📄 অ্যাপয়েনমেন্টের সময় ঠিক রাখা, দেরি ও সাক্ষাৎ বাতিল করা
কুরআনে হাকিমে সূরা মায়িদার প্রথম আয়াতে আল্লাহ তায়ালা মুমিনদের সম্বোধন করে বলেছেন, “হে মুমিনগণ, তোমরা অঙ্গীকারসমূহ পূর্ণ করো।” সূরা মায়িদা : ১
আবার সূরা মারয়ামে নবি ইসমাইল আ.-কে একজন সত্যাশ্রয়ী এবং প্রতিশ্রুতি রক্ষাকারী ব্যক্তি হিসেবে প্রশংসা করে আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা বলেন, “এই কিতাবে ইসমাইলের কথা বর্ণনা করুন, তিনি প্রতিশ্রুতি পালনে সত্যাশ্রয়ী এবং তিনি ছিলেন রাসূল, নবি।" সূরা মারয়াম : ৫৪
সময় যেহেতু অত্যন্ত মূল্যবান, তাই কারও সাথে সাক্ষাতের জন্য সময় নিলে তা রক্ষা করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। একবার যদি নির্ধারিত সময় রক্ষা করা না যায়, তা হলে পুনরায় নতুন সময় নির্ধারণ করা খুব কঠিন হয়ে যায়। তাই যদি কারও সাথে সাক্ষাতের জন্য সময় নেন -হোক সে বন্ধু, সহকর্মী বা ব্যবসায়িক অংশীদার- তবে নির্ধারিত সময়েই দেখা করার সর্বোচ্চ চেষ্টা করতে হবে। কারণ, একজন মানুষ নিজের জন্য বরাদ্দ সময় থেকে আপনাকে সময় দিচ্ছে। কিংবা এমনও হতে পারে, তিনি অন্য কারও সঙ্গে সাক্ষাৎ না করে আপনাকে সময় দিয়েছেন। তাই নির্ধারিত সময়ে সাক্ষাৎ করার বিষয়ে সতর্ক হওয়া উচিত। কারণ, নির্ধারিত সময় সাক্ষাৎ করতে ব্যর্থ হলে শুধু যে সময় নষ্ট হবে তা নয়; বরং আপনার ভাবমূর্তিও ক্ষুণ্ণ হবে।
যদি সময়ের ব্যাপারে যত্নবান না হন, তা হলে আপনাকে কেউ-ই সম্মান করবে না। তাই গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি হোক বা কোনো ঘনিষ্ট বন্ধু হোক, যাকেই সময় দেবেন, তা রক্ষা করার ব্যাপারে সচেষ্ট হোন। প্রতিশ্রুতি রক্ষা করার মাধ্যমে ব্যক্তির দায়িত্ববোধের পরিচয়ও পাওয়া যায়।
এ প্রসঙ্গে একটি ঘটনার কথা উল্লেখ করা যায়। একবার নবিজি সা. একজন ব্যক্তিকে তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করার সময় দিয়েছিলেন। কিন্তু সেই ব্যক্তি নির্ধারিত সময়ের তিন দিন পর সাক্ষাতে এলো। রাসূল সা. তাকে খুব মৃদুভাবে সতর্ক করে বললেন, “তোমার জন্য আমার বেশ সমস্যা হয়ে গেল। আমি বিগত তিন দিন যাবৎ তোমার জন্য অপেক্ষা করছি।" হয়তো সেই ব্যক্তির এরকম বিলম্ব হওয়ার পেছনে যৌক্তিক কারণও ছিল। কিন্তু তখনকার সময়ে এমন কোনো মাধ্যমও ছিল না, যার মাধ্যমে তিনি নবিজিকে নির্ধারিত সময়ে আসতে না পারার কথা জানাতে পারবেন।
বর্তমান সময়ে অতি দ্রুততার সাথে কারও সঙ্গে যোগাযোগ করার নানা যন্ত্র ও মাধ্যম আবিষ্কার হয়েছে। তাই যখনই বুঝবেন, সাক্ষাতের নির্ধারিত সময় রক্ষা করতে পারবেন না, তখনই অপরপক্ষকে বিষয়টি জানিয়ে দেওয়া উচিত। যাতে তারা সেই সময়টি অন্য কাজে লাগাতে পারে। দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণ করবেন না। কখনও সাক্ষাতের জন্য নির্ধারিত সময়কে হালকা মনে করবেন না। নির্ধারিত সময়ে পৌঁছাতে না পারলে অবশ্যই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে নোটিশ দেবেন, প্রয়োজনে নিজের অপারগতার জন্য ক্ষমা চাইবেন। সাক্ষাৎ যার সঙ্গেই হোক না কেন, তা রক্ষা করা আপনার দায়িত্বের অংশ। তাই যদি নির্ধারিত সাক্ষাৎ বাতিল করতে হয়, তা হলে হাতে সময় রেখে শালীনতার সাথে আগে থেকে জানিয়ে দেওয়াই বাঞ্ছনীয়।
যে প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে পারবেন না বা যে প্রতিশ্রুতি রাখার ইচ্ছা নেই, তা না করাই ভালো। প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করা উচিত নয়। কারণ, প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করা মুনাফিকি ও প্রতারণার সমতুল্য। রাসূল সা. বলেছেন, “মুনাফিকের চিহ্ন তিনটি। যখন সে কথা বলে মিথ্যা বলে। প্রতিশ্রুতি দিলে লঙ্ঘন করে। আর কেউ আমানত রাখলে তার খেয়ানত করে।” বুখারি, মুসলিম
ইমাম গাযালি রহ. আল ইহইয়া গ্রন্থে বলেছেন, "উপরোক্ত হাদিসটি তাদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য, যারা প্রতিশ্রুতি রক্ষা করবে না জেনেও প্রতিশ্রুতি দেয় কিংবা যারা ওয়াদা করার পর কোনো কারণ ছাড়াই ওয়াদা পূরণ করে না।"
যারা প্রতিশ্রুতি দেয় কিন্তু যৌক্তিক কোনো ওজরের কারণে তা পালন করতে পারে না, তাতে মুনাফিকি হবে না। তারপরও আমরা সব সময় অত্যন্ত সতর্ক ও সচেতন থাকব, যাতে খোঁড়া অজুহাত দাঁড় করাতে না হয়। কারণ, আল্লাহ তায়ালা আমাদের অস্তরের প্রকৃত অবস্থা ও নিয়ত সম্পর্কে সম্পূর্ণ অবগত।
কুরআনে হাকিমে সূরা মায়িদার প্রথম আয়াতে আল্লাহ তায়ালা মুমিনদের সম্বোধন করে বলেছেন, “হে মুমিনগণ, তোমরা অঙ্গীকারসমূহ পূর্ণ করো।” সূরা মায়িদা : ১
আবার সূরা মারয়ামে নবি ইসমাইল আ.-কে একজন সত্যাশ্রয়ী এবং প্রতিশ্রুতি রক্ষাকারী ব্যক্তি হিসেবে প্রশংসা করে আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা বলেন, “এই কিতাবে ইসমাইলের কথা বর্ণনা করুন, তিনি প্রতিশ্রুতি পালনে সত্যাশ্রয়ী এবং তিনি ছিলেন রাসূল, নবি।" সূরা মারয়াম : ৫৪
সময় যেহেতু অত্যন্ত মূল্যবান, তাই কারও সাথে সাক্ষাতের জন্য সময় নিলে তা রক্ষা করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। একবার যদি নির্ধারিত সময় রক্ষা করা না যায়, তা হলে পুনরায় নতুন সময় নির্ধারণ করা খুব কঠিন হয়ে যায়। তাই যদি কারও সাথে সাক্ষাতের জন্য সময় নেন -হোক সে বন্ধু, সহকর্মী বা ব্যবসায়িক অংশীদার- তবে নির্ধারিত সময়েই দেখা করার সর্বোচ্চ চেষ্টা করতে হবে। কারণ, একজন মানুষ নিজের জন্য বরাদ্দ সময় থেকে আপনাকে সময় দিচ্ছে। কিংবা এমনও হতে পারে, তিনি অন্য কারও সঙ্গে সাক্ষাৎ না করে আপনাকে সময় দিয়েছেন। তাই নির্ধারিত সময়ে সাক্ষাৎ করার বিষয়ে সতর্ক হওয়া উচিত। কারণ, নির্ধারিত সময় সাক্ষাৎ করতে ব্যর্থ হলে শুধু যে সময় নষ্ট হবে তা নয়; বরং আপনার ভাবমূর্তিও ক্ষুণ্ণ হবে।
যদি সময়ের ব্যাপারে যত্নবান না হন, তা হলে আপনাকে কেউ-ই সম্মান করবে না। তাই গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি হোক বা কোনো ঘনিষ্ট বন্ধু হোক, যাকেই সময় দেবেন, তা রক্ষা করার ব্যাপারে সচেষ্ট হোন। প্রতিশ্রুতি রক্ষা করার মাধ্যমে ব্যক্তির দায়িত্ববোধের পরিচয়ও পাওয়া যায়।
এ প্রসঙ্গে একটি ঘটনার কথা উল্লেখ করা যায়। একবার নবিজি সা. একজন ব্যক্তিকে তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করার সময় দিয়েছিলেন। কিন্তু সেই ব্যক্তি নির্ধারিত সময়ের তিন দিন পর সাক্ষাতে এলো। রাসূল সা. তাকে খুব মৃদুভাবে সতর্ক করে বললেন, “তোমার জন্য আমার বেশ সমস্যা হয়ে গেল। আমি বিগত তিন দিন যাবৎ তোমার জন্য অপেক্ষা করছি।" হয়তো সেই ব্যক্তির এরকম বিলম্ব হওয়ার পেছনে যৌক্তিক কারণও ছিল। কিন্তু তখনকার সময়ে এমন কোনো মাধ্যমও ছিল না, যার মাধ্যমে তিনি নবিজিকে নির্ধারিত সময়ে আসতে না পারার কথা জানাতে পারবেন।
বর্তমান সময়ে অতি দ্রুততার সাথে কারও সঙ্গে যোগাযোগ করার নানা যন্ত্র ও মাধ্যম আবিষ্কার হয়েছে। তাই যখনই বুঝবেন, সাক্ষাতের নির্ধারিত সময় রক্ষা করতে পারবেন না, তখনই অপরপক্ষকে বিষয়টি জানিয়ে দেওয়া উচিত। যাতে তারা সেই সময়টি অন্য কাজে লাগাতে পারে। দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণ করবেন না। কখনও সাক্ষাতের জন্য নির্ধারিত সময়কে হালকা মনে করবেন না। নির্ধারিত সময়ে পৌঁছাতে না পারলে অবশ্যই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে নোটিশ দেবেন, প্রয়োজনে নিজের অপারগতার জন্য ক্ষমা চাইবেন। সাক্ষাৎ যার সঙ্গেই হোক না কেন, তা রক্ষা করা আপনার দায়িত্বের অংশ। তাই যদি নির্ধারিত সাক্ষাৎ বাতিল করতে হয়, তা হলে হাতে সময় রেখে শালীনতার সাথে আগে থেকে জানিয়ে দেওয়াই বাঞ্ছনীয়।
যে প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে পারবেন না বা যে প্রতিশ্রুতি রাখার ইচ্ছা নেই, তা না করাই ভালো। প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করা উচিত নয়। কারণ, প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করা মুনাফিকি ও প্রতারণার সমতুল্য। রাসূল সা. বলেছেন, “মুনাফিকের চিহ্ন তিনটি। যখন সে কথা বলে মিথ্যা বলে। প্রতিশ্রুতি দিলে লঙ্ঘন করে। আর কেউ আমানত রাখলে তার খেয়ানত করে।” বুখারি, মুসলিম
ইমাম গাযালি রহ. আল ইহইয়া গ্রন্থে বলেছেন, "উপরোক্ত হাদিসটি তাদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য, যারা প্রতিশ্রুতি রক্ষা করবে না জেনেও প্রতিশ্রুতি দেয় কিংবা যারা ওয়াদা করার পর কোনো কারণ ছাড়াই ওয়াদা পূরণ করে না।"
যারা প্রতিশ্রুতি দেয় কিন্তু যৌক্তিক কোনো ওজরের কারণে তা পালন করতে পারে না, তাতে মুনাফিকি হবে না। তারপরও আমরা সব সময় অত্যন্ত সতর্ক ও সচেতন থাকব, যাতে খোঁড়া অজুহাত দাঁড় করাতে না হয়। কারণ, আল্লাহ তায়ালা আমাদের অস্তরের প্রকৃত অবস্থা ও নিয়ত সম্পর্কে সম্পূর্ণ অবগত।
📄 নির্ধারিত কোনো সাক্ষাৎ যদি অপরপক্ষ মিস করে
যদি কোনো ব্যক্তি সাক্ষাতের জন্য নির্ধারিত সময়ে উপস্থিত হতে না পেরে দুঃখ প্রকাশ করে, তা হলে অন্তরে রাগ বা কষ্ট পুষে না রেখে ক্ষমা করে দেওয়া উচিত। উপলব্ধি করা প্রয়োজন, নিশ্চয়ই তার এমন কোনো সমস্যা হয়েছে, যার কারণে সে উপস্থিত হতে পারেনি। হয়তো কোনো দাম্পত্য বা পারিবারিক সমস্যা হয়েছে। এক্ষেত্রে সেই ব্যক্তি ক্ষমা পাওয়ার হকদার।
প্রখ্যাত তাবেয়ী কাতাদা রহ. বলেন, “কেউ আপনার সাথে নির্ধারিত সময়ে সাক্ষাতে আসতে না পারলে, তার বাড়ির কাছে গিয়ে ঘুর ঘুর করার দরকার নেই। বরং তিনি সরলভাবে যে ব্যাখ্যা দিয়েছেন, তা মেনে নিন। নিজের কাজে মনোযোগ দিন এবং তাঁকেও তার কাজে সচেষ্ট হওয়ার সুযোগ দিন। তার কাছে বার বার ব্যাখ্যা বা কারণ জানতে চাওয়ার দরকার নেই।”
ইমাম মালিক রহ. প্রায়শই বলতেন, “সব মানুষ কারণ ব্যাখ্যা করতে পছন্দ করে না। ইসলামের সোনালী যুগে, কেউ যদি নির্ধারিত সময়ে সাক্ষাতে আসতে না পারত, তবে অপরপক্ষ তা নিয়ে ঘাঁটাঘাঁটি করত না। বরং সরলভাবে নিজেই বলত, ‘মনে হয় আপনি হঠাৎ করে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন, তাই আসতে পারেননি। কোনো অসুবিধা নেই।’ এভাবে পরিস্থিতিকে সহজ করে দেওয়ায় যিনি সাক্ষাত করতে ব্যর্থ হয়েছেন, তিনি বিব্রত হওয়ার হাত থেকে রক্ষা পেতেন এবং তাঁকে আর নানা ধরনের কারণ বর্ণনা করতে হতো না।”
আমাদের এই অভ্যাসটির চর্চা করা দরকার। তা হলে মনের ভেতর থেকে যাবতীয় খারাপ অনুভূতি ও কুধারণার অবসান হবে এবং কেউ নির্ধারিত সময়ে সাক্ষাত করতে ব্যর্থ হলে কিংবা কিছুটা দেরি হলে অপরপক্ষের মনে কোনো কুন্ঠা আশ্রয় নেবে না।
এমন অনেকেই আছে যারা বিভিন্ন ধরনের পরিস্থিতির কারণে মেহমানকে বরণ করার মতো অবস্থায় থাকে না। বরং কেউ সাক্ষাতে এলে বিব্রত হয়, কিন্তু কীভাবে পরিস্থিতির মোকাবিলা করবে তা বুঝতে পারে না। ফলে একটা পর্যায়ে তারা আর কোনো উপায় না পেয়ে মিথ্যা কথা বলতে শুরু করে। এটা ঠিক নয়। এতে বাড়িতে থাকা ছোটো ছোটো বাচ্চারা যেমন মিথ্যা বলার অভ্যাস শেখে, অন্যদিকে অতিথিদের ব্যাপারেও তাদের মনে বাজে ধারণা গেঁথে যায়।
এক্ষেত্রে কুরআন আমাদের বিব্রতকর পরিস্থিতি থেকে বাঁচার মতো কৌশল শিক্ষা দেয় এবং মিথ্যা কথা না বলার আদেশ দেয়। কুরআনে হাকিম বলছে, যদি আয়োজক ব্যক্তির জন্য পরিস্থিতি সাক্ষাতের জন্য সহায়ক না হয়, তা হলে তিনি অতিথিকে বিনয়ের সাথে নিজের অপারগতার কথা জানিয়ে দেবেন। আবার একই সঙ্গে অতিথিকেও কুরআন আদেশ দেয়, যাতে তিনি এক্ষেত্রে কোনো ধরনের অস্বস্তি ছাড়াই অপরের অপরগতাকে সরলভাবে মেনে নেন। আল্লাহ তায়ালা বলেন,
"যদি তোমরা কারও ঘরে কাউকে না পাও, তবে অনুমতি গ্রহণ না করা পর্যন্ত সেখানে প্রবেশ করো না। যদি তোমাদের বলা হয় 'ফিরে যাও', তবে ফিরে যাবে। এতে তোমাদের জন্যে আছে অনেক পবিত্রতা।" সূরা নূর: ২৮
কুরআনের উল্লিখিত নির্দেশনা, "যদি তোমাদেরকে বলা হয় 'ফিরে যাও', তবে ফিরে যাবে। এতে তোমাদের জন্যে অনেক পবিত্রতা আছে।” চমৎকার ও ইতিবাচক একটি দৃষ্টিভঙ্গি।
যদি কোনো ব্যক্তি সাক্ষাতের জন্য নির্ধারিত সময়ে উপস্থিত হতে না পেরে দুঃখ প্রকাশ করে, তা হলে অন্তরে রাগ বা কষ্ট পুষে না রেখে ক্ষমা করে দেওয়া উচিত। উপলব্ধি করা প্রয়োজন, নিশ্চয়ই তার এমন কোনো সমস্যা হয়েছে, যার কারণে সে উপস্থিত হতে পারেনি। হয়তো কোনো দাম্পত্য বা পারিবারিক সমস্যা হয়েছে। এক্ষেত্রে সেই ব্যক্তি ক্ষমা পাওয়ার হকদার।
প্রখ্যাত তাবেয়ী কাতাদা রহ. বলেন, “কেউ আপনার সাথে নির্ধারিত সময়ে সাক্ষাতে আসতে না পারলে, তার বাড়ির কাছে গিয়ে ঘুর ঘুর করার দরকার নেই। বরং তিনি সরলভাবে যে ব্যাখ্যা দিয়েছেন, তা মেনে নিন। নিজের কাজে মনোযোগ দিন এবং তাঁকেও তার কাজে সচেষ্ট হওয়ার সুযোগ দিন। তার কাছে বার বার ব্যাখ্যা বা কারণ জানতে চাওয়ার দরকার নেই।”
ইমাম মালিক রহ. প্রায়শই বলতেন, “সব মানুষ কারণ ব্যাখ্যা করতে পছন্দ করে না। ইসলামের সোনালী যুগে, কেউ যদি নির্ধারিত সময়ে সাক্ষাতে আসতে না পারত, তবে অপরপক্ষ তা নিয়ে ঘাঁটাঘাঁটি করত না। বরং সরলভাবে নিজেই বলত, ‘মনে হয় আপনি হঠাৎ করে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন, তাই আসতে পারেননি। কোনো অসুবিধা নেই।’ এভাবে পরিস্থিতিকে সহজ করে দেওয়ায় যিনি সাক্ষাত করতে ব্যর্থ হয়েছেন, তিনি বিব্রত হওয়ার হাত থেকে রক্ষা পেতেন এবং তাঁকে আর নানা ধরনের কারণ বর্ণনা করতে হতো না।”
আমাদের এই অভ্যাসটির চর্চা করা দরকার। তা হলে মনের ভেতর থেকে যাবতীয় খারাপ অনুভূতি ও কুধারণার অবসান হবে এবং কেউ নির্ধারিত সময়ে সাক্ষাত করতে ব্যর্থ হলে কিংবা কিছুটা দেরি হলে অপরপক্ষের মনে কোনো কুন্ঠা আশ্রয় নেবে না।
এমন অনেকেই আছে যারা বিভিন্ন ধরনের পরিস্থিতির কারণে মেহমানকে বরণ করার মতো অবস্থায় থাকে না। বরং কেউ সাক্ষাতে এলে বিব্রত হয়, কিন্তু কীভাবে পরিস্থিতির মোকাবিলা করবে তা বুঝতে পারে না। ফলে একটা পর্যায়ে তারা আর কোনো উপায় না পেয়ে মিথ্যা কথা বলতে শুরু করে। এটা ঠিক নয়। এতে বাড়িতে থাকা ছোটো ছোটো বাচ্চারা যেমন মিথ্যা বলার অভ্যাস শেখে, অন্যদিকে অতিথিদের ব্যাপারেও তাদের মনে বাজে ধারণা গেঁথে যায়।
এক্ষেত্রে কুরআন আমাদের বিব্রতকর পরিস্থিতি থেকে বাঁচার মতো কৌশল শিক্ষা দেয় এবং মিথ্যা কথা না বলার আদেশ দেয়। কুরআনে হাকিম বলছে, যদি আয়োজক ব্যক্তির জন্য পরিস্থিতি সাক্ষাতের জন্য সহায়ক না হয়, তা হলে তিনি অতিথিকে বিনয়ের সাথে নিজের অপারগতার কথা জানিয়ে দেবেন। আবার একই সঙ্গে অতিথিকেও কুরআন আদেশ দেয়, যাতে তিনি এক্ষেত্রে কোনো ধরনের অস্বস্তি ছাড়াই অপরের অপরগতাকে সরলভাবে মেনে নেন। আল্লাহ তায়ালা বলেন,
"যদি তোমরা কারও ঘরে কাউকে না পাও, তবে অনুমতি গ্রহণ না করা পর্যন্ত সেখানে প্রবেশ করো না। যদি তোমাদের বলা হয় 'ফিরে যাও', তবে ফিরে যাবে। এতে তোমাদের জন্যে আছে অনেক পবিত্রতা।" সূরা নূর: ২৮
কুরআনের উল্লিখিত নির্দেশনা, "যদি তোমাদেরকে বলা হয় 'ফিরে যাও', তবে ফিরে যাবে। এতে তোমাদের জন্যে অনেক পবিত্রতা আছে।” চমৎকার ও ইতিবাচক একটি দৃষ্টিভঙ্গি।
📄 নিজের চোখকে সংযত রাখা
যখন কারও দরজায় গিয়ে বেল দেবেন বা প্রবেশ করার অনুমতি চাইবেন, তখন উঁকিঝুঁকি মারা বা ভেতরের কোনো দৃশ্য দেখার চেষ্টা করবেন না। এ কাজ একই সঙ্গে লজ্জাজনক ও ক্ষতিকর।
বুখারি, আবু দাউদ ও তাবারানি-তে সাহাবি সাদ বিন উবাদা রা. থেকে বর্ণিত, “একবার এক লোক নবিজি সা.-এর বাড়ির দরজায় দাঁড়িয়ে ঘরে ঢোকার অনুমতি চাইছিল। রাসূল সা. তখন তাকে বললেন, 'তুমি ঘুরে দাঁড়াও।' লোকটা ঘুরে দাঁড়ালে রাসূল সা. পুনরায় বললেন, 'তুমি দরজা থেকে একটু দূরে গিয়ে দাঁড়াও।' তারপর নবিজি সা. বললেন, 'অনুমতি চাওয়ার কথা বলা হয়েছে যাতে অযাচিত দৃষ্টি ও অনধিকার প্রবেশ থেকে অন্যের বাড়িঘরকে হেফাজত করা যায়'।"
ইমাম বুখারি রহ. আদাবুল মুফরাদ গ্রন্থে সাওবান রা. থেকে বর্ণনা করেন, রাসূল সা. বলেছেন, "অনুমতি পাওয়ার আগে অন্যের বাড়ির ভেতর দৃষ্টি দেওয়া উচিত নয়। কেননা, অযাচিত দৃষ্টি দেয়ার মানে হলো, অনুমতি পাওয়ার আগেই পরোক্ষভাবে ঘরে প্রবেশ করে ফেলা।".
আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত একটি হাদিস আদাবুল মুফরাদ, আবু দাউদ ও তিরমিযি-তে উদ্ধৃত্ত হয়েছে। রাসূল সা. বলেছেন, "যদি চোখের দৃষ্টি আগেই চলে যায়, তা হলে আর অনুমতি চাওয়ার বা দেওয়ার কোনো মানে হয় না।"
ইমাম বুখারির আরেকটি বর্ণনা থেকে জানা যায়, উমর ইবনুল খাত্তাব রা. বলেছেন, “অনুমति পাওয়ার আগেই অপরের ঘরের ভেতরে দৃষ্টি দেওয়া রীতিমতো অপরাধ।”
সাহাবি সাহল ইবনে সাদ রা. বর্ণনা করেছেন, “এক ব্যক্তি রাসূল সা.-এর ঘরের দেয়ালে ছোটো গর্ত দিয়ে উঁকি মেরে ভেতরে দেখার চেষ্টা করছিল। রাসূল সা. তাকে দেখে ফেললেন এবং বললেন, 'যদি আমি জানতাম তুমি এভাবে উঁকি দেবে তা হলে তোমার চোখে আঘাত করতাম। ভেতরে তাকানোর জন্য অনুমতি চাওয়ার বিধান তো দেওয়াই হয়েছে'।” বুখারি : ৬২৪১
যখন কারও দরজায় গিয়ে বেল দেবেন বা প্রবেশ করার অনুমতি চাইবেন, তখন উঁকিঝুঁকি মারা বা ভেতরের কোনো দৃশ্য দেখার চেষ্টা করবেন না। এ কাজ একই সঙ্গে লজ্জাজনক ও ক্ষতিকর।
বুখারি, আবু দাউদ ও তাবারানি-তে সাহাবি সাদ বিন উবাদা রা. থেকে বর্ণিত, “একবার এক লোক নবিজি সা.-এর বাড়ির দরজায় দাঁড়িয়ে ঘরে ঢোকার অনুমতি চাইছিল। রাসূল সা. তখন তাকে বললেন, 'তুমি ঘুরে দাঁড়াও।' লোকটা ঘুরে দাঁড়ালে রাসূল সা. পুনরায় বললেন, 'তুমি দরজা থেকে একটু দূরে গিয়ে দাঁড়াও।' তারপর নবিজি সা. বললেন, 'অনুমতি চাওয়ার কথা বলা হয়েছে যাতে অযাচিত দৃষ্টি ও অনধিকার প্রবেশ থেকে অন্যের বাড়িঘরকে হেফাজত করা যায়'।"
ইমাম বুখারি রহ. আদাবুল মুফরাদ গ্রন্থে সাওবান রা. থেকে বর্ণনা করেন, রাসূল সা. বলেছেন, "অনুমতি পাওয়ার আগে অন্যের বাড়ির ভেতর দৃষ্টি দেওয়া উচিত নয়। কেননা, অযাচিত দৃষ্টি দেয়ার মানে হলো, অনুমতি পাওয়ার আগেই পরোক্ষভাবে ঘরে প্রবেশ করে ফেলা।".
আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত একটি হাদিস আদাবুল মুফরাদ, আবু দাউদ ও তিরমিযি-তে উদ্ধৃত্ত হয়েছে। রাসূল সা. বলেছেন, "যদি চোখের দৃষ্টি আগেই চলে যায়, তা হলে আর অনুমতি চাওয়ার বা দেওয়ার কোনো মানে হয় না।"
ইমাম বুখারির আরেকটি বর্ণনা থেকে জানা যায়, উমর ইবনুল খাত্তাব রা. বলেছেন, “অনুমতি পাওয়ার আগেই অপরের ঘরের ভেতরে দৃষ্টি দেওয়া রীতিমতো অপরাধ।”
সাহাবি সাহল ইবনে সাদ রা. বর্ণনা করেছেন, “এক ব্যক্তি রাসূল সা.-এর ঘরের দেয়ালে ছোটো গর্ত দিয়ে উঁকি মেরে ভেতরে দেখার চেষ্টা করছিল। রাসূল সা. তাকে দেখে ফেললেন এবং বললেন, 'যদি আমি জানতাম তুমি এভাবে উঁকি দেবে তা হলে তোমার চোখে আঘাত করতাম। ভেতরে তাকানোর জন্য অনুমতি চাওয়ার বিধান তো দেওয়াই হয়েছে'।” বুখারি : ৬২৪১
📄 জুতো সরিয়ে রাখা
কারও বাড়িতে যখন বেড়াতে যাবেন, এমনকি নিজের বাড়িতেও প্রবেশ বা বের হওয়ার সময় মার্জিত ও সৌজন্যমূলক আচরণ করুন। নিজের চোখ ও কণ্ঠস্বর সংযত রাখুন। যার বাড়িতে গিয়েছেন, যদি তিনি জুতো পরে ভেতরে যাওয়ার অনুমতি দেন তা হলে ভিন্ন কথা, তা না হলে নিজ থেকেই জুতো খুলে ফেলুন এবং জুতো রাখার নির্ধারিত স্থানে রাখুন। ঘরে প্রবেশের সময় জুতো রাখা এবং বের হওয়ার সময় নেওয়ার ক্ষেত্রে ধীরস্থিরতা অবলম্বন করুন। তাড়াহুড়ো করা থেকে বিরত থাকুন।
জুতো পরার সময় আগে ডান পায়ে পরুন। আর খোলার সময় বাম পায়ের জুতো আগে খুলবেন। আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, রাসূল সা. বলেছেন, "যখন তোমরা জুতো পরবে ডান পা দিয়ে তা শুরু করো। আর জুতো খোলার সময় বিপরীত, অর্থাৎ বাম পা আগে খুলো।” অর্থাৎ জুতো পরার সময় ডান পা আগে আর খোলার সময় ডান পা শেষে। আবু দাউদ: ৪১৩৯
উম্মুল মুমিনিন আয়িশা রা. বর্ণনা করেন, “রাসূল সা. জুতো পরা, চুল আঁচড়ানো, পবিত্রতা অর্জন (অজু করা) ইত্যাদি ডান পাশ দিয়ে শুরু করা পছন্দ করতেন।” বুখারি, মুসলিম
নিজের বাড়িতে প্রবেশ করার সময়, জুতো কীভাবে রাখছেন তা লক্ষ করুন। যদি সেগুলো নোংরা হয় বা কোনো ময়লা লেগে থাকে, তা হলে সেগুলো পরিষ্কার করুন। মনে রাখবেন, ইসলাম হলো এমন একটি ধর্ম ও জীবনদর্শন, যা সর্বাবস্থায় পরিচ্ছন্নতা ও সৌজন্যতার শিক্ষা দেয়।
কারও বাড়িতে যখন বেড়াতে যাবেন, এমনকি নিজের বাড়িতেও প্রবেশ বা বের হওয়ার সময় মার্জিত ও সৌজন্যমূলক আচরণ করুন। নিজের চোখ ও কণ্ঠস্বর সংযত রাখুন। যার বাড়িতে গিয়েছেন, যদি তিনি জুতো পরে ভেতরে যাওয়ার অনুমতি দেন তা হলে ভিন্ন কথা, তা না হলে নিজ থেকেই জুতো খুলে ফেলুন এবং জুতো রাখার নির্ধারিত স্থানে রাখুন। ঘরে প্রবেশের সময় জুতো রাখা এবং বের হওয়ার সময় নেওয়ার ক্ষেত্রে ধীরস্থিরতা অবলম্বন করুন। তাড়াহুড়ো করা থেকে বিরত থাকুন।
জুতো পরার সময় আগে ডান পায়ে পরুন। আর খোলার সময় বাম পায়ের জুতো আগে খুলবেন। আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, রাসূল সা. বলেছেন, "যখন তোমরা জুতো পরবে ডান পা দিয়ে তা শুরু করো। আর জুতো খোলার সময় বিপরীত, অর্থাৎ বাম পা আগে খুলো।” অর্থাৎ জুতো পরার সময় ডান পা আগে আর খোলার সময় ডান পা শেষে। আবু দাউদ: ৪১৩৯
উম্মুল মুমিনিন আয়িশা রা. বর্ণনা করেন, “রাসূল সা. জুতো পরা, চুল আঁচড়ানো, পবিত্রতা অর্জন (অজু করা) ইত্যাদি ডান পাশ দিয়ে শুরু করা পছন্দ করতেন।” বুখারি, মুসলিম
নিজের বাড়িতে প্রবেশ করার সময়, জুতো কীভাবে রাখছেন তা লক্ষ করুন। যদি সেগুলো নোংরা হয় বা কোনো ময়লা লেগে থাকে, তা হলে সেগুলো পরিষ্কার করুন। মনে রাখবেন, ইসলাম হলো এমন একটি ধর্ম ও জীবনদর্শন, যা সর্বাবস্থায় পরিচ্ছন্নতা ও সৌজন্যতার শিক্ষা দেয়।