📘 ইসলামিক ম্যানারস > 📄 কীভাবে ঘরে প্রবেশ করবেন

📄 কীভাবে ঘরে প্রবেশ করবেন


ঘরে প্রবেশ করা কিংবা ঘর থেকে বের হওয়ার সময় ডান পা আগে ফেলতে হবে, নবিজি সা. তা-ই করতেন। প্রখ্যাত হাদিস বিশারদ ইমাম আবুল আলা হাসান ইবনে আহমাদ আল হামদানি রহ. এই সুন্নাতটি অনুসরণে এতটাই তৎপর ছিলেন যে, কেউ যদি তাঁর ঘরে বাম পায়ে প্রবেশ করত, তিনি তাকে বাইরে গিয়ে পুনরায় ডান পায়ে প্রবেশ করার অনুরোধ করতেন।

তৎকালীন সুলতানও নিয়মিত ইমামের পরিচালনাধীন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করতে যেতেন এবং তাঁর সামনে ছাত্রের মতো বিনয়ী হয়ে আসন গ্রহণ করতেন। ইমাম হামদানি রহ. সুলতানকেও ঘরে প্রবেশ এবং বের হওয়ার সময় ডান পা আগে ফেলতে বলতেন। সেই সাথে, তিনি সুলতানসহ সকল মানুষকে রাস্তার ডান পাশ দিয়ে হাঁটার জন্যও উপদেশ দিতেন।

ঘরে প্রবেশ করা বা বের হওয়ার সময় শব্দ করে দরজা বন্ধ করা ঠিক নয়। এমন কিছু দরজা রয়েছে, যেগুলো বন্ধ হওয়ার সময় বিরক্তিকর শব্দ হয়। এ ধরনের আওয়াজ বন্ধের জন্যও ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। সামান্য দরজা বন্ধ করার মাঝেও ইসলামি আদবের প্রতিফলন ঘটানো সম্ভব। হাত দিয়ে খুব ধীরে শব্দ না করে দরজা বন্ধ করতে হবে। উম্মুল মুমিনিন আয়িশা রা. থেকে বর্ণিত, রাসূল সা. বলেছেন, “আদব ও সৌজন্যতা প্রতিটি কাজকেই মহিমান্বিত করে। আর যখন কোনো কাজে আদব থাকে না, তখন সেই কাজটি নষ্ট হয়ে যায়।” আহমাদ: ২৪৪১৭

ঘরে প্রবেশ করা কিংবা ঘর থেকে বের হওয়ার সময় ডান পা আগে ফেলতে হবে, নবিজি সা. তা-ই করতেন। প্রখ্যাত হাদিস বিশারদ ইমাম আবুল আলা হাসান ইবনে আহমাদ আল হামদানি রহ. এই সুন্নাতটি অনুসরণে এতটাই তৎপর ছিলেন যে, কেউ যদি তাঁর ঘরে বাম পায়ে প্রবেশ করত, তিনি তাকে বাইরে গিয়ে পুনরায় ডান পায়ে প্রবেশ করার অনুরোধ করতেন।
তৎকালীন সুলতানও নিয়মিত ইমামের পরিচালনাধীন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করতে যেতেন এবং তাঁর সামনে ছাত্রের মতো বিনয়ী হয়ে আসন গ্রহণ করতেন। ইমাম হামদানি রহ. সুলতানকেও ঘরে প্রবেশ এবং বের হওয়ার সময় ডান পা আগে ফেলতে বলতেন। সেই সাথে, তিনি সুলতানসহ সকল মানুষকে রাস্তার ডান পাশ দিয়ে হাঁটার জন্যও উপদেশ দিতেন।
ঘরে প্রবেশ করা বা বের হওয়ার সময় শব্দ করে দরজা বন্ধ করা ঠিক নয়। এমন কিছু দরজা রয়েছে, যেগুলো বন্ধ হওয়ার সময় বিরক্তিকর শব্দ হয়। এ ধরনের আওয়াজ বন্ধের জন্যও ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। সামান্য দরজা বন্ধ করার মাঝেও ইসলামি আদবের প্রতিফলন ঘটানো সম্ভব। হাত দিয়ে খুব ধীরে শব্দ না করে দরজা বন্ধ করতে হবে। উম্মুল মুমিনিন আয়িশা রা. থেকে বর্ণিত, রাসূল সা. বলেছেন, “আদব ও সৌজন্যতা প্রতিটি কাজকেই মহিমান্বিত করে। আর যখন কোনো কাজে আদব থাকে না, তখন সেই কাজটি নষ্ট হয়ে যায়।” আহমাদ: ২৪৪১৭

📘 ইসলামিক ম্যানারস > 📄 যখন সবাই ঘুমিয়ে থাকে, তখন কীভাবে ঘরে প্রবেশ করবেন

📄 যখন সবাই ঘুমিয়ে থাকে, তখন কীভাবে ঘরে প্রবেশ করবেন


যদি এমন কোনো স্থানে প্রবেশ করেন, যেখানে অন্য সবাই ঘুমিয়ে আছে, তা হলে প্রবেশের আগে শান্ত ও মার্জিত হওয়ার চেষ্টা করুন। অন্যের কষ্ট নিয়ে ভাবুন। কারও জন্য ঝামেলা তৈরি করবেন না। ঘরে প্রবেশ বা ঘর থেকে বের হওয়ার সময় অযাচিত শোরগোল করবেন না। রাসূল সা. বলেছেন, "যার ভেতরে ভদ্রতা ও মার্জিতভাব নেই, তার ভেতর সততাও থাকতে পারে না।" মুসলিম: ২৫৯২

মুসলিম ও তিরমিযিতে প্রখ্যাত সাহাবি মিকদাদ ইবনুল আসওয়াদ রা. থেকে বর্ণনাকৃত হাদিসে জানা যায়, “আমরা পান করার পর রাসূল সা.-এর প্রাপ্য দুধের কিছু অংশ রেখে দিতাম। রাসূল সা. যখন রাতের বেলায় সেই দুধটুকু সংগ্রহ করতে আসতেন, তিনি খুব হালকা শব্দ করতেন। আমরা যারা জেগে থাকতাম শুধু তারাই সেই শব্দ শুনতে পারতাম। তিনি কখনোই এতটা আওয়াজ করতেন না, যাতে ঘুমন্ত মানুষগুলোর অসুবিধা হয়। এমনকি গভীর রাতে রাসূল সা. যখন নামাজ পড়তেন, তখনও তিনি এতটাই মোলায়েম স্বরে নামাজ পড়তেন যে, যারা জেগে আছে তাদের কাছে ভালো লাগত। কিন্তু যারা ঘুমিয়ে আছে, তারা কিছুই বুঝতে পারতো না।" মুসলিম: ৫২৫৭

রাজকুমারী কাতরুন নাদা তার বুদ্ধিমত্তা, শিষ্টাচার এবং সৌন্দর্যের জন্য ব্যাপক পরিচিত ছিলেন। তিনি মিশরের গভর্নর খুমারুউয়াহ বিন আহমাদ বিন তোওলনের মেয়ে। পরে তিনি আব্বাসীয় খলিফা আল মুতাদিদ বিল্লাহর সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। কাতরুন নাদা বলেন, “আমার বাবা আমাকে একটি উন্নত শিষ্টাচার শিখিয়ে গেছেন। তিনি বলেছেন, 'যদি দেখো, সবাই বসে আছে, তবে তার মাঝে তুমি ঘুমিও না। আবার সবাই যেখানে ঘুমিয়ে আছে, তুমি সেখানে অহেতুক বসে থেকো না'।”

যদি এমন কোনো স্থানে প্রবেশ করেন, যেখানে অন্য সবাই ঘুমিয়ে আছে, তা হলে প্রবেশের আগে শান্ত ও মার্জিত হওয়ার চেষ্টা করুন। অন্যের কষ্ট নিয়ে ভাবুন। কারও জন্য ঝামেলা তৈরি করবেন না। ঘরে প্রবেশ বা ঘর থেকে বের হওয়ার সময় অযাচিত শোরগোল করবেন না। রাসূল সা. বলেছেন, "যার ভেতরে ভদ্রতা ও মার্জিতভাব নেই, তার ভেতর সততাও থাকতে পারে না।" মুসলিম: ২৫৯২
মুসলিম ও তিরমিযিতে প্রখ্যাত সাহাবি মিকদাদ ইবনুল আসওয়াদ রা. থেকে বর্ণনাকৃত হাদিসে জানা যায়, “আমরা পান করার পর রাসূল সা.-এর প্রাপ্য দুধের কিছু অংশ রেখে দিতাম। রাসূল সা. যখন রাতের বেলায় সেই দুধটুকু সংগ্রহ করতে আসতেন, তিনি খুব হালকা শব্দ করতেন। আমরা যারা জেগে থাকতাম শুধু তারাই সেই শব্দ শুনতে পারতাম। তিনি কখনোই এতটা আওয়াজ করতেন না, যাতে ঘুমন্ত মানুষগুলোর অসুবিধা হয়। এমনকি গভীর রাতে রাসূল সা. যখন নামাজ পড়তেন, তখনও তিনি এতটাই মোলায়েম স্বরে নামাজ পড়তেন যে, যারা জেগে আছে তাদের কাছে ভালো লাগত। কিন্তু যারা ঘুমিয়ে আছে, তারা কিছুই বুঝতে পারতো না।" মুসলিম: ৫২৫৭
রাজকুমারী কাতরুন নাদা তার বুদ্ধিমত্তা, শিষ্টাচার এবং সৌন্দর্যের জন্য ব্যাপক পরিচিত ছিলেন। তিনি মিশরের গভর্নর খুমারুউয়াহ বিন আহমাদ বিন তোওলনের মেয়ে। পরে তিনি আব্বাসীয় খলিফা আল মুতাদিদ বিল্লাহর সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। কাতরুন নাদা বলেন, “আমার বাবা আমাকে একটি উন্নত শিষ্টাচার শিখিয়ে গেছেন। তিনি বলেছেন, 'যদি দেখো, সবাই বসে আছে, তবে তার মাঝে তুমি ঘুমিও না। আবার সবাই যেখানে ঘুমিয়ে আছে, তুমি সেখানে অহেতুক বসে থেকো না'।”

📘 ইসলামিক ম্যানারস > 📄 অভিবাদন বা সম্ভাষণ

📄 অভিবাদন বা সম্ভাষণ


যখন ঘরে প্রবেশ করবেন বা বের হবেন, তখন বাড়ির ভেতরের লোকদের আগে নিজের অবস্থান সম্পর্কে অবহিত করুন। প্রতিবার ঘরে প্রবেশ করা বা বের হওয়ার সময় শব্দ করে বলুন, আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ-আপনাদের ওপর শান্তি বর্ষিত হোক। মুসলিম হিসেবে আমাদের এই কথাটিই ব্যবহার করা উচিত। 'গুড মর্নিং' বা 'শুভ সকাল' কিংবা 'হ্যালো' বলে কাউকে অভিবাদন না জানানোই ভালো। 'আসসালামু আলাইকুম' কথাটাই মুসলিমদের সঠিক নিদর্শন। রাসূল সা. তাঁর ঘনিষ্ঠ সাহাবি আনাস বিন মালিক রা.-কে এ প্রসঙ্গে বলেন, “যখনই ঘরে ঢুকবে বা ঘর থেকে বের হবে, পরিবারের সবাইকে সালাম দেবে। কারণ, এর মাধ্যমে তুমি তোমার পরিবারের জন্য শান্তি, নিয়ামত ও বরকত কামনা করলে।" তিরমিযি: ২৬৯৮

প্রখ্যাত তাবেয়ি কাতাদা রহ. এই বিষয়ে বলেন, "তোমরা বাড়িতে প্রবেশ করার সময় পরিবারের সবাইকে উদ্দেশ্য করে সালাম দাও। তারাই তোমাদের সালাম পাওয়ার অধিক হকদার।"

আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, রাসূল সা. বলেছেন, “যখনই তোমরা কোনো অনুষ্ঠানে বা কিছু লোকের সমাগমস্থলে যাবে, তাদের সালাম দেবে। আবার যখন সেখান থেকে বেরিয়ে আসবে, তখনও সালাম দেবে। প্রবেশ বা বের হওয়া উভয় ক্ষেত্রেই সালাম প্রদান করা সমান গুরুত্বপূর্ণ।” আবু দাউদ

রাবি ইবনে আমির রা. থেকে বর্ণিত, “একবার বনু আমিরের একজন লোক নবিজি সা.-এর সাথে দেখা করতে গেল। সে সরাসরি নবি সা.-এর ঘরে গিয়ে দরজার বাইরে থেকে ঘরে প্রবেশ করার অনুমতি চাইল। সেই মুহূর্তে রাসূল সা.-এর ঘরে একজন খাদেমও ছিল। রাসূল সা. খাদেমকে বললেন, তুমি বাইরে মেহমানের কাছে যাও এবং তাকে অনুমতি চাওয়ার নিয়ম শিখিয়ে দাও। সে যেন বলে, আসসালামু আলাইকুম। আমি কি ভেতরে আসতে পারি?” আহমাদ: ২২৬১৭, আবু দাউদ: ৫১৭৭

ইমাম সুয়ুতি রহ. আযহারুল উরুশ ফি আখবারিল হাবুশ গ্রন্থে আবু তালিব আল জুমাহি আত তাহইয়াতের একটি উদ্ধৃতি উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, “প্রতিটি জাতির নিজস্ব অভিবাদন সংস্কৃতি রয়েছে। আরবরা বলে 'সালাম'। পারস্যের সম্রাটরা প্রত্যাশা করত, কেউ তাদের কাছে এলেই তাদের সামনে মাথা নত করবে, মাটিতে চুমু খাবে। পারস্যের লোকজন সেভাবেই রাজাকে অভিবাদন জানাত। আবিসিনিয়ানরা নিজেদের বুকের ওপর হাত রেখে অপরকে অভিবাদন জানাত। রোমানরা কারও সাথে দেখা হলেই মাথার কাপড় খুলে ফেলত। নুবিয়ানরা অতিথিদের চুমু দিয়ে এবং তাদের মুখে হাত রেখে স্বাগত জানাত। তবে ইসলাম আসার পর 'আসসালামু আলাইকুম' বলা ছাড়া অভিবাদন জানানোর অন্য সব রীতি পরিত্যক্ত হয়।”

ইমাম নববি রহ. আল মাজমু গ্রন্থে বলেন, "নিজের ঘর বা অন্যের ঘরে প্রবেশ করার আগে 'বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম' বলাটা উত্তম। আর কোনো ঘরে প্রবেশ করার সময় (তা খালি হোক কিংবা লোকে পরিপূর্ণ) সালাম দিয়েই প্রবেশ করতে হবে।"

বাইরে বের হওয়ার সময় দুআ করে বের হওয়া উত্তম। তিরমিযি ও আবু দাউদে খাদিমুর রাসূল আনাস রা.-এর সূত্রে বর্ণিত, রাসূল সা. বলেছেন, "যদি তোমরা আল্লাহর নাম নিয়ে বের হও, অন্য কারও কাছে সাহায্য না চেয়ে কেবল আল্লাহর কাছেই সাহায্য প্রার্থনা করো, তা হলে তোমরা সুরক্ষিত ও নিরাপদ। কারণ, তখন শয়তান তোমাদের ছেড়ে চলে যায় এবং আর কোনো ক্ষতি করতে পারে না।"

মুসলিম শরিফের আরেকটি হাদিসে, জাবির ইবনে আবদুল্লাহ রা. বর্ণনা করেন, রাসূল সা. বলেছেন, “যদি তোমরা ঘরে প্রবেশ করার সময় এবং খাবার খাওয়ার আগে দুআ করো, তবে শয়তান তার সঙ্গীদের বলে, এখানে আজ ঘুমানো যাবে না, কোনো খাবারও পাওয়া যাবে না। কিন্তু তুমি যদি দুআ না করে প্রবেশ করো, তা হলে শয়তান তার সঙ্গীদের জানিয়ে দেয়, আজ এখানে খুব ভালোমতো ঘুমানো যাবে, অনেক খাবারও পাওয়া যাবে।”

যখন ঘরে প্রবেশ করবেন বা বের হবেন, তখন বাড়ির ভেতরের লোকদের আগে নিজের অবস্থান সম্পর্কে অবহিত করুন। প্রতিবার ঘরে প্রবেশ করা বা বের হওয়ার সময় শব্দ করে বলুন, আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ-আপনাদের ওপর শান্তি বর্ষিত হোক। মুসলিম হিসেবে আমাদের এই কথাটিই ব্যবহার করা উচিত। 'গুড মর্নিং' বা 'শুভ সকাল' কিংবা 'হ্যালো' বলে কাউকে অভিবাদন না জানানোই ভালো। 'আসসালামু আলাইকুম' কথাটাই মুসলিমদের সঠিক নিদর্শন। রাসূল সা. তাঁর ঘনিষ্ঠ সাহাবি আনাস বিন মালিক রা.-কে এ প্রসঙ্গে বলেন, “যখনই ঘরে ঢুকবে বা ঘর থেকে বের হবে, পরিবারের সবাইকে সালাম দেবে। কারণ, এর মাধ্যমে তুমি তোমার পরিবারের জন্য শান্তি, নিয়ামত ও বরকত কামনা করলে।" তিরমিযি: ২৬৯৮
প্রখ্যাত তাবেয়ি কাতাদা রহ. এই বিষয়ে বলেন, "তোমরা বাড়িতে প্রবেশ করার সময় পরিবারের সবাইকে উদ্দেশ্য করে সালাম দাও। তারাই তোমাদের সালাম পাওয়ার অধিক হকদার।"
আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, রাসূল সা. বলেছেন, “যখনই তোমরা কোনো অনুষ্ঠানে বা কিছু লোকের সমাগমস্থলে যাবে, তাদের সালাম দেবে। আবার যখন সেখান থেকে বেরিয়ে আসবে, তখনও সালাম দেবে। প্রবেশ বা বের হওয়া উভয় ক্ষেত্রেই সালাম প্রদান করা সমান গুরুত্বপূর্ণ।” আবু দাউদ
রাবি ইবনে আমির রা. থেকে বর্ণিত, “একবার বনু আমিরের একজন লোক নবিজি সা.-এর সাথে দেখা করতে গেল। সে সরাসরি নবি সা.-এর ঘরে গিয়ে দরজার বাইরে থেকে ঘরে প্রবেশ করার অনুমতি চাইল। সেই মুহূর্তে রাসূল সা.-এর ঘরে একজন খাদেমও ছিল। রাসূল সা. খাদেমকে বললেন, তুমি বাইরে মেহমানের কাছে যাও এবং তাকে অনুমতি চাওয়ার নিয়ম শিখিয়ে দাও। সে যেন বলে, আসসালামু আলাইকুম। আমি কি ভেতরে আসতে পারি?” আহমাদ: ২২৬১৭, আবু দাউদ: ৫১৭৭
ইমাম সুয়ুতি রহ. আযহারুল উরুশ ফি আখবারিল হাবুশ গ্রন্থে আবু তালিব আল জুমাহি আত তাহইয়াতের একটি উদ্ধৃতি উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, “প্রতিটি জাতির নিজস্ব অভিবাদন সংস্কৃতি রয়েছে। আরবরা বলে 'সালাম'। পারস্যের সম্রাটরা প্রত্যাশা করত, কেউ তাদের কাছে এলেই তাদের সামনে মাথা নত করবে, মাটিতে চুমু খাবে। পারস্যের লোকজন সেভাবেই রাজাকে অভিবাদন জানাত। আবিসিনিয়ানরা নিজেদের বুকের ওপর হাত রেখে অপরকে অভিবাদন জানাত। রোমানরা কারও সাথে দেখা হলেই মাথার কাপড় খুলে ফেলত। নুবিয়ানরা অতিথিদের চুমু দিয়ে এবং তাদের মুখে হাত রেখে স্বাগত জানাত। তবে ইসলাম আসার পর 'আসসালামু আলাইকুম' বলা ছাড়া অভিবাদন জানানোর অন্য সব রীতি পরিত্যক্ত হয়।”
ইমাম নববি রহ. আল মাজমু গ্রন্থে বলেন, "নিজের ঘর বা অন্যের ঘরে প্রবেশ করার আগে 'বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম' বলাটা উত্তম। আর কোনো ঘরে প্রবেশ করার সময় (তা খালি হোক কিংবা লোকে পরিপূর্ণ) সালাম দিয়েই প্রবেশ করতে হবে।"
বাইরে বের হওয়ার সময় দুআ করে বের হওয়া উত্তম। তিরমিযি ও আবু দাউদে খাদিমুর রাসূল আনাস রা.-এর সূত্রে বর্ণিত, রাসূল সা. বলেছেন, "যদি তোমরা আল্লাহর নাম নিয়ে বের হও, অন্য কারও কাছে সাহায্য না চেয়ে কেবল আল্লাহর কাছেই সাহায্য প্রার্থনা করো, তা হলে তোমরা সুরক্ষিত ও নিরাপদ। কারণ, তখন শয়তান তোমাদের ছেড়ে চলে যায় এবং আর কোনো ক্ষতি করতে পারে না।"
মুসলিম শরিফের আরেকটি হাদিসে, জাবির ইবনে আবদুল্লাহ রা. বর্ণনা করেন, রাসূল সা. বলেছেন, “যদি তোমরা ঘরে প্রবেশ করার সময় এবং খাবার খাওয়ার আগে দুআ করো, তবে শয়তান তার সঙ্গীদের বলে, এখানে আজ ঘুমানো যাবে না, কোনো খাবারও পাওয়া যাবে না। কিন্তু তুমি যদি দুআ না করে প্রবেশ করো, তা হলে শয়তান তার সঙ্গীদের জানিয়ে দেয়, আজ এখানে খুব ভালোমতো ঘুমানো যাবে, অনেক খাবারও পাওয়া যাবে।”

📘 ইসলামিক ম্যানারস > 📄 নিজের উপস্থিতি জানান দেওয়া

📄 নিজের উপস্থিতি জানান দেওয়া


বাড়ির ভেতরে প্রবেশ করার আগে নিজের উপস্থিতি জানান দিন, যাতে বাড়ির ভেতরে থাকা লোকেরা আপনার উপস্থিতি সম্পর্কে অবহিত হয়। হুট করে ঘরে ঢুকে কাউকে বিস্মিত করা বা ভয় দেখানো উচিত নয়। আমর ইবনে আবদুল্লাহ রা. বলেন, "আমার পিতা আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. সব সময় একটু হালকা শব্দ করে বাড়ির সবাইকে নিজের উপস্থিতির কথা জানাতেন।”

ইমাম আহমাদ বিন হাম্বল রহ. বলেন, “যখন একজন ব্যক্তি তার ঘরে প্রবেশ করে, তখন তার উচিত গলায় একটু শব্দ করে বা কাশি দিয়ে কিংবা পায়ের জুতো দিয়ে আওয়াজ করে নিজের উপস্থিতির কথা জানানো।” ইমাম ইবনে হাম্বল রহ.-এর ছেলে আবদুল্লাহ ইবনে আহমাদ বলেন, “মসজিদ থেকে বাবা যখনই বাড়িতে ফিরতেন, তখনই জুতো দিয়ে শব্দ করে বা কাশি দিয়ে নিজের উপস্থিতির কথা জানাতেন।”

বুখারি ও মুসলিম শরিফের হাদিস থেকে জানা যায়, যারা সফর শেষে গভীর রাতে হঠাৎ করে উপস্থিত হয়ে নিজের পরিবারের সদস্যদের অবাক করে দেয়, আল্লাহর রাসূল সা. তাদের তিরস্কার করেছেন। কারণ, এ ধরনের আচরণ বার বার করার ফলে পরিবারের সদস্যদের মনে সংশ্লিষ্ট সদস্যের ব্যাপারে অনাস্থা ও অবিশ্বাস তৈরি হতে পারে।

বাড়ির ভেতরে প্রবেশ করার আগে নিজের উপস্থিতি জানান দিন, যাতে বাড়ির ভেতরে থাকা লোকেরা আপনার উপস্থিতি সম্পর্কে অবহিত হয়। হুট করে ঘরে ঢুকে কাউকে বিস্মিত করা বা ভয় দেখানো উচিত নয়। আমর ইবনে আবদুল্লাহ রা. বলেন, "আমার পিতা আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. সব সময় একটু হালকা শব্দ করে বাড়ির সবাইকে নিজের উপস্থিতির কথা জানাতেন।”
ইমাম আহমাদ বিন হাম্বল রহ. বলেন, “যখন একজন ব্যক্তি তার ঘরে প্রবেশ করে, তখন তার উচিত গলায় একটু শব্দ করে বা কাশি দিয়ে কিংবা পায়ের জুতো দিয়ে আওয়াজ করে নিজের উপস্থিতির কথা জানানো।” ইমাম ইবনে হাম্বল রহ.-এর ছেলে আবদুল্লাহ ইবনে আহমাদ বলেন, “মসজিদ থেকে বাবা যখনই বাড়িতে ফিরতেন, তখনই জুতো দিয়ে শব্দ করে বা কাশি দিয়ে নিজের উপস্থিতির কথা জানাতেন।”
বুখারি ও মুসলিম শরিফের হাদিস থেকে জানা যায়, যারা সফর শেষে গভীর রাতে হঠাৎ করে উপস্থিত হয়ে নিজের পরিবারের সদস্যদের অবাক করে দেয়, আল্লাহর রাসূল সা. তাদের তিরস্কার করেছেন। কারণ, এ ধরনের আচরণ বার বার করার ফলে পরিবারের সদস্যদের মনে সংশ্লিষ্ট সদস্যের ব্যাপারে অনাস্থা ও অবিশ্বাস তৈরি হতে পারে।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00