📄 ঘরে প্রবেশ করার অনুমতি নেওয়া
যদি বাড়ির সদস্যরা নিজেদের রুমে বিশ্রামরত অবস্থায় থাকে, আর যদি তখন ঘরে প্রবেশ করতে চান, তা হলে সবার আগে মৌখিকভাবে অনুমতি নিতে হবে বা দরজায় কড়া নেড়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করতে হবে। তা না হলে এমন কোনো দৃশ্য দেখতে পারেন, যা উভয়ের জন্যই বিব্রতকর। নিজের পরিবার বা বর্ধিত পরিবার- সব ক্ষেত্রেই এই অভ্যাস অনুশীলন করা দরকার।
কুরআন মাজিদে আল্লাহ তায়ালা মুমিনদের ঘরে প্রবেশ করার ক্ষেত্রে কিছু নিয়মকানুন মেনে চলার নির্দেশ দিয়েছেন। যেমন-
“হে মুমিনগণ, তোমরা নিজেদের ঘর ছাড়া অন্য কারও ঘরে ততক্ষণ প্রবেশ করবে না, যতক্ষণ তোমাদের মধ্যে কথা না হয় এবং ঘরের বাসিন্দাদের তোমরা সালাম না দাও। এটাই তোমাদের জন্যে উত্তম, যদি তোমরা স্মরণ রাখো। যদি তোমরা ঘরে কাউকে না পাও, তবে অনুমতি গ্রহণ না করা পর্যন্ত সেখানে প্রবেশ করো না। যদি তোমাদের বলা হয় ‘ফিরে যাও’, তবে ফিরে যাবে। এতে তোমাদের জন্য আছে পবিত্রতা। আর তোমরা যা করো, আল্লাহ তা ভালোভাবে জানেন।” সূরা নূর: ২৭-২৮
মুয়াত্তায়ে মালিক গ্রন্থে এসেছে, “এক সাহাবি রাসূল সা.-এর কাছে প্রশ্ন করেন, ‘আমি কি মায়ের ঘরে প্রবেশ করার আগেও অনুমতি চাইব?’ নবিজি বলেন, ‘হ্যাঁ, অবশ্যই।’ তিনি বললেন, ‘আমরা দুজন একই বাড়িতে থাকি।’ রাসূল সা. বললেন, ‘তারপরও অনুমতি চাইবে।’ সাহাবি বললেন, ‘কিন্তু আমি তো তাঁর সেবাও করি।’ রাসূল সা. পুনরায় বললেন, ‘তুমি কি তোমার মাকে বিব্রতকর কোনো অবস্থায় দেখা পছন্দ করবে?’ এবার তিনি বললেন, ‘না, তা কখনোই করব না।’ তখন রাসূল সা. বললেন, ‘তা হলে তার ঘরে প্রবেশ করার আগে অবশ্যই অনুমতি প্রার্থনা করবে’।” মুয়াত্তা: ১৭৩৮
অর্থাৎ, ঘরে যে কেউই থাকুক না কেন, অনুমতি ছাড়া প্রবেশ করা অনুচিত। অনুমতি নিয়ে প্রবেশ করতে হবে। কারণ, যদি ঘরে কেউ থাকে, তবে তার পরিধেয় বস্ত্র যে সর্বদা ঠিকঠাক থাকবে, এমন কথা সুনিশ্চিতভাবে বলা যায় না। তাই ঘরে প্রবেশ করার আগে অনুমতি গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এক ব্যক্তি আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা.-কে প্রশ্ন করল, ‘আমি কি আমার মায়ের ঘরে প্রবেশ করার আগেও অনুমতি চাইব?’ ইবনে মাসউদ রা. উত্তর দিলেন, ‘হ্যাঁ! কারণ, কিছু সময় (অবস্থা) আছে, যখন তাকে দেখা তোমার জন্য শোভন হবে না।’
সাহাবি তালহা ইবনে উবায়দুল্লাহ রা.-এর সন্তান মুসা বলেন, "আমার পিতা একবার আমার মায়ের রুমে প্রবেশ করলেন। আমিও তাঁর সাথে সেই ঘরে প্রবেশ করলাম। আমার বাবা আমাকে থামিয়ে দিলেন এবং জোর করে বসিয়ে দিলেন। তারপর বললেন, 'তুমি তোমার মায়ের ঘরে অনুমতি না নিয়ে কীভাবে প্রবেশ করতে পারলে'?"
আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা.-এর ছাত্র নাফি বলেন, “যখনই ইবনে উমর রা.-এর কোনো ছেলে সাবালক হতো, তার ঘর আলাদা করে দেওয়া হতো। ইবনে উমর তাঁর কোনো সন্তানকেই অনুমতি ব্যতীত ঘরে প্রবেশ করতে দিতেন না।”
তাবেয়ি আতা ইবনে আবি রাবাহ বর্ণনা করেন। তিনি একবার আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা.-কে প্রশ্ন করলেন, 'আমি যখন আমার দুই বোনকে দেখতে যাব, তখনও কি অনুমতি চাইব?' ইবনে আব্বাস রা. বললেন, 'অবশ্যই।' আতা বললেন, 'কিন্তু আমি তো তাদের অভিভাবক। তাদের যাবতীয় ভরণ-পোষণের দায়িত্বও আমার।' ইবনে আব্বাস এবার বললেন, 'তুমি কি তাদের কোনো বিব্রতকর অবস্থায় দেখা ভালো মনে করো?' তারপর তিনি কুরআনের সেই আয়াতটি পড়লেন, “তোমাদের সন্তান-সন্ততিরা যখন বয়োপ্রাপ্ত হয়, তারাও যেন তাদের পূর্ববর্তীদের মতো অনুমতি চায়। এমনিভাবে আল্লাহ তাঁর নিদর্শনসমূহ তোমাদের কাছে বর্ণনা করেন। আল্লাহ সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়।” সূরা নূর: ৫৮
এই আয়াতটি তিলাওয়াত করে ইবনে আব্বাস রা. বললেন, “অনুমতি চাওয়া প্রত্যেকের জন্যই বাধ্যতামূলক।”
ইবনে মাসউদ রা. বলেন, “একজন মানুষকে অবশ্যই তার পিতামাতা, ভাই ও বোনের ঘরে প্রবেশের সময় অনুমতি নিতে হবে।”
জাবির রা. বলেন, “প্রত্যেকেই উচিত তার নিজের ছেলে, মেয়ে, বয়স্ক মা, ভাই, বোন বা পিতার ঘরে প্রবেশের সময় অনুমতি চাওয়া।”
এমনকি নিজের স্ত্রীর ঘরে প্রবেশের সময়ও স্বামীর অনুমতি নেওয়া প্রয়োজন। তা না হলে, এমন কোনো দৃশ্য স্বামীর চোখে পড়তে পারে, যা হয়তো তার ভালো লাগবে না। কিংবা এমন কোনো পরিস্থিতিতে তিনি স্ত্রীকে দেখে ফেলতে পারেন, যেভাবে হয়তো স্ত্রী নিজেকে উপস্থাপন করতে চায়নি।
আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা.-এর স্ত্রী যয়নাব রা. বলেন, "যখনই আমার স্বামী ইবনে מסউদ ঘরের দরজার কাছে আসতেন, তিনি একটু শব্দ করতেন। তিনি আমাদের বিস্মিত করতে ভয় পেতেন এবং বিব্রতকর কোনো পরিস্থিতি এড়িয়ে চলার সর্বোচ্চ চেষ্টা করতেন।" তাফসিরে তাবারি ১৭/২৪৫; তাফসিরে ইবনে কাসির ৬/৪১-৪২
ইমাম আহমাদ রহ. বলেন, “যখন কোনো স্বামী তার স্ত্রীর ঘরে প্রবেশ করতে চাইবে, তার উচিত অন্তত গলা খাকারি দিয়ে একটু শব্দ করা।" আবার এমনও হতে পারে, স্বামী একটু শব্দ করে নিজের জুতোগুলো সরাতে পারে, তা হলে স্ত্রী হয়তো নিজেকে গুছিয়ে নেওয়ার জন্য একটু সময় পাবে। যেহেতু বর্তমানে কলিংবেলের প্রচলন আছে, তাই বিষয়গুলো আগের তুলনায় অনেকটাই সহজ হয়ে গেছে।
অনুমতি ছাড়া কারও ঘরে প্রবেশ করা উচিত নয়। খাবার রান্না না হলে কারও ঘরে দাওয়াত নিয়ে তাকে বিব্রত করা উচিত নয়। কারও বাড়িতে রান্না হয়নি, অথচ অনেকেই আছে খাবার রান্না হওয়া পর্যন্ত বসেই থাকে এবং গোঁ ধরে বলে, আপনি রান্না করুন, আমরা খেয়ে যাব- এই ধরনের আচরণ কখনোই কাম্য নয়। আবার অনেককেই দেখা যায়, খাবার গ্রহণ শেষে অধিক কথা বলে সময় নষ্ট করে। ইসলামে এই ধরনের আচরণ অপছন্দনীয়। কুরআনে হাকিমে আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা বলেন,
“হে মুমিনগণ! তোমাদের অনুমতি না দেওয়া পর্যন্ত খাবার রান্না সম্পন্ন হওয়ার অপেক্ষা না করে নবির ঘরে প্রবেশ করো না। তবে তোমাদের ভেতরে ডাকা হলে প্রবেশ করো, অতঃপর খাওয়া শেষে নিজ থেকেই চলে যেয়ো। কথাবার্তায় মশগুল হয়ে যেয়ো না। নিশ্চয় এটা নবির জন্য কষ্টদায়ক। তিনি তোমাদের কাছে সংকোচ বোধ করেন; কিন্তু আল্লাহ সত্য বলতে সংকোচ করেন না। সূরা আহযাব: ৫৩
যদি বাড়ির সদস্যরা নিজেদের রুমে বিশ্রামরত অবস্থায় থাকে, আর যদি তখন ঘরে প্রবেশ করতে চান, তা হলে সবার আগে মৌখিকভাবে অনুমতি নিতে হবে বা দরজায় কড়া নেড়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করতে হবে। তা না হলে এমন কোনো দৃশ্য দেখতে পারেন, যা উভয়ের জন্যই বিব্রতকর। নিজের পরিবার বা বর্ধিত পরিবার- সব ক্ষেত্রেই এই অভ্যাস অনুশীলন করা দরকার।
কুরআন মাজিদে আল্লাহ তায়ালা মুমিনদের ঘরে প্রবেশ করার ক্ষেত্রে কিছু নিয়মকানুন মেনে চলার নির্দেশ দিয়েছেন। যেমন-
“হে মুমিনগণ, তোমরা নিজেদের ঘর ছাড়া অন্য কারও ঘরে ততক্ষণ প্রবেশ করবে না, যতক্ষণ তোমাদের মধ্যে কথা না হয় এবং ঘরের বাসিন্দাদের তোমরা সালাম না দাও। এটাই তোমাদের জন্যে উত্তম, যদি তোমরা স্মরণ রাখো। যদি তোমরা ঘরে কাউকে না পাও, তবে অনুমতি গ্রহণ না করা পর্যন্ত সেখানে প্রবেশ করো না। যদি তোমাদের বলা হয় ‘ফিরে যাও’, তবে ফিরে যাবে। এতে তোমাদের জন্য আছে পবিত্রতা। আর তোমরা যা করো, আল্লাহ তা ভালোভাবে জানেন।” সূরা নূর: ২৭-২৮
মুয়াত্তায়ে মালিক গ্রন্থে এসেছে, “এক সাহাবি রাসূল সা.-এর কাছে প্রশ্ন করেন, ‘আমি কি মায়ের ঘরে প্রবেশ করার আগেও অনুমতি চাইব?’ নবিজি বলেন, ‘হ্যাঁ, অবশ্যই।’ তিনি বললেন, ‘আমরা দুজন একই বাড়িতে থাকি।’ রাসূল সা. বললেন, ‘তারপরও অনুমতি চাইবে।’ সাহাবি বললেন, ‘কিন্তু আমি তো তাঁর সেবাও করি।’ রাসূল সা. পুনরায় বললেন, ‘তুমি কি তোমার মাকে বিব্রতকর কোনো অবস্থায় দেখা পছন্দ করবে?’ এবার তিনি বললেন, ‘না, তা কখনোই করব না।’ তখন রাসূল সা. বললেন, ‘তা হলে তার ঘরে প্রবেশ করার আগে অবশ্যই অনুমতি প্রার্থনা করবে’।” মুয়াত্তা: ১৭৩৮
অর্থাৎ, ঘরে যে কেউই থাকুক না কেন, অনুমতি ছাড়া প্রবেশ করা অনুচিত। অনুমতি নিয়ে প্রবেশ করতে হবে। কারণ, যদি ঘরে কেউ থাকে, তবে তার পরিধেয় বস্ত্র যে সর্বদা ঠিকঠাক থাকবে, এমন কথা সুনিশ্চিতভাবে বলা যায় না। তাই ঘরে প্রবেশ করার আগে অনুমতি গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এক ব্যক্তি আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা.-কে প্রশ্ন করল, ‘আমি কি আমার মায়ের ঘরে প্রবেশ করার আগেও অনুমতি চাইব?’ ইবনে মাসউদ রা. উত্তর দিলেন, ‘হ্যাঁ! কারণ, কিছু সময় (অবস্থা) আছে, যখন তাকে দেখা তোমার জন্য শোভন হবে না।’
সাহাবি তালহা ইবনে উবায়দুল্লাহ রা.-এর সন্তান মুসা বলেন, "আমার পিতা একবার আমার মায়ের রুমে প্রবেশ করলেন। আমিও তাঁর সাথে সেই ঘরে প্রবেশ করলাম। আমার বাবা আমাকে থামিয়ে দিলেন এবং জোর করে বসিয়ে দিলেন। তারপর বললেন, 'তুমি তোমার মায়ের ঘরে অনুমতি না নিয়ে কীভাবে প্রবেশ করতে পারলে'?"
আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা.-এর ছাত্র নাফি বলেন, “যখনই ইবনে উমর রা.-এর কোনো ছেলে সাবালক হতো, তার ঘর আলাদা করে দেওয়া হতো। ইবনে উমর তাঁর কোনো সন্তানকেই অনুমতি ব্যতীত ঘরে প্রবেশ করতে দিতেন না।”
তাবেয়ি আতা ইবনে আবি রাবাহ বর্ণনা করেন। তিনি একবার আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা.-কে প্রশ্ন করলেন, 'আমি যখন আমার দুই বোনকে দেখতে যাব, তখনও কি অনুমতি চাইব?' ইবনে আব্বাস রা. বললেন, 'অবশ্যই।' আতা বললেন, 'কিন্তু আমি তো তাদের অভিভাবক। তাদের যাবতীয় ভরণ-পোষণের দায়িত্বও আমার।' ইবনে আব্বাস এবার বললেন, 'তুমি কি তাদের কোনো বিব্রতকর অবস্থায় দেখা ভালো মনে করো?' তারপর তিনি কুরআনের সেই আয়াতটি পড়লেন, “তোমাদের সন্তান-সন্ততিরা যখন বয়োপ্রাপ্ত হয়, তারাও যেন তাদের পূর্ববর্তীদের মতো অনুমতি চায়। এমনিভাবে আল্লাহ তাঁর নিদর্শনসমূহ তোমাদের কাছে বর্ণনা করেন। আল্লাহ সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়।” সূরা নূর: ৫৮
এই আয়াতটি তিলাওয়াত করে ইবনে আব্বাস রা. বললেন, “অনুমতি চাওয়া প্রত্যেকের জন্যই বাধ্যতামূলক।”
ইবনে মাসউদ রা. বলেন, “একজন মানুষকে অবশ্যই তার পিতামাতা, ভাই ও বোনের ঘরে প্রবেশের সময় অনুমতি নিতে হবে।”
জাবির রা. বলেন, “প্রত্যেকের উচিত তার নিজের ছেলে, মেয়ে, বয়স্ক মা, ভাই, বোন বা পিতার ঘরে প্রবেশের সময় অনুমতি চাওয়া।”
এমনকি নিজের স্ত্রীর ঘরে প্রবেশের সময়ও স্বামীর অনুমতি নেওয়া প্রয়োজন। তা না হলে, এমন কোনো দৃশ্য স্বামীর চোখে পড়তে পারে, যা হয়তো তার ভালো লাগবে না। কিংবা এমন কোনো পরিস্থিতিতে তিনি স্ত্রীকে দেখে ফেলতে পারেন, যেভাবে হয়তো স্ত্রী নিজেকে উপস্থাপন করতে চায়নি।
আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা.-এর স্ত্রী যয়নাব রা. বলেন, "যখনই আমার স্বামী ইবনে মাসউদ ঘরের দরজার কাছে আসতেন, তিনি একটু শব্দ করতেন। তিনি আমাদের বিস্মিত করতে ভয় পেতেন এবং বিব্রতকর কোনো পরিস্থিতি এড়িয়ে চলার সর্বোচ্চ চেষ্টা করতেন।" তাফসিরে তাবারি ১৭/২৪৫; তাফসিরে ইবনে কাসির ৬/৪১-৪২
ইমাম আহমাদ রহ. বলেন, “যখন কোনো স্বামী তার স্ত্রীর ঘরে প্রবেশ করতে চাইবে, তার উচিত অন্তত গলা খাকারি দিয়ে একটু শব্দ করা।" আবার এমনও হতে পারে, স্বামী একটু শব্দ করে নিজের জুতোগুলো সরাতে পারে, তা হলে স্ত্রী হয়তো নিজেকে গুছিয়ে নেওয়ার জন্য একটু সময় পাবে। যেহেতু বর্তমানে কলিংবেলের প্রচলন আছে, তাই বিষয়গুলো আগের তুলনায় অনেকটাই সহজ হয়ে গেছে।
অনুমতি ছাড়া কারও ঘরে প্রবেশ করা উচিত নয়। খাবার রান্না না হলে কারও ঘরে দাওয়াত নিয়ে তাকে বিব্রত করা উচিত নয়। কারও বাড়িতে রান্না হয়নি, অথচ অনেকেই আছে খাবার রান্না হওয়া পর্যন্ত বসেই থাকে এবং গোঁ ধরে বলে, আপনি রান্না করুন, আমরা খেয়ে যাব- এই ধরনের আচরণ কখনোই কাম্য নয়। আবার অনেককেই দেখা যায়, খাবার গ্রহণ শেষে অধিক কথা বলে সময় নষ্ট করে। ইসলামে এই ধরনের আচরণ অপছন্দনীয়। কুরআনে হাকিমে আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা বলেন,
“হে মুমিনগণ! তোমাদের অনুমতি না দেওয়া পর্যন্ত খাবার রান্না সম্পন্ন হওয়ার অপেক্ষা না করে নবির ঘরে প্রবেশ করো না। তবে তোমাদের ভেতরে ডাকা হলে প্রবেশ করো, অতঃপর খাওয়া শেষে নিজ থেকেই চলে যেয়ো। কথাবার্তায় মশগুল হয়ে যেয়ো না। নিশ্চয় এটা নবির জন্য কষ্টদায়ক। তিনি তোমাদের কাছে সংকোচ বোধ করেন; কিন্তু আল্লাহ সত্য বলতে সংকোচ করেন না। সূরা আহযাব: ৫৩
📄 দরজায় কড়া নাড়া বা বেল বাজানো
কোনো বাড়িতে গিয়ে দরজায় কড়া নাড়তে কিংবা কলিংবেল বাজাতে হলে এমনভাবে কড়া নাড়ুন বা বেল বাজান, যা আপনার উপস্থিতি জানান দিতে যথেষ্ট। খুব বাজেভাবে বা উচ্চৈঃস্বরে কড়া নাড়া কিংবা খুব আক্রমণাত্মক মনোভাব নিয়ে বেল বাজানো উচিত নয়। মনে রাখবেন, আপনি একজন অতিথি; কোনো সন্ত্রাসী বা অত্যাচারী নন যে বাড়ির ভেতর ঢুকে ঘর তছনছ করে সবাইকে আতঙ্কিত করবেন। তাই আপনার আচরণেও সে ধরনের उत्तेजित মানসিকতা থাকা উচিত নয়।
একবার এক মহিলা একটি বিষয়ে মতামত জানার জন্য ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বল রহ.-এর বাড়িতে গেলেন। মহিলা ঘরে ঢোকার আগে খুব জোরে দরজার করাঘাত করলেন। ইবনে হাম্বল রহ. বের হয়ে বললেন, “এভাবে পুলিশেরা কড়া নাড়ায়! তাই এভাবে করবেন না।"
ইমাম বুখারি রহ. আদাবুল মুফরাদ গ্রন্থে বলেন, “সাহাবিরা রাসূল সা.-এর দরজায় নক করার সময় খুব মৃদু আওয়াজ করে কড়া নাড়তেন।”
যে বাড়িতে বসার বা থাকার ঘরগুলো দরজার কাছেই, সেখানে হালকাভাবে দরজায় কড়া নাড়াই যথেষ্ট। কিন্তু যদি কোনো বাড়িতে বসার ঘরগুলো সদর দরজা থেকে অনেক দূরে হয়, তা হলে একটু জোরে কড়া নাড়া বা বেল বাজানো যাবে, যাতে ভেতরের লোকজন সেই শব্দ শুনতে পায়। কিন্তু তাই বলে কোনো অবস্থাতেই চেঁচামেচি করা উচিত নয়। মুসলিম শরিফের একটি হাদিস থেকে জানা যায়, রাসূল সা. বলেছেন, "যার ভেতরে কোমলতা নেই, তার অনেক কিছুই নেই।” আর চেঁচামেচি করা তো কোমলতারই বিপরীত।
দুবার কড়া নাড়ার জন্য বা দুবার বেল বাজানোর জন্য মাঝখানে কিছুটা সময় দেওয়া জরুরি। এমন হতে পারে, ভেতরে থাকা মানুষটি অজু করছে, অথবা নামাজরত অবস্থায় আছে কিংবা খাচ্ছে। তিনি যেন হাতের কাজ শেষ করে দরজা খুলতে পারেন, এতটুকু সময় দেওয়া উচিত। বিরতি কতটা লম্বা হতে পারে- তা নিয়ে আলিমদের মধ্যে নানা মত রয়েছে। অনেকেই মনে করেন, চার রাকাত নামাজ পড়তে যে সময় লাগে, সে পরিমাণ বিরতি দেওয়া যেতে পারে। কারণ, এমনও হতে পারে, বাড়ির ভেতরে থাকা মানুষটি দরজায় কড়া নাড়া বা বেল বাজানোর ঠিক আগেই নামাজ শুরু করেছেন। সেক্ষেত্রে তাকে নামাজ শেষ করার সুযোগ দেওয়া জরুরি।
এভাবে তিনবার কড়া নাড়া কিংবা বেল বাজানোর পরও যদি কেউ দরজা না খোলে তা হলে ধরে নিতে হবে, যার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে এসেছেন তিনি ব্যস্ত আছেন। সেক্ষেত্রে চলে যাওয়াই শ্রেয়। রাসূল সা. বলেছেন, "যদি তিনবার অনুমতি চাওয়ার পরও ঘরে প্রবেশের সম্মতি না পাওয়া যায়, তা হলে তোমরা ফিরে যাবে।” বুখারি: ৬২৪৫
অনুমতির জন্য অপেক্ষারত অবস্থায় দরজার বরাবর সামনে দাঁড়ানো অনুচিত। একটু বামে বা ডানে গিয়ে দাঁড়ানো শ্রেয়। রাসূল সা. যখন কারও বাড়ির দরজার কাছে পৌঁছতেন, তিনি সরাসরি দরজার সামনে দাঁড়াতেন না। বরং ডানে বা বামে একটু পাশে সরে দাঁড়াতেন। আবু দাউদ: ৫১৭৪
যার বাড়ির দরজায় গিয়ে কড়া নাড়ছেন, তিনি যদি কোনো কারণে আপনাকে ফেরত যেতে বলেন, তা হলে আর বিলম্ব না করে ফিরে যাওয়াই উত্তম। কুরআনে আল্লাহ তায়ালা এমন নির্দেশই দিয়েছেন।
“যদি তোমাদের বলা হয় 'ফিরে যাও', তবে ফিরে যাবে। এতে তোমাদের জন্য আছে পবিত্রতা। তোমরা যা করো, আল্লাহ তা ভালোভাবে জানেন।" সূরা নূর: ২৮
কোনো বাড়িতে গিয়ে দরজায় কড়া নাড়তে কিংবা কলিংবেল বাজাতে হলে এমনভাবে কড়া নাড়ুন বা বেল বাজান, যা আপনার উপস্থিতি জানান দিতে যথেষ্ট। খুব বাজেভাবে বা উচ্চৈঃস্বরে কড়া নাড়া কিংবা খুব আক্রমণাত্মক মনোভাব নিয়ে বেল বাজানো উচিত নয়। মনে রাখবেন, আপনি একজন অতিথি; কোনো সন্ত্রাসী বা অত্যাচারী নন যে বাড়ির ভেতর ঢুকে ঘর তছনছ করে সবাইকে আতঙ্কিত করবেন। তাই আপনার আচরণেও সে ধরনের उत्तेजित মানসিকতা থাকা উচিত নয়।
একবার এক মহিলা একটি বিষয়ে মতামত জানার জন্য ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বল রহ.-এর বাড়িতে গেলেন। মহিলা ঘরে ঢোকার আগে খুব জোরে দরজার করাঘাত করলেন। ইবনে হাম্বল রহ. বের হয়ে বললেন, “এভাবে পুলিশেরা কড়া নাড়ায়! তাই এভাবে করবেন না।"
ইমাম বুখারি রহ. আদাবুল মুফরাদ গ্রন্থে বলেন, “সাহাবিরা রাসূল সা.-এর দরজায় নক করার সময় খুব মৃদু আওয়াজ করে কড়া নাড়তেন।”
যে বাড়িতে বসার বা থাকার ঘরগুলো দরজার কাছেই, সেখানে হালকাভাবে দরজায় কড়া নাড়াই যথেষ্ট। কিন্তু যদি কোনো বাড়িতে বসার ঘরগুলো সদর দরজা থেকে অনেক দূরে হয়, তা হলে একটু জোরে কড়া নাড়া বা বেল বাজানো যাবে, যাতে ভেতরের লোকজন সেই শব্দ শুনতে পায়। কিন্তু তাই বলে কোনো অবস্থাতেই চেঁচামেচি করা উচিত নয়। মুসলিম শরিফের একটি হাদিস থেকে জানা যায়, রাসূল সা. বলেছেন, "যার ভেতরে কোমলতা নেই, তার অনেক কিছুই নেই।” আর চেঁচামেচি করা তো কোমলতারই বিপরীত।
দুবার কড়া নাড়ার জন্য বা দুবার বেল বাজানোর জন্য মাঝখানে কিছুটা সময় দেওয়া জরুরি। এমন হতে পারে, ভেতরে থাকা মানুষটি অজু করছে, অথবা নামাজরত অবস্থায় আছে কিংবা খাচ্ছে। তিনি যেন হাতের কাজ শেষ করে দরজা খুলতে পারেন, এতটুকু সময় দেওয়া উচিত। বিরতি কতটা লম্বা হতে পারে- তা নিয়ে আলিমদের মধ্যে নানা মত রয়েছে। অনেকেই মনে করেন, চার রাকাত নামাজ পড়তে যে সময় লাগে, সে পরিমাণ বিরতি দেওয়া যেতে পারে। কারণ, এমনও হতে পারে, বাড়ির ভেতরে থাকা মানুষটি দরজায় কড়া নাড়া বা বেল বাজানোর ঠিক আগেই নামাজ শুরু করেছেন। সেক্ষেত্রে তাকে নামাজ শেষ করার সুযোগ দেওয়া জরুরি।
এভাবে তিনবার কড়া নাড়া কিংবা বেল বাজানোর পরও যদি কেউ দরজা না খোলে তা হলে ধরে নিতে হবে, যার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে এসেছেন তিনি ব্যস্ত আছেন। সেক্ষেত্রে চলে যাওয়াই শ্রেয়। রাসূল সা. বলেছেন, "যদি তিনবার অনুমতি চাওয়ার পরও ঘরে প্রবেশের সম্মতি না পাওয়া যায়, তা হলে তোমরা ফিরে যাবে।” বুখারি: ৬২৪৫
অনুমতির জন্য অপেক্ষারত অবস্থায় দরজার বরাবর সামনে দাঁড়ানো অনুচিত। একটু বামে বা ডানে গিয়ে দাঁড়ানো শ্রেয়। রাসূল সা. যখন কারও বাড়ির দরজার কাছে পৌঁছতেন, তিনি সরাসরি দরজার সামনে দাঁড়াতেন না। বরং ডানে বা বামে একটু পাশে সরে দাঁড়াতেন। আবু দাউদ: ৫১৭৪
যার বাড়ির দরজায় গিয়ে কড়া নাড়ছেন, তিনি যদি কোনো কারণে আপনাকে ফেরত যেতে বলেন, তা হলে আর বিলম্ব না করে ফিরে যাওয়াই উত্তম। কুরআনে আল্লাহ তায়ালা এমন নির্দেশই দিয়েছেন।
“যদি তোমাদের বলা হয় 'ফিরে যাও', তবে ফিরে যাবে। এতে তোমাদের জন্য আছে পবিত্রতা। তোমরা যা করো, আল্লাহ তা ভালোভাবে জানেন।" সূরা নূর: ২৮
📄 ‘কে?’ প্রশ্নের উত্তর দেওয়া প্রসঙ্গে
আপনি কারও দরজায় কড়া নাড়ার পর যদি ভেতর থেকে প্রশ্ন আসে, 'কে?' তা হলে নিজের পরিচয় দিন। এক্ষেত্রে নিজের নাম বলুন, যে নামে আপনাকে সবাই চেনে। অনেকেই বলে, 'আমি'! আসলে এ ধরনের উত্তর দেওয়া ঠিক নয়। এ ধারণা না করাই ভালো যে, গলার আওয়াজ শুনেই ভেতরের মানুষরা চিনতে পারবে। আপনার গলার স্বর হয়তো অন্য কারও সাথে হুবহু বা কাছাকাছি মিল হতে পারে। তা ছাড়া সবাই কণ্ঠস্বর শুনে ব্যক্তির পরিচয় সনাক্ত করতে পারে না।
রাসূল সা. কারও দরজায় দাঁড়িয়ে 'আমি, দরজা খোলো' এই ধরনের কথা বলতে নিরুৎসাহিত করেছেন। কারণ, এ কথার মাধ্যমে পূর্ণ পরিচয় প্রকাশিত হয় না। জাবির ইবনে আবদুল্লাহ রা. বলেন, “আমি একবার নবিজির কাছে গেলাম। তাঁর দরজায় কড়া নাড়ার পর তিনি ভেতর থেকে প্রশ্ন করলেন, 'কে?' আমি জবাবে বললাম, 'আমি'। রাসূল সা. তখন ভেতর থেকে বললেন, 'আমিও তো আমি। আমি মানে কে'?" সহিহ বুখারি: ৬২৫০
মূলত এ কারণে সাহাবিরা যখনই কারও বাড়িতে যেতেন, ভেতর থেকে পরিচয় জানতে চাইলেই নিজের নামটি বলতেন।
আরেকটি হাদিসে আবু জার গিফারি রা. বলেন, "আমি একবার রাতে হাঁটতে বেরিয়েছিলাম। একটু সামনে গিয়ে দেখতে পেলাম, রাসূল সা. নিজেও একা একা হাঁটছেন। আমি চাঁদের ছায়ার আড়ালে থেকেই তাঁর পেছনে হাঁটছিলাম। কিন্তু তিনি ঘুরে দাঁড়ালেন, আমাকে দেখে ফেললেন এবং প্রশ্ন করলেন, 'ওখানে কে?' আমি উত্তর দিলাম, 'আমি আবু জার'।” বুখারি ও মুসলিম
আলী রা.-এর বোন উম্মে হানি রা. বলেন, "আমি নবিজির সাথে দেখা করতে গিয়েছিলাম। রাসূল সা. তখন গোসল করছিলেন, আর তাঁর মেয়ে ফাতিমা তাকে আড়াল করছিলেন। উম্মে হানি রা. কাছে পৌঁছানোর পর ফাতিমা রা. প্রশ্ন করলেন, 'ওখানে কে?' জবাব দিলাম, 'আমি উম্মে হানি'।”
আপনি কারও দরজায় কড়া নাড়ার পর যদি ভেতর থেকে প্রশ্ন আসে, 'কে?' তা হলে নিজের পরিচয় দিন। এক্ষেত্রে নিজের নাম বলুন, যে নামে আপনাকে সবাই চেনে। অনেকেই বলে, 'আমি'! আসলে এ ধরনের উত্তর দেওয়া ঠিক নয়। এ ধারণা না করাই ভালো যে, গলার আওয়াজ শুনেই ভেতরের মানুষরা চিনতে পারবে। আপনার গলার স্বর হয়তো অন্য কারও সাথে হুবহু বা কাছাকাছি মিল হতে পারে। তা ছাড়া সবাই কণ্ঠস্বর শুনে ব্যক্তির পরিচয় সনাক্ত করতে পারে না।
রাসূল সা. কারও দরজায় দাঁড়িয়ে 'আমি, দরজা খোলো' این ধরনের কথা বলতে নিরুৎসাহিত করেছেন। কারণ, এ কথার মাধ্যমে পূর্ণ পরিচয় প্রকাশিত হয় না। জাবির ইবনে আবদুল্লাহ রা. বলেন, “আমি একবার নবিজির কাছে গেলাম। তাঁর দরজায় কড়া নাড়ার পর তিনি ভেতর থেকে প্রশ্ন করলেন, 'কে?' আমি জবাবে বললাম, 'আমি'। রাসূল সা. তখন ভেতর থেকে বললেন, 'আমিও তো আমি। আমি মানে কে'?" সহিহ বুখারি: ৬২৫০
মূলত এ কারণে সাহাবিরা যখনই কারও বাড়িতে যেতেন, ভেতর থেকে পরিচয় জানতে চাইলেই নিজের নামটি বলতেন।
আরেকটি হাদিসে আবু জার গিফারি রা. বলেন, "আমি একবার রাতে হাঁটতে বেরিয়েছিলাম। একটু সামনে গিয়ে দেখতে পেলাম, রাসূল সা. নিজেও একা একা হাঁটছেন। আমি চাঁদের ছায়ার আড়ালে থেকেই তাঁর পেছনে হাঁটছিলাম। কিন্তু তিনি ঘুরে দাঁড়ালেন, আমাকে দেখে ফেললেন এবং প্রশ্ন করলেন, 'ওখানে কে?' আমি উত্তর দিলাম, 'আমি আবু জার'।” বুখারি ও মুসলিম
আলী রা.-এর বোন উম্মে হানি রা. বলেন, "আমি নবিজির সাথে দেখা করতে গিয়েছিলাম। রাসূল সা. তখন গোসল করছিলেন, আর তাঁর মেয়ে ফাতিমা তাকে আড়াল করছিলেন। উম্মে হানি রা. কাছে পৌঁছানোর পর ফাতিমা রা. প্রশ্ন করলেন, 'ওখানে কে?' জবাব দিলাম, 'আমি উম্মে হানি'।”
📄 ঘর থেকে বের হওয়ার আদব
উম্মে সালামাহ রা. থেকে বর্ণিত, “রাসূল সা. যখনই আমার ঘর হতে বের হতেন, তখন আকাশের দিকে মাথা তুলে বলতেন, 'হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে পথভ্রষ্ট হওয়া বা পথভ্রষ্ট করা, গুনাহ করা বা গুনাহের দিকে ধাবিত করা, উৎপীড়ন করা বা উৎপীড়িত হওয়া, অজ্ঞতা প্রকাশ করা বা অজ্ঞতা প্রকাশের পাত্র হওয়া হতে আশ্রয় চাইছি'।” আবু দাউদ, কিতাবুল আদব : ৫০৯৪
আনাস ইবনে মালিক রা. থেকে বর্ণিত, রাসূল সা. বলেছেন, “যখন কোনো ব্যক্তি তার ঘর হতে বের হওয়ার সময় বলবে, بِسْمِ اللَّهِ تَوَكَّلْتُ عَلَى اللَّهِ، وَلا حَوْلَ وَلَا قُوةَ إِلَّا بِاللَّهِ তখন তাকে বলা হয়, 'তুমি হিদায়াতপ্রাপ্ত হয়েছ, রক্ষা পেয়েছ ও নিরাপত্তা লাভ করেছ।' সুতরাং শয়তানরা তার থেকে দূর হয়ে যায় এবং এক শয়তান অন্য শয়তানকে বলে, তুমি ওই ব্যক্তিকে কী করতে পারবে যাকে পথ দেখানো হয়েছে, নিরাপত্তা দেওয়া হয়েছে এবং রক্ষা করা হয়েছে?” আবু দাউদ: ৫০৯৫
উম্মে সালামাহ রা. থেকে বর্ণিত, “রাসূল সা. যখনই আমার ঘর হতে বের হতেন, তখন আকাশের দিকে মাথা তুলে বলতেন, 'হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে পথভ্রষ্ট হওয়া বা পথভ্রষ্ট করা, গুনাহ করা বা গুনাহের দিকে ধাবিত করা, উৎপীড়ন করা বা উৎপীড়িত হওয়া, অজ্ঞতা প্রকাশ করা বা অজ্ঞতা প্রকাশের পাত্র হওয়া হতে আশ্রয় চাইছি'।” আবু দাউদ, কিতাবুল আদব : ৫০৯৪
আনাস ইবনে মালিক রা. থেকে বর্ণিত, রাসূল সা. বলেছেন, “যখন কোনো ব্যক্তি তার ঘর হতে বের হওয়ার সময় বলবে, بِسْمِ اللَّهِ تَوَكَّلْتُ عَلَى اللَّهِ، وَلا حَوْلَ وَلَا قُوةَ إِلَّا بِاللَّهِ তখন তাকে বলা হয়, 'তুমি হিদায়াতপ্রাপ্ত হয়েছ, রক্ষা পেয়েছ ও নিরাপত্তা লাভ করেছ।' সুতরাং শয়তানরা তার থেকে দূর হয়ে যায় এবং এক শয়তান অন্য শয়তানকে বলে, তুমি ওই ব্যক্তিকে কী করতে পারবে যাকে পথ দেখানো হয়েছে, নিরাপত্তা দেওয়া হয়েছে এবং রক্ষা করা হয়েছে?” আবু দাউদ: ৫০৯৫