📄 যখন সবাই ঘুমিয়ে থাকে, তখন কীভাবে ঘরে প্রবেশ করবেন
যদি এমন কোনো স্থানে প্রবেশ করেন, যেখানে অন্য সবাই ঘুমিয়ে আছে, তা হলে প্রবেশের আগে শান্ত ও মার্জিত হওয়ার চেষ্টা করুন। অন্যের কষ্ট নিয়ে ভাবুন। কারও জন্য ঝামেলা তৈরি করবেন না। ঘরে প্রবেশ বা ঘর থেকে বের হওয়ার সময় অযাচিত শোরগোল করবেন না। রাসূল সা. বলেছেন, "যার ভেতরে ভদ্রতা ও মার্জিতভাব নেই, তার ভেতর সততাও থাকতে পারে না।" মুসলিম: ২৫৯২
মুসলিম ও তিরমিযিতে প্রখ্যাত সাহাবি মিকদাদ ইবনুল আসওয়াদ রা. থেকে বর্ণনাকৃত হাদিসে জানা যায়, “আমরা পান করার পর রাসূল সা.-এর প্রাপ্য দুধের কিছু অংশ রেখে দিতাম। রাসূল সা. যখন রাতের বেলায় সেই দুধটুকু সংগ্রহ করতে আসতেন, তিনি খুব হালকা শব্দ করতেন। আমরা যারা জেগে থাকতাম শুধু তারাই সেই শব্দ শুনতে পারতাম। তিনি কখনোই এতটা আওয়াজ করতেন না, যাতে ঘুমন্ত মানুষগুলোর অসুবিধা হয়। এমনকি গভীর রাতে রাসূল সা. যখন নামাজ পড়তেন, তখনও তিনি এতটাই মোলায়েম স্বরে নামাজ পড়তেন যে, যারা জেগে আছে তাদের কাছে ভালো লাগত। কিন্তু যারা ঘুমিয়ে আছে, তারা কিছুই বুঝতে পারতো না।" মুসলিম: ৫২৫৭
রাজকুমারী কাতরুন নাদা তার বুদ্ধিমত্তা, শিষ্টাচার এবং সৌন্দর্যের জন্য ব্যাপক পরিচিত ছিলেন। তিনি মিশরের গভর্নর খুমারুউয়াহ বিন আহমাদ বিন তোওলনের মেয়ে। পরে তিনি আব্বাসীয় খলিফা আল মুতাদিদ বিল্লাহর সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। কাতরুন নাদা বলেন, “আমার বাবা আমাকে একটি উন্নত শিষ্টাচার শিখিয়ে গেছেন। তিনি বলেছেন, 'যদি দেখো, সবাই বসে আছে, তবে তার মাঝে তুমি ঘুমিও না। আবার সবাই যেখানে ঘুমিয়ে আছে, তুমি সেখানে অহেতুক বসে থেকো না'।”
যদি এমন কোনো স্থানে প্রবেশ করেন, যেখানে অন্য সবাই ঘুমিয়ে আছে, তা হলে প্রবেশের আগে শান্ত ও মার্জিত হওয়ার চেষ্টা করুন। অন্যের কষ্ট নিয়ে ভাবুন। কারও জন্য ঝামেলা তৈরি করবেন না। ঘরে প্রবেশ বা ঘর থেকে বের হওয়ার সময় অযাচিত শোরগোল করবেন না। রাসূল সা. বলেছেন, "যার ভেতরে ভদ্রতা ও মার্জিতভাব নেই, তার ভেতর সততাও থাকতে পারে না।" মুসলিম: ২৫৯২
মুসলিম ও তিরমিযিতে প্রখ্যাত সাহাবি মিকদাদ ইবনুল আসওয়াদ রা. থেকে বর্ণনাকৃত হাদিসে জানা যায়, “আমরা পান করার পর রাসূল সা.-এর প্রাপ্য দুধের কিছু অংশ রেখে দিতাম। রাসূল সা. যখন রাতের বেলায় সেই দুধটুকু সংগ্রহ করতে আসতেন, তিনি খুব হালকা শব্দ করতেন। আমরা যারা জেগে থাকতাম শুধু তারাই সেই শব্দ শুনতে পারতাম। তিনি কখনোই এতটা আওয়াজ করতেন না, যাতে ঘুমন্ত মানুষগুলোর অসুবিধা হয়। এমনকি গভীর রাতে রাসূল সা. যখন নামাজ পড়তেন, তখনও তিনি এতটাই মোলায়েম স্বরে নামাজ পড়তেন যে, যারা জেগে আছে তাদের কাছে ভালো লাগত। কিন্তু যারা ঘুমিয়ে আছে, তারা কিছুই বুঝতে পারতো না।" মুসলিম: ৫২৫৭
রাজকুমারী কাতরুন নাদা তার বুদ্ধিমত্তা, শিষ্টাচার এবং সৌন্দর্যের জন্য ব্যাপক পরিচিত ছিলেন। তিনি মিশরের গভর্নর খুমারুউয়াহ বিন আহমাদ বিন তোওলনের মেয়ে। পরে তিনি আব্বাসীয় খলিফা আল মুতাদিদ বিল্লাহর সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। কাতরুন নাদা বলেন, “আমার বাবা আমাকে একটি উন্নত শিষ্টাচার শিখিয়ে গেছেন। তিনি বলেছেন, 'যদি দেখো, সবাই বসে আছে, তবে তার মাঝে তুমি ঘুমিও না। আবার সবাই যেখানে ঘুমিয়ে আছে, তুমি সেখানে অহেতুক বসে থেকো না'।”
📄 অভিবাদন বা সম্ভাষণ
যখন ঘরে প্রবেশ করবেন বা বের হবেন, তখন বাড়ির ভেতরের লোকদের আগে নিজের অবস্থান সম্পর্কে অবহিত করুন। প্রতিবার ঘরে প্রবেশ করা বা বের হওয়ার সময় শব্দ করে বলুন, আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ-আপনাদের ওপর শান্তি বর্ষিত হোক। মুসলিম হিসেবে আমাদের এই কথাটিই ব্যবহার করা উচিত। 'গুড মর্নিং' বা 'শুভ সকাল' কিংবা 'হ্যালো' বলে কাউকে অভিবাদন না জানানোই ভালো। 'আসসালামু আলাইকুম' কথাটাই মুসলিমদের সঠিক নিদর্শন। রাসূল সা. তাঁর ঘনিষ্ঠ সাহাবি আনাস বিন মালিক রা.-কে এ প্রসঙ্গে বলেন, “যখনই ঘরে ঢুকবে বা ঘর থেকে বের হবে, পরিবারের সবাইকে সালাম দেবে। কারণ, এর মাধ্যমে তুমি তোমার পরিবারের জন্য শান্তি, নিয়ামত ও বরকত কামনা করলে।" তিরমিযি: ২৬৯৮
প্রখ্যাত তাবেয়ি কাতাদা রহ. এই বিষয়ে বলেন, "তোমরা বাড়িতে প্রবেশ করার সময় পরিবারের সবাইকে উদ্দেশ্য করে সালাম দাও। তারাই তোমাদের সালাম পাওয়ার অধিক হকদার।"
আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, রাসূল সা. বলেছেন, “যখনই তোমরা কোনো অনুষ্ঠানে বা কিছু লোকের সমাগমস্থলে যাবে, তাদের সালাম দেবে। আবার যখন সেখান থেকে বেরিয়ে আসবে, তখনও সালাম দেবে। প্রবেশ বা বের হওয়া উভয় ক্ষেত্রেই সালাম প্রদান করা সমান গুরুত্বপূর্ণ।” আবু দাউদ
রাবি ইবনে আমির রা. থেকে বর্ণিত, “একবার বনু আমিরের একজন লোক নবিজি সা.-এর সাথে দেখা করতে গেল। সে সরাসরি নবি সা.-এর ঘরে গিয়ে দরজার বাইরে থেকে ঘরে প্রবেশ করার অনুমতি চাইল। সেই মুহূর্তে রাসূল সা.-এর ঘরে একজন খাদেমও ছিল। রাসূল সা. খাদেমকে বললেন, তুমি বাইরে মেহমানের কাছে যাও এবং তাকে অনুমতি চাওয়ার নিয়ম শিখিয়ে দাও। সে যেন বলে, আসসালামু আলাইকুম। আমি কি ভেতরে আসতে পারি?” আহমাদ: ২২৬১৭, আবু দাউদ: ৫১৭৭
ইমাম সুয়ুতি রহ. আযহারুল উরুশ ফি আখবারিল হাবুশ গ্রন্থে আবু তালিব আল জুমাহি আত তাহইয়াতের একটি উদ্ধৃতি উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, “প্রতিটি জাতির নিজস্ব অভিবাদন সংস্কৃতি রয়েছে। আরবরা বলে 'সালাম'। পারস্যের সম্রাটরা প্রত্যাশা করত, কেউ তাদের কাছে এলেই তাদের সামনে মাথা নত করবে, মাটিতে চুমু খাবে। পারস্যের লোকজন সেভাবেই রাজাকে অভিবাদন জানাত। আবিসিনিয়ানরা নিজেদের বুকের ওপর হাত রেখে অপরকে অভিবাদন জানাত। রোমানরা কারও সাথে দেখা হলেই মাথার কাপড় খুলে ফেলত। নুবিয়ানরা অতিথিদের চুমু দিয়ে এবং তাদের মুখে হাত রেখে স্বাগত জানাত। তবে ইসলাম আসার পর 'আসসালামু আলাইকুম' বলা ছাড়া অভিবাদন জানানোর অন্য সব রীতি পরিত্যক্ত হয়।”
ইমাম নববি রহ. আল মাজমু গ্রন্থে বলেন, "নিজের ঘর বা অন্যের ঘরে প্রবেশ করার আগে 'বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম' বলাটা উত্তম। আর কোনো ঘরে প্রবেশ করার সময় (তা খালি হোক কিংবা লোকে পরিপূর্ণ) সালাম দিয়েই প্রবেশ করতে হবে।"
বাইরে বের হওয়ার সময় দুআ করে বের হওয়া উত্তম। তিরমিযি ও আবু দাউদে খাদিমুর রাসূল আনাস রা.-এর সূত্রে বর্ণিত, রাসূল সা. বলেছেন, "যদি তোমরা আল্লাহর নাম নিয়ে বের হও, অন্য কারও কাছে সাহায্য না চেয়ে কেবল আল্লাহর কাছেই সাহায্য প্রার্থনা করো, তা হলে তোমরা সুরক্ষিত ও নিরাপদ। কারণ, তখন শয়তান তোমাদের ছেড়ে চলে যায় এবং আর কোনো ক্ষতি করতে পারে না।"
মুসলিম শরিফের আরেকটি হাদিসে, জাবির ইবনে আবদুল্লাহ রা. বর্ণনা করেন, রাসূল সা. বলেছেন, “যদি তোমরা ঘরে প্রবেশ করার সময় এবং খাবার খাওয়ার আগে দুআ করো, তবে শয়তান তার সঙ্গীদের বলে, এখানে আজ ঘুমানো যাবে না, কোনো খাবারও পাওয়া যাবে না। কিন্তু তুমি যদি দুআ না করে প্রবেশ করো, তা হলে শয়তান তার সঙ্গীদের জানিয়ে দেয়, আজ এখানে খুব ভালোমতো ঘুমানো যাবে, অনেক খাবারও পাওয়া যাবে।”
যখন ঘরে প্রবেশ করবেন বা বের হবেন, তখন বাড়ির ভেতরের লোকদের আগে নিজের অবস্থান সম্পর্কে অবহিত করুন। প্রতিবার ঘরে প্রবেশ করা বা বের হওয়ার সময় শব্দ করে বলুন, আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ-আপনাদের ওপর শান্তি বর্ষিত হোক। মুসলিম হিসেবে আমাদের এই কথাটিই ব্যবহার করা উচিত। 'গুড মর্নিং' বা 'শুভ সকাল' কিংবা 'হ্যালো' বলে কাউকে অভিবাদন না জানানোই ভালো। 'আসসালামু আলাইকুম' কথাটাই মুসলিমদের সঠিক নিদর্শন। রাসূল সা. তাঁর ঘনিষ্ঠ সাহাবি আনাস বিন মালিক রা.-কে এ প্রসঙ্গে বলেন, “যখনই ঘরে ঢুকবে বা ঘর থেকে বের হবে, পরিবারের সবাইকে সালাম দেবে। কারণ, এর মাধ্যমে তুমি তোমার পরিবারের জন্য শান্তি, নিয়ামত ও বরকত কামনা করলে।" তিরমিযি: ২৬৯৮
প্রখ্যাত তাবেয়ি কাতাদা রহ. এই বিষয়ে বলেন, "তোমরা বাড়িতে প্রবেশ করার সময় পরিবারের সবাইকে উদ্দেশ্য করে সালাম দাও। তারাই তোমাদের সালাম পাওয়ার অধিক হকদার।"
আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, রাসূল সা. বলেছেন, “যখনই তোমরা কোনো অনুষ্ঠানে বা কিছু লোকের সমাগমস্থলে যাবে, তাদের সালাম দেবে। আবার যখন সেখান থেকে বেরিয়ে আসবে, তখনও সালাম দেবে। প্রবেশ বা বের হওয়া উভয় ক্ষেত্রেই সালাম প্রদান করা সমান গুরুত্বপূর্ণ।” আবু দাউদ
রাবি ইবনে আমির রা. থেকে বর্ণিত, “একবার বনু আমিরের একজন লোক নবিজি সা.-এর সাথে দেখা করতে গেল। সে সরাসরি নবি সা.-এর ঘরে গিয়ে দরজার বাইরে থেকে ঘরে প্রবেশ করার অনুমতি চাইল। সেই মুহূর্তে রাসূল সা.-এর ঘরে একজন খাদেমও ছিল। রাসূল সা. খাদেমকে বললেন, তুমি বাইরে মেহমানের কাছে যাও এবং তাকে অনুমতি চাওয়ার নিয়ম শিখিয়ে দাও। সে যেন বলে, আসসালামু আলাইকুম। আমি কি ভেতরে আসতে পারি?” আহমাদ: ২২৬১৭, আবু দাউদ: ৫১৭৭
ইমাম সুয়ুতি রহ. আযহারুল উরুশ ফি আখবারিল হাবুশ গ্রন্থে আবু তালিব আল জুমাহি আত তাহইয়াতের একটি উদ্ধৃতি উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, “প্রতিটি জাতির নিজস্ব অভিবাদন সংস্কৃতি রয়েছে। আরবরা বলে 'সালাম'। পারস্যের সম্রাটরা প্রত্যাশা করত, কেউ তাদের কাছে এলেই তাদের সামনে মাথা নত করবে, মাটিতে চুমু খাবে। পারস্যের লোকজন সেভাবেই রাজাকে অভিবাদন জানাত। আবিসিনিয়ানরা নিজেদের বুকের ওপর হাত রেখে অপরকে অভিবাদন জানাত। রোমানরা কারও সাথে দেখা হলেই মাথার কাপড় খুলে ফেলত। নুবিয়ানরা অতিথিদের চুমু দিয়ে এবং তাদের মুখে হাত রেখে স্বাগত জানাত। তবে ইসলাম আসার পর 'আসসালামু আলাইকুম' বলা ছাড়া অভিবাদন জানানোর অন্য সব রীতি পরিত্যক্ত হয়।”
ইমাম নববি রহ. আল মাজমু গ্রন্থে বলেন, "নিজের ঘর বা অন্যের ঘরে প্রবেশ করার আগে 'বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম' বলাটা উত্তম। আর কোনো ঘরে প্রবেশ করার সময় (তা খালি হোক কিংবা লোকে পরিপূর্ণ) সালাম দিয়েই প্রবেশ করতে হবে।"
বাইরে বের হওয়ার সময় দুআ করে বের হওয়া উত্তম। তিরমিযি ও আবু দাউদে খাদিমুর রাসূল আনাস রা.-এর সূত্রে বর্ণিত, রাসূল সা. বলেছেন, "যদি তোমরা আল্লাহর নাম নিয়ে বের হও, অন্য কারও কাছে সাহায্য না চেয়ে কেবল আল্লাহর কাছেই সাহায্য প্রার্থনা করো, তা হলে তোমরা সুরক্ষিত ও নিরাপদ। কারণ, তখন শয়তান তোমাদের ছেড়ে চলে যায় এবং আর কোনো ক্ষতি করতে পারে না।"
মুসলিম শরিফের আরেকটি হাদিসে, জাবির ইবনে আবদুল্লাহ রা. বর্ণনা করেন, রাসূল সা. বলেছেন, “যদি তোমরা ঘরে প্রবেশ করার সময় এবং খাবার খাওয়ার আগে দুআ করো, তবে শয়তান তার সঙ্গীদের বলে, এখানে আজ ঘুমানো যাবে না, কোনো খাবারও পাওয়া যাবে না। কিন্তু তুমি যদি দুআ না করে প্রবেশ করো, তা হলে শয়তান তার সঙ্গীদের জানিয়ে দেয়, আজ এখানে খুব ভালোমতো ঘুমানো যাবে, অনেক খাবারও পাওয়া যাবে।”
📄 নিজের উপস্থিতি জানান দেওয়া
বাড়ির ভেতরে প্রবেশ করার আগে নিজের উপস্থিতি জানান দিন, যাতে বাড়ির ভেতরে থাকা লোকেরা আপনার উপস্থিতি সম্পর্কে অবহিত হয়। হুট করে ঘরে ঢুকে কাউকে বিস্মিত করা বা ভয় দেখানো উচিত নয়। আমর ইবনে আবদুল্লাহ রা. বলেন, "আমার পিতা আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. সব সময় একটু হালকা শব্দ করে বাড়ির সবাইকে নিজের উপস্থিতির কথা জানাতেন।”
ইমাম আহমাদ বিন হাম্বল রহ. বলেন, “যখন একজন ব্যক্তি তার ঘরে প্রবেশ করে, তখন তার উচিত গলায় একটু শব্দ করে বা কাশি দিয়ে কিংবা পায়ের জুতো দিয়ে আওয়াজ করে নিজের উপস্থিতির কথা জানানো।” ইমাম ইবনে হাম্বল রহ.-এর ছেলে আবদুল্লাহ ইবনে আহমাদ বলেন, “মসজিদ থেকে বাবা যখনই বাড়িতে ফিরতেন, তখনই জুতো দিয়ে শব্দ করে বা কাশি দিয়ে নিজের উপস্থিতির কথা জানাতেন।”
বুখারি ও মুসলিম শরিফের হাদিস থেকে জানা যায়, যারা সফর শেষে গভীর রাতে হঠাৎ করে উপস্থিত হয়ে নিজের পরিবারের সদস্যদের অবাক করে দেয়, আল্লাহর রাসূল সা. তাদের তিরস্কার করেছেন। কারণ, এ ধরনের আচরণ বার বার করার ফলে পরিবারের সদস্যদের মনে সংশ্লিষ্ট সদস্যের ব্যাপারে অনাস্থা ও অবিশ্বাস তৈরি হতে পারে।
বাড়ির ভেতরে প্রবেশ করার আগে নিজের উপস্থিতি জানান দিন, যাতে বাড়ির ভেতরে থাকা লোকেরা আপনার উপস্থিতি সম্পর্কে অবহিত হয়। হুট করে ঘরে ঢুকে কাউকে বিস্মিত করা বা ভয় দেখানো উচিত নয়। আমর ইবনে আবদুল্লাহ রা. বলেন, "আমার পিতা আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. সব সময় একটু হালকা শব্দ করে বাড়ির সবাইকে নিজের উপস্থিতির কথা জানাতেন।”
ইমাম আহমাদ বিন হাম্বল রহ. বলেন, “যখন একজন ব্যক্তি তার ঘরে প্রবেশ করে, তখন তার উচিত গলায় একটু শব্দ করে বা কাশি দিয়ে কিংবা পায়ের জুতো দিয়ে আওয়াজ করে নিজের উপস্থিতির কথা জানানো।” ইমাম ইবনে হাম্বল রহ.-এর ছেলে আবদুল্লাহ ইবনে আহমাদ বলেন, “মসজিদ থেকে বাবা যখনই বাড়িতে ফিরতেন, তখনই জুতো দিয়ে শব্দ করে বা কাশি দিয়ে নিজের উপস্থিতির কথা জানাতেন।”
বুখারি ও মুসলিম শরিফের হাদিস থেকে জানা যায়, যারা সফর শেষে গভীর রাতে হঠাৎ করে উপস্থিত হয়ে নিজের পরিবারের সদস্যদের অবাক করে দেয়, আল্লাহর রাসূল সা. তাদের তিরস্কার করেছেন। কারণ, এ ধরনের আচরণ বার বার করার ফলে পরিবারের সদস্যদের মনে সংশ্লিষ্ট সদস্যের ব্যাপারে অনাস্থা ও অবিশ্বাস তৈরি হতে পারে।
📄 ঘরে প্রবেশ করার অনুমতি নেওয়া
যদি বাড়ির সদস্যরা নিজেদের রুমে বিশ্রামরত অবস্থায় থাকে, আর যদি তখন ঘরে প্রবেশ করতে চান, তা হলে সবার আগে মৌখিকভাবে অনুমতি নিতে হবে বা দরজায় কড়া নেড়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করতে হবে। তা না হলে এমন কোনো দৃশ্য দেখতে পারেন, যা উভয়ের জন্যই বিব্রতকর। নিজের পরিবার বা বর্ধিত পরিবার- সব ক্ষেত্রেই এই অভ্যাস অনুশীলন করা দরকার।
কুরআন মাজিদে আল্লাহ তায়ালা মুমিনদের ঘরে প্রবেশ করার ক্ষেত্রে কিছু নিয়মকানুন মেনে চলার নির্দেশ দিয়েছেন। যেমন-
“হে মুমিনগণ, তোমরা নিজেদের ঘর ছাড়া অন্য কারও ঘরে ততক্ষণ প্রবেশ করবে না, যতক্ষণ তোমাদের মধ্যে কথা না হয় এবং ঘরের বাসিন্দাদের তোমরা সালাম না দাও। এটাই তোমাদের জন্যে উত্তম, যদি তোমরা স্মরণ রাখো। যদি তোমরা ঘরে কাউকে না পাও, তবে অনুমতি গ্রহণ না করা পর্যন্ত সেখানে প্রবেশ করো না। যদি তোমাদের বলা হয় ‘ফিরে যাও’, তবে ফিরে যাবে। এতে তোমাদের জন্য আছে পবিত্রতা। আর তোমরা যা করো, আল্লাহ তা ভালোভাবে জানেন।” সূরা নূর: ২৭-২৮
মুয়াত্তায়ে মালিক গ্রন্থে এসেছে, “এক সাহাবি রাসূল সা.-এর কাছে প্রশ্ন করেন, ‘আমি কি মায়ের ঘরে প্রবেশ করার আগেও অনুমতি চাইব?’ নবিজি বলেন, ‘হ্যাঁ, অবশ্যই।’ তিনি বললেন, ‘আমরা দুজন একই বাড়িতে থাকি।’ রাসূল সা. বললেন, ‘তারপরও অনুমতি চাইবে।’ সাহাবি বললেন, ‘কিন্তু আমি তো তাঁর সেবাও করি।’ রাসূল সা. পুনরায় বললেন, ‘তুমি কি তোমার মাকে বিব্রতকর কোনো অবস্থায় দেখা পছন্দ করবে?’ এবার তিনি বললেন, ‘না, তা কখনোই করব না।’ তখন রাসূল সা. বললেন, ‘তা হলে তার ঘরে প্রবেশ করার আগে অবশ্যই অনুমতি প্রার্থনা করবে’।” মুয়াত্তা: ১৭৩৮
অর্থাৎ, ঘরে যে কেউই থাকুক না কেন, অনুমতি ছাড়া প্রবেশ করা অনুচিত। অনুমতি নিয়ে প্রবেশ করতে হবে। কারণ, যদি ঘরে কেউ থাকে, তবে তার পরিধেয় বস্ত্র যে সর্বদা ঠিকঠাক থাকবে, এমন কথা সুনিশ্চিতভাবে বলা যায় না। তাই ঘরে প্রবেশ করার আগে অনুমতি গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এক ব্যক্তি আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা.-কে প্রশ্ন করল, ‘আমি কি আমার মায়ের ঘরে প্রবেশ করার আগেও অনুমতি চাইব?’ ইবনে মাসউদ রা. উত্তর দিলেন, ‘হ্যাঁ! কারণ, কিছু সময় (অবস্থা) আছে, যখন তাকে দেখা তোমার জন্য শোভন হবে না।’
সাহাবি তালহা ইবনে উবায়দুল্লাহ রা.-এর সন্তান মুসা বলেন, "আমার পিতা একবার আমার মায়ের রুমে প্রবেশ করলেন। আমিও তাঁর সাথে সেই ঘরে প্রবেশ করলাম। আমার বাবা আমাকে থামিয়ে দিলেন এবং জোর করে বসিয়ে দিলেন। তারপর বললেন, 'তুমি তোমার মায়ের ঘরে অনুমতি না নিয়ে কীভাবে প্রবেশ করতে পারলে'?"
আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা.-এর ছাত্র নাফি বলেন, “যখনই ইবনে উমর রা.-এর কোনো ছেলে সাবালক হতো, তার ঘর আলাদা করে দেওয়া হতো। ইবনে উমর তাঁর কোনো সন্তানকেই অনুমতি ব্যতীত ঘরে প্রবেশ করতে দিতেন না।”
তাবেয়ি আতা ইবনে আবি রাবাহ বর্ণনা করেন। তিনি একবার আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা.-কে প্রশ্ন করলেন, 'আমি যখন আমার দুই বোনকে দেখতে যাব, তখনও কি অনুমতি চাইব?' ইবনে আব্বাস রা. বললেন, 'অবশ্যই।' আতা বললেন, 'কিন্তু আমি তো তাদের অভিভাবক। তাদের যাবতীয় ভরণ-পোষণের দায়িত্বও আমার।' ইবনে আব্বাস এবার বললেন, 'তুমি কি তাদের কোনো বিব্রতকর অবস্থায় দেখা ভালো মনে করো?' তারপর তিনি কুরআনের সেই আয়াতটি পড়লেন, “তোমাদের সন্তান-সন্ততিরা যখন বয়োপ্রাপ্ত হয়, তারাও যেন তাদের পূর্ববর্তীদের মতো অনুমতি চায়। এমনিভাবে আল্লাহ তাঁর নিদর্শনসমূহ তোমাদের কাছে বর্ণনা করেন। আল্লাহ সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়।” সূরা নূর: ৫৮
এই আয়াতটি তিলাওয়াত করে ইবনে আব্বাস রা. বললেন, “অনুমতি চাওয়া প্রত্যেকের জন্যই বাধ্যতামূলক।”
ইবনে মাসউদ রা. বলেন, “একজন মানুষকে অবশ্যই তার পিতামাতা, ভাই ও বোনের ঘরে প্রবেশের সময় অনুমতি নিতে হবে।”
জাবির রা. বলেন, “প্রত্যেকেই উচিত তার নিজের ছেলে, মেয়ে, বয়স্ক মা, ভাই, বোন বা পিতার ঘরে প্রবেশের সময় অনুমতি চাওয়া।”
এমনকি নিজের স্ত্রীর ঘরে প্রবেশের সময়ও স্বামীর অনুমতি নেওয়া প্রয়োজন। তা না হলে, এমন কোনো দৃশ্য স্বামীর চোখে পড়তে পারে, যা হয়তো তার ভালো লাগবে না। কিংবা এমন কোনো পরিস্থিতিতে তিনি স্ত্রীকে দেখে ফেলতে পারেন, যেভাবে হয়তো স্ত্রী নিজেকে উপস্থাপন করতে চায়নি।
আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা.-এর স্ত্রী যয়নাব রা. বলেন, "যখনই আমার স্বামী ইবনে מסউদ ঘরের দরজার কাছে আসতেন, তিনি একটু শব্দ করতেন। তিনি আমাদের বিস্মিত করতে ভয় পেতেন এবং বিব্রতকর কোনো পরিস্থিতি এড়িয়ে চলার সর্বোচ্চ চেষ্টা করতেন।" তাফসিরে তাবারি ১৭/২৪৫; তাফসিরে ইবনে কাসির ৬/৪১-৪২
ইমাম আহমাদ রহ. বলেন, “যখন কোনো স্বামী তার স্ত্রীর ঘরে প্রবেশ করতে চাইবে, তার উচিত অন্তত গলা খাকারি দিয়ে একটু শব্দ করা।" আবার এমনও হতে পারে, স্বামী একটু শব্দ করে নিজের জুতোগুলো সরাতে পারে, তা হলে স্ত্রী হয়তো নিজেকে গুছিয়ে নেওয়ার জন্য একটু সময় পাবে। যেহেতু বর্তমানে কলিংবেলের প্রচলন আছে, তাই বিষয়গুলো আগের তুলনায় অনেকটাই সহজ হয়ে গেছে।
অনুমতি ছাড়া কারও ঘরে প্রবেশ করা উচিত নয়। খাবার রান্না না হলে কারও ঘরে দাওয়াত নিয়ে তাকে বিব্রত করা উচিত নয়। কারও বাড়িতে রান্না হয়নি, অথচ অনেকেই আছে খাবার রান্না হওয়া পর্যন্ত বসেই থাকে এবং গোঁ ধরে বলে, আপনি রান্না করুন, আমরা খেয়ে যাব- এই ধরনের আচরণ কখনোই কাম্য নয়। আবার অনেককেই দেখা যায়, খাবার গ্রহণ শেষে অধিক কথা বলে সময় নষ্ট করে। ইসলামে এই ধরনের আচরণ অপছন্দনীয়। কুরআনে হাকিমে আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা বলেন,
“হে মুমিনগণ! তোমাদের অনুমতি না দেওয়া পর্যন্ত খাবার রান্না সম্পন্ন হওয়ার অপেক্ষা না করে নবির ঘরে প্রবেশ করো না। তবে তোমাদের ভেতরে ডাকা হলে প্রবেশ করো, অতঃপর খাওয়া শেষে নিজ থেকেই চলে যেয়ো। কথাবার্তায় মশগুল হয়ে যেয়ো না। নিশ্চয় এটা নবির জন্য কষ্টদায়ক। তিনি তোমাদের কাছে সংকোচ বোধ করেন; কিন্তু আল্লাহ সত্য বলতে সংকোচ করেন না। সূরা আহযাব: ৫৩
যদি বাড়ির সদস্যরা নিজেদের রুমে বিশ্রামরত অবস্থায় থাকে, আর যদি তখন ঘরে প্রবেশ করতে চান, তা হলে সবার আগে মৌখিকভাবে অনুমতি নিতে হবে বা দরজায় কড়া নেড়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করতে হবে। তা না হলে এমন কোনো দৃশ্য দেখতে পারেন, যা উভয়ের জন্যই বিব্রতকর। নিজের পরিবার বা বর্ধিত পরিবার- সব ক্ষেত্রেই এই অভ্যাস অনুশীলন করা দরকার।
কুরআন মাজিদে আল্লাহ তায়ালা মুমিনদের ঘরে প্রবেশ করার ক্ষেত্রে কিছু নিয়মকানুন মেনে চলার নির্দেশ দিয়েছেন। যেমন-
“হে মুমিনগণ, তোমরা নিজেদের ঘর ছাড়া অন্য কারও ঘরে ততক্ষণ প্রবেশ করবে না, যতক্ষণ তোমাদের মধ্যে কথা না হয় এবং ঘরের বাসিন্দাদের তোমরা সালাম না দাও। এটাই তোমাদের জন্যে উত্তম, যদি তোমরা স্মরণ রাখো। যদি তোমরা ঘরে কাউকে না পাও, তবে অনুমতি গ্রহণ না করা পর্যন্ত সেখানে প্রবেশ করো না। যদি তোমাদের বলা হয় ‘ফিরে যাও’, তবে ফিরে যাবে। এতে তোমাদের জন্য আছে পবিত্রতা। আর তোমরা যা করো, আল্লাহ তা ভালোভাবে জানেন।” সূরা নূর: ২৭-২৮
মুয়াত্তায়ে মালিক গ্রন্থে এসেছে, “এক সাহাবি রাসূল সা.-এর কাছে প্রশ্ন করেন, ‘আমি কি মায়ের ঘরে প্রবেশ করার আগেও অনুমতি চাইব?’ নবিজি বলেন, ‘হ্যাঁ, অবশ্যই।’ তিনি বললেন, ‘আমরা দুজন একই বাড়িতে থাকি।’ রাসূল সা. বললেন, ‘তারপরও অনুমতি চাইবে।’ সাহাবি বললেন, ‘কিন্তু আমি তো তাঁর সেবাও করি।’ রাসূল সা. পুনরায় বললেন, ‘তুমি কি তোমার মাকে বিব্রতকর কোনো অবস্থায় দেখা পছন্দ করবে?’ এবার তিনি বললেন, ‘না, তা কখনোই করব না।’ তখন রাসূল সা. বললেন, ‘তা হলে তার ঘরে প্রবেশ করার আগে অবশ্যই অনুমতি প্রার্থনা করবে’।” মুয়াত্তা: ১৭৩৮
অর্থাৎ, ঘরে যে কেউই থাকুক না কেন, অনুমতি ছাড়া প্রবেশ করা অনুচিত। অনুমতি নিয়ে প্রবেশ করতে হবে। কারণ, যদি ঘরে কেউ থাকে, তবে তার পরিধেয় বস্ত্র যে সর্বদা ঠিকঠাক থাকবে, এমন কথা সুনিশ্চিতভাবে বলা যায় না। তাই ঘরে প্রবেশ করার আগে অনুমতি গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এক ব্যক্তি আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা.-কে প্রশ্ন করল, ‘আমি কি আমার মায়ের ঘরে প্রবেশ করার আগেও অনুমতি চাইব?’ ইবনে মাসউদ রা. উত্তর দিলেন, ‘হ্যাঁ! কারণ, কিছু সময় (অবস্থা) আছে, যখন তাকে দেখা তোমার জন্য শোভন হবে না।’
সাহাবি তালহা ইবনে উবায়দুল্লাহ রা.-এর সন্তান মুসা বলেন, "আমার পিতা একবার আমার মায়ের রুমে প্রবেশ করলেন। আমিও তাঁর সাথে সেই ঘরে প্রবেশ করলাম। আমার বাবা আমাকে থামিয়ে দিলেন এবং জোর করে বসিয়ে দিলেন। তারপর বললেন, 'তুমি তোমার মায়ের ঘরে অনুমতি না নিয়ে কীভাবে প্রবেশ করতে পারলে'?"
আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা.-এর ছাত্র নাফি বলেন, “যখনই ইবনে উমর রা.-এর কোনো ছেলে সাবালক হতো, তার ঘর আলাদা করে দেওয়া হতো। ইবনে উমর তাঁর কোনো সন্তানকেই অনুমতি ব্যতীত ঘরে প্রবেশ করতে দিতেন না।”
তাবেয়ি আতা ইবনে আবি রাবাহ বর্ণনা করেন। তিনি একবার আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা.-কে প্রশ্ন করলেন, 'আমি যখন আমার দুই বোনকে দেখতে যাব, তখনও কি অনুমতি চাইব?' ইবনে আব্বাস রা. বললেন, 'অবশ্যই।' আতা বললেন, 'কিন্তু আমি তো তাদের অভিভাবক। তাদের যাবতীয় ভরণ-পোষণের দায়িত্বও আমার।' ইবনে আব্বাস এবার বললেন, 'তুমি কি তাদের কোনো বিব্রতকর অবস্থায় দেখা ভালো মনে করো?' তারপর তিনি কুরআনের সেই আয়াতটি পড়লেন, “তোমাদের সন্তান-সন্ততিরা যখন বয়োপ্রাপ্ত হয়, তারাও যেন তাদের পূর্ববর্তীদের মতো অনুমতি চায়। এমনিভাবে আল্লাহ তাঁর নিদর্শনসমূহ তোমাদের কাছে বর্ণনা করেন। আল্লাহ সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়।” সূরা নূর: ৫৮
এই আয়াতটি তিলাওয়াত করে ইবনে আব্বাস রা. বললেন, “অনুমতি চাওয়া প্রত্যেকের জন্যই বাধ্যতামূলক।”
ইবনে মাসউদ রা. বলেন, “একজন মানুষকে অবশ্যই তার পিতামাতা, ভাই ও বোনের ঘরে প্রবেশের সময় অনুমতি নিতে হবে।”
জাবির রা. বলেন, “প্রত্যেকের উচিত তার নিজের ছেলে, মেয়ে, বয়স্ক মা, ভাই, বোন বা পিতার ঘরে প্রবেশের সময় অনুমতি চাওয়া।”
এমনকি নিজের স্ত্রীর ঘরে প্রবেশের সময়ও স্বামীর অনুমতি নেওয়া প্রয়োজন। তা না হলে, এমন কোনো দৃশ্য স্বামীর চোখে পড়তে পারে, যা হয়তো তার ভালো লাগবে না। কিংবা এমন কোনো পরিস্থিতিতে তিনি স্ত্রীকে দেখে ফেলতে পারেন, যেভাবে হয়তো স্ত্রী নিজেকে উপস্থাপন করতে চায়নি।
আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা.-এর স্ত্রী যয়নাব রা. বলেন, "যখনই আমার স্বামী ইবনে মাসউদ ঘরের দরজার কাছে আসতেন, তিনি একটু শব্দ করতেন। তিনি আমাদের বিস্মিত করতে ভয় পেতেন এবং বিব্রতকর কোনো পরিস্থিতি এড়িয়ে চলার সর্বোচ্চ চেষ্টা করতেন।" তাফসিরে তাবারি ১৭/২৪৫; তাফসিরে ইবনে কাসির ৬/৪১-৪২
ইমাম আহমাদ রহ. বলেন, “যখন কোনো স্বামী তার স্ত্রীর ঘরে প্রবেশ করতে চাইবে, তার উচিত অন্তত গলা খাকারি দিয়ে একটু শব্দ করা।" আবার এমনও হতে পারে, স্বামী একটু শব্দ করে নিজের জুতোগুলো সরাতে পারে, তা হলে স্ত্রী হয়তো নিজেকে গুছিয়ে নেওয়ার জন্য একটু সময় পাবে। যেহেতু বর্তমানে কলিংবেলের প্রচলন আছে, তাই বিষয়গুলো আগের তুলনায় অনেকটাই সহজ হয়ে গেছে।
অনুমতি ছাড়া কারও ঘরে প্রবেশ করা উচিত নয়। খাবার রান্না না হলে কারও ঘরে দাওয়াত নিয়ে তাকে বিব্রত করা উচিত নয়। কারও বাড়িতে রান্না হয়নি, অথচ অনেকেই আছে খাবার রান্না হওয়া পর্যন্ত বসেই থাকে এবং গোঁ ধরে বলে, আপনি রান্না করুন, আমরা খেয়ে যাব- এই ধরনের আচরণ কখনোই কাম্য নয়। আবার অনেককেই দেখা যায়, খাবার গ্রহণ শেষে অধিক কথা বলে সময় নষ্ট করে। ইসলামে এই ধরনের আচরণ অপছন্দনীয়। কুরআনে হাকিমে আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা বলেন,
“হে মুমিনগণ! তোমাদের অনুমতি না দেওয়া পর্যন্ত খাবার রান্না সম্পন্ন হওয়ার অপেক্ষা না করে নবির ঘরে প্রবেশ করো না। তবে তোমাদের ভেতরে ডাকা হলে প্রবেশ করো, অতঃপর খাওয়া শেষে নিজ থেকেই চলে যেয়ো। কথাবার্তায় মশগুল হয়ে যেয়ো না। নিশ্চয় এটা নবির জন্য কষ্টদায়ক। তিনি তোমাদের কাছে সংকোচ বোধ করেন; কিন্তু আল্লাহ সত্য বলতে সংকোচ করেন না। সূরা আহযাব: ৫৩