📘 ইসলামিক ম্যানারস > 📄 বসার স্থান পছন্দ করা প্রসঙ্গে

📄 বসার স্থান পছন্দ করা প্রসঙ্গে


যে বাড়িতে মেহমান হয়ে গিয়েছেন, অর্থাৎ আয়োজক ব্যক্তি আপনাকে যে চেয়ারে বসতে বলবে, সেখানেই বসুন। বসার জায়গা নিয়ে কোনো ধরনের আলোচনা বা তর্কে জড়াবেন না। কারণ, আপনার যে স্থানটি পছন্দ হয়েছিল, সেখানে বসলে হয়তো বাড়ির ভেতরের দিকে চোখ চলে যেতে পারত কিংবা আপনার ওপর বাড়ির লোকদের দৃষ্টি পড়তে পারত। তাই এ বিষয়গুলো আমাদের বিবেচনায় রাখা প্রয়োজন।

আবু মাসউদ রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন, “কোনো ব্যক্তির প্রভাবাধীন এলাকায় কেউ ইমামতি করবে না এবং তার বাড়িতে তার নির্দিষ্ট আসনে তার অনুমতি ব্যতীত বসবে না।” আবু দাউদ : ৫৯৪

আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া-তে ইবনে কাসির রহ. বলেছেন, “সাহাবি আদি ইবনে হাতেম তায়ি রা. ইসলাম গ্রহণের পর মদিনায় রাসূল সা.-এর সাথে দেখা করতে এলেন। রাসূল সা. আদি রা.-কে সম্মান করে একটি কুশনের ওপর আসন গ্রহণ করতে বলেন। নবিজি সা. মেঝের ওপর বসেন। এরপর রাসূল সা. তাকে নিজের ঘরে নিয়ে যান। সেখানে চামড়ার তৈরি একটি আসন ছিল। রাসূল সা. আদিকে সেই আসনে বসতে বলে নিজে মেঝেতে বসেন। আদি ইবনে হাতেম রা. রাসূল সা.-কে মেঝেতে রেখে আসনে বসতে ইতস্তত করেন। কিন্তু রাসূল সা. তাকে আসনে বসতেই বাধ্য করেন।"

খারিজা ইবনে যায়িদ একবার ইবনে শিরিন রহ.-এর সাথে সাক্ষাৎ করতে যান। বাড়িতে গিয়ে দেখেন, ইবনে শিরিন একটি কুশনের ওপর বসে আছেন। তিনি খারিজাকেও একই রকম একটি কুশনের ওপরে বসতে বললেন। খারিজা বললেন, 'অসুবিধা নেই, আমি এমনিই ঠিক আছি।' ইবনে শিরিন উত্তর দেন, “আমার বাড়িতে আমি নিজে যেভাবে থাকি বা বসি, আমার মেহমানকেও সেভাবে না বসাতে পারলে আমার ভালো লাগে না। তাই তোমাকে যেখানে বসতে বলা হয়েছে, সেখানেই বসো। তুমি নিজের মতো করে বসো না, যদি না যার বাসা তিনি তোমাকে সম্মতি দেন।"

রাসূল সা. বলেছেন, “তোমরা কেউ কারও বাড়িতে গিয়ে নামাজের ইমামতি করতে চাইবে না, যদি না যার বাড়ি তিনি সম্মত হন। আবার কেউ আয়োজকদের অনুমতি বা ইঙ্গিত ব্যতীত ইচ্ছেমতো আসন গ্রহণও করবে না।" তিনি আরও বলেন, “কোনো ব্যক্তি অপর কাউকে তার বসার স্থান থেকে উঠিয়ে দিয়ে সেখানে বসবে না।" মুসলিম

আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা. বর্ণিত, “নবি সা. কোনো লোককে তার বসার স্থান থেকে উঠিয়ে দিয়ে সেখানে বসতে নিষেধ করেছেন।” বুখারি

যদি আপনি কোনো দাওয়াতে অন্য সবার আগে উপস্থিত হন, আর আয়োজক আপনাকে সবচেয়ে ভালো আসনটিতেই বসতে বলেন, তারপরও আপনার এমন মানসিকতা রাখা উচিত যে, দাওয়াতে বয়স্ক কোনো মুরব্বি বা কোনো আলিম অথবা সম্মানিত ব্যক্তি আসার পর ওই ভালো আসনটি তার জন্য ছেড়ে দেবেন। কারণ, আপনার তুলনায় উল্লিখিত ব্যক্তিরা ওই আসনটি পাওয়ার বেশি যোগ্য।

যদি বসার স্থান বেছে নেওয়ার সুযোগ থাকে, তা হলে চেষ্টা করুন, উত্তম লোকদের সাথে বসতে; যাদের সংস্পর্শে থাকলে ভালো কিছু শিখতে পারবেন।

আনাস রা. থেকে বর্ণিত, রাসূল সা. বলেছেন, “যে মুমিন কুরআন পড়ে তার উদাহরণ হলো কমলালেবু, যার ঘ্রাণ স্নিগ্ধ এবং স্বাদ উত্তম। আর যে মুমিন কুরআন পড়ে না তার উদাহরণ হলো খেজুর, যা সুস্বাদু কিন্তু ঘ্রাণহীন। আর যে গুনাহগার ব্যক্তি কুরআন পড়ে তার উদাহরণ লতাগুল্ম, যার ঘ্রাণ স্নিগ্ধ কিন্তু স্বাদ তিক্ত। পক্ষান্তরে, যে গুনাহগার ব্যক্তি কুরআন পড়ে না তার উদাহরণ হানযালা বৃক্ষের ফল, যার স্বাদ তিক্ত আর সুগন্ধও নেই। সৎলোকের সংসর্গ হলো কস্তুরি বিক্রেতার মতো, তুমি কস্তুরি না পেলেও তার সুবাস পাবে। আর অসৎলোকের সংসর্গ হলো কামারের সদৃশ। কালি ও ময়লা না লাগলেও ধোঁয়া হতে রক্ষা পাবে না।” আবু দাউদ : ৪৮২৯

সম্মানিত ব্যক্তিবর্গের উপস্থিতির পরও যদি আপনি ভালো আসনটিতে বসে থাকেন এবং আপনার তুলনায় সম্মানীয় ব্যক্তির জন্য তা ছেড়ে না দেন, তবে লোকজন আপনাকে শিষ্টাচারবোধহীন বলে মনে করবে। আপনার ভেতর ন্যূনতম সৌজন্যবোধও নেই বলে ধারণা করে নেবে। আপনি রাসূল সা.-এর প্রত্যাখ্যাত ব্যক্তিদের তালিকায় পড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। কারণ, রাসূল সা. বলেছেন, “যে বড়োদের সম্মান করে না, সে আমার দলভুক্ত নয়।”

কিছু ব্যক্তি আছে যারা কোনো দাওয়াতে বা মজলিসে গেলে নিয়মিত বিরতিতে হাই তুলতে থাকে। অনেক সময় এর ওপর সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির নিয়ন্ত্রণও থাকে না। তা সত্ত্বেও চেষ্টা করতে হবে, যেন হাই তোলা সহনীয় পর্যায়ে থাকে। কারণ, এ ধরনের অনুষ্ঠানে ঘনঘন হাই তোলাটা এক ধরনের অসৌজন্যতাও বটে। আবু সাঈদ খুদরি রা. থেকে বর্ণিত, রাসূল সা. বলেছেন, “তোমাদের কোনো ব্যক্তির হাই এলে সে যেন তার মুখ বন্ধ করে দেয়। কারণ, শয়তান ভেতরে ঢোকে।” আবু দাউদ: ৫০২৬

অনেক সময় দেখা যায়, একজন অতিথি একটি চেয়ারে বসে আছেন। তার হয়তো কোনো কারণে হাত ধোয়ার প্রয়োজন পড়ল বা তিনি হয়তো ওয়াশরুমে গেলেন। তিনি চেয়ার ছেড়ে যাওয়া মাত্রই অন্য কেউ এসে সেই খালি চেয়ারটিতে বসে পড়ল। এরকম আচরণ এক ধরনের অপরিপক্কতা এবং শিষ্ঠাচার বহির্ভূত কাজ। ইসলাম এ ধরনের আচরণ অনুমোদন করে না। সুহাইল ইবনে আবু সালিহ রহ. তাঁর পিতা থেকে আবু হুরায়রা রা.-এর সূত্রে বর্ণনা করেন, রাসূল সা. বলেছেন, “যদি কোনো ব্যক্তি বৈঠক হতে কোথাও যাওয়ার পর প্রত্যাবর্তন করে, তা হলে সে পূর্বের স্থানে বসার অধিক হকদার।” আবু দাউদ: ৪৮৫৩

গো ধরে নিজের চেয়ারে বসে থাকার মাঝে কোনো কৃতিত্ব নেই, এতে সম্মান বাড়বে না। নিজের জন্য যথার্থ নয় এমন সম্মান পাওয়ার জন্য একগুঁয়েমি করায় মানুষের কটু কথারও শিকার হতে হবে। এই বিষয়টা নারী-পুরুষ উভয়ের জন্যই প্রযোজ্য। দায়িত্বজ্ঞানহীনতা সামাজিক মর্যাদা বাড়ানোর জন্য সহায়ক নয়। বরং এটা এমন একটি ভুল, যা আপনার সুনাম ও সম্মান ব্যাপকভাবে হানি করবে। একজন সম্মানিত মানুষকে সম্মান করতে পারলে নিজের সুনাম ও গ্রহণযোগ্যতা বৃদ্ধি পাবে। আশেপাশের মানুষ আপনার শিষ্টাচার ও বিনয়ের প্রশংসা করবে।

যদি মাঝারি মানের মর্যাদার আসনেও বসে থাকেন, আর তখন যদি কোনো খ্যাতনামা ও সম্মানিত ব্যক্তি প্রবেশ করে, তারপরও তার সম্মানে নিজের আসন ছেড়ে দিন। বড়োদের সম্মান করা শিষ্টাচার ও সৌজন্যতারই বহিঃপ্রকাশ। ইমাম মুসলিম রহ. থেকে বর্ণিত, রাসূল সা. বলেছেন, "নামাজে দাঁড়ানোর সময় তোমাদের মধ্যে যারা সবচেয়ে জ্ঞানী ও মুরব্বি, তারাই আমার পেছনে দাঁড়াবে। তাদের তুলনায় যারা নবীন, তারা তাদের পেছনে দাঁড়াবে।”

মনে করুন, কোনো এক আয়োজনে হঠাৎ করে কোনো বয়স্ক ব্যক্তি আপনাকে কোনো একটি বিষয়ে আলোচনা করার কথা বলতে পারেন। অথবা প্রশ্নও করে বসতে পারেন কিংবা আপনার মতামত বা পরামর্শ চাইতে পারেন। যদি সেই ব্যক্তির কাছে এসে আপনাকে বসতে হয়, তা হলে সুন্দর হবে কথা শেষে পূর্বের আসনে ফিরে যাওয়া। যদি আয়োজকরা আপনাকে বক্তার আসনে থাকতে বলেন, তা হলে ভিন্ন কথা। না হলে নিজের আসনে ফিরে যাওয়াই উত্তম। অনেক সময় এমন হয়, কেউ কোনো একটি আসনে বসে আছেন, কর্তৃপক্ষ তাকে সেখান থেকে উঠে যেতে বললে তিনি বিব্রত বোধ করবেন। মনে রাখতে হবে, শিষ্টাচার বিবেচনাবোধ থেকেই প্রয়োগ করতে হয়। পাশাপাশি, বয়স্ক ও জ্ঞানী লোকদের সাহচর্যে গেলে শিষ্টাচারবোধ আরও পাকাপোক্ত হয়। কারণ, সেই প্রখ্যাত বা বয়োজৈষ্ঠ্য মানুষগুলো কীভাবে কাজ করছেন, তাদের আচার-ব্যবহার কেমন ইত্যাদি পর্যবেক্ষণ করার মাধ্যমেও নিজের কমনসেন্স, শিষ্টাচারবোধ এবং মানবিক ব্যবহার উন্নত করা সম্ভব।

আবার আপনি হয়তো এমন কোনো আয়োজনে কথা বলার সুযোগ পেয়ে যেতে পারেন, যেখানে আপনিই সবচেয়ে নবীন ও কম বয়সি। এরকম স্থানে গেলে কেউ না বলা পর্যন্ত আসন গ্রহণ করা উচিত নয়। সিট না থাকলে অন্যকে উঠিয়ে দিয়ে বসার চেষ্টা করা খুবই অসুন্দর। আপনাকে বসতে বলা হলেও সবচেয়ে ভালো সিটটি নেওয়া ঠিক হবে না। কারণ, আপনার তুলনায় কোনো যোগ্য লোক হয়তো সেই অনুষ্ঠানে উপস্থিত হতে পারে, যিনি ভালো আসনটিতে বসার হকদার। এরকম কোনো ব্যক্তি থাকলে তার সম্মানে নিজের আসনটি ছেড়ে দেওয়ার জন্য মানসিকভাবে সব সময় প্রস্তুত থাকুন।

আয়োজন শুরু করার সময় দুআ করুন। দুআ করলে আলোচনাকে সার্বিকভাবে শয়তানের প্ররোচনার হাত থেকে রক্ষা করা যায়। আমর ইবনুল আস থেকে বর্ণিত, “যদি নিম্নোক্ত বাক্যগুলো কোনো মজলিসে পাঠ করা হয়, তা হলে বইয়ে সিলমোহর করার মতোই এই আলোচনাও তার জন্য স্থায়িত্ব লাভ করবে। سُبْحَانَكَ اللَّهُمَّ وَبِحَمْدِكَ، أَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ أَسْتَغْفِرُكَ وَأَتُوبُ إِلَيْكَ – হে আল্লাহ! মহিমা আপনার, আমি আপনার প্রশংসা সহকারে শুরু করছি। আপনি ছাড়া কোনো ইলাহ নেই। আমি আপনার নিকট ক্ষমা চাই এবং অনুতপ্ত হয়ে আপনার নিকট ফিরে আসছি।" আবু দাউদ: ৪৮৫৭

যে বাড়িতে মেহমান হয়ে গিয়েছেন, অর্থাৎ আয়োজক ব্যক্তি আপনাকে যে চেয়ারে বসতে বলবে, সেখানেই বসুন। বসার জায়গা নিয়ে কোনো ধরনের আলোচনা বা তর্কে জড়াবেন না। কারণ, আপনার যে স্থানটি পছন্দ হয়েছিল, সেখানে বসলে হয়তো বাড়ির ভেতরের দিকে চোখ চলে যেতে পারত কিংবা আপনার ওপর বাড়ির লোকদের দৃষ্টি পড়তে পারত। তাই এ বিষয়গুলো আমাদের বিবেচনায় রাখা প্রয়োজন।
আবু মাসউদ রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন, “কোনো ব্যক্তির প্রভাবাধীন এলাকায় কেউ ইমামতি করবে না এবং তার বাড়িতে তার নির্দিষ্ট আসনে তার অনুমতি ব্যতীত বসবে না।” আবু দাউদ : ৫৯৪
আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া-তে ইবনে কাসির রহ. বলেছেন, “সাহাবি আদি ইবনে হাতেম তায়ি রা. ইসলাম গ্রহণের পর মদিনায় রাসূল সা.-এর সাথে দেখা করতে এলেন। রাসূল সা. আদি রা.-কে সম্মান করে একটি কুশনের ওপর আসন গ্রহণ করতে বলেন। নবিজি সা. মেঝের ওপর বসেন। এরপর রাসূল সা. তাকে নিজের ঘরে নিয়ে যান। সেখানে চামড়ার তৈরি একটি আসন ছিল। রাসূল সা. আদিকে সেই আসনে বসতে বলে নিজে মেঝেতে বসেন। আদি ইবনে হাতেম রা. রাসূল সা.-কে মেঝেতে রেখে আসনে বসতে ইতস্তত করেন। কিন্তু রাসূল সা. তাকে আসনে বসতেই বাধ্য করেন।"
খারিজা ইবনে যায়িদ একবার ইবনে শিরিন রহ.-এর সাথে সাক্ষাৎ করতে যান। বাড়িতে গিয়ে দেখেন, ইবনে শিরিন একটি কুশনের ওপর বসে আছেন। তিনি খারিজাকেও একই রকম একটি কুশনের ওপরে বসতে বললেন। খারিজা বললেন, 'অসুবিধা নেই, আমি এমনিই ঠিক আছি।' ইবনে শিরিন উত্তর দেন, “আমার বাড়িতে আমি নিজে যেভাবে থাকি বা বসি, আমার মেহমানকেও সেভাবে না বসাতে পারলে আমার ভালো লাগে না। তাই তোমাকে যেখানে বসতে বলা হয়েছে, সেখানেই বসো। তুমি নিজের মতো করে বসো না, যদি না যার বাসা তিনি তোমাকে সম্মতি দেন।"
রাসূল সা. বলেছেন, “তোমরা কেউ কারও বাড়িতে গিয়ে নামাজের ইমামতি করতে চাইবে না, যদি না যার বাড়ি তিনি সম্মত হন। আবার কেউ আয়োজকদের অনুমতি বা ইঙ্গিত ব্যতীত ইচ্ছেমতো আসন গ্রহণও করবে না।" তিনি আরও বলেন, “কোনো ব্যক্তি অপর কাউকে তার বসার স্থান থেকে উঠিয়ে দিয়ে সেখানে বসবে না।" মুসলিম
আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা. বর্ণিত, “নবি সা. কোনো লোককে তার বসার স্থান থেকে উঠিয়ে দিয়ে সেখানে বসতে নিষেধ করেছেন।” বুখারি
যদি আপনি কোনো দাওয়াতে অন্য সবার আগে উপস্থিত হন, আর আয়োজক আপনাকে সবচেয়ে ভালো আসনটিতেই বসতে বলেন, তারপরও আপনার এমন মানসিকতা রাখা উচিত যে, দাওয়াতে বয়স্ক কোনো মুরব্বি বা কোনো আলিম অথবা সম্মানিত ব্যক্তি আসার পর ওই ভালো আসনটি তার জন্য ছেড়ে দেবেন। কারণ, আপনার তুলনায় উল্লিখিত ব্যক্তিরা ওই আসনটি পাওয়ার বেশি যোগ্য।
যদি বসার স্থান বেছে নেওয়ার সুযোগ থাকে, তা হলে চেষ্টা করুন, উত্তম লোকদের সাথে বসতে; যাদের সংস্পর্শে থাকলে ভালো কিছু শিখতে পারবেন।
আনাস রা. থেকে বর্ণিত, রাসূল সা. বলেছেন, “যে মুমিন কুরআন পড়ে তার উদাহরণ হলো কমলালেবু, যার ঘ্রাণ স্নিগ্ধ এবং স্বাদ উত্তম। আর যে মুমিন কুরআন পড়ে না তার উদাহরণ হলো খেজুর, যা সুস্বাদু কিন্তু ঘ্রাণহীন। আর যে গুনাহগার ব্যক্তি কুরআন পড়ে তার উদাহরণ লতাগুল্ম, যার ঘ্রাণ স্নিগ্ধ কিন্তু স্বাদ তিক্ত। পক্ষান্তরে, যে গুনাহগার ব্যক্তি কুরআন পড়ে না তার উদাহরণ হানযালা বৃক্ষের ফল, যার স্বাদ তিক্ত আর সুগন্ধও নেই। সৎলোকের সংসর্গ হলো কস্তুরি বিক্রেতার মতো, তুমি কস্তুরি না পেলেও তার সুবাস পাবে। আর অসৎলোকের সংসর্গ হলো কামারের সদৃশ। কালি ও ময়লা না লাগলেও ধোঁয়া হতে রক্ষা পাবে না।” আবু দাউদ : ৪৮২৯
সম্মানিত ব্যক্তিবর্গের উপস্থিতির পরও যদি আপনি ভালো আসনটিতে বসে থাকেন এবং আপনার তুলনায় সম্মানীয় ব্যক্তির জন্য তা ছেড়ে না দেন, তবে লোকজন আপনাকে শিষ্টাচারবোধহীন বলে মনে করবে। আপনার ভেতর ন্যূনতম সৌজন্যবোধও নেই বলে ধারণা করে নেবে। আপনি রাসূল সা.-এর প্রত্যাখ্যাত ব্যক্তিদের তালিকায় পড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। কারণ, রাসূল সা. বলেছেন, “যে বড়োদের সম্মান করে না, সে আমার দলভুক্ত নয়।”
কিছু ব্যক্তি আছে যারা কোনো দাওয়াতে বা মজলিসে গেলে নিয়মিত বিরতিতে হাই তুলতে থাকে। অনেক সময় এর ওপর সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির নিয়ন্ত্রণও থাকে না। তা সত্ত্বেও চেষ্টা করতে হবে, যেন হাই তোলা সহনীয় পর্যায়ে থাকে। কারণ, এ ধরনের অনুষ্ঠানে ঘনঘন হাই তোলাটা এক ধরনের অসৌজন্যতাও বটে। আবু সাঈদ খুদরি রা. থেকে বর্ণিত, রাসূল সা. বলেছেন, “তোমাদের কোনো ব্যক্তির হাই এলে সে যেন তার মুখ বন্ধ করে দেয়। কারণ, শয়তান ভেতরে ঢোকে।” আবু দাউদ: ৫০২৬
অনেক সময় দেখা যায়, একজন অতিথি একটি চেয়ারে বসে আছেন। তার হয়তো কোনো কারণে হাত ধোয়ার প্রয়োজন পড়ল বা তিনি হয়তো ওয়াশরুমে গেলেন। তিনি চেয়ার ছেড়ে যাওয়া মাত্রই অন্য কেউ এসে সেই খালি চেয়ারটিতে বসে পড়ল। এরকম আচরণ এক ধরনের অপরিপক্কতা এবং শিষ্ঠাচার বহির্ভূত কাজ। ইসলাম এ ধরনের আচরণ অনুমোদন করে না। সুহাইল ইবনে আবু সালিহ রহ. তাঁর পিতা থেকে আবু হুরায়রা রা.-এর সূত্রে বর্ণনা করেন, রাসূল সা. বলেছেন, “যদি কোনো ব্যক্তি বৈঠক হতে কোথাও যাওয়ার পর প্রত্যাবর্তন করে, তা হলে সে পূর্বের স্থানে বসার অধিক হকদার।” আবু দাউদ: ৪৮৫৩
গো ধরে নিজের চেয়ারে বসে থাকার মাঝে কোনো কৃতিত্ব নেই, এতে সম্মান বাড়বে না। নিজের জন্য যথার্থ নয় এমন সম্মান পাওয়ার জন্য একগুঁয়েমি করায় মানুষের কটু কথারও শিকার হতে হবে। এই বিষয়টা নারী-পুরুষ উভয়ের জন্যই প্রযোজ্য। দায়িত্বজ্ঞানহীনতা সামাজিক মর্যাদা বাড়ানোর জন্য সহায়ক নয়। বরং এটা এমন একটি ভুল, যা আপনার সুনাম ও সম্মান ব্যাপকভাবে হানি করবে। একজন সম্মানিত মানুষকে সম্মান করতে পারলে নিজের সুনাম ও গ্রহণযোগ্যতা বৃদ্ধি পাবে। আশেপাশের মানুষ আপনার শিষ্টাচার ও বিনয়ের প্রশংসা করবে।
যদি মাঝারি মানের মর্যাদার আসনেও বসে থাকেন, আর তখন যদি কোনো খ্যাতনামা ও সম্মানিত ব্যক্তি প্রবেশ করে, তারপরও তার সম্মানে নিজের আসন ছেড়ে দিন। বড়োদের সম্মান করা শিষ্টাচার ও সৌজন্যতারই বহিঃপ্রকাশ। ইমাম মুসলিম রহ. থেকে বর্ণিত, রাসূল সা. বলেছেন, "নামাজে দাঁড়ানোর সময় তোমাদের মধ্যে যারা সবচেয়ে জ্ঞানী ও মুরব্বি, তারাই আমার পেছনে দাঁড়াবে। তাদের তুলনায় যারা নবীন, তারা তাদের পেছনে দাঁড়াবে।”
মনে করুন, কোনো এক আয়োজনে হঠাৎ করে কোনো বয়স্ক ব্যক্তি আপনাকে কোনো একটি বিষয়ে আলোচনা করার কথা বলতে পারেন। অথবা প্রশ্নও করে বসতে পারেন কিংবা আপনার মতামত বা পরামর্শ চাইতে পারেন। যদি সেই ব্যক্তির কাছে এসে আপনাকে বসতে হয়, তা হলে সুন্দর হবে কথা শেষে পূর্বের আসনে ফিরে যাওয়া। যদি আয়োজকরা আপনাকে বক্তার আসনে থাকতে বলেন, তা হলে ভিন্ন কথা। না হলে নিজের আসনে ফিরে যাওয়াই উত্তম। অনেক সময় এমন হয়, কেউ কোনো একটি আসনে বসে আছেন, কর্তৃপক্ষ তাকে সেখান থেকে উঠে যেতে বললে তিনি বিব্রত বোধ করবেন। মনে রাখতে হবে, শিষ্টাচার বিবেচনাবোধ থেকেই প্রয়োগ করতে হয়। পাশাপাশি, বয়স্ক ও জ্ঞানী লোকদের সাহচর্যে গেলে শিষ্টাচারবোধ আরও পাকাপোক্ত হয়। কারণ, সেই প্রখ্যাত বা বয়োজৈষ্ঠ্য মানুষগুলো কীভাবে কাজ করছেন, তাদের আচার-ব্যবহার কেমন ইত্যাদি পর্যবেক্ষণ করার মাধ্যমেও নিজের কমনসেন্স, শিষ্টাচারবোধ এবং মানবিক ব্যবহার উন্নত করা সম্ভব।
আবার আপনি হয়তো এমন কোনো আয়োজনে কথা বলার সুযোগ পেয়ে যেতে পারেন, যেখানে আপনিই সবচেয়ে নবীন ও কম বয়সি। এরকম স্থানে গেলে কেউ না বলা পর্যন্ত আসন গ্রহণ করা উচিত নয়। সিট না থাকলে অন্যকে উঠিয়ে দিয়ে বসার চেষ্টা করা খুবই অসুন্দর। আপনাকে বসতে বলা হলেও সবচেয়ে ভালো সিটটি নেওয়া ঠিক হবে না। কারণ, আপনার তুলনায় কোনো যোগ্য লোক হয়তো সেই অনুষ্ঠানে উপস্থিত হতে পারে, যিনি ভালো আসনটিতে বসার হকদার। এরকম কোনো ব্যক্তি থাকলে তার সম্মানে নিজের আসনটি ছেড়ে দেওয়ার জন্য মানসিকভাবে সব সময় প্রস্তুত থাকুন।
আয়োজন শুরু করার সময় দুআ করুন। দুআ করলে আলোচনাকে সার্বিকভাবে শয়তানের প্ররোচনার হাত থেকে রক্ষা করা যায়। আমর ইবনুল আস থেকে বর্ণিত, “যদি নিম্নোক্ত বাক্যগুলো কোনো মজলিসে পাঠ করা হয়, তা হলে বইয়ে সিলমোহর করার মতোই এই আলোচনাও তার জন্য স্থায়িত্ব লাভ করবে। سُبْحَانَكَ اللَّهُمَّ وَبِحَمْدِكَ، أَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ أَسْتَغْفِرُكَ وَأَتُوبُ إِلَيْكَ – হে আল্লাহ! মহিমা আপনার, আমি আপনার প্রশংসা সহকারে শুরু করছি। আপনি ছাড়া কোনো ইলাহ নেই। আমি আপনার নিকট ক্ষমা চাই এবং অনুতপ্ত হয়ে আপনার নিকট ফিরে আসছি।" আবু দাউদ: ৪৮৫৭

📘 ইসলামিক ম্যানারস > 📄 মেহমান কখনোই প্রদর্শক নয়

📄 মেহমান কখনোই প্রদর্শক নয়


যখন কোনো বাড়িতে প্রবেশ করবেন, সেখানে সাময়িক সময়ের জন্য মেহমান হোন অথবা রাতে থাকার নিয়তেই উপস্থিত হোন না কেন, খুব বেশি এদিক-ওদিক তাকাবেন না। একজন ইন্সপেক্টর বা পরিদর্শক যেভাবে সবকিছু দেখার চেষ্টা করে, তেমনটা করবেন না। বরং যতটুকু দেখা প্রয়োজন, ততটুকুর মাঝে নিজের দৃষ্টি সীমাবদ্ধ রাখুন। বন্ধ কিছুকে খোলার চেষ্টা করবেন না। কোনো বাক্স, মানিব্যাগ, প্যাকেট বা মোড়কে ঢাকা কোনো কিছু নিয়ে ঘাঁটাঘাঁটি করবেন না। এসব আচরণ ইসলামি শিষ্টাচারের সম্পূর্ণ বিপরীত। তা ছাড়া আয়োজকরা যে বিশ্বাস ও আস্থা থেকে আপনাকে নিমন্ত্রণ করেছেন, তার সাথেও বিষয়টা সাংঘর্ষিক। যেকোনো জায়গায় গেলে এই আদব রক্ষা করুন। যার বাড়িতে মেহমান হয়েছেন, তার সম্মান ও ভালোবাসা পাওয়ার চেষ্টা করুন।

ইমাম মুহাসিবি রহ. তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থ রিসালাতুল মুসতারসিদিন-এ বলেছেন, “দেখা মানে শুধু দেখে যাওয়াই নয়, বরং যা লুকানো বা আড়ালে রাখা আছে তার দিকে না তাকানোটাও দৃষ্টির আদবের আওতায় পড়ে।” অন্যদিকে দাউদ তায়ি রহ. বলেন, “আমাকে আমার শিক্ষক বলেছেন, ছোটো ছোটো কাজ বা গুনাহর জন্য যেমন আমাদের জবাবদিহি করতে হবে, ঠিক তেমনি ছোটো ছোটো বিষয়ে অযাচিত দৃষ্টি দেওয়ার জন্যেও আমাদের জবাবদিহি করা হবে।”

প্রাথমিক যুগে ইসলামি সমাজের পরিবেশ এমন ছিল, কেউ ভুলক্রমে নিজের বাড়ির দরজা বন্ধ করতে ভুলে গেলেও উদ্বিগ্ন হতে হতো না। কারণ, সে জানত যে, অন্য কোনো ব্যক্তি তার বাড়িতে প্রবেশ করবে না; এমনকি কুদৃষ্টিও দেবে না।

যখন কোনো বাড়িতে প্রবেশ করবেন, সেখানে সাময়িক সময়ের জন্য মেহমান হোন অথবা রাতে থাকার নিয়তেই উপস্থিত হোন না কেন, খুব বেশি এদিক-ওদিক তাকাবেন না। একজন ইন্সপেক্টর বা পরিদর্শক যেভাবে সবকিছু দেখার চেষ্টা করে, তেমনটা করবেন না। বরং যতটুকু দেখা প্রয়োজন, ততটুকুর মাঝে নিজের দৃষ্টি সীমাবদ্ধ রাখুন। বন্ধ কিছুকে খোলার চেষ্টা করবেন না। কোনো বাক্স, মানিব্যাগ, প্যাকেট বা মোড়কে ঢাকা কোনো কিছু নিয়ে ঘাঁটাঘাঁটি করবেন না। এসব আচরণ ইসলামি শিষ্টাচারের সম্পূর্ণ বিপরীত। তা ছাড়া আয়োজকরা যে বিশ্বাস ও আস্থা থেকে আপনাকে নিমন্ত্রণ করেছেন, তার সাথেও বিষয়টা সাংঘর্ষিক। যেকোনো জায়গায় গেলে এই আদব রক্ষা করুন। যার বাড়িতে মেহমান হয়েছেন, তার সম্মান ও ভালোবাসা পাওয়ার চেষ্টা করুন।
ইমাম মুহাসিবি রহ. তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থ রিসালাতুল মুসতারসিদিন-এ বলেছেন, “দেখা মানে শুধু দেখে যাওয়াই নয়, বরং যা লুকানো বা আড়ালে রাখা আছে তার দিকে না তাকানোটাও দৃষ্টির আদবের আওতায় পড়ে।” অন্যদিকে দাউদ তায়ি রহ. বলেন, “আমাকে আমার শিক্ষক বলেছেন, ছোটো ছোটো কাজ বা গুনাহর জন্য যেমন আমাদের জবাবদিহি করতে হবে, ঠিক তেমনি ছোটো ছোটো বিষয়ে অযাচিত দৃষ্টি দেওয়ার জন্যেও আমাদের জবাবদিহি করা হবে।”
প্রাথমিক যুগে ইসলামি সমাজের পরিবেশ এমন ছিল, কেউ ভুলক্রমে নিজের বাড়ির দরজা বন্ধ করতে ভুলে গেলেও উদ্বিগ্ন হতে হতো না। কারণ, সে জানত যে, অন্য কোনো ব্যক্তি তার বাড়িতে প্রবেশ করবে না; এমনকি কুদৃষ্টিও দেবে না।

📘 ইসলামিক ম্যানারস > 📄 সাক্ষাতের সময় নির্ধারণ

📄 সাক্ষাতের সময় নির্ধারণ


সাক্ষাতের জন্য পূর্বেই একটি নির্দিষ্ট সময় বাছাই করুন। অনাকাঙ্ক্ষিত কোনো সময়ে সাক্ষাৎ করতে যাবেন না। বিশেষ করে খাওয়ার সময়, ঘুমানোর সময় বা বিশ্রাম নেওয়ার সময়গুলোতে কারও বাড়িতে না যাওয়াই ভালো।

“হে মুমিনগণ! তোমাদের দাস-দাসীরা এবং (সন্তানসন্ততি) যারা প্রাপ্তবয়স্ক হয়নি, তারা যেন তিন সময়ে তোমাদের কাছে যাওয়ার আগে অনুমতি গ্রহণ করে। এগুলো হলো- ফজরের নামাজের পূর্বে, দুপুরে যখন তোমরা জামা ঢিল করে রাখো এবং এশার নামাজের পর। এই তিন সময় অন্তরালের সময়। এ সময়ের পর তোমাদের ও তাদের জন্য কোনো দোষ নেই। তোমাদের একে অপরের কাছে তো যাতায়াত করতেই হয়, এমনিভাবে আল্লাহ তোমাদের কাছে সুস্পষ্ট আয়াতসমূহ বিবৃত করেন। আল্লাহ সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়।” সূরা নূর : ৫৮

এই আয়াত থেকে বোঝা যায়, ইসলাম মানুষের ব্যক্তিগত বিষয় ও গোপনীয়তাকে কতটা গুরুত্ব দিয়েছে। উপরোক্ত সময়গুলোতে বিশেষ গোপনীয়তা বজায় রাখার চেষ্টা করা দরকার। কারণ, এই তিন সময়ে কেউ ঘুমাতে পারে, বিশ্রাম নিতে পারে কিংবা স্ত্রীর সাথে একান্তে সময় কাটাতে পারে। সে কারণে এই তিন সময়ে ঘরে প্রবেশ করার ক্ষেত্রে, বাড়ির গৃহপরিচারিকা, এমনকি ছোটো সন্তানদেরও অনুমতি নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। তাই এই সময়গুলোতে মেহমান হিসেবেও কারও বাড়িতে না যাওয়াই উত্তম। তবে জরুরি বিষয় হলে ভিন্ন কথা।

হিজরতের ঠিক পূর্ব মুহূর্তের বর্ণনা দিতে গিয়ে মা আয়িশা রা. বলেন, “রাসূল সা. কখনোই দুপুর বেলায় আমাদের বাড়িতে আসতেন না। একদিন ঠিক দুপুরের প্রথমভাগে আমরা সবাই আমাদের ঘরে বসা। তখন কেউ একজন আবু বকর রা.-কে বলল, ওই তো রাসূল সা. চাদর মুড়িয়ে এদিকে আসছেন। তিনি তো সাধারণত এ সময়ে এখানে আসেন না। রাসূল সা. এসে প্রবেশের অনুমতি চাইলেন। তাকে অনুমতি দেওয়া হলে তিনি ভেতরে এলেন। তখন আবু বকর রা. বাড়ির সবাইকে বলছিলেন, খুব জরুরি কিছু না হলে রাসূল সা. এই সময়ে আসতেন না।" বুখারি : ২১৩৮

উল্লেখ্য, রাসূল সা. মদিনায় হিজরত করার জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে অনুমতি পাওয়ার পরই আবু বকর রা.-কে বিষয়টা জানানোর জন্য সেদিন দুপুরে তাঁর বাড়িতে গিয়েছিলেন।

কত সময় ধরে আপনি সাক্ষাৎকৃত ব্যক্তির সাথে অবস্থান করবেন, সেই বিষয়টা নির্ভর করবে আপনি যার বাড়িতে যাচ্ছেন তাকে কতটা ভালো জানেন তার ওপর। তার পরিস্থিতি, বাড়ির অবস্থার আলোকেই আপনি সাক্ষাতের মেয়াদ নির্ধারণ করবেন। অযথা এতটা সময় কারও বাড়িতে থাকবেন না, যাতে বাড়ির মানুষদের জন্য বিষয়টা বিব্রতকর বা কষ্টদায়ক হয়ে যায়।

ইমাম নববি রহ. তাঁর আল আযকার গ্রন্থে বলেছেন, "মুসলিমদের উচিত ধার্মিক মানুষদের বাড়িতে, তাদের নিকটাত্মীয়দের বাড়িতে, প্রতিবেশী, বন্ধুবান্ধব ও সহকর্মীদের বাড়িতে মাঝে মাঝেই বেড়াতে যাওয়া। সেই সাথে এই মানুষগুলোর প্রতি উদার, দয়ালু, সহানুভূতিশীল হওয়াও আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। তবে সাক্ষাতে গেলে আমরা কত সময় সেখানে থাকব, তা সংশ্লিষ্ট বাড়ির পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে। প্রতিটি সাক্ষাৎ আনন্দ ও স্বস্তিদায়ক হওয়া বাঞ্ছনীয়। সাক্ষাতের সময়টাও অনুকূল হওয়া প্রয়োজন।”

সাক্ষাতের জন্য পূর্বেই একটি নির্দিষ্ট সময় বাছাই করুন। অনাকাঙ্ক্ষিত কোনো সময়ে সাক্ষাৎ করতে যাবেন না। বিশেষ করে খাওয়ার সময়, ঘুমানোর সময় বা বিশ্রাম নেওয়ার সময়গুলোতে কারও বাড়িতে না যাওয়াই ভালো।
“হে মুমিনগণ! তোমাদের দাস-দাসীরা এবং (সন্তানসন্ততি) যারা প্রাপ্তবয়স্ক হয়নি, তারা যেন তিন সময়ে তোমাদের কাছে যাওয়ার আগে অনুমতি গ্রহণ করে। এগুলো হলো- ফজরের নামাজের পূর্বে, দুপুরে যখন তোমরা জামা ঢিল করে রাখো এবং এশার নামাজের পর। এই তিন সময় অন্তরালের সময়। এ সময়ের পর তোমাদের ও তাদের জন্য কোনো দোষ নেই। তোমাদের একে অপরের কাছে তো যাতায়াত করতেই হয়, এমনিভাবে আল্লাহ তোমাদের কাছে সুস্পষ্ট আয়াতসমূহ বিবৃত করেন। আল্লাহ সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়।” সূরা নূর : ৫৮
এই আয়াত থেকে বোঝা যায়, ইসলাম মানুষের ব্যক্তিগত বিষয় ও গোপনীয়তাকে কতটা গুরুত্ব দিয়েছে। উপরোক্ত সময়গুলোতে বিশেষ গোপনীয়তা বজায় রাখার চেষ্টা করা দরকার। কারণ, এই তিন সময়ে কেউ ঘুমাতে পারে, বিশ্রাম নিতে পারে কিংবা স্ত্রীর সাথে একান্তে সময় কাটাতে পারে। সে কারণে এই তিন সময়ে ঘরে প্রবেশ করার ক্ষেত্রে, বাড়ির গৃহপরিচারিকা, এমনকি ছোটো সন্তানদেরও অনুমতি নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। তাই এই সময়গুলোতে মেহমান হিসেবেও কারও বাড়িতে না যাওয়াই উত্তম। তবে জরুরি বিষয় হলে ভিন্ন কথা।
হিজরতের ঠিক পূর্ব মুহূর্তের বর্ণনা দিতে গিয়ে মা আয়িশা রা. বলেন, “রাসূল সা. কখনোই দুপুর বেলায় আমাদের বাড়িতে আসতেন না। একদিন ঠিক দুপুরের প্রথমভাগে আমরা সবাই আমাদের ঘরে বসা। তখন কেউ একজন আবু বকর রা.-কে বলল, ওই তো রাসূল সা. চাদর মুড়িয়ে এদিকে আসছেন। তিনি তো সাধারণত এ সময়ে এখানে আসেন না। রাসূল সা. এসে প্রবেশের অনুমতি চাইলেন। তাকে অনুমতি দেওয়া হলে তিনি ভেতরে এলেন। তখন আবু বকর রা. বাড়ির সবাইকে বলছিলেন, খুব জরুরি কিছু না হলে রাসূল সা. এই সময়ে আসতেন না।" বুখারি : ২১৩৮
উল্লেখ্য, রাসূল সা. মদিনায় হিজরত করার জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে অনুমতি পাওয়ার পরই আবু বকর রা.-কে বিষয়টা জানানোর জন্য সেদিন দুপুরে তাঁর বাড়িতে গিয়েছিলেন।
কত সময় ধরে আপনি সাক্ষাৎকৃত ব্যক্তির সাথে অবস্থান করবেন, সেই বিষয়টা নির্ভর করবে আপনি যার বাড়িতে যাচ্ছেন তাকে কতটা ভালো জানেন তার ওপর। তার পরিস্থিতি, বাড়ির অবস্থার আলোকেই আপনি সাক্ষাতের মেয়াদ নির্ধারণ করবেন। অযথা এতটা সময় কারও বাড়িতে থাকবেন না, যাতে বাড়ির মানুষদের জন্য বিষয়টা বিব্রতকর বা কষ্টদায়ক হয়ে যায়।
ইমাম নববি রহ. তাঁর আল আযকার গ্রন্থে বলেছেন, "মুসলিমদের উচিত ধার্মিক মানুষদের বাড়িতে, তাদের নিকটাত্মীয়দের বাড়িতে, প্রতিবেশী, বন্ধুবান্ধব ও সহকর্মীদের বাড়িতে মাঝে মাঝেই বেড়াতে যাওয়া। সেই সাথে এই মানুষগুলোর প্রতি উদার, দয়ালু, সহানুভূতিশীল হওয়াও আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। তবে সাক্ষাতে গেলে আমরা কত সময় সেখানে থাকব, তা সংশ্লিষ্ট বাড়ির পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে। প্রতিটি সাক্ষাৎ আনন্দ ও স্বস্তিদায়ক হওয়া বাঞ্ছনীয়। সাক্ষাতের সময়টাও অনুকূল হওয়া প্রয়োজন।”

📘 ইসলামিক ম্যানারস > 📄 অভ্যর্থনা বা অভিবাদন

📄 অভ্যর্থনা বা অভিবাদন


কোনো ঘরে বা বাড়িতে প্রবেশ করার পর সেখানে উপস্থিত সবার সাথে মুসাফাহা করুন। তাদের সালাম দিন। আতা ইবনে আবদুল্লাহ থেকে বর্ণিত, রাসূল সা. বলেছেন, "তোমরা একে অপরের সাথে মুসাফাহা করো। এতে তোমাদের মাঝে যদি কোনো ঘৃণা ও বিদ্বেষ থাকে, তা দূর হয়ে যাবে; ভালোবাসার সৃষ্টি হবে আর শত্রুভাবাপন্ন মনোভাব কমে আসবে।”

আনাস রা. থেকে বর্ণিত, একবার ইয়েমেন থেকে কিছু মুসাফির নবি সা.-এর সাথে সাক্ষাৎ করতে এলো। খবর পেয়েই রাসূল সা. বললেন, "ইয়েমেনের লোকেরা আসছে। তাদের মন তোমাদের তুলনায় কোমল। তারা সবকিছুর আগে সবার সাথে হাত মিলায় ও মুসাফাহা করে।" আবু দাউদ: ৫২১৩

বারা ইবনে আজিব রা. হতে বর্ণিত, “মুসাফাহা এমন এক আচরণ, যা পারস্পরিক সম্ভাষণ ও শিষ্টাচারকে সম্পূর্ণ করে তোলে।” বুখারি

কোনো মজলিসে বা আয়োজনে যদি সবার সাথে হ্যান্ডশেক বা মুসাফাহা করতে চান, তা হলে সবার আগে যিনি ওই আয়োজনের সবচেয়ে বয়স্ক মানুষ কিংবা সবচেয়ে জ্ঞানী ও ধার্মিক, তার দিকে হাত বাড়িয়ে দিন। আপনার কাছাকাছি বা পাশে যিনি আছে, তার সাথে হাত মেলাতে গিয়ে সবচেয়ে প্রবীণ মানুষটিকে অবহেলা করবেন না। যদি আপনি বুঝতে না পারেন কিংবা আয়োজনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মানুষটিকে সনাক্ত করতে না পারেন, তা হলে বাহ্যিকভাবে দেখে যাকে সবচেয়ে বয়স্ক মনে হয়, তার সাথেই আগে গিয়ে সৌজন্যতা প্রকাশ করুন।

মুসাফাহা করতে গেলে কতক্ষণ হাত ধরে থাকতে হবে, এটা নিয়ে অনেকের মাঝেই সংশয় দেখা যায়। আনাস রা. থেকে বর্ণিত, "যদি কেউ নবিজির সাথে সাক্ষাৎ করতে আসত এবং মুসাফাহা করত, তা হলে নবি সা. কখনোই তাঁর হাতটি আগে ফিরিয়ে নিতেন না।" তিরমিযি: ২৪৯০, ইবনে মাজাহ : ৩৭১৬

এই হাদিস থেকে আমরা বুঝতে পারি, শুধু মুসাফাহা করাই যথেষ্ট নয়; বরং কিছুটা সময় হাত ধরে রাখার ব্যাপারেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তবে সেই সময়টা এত বেশি হওয়াও বাঞ্ছনীয় নয় যাতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জন্য তা বিব্রতকর হয়ে যায়।

আনাস ইবনে মালিক রা. থেকে বর্ণিত, “এক ব্যক্তি রাসূল সা.-কে প্রশ্ন করল, 'হে আল্লাহর রাসূল, যখন আমরা এক ভাই আরেকজন ভাইয়ের সাথে সাক্ষাৎ করব, আমরা কি একে অপরকে সম্মান জানিয়ে মাথা নত করতে পারি?' রাসূল সা. উত্তর দিলেন, 'না, কখনোই নয়।' এরপর সে আবার প্রশ্ন করল, 'তা হলে আমরা কি সাক্ষাতের সময় আমার ভাইকে জড়িয়ে ধরে চুমু খেতে পারি?' রাসূল সা. বললেন, 'না, তোমরা এটাও করবে না।' তৃতীয়বার ওই ব্যক্তি প্রশ্ন করল, 'তা হলে আমরা কি মুসাফাহা করতে পারি?' রাসূল সা. বললেন, 'হ্যাঁ, তা করতে পারো, যদি সেও মুসাফাহা করতে আগ্রহী হয়'।" তিরমিযি : ২৭২৮, ইবনে মাজাহ : ৩৭০২

মসজিদে কিছু মুসল্লিকে দেখা যায়, যারা ফরজ নামাজের জামাত শেষ হওয়ার পরই ইমাম সাহেবের সাথে হাত মেলাতে ব্যস্ত হয়ে যায়। কিন্তু এ ধরনের কোনো কাজ করার দৃষ্টান্ত বা নির্দেশনা রাসূল সা.-এর সুন্নাহতে পাওয়া যায় না। খুলাফায়ে রাশেদার সময়েও এ ধরনের কোনো চর্চা ছিল না। এটা পরবর্তী সময়ের মুসলমানদের আবিষ্কার-যাকে কেউ কেউ বিদআত বলেও মনে করে। আর ধর্মীয় আচারাদির ক্ষেত্রে আল্লাহ সব ধরনের বিদআতকে নিষিদ্ধ করেছেন। ফিকাহর কিছু বইতে এই আচরণের কথা জানা যায়। তবে যারা এই আমলটিকে সমর্থন করেছেন, তারাও প্রতি ওয়াক্তে এভাবে সাক্ষাতের জন্য ব্যস্ত হওয়াকে অনুমোদন দেননি।

অনেকেই আছে, যারা অভ্যর্থনা জানানোর ক্ষেত্রে বা মেহমানকে ভক্তি জানাতে গিয়ে দাঁড়িয়ে যায়। এ প্রসঙ্গে তিনটি কথা বলা যায়।

প্রথমত, একজন সম্মানিত মানুষ এসে বসে গেছেন, অথচ আপনি তাঁর সম্মানে দাঁড়িয়েই আছেন, এটা সমর্থনযোগ্য নয়। যারা স্বৈরাচারী মানসিকতার, তারা অধীনস্থদের এভাবে দাঁড়িয়ে থাকতে বাধ্য করে।

দ্বিতীয়ত, আপনি বসে আছেন, এমন সময় বাইরে থেকে কেউ এলেন এবং তিনি সম্মানিত। তা হলে দাঁড়িয়ে মুসাফাহা করে আবার বসে পড়ুন। এতটুকু করাকে ইসলামি চিন্তাবিদগণ সমর্থন করেছেন। ইমাম গাযালি এবং ইবনে হাজারের মতো ব্যক্তিরা মনে করেন, যদি কাউকে সম্মান জানানোর জন্য উঠে দাঁড়ান, তা সমর্থন করা যায়; তবে আগত ব্যক্তিকে অতি মহিমান্বিত করার জন্য উঠে দাঁড়ালে তা মেনে নেওয়া যায় না।

আর তৃতীয়ত, আপনি কাউকে দেখেই দাঁড়িয়ে যেতে পারেন। তবে অধিকাংশ আলিম এভাবে সম্মান জানানোর ব্যাপারে একমত হতে পারেননি। রাসূল সা. বলেছেন, “কোনো একজন আল্লাহর বান্দা এলো আর তাকে দেখেই যদি অন্য কোনো বান্দা দাঁড়িয়ে যায়, তা হলে সে মূলত তার জন্য জাহান্নামে একটি ঘর তৈরি করে নিল।” আদাবুল মুফরাদ : ৯৭৭

তবে বেশ কয়েকজন ফিকহবিদের মতে, কোনো এলাকার রীতি যদি এমন হয়, সেখানে আগত মেহমানকে দাঁড়িয়েই সম্মান জানাতে হবে, তবে সেক্ষেত্রে দাঁড়িয়ে সম্মান করা যাবে। কারণ, তাই যদি সেখানে প্রচলিত রীতিকে অগ্রাহ্য করা হয়, তা হলে হয়তো অনাকাঙ্ক্ষিত কোনো পরিস্থিতিও তৈরি হতে পারে।

কোনো ঘরে বা বাড়িতে প্রবেশ করার পর সেখানে উপস্থিত সবার সাথে মুসাফাহা করুন। তাদের সালাম দিন। আতা ইবনে আবদুল্লাহ থেকে বর্ণিত, রাসূল সা. বলেছেন, "তোমরা একে অপরের সাথে মুসাফাহা করো। এতে তোমাদের মাঝে যদি কোনো ঘৃণা ও বিদ্বেষ থাকে, তা দূর হয়ে যাবে; ভালোবাসার সৃষ্টি হবে আর শত্রুভাবাপন্ন মনোভাব কমে আসবে।”
আনাস রা. থেকে বর্ণিত, একবার ইয়েমেন থেকে কিছু মুসাফির নবি সা.-এর সাথে সাক্ষাৎ করতে এলো। খবর পেয়েই রাসূল সা. বললেন, "ইয়েমেনের লোকেরা আসছে। তাদের মন তোমাদের তুলনায় কোমল। তারা সবকিছুর আগে সবার সাথে হাত মিলায় ও মুসাফাহা করে।" আবু দাউদ: ৫২১৩
বারা ইবনে আজিব রা. হতে বর্ণিত, “মুসাফাহা এমন এক আচরণ, যা পারস্পরিক সম্ভাষণ ও শিষ্টাচারকে সম্পূর্ণ করে তোলে।” বুখারি
কোনো মজলিসে বা আয়োজনে যদি সবার সাথে হ্যান্ডশেক বা মুসাফাহা করতে চান, তা হলে সবার আগে যিনি ওই আয়োজনের সবচেয়ে বয়স্ক মানুষ কিংবা সবচেয়ে জ্ঞানী ও ধার্মিক, তার দিকে হাত বাড়িয়ে দিন। আপনার কাছাকাছি বা পাশে যিনি আছে, তার সাথে হাত মেলাতে গিয়ে সবচেয়ে প্রবীণ মানুষটিকে অবহেলা করবেন না। যদি আপনি বুঝতে না পারেন কিংবা আয়োজনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মানুষটিকে সনাক্ত করতে না পারেন, তা হলে বাহ্যিকভাবে দেখে যাকে সবচেয়ে বয়স্ক মনে হয়, তার সাথেই আগে গিয়ে সৌজন্যতা প্রকাশ করুন।
মুসাফাহা করতে গেলে কতক্ষণ হাত ধরে থাকতে হবে, এটা নিয়ে অনেকের মাঝেই সংশয় দেখা যায়। আনাস রা. থেকে বর্ণিত, "যদি কেউ নবিজির সাথে সাক্ষাৎ করতে আসত এবং মুসাফাহা করত, তা হলে নবি সা. কখনোই তাঁর হাতটি আগে ফিরিয়ে নিতেন না।" তিরমিযি: ২৪৯০, ইবনে মাজাহ : ৩৭১৬
এই হাদিস থেকে আমরা বুঝতে পারি, শুধু মুসাফাহা করাই যথেষ্ট নয়; বরং কিছুটা সময় হাত ধরে রাখার ব্যাপারেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তবে সেই সময়টা এত বেশি হওয়াও বাঞ্ছনীয় নয় যাতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জন্য তা বিব্রতকর হয়ে যায়।
আনাস ইবনে মালিক রা. থেকে বর্ণিত, “এক ব্যক্তি রাসূল সা.-কে প্রশ্ন করল, 'হে আল্লাহর রাসূল, যখন আমরা এক ভাই আরেকজন ভাইয়ের সাথে সাক্ষাৎ করব, আমরা কি একে অপরকে সম্মান জানিয়ে মাথা নত করতে পারি?' রাসূল সা. উত্তর দিলেন, 'না, কখনোই নয়।' এরপর সে আবার প্রশ্ন করল, 'তা হলে আমরা কি সাক্ষাতের সময় আমার ভাইকে জড়িয়ে ধরে চুমু খেতে পারি?' রাসূল সা. বললেন, 'না, তোমরা এটাও করবে না।' তৃতীয়বার ওই ব্যক্তি প্রশ্ন করল, 'তা হলে আমরা কি মুসাফাহা করতে পারি?' রাসূল সা. বললেন, 'হ্যাঁ, তা করতে পারো, যদি সেও মুসাফাহা করতে আগ্রহী হয়'।" তিরমিযি : ২৭২৮, ইবনে মাজাহ : ৩৭০২
মসজিদে কিছু মুসল্লিকে দেখা যায়, যারা ফরজ নামাজের জামাত শেষ হওয়ার পরই ইমাম সাহেবের সাথে হাত মেলাতে ব্যস্ত হয়ে যায়। কিন্তু এ ধরনের কোনো কাজ করার দৃষ্টান্ত বা নির্দেশনা রাসূল সা.-এর সুন্নাহতে পাওয়া যায় না। খুলাফায়ে রাশেদার সময়েও এ ধরনের কোনো চর্চা ছিল না। এটা পরবর্তী সময়ের মুসলমানদের আবিষ্কার-যাকে কেউ কেউ বিদআত বলেও মনে করে। আর ধর্মীয় আচারাদির ক্ষেত্রে আল্লাহ সব ধরনের বিদআতকে নিষিদ্ধ করেছেন। ফিকাহর কিছু বইতে এই আচরণের কথা জানা যায়। তবে যারা এই আমলটিকে সমর্থন করেছেন, তারাও প্রতি ওয়াক্তে এভাবে সাক্ষাতের জন্য ব্যস্ত হওয়াকে অনুমোদন দেননি।
অনেকেই আছে, যারা অভ্যর্থনা জানানোর ক্ষেত্রে বা মেহমানকে ভক্তি জানাতে গিয়ে দাঁড়িয়ে যায়। এ প্রসঙ্গে তিনটি কথা বলা যায়।
প্রথমত, একজন সম্মানিত মানুষ এসে বসে গেছেন, অথচ আপনি তাঁর সম্মানে দাঁড়িয়েই আছেন, এটা সমর্থনযোগ্য নয়। যারা স্বৈরাচারী মানসিকতার, তারা অধীনস্থদের এভাবে দাঁড়িয়ে থাকতে বাধ্য করে।
দ্বিতীয়ত, আপনি বসে আছেন, এমন সময় বাইরে থেকে কেউ এলেন এবং তিনি সম্মানিত। তা হলে দাঁড়িয়ে মুসাফাহা করে আবার বসে পড়ুন। এতটুকু করাকে ইসলামি চিন্তাবিদগণ সমর্থন করেছেন। ইমাম গাযালি এবং ইবনে হাজারের মতো ব্যক্তিরা মনে করেন, যদি কাউকে সম্মান জানানোর জন্য উঠে দাঁড়ান, তা সমর্থন করা যায়; তবে আগত ব্যক্তিকে অতি মহিমান্বিত করার জন্য উঠে দাঁড়ালে তা মেনে নেওয়া যায় না।
আর তৃতীয়ত, আপনি কাউকে দেখেই দাঁড়িয়ে যেতে পারেন। তবে অধিকাংশ আলিম এভাবে সম্মান জানানোর ব্যাপারে একমত হতে পারেননি। রাসূল সা. বলেছেন, “কোনো একজন আল্লাহর বান্দা এলো আর তাকে দেখেই যদি অন্য কোনো বান্দা দাঁড়িয়ে যায়, তা হলে সে মূলত তার জন্য জাহান্নামে একটি ঘর তৈরি করে নিল।” আদাবুল মুফরাদ : ৯৭৭
তবে বেশ কয়েকজন ফিকহবিদের মতে, কোনো এলাকার রীতি যদি এমন হয়, সেখানে আগত মেহমানকে দাঁড়িয়েই সম্মান জানাতে হবে, তবে সেক্ষেত্রে দাঁড়িয়ে সম্মান করা যাবে। কারণ, তাই যদি সেখানে প্রচলিত রীতিকে অগ্রাহ্য করা হয়, তা হলে হয়তো অনাকাঙ্ক্ষিত কোনো পরিস্থিতিও তৈরি হতে পারে।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00