📄 সফর থেকে ফেরার আদব
যদি আপনি কারও সাক্ষাতে যান কিংবা কেউ যদি আপনার কাছে বেড়াতে আসে- সে যেই হোক না কেন, হতে পারে আপনার পিতা-মাতা বা কোনো আত্মীয়, বন্ধুবান্ধব অথবা ভিন্ন বয়সের কেউ, তা হলে তার সাথে সাক্ষাতের আগে হাত, পা এবং পায়ের মোজা পরিষ্কার করুন। পরিধেয় পোশাক পরিষ্কার রাখার চেষ্টা করুন। নিজের বাহ্যিক অবয়ব ও পোশাক নিয়ে কখনও অবহেলা করবেন না। এই বিষয়টিকে গুরুত্ব না দিলে আপনার অভিজ্ঞতা ভালো না-ও হতে পারে। সেক্ষেত্রে সাক্ষাতের ফলে আপনি যে স্বস্তি প্রত্যাশা করেছিলেন, তা থেকেও বঞ্চিত হবেন।
এ কারণে যখনই কোনো সাহাবি সফর থেকে নিজ শহরে ফিরতেন, রাসূল সা. বলতেন, “তোমরা তোমাদের নিজ গৃহে ফিরছ। তাই সুন্দর পোশাক পরে নাও। নিজের বাহনটিতে ভালোভাবে বসো। যাতে তোমাকে দেখে স্থানীয় মানুষের মাঝে সুধারণার সৃষ্টি হয়। আল্লাহ তায়ালা অগোছালো কোনো কিছুকে পছন্দ করেন না।"
কোথাও যাওয়ার আগে কিছু উপহারসামগ্রী নিতে পারেন। আবার কেউ আপনার বাড়ি বা কর্মস্থলে হাজির হলে কিংবা সাক্ষাৎ করতে এলে তাদেরও কিছু উপহার দিতে পারেন। আমাদের পূর্বসূরিরা কারও বাড়িতে মেহমান হলে ফিরে যাওয়ার সময় কৃতজ্ঞতাস্বরূপ উপহার দিতেন।
মানুষের সঙ্গে সাক্ষাতের বিষয়টি এমনিতেই বেশ উপভোগ্য ও স্মরণীয়। তার ওপর যদি কাউকে উপহার দেওয়া যায়, যদিও বিষয়টা নিতান্তই প্রতীকী; কিন্তু তারপরও তা সাক্ষাতের আনন্দ অনেক গুণ বাড়িয়ে দেয়। ইমাম বুখারি রহ.-এর সংকলিত হাদিস, রাসূল সা. বলেছেন, “তোমরা একে অপরকে উপহার দাও, এর মাধ্যমে পরস্পরের প্রতি ভালোবাসা বৃদ্ধি পায়।” আদাবুল মুফরাদ : ৫৯৪
জাবির ইবনে আবদুল্লাহ রা. বলেন, “রাসূল সা. সফরে থাকা পুরুষদের পরিবারকে আগে থেকে না জানিয়ে হঠাৎ করে বাড়িতে ফিরতে নিষেধ করেছেন। তিনি বলেছেন, তোমাদের মধ্যে কেউ যদি রাতে ফিরে আসো, তা হলে সে যেন কোনো বার্তা না দিয়ে ঘরের ভেতর প্রবেশ না করে। কারণ, স্বামীর অনুপস্থিতিতে স্ত্রী লোকেরা একটু খোলামেলা থাকতে পারে। অথবা এমন কোনো অবস্থায় থাকতে পারে, যেভাবে সে নিজেকে স্বামীর সামনে উপস্থাপন করতে চায় না।” বুখারি: ১৮০১, মুসলিম: ৭১৫
ইমাম নববি রহ. এই হাদিসের ব্যাখ্যায় বলেন, “যদি কারও স্বামী দীর্ঘ সময় বাইরে থাকার পর বাড়ি ফিরে আসে, তবে তার জন্য পূর্ব সংবাদ না দিয়ে ঘরে প্রবেশ করা উচিত নয়। তবে যদি কেউ স্বল্প সময়ের জন্য সফরে যায় এবং রাতে ফিরে আসার কথা থাকে, তবে তার জন্য রাতে ঘরে ফিরতে তেমন অসুবিধা নেই।”
যদি আপনি কারও সাক্ষাতে যান কিংবা কেউ যদি আপনার কাছে বেড়াতে আসে- সে যেই হোক না কেন, হতে পারে আপনার পিতা-মাতা বা কোনো আত্মীয়, বন্ধুবান্ধব অথবা ভিন্ন বয়সের কেউ, তা হলে তার সাথে সাক্ষাতের আগে হাত, পা এবং পায়ের মোজা পরিষ্কার করুন। পরিধেয় পোশাক পরিষ্কার রাখার চেষ্টা করুন। নিজের বাহ্যিক অবয়ব ও পোশাক নিয়ে কখনও অবহেলা করবেন না। এই বিষয়টিকে গুরুত্ব না দিলে আপনার অভিজ্ঞতা ভালো না-ও হতে পারে। সেক্ষেত্রে সাক্ষাতের ফলে আপনি যে স্বস্তি প্রত্যাশা করেছিলেন, তা থেকেও বঞ্চিত হবেন।
এ কারণে যখনই কোনো সাহাবি সফর থেকে নিজ শহরে ফিরতেন, রাসূল সা. বলতেন, “তোমরা তোমাদের নিজ গৃহে ফিরছ। তাই সুন্দর পোশাক পরে নাও। নিজের বাহনটিতে ভালোভাবে বসো। যাতে তোমাকে দেখে স্থানীয় মানুষের মাঝে সুধারণার সৃষ্টি হয়। আল্লাহ তায়ালা অগোছালো কোনো কিছুকে পছন্দ করেন না।"
কোথাও যাওয়ার আগে কিছু উপহারসামগ্রী নিতে পারেন। আবার কেউ আপনার বাড়ি বা কর্মস্থলে হাজির হলে কিংবা সাক্ষাৎ করতে এলে তাদেরও কিছু উপহার দিতে পারেন। আমাদের পূর্বসূরিরা কারও বাড়িতে মেহমান হলে ফিরে যাওয়ার সময় কৃতজ্ঞতাস্বরূপ উপহার দিতেন।
মানুষের সঙ্গে সাক্ষাতের বিষয়টি এমনিতেই বেশ উপভোগ্য ও স্মরণীয়। তার ওপর যদি কাউকে উপহার দেওয়া যায়, যদিও বিষয়টা নিতান্তই প্রতীকী; কিন্তু তারপরও তা সাক্ষাতের আনন্দ অনেক গুণ বাড়িয়ে দেয়। ইমাম বুখারি রহ.-এর সংকলিত হাদিস, রাসূল সা. বলেছেন, “তোমরা একে অপরকে উপহার দাও, এর মাধ্যমে পরস্পরের প্রতি ভালোবাসা বৃদ্ধি পায়।” আদাবুল মুফরাদ : ৫৯৪
জাবির ইবনে আবদুল্লাহ রা. বলেন, “রাসূল সা. সফরে থাকা পুরুষদের পরিবারকে আগে থেকে না জানিয়ে হঠাৎ করে বাড়িতে ফিরতে নিষেধ করেছেন। তিনি বলেছেন, তোমাদের মধ্যে কেউ যদি রাতে ফিরে আসো, তা হলে সে যেন কোনো বার্তা না দিয়ে ঘরের ভেতর প্রবেশ না করে। কারণ, স্বামীর অনুপস্থিতিতে স্ত্রী লোকেরা একটু খোলামেলা থাকতে পারে। অথবা এমন কোনো অবস্থায় থাকতে পারে, যেভাবে সে নিজেকে স্বামীর সামনে উপস্থাপন করতে চায় না।” বুখারি: ১৮০১, মুসলিম: ৭১৫
ইমাম নববি রহ. এই হাদিসের ব্যাখ্যায় বলেন, “যদি কারও স্বামী দীর্ঘ সময় বাইরে থাকার পর বাড়ি ফিরে আসে, তবে তার জন্য পূর্ব সংবাদ না দিয়ে ঘরে প্রবেশ করা উচিত নয়। তবে যদি কেউ স্বল্প সময়ের জন্য সফরে যায় এবং রাতে ফিরে আসার কথা থাকে, তবে তার জন্য রাতে ঘরে ফিরতে তেমন অসুবিধা নেই।”
📄 পরিবার ও বন্ধুদের সামনেও ভালো পোশাক পরিধান করা
আমরা অনেক সময় বাড়িতে, পরিবারের সদস্য বা বন্ধুদের সামনে থাকা অবস্থায় পোশাক নিয়ে অবহেলা করি। এমনটা করা শোভন নয়। বরং সর্বদা শালীনভাবে পোশাক পরিধান করা উচিত। যখন বাবা-মার সামনে যাব অথবা ধার্মিক কোনো ব্যক্তি, কোনো মুরব্বি কিংবা আত্মীয়ের কাছে, তখন মার্জিত পোশাক পরাই সুন্দর। আমাদের পোশাকগুলো সব সময়ই পরিষ্কার, পাক-পবিত্র হওয়া উচিত। দেখতে অশালীন দেখায়- এমন কোনো পোশাক পরিধান করা কখনোই কাম্য নয়।
আমরা প্রথমত চোখের দৃষ্টিতে দেখেই কারও প্রতি আকৃষ্ট হই। যদি আপনাকে পাক-পবিত্র পোশাকে দেখতে ভালো দেখায়, আপনার পোশাক থেকে যদি সুগন্ধ নির্গত হয়, তা হলে আপনার উপস্থিতি অন্যদের মাঝে ইতিবাচক অনুভূতি সৃষ্টি করবে। এর বিপরীত হলে মানুষ আপনাকে অবজ্ঞা করবে এবং আগ্রহ হারিয়ে ফেলবে। কেউ আপনার সাক্ষাতে এলে কিংবা কারও সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে গেলে মার্জিত পোশাক পরিধান করা ইসলামি শিষ্টাচারের আওতাভুক্ত। তাই এই বিষয়টিকে অবহেলা করার সুযোগ নেই।
ইমাম আনাস বিন মালিক রহ.-এর ছাত্র সাবিত আল বানানি বলেন, “আমি যখনই আমার শিক্ষক আনাসের সাথে সাক্ষাৎ করতে যেতাম, দেখতাম তিনি কাউকে ডেকে আতর দিয়ে যেতে বলতেন এবং সেই আতর নিজের গলা ও ঘাড়ে লাগাতেন।"
আপনি বাড়িতে থাকা অবস্থায় খুব সাদামাটা পোশাক পরিধান করতে পারেন। তবে মেহমান এলে অবশ্যই উত্তম পোশাক পরিধান করা উচিত। তা হলে তিনি বুঝবেন, আপনি তার জন্য ভালো পোশাক পরেছেন। এতে আপনার প্রতি তার শ্রদ্ধাবোধ বাড়বে। তিনি আপনার আতিথেয়তার প্রশংসা করবেন। আর সবচেয়ে বড়ো কথা হলো, ইসলামের প্রথম যুগের মুসলিমরা এই শিষ্টাচারগুলো ব্যাপকভাবে অনুশীলন করতেন, যা বর্তমানে অনেকটাই কমে এসেছে।
পোশাকের ক্ষেত্রে যে বিষয়টি মেনে চলা দরকার তা হলো, একজন পুরুষের কোনোভাবেই মেয়েদের মতো পোশাক পরিধান করা উচিত নয়। আবার মেয়েদেরও ছেলেদের পোশাক নকল করার সুযোগ নেই। রাসূল সা. এই ধরনের চর্চাকারীদের অভিশাপ দিয়ে গেছেন। ইবনে আব্বাস রা. বলেন, “যেসব নারী পুরুষের বেশ ধারণ করে এবং যেসব পুরুষ নারীদের বেশ ধারণ করে, রাসূলুল্লাহ সা. তাদের অভিসম্পাত করেছেন।" বুখারি: ৫৮৮৫, ৫৮৮৬
কারও যদি সম্পদ বেশি থাকে, অর্থাৎ আল্লাহ যদি কাউকে দুনিয়াতে অধিক সম্পদের নিয়ামত দেন, তা হলে তার কৃতজ্ঞ হওয়া উচিত। কোনোভাবেই পোশাকে সেই সম্পদের অহংকার প্রকাশিত হওয়া উচিত নয়। অহংকার থাকলে সেই ব্যক্তি জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না। আবার কাউকে আল্লাহ নিয়ামত দিয়েছেন অথচ সে বৈরাগীর মতো জীবনযাপন করবে, পোশাকের মানের দিকে ন্যূনতম খেয়ালও রাখবে না- এমনটা কাম্য নয়। অতি ঝকমকে পোশাক বা ময়লা ও ছেঁড়া পোশাক, দুটোই পরিহার করা বাঞ্চনীয়।
আবুল আওয়াস রহ. হতে তাঁর পিতার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, “একদা আমি খুব স্বল্প মূল্যের পোশাক পরে নবিজি সা.-এর সামনে উপস্থিত হলে তিনি বললেন, 'তোমার ধন-সম্পদ আছে কি?' আমি বললাম, 'হ্যাঁ।' তিনি প্রশ্ন করলেন, 'কোন ধরনের সম্পদ?' আমি বললাম, 'আল্লাহ আমাকে উট, ছাগল, ঘোড়া ও দাস ইত্যাদি সম্পদ দিয়েছেন।' রাসূল সা. বললেন, 'যেহেতু আল্লাহ তোমাকে সম্পদশালী করেছেন, কাজেই আল্লাহর নিয়ামত ও অনুগ্রহের নিদর্শন তোমার মাঝে প্রকাশিত হওয়া উচিত'।” আবু দাউদ: ৪০৬৩
অনেকেই আছেন যারা সমাজের মধ্যে একটু ব্যতিক্রম হওয়ার জন্য কিংবা দৃষ্টি আকর্ষণ করার জন্য অথবা পরিচিত, খ্যাতিমান ও আলোচিত হওয়ার উদ্দেশ্যে অদ্ভুত ধরনের সব পোশাক পরে। রাসূল সা. এই ধরনের ঠাটবাট দেখাতে নিষেধ করেছেন।
আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত, রাসূল সা. বলেন, “যে ব্যক্তি খ্যাতি লাভের জন্য পোশাক পরে, কিয়ামতের দিন আল্লাহ তাকে সেরূপ পোশাক পরাবেন, অতঃপর তাতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হবে।” আহমাদ: ৫৬৩১, আবু দাউদ: ৪০২৯
আমরা অনেক সময় বাড়িতে, পরিবারের সদস্য বা বন্ধুদের সামনে থাকা অবস্থায় পোশাক নিয়ে অবহেলা করি। এমনটা করা শোভন নয়। বরং সর্বদা শালীনভাবে পোশাক পরিধান করা উচিত। যখন বাবা-মার সামনে যাব অথবা ধার্মিক কোনো ব্যক্তি, কোনো মুরব্বি কিংবা আত্মীয়ের কাছে, তখন মার্জিত পোশাক পরাই সুন্দর। আমাদের পোশাকগুলো সব সময়ই পরিষ্কার, পাক-পবিত্র হওয়া উচিত। দেখতে অশালীন দেখায়- এমন কোনো পোশাক পরিধান করা কখনোই কাম্য নয়।
আমরা প্রথমত চোখের দৃষ্টিতে দেখেই কারও প্রতি আকৃষ্ট হই। যদি আপনাকে পাক-পবিত্র পোশাকে দেখতে ভালো দেখায়, আপনার পোশাক থেকে যদি সুগন্ধ নির্গত হয়, তা হলে আপনার উপস্থিতি অন্যদের মাঝে ইতিবাচক অনুভূতি সৃষ্টি করবে। এর বিপরীত হলে মানুষ আপনাকে অবজ্ঞা করবে এবং আগ্রহ হারিয়ে ফেলবে। কেউ আপনার সাক্ষাতে এলে কিংবা কারও সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে গেলে মার্জিত পোশাক পরিধান করা ইসলামি শিষ্টাচারের আওতাভুক্ত। তাই এই বিষয়টিকে অবহেলা করার সুযোগ নেই।
ইমাম আনাস বিন মালিক রহ.-এর ছাত্র সাবিত আল বানানি বলেন, “আমি যখনই আমার শিক্ষক আনাসের সাথে সাক্ষাৎ করতে যেতাম, দেখতাম তিনি কাউকে ডেকে আতর দিয়ে যেতে বলতেন এবং সেই আতর নিজের গলা ও ঘাড়ে লাগাতেন।"
আপনি বাড়িতে থাকা অবস্থায় খুব সাদামাটা পোশাক পরিধান করতে পারেন। তবে মেহমান এলে অবশ্যই উত্তম পোশাক পরিধান করা উচিত। তা হলে তিনি বুঝবেন, আপনি তার জন্য ভালো পোশাক পরেছেন। এতে আপনার প্রতি তার শ্রদ্ধাবোধ বাড়বে। তিনি আপনার আতিথেয়তার প্রশংসা করবেন। আর সবচেয়ে বড়ো কথা হলো, ইসলামের প্রথম যুগের মুসলিমরা এই শিষ্টাচারগুলো ব্যাপকভাবে অনুশীলন করতেন, যা বর্তমানে অনেকটাই কমে এসেছে।
পোশাকের ক্ষেত্রে যে বিষয়টি মেনে চলা দরকার তা হলো, একজন পুরুষের কোনোভাবেই মেয়েদের মতো পোশাক পরিধান করা উচিত নয়। আবার মেয়েদেরও ছেলেদের পোশাক নকল করার সুযোগ নেই। রাসূল সা. এই ধরনের চর্চাকারীদের অভিশাপ দিয়ে গেছেন। ইবনে আব্বাস রা. বলেন, “যেসব নারী পুরুষের বেশ ধারণ করে এবং যেসব পুরুষ নারীদের বেশ ধারণ করে, রাসূলুল্লাহ সা. তাদের অভিসম্পাত করেছেন।" বুখারি: ৫৮৮৫, ৫৮৮৬
কারও যদি সম্পদ বেশি থাকে, অর্থাৎ আল্লাহ যদি কাউকে দুনিয়াতে অধিক সম্পদের নিয়ামত দেন, তা হলে তার কৃতজ্ঞ হওয়া উচিত। কোনোভাবেই পোশাকে সেই সম্পদের অহংকার প্রকাশিত হওয়া উচিত নয়। অহংকার থাকলে সেই ব্যক্তি জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না। আবার কাউকে আল্লাহ নিয়ামত দিয়েছেন অথচ সে বৈরাগীর মতো জীবনযাপন করবে, পোশাকের মানের দিকে ন্যূনতম খেয়ালও রাখবে না- এমনটা কাম্য নয়। অতি ঝকমকে পোশাক বা ময়লা ও ছেঁড়া পোশাক, দুটোই পরিহার করা বাঞ্চনীয়।
আবুল আওয়াস রহ. হতে তাঁর পিতার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, “একদা আমি খুব স্বল্প মূল্যের পোশাক পরে নবিজি সা.-এর সামনে উপস্থিত হলে তিনি বললেন, 'তোমার ধন-সম্পদ আছে কি?' আমি বললাম, 'হ্যাঁ।' তিনি প্রশ্ন করলেন, 'কোন ধরনের সম্পদ?' আমি বললাম, 'আল্লাহ আমাকে উট, ছাগল, ঘোড়া ও দাস ইত্যাদি সম্পদ দিয়েছেন।' রাসূল সা. বললেন, 'যেহেতু আল্লাহ তোমাকে সম্পদশালী করেছেন, কাজেই আল্লাহর নিয়ামত ও অনুগ্রহের নিদর্শন তোমার মাঝে প্রকাশিত হওয়া উচিত'।” আবু দাউদ: ৪০৬৩
অনেকেই আছেন যারা সমাজের মধ্যে একটু ব্যতিক্রম হওয়ার জন্য কিংবা দৃষ্টি আকর্ষণ করার জন্য অথবা পরিচিত, খ্যাতিমান ও আলোচিত হওয়ার উদ্দেশ্যে অদ্ভুত ধরনের সব পোশাক পরে। রাসূল সা. এই ধরনের ঠাটবাট দেখাতে নিষেধ করেছেন।
আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত, রাসূল সা. বলেন, “যে ব্যক্তি খ্যাতি লাভের জন্য পোশাক পরে, কিয়ামতের দিন আল্লাহ তাকে সেরূপ পোশাক পরাবেন, অতঃপর তাতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হবে।” আহমাদ: ৫৬৩১, আবু দাউদ: ৪০২৯