📄 প্রারম্ভিকা
১.১ শিষ্টাচারের গুরুত্ব
ইসলাম এমন একটি জীবনবিধান, যেখানে জীবনের প্রতিটি ঘটনা ও মুহূর্তের সঙ্গে প্রাসঙ্গিক শিষ্টাচার ও নৈতিক নির্দেশনার সন্ধান পাওয়া যায়। এসব শিষ্টাচার ও নৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি গোটা সমাজের জন্যই প্রযোজ্য। বয়স্ক পুরুষ ও নারী, যুবক-যুবতি, তরুণ-তরুণী প্রায় প্রত্যেককেই এই অনুশাসনগুলো মেনে চলতে হয়।
রাসূল সা. বলেছেন, “নারীরা হলো পুরুষের সম্পূরক।” তাই পুরুষদের যেসব বিধান বা অনুশাসন মেনে চলতে হয়, তা অনিবার্যভাবে নারীদেরও মেনে চলতে হয়। কারণ, নারী ও পুরুষ উভয়ে মিলেই একটি সার্থক মুসলিম সমাজ বিনির্মাণ করে। আর এ ধরনের কাঙ্ক্ষিত ইসলামী সমাজের প্রতিচ্ছবির মধ্য দিয়েই অন্য সবাই ইসলামকে চেনা ও বোঝার সুযোগ পায়।
গুরুত্বপূর্ণ বিষয়াবলি তো বটেই, এমনকি অনেক ছোটোখাটো বিষয়েও ইসলামি শিষ্টাচারের সুস্পষ্ট নির্দেশনা পাওয়া যায়। যেমন: বাথরুমে যাওয়া-আসা, কিংবা কীভাবে হাসা সুন্দর, কোন ভঙ্গিতে কথা বলা উচিত ইত্যাদি। আল্লাহর রাসূল সা. বলেছেন, “তোমাদের মধ্যে ওই ব্যক্তি সর্বোত্তম, যে স্বভাবের দিক থেকে সবচেয়ে ভালো।"
একবার এক মূর্তিপূজারি রাসূল সা.-এর ঘনিষ্ঠ সাহাবি সালমান ফারসি রা.-কে উপহাস করে বলেছিল, 'তোমাদের নবি তো তোমাদের বাথরুমে যাওয়ারও নিয়ম শেখায়।' সালমান ফারসি রা. সেই ঠাট্টায় মোটেও কাবু হননি। বরং বলিষ্ঠভাবে উত্তর দিয়েছিলেন, 'হ্যাঁ, ঠিকই। রাসূল সা. বলেছেন, আমরা যেন কিবলামুখী হয়ে প্রাকৃতিক প্রয়োজন না সারি। তিনি আরও শিখিয়েছেন, বাথরুম করার পর আমরা যেন ডানহাত দিয়ে পরিচ্ছন্ন হওয়ার কাজটি না করি এবং অন্তত মাটির তিনটি ঢেলা¹ দিয়ে পরিচ্ছন্ন হই; কিংবা যথেষ্ট পরিমাণে পানি ব্যবহার করি।'
শিষ্টাচার ও আদবের এতটা গুরুত্ব আছে বলেই প্রতিটি হাদিসগ্রন্থে মুহাদ্দিসগণ শিষ্টাচার বা আদব নামে পৃথক একটি অধ্যায় সংযোজন করতে উদ্বুদ্ধ হয়েছেন। কারণ, এই শিষ্টাচার বিষয়ে রাসূল সা.-এর অসংখ্য হাদিস, নির্দেশনা ও আমল রয়েছে; পরবর্তী সময়ে সাহাবিরা যা বর্ণনা করেছেন। তাই যাপিত জীবনে এই শিষ্টাচারগুলো নিয়মিত অনুশীলনের আওতায় নিয়ে আসা প্রত্যেক মুমিনের জন্য একান্ত অপরিহার্য।
ইসলাম বরাবরই সামাজিক শিষ্টাচার ও আদবের ওপর গুরুত্ব আরোপ করে। কারণ, একজন মানুষের ব্যক্তিত্ব গঠনে এই শিষ্টাচারগুলোই পালন করে মুখ্য ভূমিকা। সেইসাথে শিষ্টাচারের অনুশীলন পারস্পরিক সহমর্মিতা এবং বন্ধনও মজবুত করে। মানবিকতা বৃদ্ধি পায়। এগুলোর প্রতিপালনে সমাজের মধ্যেও মুসলিমরা অন্য সবার চেয়ে বেশি মার্জিত ও গ্রহণযোগ্য হয়ে ওঠে। তারপরও পরিতাপের বিষয়, বর্তমানে অনেক মুসলিম এই শিষ্টাচারগুলো সম্পর্কে বেখেয়াল। শুধু তা-ই নয়, এসব আদব ও সৌজন্যতার বিষয়ে সচেতনতার তীব্র অভাব পরিলক্ষিত হয়।
১.২ স্বতন্ত্র মুসলিম ব্যক্তিত্ব
মুসলিমদের ব্যক্তিত্ব গঠনে এবং সমাজে ভারসাম্য প্রতিষ্ঠায় প্রয়োজনীয় শিষ্টাচারগুলো অনুসরণ করার ব্যাপারে ইসলাম সব সময়ই গুরুত্ব প্রদান করেছে। কোনো সন্দেহ নেই, কেউ যদি সঠিকভাবে ইসলামের নির্দেশিত গুণাবলি ও অভ্যাসগুলোর চর্চা করে, তাহলে এর মাধ্যমে তার যোগ্যতা অনেক বেশি বৃদ্ধি পায়, ব্যক্তিত্বের মাত্রা বিশুদ্ধ হয় এবং সর্বোপরি সে অন্যান্য মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নিতেও সক্ষম হয়।
এখানে যে শিষ্টাচারমালা তুলে ধরা হচ্ছে, তা দ্বীনি আচরণের সঙ্গে খুবই প্রাসঙ্গিক। সেইসাথে এই অভ্যাসগুলোর চর্চা দ্বীনের উদ্দেশ্য পূরণে সহায়ক।
এখানে একটি বিষয় উল্লেখ করা প্রয়োজন। যদি আমরা এ বিষয়গুলোকে শিষ্টাচার হিসেবে অভিহিত করি, তবে কেউ কেউ তা নিছক সামাজিকতার বহিঃপ্রকাশ হিসেবেও গণ্য করতে পারে; যা পুরোপুরি সঠিক হবে না। হয়তো কেউ কেউ এই বিষয়গুলোকে ততটা গুরুত্ব দেবে না কিংবা মনে করবে, এগুলো অগ্রাহ্য করারও সুযোগ আছে। কিন্তু প্রকৃত বাস্তবতা তা নয়। এগুলো কোনো বিকল্প হিসেবে নয়; বরং ইসলামকে সঠিকভাবে ধারণ করার জন্যই একজন মুসলিমকে এই অভ্যাস ও শিষ্টাচারগুলোর অনুশীলন করতে হবে।
টিকাঃ
১. তখন টয়লেট টিস্যুর বিকল্প ছিল মাটির ঢেলা। - অনুবাদক
১.১ শিষ্টাচারের গুরুত্ব
ইসলাম এমন একটি জীবনবিধান, যেখানে জীবনের প্রতিটি ঘটনা ও মুহূর্তের সঙ্গে প্রাসঙ্গিক শিষ্টাচার ও নৈতিক নির্দেশনার সন্ধান পাওয়া যায়। এসব শিষ্টাচার ও নৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি গোটা সমাজের জন্যই প্রযোজ্য। বয়স্ক পুরুষ ও নারী, যুবক-যুবতি, তরুণ-তরুণী প্রায় প্রত্যেককেই এই অনুশাসনগুলো মেনে চলতে হয়।
রাসূল সা. বলেছেন, “নারীরা হলো পুরুষের সম্পূরক।” তাই পুরুষদের যেসব বিধান বা অনুশাসন মেনে চলতে হয়, তা অনিবার্যভাবে নারীদেরও মেনে চলতে হয়। কারণ, নারী ও পুরুষ উভয়ে মিলেই একটি সার্থক মুসলিম সমাজ বিনির্মাণ করে। আর এ ধরনের কাঙ্ক্ষিত ইসলামী সমাজের প্রতিচ্ছবির মধ্য দিয়েই অন্য সবাই ইসলামকে চেনা ও বোঝার সুযোগ পায়।
গুরুত্বপূর্ণ বিষয়াবলি তো বটেই, এমনকি অনেক ছোটোখাটো বিষয়েও ইসলামি শিষ্টাচারের সুস্পষ্ট নির্দেশনা পাওয়া যায়। যেমন: বাথরুমে যাওয়া-আসা, কিংবা কীভাবে হাসা সুন্দর, কোন ভঙ্গিতে কথা বলা উচিত ইত্যাদি। আল্লাহর রাসূল সা. বলেছেন, “তোমাদের মধ্যে ওই ব্যক্তি সর্বোত্তম, যে স্বভাবের দিক থেকে সবচেয়ে ভালো।"
একবার এক মূর্তিপূজারি রাসূল সা.-এর ঘনিষ্ঠ সাহাবি সালমান ফারসি রা.-কে উপহাস করে বলেছিল, 'তোমাদের নবি তো তোমাদের বাথরুমে যাওয়ারও নিয়ম শেখায়।' সালমান ফারসি রা. সেই ঠাট্টায় মোটেও কাবু হননি। বরং বলিষ্ঠভাবে উত্তর দিয়েছিলেন, 'হ্যাঁ, ঠিকই। রাসূল সা. বলেছেন, আমরা যেন কিবলামুখী হয়ে প্রাকৃতিক প্রয়োজন না সারি। তিনি আরও শিখিয়েছেন, বাথরুম করার পর আমরা যেন ডানহাত দিয়ে পরিচ্ছন্ন হওয়ার কাজটি না করি এবং অন্তত মাটির তিনটি ঢেলা দিয়ে পরিচ্ছন্ন হই; কিংবা যথেষ্ট পরিমাণে পানি ব্যবহার করি।'
শিষ্টাচার ও আদবের এতটা গুরুত্ব আছে বলেই প্রতিটি হাদিসগ্রন্থে মুহাদ্দিসগণ শিষ্টাচার বা আদব নামে পৃথক একটি অধ্যায় সংযোজন করতে উদ্বুদ্ধ হয়েছেন। কারণ, এই শিষ্টাচার বিষয়ে রাসূল সা.-এর অসংখ্য হাদিস, নির্দেশনা ও আমল রয়েছে; পরবর্তী সময়ে সাহাবিরা যা বর্ণনা করেছেন। তাই যাপিত জীবনে এই শিষ্টাচারগুলো নিয়মিত অনুশীলনের আওতায় নিয়ে আসা প্রত্যেক মুমিনের জন্য একান্ত অপরিহার্য।
ইসলাম বরাবরই সামাজিক শিষ্টাচার ও আদবের ওপর গুরুত্ব আরোপ করে। কারণ, একজন মানুষের ব্যক্তিত্ব গঠনে এই শিষ্টাচারগুলোই পালন করে মুখ্য ভূমিকা। সেইসাথে শিষ্টাচারের অনুশীলন পারস্পরিক সহমর্মিতা এবং বন্ধনও মজবুত করে। মানবিকতা বৃদ্ধি পায়। এগুলোর প্রতিপালনে সমাজের মধ্যেও মুসলিমরা অন্য সবার চেয়ে বেশি মার্জিত ও গ্রহণযোগ্য হয়ে ওঠে। তারপরও পরিতাপের বিষয়, বর্তমানে অনেক মুসলিম এই শিষ্টাচারগুলো সম্পর্কে বেখেয়াল। শুধু তা-ই নয়, এসব আদব ও সৌজন্যতার বিষয়ে সচেতনতার তীব্র অভাব পরিলক্ষিত হয়।
১.২ স্বতন্ত্র মুসলিম ব্যক্তিত্ব
মুসলিমদের ব্যক্তিত্ব গঠনে এবং সমাজে ভারসাম্য প্রতিষ্ঠায় প্রয়োজনীয় শিষ্টাচারগুলো অনুসরণ করার ব্যাপারে ইসলাম সব সময়ই গুরুত্ব প্রদান করেছে। কোনো সন্দেহ নেই, কেউ যদি সঠিকভাবে ইসলামের নির্দেশিত গুণাবলি ও অভ্যাসগুলোর চর্চা করে, তাহলে এর মাধ্যমে তার যোগ্যতা অনেক বেশি বৃদ্ধি পায়, ব্যক্তিত্বের মাত্রা বিশুদ্ধ হয় এবং সর্বোপরি সে অন্যান্য মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নিতেও সক্ষম হয়।
এখানে যে শিষ্টাচারমালা তুলে ধরা হচ্ছে, তা দ্বীনি আচরণের সঙ্গে খুবই প্রাসঙ্গিক। সেইসাথে এই অভ্যাসগুলোর চর্চা দ্বীনের উদ্দেশ্য পূরণে সহায়ক।
এখানে একটি বিষয় উল্লেখ করা প্রয়োজন। যদি আমরা এ বিষয়গুলোকে শিষ্টাচার হিসেবে অভিহিত করি, তবে কেউ কেউ তা নিছক সামাজিকতার বহিঃপ্রকাশ হিসেবেও গণ্য করতে পারে; যা পুরোপুরি সঠিক হবে না। হয়তো কেউ কেউ এই বিষয়গুলোকে ততটা গুরুত্ব দেবে না কিংবা মনে করবে, এগুলো অগ্রাহ্য করারও সুযোগ আছে। কিন্তু প্রকৃত বাস্তবতা তা নয়। এগুলো কোনো বিকল্প হিসেবে নয়; বরং ইসলামকে সঠিকভাবে ধারণ করার জন্যই একজন মুসলিমকে এই অভ্যাস ও শিষ্টাচারগুলোর অনুশীলন করতে হবে।
শিষ্টাচারকে শরিয়তের অন্যতম মুখ্য উদ্দেশ্য হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এটি এমন কোনো বিষয় নয় যে ইচ্ছে হলে মানবে কিংবা অগ্রাহ্য করবে। অনেকক্ষেত্রে এই আচারাদি ও শিষ্টাচারগুলো আমলের চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। ইমাম কাররাফি রহ. তাঁর আল ফুরুক গ্রন্থে বলেছেন, "তোমরা জেনে রাখো, অনেক সময় খুব সামান্য একটি শিষ্টাচারও অনেকগুলো ভালো কাজের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।”
রুয়াইম নামক এক সজ্জন ব্যক্তি তার সন্তানকে উপদেশ দিতে গিয়ে বলেন, “ও আমার প্রিয় সন্তান! তুমি নিজের আমলকে লবণ মনে করো, আর শিষ্টাচারকে মনে করো আটা।” অর্থাৎ রুটি বানাতে যেমন অনেক পরিমাণে আটা আর অল্প একটু লবণ লাগে, তিনিও নিজের সন্তানকে একই অনুপাতে শিষ্টাচারের অভ্যাস করার তাগিদ দিয়েছেন।
কারও যদি শিষ্টাচারের মাত্রা কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে হয়, তাহলে আমলের মাত্রা কিছু কম হলেও পুষিয়ে যায়। কিন্তু কারও আমল হয়তো বেশি, তবে আদব বা ব্যবহার ভালো নয়, সেক্ষেত্রে আমল তেমন বেশি ইতিবাচক ফল নিয়ে আসবে না। যদিও অধিকাংশ আদব-শিষ্টাচার নিছক সৌজন্যতার খাতিরে করতে হয়, তারপরও এগুলোর আলাদা গুরুত্ব আছে। আমাদের মধ্যে এমন অনেক মুসলিম রয়েছে, যাদের নানা ধরনের ভুল, অসুন্দর ও অন্যায় আচরণের কারণে পুরো ইসলামের ভাবমর্যাদা ক্ষুণ্ণ হয়।
রাসূল সা. সাহাবিদের উদ্দেশ্য করে প্রায়ই বলতেন, “তোমরা যখন তোমাদের কোনো ভাইয়ের সাথে দেখা করতে যাবে, তখন ভালো ও মার্জিত পোশাক পরে যাও। যাতে করে তোমাকে যারা যাত্রাপথে দেখবে, তাদের মনে যেন তোমার ব্যাপারে ভালো ধারণা তৈরি হয়। আল্লাহ তায়ালা উদ্ভ্রান্ত মানুষ এবং এলোমেলো পোশাক পছন্দ করেন না।" আবু দাউদ: ৪০৮৯
রাসূল সা. আরও বলেন, “কারও মনে এক ফোঁটা ঔদ্ধত্যভাব বা অহংকার থাকলে সে জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না।” তখন এক সাহাবি জানতে চাইলেন, 'তাহলে একজন মানুষ কি সুন্দর কোনো পোশাক বা সুন্দর জুতো পরতে পারবে না? কেননা, এগুলো পরিধান করার ফলেও তো কারও মনে অহংকার সৃষ্টি হতে পারে।' তখন রাসূল সা. উত্তর দিলেন, “সুন্দর পোশাকে কোনো সমস্যা নেই। কেননা, আল্লাহ তায়ালা নিজে সুন্দর, তাই তিনি সৌন্দর্যকে পছন্দ করেন। অহংকার ও ঔদ্ধত্য মানসিকতা তখন আসে, যখন আমরা অন্যের অধিকারকে অগ্রাহ্য করি এবং মানুষকে হেয় প্রতিপন্ন করি।” সহিহ মুসলিম : ১৪৭, ১৬৮
শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া রহ. বলেন, “আল্লাহ সুন্দর সবকিছুকেই পছন্দ করেন, এমনকি সুন্দর পোশাকও তাঁর পছন্দ।” সুতরাং একজন আদর্শ মুসলিমের সর্বদা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন পোশাক পরিধান করা উচিত। আরও উচিত, এমনভাবে মানুষের সামনে উপস্থিত হওয়া, যাতে তাকে দেখে অন্য সবার মনে ইতিবাচক ধারণা সৃষ্টি হয়।
কাপড় পরার ক্ষেত্রে খেয়াল রাখতে হবে, যেন বেশি আটোসাটো পোশাক পরা না হয়। কারণ, এতে শরীরের অবয়ব দৃশ্যমান হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, “রাসূলুল্লাহ সা. দুইভাবে কাপড় পরতে নিষেধ করেছেন। ১. পোশাক এমনভাবে লেপ্টে পরা যে, লজ্জাস্থান আকাশের দিকে উন্মুক্ত হয়ে থাকে, ২. পোশাক এমনভাবে পরা যে, শরীরের একদিক বের হয়ে থাকে, আর অবশিষ্ট অংশ কাঁধে ফেলে রাখা হয়।" আবু দাউদ: ৪০৮০
টিকাঃ
১. তখন টয়লেট টিস্যুর বিকল্প ছিল মাটির ঢেলা। - অনুবাদক
২. ইমাম কাররাফি রহ. মালেকি মাযহাবের অন্যতম পথিকৃৎ। তাঁর আসল নাম শিহাব উদ্দিন কাররাফি। আল ফুরুক (পার্থক্য) তাঁর বিখ্যাত একটি গ্রন্থ।
৩. ইবনে তাইমিয়া, ইকতিদা সিরাতিল মুসতাকিম
📄 সর্বশেষ কিছু কথা
এই বইতে আমরা সংক্ষেপে ইসলামের কিছু আদব ও শিষ্টাচার তুলে ধরার চেষ্টা করেছি, যা আমাদের পূর্ববর্তীগণ আমল করে গেছেন। আমরা এমনভাবে বিষয়গুলো উপস্থাপন করতে চেয়েছি, যাতে সকলের জন্য বুঝতে সুবিধা হয় এবং সবাই যেন স্বাচ্ছন্দ্যে এই আদবগুলো অনুশীলন করতে পারেন।
এই আদব ও শিষ্টাচারগুলো অনুশীলন করার সর্বোত্তম স্থান হলো আপনার নিজের ঘর। এরপর পর্যায়ক্রমে পরিচিত অন্য সবার ঘরেও এগুলোর নিয়মিত চর্চা করা দরকার। পরিবার ও সহকর্মী মুসলিম ভাই-বোনদের সাথে আদব রক্ষা করার ব্যাপারে আমরা ততটা তৎপর হই না; যদিও সেখানেই আমাদের বেশি সতর্কতা অবলম্বন করার প্রয়োজন ছিল।
তাই সঠিক ও যথাযথ লোকদের সাথে এই আদব বজায় রাখার বিষয়ে কোনো অবহেলা করবেন না। সবার সাথে সুন্দর ও ভারসাম্যপূর্ণ আচরণ করুন। যদি আপনার ব্যবহার ভালো না হয়, আপনি নিজেই অসম্মান ডেকে নিয়ে আসবেন। সেই সাথে এর মাধ্যমে আপনার ওপর অর্পিত দায়িত্বের বিষয়ে আপনি অবহেলা করবেন এবং রাসূল সা.-এর নির্দেশনাকে অবজ্ঞা করবেন। তাই শিষ্টাচারের বিষয়ে আমাদের সর্বোচ্চ পরিমাণ সতর্ক হওয়া প্রয়োজন।
আমরা আল্লাহ তায়ালার ওপর ভরসা রেখে ইসলাম নির্দেশিত শিষ্টাচারগুলো বাস্তবজীবনে অনুশীলন করার চেষ্টা করে যাব। তাহলে আল্লাহই নেককার বান্দা হিসেবে আমাদের হেফাজত করবেন।
আমি এই বইটি নিজের অহম প্রদর্শনের জন্য নয়; বরং হকের ওপর থাকার পরামর্শ হিসেবে লিখেছি। কেননা, আল্লাহ তায়ালা সূরা আসরে মুমিনদের সত্য ও হকের পরামর্শ দেওয়ার তাগিদ দিয়েছেন। অন্যদিকে মুমিনদের বার বার সুপারিশ দিয়ে বোঝানোর জন্য তিনি সূরা যারিয়াতেও নির্দেশনা দিয়েছেন,
“তুমি উপদেশ দিতে থাকো। কেননা, উপদেশ মুমিনদের উপকারে আসে।” সূরা যারিয়াত : ৫৫
আল্লাহ তায়ালা আমাদের সবাইকে হেফাজত করুন। আমাদেরকে তাঁর আদেশ মেনে চলার এবং তাঁর পূর্ণ আনুগত্য করার তাওফিক দিন। আমরা যেন রাসূল সা.-এর সুন্নাহ মোতাবেক জীবনকে পরিচালনা করতে পারি। আমিন।
এই বইতে আমরা সংক্ষেপে ইসলামের কিছু আদব ও শিষ্টাচার তুলে ধরার চেষ্টা করেছি, যা আমাদের পূর্ববর্তীগণ আমল করে গেছেন। আমরা এমনভাবে বিষয়গুলো উপস্থাপন করতে চেয়েছি, যাতে সকলের জন্য বুঝতে সুবিধা হয় এবং সবাই যেন স্বাচ্ছন্দ্যে এই আদবগুলো অনুশীলন করতে পারেন।
এই আদব ও শিষ্টাচারগুলো অনুশীলন করার সর্বোত্তম স্থান হলো আপনার নিজের ঘর। এরপর পর্যায়ক্রমে পরিচিত অন্য সবার ঘরেও এগুলোর নিয়মিত চর্চা করা দরকার। পরিবার ও সহকর্মী মুসলিম ভাই-বোনদের সাথে আদব রক্ষা করার ব্যাপারে আমরা ততটা তৎপর হই না; যদিও সেখানেই আমাদের বেশি সতর্কতা অবলম্বন করার প্রয়োজন ছিল।
তাই সঠিক ও যথাযথ লোকদের সাথে এই আদব বজায় রাখার বিষয়ে কোনো অবহেলা করবেন না। সবার সাথে সুন্দর ও ভারসাম্যপূর্ণ আচরণ করুন। যদি আপনার ব্যবহার ভালো না হয়, আপনি নিজেই অসম্মান ডেকে নিয়ে আসবেন। সেই সাথে এর মাধ্যমে আপনার ওপর অর্পিত দায়িত্বের বিষয়ে আপনি অবহেলা করবেন এবং রাসূল সা.-এর নির্দেশনাকে অবজ্ঞা করবেন। তাই শিষ্টাচারের বিষয়ে আমাদের সর্বোচ্চ পরিমাণ সতর্ক হওয়া প্রয়োজন।
আমরা আল্লাহ তায়ালার ওপর ভরসা রেখে ইসলাম নির্দেশিত শিষ্টাচারগুলো বাস্তবজীবনে অনুশীলন করার চেষ্টা করে যাব। তাহলে আল্লাহই নেককার বান্দা হিসেবে আমাদের হেফাজত করবেন।
আমি এই বইটি নিজের অহম প্রদর্শনের জন্য নয়; বরং হকের ওপর থাকার পরামর্শ হিসেবে লিখেছি। কেননা, আল্লাহ তায়ালা সূরা আসরে মুমিনদের সত্য ও হকের পরামর্শ দেওয়ার তাগিদ দিয়েছেন। অন্যদিকে মুমিনদের বার বার সুপারিশ দিয়ে বোঝানোর জন্য তিনি সূরা যারিয়াতেও নির্দেশনা দিয়েছেন,
“তুমি উপদেশ দিতে থাকো। কেননা, উপদেশ মুমিনদের উপকারে আসে।” সূরা যারিয়াত : ৫৫
আল্লাহ তায়ালা আমাদের সবাইকে হেফাজত করুন। আমাদেরকে তাঁর আদেশ মেনে চলার এবং তাঁর পূর্ণ আনুগত্য করার তাওফিক দিন। আমরা যেন রাসূল সা.-এর সুন্নাহ মোতাবেক জীবনকে পরিচালনা করতে পারি। আমিন।