📘 ইসলামী শরীয়াতে দাড়ির পদমর্যাদা > 📄 দাড়ি কামানোর একটি লুকানো কারণ। দেখতে কেমন লাগবে?

📄 দাড়ি কামানোর একটি লুকানো কারণ। দেখতে কেমন লাগবে?


আল্লাহর কালামে সুস্পষ্টভাবে উল্লেখিত,
"এবং তোমাদেরকে আকৃতি দান করেছেন, অতঃপর সুন্দর করেছেন তোমাদের আকৃতি। " (তাগাবুন ৩)

যারা মুসলমানদের সম্পর্কে এরূপ বলে, "অবশ্যই তাদের চেহারা পরিষ্কার ও মসৃণ হওয়া উচিত" তাদের জেনে রাখা উচিত এই আয়াতটি যেখানে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা বলছেন,
"হে মানুষ, কিসে তোমাকে তোমার মহামহিম পালনকর্তা সম্পর্কে বিভ্রান্ত করল?
যিনি তোমাকে সৃষ্টি করেছেন, অতঃপর তোমাকে সুবিন্যস্ত করেছেন এবং সুষম করেছেন।
যিনি তোমাকে তাঁর ইচ্ছামত আকৃতিতে গঠন করেছেন।
কখনও বিভ্রান্ত হয়ো না..." (সূরা ইনফিতার ৬-৯)

কাজেই আমাদের উচিত নয়, আল্লাহ আমাদেরকে যে উত্তম আকৃতি এবং গঠন দান করেছেন তার পরিবর্তন-বিকৃতি সাধন করে কুৎসিত রূপ ধারণ করি। অথবা যারা মুসলমানদের মাঝে দাড়ি কামিয়ে ফেলার এই বাজে সংস্কৃতির প্রচার প্রসার করছে সেই লেজকাটা শেয়ালদের আরও জেনে রাখা উচিত, "শয়তান বললঃ আমি অবশ্যই তোমার বান্দাদের মধ্য থেকে নির্দিষ্ট অংশ গ্রহণ করব।
তাদেরকে পথভ্রষ্ট করব, তাদেরকে আশ্বাস দেব; তাদেরকে পশুদের কর্ণ ছেদন করতে বলব এবং
তাদেরকে আল্লাহর সৃষ্ট আকৃতি পরিবর্তন করতে আদেশ দেব।
যে কেউ আল্লাহকে ছেড়ে শয়তানকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করে, সে প্রকাশ্য ক্ষতিতে পতিত হয়। " (নিসা ১১৮-১১৯)

উক্ত আয়াতের মাধ্যমে স্পষ্টতই বোঝা গেল যে, দাড়ি মুণ্ডন করা আল্লাহর অবাধ্যতা এবং ফিতরাহগত বৈশিষ্ট্যের বিপরীত একটি আচরণ। যা আল্লাহ এবং তাঁর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) অনুমতি দেননি, তা নিষিদ্ধ।

📘 ইসলামী শরীয়াতে দাড়ির পদমর্যাদা > 📄 একটি ব্যতিক্রমী পরিস্থিতি ও শয়তানের ধোঁকা

📄 একটি ব্যতিক্রমী পরিস্থিতি ও শয়তানের ধোঁকা


"কতক ব্যক্তিবর্গ এ অজুহাতে দাড়ি রাখে না যে, যদি আমরা দাড়ি রেখে কোন ত্রুটিপূর্ণ কর্ম করে বসি তবে তাতে দাড়িওয়ালাদের কুখ্যাতি এবং দাড়ির অমর্যাদা হবে। এ সকল ব্যক্তিবর্গের ব্যাপারে শরীয়াতের হুকুম কি?"

[১৫] এসব ব্যক্তিবর্গের বাহ্যিক উদ্দেশ্য খুবই ভাল এবং এর উদ্দেশ্য হচ্ছে দাড়ির সম্মান। কিন্তু যদি একটি চিন্তা-ফিকর দ্বারা বিষয়টির যাচাই করা হয় তবে বুঝা যাবে যে, এই ধারণাও শয়তানের একটি চাতুরী। যাদ্বারা শয়তান অনেক লোককে ধোকা দিয়ে হারাম কাজে লিপ্ত করেছে। একে একটি উদাহরণ থেকে বুঝে নিনঃ এক মুসলমান অপর মুসলমানের সাথে প্রতারণা করে যার কারণে ইসলামী ভাতৃত্বের উপর কলংক হয়। যদি শয়তান তাকে এই পাঠ পড়িয়ে দেয় যে, তোমার কারণে ইসলাম এবং মুসলমান কলংকিত হচ্ছে। কাজেই ইসলামের সম্মান রক্ষার চাহিদা এই যে, তুম ইসলামই পরিত্যাগ করে (নাউযুবিল্লাহ) মুশরিক হয়ে যাও।

শয়তানের এই কুমন্ত্রণার কারণে কি তার ইসলাম পরিত্যাগ করা উচিত হবে? না, বরং তার অন্তরে যদি বস্তুতই ইসলামের প্রতি মাহাত্ম্য ও সম্মান বিদ্যমান থাকে, তবে সে কোন অবস্থাতেই ইসলামকে পরিত্যাগ করবে না; বরং উক্ত পাপগুলো থেকে দূরে থাকবে যা ইসলাম ও মুসলমানদেরকে কলংকিত করা অপরিহার্য হয়।

ঠিক একইভাবে যদি শয়তান এই কুমন্ত্রণা ঢেলে দেয় যে, যদি তুমি দাড়ি রেখে পাপকর্ম সম্পাদন কর তবে দাড়িওয়ালাদের দুর্নাম হবে আর এ বিষয়টি দাড়ির মর্যাদার পরিপন্থী। এই শয়তানী কুমন্ত্রণার কারণে দাড়িকে বিদায় করে দেয়া যাবে না; বরং সাহসিকতার সঙ্গে কাজ নিয়ে উঞ্চ স্বয়ং উক্ত পাপকর্মগুলো থেকে বেঁচে থাকার চেষ্টা করতে হবে যা দাড়ির মাহাত্মের পরিপন্থী এবং যার দ্বারা দাড়িওয়ালাদের দুর্নাম হবে।

যাহোক এসব লোক কেন ইহা ফরয করে নিয়ে যে, আমরা দাড়ি রেখে নিজ মন্দ আমলকে পরিত্যাগ করবো না? যদি বস্তুতই তাদের অন্তরে এই ইসলামী বৈশিষ্টের মর্যাদা বিদ্যমান থাকে, তবে জ্ঞানবোধ ও দীনের চাহিদা এই যে, সে দাড়ি রাখবে এবং এতে দৃঢ় সংকল্প হবে। ইনশা'আল্লাহ এরপর তার থেকে আর কোন কবীরাগুনাহ সম্পাদিত হবে না। আর 'আ করতে থাকবে যে, আল্লাহ তায়ালা যেন আমাদের এই ইসলামী বৈশিষ্টের সম্মান রক্ষা করার তাওফীক দেন।

সকল মুসলমানদের জন্য অপরিহার্য যে, ইসলামী বৈশিষ্টকে নিজেও অক্ষুণ্ণ রাখবে এবং সামাজিক জীবনে একে জীবিত করার পূর্ণাংগ চেষ্টা চালাবে যাতে কিয়ামত দিবসে মুসলমানদের আকার আকৃতিতে তাদের হাশর হয়। আর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের শাফায়াত হয় এবং আল্লাহ সুবহানাহা ওয়া তায়ালার রহমতের পাত্র হতে পারে।

"হযরত আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন, আমার উম্মতের সকল লোক জানাতে যাবে, তবে যে অস্বীকার করে নিয়েছে। সাহাবায়ে কিরাম (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) আরজ করলেন; অস্বীকার কে করে? ইরশাদ করলেন, যে ব্যক্তি আমার অনুসরণ করবে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে আর যে আমার হুকুম পরিবর্তন করে সে অস্বীকার করে নিয়েছে।" (সহীহ বুখারী, ২খণ্ড, ১০৮২ পৃ)

📘 ইসলামী শরীয়াতে দাড়ির পদমর্যাদা > 📄 দীনের বিষয় নিয়ে হাসি ঠাট্টা হচ্ছে কুফর (অবিশ্বাস)

📄 দীনের বিষয় নিয়ে হাসি ঠাট্টা হচ্ছে কুফর (অবিশ্বাস)


ইসলামের কোন 'শিআর' তথা বৈশিষ্ট-চিহ্ন এর ঠাট্টা বিদ্রুপ করা এবং রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কোন সুন্নাতকে অবজ্ঞা প্রদর্শন করা কুফরী, যার কারণে মানুষ ঈমান থেকে বের হয়ে যায়। আর এই বিষয়টি পূর্বে আলোচিত হয়েছে যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দাড়িকে ইসলামের শিআর তথা বিশেষ চিহ্ন এবং আম্বিয়া আলাইহিমুস সালাম এর সর্বসম্মত সুন্নাত বলেছেন। কাজেই যে ব্যক্তি প্রাকৃতিক স্বভাবগত সুন্দর আকৃতিকে কদাকৃতিতে রূপান্তরের ভিত্তিতে দাড়ি থেকে অবজ্ঞা প্রদর্শন করে এবং ঘৃণা ও তাচ্ছিল্যের দৃষ্টিতে দেখে, তার বন্ধু বান্ধবদের থেকে কেউ যদি তার দাড়ি রাখা থেকে বিরত রাখে, এর প্রতি ভর্ৎসনা করে এবং যারা পাত্রকে দাড়ি মুণ্ডানো ব্যতীত মেয়ে বিয়ে দিতে প্রস্তুত নয়, এই সকল লোকের স্বীয় ঈমানের অবস্থা সম্পর্কে গভীর চিন্তা করা বাঞ্ছনীয়। তাদের তাওবা অপরিহার্য।

দীনের বিষয় নিয়ে হাসি ঠাট্টা হচ্ছে কুফর (অবিশ্বাস) [১৬]

"কিছু লোক দাড়ির ব্যাপারে অবজ্ঞা প্রদর্শন করে এবং একে ঘৃণার দৃষ্টিতে দেখে, যদি তার সন্তান-সন্ততি ও প্রিয়জনের কেউ দাড়ি রাখতে চায়, তবে সে তাকে বিরত রাখে এবং বিদ্রুপ করে। আর কতক লোক বিয়ে-শাদীতে পাত্রকে দাড়ি মুণ্ডানো থাকার শর্ত আরোপ করে। এ শ্রেণীর লোকদের ব্যাপারে শরীয়াতের হুকুম কি?"

দাড়ি কিংবা দ্বীন ইসলামের যে কোন বিষয় নিয়ে হাসি তামাশা করা

যে রাসূলের দীনের কোন বিষয় নিয়ে হাসি তামাশা করে অথবা আল্লাহর কোন পুরষ্কার কিংবা শাস্তি নিয়ে ঠাট্টা তামাশা করে সে কুফরি (অবিশ্বাস) করল। [১৭]

ইসলাম ত্যাগ তথা মুরতাদ হয়ে যাবার ষষ্ঠ প্রকার (আলোচিত বই, 'ইসলাম ধ্বংসকারী বিষয়সমূহ') হল, আল্লাহ যা নাযিল করেছেন তার মধ্যে কোন কিছু কিংবা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যা নিয়ে এসেছেন তার কোনকিছু, এমনকি সাধারণ সুন্নাহ'র অন্তর্গত কোন বিষয় অথবা যে বিষয়গুলোতে উৎসাহ দেয়া হয়েছে সেগুলো যেমন মিসওয়াক, গোঁফ ছাটা, বগলের চুল অপসারণ করা, নখ কাটা ইত্যাদির কোন একটি নিয়ে হাসি তামাশা তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করা। যদি কোন ব্যক্তি এগুলো নিয়ে হাসি-ঠাট্টা করে তবে সে একজন মুরতাদ হয়ে যায়। এ বিষয়ের সাক্ষ্য আল্লাহ সুবহানাহা ওয়া তায়ালা নিজেই তার কালামে বলেছেন:

"আর যদি তুমি(নবী) তাদের কাছে জিজ্ঞেস কর, তবে তারা বলবে, আমরা তো কথার কথা বলছিলাম এবং কৌতুক করছিলাম। আপনি বলুন, তোমরা কি আল্লাহর সাথে, তাঁর হুকুম আহকামের সাথে এবং তাঁর রসূলের সাথে ঠাট্টা করছিলে?
ছলনা কর না, তোমরা যে কাফের হয়ে গেছ ঈমান প্রকাশ করার পর। " [১৮]

কাজেই যে ব্যক্তি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সুন্নাহর কোন বিষয় (হোক তা উৎসাহজ্ঞাপক কিংবা বাধ্যতামূলক কোন কিছু) নিয়ে তামাশা করে সে একজন মুরতাদ তথা ইসলাম ত্যাগী ব্যক্তি। কাজেই তার ব্যাপারে আপনি কি সিদ্ধান্ত নিবেন যে বলছে, "দাড়ি বড় করা, গোঁফ ছেটে রাখা, বগলের চুল অপসারণ করা, আঙ্গুলের গিরায় পানি দেয়া, এগুলো তুচ্ছ বিষয় !" এগুলো বলার অর্থ হল হাসি তামাশা তুচ্ছ তাচ্ছিল্য বলতে যা বোঝায় ঠিক তাই।

যখন কেউ এধরণের কথা বলে আর সে জানে (এটা দীনের অন্তর্গত একটি বিষয়), তখন সে মুরতাদ হয়ে যায়; কারণ এর দ্বারা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রতি যাকিছু নাযিলকৃত হয়েছে তাকে ছোট করে দেখা হয়। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সুন্নাহর প্রতি সম্মান দেখানো এবং তাকে বড় করে দেখা ফরয।

এমনকি যদি কোন ব্যক্তি নিজের খেয়াল খুশির অনুসরণ করতে গিয়ে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কোন সুন্নাহর বিরুদ্ধাচরণ করে, এরপরও তাকে রাসুলুল্লাহর (সা) প্রতি সম্মান দেখাতে হবে, তার কথাকে সম্মান দেখাতে হবে । সে কখনো বলতে পারে না, "এগুলো তুচ্ছ বিষয় !"

আল্লাহ সুবহানাহা ওয়া তায়ালা বলেন: "আপনি বলুন, তোমরা কি আল্লাহর সাথে, তাঁর হুকুম আহকামের সাথে এবং তাঁর রসূলের সাথে ঠাট্টা করছিলে? ছলনা কর না, তোমরা যে কাফের হয়ে গেছ ঈমান প্রকাশ করার পর। " [১৮]

যে ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে এই আয়াতটি নাযিল হয়ঃ

ইবনে ওমর, মুহাম্মদ বিন কা'ব, যায়েদ বিন আসলাম এবং কাতাদাহ রা. থেকে বর্ণিত আছে, [তাদের একের কথা অপরের কথার মধ্যে সামঞ্জস্য আছে] তাবুক যুদ্ধে একজন লোক বলল, এ কারীদের [কুরআন পাঠকারীর] মত এত অধিক পেটুক, কথায় এত অধিক মিথ্যুক এবং যুদ্ধের ময়দানে শত্রুর সাক্ষাতে এত অধিক ভীরু আর কোন লোক দেখিনি৷ অর্থাৎ লোকটি তার কথা দ্বারা মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম; এবং তাঁর সাহায্যকারী সাহাবায়ে কেরামের দিকে ইঙ্গিত করেছিলো৷ আওফ বিন মালেক লোকটিকে বললেন, 'তুমি মিথ্যা কথা বলেছ। কারণ, তুমি মুনাফেক৷' আমি অবশ্যই রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে এ খবর জানাবো।

আওফ তখন এ খবর জানানোর জন্য রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর কাছে চলে গেলেন৷ গিয়ে দেখলেন কুরআন তাঁর চেয়েও অগ্রগামী [অর্থাত্ আওফ পৌঁছার পূর্বেই ওহির মাধ্যমে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ব্যাপারটি জেনে ফেলেছেন] এ ফাঁকে মুনাফেক লোকটি তার উটে চড়ে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর কাছে চলে আসল৷

তারপর সে বলল, 'হে আল্লাহর রাসূল, চলার পথে আমরা অন্যান্য পথচারীদের মত পরস্পরের হাসি, রং-তামাশা করছিলাম' যাতে করে আমাদের পথ চলার কষ্ট লাঘব হয়৷ ইবনে ওমর রা. বলেন, এর উটের গদির রশির সাথে লেগে আমি যেন তার দিকে তাকিয়ে দেখছিলাম। পাথর তার পায়ের উপর পড়ছিল, আর সে বলছিল, 'আমরা হাসি ঠাট্টা করছিলাম।'

তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে উদ্দেশ্য করে এই আয়াত শুনিয়ে দেন, "আর যদি তুমি তাদের কাছে জিজ্ঞেস কর, তবে তারা বলবে, আমরা তো কথার কথা বলছিলাম এবং কৌতুক করছিলাম। আপনি বলুন, তোমরা কি আল্লাহর সাথে, তাঁর হুকুম আহকামের সাথে এবং তাঁর রসূলের সাথে ঠাট্টা করছিলে? ছলনা কর না, তোমরা যে কাফের হয়ে গেছ ঈমান প্রকাশ করার পর। "

আল্লাহর বাণীর প্রতি লক্ষ্য করুন, "ছলনা কর না, তোমরা যে কাফের হয়ে গেছ ঈমান প্রকাশ করার পর। " এটা প্রমাণ করে যে, উপহাস করে সেই কথাগুলো বলার আগ পর্যন্ত তারা মুসলিম ছিল কিন্তু যখন তারা দীনের বিষয়াদি নিয়ে হাসি তামাশা করল, তারা মুরতাদ হয়ে গেল, যদিও তারা বলল তারা কেবল নির্দোষ রসিকতা করার জন্যেই কথাগুলো বলেছিল, উপহাসের সুরে নয়। এর কারণ, দীনের কোন বিষয় হাসি তামাশার বস্তু নয়। কাজেই স্বয়ং আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা তাদের কাফের ঘোষণা করেছেন ঈমান আনার পরে। আমরা আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করি।

এটা আরও প্রমাণ করে, যে আল্লাহকে, তাঁর রাসূল, তাঁর কিতাব, কুর'আনের যেকোন অংশ অথবা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সুন্নাহর কোন কিছুকে অবজ্ঞা অপমান করে সে ইসলাম থেকে বের হয়ে যায়, এমনকি যদি সে নির্দোষ কৌতুকচ্ছলেও তা বলে থাকে।

কোথায় তারা যারা বলে যে তারা মুরতাদ হয় না কারণ তারা অন্তরে তা পোষণ করে না? তারা বলে, "যদি কেউ আল্লাহ, রাসূল অথবা কুর'আনের অপমান করে কথা বলে আমরা তার কথা কিংবা কাজের উপর ভিত্তি করে তৎক্ষণাৎ কোন বিচার করতে পারিনা"। তাদের এই কথার কি ভিত্তি বা উৎস আছে ? আল্লাহ স্বয়ং তাদের বিচার করে মুরতাদ ঘোষনা করেন যখন তারা বলছিলো,

"আমরা তো কথার কথা বলছিলাম এবং কৌতুক করছিলাম।"

তারা আল্লাহ এবং তাঁর রাসুলের প্রতি ঈমান এনেছিল, তাওহীদে বিশ্বাসী ছিল কিন্তু এরপরেও যখন তারা ঐ কথাগুলো উচ্চারণ করল আল্লাহ জানিয়ে দিলেন, "ছলনা কর না, তোমরা যে কাফের হয়ে গেছ ঈমান প্রকাশ করার পর। "

এবং তিনি একথা বলেননি, "যদি তোমরা সত্যিই বিশ্বাস করতে"। আমরা আল্লাহর নিকট আশ্রয় চাই।

কাজেই এটা বাধ্যতামূলক, আমরা প্রতিটি বস্তুকে তার নিজ নিজ সঠিক স্থানে রাখব, নিজেদের খেয়াল খুশিমত কোন কিছু যোগ বিয়োগ করব না। তার কি বিশ্বাস করেছিলো সে বিষয়ে আল্লাহ জানতে চাননি, তারা কি বিশ্বাস করেছিলো তা উল্লেখও করেননি, বরং তিনি নিজেই তাদের ঈমানদার হবার পরে আবার মুরতাদ হয়ে যাবার কথা উল্লেখ করেছেন,

"ছলনা কর না, তোমরা যে কাফের হয়ে গেছ ঈমান প্রকাশ করার পর। "

যদি কোন ব্যক্তি স্বেচ্ছায় এ ধরণের কুফরি কথা বলে তাহলে সে মুরতাদ হয়ে যায়। যদি তাকে এ ধরণের কথা বলতে বাধ্য করা হয় ৬ তাহলে সে এক্ষেত্রে ধর্মত্যাগীদের অন্তর্গত নয়।

📘 ইসলামী শরীয়াতে দাড়ির পদমর্যাদা > 📄 একটি ঘটনা

📄 একটি ঘটনা


আবু জায়দ আল আনসারি হতে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর মাথায় এবং দাড়িতে হাত বুলিয়ে দুয়া করেছিলেন, "হে আল্লাহ! তাকে সুদর্শন বানিয়ে দিন" এবং এরপরে যখন তাঁর বয়স একশ'রও বেশি হয়ে যায় তখনও তাঁর দাড়িতে একটিও সাদা চুল দেখা যায়নি, তাঁর মুখমণ্ডল ছিল চিরসবুজ, হাসিখুশি এবং কখনো মলিন বা বিষণ্ণ দেখাতো না, আমৃত্যু তিনি এরকম ছিলেন। (আল বায়হাকি একে সহীহ বলেছেন, তিরমিযি হাসান বলেছেন)

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00