📘 ইসলামী শরীয়াতে দাড়ির পদমর্যাদা 📄 স্বাভাবিক অবস্থার বিকৃতি ঘটানো

📄 স্বাভাবিক অবস্থার বিকৃতি ঘটানো


আব্দুল্লাহ বিন ইয়াজিদ আল আনসারী বর্ণিত, " নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আন-নুহবা এবং আল-মুথলা নিষেধ করেছেন।" [১১]

সুমরাহ এবং ওমরান বিন হুসেইন রাদিয়াল্লাহু আনহুম থেকে বর্ণিত, "প্রত্যেক খুতবায় নবীজী আমাদেরকে দান করতে ও আল-মুথলা(আকার বিকৃতি) থেকে বেঁচে থাকার কথা না বলে শেষ করতেন না।" [১২]

ইবন আস শাকির হতে বর্ণিত, ওমর বিন আব্দুল আযিয (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, "দাড়ি কামানো হল মুথলা এবং নবীর নিষেধ করা কাজের একটি হল মুথলা"।

ইমাম ইবন হাজম রাহিমাহুল্লাহ, তাঁর বই 'মারাতিব আল-ইজমা' (ঐক্যমতের স্তর) এ উল্লেখ করেন," তাঁরা (আলেমগণ) একমত হয়েছেন যে, দাড়ি কামানো হল মুথলা এবং এটা অননুমোদিত।"

আলেমগণের কেউ কেউ দাড়ির ছেটে ছোট করাকে মুথলা বলেছেন, অনেকে গোঁফ কামিয়ে ফেলাকে মুথলা বলেছেন। একবার ভেবে দেখুন, সম্পূর্ণ দাড়ি কামিয়ে ফেলার মত অবস্থা সৃষ্টি হলে আলেমগণের বক্তব্য কি হতো? চেহারা হল মানুষের শরীরের সবচেয়ে সুন্দরতম অংশ এবং সৌন্দর্যের কেন্দ্র। চেহারা একটি সম্মানিত অংশ, একারণেই রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহুয়া আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, "যখন তোমাদের কেউ তার ভাইয়ের সাথে লড়াইয়ে লিপ্ত হয় সে যেন চেহারাকে এড়িয়ে চলে" আরেকটি বর্ণনায়, "সে মুখে আঘাত করবে না"। [১৩]

সুয়ায়েদ বিন মিকরিন একজন লোককে দেখলেন যে তার ছেলেকে মুখে আঘাত করছে (চড় মারছে), তিনি বলেন, "তুমি কি জানোনা যে সুরাহ (চেহারা) সম্মানিত?" (মুসলিম)

📘 ইসলামী শরীয়াতে দাড়ির পদমর্যাদা 📄 সমাজের নিকৃষ্ট লোকেরাও দাড়ি কামাতে লজ্জা বোধ করত !

📄 সমাজের নিকৃষ্ট লোকেরাও দাড়ি কামাতে লজ্জা বোধ করত !


এটা সহজেই অনুমিত যে প্রথম যুগের মুসলিম আলেমগণের কেউই কোনোদিন দাড়ি কামাননি। একবারও নয়। তৎকালীন মুসলিম শাসকেরা যাদের অনেকেই জাহেল ছিলেন তারা পর্যন্ত কোন দুষ্কৃতিকারীকে শাস্তি দিতে হলে তার দাড়ি কামিয়ে দিতেন এবং গাধা বা অন্য কোন পশুর পিঠে চড়িয়ে শহরময় ঘুরিয়ে আনতেন, সেই নিচু লোকগুলো পর্যন্ত তাদের দাড়ি কামানো চেহারা দেখানোর এই শাস্তিকে খুবই লজ্জাজনক মনে করত ! কেননা, দাড়ি কামানো; এটা হচ্ছে মেয়েলি একটা স্বভাব। এই জন্যেই অনেক আলেম মতামত দিয়েছেন, "কাউকে লঘু শাস্তি দিয়ে সঠিক পথে ফিরিয়ে আনতে হলে তার মাথা কামিয়ে দাও কিন্তু দাড়ি কামিও না।" কারণ, প্রকৃতপক্ষে দাড়ি কামানো হারাম। আমরা কি দেখি না, যখন ইহরামের সময় শেষ হয়ে আসে [১৪] তখন সুন্নাহ হচ্ছে মাথার চুল কামিয়ে ফেলা কিন্তু তখনও দাড়ি কামানো নয়! সালফে সালেহীনগণের কঠোর অবস্থান ছিল সেই সকল লোকের সাক্ষ্য গ্রহণের ব্যাপারে যারা কিনা নিজেদের দাড়ি কামিয়ে ফেলত। তাদেরকে অবিশ্বস্ত লোকে বলেই ইসলামে বিবেচনা করা হয়ে থাকে। দুসুকী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, "একজন পুরুষের দাড়ি কামানো হারাম, আর যে এটা করে তাকে অবশ্যই শাস্তি দিতে হবে।"

লক্ষ্যণীয়, 'আল্লাহর সৃষ্টিতে পরিবর্তন ঘটানো'র মাঝে ফিতরাগত বৈশিষ্ট্য অন্তর্ভুক্ত নয়। উদাহরণ: নখ কাটা, হজ্জের সময় মাথার চুল ফেলে দেয়া এবং বগল ও ব্যক্তিগত স্থানের চুল কাটা, খতনা করা ইত্যাদি। এসকল ক্ষেত্রে পরিবর্তন ঘটানো মানে 'আলাহর সৃষ্টির পরিবর্তন' নয়। কারণ এগুলো স্বয়ং আল্লাহ তায়ালাই অনুমতি দিয়েছেন।

কি অদ্ভুত আজকের সমাজে আমাদের আচরণ যখন আমরা তাদের শেভ করা মসৃণ গাল দেখে অভিনন্দন জানিয়ে বলি, "কি মসৃণ !" (আরবিতে Na'eeman)

📘 ইসলামী শরীয়াতে দাড়ির পদমর্যাদা 📄 দাড়ি কামানোর একটি লুকানো কারণ। দেখতে কেমন লাগবে?

📄 দাড়ি কামানোর একটি লুকানো কারণ। দেখতে কেমন লাগবে?


আল্লাহর কালামে সুস্পষ্টভাবে উল্লেখিত,
"এবং তোমাদেরকে আকৃতি দান করেছেন, অতঃপর সুন্দর করেছেন তোমাদের আকৃতি। " (তাগাবুন ৩)

যারা মুসলমানদের সম্পর্কে এরূপ বলে, "অবশ্যই তাদের চেহারা পরিষ্কার ও মসৃণ হওয়া উচিত" তাদের জেনে রাখা উচিত এই আয়াতটি যেখানে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা বলছেন,
"হে মানুষ, কিসে তোমাকে তোমার মহামহিম পালনকর্তা সম্পর্কে বিভ্রান্ত করল?
যিনি তোমাকে সৃষ্টি করেছেন, অতঃপর তোমাকে সুবিন্যস্ত করেছেন এবং সুষম করেছেন।
যিনি তোমাকে তাঁর ইচ্ছামত আকৃতিতে গঠন করেছেন।
কখনও বিভ্রান্ত হয়ো না..." (সূরা ইনফিতার ৬-৯)

কাজেই আমাদের উচিত নয়, আল্লাহ আমাদেরকে যে উত্তম আকৃতি এবং গঠন দান করেছেন তার পরিবর্তন-বিকৃতি সাধন করে কুৎসিত রূপ ধারণ করি। অথবা যারা মুসলমানদের মাঝে দাড়ি কামিয়ে ফেলার এই বাজে সংস্কৃতির প্রচার প্রসার করছে সেই লেজকাটা শেয়ালদের আরও জেনে রাখা উচিত, "শয়তান বললঃ আমি অবশ্যই তোমার বান্দাদের মধ্য থেকে নির্দিষ্ট অংশ গ্রহণ করব।
তাদেরকে পথভ্রষ্ট করব, তাদেরকে আশ্বাস দেব; তাদেরকে পশুদের কর্ণ ছেদন করতে বলব এবং
তাদেরকে আল্লাহর সৃষ্ট আকৃতি পরিবর্তন করতে আদেশ দেব।
যে কেউ আল্লাহকে ছেড়ে শয়তানকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করে, সে প্রকাশ্য ক্ষতিতে পতিত হয়। " (নিসা ১১৮-১১৯)

উক্ত আয়াতের মাধ্যমে স্পষ্টতই বোঝা গেল যে, দাড়ি মুণ্ডন করা আল্লাহর অবাধ্যতা এবং ফিতরাহগত বৈশিষ্ট্যের বিপরীত একটি আচরণ। যা আল্লাহ এবং তাঁর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) অনুমতি দেননি, তা নিষিদ্ধ।

📘 ইসলামী শরীয়াতে দাড়ির পদমর্যাদা 📄 একটি ব্যতিক্রমী পরিস্থিতি ও শয়তানের ধোঁকা

📄 একটি ব্যতিক্রমী পরিস্থিতি ও শয়তানের ধোঁকা


"কতক ব্যক্তিবর্গ এ অজুহাতে দাড়ি রাখে না যে, যদি আমরা দাড়ি রেখে কোন ত্রুটিপূর্ণ কর্ম করে বসি তবে তাতে দাড়িওয়ালাদের কুখ্যাতি এবং দাড়ির অমর্যাদা হবে। এ সকল ব্যক্তিবর্গের ব্যাপারে শরীয়াতের হুকুম কি?"

[১৫] এসব ব্যক্তিবর্গের বাহ্যিক উদ্দেশ্য খুবই ভাল এবং এর উদ্দেশ্য হচ্ছে দাড়ির সম্মান। কিন্তু যদি একটি চিন্তা-ফিকর দ্বারা বিষয়টির যাচাই করা হয় তবে বুঝা যাবে যে, এই ধারণাও শয়তানের একটি চাতুরী। যাদ্বারা শয়তান অনেক লোককে ধোকা দিয়ে হারাম কাজে লিপ্ত করেছে। একে একটি উদাহরণ থেকে বুঝে নিনঃ এক মুসলমান অপর মুসলমানের সাথে প্রতারণা করে যার কারণে ইসলামী ভাতৃত্বের উপর কলংক হয়। যদি শয়তান তাকে এই পাঠ পড়িয়ে দেয় যে, তোমার কারণে ইসলাম এবং মুসলমান কলংকিত হচ্ছে। কাজেই ইসলামের সম্মান রক্ষার চাহিদা এই যে, তুম ইসলামই পরিত্যাগ করে (নাউযুবিল্লাহ) মুশরিক হয়ে যাও।

শয়তানের এই কুমন্ত্রণার কারণে কি তার ইসলাম পরিত্যাগ করা উচিত হবে? না, বরং তার অন্তরে যদি বস্তুতই ইসলামের প্রতি মাহাত্ম্য ও সম্মান বিদ্যমান থাকে, তবে সে কোন অবস্থাতেই ইসলামকে পরিত্যাগ করবে না; বরং উক্ত পাপগুলো থেকে দূরে থাকবে যা ইসলাম ও মুসলমানদেরকে কলংকিত করা অপরিহার্য হয়।

ঠিক একইভাবে যদি শয়তান এই কুমন্ত্রণা ঢেলে দেয় যে, যদি তুমি দাড়ি রেখে পাপকর্ম সম্পাদন কর তবে দাড়িওয়ালাদের দুর্নাম হবে আর এ বিষয়টি দাড়ির মর্যাদার পরিপন্থী। এই শয়তানী কুমন্ত্রণার কারণে দাড়িকে বিদায় করে দেয়া যাবে না; বরং সাহসিকতার সঙ্গে কাজ নিয়ে উঞ্চ স্বয়ং উক্ত পাপকর্মগুলো থেকে বেঁচে থাকার চেষ্টা করতে হবে যা দাড়ির মাহাত্মের পরিপন্থী এবং যার দ্বারা দাড়িওয়ালাদের দুর্নাম হবে।

যাহোক এসব লোক কেন ইহা ফরয করে নিয়ে যে, আমরা দাড়ি রেখে নিজ মন্দ আমলকে পরিত্যাগ করবো না? যদি বস্তুতই তাদের অন্তরে এই ইসলামী বৈশিষ্টের মর্যাদা বিদ্যমান থাকে, তবে জ্ঞানবোধ ও দীনের চাহিদা এই যে, সে দাড়ি রাখবে এবং এতে দৃঢ় সংকল্প হবে। ইনশা'আল্লাহ এরপর তার থেকে আর কোন কবীরাগুনাহ সম্পাদিত হবে না। আর 'আ করতে থাকবে যে, আল্লাহ তায়ালা যেন আমাদের এই ইসলামী বৈশিষ্টের সম্মান রক্ষা করার তাওফীক দেন।

সকল মুসলমানদের জন্য অপরিহার্য যে, ইসলামী বৈশিষ্টকে নিজেও অক্ষুণ্ণ রাখবে এবং সামাজিক জীবনে একে জীবিত করার পূর্ণাংগ চেষ্টা চালাবে যাতে কিয়ামত দিবসে মুসলমানদের আকার আকৃতিতে তাদের হাশর হয়। আর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের শাফায়াত হয় এবং আল্লাহ সুবহানাহা ওয়া তায়ালার রহমতের পাত্র হতে পারে।

"হযরত আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন, আমার উম্মতের সকল লোক জানাতে যাবে, তবে যে অস্বীকার করে নিয়েছে। সাহাবায়ে কিরাম (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) আরজ করলেন; অস্বীকার কে করে? ইরশাদ করলেন, যে ব্যক্তি আমার অনুসরণ করবে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে আর যে আমার হুকুম পরিবর্তন করে সে অস্বীকার করে নিয়েছে।" (সহীহ বুখারী, ২খণ্ড, ১০৮২ পৃ)

ফন্ট সাইজ
15px
17px
🎤 ভাষা বেছে নিন
🇧🇩
বাংলা
Bengali
🕌
আরবি
العربية