📄 অভ্যর্থনা বা অভিবাদন
কোনো ঘরে বা বাড়িতে প্রবেশ করার পর সেখানে উপস্থিত সবার সাথে মুসাফাহা করুন। তাদের সালাম দিন। আতা ইবনে আবদুল্লাহ থেকে বর্ণিত, রাসূল সা. বলেছেন, "তোমরা একে অপরের সাথে মুসাফাহা করো। এতে তোমাদের মাঝে যদি কোনো ঘৃণা ও বিদ্বেষ থাকে, তা দূর হয়ে যাবে; ভালোবাসার সৃষ্টি হবে আর শত্রুভাবাপন্ন মনোভাব কমে আসবে।”
আনাস রা. থেকে বর্ণিত, একবার ইয়েমেন থেকে কিছু মুসাফির নবি সা.-এর সাথে সাক্ষাৎ করতে এলো। খবর পেয়েই রাসূল সা. বললেন, "ইয়েমেনের লোকেরা আসছে। তাদের মন তোমাদের তুলনায় কোমল। তারা সবকিছুর আগে সবার সাথে হাত মিলায় ও মুসাফাহা করে।" আবু দাউদ: ৫২১৩
বারা ইবনে আজিব রা. হতে বর্ণিত, “মুসাফাহা এমন এক আচরণ, যা পারস্পরিক সম্ভাষণ ও শিষ্টাচারকে সম্পূর্ণ করে তোলে।” বুখারি
কোনো মজলিসে বা আয়োজনে যদি সবার সাথে হ্যান্ডশেক বা মুসাফাহা করতে চান, তা হলে সবার আগে যিনি ওই আয়োজনের সবচেয়ে বয়স্ক মানুষ কিংবা সবচেয়ে জ্ঞানী ও ধার্মিক, তার দিকে হাত বাড়িয়ে দিন। আপনার কাছাকাছি বা পাশে যিনি আছে, তার সাথে হাত মেলাতে গিয়ে সবচেয়ে প্রবীণ মানুষটিকে অবহেলা করবেন না। যদি আপনি বুঝতে না পারেন কিংবা আয়োজনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মানুষটিকে সনাক্ত করতে না পারেন, তা হলে বাহ্যিকভাবে দেখে যাকে সবচেয়ে বয়স্ক মনে হয়, তার সাথেই আগে গিয়ে সৌজন্যতা প্রকাশ করুন।
মুসাফাহা করতে গেলে কতক্ষণ হাত ধরে থাকতে হবে, এটা নিয়ে অনেকের মাঝেই সংশয় দেখা যায়। আনাস রা. থেকে বর্ণিত, "যদি কেউ নবিজির সাথে সাক্ষাৎ করতে আসত এবং মুসাফাহা করত, তা হলে নবি সা. কখনোই তাঁর হাতটি আগে ফিরিয়ে নিতেন না।" তিরমিযি: ২৪৯০, ইবনে মাজাহ : ৩৭১৬
এই হাদিস থেকে আমরা বুঝতে পারি, শুধু মুসাফাহা করাই যথেষ্ট নয়; বরং কিছুটা সময় হাত ধরে রাখার ব্যাপারেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তবে সেই সময়টা এত বেশি হওয়াও বাঞ্ছনীয় নয় যাতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জন্য তা বিব্রতকর হয়ে যায়।
আনাস ইবনে মালিক রা. থেকে বর্ণিত, “এক ব্যক্তি রাসূল সা.-কে প্রশ্ন করল, 'হে আল্লাহর রাসূল, যখন আমরা এক ভাই আরেকজন ভাইয়ের সাথে সাক্ষাৎ করব, আমরা কি একে অপরকে সম্মান জানিয়ে মাথা নত করতে পারি?' রাসূল সা. উত্তর দিলেন, 'না, কখনোই নয়।' এরপর সে আবার প্রশ্ন করল, 'তা হলে আমরা কি সাক্ষাতের সময় আমার ভাইকে জড়িয়ে ধরে চুমু খেতে পারি?' রাসূল সা. বললেন, 'না, তোমরা এটাও করবে না।' তৃতীয়বার ওই ব্যক্তি প্রশ্ন করল, 'তা হলে আমরা কি মুসাফাহা করতে পারি?' রাসূল সা. বললেন, 'হ্যাঁ, তা করতে পারো, যদি সেও মুসাফাহা করতে আগ্রহী হয়'।" তিরমিযি : ২৭২৮, ইবনে মাজাহ : ৩৭০২
মসজিদে কিছু মুসল্লিকে দেখা যায়, যারা ফরজ নামাজের জামাত শেষ হওয়ার পরই ইমাম সাহেবের সাথে হাত মেলাতে ব্যস্ত হয়ে যায়। কিন্তু এ ধরনের কোনো কাজ করার দৃষ্টান্ত বা নির্দেশনা রাসূল সা.-এর সুন্নাহতে পাওয়া যায় না। খুলাফায়ে রাশেদার সময়েও এ ধরনের কোনো চর্চা ছিল না। এটা পরবর্তী সময়ের মুসলমানদের আবিষ্কার-যাকে কেউ কেউ বিদআত বলেও মনে করে। আর ধর্মীয় আচারাদির ক্ষেত্রে আল্লাহ সব ধরনের বিদআতকে নিষিদ্ধ করেছেন। ফিকাহর কিছু বইতে এই আচরণের কথা জানা যায়। তবে যারা এই আমলটিকে সমর্থন করেছেন, তারাও প্রতি ওয়াক্তে এভাবে সাক্ষাতের জন্য ব্যস্ত হওয়াকে অনুমোদন দেননি।
অনেকেই আছে, যারা অভ্যর্থনা জানানোর ক্ষেত্রে বা মেহমানকে ভক্তি জানাতে গিয়ে দাঁড়িয়ে যায়। এ প্রসঙ্গে তিনটি কথা বলা যায়।
প্রথমত, একজন সম্মানিত মানুষ এসে বসে গেছেন, অথচ আপনি তাঁর সম্মানে দাঁড়িয়েই আছেন, এটা সমর্থনযোগ্য নয়। যারা স্বৈরাচারী মানসিকতার, তারা অধীনস্থদের এভাবে দাঁড়িয়ে থাকতে বাধ্য করে।
দ্বিতীয়ত, আপনি বসে আছেন, এমন সময় বাইরে থেকে কেউ এলেন এবং তিনি সম্মানিত। তা হলে দাঁড়িয়ে মুসাফাহা করে আবার বসে পড়ুন। এতটুকু করাকে ইসলামি চিন্তাবিদগণ সমর্থন করেছেন। ইমাম গাযালি এবং ইবনে হাজারের মতো ব্যক্তিরা মনে করেন, যদি কাউকে সম্মান জানানোর জন্য উঠে দাঁড়ান, তা সমর্থন করা যায়; তবে আগত ব্যক্তিকে অতি মহিমান্বিত করার জন্য উঠে দাঁড়ালে তা মেনে নেওয়া যায় না।
আর তৃতীয়ত, আপনি কাউকে দেখেই দাঁড়িয়ে যেতে পারেন। তবে অধিকাংশ আলিম এভাবে সম্মান জানানোর ব্যাপারে একমত হতে পারেননি। রাসূল সা. বলেছেন, “কোনো একজন আল্লাহর বান্দা এলো আর তাকে দেখেই যদি অন্য কোনো বান্দা দাঁড়িয়ে যায়, তা হলে সে মূলত তার জন্য জাহান্নামে একটি ঘর তৈরি করে নিল।” আদাবুল মুফরাদ : ৯৭৭
তবে বেশ কয়েকজন ফিকহবিদের মতে, কোনো এলাকার রীতি যদি এমন হয়, সেখানে আগত মেহমানকে দাঁড়িয়েই সম্মান জানাতে হবে, তবে সেক্ষেত্রে দাঁড়িয়ে সম্মান করা যাবে। কারণ, তাই যদি সেখানে প্রচলিত রীতিকে অগ্রাহ্য করা হয়, তা হলে হয়তো অনাকাঙ্ক্ষিত কোনো পরিস্থিতিও তৈরি হতে পারে।
কোনো ঘরে বা বাড়িতে প্রবেশ করার পর সেখানে উপস্থিত সবার সাথে মুসাফাহা করুন। তাদের সালাম দিন। আতা ইবনে আবদুল্লাহ থেকে বর্ণিত, রাসূল সা. বলেছেন, "তোমরা একে অপরের সাথে মুসাফাহা করো। এতে তোমাদের মাঝে যদি কোনো ঘৃণা ও বিদ্বেষ থাকে, তা দূর হয়ে যাবে; ভালোবাসার সৃষ্টি হবে আর শত্রুভাবাপন্ন মনোভাব কমে আসবে।”
আনাস রা. থেকে বর্ণিত, একবার ইয়েমেন থেকে কিছু মুসাফির নবি সা.-এর সাথে সাক্ষাৎ করতে এলো। খবর পেয়েই রাসূল সা. বললেন, "ইয়েমেনের লোকেরা আসছে। তাদের মন তোমাদের তুলনায় কোমল। তারা সবকিছুর আগে সবার সাথে হাত মিলায় ও মুসাফাহা করে।" আবু দাউদ: ৫২১৩
বারা ইবনে আজিব রা. হতে বর্ণিত, “মুসাফাহা এমন এক আচরণ, যা পারস্পরিক সম্ভাষণ ও শিষ্টাচারকে সম্পূর্ণ করে তোলে।” বুখারি
কোনো মজলিসে বা আয়োজনে যদি সবার সাথে হ্যান্ডশেক বা মুসাফাহা করতে চান, তা হলে সবার আগে যিনি ওই আয়োজনের সবচেয়ে বয়স্ক মানুষ কিংবা সবচেয়ে জ্ঞানী ও ধার্মিক, তার দিকে হাত বাড়িয়ে দিন। আপনার কাছাকাছি বা পাশে যিনি আছে, তার সাথে হাত মেলাতে গিয়ে সবচেয়ে প্রবীণ মানুষটিকে অবহেলা করবেন না। যদি আপনি বুঝতে না পারেন কিংবা আয়োজনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মানুষটিকে সনাক্ত করতে না পারেন, তা হলে বাহ্যিকভাবে দেখে যাকে সবচেয়ে বয়স্ক মনে হয়, তার সাথেই আগে গিয়ে সৌজন্যতা প্রকাশ করুন।
মুসাফাহা করতে গেলে কতক্ষণ হাত ধরে থাকতে হবে, এটা নিয়ে অনেকের মাঝেই সংশয় দেখা যায়। আনাস রা. থেকে বর্ণিত, "যদি কেউ নবিজির সাথে সাক্ষাৎ করতে আসত এবং মুসাফাহা করত, তা হলে নবি সা. কখনোই তাঁর হাতটি আগে ফিরিয়ে নিতেন না।" তিরমিযি: ২৪৯০, ইবনে মাজাহ : ৩৭১৬
এই হাদিস থেকে আমরা বুঝতে পারি, শুধু মুসাফাহা করাই যথেষ্ট নয়; বরং কিছুটা সময় হাত ধরে রাখার ব্যাপারেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তবে সেই সময়টা এত বেশি হওয়াও বাঞ্ছনীয় নয় যাতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জন্য তা বিব্রতকর হয়ে যায়।
আনাস ইবনে মালিক রা. থেকে বর্ণিত, “এক ব্যক্তি রাসূল সা.-কে প্রশ্ন করল, 'হে আল্লাহর রাসূল, যখন আমরা এক ভাই আরেকজন ভাইয়ের সাথে সাক্ষাৎ করব, আমরা কি একে অপরকে সম্মান জানিয়ে মাথা নত করতে পারি?' রাসূল সা. উত্তর দিলেন, 'না, কখনোই নয়।' এরপর সে আবার প্রশ্ন করল, 'তা হলে আমরা কি সাক্ষাতের সময় আমার ভাইকে জড়িয়ে ধরে চুমু খেতে পারি?' রাসূল সা. বললেন, 'না, তোমরা এটাও করবে না।' তৃতীয়বার ওই ব্যক্তি প্রশ্ন করল, 'তা হলে আমরা কি মুসাফাহা করতে পারি?' রাসূল সা. বললেন, 'হ্যাঁ, তা করতে পারো, যদি সেও মুসাফাহা করতে আগ্রহী হয়'।" তিরমিযি : ২৭২৮, ইবনে মাজাহ : ৩৭০২
মসজিদে কিছু মুসল্লিকে দেখা যায়, যারা ফরজ নামাজের জামাত শেষ হওয়ার পরই ইমাম সাহেবের সাথে হাত মেলাতে ব্যস্ত হয়ে যায়। কিন্তু এ ধরনের কোনো কাজ করার দৃষ্টান্ত বা নির্দেশনা রাসূল সা.-এর সুন্নাহতে পাওয়া যায় না। খুলাফায়ে রাশেদার সময়েও এ ধরনের কোনো চর্চা ছিল না। এটা পরবর্তী সময়ের মুসলমানদের আবিষ্কার-যাকে কেউ কেউ বিদআত বলেও মনে করে। আর ধর্মীয় আচারাদির ক্ষেত্রে আল্লাহ সব ধরনের বিদআতকে নিষিদ্ধ করেছেন। ফিকাহর কিছু বইতে এই আচরণের কথা জানা যায়। তবে যারা এই আমলটিকে সমর্থন করেছেন, তারাও প্রতি ওয়াক্তে এভাবে সাক্ষাতের জন্য ব্যস্ত হওয়াকে অনুমোদন দেননি।
অনেকেই আছে, যারা অভ্যর্থনা জানানোর ক্ষেত্রে বা মেহমানকে ভক্তি জানাতে গিয়ে দাঁড়িয়ে যায়। এ প্রসঙ্গে তিনটি কথা বলা যায়।
প্রথমত, একজন সম্মানিত মানুষ এসে বসে গেছেন, অথচ আপনি তাঁর সম্মানে দাঁড়িয়েই আছেন, এটা সমর্থনযোগ্য নয়। যারা স্বৈরাচারী মানসিকতার, তারা অধীনস্থদের এভাবে দাঁড়িয়ে থাকতে বাধ্য করে।
দ্বিতীয়ত, আপনি বসে আছেন, এমন সময় বাইরে থেকে কেউ এলেন এবং তিনি সম্মানিত। তা হলে দাঁড়িয়ে মুসাফাহা করে আবার বসে পড়ুন। এতটুকু করাকে ইসলামি চিন্তাবিদগণ সমর্থন করেছেন। ইমাম গাযালি এবং ইবনে হাজারের মতো ব্যক্তিরা মনে করেন, যদি কাউকে সম্মান জানানোর জন্য উঠে দাঁড়ান, তা সমর্থন করা যায়; তবে আগত ব্যক্তিকে অতি মহিমান্বিত করার জন্য উঠে দাঁড়ালে তা মেনে নেওয়া যায় না।
আর তৃতীয়ত, আপনি কাউকে দেখেই দাঁড়িয়ে যেতে পারেন। তবে অধিকাংশ আলিম এভাবে সম্মান জানানোর ব্যাপারে একমত হতে পারেননি। রাসূল সা. বলেছেন, “কোনো একজন আল্লাহর বান্দা এলো আর তাকে দেখেই যদি অন্য কোনো বান্দা দাঁড়িয়ে যায়, তা হলে সে মূলত তার জন্য জাহান্নামে একটি ঘর তৈরি করে নিল।” আদাবুল মুফরাদ : ৯৭৭
তবে বেশ কয়েকজন ফিকহবিদের মতে, কোনো এলাকার রীতি যদি এমন হয়, সেখানে আগত মেহমানকে দাঁড়িয়েই সম্মান জানাতে হবে, তবে সেক্ষেত্রে দাঁড়িয়ে সম্মান করা যাবে। কারণ, তাই যদি সেখানে প্রচলিত রীতিকে অগ্রাহ্য করা হয়, তা হলে হয়তো অনাকাঙ্ক্ষিত কোনো পরিস্থিতিও তৈরি হতে পারে।
📄 দুই ব্যক্তির মাঝে বসা
আপনি কোনো ঘর বা বাড়িতে প্রবেশ করে দুজন ব্যক্তির মাঝে গিয়ে বসবেন না। তাদের বায়ে বা ডানে গিয়ে আসন গ্রহণ করুন। সুনানে আবু দাউদ ও তিরমিযিতে উল্লিখিত একটি হাদিস থেকে জানা যায়, রাসূল সা. বলেছেন, “অনুমতি ব্যতীত কখনোই দুজন মানুষের মাঝে গিয়ে বসবে না। হয়তো তারা নিজেরা পরস্পরের সাথে কথা বলছে।"
কখনও কখনও এমন হতে পারে, দুজন ব্যক্তি আপনার প্রতি সহানুভূতিশীল হয়ে তাদের মাঝখানে বসার সুযোগ দিতে পারে। এমন হলে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তাদের প্রস্তাব গ্রহণ করতে পারেন। তবে চাপাচাপি করে বসে থাকার প্রয়োজন নেই। দুজনের মাঝখানে বসে পায়ের ওপর পা তুলে দেওয়াও সমীচীন নয়।
জনৈক মহান ব্যক্তি বলে গেছেন, "দুই ধরনের মানুষকে অশোভন হিসেবে বিবেচনা করা যায়। প্রথমত সেই ব্যক্তি, যাকে কোনো পরামর্শ দিলেন অথচ সে তা ভালোভাবে গ্রহণ না করে তা আপনার বিরুদ্ধেই ব্যবহার করল। আর দ্বিতীয়ত সেই ব্যক্তি, যাকে বসার জায়গা করে দিলেন অথচ সে আপনার সামনে পায়ের ওপর পা তুলে বসে থাকল।"
ধরুন, আপনি একটি অনুষ্ঠানে বসে আছেন। কেউ একজন এলেন। কিন্তু তিনি বসার ভালো বলা হয় উঠে যাও, তখন উঠে যাবে। তোমাদের মধ্যে যারা ঈমানদার এবং যারা জ্ঞানপ্রাপ্ত, আল্লাহ তাদের মর্যাদা উচ্চ করে দেবেন। তোমরা যা কিছু করো আল্লাহ খবর রাখেন।” সূরা মুজাদালাহ: ১১
আরেকটি বিষয়, যদি আপনি কোনো অনুষ্ঠানে এমনকি মসজিদেও অনেকের পরে গিয়ে উপস্থিত হন, তা হলে সামনে যাওয়ার জন্য তাড়াহুড়ো বা কোনো ধরনের বাড়াবাড়ি করবেন না। অনেকেই পরে এসে ডিঙিয়ে সামনে যাওয়ার চেষ্টা করে, যা দেখতেও অশোভন। জাবির ইবনে সামুরাহ রা. থেকে বর্ণিত, “আমরা যখন নবিজি সা.-এর কাছে যেতাম, তখন যেখানে জায়গা পেতাম সেখানেই বসে পড়তাম।” আবু দাউদ: ৪৮২৫
যদি আপনাকে দুজন মানুষের কাছে বসতেই হয়, তা হলে কখনোই তাদের কথায় আড়ি পাতবেন না। হতে পারে তারা কোনো গোপন বা ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে আলোচনা করছে। আড়িপাতা একটি বাজে অভ্যাস এবং স্বীকৃত পাপ। সহিহ বুখারির একটি হাদিস থেকে জানা যায়, রাসূল সা. বলেছেন, “যে ব্যক্তি কারও অনুমতি না নিয়েই তাদের কথাবার্তা আড়ি পেতে শোনে, কিয়ামতের দিন তার কানে তরল সিসা ঢেলে দেওয়া হবে।" বুখারি: ৭০৪২
সব সময় বড়োদের কাছ থেকে কিছু শেখার চেষ্টা করুন। তাদের অভিজ্ঞতালব্ধ জ্ঞান থেকে কিছু জানার থাকে। তাদের সাহচর্যে ও সংস্পর্শে সমৃদ্ধ হোন। কারণ, তারা জীবনের পরিণত অবস্থায় পৌঁছে গেছেন। সূর্য যেমন সারা দিন আলো বিকিরণ করে রাতে অন্ধকার আকাশে মিলিয়ে যায়, এই মানুষগুলোও তাদের সারাটা জীবন দেওয়া ও নেওয়ার মধ্য দিয়ে অনেক কিছু শিখেছেন, ধারণ করেছেন, যা থেকে আমরা উপকৃত হতে পারি। সব সময় বয়স্ক, পরহেজগার, আদর্শবান ও বিদ্বান মানুষদের আলোচনায় অংশ নেওয়ার চেষ্টা করুন। হয়তো খুব দ্রুত তারা দুনিয়া ছেড়ে চলে যাবেন, তখন তাদের থেকে এই জ্ঞানগুলো না নেওয়ায় আপনাকে আফসোস করতে হবে।
যদি আপনারা তিনজন একসাথে বসে থাকেন, তা হলে একজনের সামনে অপর দুজনের কানে কানে কথা বলা ইসলামি আদবের খেলাফ। এটা তৃতীয় ব্যক্তির জন্য বিব্রতকর এবং সন্দেহের কারণ হতে পারে। তাই রাসূল সা. এ ধরনের পরিবেশে কানে কানে কথা বলাকে অপছন্দ করতেন।
রাসূল সা. বলেছেন, “তৃতীয় একজনের উপস্থিতিতে দুজন মানুষের ফিস ফিস করে কথা বলা বা কানে কানে কথা বলা উচিত নয়।" আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা. তখন প্রশ্ন করলেন, 'যদি তারা চারজন হয়?' নবিজি সা. বললেন, 'তা হলে সমস্যা নেই'।” বুখারি: ৬২৮৮, মুসলিম: ২১৮৩
তিনি এমনটি বললেন কারণ, চারজন থাকলে দুজন একটু আস্তে কথা বললেও তা তেমন বিরক্তিকর পরিস্থিতির উদ্রেক করে না। কারণ, এখানে চতুর্থজনের উপস্থিতির কারণে তৃতীয় ব্যক্তি একাকীত্ব ও বিব্রত বোধ করবে না।
আরেকটি বিষয় গুরুত্বের সাথে বিবেচনায় নিতে হবে। যদি কেউ আপনাকে বিশ্বাস করে কোনো কথা বলতে চায়, তা হলে সেই বিশ্বাসের আমানতটুকু সংরক্ষণ করাও আপনার দায়িত্ব। তার সাথে প্রতারণা করা কিংবা বিশ্বাস ভঙ্গ করা অনুচিত। তাই কোনো ব্যক্তি যদি আপনাকে গোপনে কোনো কথা বলে, তবে তা গোপন রাখা উচিত। এমনকি আপনার ঘনিষ্ঠ বন্ধু বা আত্মীয়কেও অন্যের গোপন কথা বলা ঠিক নয়।
কোনো অনুষ্ঠান বা আয়োজনে গিয়ে মাত্রাতিরিক্ত উচ্চৈঃস্বরে হাসবেন না। এটা ইসলামের শিষ্টাচারের সাথে সাংঘর্ষিক। আপনি যদি মুচকি হাসেন বা মৃদু হাসেন, তা ঠিক আছে; কেননা, এই ধরনের হাসি আপনাকে স্বস্তি দেবে, অন্যদেরও বিরক্তি করবে না। কিন্তু যদি অট্টহাসি দেন এবং বার বার দেন, তা হলে উপস্থিত অনেকেই আপনার প্রতি অসন্তুষ্ট হতে পারে। আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, রাসূল সা. বলেছেন, “তোমরা অতিরিক্ত হাসাহাসি করো না। অতিরিক্ত হাসি অন্তরকে মেরে ফেলে।”
আপনি কোনো ঘর বা বাড়িতে প্রবেশ করে দুজন ব্যক্তির মাঝে গিয়ে বসবেন না। তাদের বায়ে বা ডানে গিয়ে আসন গ্রহণ করুন। সুনানে আবু দাউদ ও তিরমিযিতে উল্লিখিত একটি হাদিস থেকে জানা যায়, রাসূল সা. বলেছেন, “অনুমতি ব্যতীত কখনোই দুজন মানুষের মাঝে গিয়ে বসবে না। হয়তো তারা নিজেরা পরস্পরের সাথে কথা বলছে।"
কখনও কখনও এমন হতে পারে, দুজন ব্যক্তি আপনার প্রতি সহানুভূতিশীল হয়ে তাদের মাঝখানে বসার সুযোগ দিতে পারে। এমন হলে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তাদের প্রস্তাব গ্রহণ করতে পারেন। তবে চাপাচাপি করে বসে থাকার প্রয়োজন নেই। দুজনের মাঝখানে বসে পায়ের ওপর পা তুলে দেওয়াও সমীচীন নয়।
জনৈক মহান ব্যক্তি বলে গেছেন, "দুই ধরনের মানুষকে অশোভন হিসেবে বিবেচনা করা যায়। প্রথমত সেই ব্যক্তি, যাকে কোনো পরামর্শ দিলেন অথচ সে তা ভালোভাবে গ্রহণ না করে তা আপনার বিরুদ্ধেই ব্যবহার করল। আর দ্বিতীয়ত সেই ব্যক্তি, যাকে বসার জায়গা করে দিলেন অথচ সে আপনার সামনে পায়ের ওপর পা তুলে বসে থাকল।"
ধরুন, আপনি একটি অনুষ্ঠানে বসে আছেন। কেউ একজন এলেন। কিন্তু তিনি বসার ভালো জায়গা পেলেন না। তাই তিনি স্বাভাবিকভাবেই ফিরে যাবেন। এ রকম দৃশ্য অবস্থায় আপনার উচিত, একটু সরে গিয়ে সেই মেহমানকে বসতে দেওয়া। এতে হয়তো আপনার বড়ো কোনো ক্ষতি হবে না। আপনার কল্যাণে সেই ব্যক্তি আয়োজনের অংশ হওয়ার সুযোগ পাবেন। কুরআনে হাকিমে এই প্রসঙ্গে আল্লাহ তায়ালা বলেন,
“হে মুমিনগণ! যখন তোমাদের বলা হয়, মজলিসে স্থান প্রশস্ত করে দাও, তোমরা স্থান প্রশস্ত করে দেবে। আল্লাহও তোমাদের জন্য প্রশস্ত করে দেবেন। যখন বলা হয় উঠে যাও, তখন উঠে যাবে। তোমাদের মধ্যে যারা ঈমানদার এবং যারা জ্ঞানপ্রাপ্ত, আল্লাহ তাদের মর্যাদা উচ্চ করে দেবেন। তোমরা যা কিছু করো আল্লাহ খবর রাখেন।” সূরা মুজাদালাহ: ১১
আরেকটি বিষয়, যদি আপনি কোনো অনুষ্ঠানে এমনকি মসজিদেও অনেকের পরে গিয়ে উপস্থিত হন, তা হলে সামনে যাওয়ার জন্য তাড়াহুড়ো বা কোনো ধরনের বাড়াবাড়ি করবেন না। অনেকেই পরে এসে ডিঙিয়ে সামনে যাওয়ার চেষ্টা করে, যা দেখতেও অশোভন। জাবির ইবনে সামুরাহ রা. থেকে বর্ণিত, “আমরা যখন নবিজি সা.-এর কাছে যেতাম, তখন যেখানে জায়গা পেতাম সেখানেই বসে পড়তাম।” আবু দাউদ: ৪৮২৫
যদি আপনাকে দুজন মানুষের কাছে বসতেই হয়, তা হলে কখনোই তাদের কথায় আড়ি পাতবেন না। হতে পারে তারা কোনো গোপন বা ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে আলোচনা করছে। আড়িপাতা একটি বাজে অভ্যাস এবং স্বীকৃত পাপ। সহিহ বুখারির একটি হাদিস থেকে জানা যায়, রাসূল সা. বলেছেন, “যে ব্যক্তি কারও অনুমতি না নিয়েই তাদের কথাবার্তা আড়ি পেতে শোনে, কিয়ামতের দিন তার কানে তরল সিসা ঢেলে দেওয়া হবে।" বুখারি: ৭০৪২
সব সময় বড়োদের কাছ থেকে কিছু শেখার চেষ্টা করুন। তাদের অভিজ্ঞতালব্ধ জ্ঞান থেকে কিছু জানার থাকে। তাদের সাহচর্যে ও সংস্পর্শে সমৃদ্ধ হোন। কারণ, তারা জীবনের পরিণত অবস্থায় পৌঁছে গেছেন। সূর্য যেমন সারা দিন আলো বিকিরণ করে রাতে অন্ধকার আকাশে মিলিয়ে যায়, এই মানুষগুলোও তাদের সারাটা জীবন দেওয়া ও নেওয়ার মধ্য দিয়ে অনেক কিছু শিখেছেন, ধারণ করেছেন, যা থেকে আমরা উপকৃত হতে পারি। সব সময় বয়স্ক, পরহেজগারি, আদর্শবান ও বিদ্বান মানুষদের আলোচনায় অংশ নেওয়ার চেষ্টা করুন। হয়তো খুব দ্রুত তারা দুনিয়া ছেড়ে চলে যাবেন, তখন তাদের থেকে এই জ্ঞানগুলো না নেওয়ায় আপনাকে আফসোস করতে হবে।
যদি আপনারা তিনজন একসাথে বসে থাকেন, তা হলে একজনের সামনে অপর দুজনের কানে কানে কথা বলা ইসলামি আদবের খেলাফ। এটা তৃতীয় ব্যক্তির জন্য বিব্রতকর এবং সন্দেহের কারণ হতে পারে। তাই রাসূল সা. এ ধরনের পরিবেশে কানে কানে কথা বলাকে অপছন্দ করতেন।
রাসূল সা. বলেছেন, “তৃতীয় একজনের উপস্থিতিতে দুজন মানুষের ফিস ফিস করে কথা বলা বা কানে কানে কথা বলা উচিত নয়।" আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা. তখন প্রশ্ন করলেন, 'যদি তারা চারজন হয়?' নবিজি সা. বললেন, 'তা হলে সমস্যা নেই'।" বুখারি: ৬২৮৮, মুসলিম: ২১৮৩
তিনি এমনটি বললেন কারণ, চারজন থাকলে দুজন একটু আস্তে কথা বললেও তা তেমন বিরক্তিকর পরিস্থিতির উদ্রেক করে না। কারণ, এখানে চতুর্থজনের উপস্থিতির কারণে তৃতীয় ব্যক্তি একাকীত্ব ও বিব্রত বোধ করবে না।
📄 আয়োজকদের দায়িত্ব এবং মেহমানদের অধিকার
আবু শুরাইহ আল-খ জায়গা পেলেন না। তাই তিনি স্বাভাবিকভাবেই ফিরে যাবেন। এ রকম দৃশ্য অবস্থায় আপনার উচিত, একটু সরে গিয়ে সেই মেহমানকে বসতে দেওয়া। এতে হয়তো আপনার বড়ো কোনো ক্ষতি হবে না। আপনার কল্যাণে সেই ব্যক্তি আয়োজনের অংশ হওয়ার সুযোগ পাবেন। কুরআনে হাকিমে এই প্রসঙ্গে আল্লাহ তায়ালা বলেন,
“হে মুমিনগণ! যখন তোমাদের বলা হয়, মজলিসে স্থান প্রশস্ত করে দাও, তোমরা স্থান প্রশস্ত করে দেবে। আল্লাহও তোমাদের জন্য প্রশস্ত করে দেবেন। যখন বলা হয় উঠে যাও, তখন উঠে যাবে। তোমাদের মধ্যে যারা ঈমানদার এবং যারা জ্ঞানপ্রাপ্ত, আল্লাহ তাদের মর্যাদা উচ্চ করে দেবেন। তোমরা যা কিছু করো আল্লাহ খবর রাখেন।” সূরা মুজাদালাহ: ১১
আরেকটি বিষয়, যদি আপনি কোনো অনুষ্ঠানে এমনকি মসজিদেও অনেকের পরে গিয়ে উপস্থিত হন, তা হলে সামনে যাওয়ার জন্য তাড়াহুড়ো বা কোনো ধরনের বাড়াবাড়ি করবেন না। অনেকেই পরে এসে ডিঙিয়ে সামনে যাওয়ার চেষ্টা করে, যা দেখতেও অশোভন। জাবির ইবনে সামুরাহ রা. থেকে বর্ণিত, “আমরা যখন নবিজি সা.-এর কাছে যেতাম, তখন যেখানে জায়গা পেতাম সেখানেই বসে পড়তাম।” আবু দাউদ: ৪৮২৫
যদি আপনাকে দুজন মানুষের কাছে বসতেই হয়, তা হলে কখনোই তাদের কথায় আড়ি পাতবেন না। হতে পারে তারা কোনো গোপন বা ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে আলোচনা করছে। আড়িপাতা একটি বাজে অভ্যাস এবং স্বীকৃত পাপ। সহিহ বুখারির একটি হাদিস থেকে জানা যায়, রাসূল সা. বলেছেন, “যে ব্যক্তি কারও অনুমতি না নিয়েই তাদের কথাবার্তা আড়ি পেতে শোনে, কিয়ামতের দিন তার কানে তরল সিসা ঢেলে দেওয়া হবে।" বুখারি: ৭০৪২
সব সময় বড়োদের কাছ থেকে কিছু শেখার চেষ্টা করুন। তাদের অভিজ্ঞতালব্ধ জ্ঞান থেকে কিছু জানার থাকে। তাদের সাহচর্যে ও সংস্পর্শে সমৃদ্ধ হোন। কারণ, তারা জীবনের পরিণত অবস্থায় পৌঁছে গেছেন। সূর্য যেমন সারা দিন আলো বিকিরণ করে রাতে অন্ধকার আকাশে মিলিয়ে যায়, এই মানুষগুলোও তাদের সারাটা জীবন দেওয়া ও নেওয়ার মধ্য দিয়ে অনেক কিছু শিখেছেন, ধারণ করেছেন, যা থেকে আমরা উপকৃত হতে পারি। সব সময় বয়স্ক, পরহেজগার, আদর্শবান ও বিদ্বান মানুষদের আলোচনায় অংশ নেওয়ার চেষ্টা করুন। হয়তো খুব দ্রুত তারা দুনিয়া ছেড়ে চলে যাবেন, তখন তাদের থেকে এই জ্ঞানগুলো না নেওয়ায় আপনাকে আফসোস করতে হবে।
যদি আপনারা তিনজন একসাথে বসে থাকেন, তা হলে একজনের সামনে অপর দুজনের কানে কানে কথা বলা ইসলামি আদবের খেলাফ। এটা তৃতীয় ব্যক্তির জন্য বিব্রতকর এবং সন্দেহের কারণ হতে পারে। তাই রাসূল সা. এ ধরনের পরিবেশে কানে কানে কথা বলাকে অপছন্দ করতেন।
রাসূল সা. বলেছেন, “তৃতীয় একজনের উপস্থিতিতে দুজন মানুষের ফিস ফিস করে কথা বলা বা কানে কানে কথা বলা উচিত নয়।" আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা. তখন প্রশ্ন করলেন, 'যদি তারা চারজন হয়?' নবিজি সা. বললেন, 'তা হলে সমস্যা নেই'।” বুখারি: ৬২৮৮, মুসলিম: ২১৮৩
তিনি এমনটি বললেন কারণ, চারজন থাকলে দুজন একটু আস্তে কথা বললেও তা তেমন বিরক্তিকর পরিস্থিতির উদ্রেক করে না। কারণ, এখানে চতুর্থজনের উপস্থিতির কারণে তৃতীয় ব্যক্তি একাকীত্ব ও বিব্রত বোধ করবে না।
আরেকটি বিষয় গুরুত্বের সাথে বিবেচনায় নিতে হবে। যদি কেউ আপনাকে বিশ্বাস করে কোনো কথা বলতে চায়, তা হলে সেই বিশ্বাসের আমানতটুকু সংরক্ষণ করাও আপনার দায়িত্ব। তার সাথে প্রতারণা করা কিংবা বিশ্বাস ভঙ্গ করা অনুচিত। তাই কোনো ব্যক্তি যদি আপনাকে গোপনে কোনো কথা বলে, তবে তা গোপন রাখা উচিত। এমনকি আপনার ঘনিষ্ঠ বন্ধু বা আত্মীয়কেও অন্যের গোপন কথা বলা ঠিক নয়।
কোনো অনুষ্ঠান বা আয়োজনে গিয়ে মাত্রাতিরিক্ত উচ্চৈঃস্বরে হাসবেন না। এটা ইসলামের শিষ্টাচারের সাথে সাংঘর্ষিক। আপনি যদি মুচকি হাসেন বা মৃদু হাসেন, তা ঠিক আছে; কেননা, এই ধরনের হাসি আপনাকে স্বস্তি দেবে, অন্যদেরও বিরক্তি করবে না। কিন্তু যদি অট্টহাসি দেন এবং বার বার দেন, তা হলে উপস্থিত অনেকেই আপনার প্রতি অসন্তুষ্ট হতে পারে। আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিতুযায়ি রা. থেকে বর্ণিত, নবি কারিম সা. বলেন, “যে ব্যক্তি আল্লাহ ও শেষ দিনের প্রতি ঈমান রাখে, সে যেন তার মেহমানকে সম্মান করে। আর মেহমানের অধিকার হলো এক দিন ও এক রাত। আপ্যায়নকারীর কষ্ট হতে পারে এরূপ দীর্ঘ সময় তার নিকট মেহমানের অবস্থান বৈধ নয়। আপ্যায়ন তিন দিন। তিন দিনের অতিরিক্ত সময়ের জন্য যা সে ব্যয় করবে তা তার জন্য দান হিসেবে গণ্য হবে।" বুখারি: ৬০১৯
যদি হঠাৎ করে গভীর রাতে আপনার বাড়িতে কোনো মেহমান চলে আসে, তবে অতিথিপরায়ণ হোন এবং উদার আচরণ করুন। তবে, তাকে খাবার খাওয়ানোর সময় মাত্রাতিরিক্ত বাড়াবাড়ি করবেন না। মনে রাখবেন, কোনো কিছু নিয়ে অতিরিক্ত বাড়াবাড়ি না করে বরং মধ্যমপন্থা অবলম্বন করাটাই সুন্নাত। অতিথির যাতে কোনো অসুবিধা না হয়, তা নিশ্চিত করা আপনার দায়িত্ব। তার ঘুম ও ঘুম থেকে উঠার বিষয়গুলো স্বস্তিদায়ক করা উচিত। মেহমানকে জানিয়ে দিন, কোন দিক কিবলা এবং তাকে গোসল ও টয়লেট সারার স্থানগুলোও চিনিয়ে দিন।
গোসল শেষ হওয়ার পর মেহমানের তোয়ালের প্রয়োজন হবে। আবার খাবার খাওয়ার আগে বা নামাজ পড়ার আগে অজু করার প্রয়োজনও পড়বে। তোয়ালে এবং হাত-মুখ ধোয়ার স্থানগুলো পরিচ্ছন্ন আছে কিনা তা খেয়াল করুন। বাড়ির লোকেরা যে তোয়ালে বা গামছা ব্যবহার করে, তা মেহমানকে দেবেন না। মেহমানকে আয়না এবং সুগন্ধিও দিতে পারেন। এতে হয়তো তিনি খুশি হবেন। নিশ্চিত করুন, তিনি বাথরুমে যা ব্যবহার করবেন তা পরিষ্কার ও পরিচ্ছন্ন। মেহমানকে বাথরুমে নেওয়ার আগে নিজে গিয়ে দেখে আসুন। যদি সেখানে বিব্রতকর কোনো কিছু দেখতে পান, তা হলে মেহমান যাওয়ার আগেই তা সরিয়ে ফেলুন।
মেহমানের হয়তো বিশ্রাম নেওয়ার প্রয়োজনও পড়বে। তাই বাচ্চাদের চিৎকার ও অন্যান্য আওয়াজ থেকে মুক্ত স্থানে তাকে বিশ্রাম নেওয়ার সুযোগ করে দেওয়ার চেষ্টা করুন। পরিবারের সদস্যদের একান্ত ব্যবহার্য জিনিসপত্রগুলো যেন তার চোখে না পড়ে সে দিক খে, রাসূল সা. বলেছেন, “তোমরা অতিরিক্ত হাসাহাসি করো না। অতিরিক্ত হাসি অন্তরকে মেরে ফেলে।”
আবু শুরাইহ আল-খুযায়ি রা. থেকে বর্ণিত, নবি কারিম সা. বলেন, “যে ব্যক্তি আল্লাহ ও শেষ দিনের প্রতি ঈমান রাখে, সে যেন তার মেহমানকে সম্মান করে। আর মেহমানের অধিকার হলো এক দিন ও এক রাত। আপ্যায়নকারীর কষ্ট হতে পারে এরূপ দীর্ঘ সময় তার নিকট মেহমানের অবস্থান বৈধ নয়। আপ্যায়ন তিন দিন। তিন দিনের অতিরিক্ত সময়ের জন্য যা সে ব্যয় করবে তা তার জন্য দান হিসেবে গণ্য হবে।" বুখারি: ৬০১৯
যদি হঠাৎ করে গভীর রাতে আপনার বাড়িতে কোনো মেহমান চলে আসে, তবে অতিথিপরায়ণ হোন এবং উদার আচরণ করুন। তবে, তাকে খাবার খাওয়ানোর সময় মাত্রাতিরিক্ত বাড়াবাড়ি করবেন না। মনে রাখবেন, কোনো কিছু নিয়ে অতিরিক্ত বাড়াবাড়ি না করে বরং মধ্যমপন্থা অবলম্বন করাটাই সুন্নাত। অতিথির যাতে কোনো অসুবিধা না হয়, তা নিশ্চিত করা আপনার দায়িত্ব। তার ঘুম ও ঘুম থেকে উঠার বিষয়গুলো স্বস্তিদায়ক করা উচিত। মেহমানকে জানিয়ে দিন, কোন দিক কিবলা এবং তাকে গোসল ও টয়লেট সারার স্থানগুলোও চিনিয়ে দিন।
গোসল শেষ হওয়ার পর মেহমানের তোয়ালের প্রয়োজন হবে। আবার খাবার খাওয়ার আগে বা নামাজ পড়ার আগে অজু করার প্রয়োজনও পড়বে। তোয়ালে এবং হাত-মুখ ধোয়ার স্থানগুলো পরিচ্ছন্ন আছে কিনা তা খেয়াল করুন। বাড়ির লোকেরা যে তোয়ালে বা গামছা ব্যবহার করে, তা মেহমানকে দেবেন না। মেহমানকে আয়না এবং সুগন্ধিও দিতে পারেন। এতে হয়তো তিনি খুশি হবেন। নিশ্চিত করুন, তিনিয়াল রাখুন। যদি আপনার অতিথি পুরুষ হয়, তা হলে সেই ঘর থেকে মহিলাদের ব্যবহার্য পোশাকাদি ও অন্যান্য সামগ্রী সরিয়ে ফেলুন; সম্ভব না হলে অন্তত চাদর দিয়ে ঢেকে দিন। এ ধরনের সতর্কতা ও অনুশীলন সকলের জন্যই কল্যাণকর এবং যেকোনো বিব্রতকর পরিস্থিতি থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য সহায়ক।
মেহমানদের সাথে কথা বলার সময় সম্মান প্রদর্শন করুন। তার সামনে ভালো পোশাক পরিধান করুন, তবে এক্ষেত্রেও বাড়াবাড়ি না করাই শ্রেয়। মেহমান আপনার খুব ঘনিষ্ঠ হতে পারে। তাই বলে এই ঘনিষ্ঠতার সুযোগ নিয়ে আদব বা সৌজন্যতা প্রদর্শনের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের শিথিলতা প্রদর্শন করতে পারেন না। ইমাম বুখারি রহ. তাঁর আদাবুল মুফরাদ-এ উল্লেখ করেছেন, “আমাদের সালফে সালেহিনগণ একে অপরের সঙ্গে সাক্ষাতের সময় নিজেদের সর্বোত্তমভাবে উপস্থাপন করার চেষ্টা করতেন। তাই মেহমানদের প্রতি দয়ালু ও সহানুভূতিশীল হোন। তাকে দিয়ে কখনোই ঘরের কোনো কাজ করাবেন না।” ইমাম শাফেয়ি রহ. বলেন, “কোনো ভালো মানুষ কখনোই তার মেহমানকে অন্যায্যভাবে খাটাতে বা কাজে লাগাতে পারে না।”
নিজের জন্য কিংবা মেহমানের জন্য শোয়ার আগে বিছানাটি ভালোভাবে ঝেড়ে নিন। পরনের লুঙ্গিটাও ভালোভাবে কেঁড়ে নেওয়া উত্তম। আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, রাসূল সা. বলেছেন, “যখন তোমাদের কেউ বিছানায় বিশ্রাম নেয়, সে যেন নিজের পরিধেয় বস্ত্রের (লুঙ্গির) ভেতরের দিক দিয়ে বিছানা কেঁড়ে নেয়। কারণ, সে জানে না তার চলে যাওয়ার পর বিছানায় কী এসেছে।” আবু দাউদ: ৫০৫০
অপরদিকে আপনি যদি কোনো আত্মীয় বা বন্ধুর বাড়িতে বেড়াতে যান, তা হলে সবার আগে তার বাড়ির অবস্থাকে বিবেচনায় নেবেন। সাক্ষাতের সময়কে যতটুকু সম্ভব সংক্ষেপ করবেন। কারণ, প্রত্যেক মানুষেরই নানা ধরনের ব্যস্ততা ও দায়িত্ব থাকে। আপনি মেহমান হলেও যার বাড়িতে গিয়েছেন, তাকে সুযোগমতো কাজে সহযোগিতা করার চেষ্টা করুন। ঘরের ভেতর অযথা দৃষ্টি দেবেন না, উঁকিঝুঁকিও বাথরুমে যা ব্যবহার করবেন তা পরিষ্কার ও পরিচ্ছন্ন। মেহমানকে বাথরুমে নেওয়ার আগে নিজে গিয়ে দেখে আসুন। যদি সেখানে বিব্রতকর কোনো কিছু দেখতে পান, তা হলে মেহমান যাওয়ার আগেই তা সরিয়ে ফেলুন।
মেহমানের হয়তো বিশ্রাম নেওয়ার প্রয়োজনও পড়বে। তাই বাচ্চাদের চিৎকার ও অন্যান্য আওয়াজ থেকে মুক্ত স্থানে তাকে বিশ্রাম নেওয়ার সুযোগ করে দেওয়ার চেষ্টা করুন। পরিবারের সদস্যদের একান্ত ব্যবহার্য জিনিসপত্রগুলো যেন তার চোখে না পড়ে সে দিক খেয়াল রাখুন। যদি আপনার অতিথি পুরুষ হয়, তা হলে সেই ঘর থেকে মহিলাদের ব্যবহার্য পোশাকাদি ও অন্যান্য সামগ্রী সরিয়ে ফেলুন; সম্ভব না হলে অন্তত চাদর দিয়ে ঢেকে দিন। এ ধরনের সতর্কতা ও অনুশীলন সকলের জন্যই কল্যাণকর এবং যেকোনো বিব্রতকর পরিস্থিতি থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য সহায়ক।
মেহমানদের সাথে কথা বলার সময় সম্মান প্রদর্শন করুন। তার সামনে ভালো পোশাক পরিধান করুন, তবে এক্ষেত্রেও বাড়াবাড়ি না করাই শ্রেয়। মেহমান আপনার খুব ঘনিষ্ঠ হতে পারে। তাই বলে এই ঘনিষ্ঠতার সুযোগ নিয়ে আদব বা সৌজন্যতা প্রদর্শনের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের শিথিলতা প্রদর্শন করতে পারেন না। ইমাম বুখারি রহ. তাঁর আদাবুল মুফরাদ-এ উল্লেখ করেছেন, “আমাদের সালফে সালেহিনগণ একে অপরের সঙ্গে সাক্ষাতের সময় নিজেদের সর্বোত্তমভাবে উপস্থাপন করার চেষ্টা করতেন। তাই মেহমানদের প্রতি দয়ালু ও সহানুভূতিশীল হোন। তাকে দিয়ে কখনোই ঘরের কোনো কাজ করাবেন না।” ইমাম শাফেয়ি রহ. বলেন, “কোনো ভালো মানুষ কখনোই তার মেহমানকে অন্যায্যভাবে খাটাতে বা কাজে লাগাতে পারে না।”
নিজের জন্য কিংবা মেহমানের জন্য শোয়ার আগে বিছানাটি ভালোভাবে ঝেড়ে নিন। পরনের লুঙ্গিটাও ভালোভাবে কেঁড়ে নেওয়া উত্তম। আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, রাসূল সা. বলেছেন, “যখন তোমাদের কেউ বিছানায় বিশ্রাম নেয়, সে যেন নিজের পরিধেয় বস্ত্রের (লুঙ্গির) ভেতরের দিক দিয়ে বিছানা কেঁড়ে নেয়। কারণ, সে জানে না তার চলে যাওয়ার পর বিছানায় কী এসেছে।” আবু দাউদ: ৫০৫০
অপরদিকে আপনি যদি কোনো আত্মীয় বা বন্ধুর বাড়িতে বেড়াতে যান, তা হলে সবার আগে তার বাড়ির অবস্থাকে বিবেচনায় নেবেন। সাক্ষাতের সময়কে যতটুকু সম্ভব সংক্ষেপ করবেন। কারণ, প্রত্যেক মানুষেরই নানা ধরনের ব্যস্ততা ও দায়িত্ব থাকে। আপনি মেহমান হলেও যার বাড়িতে গিয়েছেন, তাকে সুযোগমতো কাজে সহযোগিতা করার চেষ্টা করুন। ঘরের ভেতর অযথা দৃষ্টি দেবেন না, উঁকিঝুঁকিও মারবেন না। আপনাকে অতিথি রুমে থাকতে দেওয়া হলে সেখানেই থাকুন। অন্য কোথাও যাবেন না। যদি ঘরের ভেতর কোনো কারণে আপনাকে প্রবেশ করার সুযোগ দেওয়া হয়, তবে সেক্ষেত্রেও এদিক- সেদিক তাকাবেন না। যার বাড়িতে আছেন, তাকেও অতিরিক্ত প্রশ্ন করে বিরক্ত করবেন না।
তবে এতসব শিষ্টাচারের মধ্যে এটাও খেয়াল রাখুন, আবেগের বশবর্তী হয়ে এমন কিছু করে বসবেন না, যা আপনার জন্য বোঝা বা কষ্টসাধ্য হয়। মেহমানদারি করার ক্ষেত্রে, রান্না করার ক্ষেত্রে বাড়ির মহিলাদের ওপর এমনিতেই অনেক চাপ পড়ে। চাপ কিছুটা হওয়াই স্বাভাবিক। এ কারণেই হাদিসে মেহমান থাকার মেয়াদও সর্বোচ্চ তিন দিন নির্ধারণ করা হয়েছে।
কিন্তু এরপরও কিছু কিছু গৃহকর্তাকে দেখা যায়, যারা মারবেন না। আপনাকে অতিথি রুমে থাকতে দেওয়া হলে সেখানেই থাকুন। অন্য কোথাও যাবেন না। যদি ঘরের ভেতর কোনো কারণে আপনাকে প্রবেশ করার সুযোগ দেওয়া হয়, তবে সেক্ষেত্রেও এদিক- সেদিক তাকাবেন না। যার বাড়িতে আছেন, তাকেও অতিরিক্ত প্রশ্ন করে বিরক্ত করবেন না।
তবে এতসব শিষ্টাচারের মধ্যে এটাও খেয়াল রাখুন, আবেগের বশবর্তী হয়ে এমন কিছু করে বসবেন না, যা আপনার জন্য বোঝা বা কষ্টসাধ্য হয়। মেহমানদারি করার ক্ষেত্রে, রান্না করার ক্ষেত্রে বাড়ির মহিলাদের ওপর এমনিতেই অনেক চাপ পড়ে। চাপ কিছুটা হওয়াই স্বাভাবিক। এ কারণেই হাদিসে মেহমান থাকার মেয়াদও সর্বোচ্চ তিন দিন নির্ধারণ করা হয়েছে।
কিন্তু এরপরও কিছু কিছু গৃহকর্তাকে দেখা যায়, যারা বাড়ির মহিলাদের এই পরিশ্রম ও কষ্টকে আমলেই নিতে চায় না। শিষ্টাচার হলো, মেহমানের সাথে ততটুকু ভালো ব্যবহার করা, যা করলে নিজের বা পরিবারের ওপর মাত্রাতিরিক্ত কষ্ট না হয়। কোনো কিছুর ক্ষেত্রেই অতিরঞ্জন, বাড়াবাড়ি বা সীমালঙ্ঘন কাম্য নয়।
মেহমানদারি ও আপ্যায়ন শেষ হওয়ার পর মেহমানের উচিত আয়োজক, বাড়ির কর্তা এবং যারা কষ্ট করে রান্না করেছেন, সকলের জন্য দুআ করা। আনাস বিন মালিক রা. থেকে বর্ণিত, “একদিন নবি সা. সাদ ইবনে উবাদাহর বাড়িতে গেলেন। সাদ তাঁর জন্য রুটি ও যাইতুন তেল আনলেন। খাওয়ার পর নবি সা. বললেন, তোমাদের নিকট রোজাদারগণ ইফতার করেছে, সৎলোকেরা তোমাদের খাদ্য খেয়েছে এবং ফেরেশতাগণ তোমার জন্য রহমতের দুআ করেছে।" আবু দাউদ: ৩৮৫৪
এই হাদিসটির আলোকে কিছু কিছু ফকিহ মত দিয়েছেন, শুধু ইফতার করার ক্ষেত্রেই এমন দুআ করা যায়। তবে অধিকাংশ আলিম মনে করেন, সব ধরনের খাবার ও দাওয়াতের বেলায় এভাবে দুআ করার সুযোগ রয়েছে।
আবু শুরাইহ আল-খুযায়ি রা. থেকে বর্ণিত, নবি কারিম সা. বলেন, “যে ব্যক্তি আল্লাহ ও শেষ দিনের প্রতি ঈমান রাখে, সে যেন তার মেহমানকে সম্মান করে। আর মেহমানের অধিকার হলো এক দিন ও এক রাত। আপ্যায়নকারীর কষ্ট হতে পারে এরূপ দীর্ঘ সময় তার নিকট মেহমানের অবস্থান বৈধ নয়। আপ্যায়ন তিন দিন। তিন দিনের অতিরিক্ত সময়ের জন্য যা সে ব্যয় করবে তা তার জন্য দান হিসেবে গণ্য হবে।" বুখারি: ৬০১৯
যদি হঠাৎ করে গভীর রাতে আপনার বাড়িতে কোনো মেহমান চলে আসে, তবে অতিথিপরায়ণ হোন এবং উদার আচরণ করুন। তবে, তাকে খাবার খাওয়ানোর সময় মাত্রাতিরিক্ত বাড়াবাড়ি করবেন না। মনে রাখবেন, কোনো কিছু নিয়ে অতিরিক্ত বাড়াবাড়ি না করে বরং মধ্যমপন্থা অবলম্বন করাটাই সুন্নাত। অতিথির যাতে কোনো অসুবিধা না হয়, তা নিশ্চিত করা আপনার দায়িত্ব। তার ঘুম ও ঘুম থেকে উঠার বিষয়গুলো স্বস্তিদায়ক করা উচিত। মেহমানকে জানিয়ে দিন, কোন দিক কিবলা এবং তাকে গোসল ও টয়লেট সারার স্থানগুলোও চিনিয়ে দিন।
গোসল শেষ হওয়ার পর মেহমানের তোয়ালের প্রয়োজন হবে। আবার খাবার খাওয়ার আগে বা নামাজ পড়ার আগে অজু করার প্রয়োজনও পড়বে। তোয়ালে এবং হাত-মুখ ধোয়ার স্থানগুলো পরিচ্ছন্ন আছে কিনা তা খেয়াল করুন। বাড়ির লোকেরা যে তোয়ালে বা গামছা ব্যবহার করে, তা মেহমানকে দেবেন না। মেহমানকে আয়না এবং সুগন্ধিও দিতে পারেন। এতে হয়তো তিনি খুশি হবেন। নিশ্চিত করুন, তিনি বাথরুমে যা ব্যবহার করবেন তা পরিষ্কার ও পরিচ্ছন্ন। মেহমানকে বাথরুমে নেওয়ার আগে নিজে গিয়ে দেখে আসুন। যদি সেখানে বিব্রতকর কোনো কিছু দেখতে পান, তা হলে মেহমান যাওয়ার আগেই তা সরিয়ে ফেলুন।
মেহমানের হয়তো বিশ্রাম নেওয়ার প্রয়োজনও পড়বে। তাই বাচ্চাদের চিৎকার ও অন্যান্য আওয়াজ থেকে মুক্ত স্থানে তাকে বিশ্রাম নেওয়ার সুযোগ করে দেওয়ার চেষ্টা করুন। পরিবারের সদস্যদের একান্ত ব্যবহার্য জিনিসপত্রগুলো যেন তার চোখে না পড়ে সে দিক খেয়াল রাখুন। যদি আপনার অতিথি পুরুষ হয়, তা হলে সেই ঘর থেকে মহিলাদের ব্যবহার্য পোশাকাদি ও অন্যান্য সামগ্রী সরিয়ে ফেলুন; সম্ভব না হলে অন্তত চাদর দিয়ে ঢেকে দিন। এ ধরনের সতর্কতা ও অনুশীলন সকলের জন্যই কল্যাণকর এবং যেকোনো বিব্রতকর পরিস্থিতি থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য সহায়ক।
মেহমানদের সাথে কথা বলার সময় সম্মান প্রদর্শন করুন। তার সামনে ভালো পোশাক পরিধান করুন, তবে এক্ষেত্রেও বাড়াবাড়ি না করাই শ্রেয়। মেহমান আপনার খুব ঘনিষ্ঠ হতে পারে। তাই বলে এই ঘনিষ্ঠতার সুযোগ নিয়ে আদব বা সৌজন্যতা প্রদর্শনের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের শিথিলতা প্রদর্শন করতে পারেন না। ইমাম বুখারি রহ. তাঁর আদাবুল মুফরাদ-এ উল্লেখ করেছেন, “আমাদের সালফে সালেহিনগণ একে অপরের সঙ্গে সাক্ষাতের সময় নিজেদের সর্বোত্তমভাবে উপস্থাপন করার চেষ্টা করতেন। তাই মেহমানদের প্রতি দয়ালু ও সহানুভূতিশীল হোন। তাকে দিয়ে কখনোই ঘরের কোনো কাজ করাবেন না।” ইমাম শাফেয়ি রহ. বলেন, “কোনো ভালো মানুষ কখনোই তার মেহমানকে অন্যায্যভাবে খাটাতে বা কাজে লাগাতে পারে না।”
নিজের জন্য কিংবা মেহমানের জন্য শোয়ার আগে বিছানাটি ভালোভাবে ঝেড়ে নিন। পরনের লুঙ্গিটাও ভালোভাবে কেঁড়ে নেওয়া উত্তম। আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, রাসূল সা. বলেছেন, “যখন তোমাদের কেউ বিছানায় বিশ্রাম নেয়, সে যেন নিজের পরিধেয় বস্ত্রের (লুঙ্গির) ভেতরের দিক দিয়ে বিছানা কেঁড়ে নেয়। কারণ, সে জানে না তার চলে যাওয়ার পর বিছানায় কী এসেছে।” আবু দাউদ: ৫০৫০
অপরদিকে আপনি যদি কোনো আত্মীয় বা বন্ধুর বাড়িতে বেড়াতে যান, তা হলে সবার আগে তার বাড়ির অবস্থাকে বিবেচনায় নেবেন। সাক্ষাতের সময়কে যতটুকু সম্ভব সংক্ষেপ করবেন। কারণ, প্রত্যেক মানুষেরই নানা ধরনের ব্যস্ততা ও দায়িত্ব থাকে। আপনি মেহমান হলেও যার বাড়িতে গিয়েছেন, তাকে সুযোগমতো কাজে সহযোগিতা করার চেষ্টা করুন। ঘরের ভেতর অযথা দৃষ্টি দেবেন না, উঁকিঝুঁকিও মারবেন না। আপনাকে অতিথি রুমে থাকতে দেওয়া হলে সেখানেই থাকুন। অন্য কোথাও যাবেন না। যদি ঘরের ভেতর কোনো কারণে আপনাকে প্রবেশ করার সুযোগ দেওয়া হয়, তবে সেক্ষেত্রেও এদিক- সেদিক তাকাবেন না। যার বাড়িতে আছেন, তাকেও অতিরিক্ত প্রশ্ন করে বিরক্ত করবেন না।
তবে এতসব শিষ্টাচারের মধ্যে এটাও খেয়াল রাখুন, আবেগের বশবর্তী হয়ে এমন কিছু করে বসবেন না, যা আপনার জন্য বোঝা বা কষ্টসাধ্য হয়। মেহমানদারি করার ক্ষেত্রে, রান্না করার ক্ষেত্রে বাড়ির মহিলাদের ওপর এমনিতেই অনেক চাপ পড়ে। চাপ কিছুটা হওয়াই স্বাভাবিক। এ কারণেই হাদিসে মেহমান থাকার মেয়াদও সর্বোচ্চ তিন দিন নির্ধারণ করা হয়েছে।
কিন্তু এরপরও কিছু কিছু গৃহকর্তাকে দেখা যায়, যারা বাড়ির মহিলাদের এই পরিশ্রম ও কষ্টকে আমলেই নিতে চায় না। শিষ্টাচার হলো, মেহমানের সাথে ততটুকু ভালো ব্যবহার করা, যা করলে নিজের বা পরিবারের ওপর মাত্রাতিরিক্ত কষ্ট না হয়। কোনো কিছুর ক্ষেত্রেই অতিরঞ্জন, বাড়াবাড়ি বা সীমালঙ্ঘন কাম্য নয়।
মেহমানদারি ও আপ্যায়ন শেষ হওয়ার পর মেহমানের উচিত আয়োজক, বাড়ির কর্তা এবং যারা কষ্ট করে রান্না করেছেন, সকলের জন্য দুআ করা। আনাস বিন মালিক রা. থেকে বর্ণিত, “একদিন নবি সা. সাদ ইবনে উবাদাহর বাড়িতে গেলেন। সাদ তাঁর জন্য রুটি ও যাইতুন তেল আনলেন। খাওয়ার পর নবি সা. বললেন, তোমাদের নিকট রোজাদারগণ ইফতার করেছে, সৎলোকেরা তোমাদের খাদ্য খেয়েছে এবং ফেরেশতাগণ তোমার জন্য রহমতের দুআ করেছে।" আবু দাউদ: ৩৮৫৪
এই হাদিসটির আলোকে কিছু কিছু ফকিহ মত দিয়েছেন, শুধু ইফতার করার ক্ষেত্রেই এমন দুআ করা যায়। তবে অধিকাংশ আলিম মনে করেন, সব ধরনের খাবার ও দাওয়াতের বেলায় এভাবে দুআ করার সুযোগ রয়েছে।
📄 মেহমানদের সাথে সদ্ব্যবহার করা
কুরআনে হাকিমে আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালার বাণী, "আপনার কাছে ইবরাহিমের সম্মানিত মেহমানদের খবর এসেছে কি? যখন তারা তাঁর কাছে উপস্থিত হয়ে বলল, সালাম। তিনিও বললেন, সালাম! আপনারাতো অপরিচিত লোক। অতঃপর তিনি ঘরে ফিরে গেলেন এবং একটি স্বাস্থ্যবান বাছুর ভুনা করে নিয়ে এলেন। সেই বাছুরটি তাদের সামনে রেখে বললেন, আপনারা আহার করছেন না কেন?" সূরা যারিয়াত: ২৪-২৭
রাসূল সা. বলেছেন, "তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি আল্লাহ তায়ালা ও শেষ বিচারের দিনের ওপর ঈমান এনেছে, সে যেন কখনও প্রতিবেশীর ক্ষতি না করে। তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি আল্লাহ তায়ালা ও শেষ বিচারের দিনের ওপর ঈমান এনেছে, সে যেন তার মেহমানকে সম্মান করে। তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি আল্লাহ তায়ালা ও শেষ বিচারের দিনের ওপর ঈমান এনেছে, সে যেন ভালো কথা বলে অথবা চুপ থাকে।" বুখারি: ৬০১৮, মুসলিম: ৪৭
যদি সঠিকভাবে মেহমানদারি করা না হয়, তবে মেহমান স্বউদ্যোগেই নিজের ন্যায্য অধিকারটুকু আদায় করে নিতে পারবে। ইসলাম তাকে সেই সুযোগ দিয়েছে। বাড়ির মহিলাদের এই পরিশ্রম ও কষ্টকে আমলেই নিতে চায় না। শিষ্টাচার হলো, মেহমানের সাথে ততটুকু ভালো ব্যবহার করা, যা করলে নিজের বা পরিবারের ওপর মাত্রাতিরিক্ত কষ্ট না হয়। কোনো কিছুর ক্ষেত্রেই অতিরঞ্জন, বাড়াবাড়ি বা সীমালঙ্ঘন কাম্য নয়।
মেহমানদারি ও আপ্যায়ন শেষ হওয়ার পর মেহমানের উচিত আয়োজক, বাড়ির কর্তা এবং যারা কষ্ট করে রান্না করেছেন, সকলের জন্য দুআ করা। আনাস বিন মালিক রা. থেকে বর্ণিত, “একদিন নবি সা. সাদ ইবনে উবাদাহর বাড়িতে গেলেন। সাদ তাঁর জন্য রুটি ও যাইতুন তেল আনলেন। খাওয়ার পর নবি সা. বললেন, তোমাদের নিকট রোজাদারগণ ইফতার করেছে, সৎলোকেরা তোমাদের খাদ্য খেয়েছে এবং ফেরেশতাগণ তোমার জন্য রহমতের দুআ করেছে।" আবু দাউদ: ৩৮৫৪
এই হাদিসটির আলোকে কিছু কিছু ফকিহ মত দিয়েছেন, শুধু ইফতার করার ক্ষেত্রেই এমন দুআ করা যায়। তবে অধিকাংশ আলিম মনে করেন, সব ধরনের খাবার ও দাওয়াতের বেলায় এভাবে দুআ করার সুযোগ রয়েছে।
কুরআনে হাকিমে আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালার বাণী, "আপনার কাছে ইবরাহিমের সম্মানিত মেহমানদের খবর এসেছে কি? যখন তারা তাঁর কাছে উপস্থিত হয়ে বলল, সালাম। তিনিও বললেন, সালাম! আপনারাতো অপরিচিত লোক। অতঃপর তিনি ঘরে ফিরে গেলেন এবং একটি স্বাস্থ্যবান বাছুর ভুনা করে নিয়ে উকবাহ ইবনু আমির রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, "একবার আমরা বললাম, 'হে আল্লাহ্র রাসূল! কখনও কখনও আপনি আমাদের এমন কবিরার কাছে পাঠান, যারা মেহমানদারি করে না। এ ব্যাপারে আপনার হুকুম কী?' তিনি বললেন, 'যদি তোমরা কোনো সম্প্রদায়ের নিকট হাজির হও, আর তারা মেহমানদারি করে, তবে তোমরা তা গ্রহণ করবে। আর যদি না করে, তবে তাদের সামর্থ্য অনুযায়ী মেহমানদারির হক আদায় করে নেবে'।”
এমন অনেক মেহমান আছে যাদের সামনে খাবার পরিবেশন করা মাত্রই খেয়ে নেয়। আবার অনেক সময় এমনও হয়, কিছু মেহমান থাকে যারা মেজবানকে ছাড়া খেতে চায় না। যদি মেহমানরা ইচ্ছা প্রকাশ করে, তাদের সাথে বাড়ির মালিককে খেতে হবে, তবে অন্য কোনো সীমাবদ্ধতা না থাকলে খাওয়া সৌজন্যতা। মেহমানদের সাথে দুর্ব্যবহার করা যাবে না, এমনকি তাদের সামনে মেজবানের বাড়ির লোকদেরও বকা দেওয়া যাবে না। কেননা, এতে মেহমান বিব্রত হতে পারেন।
মেহমান চলে যাওয়ার সময় শিষ্টাচারের দাবি হলো, তাকে দরজা পর্যন্ত এগিয়ে দেওয়া। যদিও এ ব্যাপারে রাসূল সা.-এর সরাসরি কোনো হাদিস পাওয়া যায় না। তবে আমাদের পূর্বসূরি সকল মনীষীই এই চর্চা করে গেছেন। যেমন একটি ঘটনার কথা এখানে উল্লেখ করা এলেন। সেই বাছুরটি তাদের সামনে রেখে বললেন, আপনারা আহার করছেন না কেন?" সূরা যারিয়াত: ২৪-২৭
রাসূল সা. বলেছেন, "তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি আল্লাহ তায়ালা ও শেষ বিচারের দিনের ওপর ঈমান এনেছে, সে যেন কখনও প্রতিবেশীর ক্ষতি না করে। তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি আল্লাহ তায়ালা ও শেষ বিচারের দিনের ওপর ঈমান এনেছে, সে যেন তার মেহমানকে সম্মান করে। তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি আল্লাহ তায়ালা ও শেষ বিচারের দিনের ওপর ঈমান এনেছে, সে যেন ভালো কথা বলে অথবা চুপ থাকে।" বুখারি: ৬০১৮, মুসলিম: ৪৭
যদি সঠিকভাবে মেহমানদারি করা না হয়, তবে মেহমান স্বউদ্যোগেই নিজের ন্যায্য অধিকারটুকু আদায় করে নিতে পারবে। ইসলাম তাকে সেই সুযোগ দিয়েছে। উকবাহ ইবনু আমির রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, "একবার আমরা বললাম, 'হে আল্লাহ্র রাসূল! কখনও কখনও আপনি আমাদের এমন কবিরার কাছে পাঠান, যারা মেহমানদারি করে না। এ ব্যাপারে আপনার হুকুম কী?' তিনি বললেন, 'যদি তোমরা কোনো সম্প্রদায়ের নিকট হাজির হও, আর তারা মেহমানদারি করে, তবে তোমরা তা গ্রহণ করবে। আর যদি না করে, তবে তাদের সামর্থ্য অনুযায়ী মেহমানদারির হক আদায় করে নেবে'।”
এমন অনেক মেহমান আছে যাদের সামনে খাবার পরিবেশন করা মাত্রই খেয়ে নেয়। আবার অনেক সময় এমনও হয়, কিছু মেহমান থাকে যারা মেজবানকে ছাড়া খেতে চায় না। যদি মেহমানরা ইচ্ছা প্রকাশ করে, তাদের সাথে বাড়ির মালিককে খেতে হবে, তবে অন্য কোনো সীমাবদ্ধতা না থাকলে খাওয়া সৌজন্যতা। মেহমানদের সাথে দুর্ব্য যায়। আবু উবাইদ আল কাসিম ইবনে সালাম একবার আহমাদ বিন হাম্বল রহ.-এর সাথে সাক্ষাৎ করতে গেলেন। আবু উবাইদ জানান, "যখন আমি বিদায় নেওয়ার জন্য উঠে দাঁড়ালাম, ইমাম আহমাদও আমার সাথে উঠে দাঁড়ালেন। আমি তাকে দাঁড়াতে না করলাম। জবাবে তিনি বললেন, 'মেহমানদারি পরিপূর্ণভাবে তখনই করা হয়, যখন একজন ব্যক্তি তার বাড়িতে আগত অতিথিকে বিদায় বেলায় দরজা পর্যন্ত এগিয়ে দেয় এবং যে যানবাহনে করে যাবে, তাতে উঠা পর্যন্ত সঙ্গ দেয়'।”
কুরআনে হাকিমে আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালার বাণী, "আপনার কাছে ইবরাহিমের সম্মানিত মেহমানদের খবর এসেছে কি? যখন তারা তাঁর কাছে উপস্থিত হয়ে বলল, সালাম। তিনিও বললেন, সালাম! আপনারাতো অপরিচিত লোক। অতঃপর তিনি ঘরে ফিরে গেলেন এবং একটি স্বাস্থ্যবান বাছুর ভুনা করে নিয়ে এলেন। সেই বাছুরটি তাদের সামনে রেখে বললেন, আপনারা আহার করছেন না কেন?" সূরা যারিয়াত: ২৪-২৭
রাসূল সা. বলেছেন, "তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি আল্লাহ তায়ালা ও শেষ বিচারের দিনের ওপর ঈমান এনেছে, সে যেন কখনও প্রতিবেশীর ক্ষতি না করে। তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি আল্লাহ তায়ালা ও শেষ বিচারের দিনের ওপর ঈমান এনেছে, সে যেন তার মেহমানকে সম্মান করে। তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি আল্লাহ তায়ালা ও শেষ বিচারের দিনের ওপর ঈমান এনেছে, সে যেন ভালো কথা বলে অথবা চুপ থাকে।" বুখারি: ৬০১৮, মুসলিম: ৪৭
যদি সঠিকভাবে মেহমানদারি করা না হয়, তবে মেহমান স্বউদ্যোগেই নিজের ন্যায্য অধিকারটুকু আদায় করে নিতে পারবে। ইসলাম তাকে সেই সুযোগ দিয়েছে। উকবাহ ইবনু আমির রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, "একবার আমরা বললাম, 'হে আল্লাহ্র রাসূল! কখনও কখনও আপনি আমাদের এমন কবিরার কাছে পাঠান, যারা মেহমানদারি করে না। এ ব্যাপারে আপনার হুকুম কী?' তিনি বললেন, 'যদি তোমরা কোনো সম্প্রদায়ের নিকট হাজির হও, আর তারা মেহমানদারি করে, তবে তোমরা তা গ্রহণ করবে। আর যদি না করে, তবে তাদের সামর্থ্য অনুযায়ী মেহমানদারির হক আদায় করে নেবে'।”
এমন অনেক মেহমান আছে যাদের সামনে খাবার পরিবেশন করা মাত্রই খেয়ে নেয়। আবার অনেক সময় এমনও হয়, কিছু মেহমান থাকে যারা মেজবানকে ছাড়া খেতে চায় না। যদি মেহমানরা ইচ্ছা প্রকাশ করে, তাদের সাথে বাড়ির মালিককে খেতে হবে, তবে অন্য কোনো সীমাবদ্ধতা না থাকলে খাওয়া সৌজন্যতা। মেহমানদের সাথে দুর্ব্যবহার করা যাবে না, এমনকি তাদের সামনে মেজবানের বাড়ির লোকদেরও বকা দেওয়া যাবে না। কেননা, এতে মেহমান বিব্রত হতে পারেন।
মেহমান চলে যাওয়ার সময় শিষ্টাচারের দাবি হলো, তাকে দরজা পর্যন্ত এগিয়ে দেওয়া। যদিও এ ব্যাপারে রাসূল সা.-এর সরাসরি কোনো হাদিস পাওয়া যায় না। তবে আমাদের পূর্বসূরি সকল মনীষীই এই চর্চা করে গেছেন। যেমন একটি ঘটনার কথা এখানে উল্লেখ করা যায়। আবু উবাইদ আল কাসিম ইবনে সালাম একবার আহমাদ বিন হাম্বল রহ.-এর সাথে সাক্ষাৎ করতে গেলেন। আবু উবাইদ জানান, "যখন আমি বিদায় নেওয়ার জন্য উঠে দাঁড়ালাম, ইমাম আহমাদও আমার সাথে উঠে দাঁড়ালেন। আমি তাকে দাঁড়াতে না করলাম। জবাবে তিনি বললেন, 'মেহমানদারি পরিপূর্ণভাবে তখনই করা হয়, যখন একজন ব্যক্তি তার বাড়িতে আগত অতিথিকে বিদায় বেলায় দরজা পর্যন্ত এগিয়ে দেয় এবং যে যানবাহনে করে যাবে, তাতে উঠা পর্যন্ত সঙ্গ দেয়'।”