল সা.-এর সরাসরি কোনো হাদিস পাওয়া যায় না। তবে আমাদের পূর্বসূরি সকল মনীষীই এই চর্চা করে গেছেন। যেমন একটি ঘটনার কথা এখানে উল্লেখ করা যায়। আবু উবাইদ আল কাসিম ইবনে সালাম একবার আহমাদ বিন হাম্বল রহ.-এর সাথে সাক্ষাৎ করতে গেলেন। আবু উবাইদ জানান, "যখন আমি বিদায় নেওয়ার জন্য উঠে দাঁড়ালাম, ইমাম আহমাদও আমার সাথে উঠে দাঁড়ালেন। আমি তাকে দাঁড়াতে না করলাম। জবাবে তিনি বললেন, 'মেহমানদারি পরিপূর্ণভাবে তখনই করা হয়, যখন একজন ব্যক্তি তার বাড়িতে আগত অতিথিকে বিদায় বেলায় দরজা পর্যন্ত এগিয়ে দেয় এবং যে যানবাহনে করে যাবে, তাতে উঠা পর্যন্ত সঙ্গ দেয়'।”

📘 ইসলামিক ম্যানারস > 📄 বয়ঃজ্যেষ্ঠদের সান্নিধ্যে থাকা

📄 বয়ঃজ্যেষ্ঠদের সান্নিধ্যে থাকা


যদি ব্যস্ততার কারণে আত্মীয়, বন্ধু বা সহযোগীদের বাড়িতে নিয়মিত যেতে না পারেন, তারপরও তাদের ফোন দিয়ে বা ম্যাসেজ পাঠিয়ে যোগাযোগ রাখার চেষ্টা করুন। সম্পর্ক ধরে রাখার ব্যাপারে আন্তরিক হলে আপনার ব্যাপারে তারা ভালো জানবে, ইতিবাচক মনোভাব পোষণ করবে। সর্বোপরি সম্পর্কগুলো মজবুতভাবে টিকে থাকবে। আব্বাসীয় খলিফা আল মুতাসিমের উজির ছিলেন আল ফাদল ইবনে মারওয়ান। তিনি প্রায়শই বলতেন, "বন্ধুদের খোঁজখবর নেওয়াও এক ধরনের সাক্ষাৎ।”

মানুষের পাশে থাকলে এবং সহানুভূতিশীল আচরণ করলে মনও ভালো থাকে। আর পরস্পরের সাথে যোগাযোগও রক্ষা হয়। আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলে কারিম সা. বলেছেন, “যে ব্যক্তি কোনো মুসলিমকে দুনিয়ার বিপদ হতে রক্ষা করবে, আল্লাহ তাকে কিয়ামতের বিপদ থেকে রক্ষা করবেন। আর যে ব্যক্তি কোনো গরিব লোকের সঙ্গে (পাওনা আদায়ে) নম্র ব্যবহার করবে, আল্লাহ তার সঙ্গে দুনিয়া ও আখিরাত উভয় স্থানেই নম্র ব্যবহার করবেন। যে ব্যক্তি কোনো মুসলিমের দোষত্রুটি গোপন রাখবে, আল্লাহ তার দোষত্রুটি দুনিয়া ও আখিরাত উভয় স্থানে গোপন রাখবেন। বান্দা যতক্ষণ তার ভাইয়ের সাহায্য করে, আল্লাহও সেই বান্দার সাহায্য করতে থাকবেন।” আবু দাউদ: ৪৯৪৬, শিষ্টাচার অধ্যায়

আবু হুবহার করা যাবে না, এমনকি তাদের সামনে মেজবানের বাড়ির লোকদেরও বকা দেওয়া যাবে না। কেননা, এতে মেহমান বিব্রত হতে পারেন।

মেহমান চলে যাওয়ার সময় শিষ্টাচারের দাবি হলো, তাকে দরজা পর্যন্ত এগিয়ে দেওয়া। যদিও এ ব্যাপারে রাসূল সা.-এর সরাসরি কোনো হাদিস পাওয়া যায় না।

তবে আমাদের পূর্বসূরি সকল মনীষীই এই চর্চা করে গেছেন। যেমন একটি ঘটনার কথা এখানে উল্লেখ করা যায়। আবু উবাইদ আল কাসিম ইবনে সালাম একবার আহমাদ বিন হাম্বল রহ.-এর সাথে সাক্ষাৎ করতে গেলেন। আবু উবাইদ জানান, "যখন আমি বিদায় নেওয়ার জন্য উঠে দাঁড়ালাম, ইমাম আহমাদও আমার সাথে উঠে দাঁড়ালেন। আমি তাকে দাঁড়াতে না করলাম। জবাবে তিনি বললেন, 'মেহমানদারি পরিপূর্ণভাবে তখনই করা হয়, যখন একজন ব্যক্তি তার বাড়িতে আগত অতিথিকে বিদায় বেলায় দরজা পর্যন্ত এগিয়ে দেয় এবং যে যানবাহনে করে যাবে, তাতে উঠা পর্যন্ত সঙ্গ দেয়'।”

যদি ব্যস্ততার কারণে আত্মীয়, বন্ধু বা সহযোগীদের বাড়িতে নিয়মিত যেতে না পারেন, তারপরও তাদের ফোন দিয়ে বা ম্যাসেজ পাঠিয়ে যোগাযোগ রাখার চেষ্টা করুন। সম্পর্ক ধরে রাখার ব্যাপারে আন্তরিক হলে আপনার ব্যাপারে তারা ভালো জানবে, ইতিবাচক মনোভাব পোষণ করবে। সর্বোপরি সম্পর্কগুলো মজবুতভাবে টিকে থাকবে। আব্বাসীয় খলিফা আল মুতাসিমের উজির ছিলেন আল ফাদল ইবনে মারওয়ান। তিনি প্রায়শই বলতেন, "বন্ধুদের খোঁজখবর নেওয়াও এক ধরনের সাক্ষাৎ।”

মানুষের পাশে থাকলে এবং সহানুভূতিশীল আচরণ করলে মনও ভালো থাকে। আর পরস্পরের সাথে যোগাযোগও রক্ষা হয়। আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলে কারিম সা. বলেছেন, “যে ব্যক্তি কোনো মুসলিমকে দুনিয়ার বিপদ হতে রক্ষা করবেরায়রা রা. থেকে আরও বর্ণিত, নবি সা. বলেন, "এক ব্যক্তি তার এক ভাইয়ের সাথে সাক্ষাৎ করার জন্য তার গ্রামে গেল। আল্লাহ তার যাওয়ার পথে একজন ফেরেশতা মোতায়েন করেন। ফেরেশতা তাকে জিজ্ঞেস করেন, 'আপনি কোথায় যেতে চান?' সে বলল, 'আমি এই গ্রামে আমার এক ভাইয়ের সাথে দেখা করতে যাচ্ছি।' ফেরেশতা বলেন, 'আপনার ওপর কি তার কোনো অনুগ্রহ আছে, যার কারণে আপনি যাচ্ছেন?' সে বলল, 'না, আমি তাকে কেবল আল্লাহকে সন্তুষ্ট করার জন্য ভালোবাসি।' ফেরেশতা বলেন, 'আমি আল্লাহর দূত হিসেবে আপনার নিকট এসেছি এবং আল্লাহর পক্ষ থেকে এই বার্তা নিয়ে এসেছি- আপনি যেমন ওই ব্যক্তিকে ভালোবাসেন, আল্লাহও ঠিক একইভাবে আপনাকে ভালোবাসেন'।” মুসলিম: ৫২৬৭, আহমাদ: ৯০৩৬

যদি ব্যস্ততার কারণে আত্মীয়, বন্ধু বা সহযোগীদের বাড়িতে নিয়মিত যেতে না পারেন, তারপরও তাদের ফোন দিয়ে বা ম্যাসেজ পাঠিয়ে যোগাযোগ রাখার চেষ্টা করুন। সম্পর্ক ধরে রাখার ব্যাপারে আন্তরিক হলে আপনার ব্যাপারে তারা ভালো জানবে, ইতিবাচক মনোভাব পোষণ করবে। সর্বোপরি সম্পর্কগুলো মজবুতভাবে টিকে থাকবে। আব্বাসীয় খলিফা আল মুতাসিমের উজির ছিলেন আল ফাদল ইবনে মারওয়ান। তিনি প্রায়শই বলতেন, "বন্ধুদের খোঁজখবর নেওয়াও এক ধরনের সাক্ষাৎ।”
মানুষের পাশে থাকলে এবং সহানুভূতিশীল আচরণ করলে মনও ভালো থাকে। আর পরস্পরের সাথে যোগাযোগও রক্ষা হয়। আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলে কারিম সা. বলেছেন, “যে ব্যক্তি কোনো মুসলিমকে দুনিয়ার বিপদ হতে রক্ষা করবে, আল্লাহ তাকে কিয়ামতের বিপদ থেকে রক্ষা করবেন। আর যে ব্যক্তি কোনো গরিব লোকের সঙ্গে (পাওনা আদায়ে) নম্র ব্যবহার করবে, আল্লাহ তার সঙ্গে দুনিয়া ও আখিরাত উভয় স্থানেই নম্র ব্যবহার করবেন। যে ব্যক্তি কোনো মুসলিমের দোষত্রুটি গোপন রাখবে, আল্লাহ তার দোষত্রুটি দুনিয়া ও আখিরাত উভয় স্থানে গোপন রাখবেন। বান্দা যতক্ষণ তার ভাইয়ের সাহায্য করে, আল্লাহও সেই বান্দার সাহায্য করতে থাকবেন।” আবু দাউদ: ৪৯৪৬, শিষ্টাচার অধ্যায়
আবু হুরায়রা রা. থেকে আরও বর্ণিত, নবি সা. বলেন, "এক ব্যক্তি তার এক ভাইয়ের সাথে সাক্ষাৎ করার জন্য তার গ্রামে গেল। আল্লাহ তার যাওয়ার পথে একজন ফেরেশতা মোতায়েন করেন। ফেরেশতা তাকে জিজ্ঞেস করেন, 'আপনি কোথায় যেতে চান?' সে বলল, 'আমি এই গ্রামে আমার এক ভাইয়ের সাথে দেখা করতে যাচ্ছি।' ফেরেশতা বলেন, 'আপনার ওপর কি তার কোনো অনুগ্রহ আছে, যার কারণে আপনি যাচ্ছেন?' সে বলল, 'না, আমি তাকে কেবল আল্লাহকে সন্তুষ্ট করার জন্য ভালোবাসি।' ফেরেশতা বলেন, 'আমি আল্লাহর দূত হিসেবে আপনার নিকট এসেছি এবং আল্লাহর পক্ষ থেকে এই বার্তা নিয়ে এসেছি- আপনি যেমন ওই ব্যক্তিকে ভালোবাসেন, আল্লাহও ঠিক একইভাবে আপনাকে ভালোবাসেন'।" মুসলিম: ৫২৬৭, আহমাদ: ৯০৩৬

📘 ইসলামিক ম্যানারস > 📄 বন্ধু নির্বাচন

📄 বন্ধু নির্বাচন


দুজন মুমিনের মধ্যে যে বন্ধুত্ব হয়, যে সহানুভূতিশীল সম্পর্ক হয়, তা আল্লাহর পক্ষ থেকে আসা খাস নিয়ামত। আল্লাহ তায়ালা তাদের মধ্যে এই ভাব-ভালোবাসা সৃষ্টি করে দেন বলেই বন্ধুত্বের সম্পর্ক তৈরি হয়。

"তিনিই তাদের অন্তরে প্রীতি স্থাপন করে দিয়েছেন। যদি তুমি দুনিয়ার সকল সম্পদও ব্যয় করতে, এ প্রীতি সঞ্চার করতে পারতে না। কিন্তু আল্লাহ তাদের মনে হৃদ্যতা তৈরি করেছেন। নিঃসন্দেহে তিনি পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।" সূরা আনফাল : ৬৩

তবে বন্ধু পাওয়া সহজ কোনো কাজ নয়। বন্ধু নির্বাচন যে কোনো মানুষের জীবনে একটি গুরুত্বপূর্ণ ও মৌলিক সিদ্ধান্ত। কারণ, মানুষ হিসেবে আপনার ব্যক্তিত্ব যতই প্রভাবশালী হোক অথবা হালকা হোক না কেন, বন্ধু বা কাছের মানুষগুলো আপনাকে প্রভাবিত করবেই। হয়তো আপনি তা উপলব্ধি করতে পারবেন, আবার অনেক সময় হয়তো এই প্রভাবের বিষয়টি মনের অজান্তেই অবচেতনে ঘটে যাবে। এ কারণেই রাসূল সা. সব সময় আমাদের চিন্তা ও বিচক্ষণতার সাথে বন্ধু বাছাই করতে বলেছেন।

আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, রাসূল সা. বলেন, “মানুষ তার বন্ধুর রীতিনীতির অনুসারী হয়। কাজেই তোমাদের প্রত্যেকেই যেন খেয়াল রাখে, সে কার সঙ্গে বন্ধুত্ব করছে।” আবু দাউদ: ৪৮৩৩

দুজন ঘনিষ্ট বন্ধু স্বাভাবিকভাবেই তাদের ভাবনা, চিন্তা ও অভ্যাস নিজেদের মধ্যে ভাগাভাগি করে; জীবনযাপনের প্রক্রিয়াও অনেকটা একই হয়। তাই বন্ধু নির্বাচনে সতর্কতা কাম্য। যদি আপনি একজন মানুষের ধর্মীয় অবস্থান ও অনুসৃত শিষ্টাচারের ব্যাপারে সন্তুষ্ট হন, তবে তার সাথে বন্ধুত্ব করতে পারেন। একজন মানুষের জীবনে খারাপ ও ভালো বন্ধুর প্রভাব কতটা, সে সম্পর্কে রাসূল সা. বলেন,

"একজন ভালো ও খারাপ সঙ্গীর উদাহরণ হলো যথাক্রমে একজন আতর বিক্রেতা ও কামারের মতো। আতর বিক্রেতা তার সংগ্রহ থেকে আপনাকে কোনো আতর উপহার দিতে পারে সাথে তর্কে জড়াবে না। এমনকি তাদের কথা শোনা থেকেও বিরত থাকবে।”

আবু কুলাবাহ রহ. বলেন, “যারা দ্বীনে নতুন কিছু প্রবেশ করাতে চায়, তাদের সাথে মিশবে না, তাদের এড়িয়ে চলবে। তাদের সাহচর্য আমি কখনোই নিরাপদ মনে করি না। তারা তোমাকে বিপথগামী করতে পারে। তুমি যেগুলো সম্বন্ধে ভালোমতো জানতে না সেগুলোতো বটেই, এমনকি জানা বিষয়গুলোর ব্যাপারেও তারা তোমাকে সংশয়ে ফেলে দিতে পারে।"

ফুদাইল ইবনে আয়াজ রহ. বলেন, “যে আলোচনায় আল্লাহকে স্মরণ করা হয়, সেখানে আল্লাহ রহমতের ফেরেশতা প্রেরণ করেন। তাই তোমরা কার সাথে আলোচনায় বসবে, তা নিয়ে সচেতন হও।”

যারা খারাপ কাজ করে কিংবা যাদের আচরণ ভালো নয়, বন্ধু হিসেবে তারা খুবই মারাত্মক। এমন ব্যক্তির সঙ্গে যখন বসবেন, তখন আপনার কানে স্বাভাবিকভাবেই বাজে ও অশ্লীল শব্দ প্রবেশ করবে। তার মিথ্যা কথা, গিবত ও পরনিন্দাসুলভ কথাবার্তাও শুনতে হবে। যদি সে ফরজ ইবাদত পালনের ক্ষেত্রে শিথিল হয়, তা হলে সেই শিথিলতা আপনাকেও গ্রাস করতে পারে। এরকম অসৎসঙ্গীর অন্য সব পাপের প্রভাবও আপনার ওপর পড়তে পারে। আর এ কথা আমরা জানি, পাপ ক্রমশ মানুষের অন্তরকে মেরে ফেলে। অসৎ সঙ্গের কারণে ইতোমধ্যে বহু মানুষ বিপথগামী হয়েছে, এরকম অসংখ্য নজির আমাদের চারপাশেই আছে। তাই বন্ধু নির্বাচনের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সতর্কতা, জ্ঞান ও বিচক্ষণতা প্রয়োজন।

দুজন মুমিনের মধ্যে যে বন্ধুত্ব হয়, যে সহানুভূতিশীল সম্পর্ক হয়, তা আল্লাহর পক্ষ থেকে আসা খাস নিয়ামত। আল্লাহ তায়ালা তাদের মধ্যে এই ভাব-ভালোবাসা সৃষ্টি করে দেন বলেই বন্ধুত্বের সম্পর্ক তৈরি হয়।
"তিনিই তাদের অন্তরে প্রীতি স্থাপন করে দিয়েছেন। যদি তুমি দুনিয়ার সকল সম্পদও ব্যয় করতে, এ প্রীতি সঞ্চার করতে পারতে না। কিন্তু আল্লাহ তাদের মনে হৃদ্যতা তৈরি করেছেন। নিঃসন্দেহে তিনি পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।" সূরা আনফাল : ৬৩
তবে বন্ধু পাওয়া সহজ কোনো কাজ নয়। বন্ধু নির্বাচন যে কোনো মানুষের জীবনে একটি গুরুত্বপূর্ণ ও মৌলিক সিদ্ধান্ত। কারণ, মানুষ হিসেবে আপনার ব্যক্তিত্ব যতই প্রভাবশালী হোক অথবা হালকা হোক না কেন, বন্ধু বা কাছের মানুষগুলো আপনাকে প্রভাবিত করবেই। হয়তো আপনি তা উপলব্ধি করতে পারবেন, আবার অনেক সময় হয়তো এই প্রভাবের বিষয়টি মনের অজান্তেই অবচেতনে ঘটে যাবে। এ কারণেই রাসূল সা. সব সময় আমাদের চিন্তা ও বিচক্ষণতার সাথে বন্ধু বাছাই করতে বলেছেন।
আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, রাসূল সা. বলেন, “মানুষ তার বন্ধুর রীতিনীতির অনুসারী হয়। কাজেই তোমাদের প্রত্যেকেই যেন খেয়াল রাখে, সে কার সঙ্গে বন্ধুত্ব করছে।” আবু দাউদ: ৪৮৩৩
দুজন ঘনিষ্ট বন্ধু স্বাভাবিকভাবেই তাদের ভাবনা, চিন্তা ও অভ্যাস নিজেদের মধ্যে ভাগাভাগি করে; জীবনযাপনের প্রক্রিয়াও অনেকটা একই হয়। তাই বন্ধু নির্বাচনে সতর্কতা কাম্য। যদি আপনি একজন মানুষের ধর্মীয় অবস্থান ও অনুসৃত শিষ্টাচারের ব্যাপারে সন্তুষ্ট হন, তবে তার সাথে বন্ধুত্ব করতে পারেন। একজন মানুষের জীবনে খারাপ ও ভালো বন্ধুর প্রভাব কতটা, সে সম্পর্কে রাসূল সা. বলেন,
"একজন ভালো ও খারাপ সঙ্গীর উদাহরণ হলো যথাক্রমে একজন আতর বিক্রেতা ও কামারের মতো। আতর বিক্রেতা তার সংগ্রহ থেকে আপনাকে কোনো আতর উপহার দিতে পারে। আবার আপনি কিনেও নিতে পারেন। দুটোর কোনোটা না ঘটলেও অন্তত আপনি তার কাছে গেলে সুবাসটুকু পাবেন। আর কামারের কাছে গেলে আপনার কাপড় নষ্ট হতে পারে অথবা আপনি পোড়া গন্ধ পাবেন।” বুখারি: ৫৫৩৪
বিশেষ করে দুই ধরনের মানুষের সাহচর্য সচেতনভাবে এড়িয়ে চলতে হবে। প্রথমত তারা, যারা ইবাদতের ক্ষেত্রে নতুন নতুন সংযোজন করে (বিদআত চর্চাকারী)। আর দ্বিতীয়ত সেই সব মানুষ, যারা অসদাচরণ করে।
ইমাম হাসান বসরি রহ. বলেন, “যাদের মধ্যে খাহেশাত আছে, নতুন কিছু সংযোজন করার মানসিকতা আছে, তাদের সঙ্গে এক স্থানে বসবে না। তাদের সাথে তর্কে জড়াবে না। এমনকি তাদের কথা শোনা থেকেও বিরত থাকবে।”
আবু কুলাবাহ রহ. বলেন, “যারা দ্বীনে নতুন কিছু প্রবেশ করাতে চায়, তাদের সাথে মিশবে না, তাদের এড়িয়ে চলবে। তাদের সাহচর্য আমি কখনোই নিরাপদ মনে করি না। তারা তোমাকে বিপথগামী করতে পারে। তুমি যেগুলো সম্বন্ধে ভালোমতো জানতে না সেগুলোতো বটেই, এমনকি জানা বিষয়গুলোর ব্যাপারেও তারা তোমাকে সংশয়ে ফেলে দিতে পারে।"
ফুদাইল ইবনে আয়াজ রহ. বলেন, “যে আলোচনায় আল্লাহকে স্মরণ করা হয়, সেখানে আল্লাহ রহমতের ফেরেশতা প্রেরণ করেন। তাই তোমরা কার সাথে আলোচনায় বসবে, তা নিয়ে সচেতন হও।”
যারা খারাপ কাজ করে কিংবা যাদের আচরণ ভালো নয়, বন্ধু হিসেবে তারা খুবই মারাত্মক। এমন ব্যক্তির সঙ্গে যখন বসবেন, তখন আপনার কানে স্বাভাবিকভাবেই বাজে ও অশ্লীল শব্দ প্রবেশ করবে। তার মিথ্যা কথা, গিবত ও পরনিন্দাসুলভ কথাবার্তাও শুনতে হবে। যদি সে ফরজ ইবাদত পালনের ক্ষেত্রে শিথিল হয়, তা হলে সেই শিথিলতা আপনাকেও গ্রাস করতে পারে। এরকম অসৎসঙ্গীর অন্য সব পাপের প্রভাবও আপনার ওপর পড়তে পারে। আর এ কথা আমরা জানি, পাপ ক্রমশ মানুষের অন্তরকে মেরে ফেলে। অসৎ সঙ্গের কারণে ইতোমধ্যে বহু মানুষ বিপথগামী হয়েছে, এরকম অসংখ্য নজির আমাদের চারপাশেই আছে। তাই বন্ধু নির্বাচনের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সতর্কতা, জ্ঞান ও বিচক্ষণতা প্রয়োজন।

📘 ইসলামিক ম্যানারস > 📄 বোনদের প্রতি একটি পরামর্শ

📄 বোনদের প্রতি একটি পরামর্শ


আমার মুসলিম মা-বোনদের উদ্দেশ্য করে একটি কথা বলতে চাই। যদি কোনো আত্মীয় বা মুসলিম বোনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে চান, তা হলে খুব সচেতনভাবে সাক্ষাতের দিন, তারিখ ও সময় নির্ধারণ করুন। আত্মীয় বা বন্ধু হলেও তারও সুবিধাজনক বা বিব্রতকর সময় বলতে কিছু থাকতে পারে।

কাঙ্ক্ষিত সাক্ষাৎটি সর্বদা সুন্দর, সংক্ষিপ্ত এবং স্বস্তিদায়ক করার চেষ্টা করুন। সাক্ষাৎ যেন কোনোভাবেই একঘেয়ে বা বিরক্তিকর না হয়। সাক্ষাতের সময় অহেতুক টেনে লম্বা করবেন না। সাক্ষাতের উদ্দেশ্য যেন হয় সম্পর্কের উন্নয়ন। অর্থাৎ পুরোনো কোনো বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও বেশি সুন্দর করাই যেন হয় সাক্ষাতের উদ্দেশ্য।

সাক্ষাতের সময় যদি সংক্ষেপ হয়, তবে তা সুখকর হয়। কিন্তু অহেতুক কথা বলে যদি সময় দীর্ঘায়িত করা হয়, তবে তা বিরক্তির উদ্রেক করতে পারে। কারণ, বেশিক্ষণ সময় দিলে সেই সুযোগে নানা ধরনের অপ্রয়োজনীয় ও বাজে কথাবার্তাও হতে পারে। এতে সাক্ষাতের মূল উদ্দেশ্য ব্যাহত হতে পারে এবং শেষ পর্যন্ত গোটা সাক্ষাৎটি অপ্রয়োজনীয় কাজে পরিণত হতে পারে। প্রখ্যাত তাবেয়ি মুহাম্মাদ ইবনে শিহাব যুহরি রহ. বলেন, “যখন কোনো সাক্ষাতের সময় দীর্ঘ হয়, তখন শয়তান তাতে সম্পৃক্ত হওয়ার সুযোগ পায়।”

চেষ্টা করুন, যাতে কোথাও বেড়াতে গেলে আপনার কথাগুলো খুবই পরিমিত কিন্তু মূল্যবান হয়। আপনার কথাগুলো যেন অপরকে উপকৃত করে। সেই সাথে সব ধরনের গিবত, বাজে আড্ডা এবং অলস ও অপ্রয়োজনীয় কথাবার্তা থেকে দূরে থাকার চেষ্টা করুন। একজন সত্যিকারের মুসলিম নারী কখনোই এ জাতীয় কাজ করে সময় নষ্ট করতে পারে না।

মুত্তালিব ইবনে আবদুল্লাহ মাখযুমি থেকে বর্ণিত, “রাসূল সা.-এর নিকট এক ব্যক্তি জিজ্ঞেস করল, 'গিবত কী (গিবত কাকে বলে)?' রাসূল সা. বললেন, 'কারও অবর্তমানে তার এমন কথা প্রকাশ করা, যা সে শুনলে অসন্তুষ্ট হবে।' অতঃপর লোকটি আবার বলল, 'হে আল্লাহর রাসূল! কথা যদি সত্য হয় (অর্থাৎ যা বলা হচ্ছে তা যদি মিথ্যা না হয়, বরং সত্য হয় তা হলেও কি তা গিবত হবে)?' রাসূল সা.। আবার আপনি কিনেও নিতে পারেন। দুটোর কোনোটা না ঘটলেও অন্তত আপনি তার কাছে গেলে সুবাসটুকু পাবেন। আর কামারের কাছে গেলে আপনার কাপড় নষ্ট হতে পারে অথবা আপনি পোড়া গন্ধ পাবেন।” বুখারি: ৫৫৩৪

বিশেষ করে দুই ধরনের মানুষের সাহচর্য সচেতনভাবে এড়িয়ে চলতে হবে। প্রথমত তারা, যারা ইবাদতের ক্ষেত্রে নতুন নতুন সংযোজন করে (বিদআত চর্চাকারী)। আর দ্বিতীয়ত সেই সব মানুষ, যারা অসদাচরণ করে।

ইমাম হাসান বসরি রহ. বলেন, “যাদের মধ্যে খাহেশাত আছে, নতুন কিছু সংযোজন করার মানসিকতা আছে, তাদের সঙ্গে এক স্থানে বসবে না। তাদের সাথে তর্কে জড়াবে না। এমনকি তাদের কথা শোনা থেকেও বিরত থাকবে।”

আবু কুলাবাহ রহ. বলেন, “যারা দ্বীনে নতুন কিছু প্রবেশ করাতে চায়, তাদের সাথে মিশবে না, তাদের এড়িয়ে চলবে। তাদের সাহচর্য আমি কখনোই নিরাপদ মনে করি না। তারা তোমাকে বিপথগামী করতে পারে। তুমি যেগুলো সম্বন্ধে ভালোমতো জানতে না সেগুলোতো বটেই, এমনকি জানা বিষয়গুলোর ব্যাপারেও তারা তোমাকে সংশয়ে ফেলে দিতে পারে।"

ফুদাইল ইবনে আয়াজ রহ. বলেন, “যে আলোচনায় আল্লাহকে স্মরণ করা হয়, সেখানে আল্লাহ রহমতের ফেরেশতা প্রেরণ করেন। তাই তোমরা কার সাথে আলোচনায় বসবে, তা নিয়ে সচেতন হও।”

যারা খারাপ কাজ করে কিংবা যাদের আচরণ ভালো নয়, বন্ধু হিসেবে তারা খুবই মারাত্মক। এমন ব্যক্তির সঙ্গে যখন বসবেন, তখন আপনার কানে স্বাভাবিকভাবেই বাজে ও অশ্লীল শব্দ প্রবেশ করবে। তার মিথ্যা কথা, গিবত ও পরনিন্দাসুলভ কথাবার্তাও শুনতে হবে। যদি সে ফরজ ইবাদত পালনের ক্ষেত্রে শিথিল হয়, তা হলে সেই শিথিলতা আপনাকেও গ্রাস করতে পারে। এরকম অসৎসঙ্গীর অন্য সব পাপের প্রভাবও আপনার ওপর পড়তে পারে। আর এ কথা আমরা জানি, পাপ ক্রমশ মানুষের অন্তরকে মেরে ফেলে। অসৎ সঙ্গের কারণে ইতোমধ্যে বহু মানুষ বিপথগামী হয়েছে, এরকম অসংখ্য নজির আমাদের চারপাশেই আছে। তাই বন্ধু নির্বাচনের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সতর্কতা, জ্ঞান ও বিচক্ষণতা প্রয়োজন।

আমার মুসলিম মা-বোনদের উদ্দেশ্য করে একটি কথা বলতে চাই। যদি কোনো আত্মীয় বা মুসলিম বোনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে চান, তা হলে খুব সচেতনভাবে সাক্ষাতের দিন, তারিখ ও সময় নির্ধারণ করুন। আত্মীয় বা বন্ধু হলেও তারও সুবিধাজনক বা বিব্রতকর সময় বলতে কিছু থাকতে পারে।

কাঙ্ক্ষিত সাক্ষাৎটি সর্বদা সুন্দর, সংক্ষিপ্ত এবং স্বস্তিদায়ক করার চেষ্টা করুন। সাক্ষাৎ যেন কোনোভাবেই একঘেয়ে বা বিরক্তিকর না হয়। সাক্ষাতের সময় অহেতুক টেনে লম্বা করবেন না। সাক্ষাতের উদ্দেশ্য যেন হয় সম্পর্কের উন্নয়ন। অর্থাৎ পুরোনো কোনো বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও বেশি সুন্দর করাই যেন হয় সাক্ষাতের উদ্দেশ্য।

সাক্ষাতের সময় যদি সংক্ষেপ হয়, তবে তা সুখকর হয়। কিন্তু অহেতুক কথা বলে যদি সময় দীর্ঘায়িত করা হয়, তবে তা বিরক্তির উদ্রেক করতে পারে। কারণ, বেশিক্ষণ সময় দিলে সেই সুযোগে নানা ধরনের অপ্রয়োজনীয় ও বাজে কথাবার্তাও হতে পারে। এতে সাক্ষাতের মূল উদ্দেশ্য ব্যাহত হতে পারে এবং শেষ পর্যন্ত গোটা সাক্ষাৎটি অপ্রয়োজনীয় কাজে পরিণত হতে পারে। প্রখ্যাত তাবেয়ি মুহাম্মাদ ইবনে শিহাব যুহরি রহ. বলেন, “যখন কোনো সাক্ষাতের সময় দীর্ঘ হয়, তখন শয়তান তাতে সম্পৃক্ত হওয়ার সুযোগ পায়।”

চেষ্টা করুন, যাতে কোথাও বেড়াতে গেলে আপনার কথাগুলো খুবই পরিমিত কিন্তু মূল্যবান হয়। আপনার কথাগুলো যেন অপরকে উপকৃত করে বললেন, 'যদি মিথ্যা হয়, (তবে তাকে গিবত বলা হয় না; বরং) তা বুহতান (অপবাদ)।” মুসলিম: ২৫৮৯

আমার মুসলিম মা-বোনদের উদ্দেশ্য করে একটি কথা বলতে চাই। যদি কোনো আত্মীয় বা মুসলিম বোনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে চান, তা হলে খুব সচেতনভাবে সাক্ষাতের দিন, তারিখ ও সময় নির্ধারণ করুন। আত্মীয় বা বন্ধু হলেও তারও সুবিধাজনক বা বিব্রতকর সময় বলতে কিছু থাকতে পারে।
কাঙ্ক্ষিত সাক্ষাৎটি সর্বদা সুন্দর, সংক্ষিপ্ত এবং স্বস্তিদায়ক করার চেষ্টা করুন। সাক্ষাৎ যেন কোনোভাবেই একঘেয়ে বা বিরক্তিকর না হয়। সাক্ষাতের সময় অহেতুক টেনে লম্বা করবেন না। সাক্ষাতের উদ্দেশ্য যেন হয় সম্পর্কের উন্নয়ন। অর্থাৎ পুরোনো কোনো বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও বেশি সুন্দর করাই যেন হয় সাক্ষাতের উদ্দেশ্য।
সাক্ষাতের সময় যদি সংক্ষেপ হয়, তবে তা সুখকর হয়। কিন্তু অহেতুক কথা বলে যদি সময় দীর্ঘায়িত করা হয়, তবে তা বিরক্তির উদ্রেক করতে পারে। কারণ, বেশিক্ষণ সময় দিলে সেই সুযোগে নানা ধরনের অপ্রয়োজনীয় ও বাজে কথাবার্তাও হতে পারে। এতে সাক্ষাতের মূল উদ্দেশ্য ব্যাহত হতে পারে এবং শেষ পর্যন্ত গোটা সাক্ষাৎটি অপ্রয়োজনীয় কাজে পরিণত হতে পারে। প্রখ্যাত তাবেয়ি মুহাম্মাদ ইবনে শিহাব যুহরি রহ. বলেন, “যখন কোনো সাক্ষাতের সময় দীর্ঘ হয়, তখন শয়তান তাতে সম্পৃক্ত হওয়ার সুযোগ পায়।”
চেষ্টা করুন, যাতে কোথাও বেড়াতে গেলে আপনার কথাগুলো খুবই পরিমিত কিন্তু মূল্যবান হয়। আপনার কথাগুলো যেন অপরকে উপকৃত করে। সেই সাথে সব ধরনের গিবত, বাজে আড্ডা এবং অলস ও অপ্রয়োজনীয় কথাবার্তা থেকে দূরে থাকার চেষ্টা করুন। একজন সত্যিকারের মুসলিম নারী কখনোই এ জাতীয় কাজ করে সময় নষ্ট করতে পারে না।
মুত্তালিব ইবনে আবদুল্লাহ মাখযুমি থেকে বর্ণিত, “রাসূল সা.-এর নিকট এক ব্যক্তি জিজ্ঞেস করল, 'গিবত কী (গিবত কাকে বলে)?' রাসূল সা. বললেন, 'কারও অবর্তমানে তার এমন কথা প্রকাশ করা, যা সে শুনলে অসন্তুষ্ট হবে।' অতঃপর লোকটি আবার বলল, 'হে আল্লাহর রাসূল! কথা যদি সত্য হয় (অর্থাৎ যা বলা হচ্ছে তা যদি মিথ্যা না হয়, বরং সত্য হয় তা হলেও কি তা গিবত হবে)?' রাসূল সা. বললেন, 'যদি মিথ্যা হয়, (তবে তাকে গিবত বলা হয় না; বরং) তা বুহতান (অপবাদ)।” মুসলিম: ২৫৮৯

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00