📄 মেহমান কখনোই প্রদর্শক নয়
যখন কোনো বাড়িতে প্রবেশ করবেন, সেখানে সাময়িক সময়ের জন্য মেহমান হোন অথবা রাতে থাকার নিয়তেই উপস্থিত হোন না কেন, খুব বেশি এদিক-ওদিক তাকাবেন না। একজন ইন্সপেক্টর বা পরিদর্শক যেভাবে সবকিছু দেখার চেষ্টা করে, তেমনটা করবেন না। বরং যতটুকু দেখা প্রয়োজন, ততটুকুর মাঝে নিজের দৃষ্টি সীমাবদ্ধ রাখুন। বন্ধ কিছুকে খোলার চেষ্টা করবেন না। কোনো বাক্স, মানিব্যাগ, প্যাকেট বা মোড়কে ঢাকা কোনো কিছু নিয়ে ঘাঁটাঘাঁটি করবেন না। এসব আচরণ ইসলামি শিষ্টাচারের সম্পূর্ণ বিপরীত। তা ছাড়া আয়োজকরা যে বিশ্বাস ও আস্থা থেকে আপনাকে নিমন্ত্রণ করেছেন, তার সাথেও বিষয়টা সাংঘর্ষিক। যেকোনো জায়গায় গেলে এই আদব রক্ষা করুন। যার বাড়িতে মেহমান হয়েছেন, তার সম্মান ও ভালোবাসা পাওয়ার চেষ্টা করুন।
ইমাম মুহাসিবি রহ. তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থ রিসালাতুল মুসতারসিদিন-এ বলেছেন, “দেখা মানে শুধু দেখে যাওয়াই নয়, বরং যা লুকানো বা আড়ালে রাখা আছে তার দিকে না তাকানোটাও দৃষ্টির আদবের আওতায় পড়ে।” অন্যদিকে দাউদ তায়ি রহ. বলেন, “আমাকে আমার শিক্ষক বলেছেন, ছোটো ছোটো কাজ বা গুনাহর জন্য যেমন আমাদের জবাবদিহি করতে হবে, ঠিক তেমনি ছোটো ছোটো বিষয়ে অযাচিত দৃষ্টি দেওয়ার জন্যেও আমাদের জবাবদিহি করা হবে।”
প্রাথমিক যুগে ইসলামি সমাজের পরিবেশ এমন ছিল, কেউ ভুলক্রমে নিজের বাড়ির দরজা বন্ধ করতে ভুলে গেলেও উদ্বিগ্ন হতে হতো না। কারণ, সে জানত যে, অন্য কোনো ব্যক্তি তার বাড়িতে প্রবেশ করবে না; এমনকি কুদৃষ্টিও দেবে না।
যখন কোনো বাড়িতে প্রবেশ করবেন, সেখানে সাময়িক সময়ের জন্য মেহমান হোন অথবা রাতে থাকার নিয়তেই উপস্থিত হোন না কেন, খুব বেশি এদিক-ওদিক তাকাবেন না। একজন ইন্সপেক্টর বা পরিদর্শক যেভাবে সবকিছু দেখার চেষ্টা করে, তেমনটা করবেন না। বরং যতটুকু দেখা প্রয়োজন, ততটুকুর মাঝে নিজের দৃষ্টি সীমাবদ্ধ রাখুন। বন্ধ কিছুকে খোলার চেষ্টা করবেন না। কোনো বাক্স, মানিব্যাগ, প্যাকেট বা মোড়কে ঢাকা কোনো কিছু নিয়ে ঘাঁটাঘাঁটি করবেন না। এসব আচরণ ইসলামি শিষ্টাচারের সম্পূর্ণ বিপরীত। তা ছাড়া আয়োজকরা যে বিশ্বাস ও আস্থা থেকে আপনাকে নিমন্ত্রণ করেছেন, তার সাথেও বিষয়টা সাংঘর্ষিক। যেকোনো জায়গায় গেলে এই আদব রক্ষা করুন। যার বাড়িতে মেহমান হয়েছেন, তার সম্মান ও ভালোবাসা পাওয়ার চেষ্টা করুন।
ইমাম মুহাসিবি রহ. তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থ রিসালাতুল মুসতারসিদিন-এ বলেছেন, “দেখা মানে শুধু দেখে যাওয়াই নয়, বরং যা লুকানো বা আড়ালে রাখা আছে তার দিকে না তাকানোটাও দৃষ্টির আদবের আওতায় পড়ে।” অন্যদিকে দাউদ তায়ি রহ. বলেন, “আমাকে আমার শিক্ষক বলেছেন, ছোটো ছোটো কাজ বা গুনাহর জন্য যেমন আমাদের জবাবদিহি করতে হবে, ঠিক তেমনি ছোটো ছোটো বিষয়ে অযাচিত দৃষ্টি দেওয়ার জন্যেও আমাদের জবাবদিহি করা হবে।”
প্রাথমিক যুগে ইসলামি সমাজের পরিবেশ এমন ছিল, কেউ ভুলক্রমে নিজের বাড়ির দরজা বন্ধ করতে ভুলে গেলেও উদ্বিগ্ন হতে হতো না। কারণ, সে জানত যে, অন্য কোনো ব্যক্তি তার বাড়িতে প্রবেশ করবে না; এমনকি কুদৃষ্টিও দেবে না।
📄 সাক্ষাতের সময় নির্ধারণ
সাক্ষাতের জন্য পূর্বেই একটি নির্দিষ্ট সময় বাছাই করুন। অনাকাঙ্ক্ষিত কোনো সময়ে সাক্ষাৎ করতে যাবেন না। বিশেষ করে খাওয়ার সময়, ঘুমানোর সময় বা বিশ্রাম নেওয়ার সময়গুলোতে কারও বাড়িতে না যাওয়াই ভালো।
“হে মুমিনগণ! তোমাদের দাস-দাসীরা এবং (সন্তানসন্ততি) যারা প্রাপ্তবয়স্ক হয়নি, তারা যেন তিন সময়ে তোমাদের কাছে যাওয়ার আগে অনুমতি গ্রহণ করে। এগুলো হলো- ফজরের নামাজের পূর্বে, দুপুরে যখন তোমরা জামা ঢিল করে রাখো এবং এশার নামাজের পর। এই তিন সময় অন্তরালের সময়। এ সময়ের পর তোমাদের ও তাদের জন্য কোনো দোষ নেই। তোমাদের একে অপরের কাছে তো যাতায়াত করতেই হয়, এমনিভাবে আল্লাহ তোমাদের কাছে সুস্পষ্ট আয়াতসমূহ বিবৃত করেন। আল্লাহ সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়।” সূরা নূর : ৫৮
এই আয়াত থেকে বোঝা যায়, ইসলাম মানুষের ব্যক্তিগত বিষয় ও গোপনীয়তাকে কতটা গুরুত্ব দিয়েছে। উপরোক্ত সময়গুলোতে বিশেষ গোপনীয়তা বজায় রাখার চেষ্টা করা দরকার। কারণ, এই তিন সময়ে কেউ ঘুমাতে পারে, বিশ্রাম নিতে পারে কিংবা স্ত্রীর সাথে একান্তে সময় কাটাতে পারে। সে কারণে এই তিন সময়ে ঘরে প্রবেশ করার ক্ষেত্রে, বাড়ির গৃহপরিচারিকা, এমনকি ছোটো সন্তানদেরও অনুমতি নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। তাই এই সময়গুলোতে মেহমান হিসেবেও কারও বাড়িতে না যাওয়াই উত্তম। তবে জরুরি বিষয় হলে ভিন্ন কথা।
হিজরতের ঠিক পূর্ব মুহূর্তের বর্ণনা দিতে গিয়ে মা আয়িশা রা. বলেন, “রাসূল সা. কখনোই দুপুর বেলায় আমাদের বাড়িতে আসতেন না। একদিন ঠিক দুপুরের প্রথমভাগে আমরা সবাই আমাদের ঘরে বসা। তখন কেউ একজন আবু বকর রা.-কে বলল, ওই তো রাসূল সা. চাদর মুড়িয়ে এদিকে আসছেন। তিনি তো সাধারণত এ সময়ে এখানে আসেন না। রাসূল সা. এসে প্রবেশের অনুমতি চাইলেন। তাকে অনুমতি দেওয়া হলে তিনি ভেতরে এলেন। তখন আবু বকর রা. বাড়ির সবাইকে বলছিলেন, খুব জরুরি কিছু না হলে রাসূল সা. এই সময়ে আসতেন না।" বুখারি : ২১৩৮
উল্লেখ্য, রাসূল সা. মদিনায় হিজরত করার জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে অনুমতি পাওয়ার পরই আবু বকর রা.-কে বিষয়টা জানানোর জন্য সেদিন দুপুরে তাঁর বাড়িতে গিয়েছিলেন।
কত সময় ধরে আপনি সাক্ষাৎকৃত ব্যক্তির সাথে অবস্থান করবেন, সেই বিষয়টা নির্ভর করবে আপনি যার বাড়িতে যাচ্ছেন তাকে কতটা ভালো জানেন তার ওপর। তার পরিস্থিতি, বাড়ির অবস্থার আলোকেই আপনি সাক্ষাতের মেয়াদ নির্ধারণ করবেন। অযথা এতটা সময় কারও বাড়িতে থাকবেন না, যাতে বাড়ির মানুষদের জন্য বিষয়টা বিব্রতকর বা কষ্টদায়ক হয়ে যায়।
ইমাম নববি রহ. তাঁর আল আযকার গ্রন্থে বলেছেন, "মুসলিমদের উচিত ধার্মিক মানুষদের বাড়িতে, তাদের নিকটাত্মীয়দের বাড়িতে, প্রতিবেশী, বন্ধুবান্ধব ও সহকর্মীদের বাড়িতে মাঝে মাঝেই বেড়াতে যাওয়া। সেই সাথে এই মানুষগুলোর প্রতি উদার, দয়ালু, সহানুভূতিশীল হওয়াও আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। তবে সাক্ষাতে গেলে আমরা কত সময় সেখানে থাকব, তা সংশ্লিষ্ট বাড়ির পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে। প্রতিটি সাক্ষাৎ আনন্দ ও স্বস্তিদায়ক হওয়া বাঞ্ছনীয়। সাক্ষাতের সময়টাও অনুকূল হওয়া প্রয়োজন।”
সাক্ষাতের জন্য পূর্বেই একটি নির্দিষ্ট সময় বাছাই করুন। অনাকাঙ্ক্ষিত কোনো সময়ে সাক্ষাৎ করতে যাবেন না। বিশেষ করে খাওয়ার সময়, ঘুমানোর সময় বা বিশ্রাম নেওয়ার সময়গুলোতে কারও বাড়িতে না যাওয়াই ভালো।
“হে মুমিনগণ! তোমাদের দাস-দাসীরা এবং (সন্তানসন্ততি) যারা প্রাপ্তবয়স্ক হয়নি, তারা যেন তিন সময়ে তোমাদের কাছে যাওয়ার আগে অনুমতি গ্রহণ করে। এগুলো হলো- ফজরের নামাজের পূর্বে, দুপুরে যখন তোমরা জামা ঢিল করে রাখো এবং এশার নামাজের পর। এই তিন সময় অন্তরালের সময়। এ সময়ের পর তোমাদের ও তাদের জন্য কোনো দোষ নেই। তোমাদের একে অপরের কাছে তো যাতায়াত করতেই হয়, এমনিভাবে আল্লাহ তোমাদের কাছে সুস্পষ্ট আয়াতসমূহ বিবৃত করেন। আল্লাহ সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়।” সূরা নূর : ৫৮
এই আয়াত থেকে বোঝা যায়, ইসলাম মানুষের ব্যক্তিগত বিষয় ও গোপনীয়তাকে কতটা গুরুত্ব দিয়েছে। উপরোক্ত সময়গুলোতে বিশেষ গোপনীয়তা বজায় রাখার চেষ্টা করা দরকার। কারণ, এই তিন সময়ে কেউ ঘুমাতে পারে, বিশ্রাম নিতে পারে কিংবা স্ত্রীর সাথে একান্তে সময় কাটাতে পারে। সে কারণে এই তিন সময়ে ঘরে প্রবেশ করার ক্ষেত্রে, বাড়ির গৃহপরিচারিকা, এমনকি ছোটো সন্তানদেরও অনুমতি নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। তাই এই সময়গুলোতে মেহমান হিসেবেও কারও বাড়িতে না যাওয়াই উত্তম। তবে জরুরি বিষয় হলে ভিন্ন কথা।
হিজরতের ঠিক পূর্ব মুহূর্তের বর্ণনা দিতে গিয়ে মা আয়িশা রা. বলেন, “রাসূল সা. কখনোই দুপুর বেলায় আমাদের বাড়িতে আসতেন না। একদিন ঠিক দুপুরের প্রথমভাগে আমরা সবাই আমাদের ঘরে বসা। তখন কেউ একজন আবু বকর রা.-কে বলল, ওই তো রাসূল সা. চাদর মুড়িয়ে এদিকে আসছেন। তিনি তো সাধারণত এ সময়ে এখানে আসেন না। রাসূল সা. এসে প্রবেশের অনুমতি চাইলেন। তাকে অনুমতি দেওয়া হলে তিনি ভেতরে এলেন। তখন আবু বকর রা. বাড়ির সবাইকে বলছিলেন, খুব জরুরি কিছু না হলে রাসূল সা. এই সময়ে আসতেন না।" বুখারি : ২১৩৮
উল্লেখ্য, রাসূল সা. মদিনায় হিজরত করার জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে অনুমতি পাওয়ার পরই আবু বকর রা.-কে বিষয়টা জানানোর জন্য সেদিন দুপুরে তাঁর বাড়িতে গিয়েছিলেন।
কত সময় ধরে আপনি সাক্ষাৎকৃত ব্যক্তির সাথে অবস্থান করবেন, সেই বিষয়টা নির্ভর করবে আপনি যার বাড়িতে যাচ্ছেন তাকে কতটা ভালো জানেন তার ওপর। তার পরিস্থিতি, বাড়ির অবস্থার আলোকেই আপনি সাক্ষাতের মেয়াদ নির্ধারণ করবেন। অযথা এতটা সময় কারও বাড়িতে থাকবেন না, যাতে বাড়ির মানুষদের জন্য বিষয়টা বিব্রতকর বা কষ্টদায়ক হয়ে যায়।
ইমাম নববি রহ. তাঁর আল আযকার গ্রন্থে বলেছেন, "মুসলিমদের উচিত ধার্মিক মানুষদের বাড়িতে, তাদের নিকটাত্মীয়দের বাড়িতে, প্রতিবেশী, বন্ধুবান্ধব ও সহকর্মীদের বাড়িতে মাঝে মাঝেই বেড়াতে যাওয়া। সেই সাথে এই মানুষগুলোর প্রতি উদার, দয়ালু, সহানুভূতিশীল হওয়াও আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। তবে সাক্ষাতে গেলে আমরা কত সময় সেখানে থাকব, তা সংশ্লিষ্ট বাড়ির পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে। প্রতিটি সাক্ষাৎ আনন্দ ও স্বস্তিদায়ক হওয়া বাঞ্ছনীয়। সাক্ষাতের সময়টাও অনুকূল হওয়া প্রয়োজন।”
📄 অভ্যর্থনা বা অভিবাদন
কোনো ঘরে বা বাড়িতে প্রবেশ করার পর সেখানে উপস্থিত সবার সাথে মুসাফাহা করুন। তাদের সালাম দিন। আতা ইবনে আবদুল্লাহ থেকে বর্ণিত, রাসূল সা. বলেছেন, "তোমরা একে অপরের সাথে মুসাফাহা করো। এতে তোমাদের মাঝে যদি কোনো ঘৃণা ও বিদ্বেষ থাকে, তা দূর হয়ে যাবে; ভালোবাসার সৃষ্টি হবে আর শত্রুভাবাপন্ন মনোভাব কমে আসবে।”
আনাস রা. থেকে বর্ণিত, একবার ইয়েমেন থেকে কিছু মুসাফির নবি সা.-এর সাথে সাক্ষাৎ করতে এলো। খবর পেয়েই রাসূল সা. বললেন, "ইয়েমেনের লোকেরা আসছে। তাদের মন তোমাদের তুলনায় কোমল। তারা সবকিছুর আগে সবার সাথে হাত মিলায় ও মুসাফাহা করে।" আবু দাউদ: ৫২১৩
বারা ইবনে আজিব রা. হতে বর্ণিত, “মুসাফাহা এমন এক আচরণ, যা পারস্পরিক সম্ভাষণ ও শিষ্টাচারকে সম্পূর্ণ করে তোলে।” বুখারি
কোনো মজলিসে বা আয়োজনে যদি সবার সাথে হ্যান্ডশেক বা মুসাফাহা করতে চান, তা হলে সবার আগে যিনি ওই আয়োজনের সবচেয়ে বয়স্ক মানুষ কিংবা সবচেয়ে জ্ঞানী ও ধার্মিক, তার দিকে হাত বাড়িয়ে দিন। আপনার কাছাকাছি বা পাশে যিনি আছে, তার সাথে হাত মেলাতে গিয়ে সবচেয়ে প্রবীণ মানুষটিকে অবহেলা করবেন না। যদি আপনি বুঝতে না পারেন কিংবা আয়োজনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মানুষটিকে সনাক্ত করতে না পারেন, তা হলে বাহ্যিকভাবে দেখে যাকে সবচেয়ে বয়স্ক মনে হয়, তার সাথেই আগে গিয়ে সৌজন্যতা প্রকাশ করুন।
মুসাফাহা করতে গেলে কতক্ষণ হাত ধরে থাকতে হবে, এটা নিয়ে অনেকের মাঝেই সংশয় দেখা যায়। আনাস রা. থেকে বর্ণিত, "যদি কেউ নবিজির সাথে সাক্ষাৎ করতে আসত এবং মুসাফাহা করত, তা হলে নবি সা. কখনোই তাঁর হাতটি আগে ফিরিয়ে নিতেন না।" তিরমিযি: ২৪৯০, ইবনে মাজাহ : ৩৭১৬
এই হাদিস থেকে আমরা বুঝতে পারি, শুধু মুসাফাহা করাই যথেষ্ট নয়; বরং কিছুটা সময় হাত ধরে রাখার ব্যাপারেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তবে সেই সময়টা এত বেশি হওয়াও বাঞ্ছনীয় নয় যাতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জন্য তা বিব্রতকর হয়ে যায়।
আনাস ইবনে মালিক রা. থেকে বর্ণিত, “এক ব্যক্তি রাসূল সা.-কে প্রশ্ন করল, 'হে আল্লাহর রাসূল, যখন আমরা এক ভাই আরেকজন ভাইয়ের সাথে সাক্ষাৎ করব, আমরা কি একে অপরকে সম্মান জানিয়ে মাথা নত করতে পারি?' রাসূল সা. উত্তর দিলেন, 'না, কখনোই নয়।' এরপর সে আবার প্রশ্ন করল, 'তা হলে আমরা কি সাক্ষাতের সময় আমার ভাইকে জড়িয়ে ধরে চুমু খেতে পারি?' রাসূল সা. বললেন, 'না, তোমরা এটাও করবে না।' তৃতীয়বার ওই ব্যক্তি প্রশ্ন করল, 'তা হলে আমরা কি মুসাফাহা করতে পারি?' রাসূল সা. বললেন, 'হ্যাঁ, তা করতে পারো, যদি সেও মুসাফাহা করতে আগ্রহী হয়'।" তিরমিযি : ২৭২৮, ইবনে মাজাহ : ৩৭০২
মসজিদে কিছু মুসল্লিকে দেখা যায়, যারা ফরজ নামাজের জামাত শেষ হওয়ার পরই ইমাম সাহেবের সাথে হাত মেলাতে ব্যস্ত হয়ে যায়। কিন্তু এ ধরনের কোনো কাজ করার দৃষ্টান্ত বা নির্দেশনা রাসূল সা.-এর সুন্নাহতে পাওয়া যায় না। খুলাফায়ে রাশেদার সময়েও এ ধরনের কোনো চর্চা ছিল না। এটা পরবর্তী সময়ের মুসলমানদের আবিষ্কার-যাকে কেউ কেউ বিদআত বলেও মনে করে। আর ধর্মীয় আচারাদির ক্ষেত্রে আল্লাহ সব ধরনের বিদআতকে নিষিদ্ধ করেছেন। ফিকাহর কিছু বইতে এই আচরণের কথা জানা যায়। তবে যারা এই আমলটিকে সমর্থন করেছেন, তারাও প্রতি ওয়াক্তে এভাবে সাক্ষাতের জন্য ব্যস্ত হওয়াকে অনুমোদন দেননি।
অনেকেই আছে, যারা অভ্যর্থনা জানানোর ক্ষেত্রে বা মেহমানকে ভক্তি জানাতে গিয়ে দাঁড়িয়ে যায়। এ প্রসঙ্গে তিনটি কথা বলা যায়।
প্রথমত, একজন সম্মানিত মানুষ এসে বসে গেছেন, অথচ আপনি তাঁর সম্মানে দাঁড়িয়েই আছেন, এটা সমর্থনযোগ্য নয়। যারা স্বৈরাচারী মানসিকতার, তারা অধীনস্থদের এভাবে দাঁড়িয়ে থাকতে বাধ্য করে।
দ্বিতীয়ত, আপনি বসে আছেন, এমন সময় বাইরে থেকে কেউ এলেন এবং তিনি সম্মানিত। তা হলে দাঁড়িয়ে মুসাফাহা করে আবার বসে পড়ুন। এতটুকু করাকে ইসলামি চিন্তাবিদগণ সমর্থন করেছেন। ইমাম গাযালি এবং ইবনে হাজারের মতো ব্যক্তিরা মনে করেন, যদি কাউকে সম্মান জানানোর জন্য উঠে দাঁড়ান, তা সমর্থন করা যায়; তবে আগত ব্যক্তিকে অতি মহিমান্বিত করার জন্য উঠে দাঁড়ালে তা মেনে নেওয়া যায় না।
আর তৃতীয়ত, আপনি কাউকে দেখেই দাঁড়িয়ে যেতে পারেন। তবে অধিকাংশ আলিম এভাবে সম্মান জানানোর ব্যাপারে একমত হতে পারেননি। রাসূল সা. বলেছেন, “কোনো একজন আল্লাহর বান্দা এলো আর তাকে দেখেই যদি অন্য কোনো বান্দা দাঁড়িয়ে যায়, তা হলে সে মূলত তার জন্য জাহান্নামে একটি ঘর তৈরি করে নিল।” আদাবুল মুফরাদ : ৯৭৭
তবে বেশ কয়েকজন ফিকহবিদের মতে, কোনো এলাকার রীতি যদি এমন হয়, সেখানে আগত মেহমানকে দাঁড়িয়েই সম্মান জানাতে হবে, তবে সেক্ষেত্রে দাঁড়িয়ে সম্মান করা যাবে। কারণ, তাই যদি সেখানে প্রচলিত রীতিকে অগ্রাহ্য করা হয়, তা হলে হয়তো অনাকাঙ্ক্ষিত কোনো পরিস্থিতিও তৈরি হতে পারে।
কোনো ঘরে বা বাড়িতে প্রবেশ করার পর সেখানে উপস্থিত সবার সাথে মুসাফাহা করুন। তাদের সালাম দিন। আতা ইবনে আবদুল্লাহ থেকে বর্ণিত, রাসূল সা. বলেছেন, "তোমরা একে অপরের সাথে মুসাফাহা করো। এতে তোমাদের মাঝে যদি কোনো ঘৃণা ও বিদ্বেষ থাকে, তা দূর হয়ে যাবে; ভালোবাসার সৃষ্টি হবে আর শত্রুভাবাপন্ন মনোভাব কমে আসবে।”
আনাস রা. থেকে বর্ণিত, একবার ইয়েমেন থেকে কিছু মুসাফির নবি সা.-এর সাথে সাক্ষাৎ করতে এলো। খবর পেয়েই রাসূল সা. বললেন, "ইয়েমেনের লোকেরা আসছে। তাদের মন তোমাদের তুলনায় কোমল। তারা সবকিছুর আগে সবার সাথে হাত মিলায় ও মুসাফাহা করে।" আবু দাউদ: ৫২১৩
বারা ইবনে আজিব রা. হতে বর্ণিত, “মুসাফাহা এমন এক আচরণ, যা পারস্পরিক সম্ভাষণ ও শিষ্টাচারকে সম্পূর্ণ করে তোলে।” বুখারি
কোনো মজলিসে বা আয়োজনে যদি সবার সাথে হ্যান্ডশেক বা মুসাফাহা করতে চান, তা হলে সবার আগে যিনি ওই আয়োজনের সবচেয়ে বয়স্ক মানুষ কিংবা সবচেয়ে জ্ঞানী ও ধার্মিক, তার দিকে হাত বাড়িয়ে দিন। আপনার কাছাকাছি বা পাশে যিনি আছে, তার সাথে হাত মেলাতে গিয়ে সবচেয়ে প্রবীণ মানুষটিকে অবহেলা করবেন না। যদি আপনি বুঝতে না পারেন কিংবা আয়োজনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মানুষটিকে সনাক্ত করতে না পারেন, তা হলে বাহ্যিকভাবে দেখে যাকে সবচেয়ে বয়স্ক মনে হয়, তার সাথেই আগে গিয়ে সৌজন্যতা প্রকাশ করুন।
মুসাফাহা করতে গেলে কতক্ষণ হাত ধরে থাকতে হবে, এটা নিয়ে অনেকের মাঝেই সংশয় দেখা যায়। আনাস রা. থেকে বর্ণিত, "যদি কেউ নবিজির সাথে সাক্ষাৎ করতে আসত এবং মুসাফাহা করত, তা হলে নবি সা. কখনোই তাঁর হাতটি আগে ফিরিয়ে নিতেন না।" তিরমিযি: ২৪৯০, ইবনে মাজাহ : ৩৭১৬
এই হাদিস থেকে আমরা বুঝতে পারি, শুধু মুসাফাহা করাই যথেষ্ট নয়; বরং কিছুটা সময় হাত ধরে রাখার ব্যাপারেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তবে সেই সময়টা এত বেশি হওয়াও বাঞ্ছনীয় নয় যাতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জন্য তা বিব্রতকর হয়ে যায়।
আনাস ইবনে মালিক রা. থেকে বর্ণিত, “এক ব্যক্তি রাসূল সা.-কে প্রশ্ন করল, 'হে আল্লাহর রাসূল, যখন আমরা এক ভাই আরেকজন ভাইয়ের সাথে সাক্ষাৎ করব, আমরা কি একে অপরকে সম্মান জানিয়ে মাথা নত করতে পারি?' রাসূল সা. উত্তর দিলেন, 'না, কখনোই নয়।' এরপর সে আবার প্রশ্ন করল, 'তা হলে আমরা কি সাক্ষাতের সময় আমার ভাইকে জড়িয়ে ধরে চুমু খেতে পারি?' রাসূল সা. বললেন, 'না, তোমরা এটাও করবে না।' তৃতীয়বার ওই ব্যক্তি প্রশ্ন করল, 'তা হলে আমরা কি মুসাফাহা করতে পারি?' রাসূল সা. বললেন, 'হ্যাঁ, তা করতে পারো, যদি সেও মুসাফাহা করতে আগ্রহী হয়'।" তিরমিযি : ২৭২৮, ইবনে মাজাহ : ৩৭০২
মসজিদে কিছু মুসল্লিকে দেখা যায়, যারা ফরজ নামাজের জামাত শেষ হওয়ার পরই ইমাম সাহেবের সাথে হাত মেলাতে ব্যস্ত হয়ে যায়। কিন্তু এ ধরনের কোনো কাজ করার দৃষ্টান্ত বা নির্দেশনা রাসূল সা.-এর সুন্নাহতে পাওয়া যায় না। খুলাফায়ে রাশেদার সময়েও এ ধরনের কোনো চর্চা ছিল না। এটা পরবর্তী সময়ের মুসলমানদের আবিষ্কার-যাকে কেউ কেউ বিদআত বলেও মনে করে। আর ধর্মীয় আচারাদির ক্ষেত্রে আল্লাহ সব ধরনের বিদআতকে নিষিদ্ধ করেছেন। ফিকাহর কিছু বইতে এই আচরণের কথা জানা যায়। তবে যারা এই আমলটিকে সমর্থন করেছেন, তারাও প্রতি ওয়াক্তে এভাবে সাক্ষাতের জন্য ব্যস্ত হওয়াকে অনুমোদন দেননি।
অনেকেই আছে, যারা অভ্যর্থনা জানানোর ক্ষেত্রে বা মেহমানকে ভক্তি জানাতে গিয়ে দাঁড়িয়ে যায়। এ প্রসঙ্গে তিনটি কথা বলা যায়।
প্রথমত, একজন সম্মানিত মানুষ এসে বসে গেছেন, অথচ আপনি তাঁর সম্মানে দাঁড়িয়েই আছেন, এটা সমর্থনযোগ্য নয়। যারা স্বৈরাচারী মানসিকতার, তারা অধীনস্থদের এভাবে দাঁড়িয়ে থাকতে বাধ্য করে।
দ্বিতীয়ত, আপনি বসে আছেন, এমন সময় বাইরে থেকে কেউ এলেন এবং তিনি সম্মানিত। তা হলে দাঁড়িয়ে মুসাফাহা করে আবার বসে পড়ুন। এতটুকু করাকে ইসলামি চিন্তাবিদগণ সমর্থন করেছেন। ইমাম গাযালি এবং ইবনে হাজারের মতো ব্যক্তিরা মনে করেন, যদি কাউকে সম্মান জানানোর জন্য উঠে দাঁড়ান, তা সমর্থন করা যায়; তবে আগত ব্যক্তিকে অতি মহিমান্বিত করার জন্য উঠে দাঁড়ালে তা মেনে নেওয়া যায় না।
আর তৃতীয়ত, আপনি কাউকে দেখেই দাঁড়িয়ে যেতে পারেন। তবে অধিকাংশ আলিম এভাবে সম্মান জানানোর ব্যাপারে একমত হতে পারেননি। রাসূল সা. বলেছেন, “কোনো একজন আল্লাহর বান্দা এলো আর তাকে দেখেই যদি অন্য কোনো বান্দা দাঁড়িয়ে যায়, তা হলে সে মূলত তার জন্য জাহান্নামে একটি ঘর তৈরি করে নিল।” আদাবুল মুফরাদ : ৯৭৭
তবে বেশ কয়েকজন ফিকহবিদের মতে, কোনো এলাকার রীতি যদি এমন হয়, সেখানে আগত মেহমানকে দাঁড়িয়েই সম্মান জানাতে হবে, তবে সেক্ষেত্রে দাঁড়িয়ে সম্মান করা যাবে। কারণ, তাই যদি সেখানে প্রচলিত রীতিকে অগ্রাহ্য করা হয়, তা হলে হয়তো অনাকাঙ্ক্ষিত কোনো পরিস্থিতিও তৈরি হতে পারে।
📄 দুই ব্যক্তির মাঝে বসা
আপনি কোনো ঘর বা বাড়িতে প্রবেশ করে দুজন ব্যক্তির মাঝে গিয়ে বসবেন না। তাদের বায়ে বা ডানে গিয়ে আসন গ্রহণ করুন। সুনানে আবু দাউদ ও তিরমিযিতে উল্লিখিত একটি হাদিস থেকে জানা যায়, রাসূল সা. বলেছেন, “অনুমতি ব্যতীত কখনোই দুজন মানুষের মাঝে গিয়ে বসবে না। হয়তো তারা নিজেরা পরস্পরের সাথে কথা বলছে।"
কখনও কখনও এমন হতে পারে, দুজন ব্যক্তি আপনার প্রতি সহানুভূতিশীল হয়ে তাদের মাঝখানে বসার সুযোগ দিতে পারে। এমন হলে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তাদের প্রস্তাব গ্রহণ করতে পারেন। তবে চাপাচাপি করে বসে থাকার প্রয়োজন নেই। দুজনের মাঝখানে বসে পায়ের ওপর পা তুলে দেওয়াও সমীচীন নয়।
জনৈক মহান ব্যক্তি বলে গেছেন, "দুই ধরনের মানুষকে অশোভন হিসেবে বিবেচনা করা যায়। প্রথমত সেই ব্যক্তি, যাকে কোনো পরামর্শ দিলেন অথচ সে তা ভালোভাবে গ্রহণ না করে তা আপনার বিরুদ্ধেই ব্যবহার করল। আর দ্বিতীয়ত সেই ব্যক্তি, যাকে বসার জায়গা করে দিলেন অথচ সে আপনার সামনে পায়ের ওপর পা তুলে বসে থাকল।"
ধরুন, আপনি একটি অনুষ্ঠানে বসে আছেন। কেউ একজন এলেন। কিন্তু তিনি বসার ভালো বলা হয় উঠে যাও, তখন উঠে যাবে। তোমাদের মধ্যে যারা ঈমানদার এবং যারা জ্ঞানপ্রাপ্ত, আল্লাহ তাদের মর্যাদা উচ্চ করে দেবেন। তোমরা যা কিছু করো আল্লাহ খবর রাখেন।” সূরা মুজাদালাহ: ১১
আরেকটি বিষয়, যদি আপনি কোনো অনুষ্ঠানে এমনকি মসজিদেও অনেকের পরে গিয়ে উপস্থিত হন, তা হলে সামনে যাওয়ার জন্য তাড়াহুড়ো বা কোনো ধরনের বাড়াবাড়ি করবেন না। অনেকেই পরে এসে ডিঙিয়ে সামনে যাওয়ার চেষ্টা করে, যা দেখতেও অশোভন। জাবির ইবনে সামুরাহ রা. থেকে বর্ণিত, “আমরা যখন নবিজি সা.-এর কাছে যেতাম, তখন যেখানে জায়গা পেতাম সেখানেই বসে পড়তাম।” আবু দাউদ: ৪৮২৫
যদি আপনাকে দুজন মানুষের কাছে বসতেই হয়, তা হলে কখনোই তাদের কথায় আড়ি পাতবেন না। হতে পারে তারা কোনো গোপন বা ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে আলোচনা করছে। আড়িপাতা একটি বাজে অভ্যাস এবং স্বীকৃত পাপ। সহিহ বুখারির একটি হাদিস থেকে জানা যায়, রাসূল সা. বলেছেন, “যে ব্যক্তি কারও অনুমতি না নিয়েই তাদের কথাবার্তা আড়ি পেতে শোনে, কিয়ামতের দিন তার কানে তরল সিসা ঢেলে দেওয়া হবে।" বুখারি: ৭০৪২
সব সময় বড়োদের কাছ থেকে কিছু শেখার চেষ্টা করুন। তাদের অভিজ্ঞতালব্ধ জ্ঞান থেকে কিছু জানার থাকে। তাদের সাহচর্যে ও সংস্পর্শে সমৃদ্ধ হোন। কারণ, তারা জীবনের পরিণত অবস্থায় পৌঁছে গেছেন। সূর্য যেমন সারা দিন আলো বিকিরণ করে রাতে অন্ধকার আকাশে মিলিয়ে যায়, এই মানুষগুলোও তাদের সারাটা জীবন দেওয়া ও নেওয়ার মধ্য দিয়ে অনেক কিছু শিখেছেন, ধারণ করেছেন, যা থেকে আমরা উপকৃত হতে পারি। সব সময় বয়স্ক, পরহেজগার, আদর্শবান ও বিদ্বান মানুষদের আলোচনায় অংশ নেওয়ার চেষ্টা করুন। হয়তো খুব দ্রুত তারা দুনিয়া ছেড়ে চলে যাবেন, তখন তাদের থেকে এই জ্ঞানগুলো না নেওয়ায় আপনাকে আফসোস করতে হবে।
যদি আপনারা তিনজন একসাথে বসে থাকেন, তা হলে একজনের সামনে অপর দুজনের কানে কানে কথা বলা ইসলামি আদবের খেলাফ। এটা তৃতীয় ব্যক্তির জন্য বিব্রতকর এবং সন্দেহের কারণ হতে পারে। তাই রাসূল সা. এ ধরনের পরিবেশে কানে কানে কথা বলাকে অপছন্দ করতেন।
রাসূল সা. বলেছেন, “তৃতীয় একজনের উপস্থিতিতে দুজন মানুষের ফিস ফিস করে কথা বলা বা কানে কানে কথা বলা উচিত নয়।" আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা. তখন প্রশ্ন করলেন, 'যদি তারা চারজন হয়?' নবিজি সা. বললেন, 'তা হলে সমস্যা নেই'।” বুখারি: ৬২৮৮, মুসলিম: ২১৮৩
তিনি এমনটি বললেন কারণ, চারজন থাকলে দুজন একটু আস্তে কথা বললেও তা তেমন বিরক্তিকর পরিস্থিতির উদ্রেক করে না। কারণ, এখানে চতুর্থজনের উপস্থিতির কারণে তৃতীয় ব্যক্তি একাকীত্ব ও বিব্রত বোধ করবে না।
আরেকটি বিষয় গুরুত্বের সাথে বিবেচনায় নিতে হবে। যদি কেউ আপনাকে বিশ্বাস করে কোনো কথা বলতে চায়, তা হলে সেই বিশ্বাসের আমানতটুকু সংরক্ষণ করাও আপনার দায়িত্ব। তার সাথে প্রতারণা করা কিংবা বিশ্বাস ভঙ্গ করা অনুচিত। তাই কোনো ব্যক্তি যদি আপনাকে গোপনে কোনো কথা বলে, তবে তা গোপন রাখা উচিত। এমনকি আপনার ঘনিষ্ঠ বন্ধু বা আত্মীয়কেও অন্যের গোপন কথা বলা ঠিক নয়।
কোনো অনুষ্ঠান বা আয়োজনে গিয়ে মাত্রাতিরিক্ত উচ্চৈঃস্বরে হাসবেন না। এটা ইসলামের শিষ্টাচারের সাথে সাংঘর্ষিক। আপনি যদি মুচকি হাসেন বা মৃদু হাসেন, তা ঠিক আছে; কেননা, এই ধরনের হাসি আপনাকে স্বস্তি দেবে, অন্যদেরও বিরক্তি করবে না। কিন্তু যদি অট্টহাসি দেন এবং বার বার দেন, তা হলে উপস্থিত অনেকেই আপনার প্রতি অসন্তুষ্ট হতে পারে। আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, রাসূল সা. বলেছেন, “তোমরা অতিরিক্ত হাসাহাসি করো না। অতিরিক্ত হাসি অন্তরকে মেরে ফেলে।”
আপনি কোনো ঘর বা বাড়িতে প্রবেশ করে দুজন ব্যক্তির মাঝে গিয়ে বসবেন না। তাদের বায়ে বা ডানে গিয়ে আসন গ্রহণ করুন। সুনানে আবু দাউদ ও তিরমিযিতে উল্লিখিত একটি হাদিস থেকে জানা যায়, রাসূল সা. বলেছেন, “অনুমতি ব্যতীত কখনোই দুজন মানুষের মাঝে গিয়ে বসবে না। হয়তো তারা নিজেরা পরস্পরের সাথে কথা বলছে।"
কখনও কখনও এমন হতে পারে, দুজন ব্যক্তি আপনার প্রতি সহানুভূতিশীল হয়ে তাদের মাঝখানে বসার সুযোগ দিতে পারে। এমন হলে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তাদের প্রস্তাব গ্রহণ করতে পারেন। তবে চাপাচাপি করে বসে থাকার প্রয়োজন নেই। দুজনের মাঝখানে বসে পায়ের ওপর পা তুলে দেওয়াও সমীচীন নয়।
জনৈক মহান ব্যক্তি বলে গেছেন, "দুই ধরনের মানুষকে অশোভন হিসেবে বিবেচনা করা যায়। প্রথমত সেই ব্যক্তি, যাকে কোনো পরামর্শ দিলেন অথচ সে তা ভালোভাবে গ্রহণ না করে তা আপনার বিরুদ্ধেই ব্যবহার করল। আর দ্বিতীয়ত সেই ব্যক্তি, যাকে বসার জায়গা করে দিলেন অথচ সে আপনার সামনে পায়ের ওপর পা তুলে বসে থাকল।"
ধরুন, আপনি একটি অনুষ্ঠানে বসে আছেন। কেউ একজন এলেন। কিন্তু তিনি বসার ভালো জায়গা পেলেন না। তাই তিনি স্বাভাবিকভাবেই ফিরে যাবেন। এ রকম দৃশ্য অবস্থায় আপনার উচিত, একটু সরে গিয়ে সেই মেহমানকে বসতে দেওয়া। এতে হয়তো আপনার বড়ো কোনো ক্ষতি হবে না। আপনার কল্যাণে সেই ব্যক্তি আয়োজনের অংশ হওয়ার সুযোগ পাবেন। কুরআনে হাকিমে এই প্রসঙ্গে আল্লাহ তায়ালা বলেন,
“হে মুমিনগণ! যখন তোমাদের বলা হয়, মজলিসে স্থান প্রশস্ত করে দাও, তোমরা স্থান প্রশস্ত করে দেবে। আল্লাহও তোমাদের জন্য প্রশস্ত করে দেবেন। যখন বলা হয় উঠে যাও, তখন উঠে যাবে। তোমাদের মধ্যে যারা ঈমানদার এবং যারা জ্ঞানপ্রাপ্ত, আল্লাহ তাদের মর্যাদা উচ্চ করে দেবেন। তোমরা যা কিছু করো আল্লাহ খবর রাখেন।” সূরা মুজাদালাহ: ১১
আরেকটি বিষয়, যদি আপনি কোনো অনুষ্ঠানে এমনকি মসজিদেও অনেকের পরে গিয়ে উপস্থিত হন, তা হলে সামনে যাওয়ার জন্য তাড়াহুড়ো বা কোনো ধরনের বাড়াবাড়ি করবেন না। অনেকেই পরে এসে ডিঙিয়ে সামনে যাওয়ার চেষ্টা করে, যা দেখতেও অশোভন। জাবির ইবনে সামুরাহ রা. থেকে বর্ণিত, “আমরা যখন নবিজি সা.-এর কাছে যেতাম, তখন যেখানে জায়গা পেতাম সেখানেই বসে পড়তাম।” আবু দাউদ: ৪৮২৫
যদি আপনাকে দুজন মানুষের কাছে বসতেই হয়, তা হলে কখনোই তাদের কথায় আড়ি পাতবেন না। হতে পারে তারা কোনো গোপন বা ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে আলোচনা করছে। আড়িপাতা একটি বাজে অভ্যাস এবং স্বীকৃত পাপ। সহিহ বুখারির একটি হাদিস থেকে জানা যায়, রাসূল সা. বলেছেন, “যে ব্যক্তি কারও অনুমতি না নিয়েই তাদের কথাবার্তা আড়ি পেতে শোনে, কিয়ামতের দিন তার কানে তরল সিসা ঢেলে দেওয়া হবে।" বুখারি: ৭০৪২
সব সময় বড়োদের কাছ থেকে কিছু শেখার চেষ্টা করুন। তাদের অভিজ্ঞতালব্ধ জ্ঞান থেকে কিছু জানার থাকে। তাদের সাহচর্যে ও সংস্পর্শে সমৃদ্ধ হোন। কারণ, তারা জীবনের পরিণত অবস্থায় পৌঁছে গেছেন। সূর্য যেমন সারা দিন আলো বিকিরণ করে রাতে অন্ধকার আকাশে মিলিয়ে যায়, এই মানুষগুলোও তাদের সারাটা জীবন দেওয়া ও নেওয়ার মধ্য দিয়ে অনেক কিছু শিখেছেন, ধারণ করেছেন, যা থেকে আমরা উপকৃত হতে পারি। সব সময় বয়স্ক, পরহেজগারি, আদর্শবান ও বিদ্বান মানুষদের আলোচনায় অংশ নেওয়ার চেষ্টা করুন। হয়তো খুব দ্রুত তারা দুনিয়া ছেড়ে চলে যাবেন, তখন তাদের থেকে এই জ্ঞানগুলো না নেওয়ায় আপনাকে আফসোস করতে হবে।
যদি আপনারা তিনজন একসাথে বসে থাকেন, তা হলে একজনের সামনে অপর দুজনের কানে কানে কথা বলা ইসলামি আদবের খেলাফ। এটা তৃতীয় ব্যক্তির জন্য বিব্রতকর এবং সন্দেহের কারণ হতে পারে। তাই রাসূল সা. এ ধরনের পরিবেশে কানে কানে কথা বলাকে অপছন্দ করতেন।
রাসূল সা. বলেছেন, “তৃতীয় একজনের উপস্থিতিতে দুজন মানুষের ফিস ফিস করে কথা বলা বা কানে কানে কথা বলা উচিত নয়।" আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা. তখন প্রশ্ন করলেন, 'যদি তারা চারজন হয়?' নবিজি সা. বললেন, 'তা হলে সমস্যা নেই'।" বুখারি: ৬২৮৮, মুসলিম: ২১৮৩
তিনি এমনটি বললেন কারণ, চারজন থাকলে দুজন একটু আস্তে কথা বললেও তা তেমন বিরক্তিকর পরিস্থিতির উদ্রেক করে না। কারণ, এখানে চতুর্থজনের উপস্থিতির কারণে তৃতীয় ব্যক্তি একাকীত্ব ও বিব্রত বোধ করবে না।