📘 ইসলামী শরীয়াতে দাড়ির পদমর্যাদা > 📄 ঔদ্ধত্য ও হেদায়েতের পথ হারিয়ে ফেলা

📄 ঔদ্ধত্য ও হেদায়েতের পথ হারিয়ে ফেলা


সর্বশক্তিমান আল্লাহ বলেন, "যে লোক রসূলের হুকুম মান্য করবে সে আল্লাহরই হুকুম মান্য করল। আর যে লোক বিমুখতা অবলম্বন করল, আমি আপনাকে (হে মুহাম্মদ), তাদের জন্য রক্ষণাবেক্ষণকারী নিযুক্ত করে পাঠাইনি"। (নিসা ৮০)

যেহেতু রাসুলুল্লাহর সুনাহ (আদেশ, কাজ এবং গুণগতভাবে) বলছে দাড়ি বড় করার কথা, সেহেতু এটা কামিয়ে ফেলা হচ্ছে তাঁর সম্মানিত সুন্নাহ তথা জীবনাচরণের প্রতি একটি চরম অপমান। তিনি বলেছেন, "যে আমার সুন্নাহর বিরাগভাজন হয় সে আমার দলভুক্ত নয়"। (মুসলিম, ৩২৩৬; বুখারী, আহমদ, নাসায়ী)

"যে কেহ এমন আমল করবে যা করতে আমরা নির্দেশ দেইনি, তা প্রত্যাখ্যাত।" (মুসলিম)

📘 ইসলামী শরীয়াতে দাড়ির পদমর্যাদা > 📄 আল্লাহর সৃষ্টির পরিবর্তন- বিকৃতি ঘটানো

📄 আল্লাহর সৃষ্টির পরিবর্তন- বিকৃতি ঘটানো


আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা বলেন, "আল্লাহর সৃষ্টির কোন পরিবর্তন নেই। " (রুম ৩০)
উক্ত আয়াতের তাফসীরে 'খালক' শব্দটি দ্বারা মানুষের ফিতরাহ তথা স্বাভাবিক স্বভাব প্রকৃতিকে বোঝানো হয়েছে।

ফিতরাগত বৈশিষ্টের পরিবর্তন সাধন হল শয়তানের অনুসরণ এবং পরম করুণাময় আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালার অবাধ্যতা। শয়তানের এই চক্রান্ত উন্মোচন করে দিয়ে আল্লাহ বলেন,
"শয়তান বললঃ আমি অবশ্যই তোমার বান্দাদের মধ্য থেকে নির্দিষ্ট অংশ গ্রহণ করব।
তাদেরকে পথভ্রষ্ট করব, তাদেরকে আশ্বাস দেব; তাদেরকে পশুদের কর্ণ ছেদন করতে বলব এবং
তাদেরকে আল্লাহর সৃষ্ট আকৃতি পরিবর্তন করতে আদেশ দেব।
যে কেউ আল্লাহকে ছেড়ে শয়তানকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করে, সে প্রকাশ্য ক্ষতিতে পতিত হয়। " (নিসা ১১৮-১১৯)

নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাবধান করে বলেছেন, "আল্লাহ যেসব নারীদের অভিশাপ দিয়েছেন যারা উল্কি অঙ্কন করে এবং নিজেদের শরীরেও উল্কি আঁকে, এবং সেই সকল নারীদের যারা নিজেদের কামায় এবং যারা নিজেদের দাঁতের মাঝে কৃত্রিমভাবে ফাঁক বৃদ্ধি করে যাতে তাদেরকে দেখতে সুন্দর দেখায়, তারা আল্লাহর সৃষ্টির উপর নিজেরা পরিবর্তন সাধন করে।" [৫]

নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাদের প্রতি এই অভিশাপের কারণ ব্যাখা করে বলেন, "আল্লাহর সৃষ্টির বিকৃতি সাধন করা"। এই অভিশাপ থেকেই হয়ে যায় যে, আল্লাহর সৃষ্টিগত বৈশিষ্টের পরিবর্তন নিষিদ্ধ। কাজেই যে তথাকথিত "সৌন্দর্য বর্ধন" এর জন্য তার দাড়ি কামিয়ে ফেলে সে আল্লাহর সৃষ্টির পরিবর্তন সাধন করে, সুবহানাল্লাহ! সমস্ত প্রশংসা তাঁরই যিনি সব ভুল ত্রুটির ঊর্ধে এবং যিনি সব কিছু সৃষ্টি করেছেন নিখুঁতভাবে।

দাড়ি কামানো 'আন-নামাস'র অন্তর্গত, যা হলো আরও বেশি 'সুন্দর' হবার জন্যে মুখমণ্ডল থেকে চুল কিংবা মহিলাদের চোখের উপড়ে ফেলা। পুরুষদের জন্যে যা অধিকতর কুৎসিত।

📘 ইসলামী শরীয়াতে দাড়ির পদমর্যাদা > 📄 অবিশ্বাসীদের সাথে সাদৃশ্য গ্রহণ কেন কুফফারদের থেকে আলাদা বৈশিষ্টের হতে হবে?

📄 অবিশ্বাসীদের সাথে সাদৃশ্য গ্রহণ কেন কুফফারদের থেকে আলাদা বৈশিষ্টের হতে হবে?


আল্লাহ মহামহিম তাঁর কালামে বলেছেন, "এরপর আমি আপনাকে রেখেছি ধর্মের এক বিশেষ শরীয়তের উপর। অতএব, আপনি এর অনুসরণ করুন এবং অজ্ঞানদের খেয়াল-খুশীর অনুসরণ করবেন না। " (আল কুর'আন ৪৫:১৮) [৬]

এই আয়াতে পরিষ্কারভাবে তাদের থেকে পৃথক হবার কথা বলা হয়েছে যারা নিজেদের খেয়াল খুশির অনুসরণ করে এবং আল্লাহর রাসুলের আদেশের অনুসরণ করে না। তাদের খেয়াল খুশির মধ্যে অন্তর্ভুক্ত তাদের বাহ্যিক চেহারা-সাজ পোশাক এবং তারা তাদের বাতিল জীবনাচরণের থেকে যা অন্তর্ভুক্ত করে। কাজেই তাদের খেয়াল খুশির সাথে একমত পোষণ তাদের মিথ্যা বাতিল পথ অনুসরণেরই নামান্তর। আমাদের প্রতি আদেশ হল তাদের থেকে পৃথক হবার।

আল্লাহ পাক বলেন, "যারা মুমিন, তাদের জন্যে কি আল্লাহর স্মরণে এবং যে সত্য অবর্তীর্ণ হয়েছে, তার কারণে হৃদয় বিগলিত হওয়ার সময় আসেনি? তারা তাদের মত যেন না হয়, যাদেরকে পূর্বে কিতাব দেয়া হয়েছিল। তাদের উপর সুদীর্ঘকাল অতিক্রান্ত হয়েছে, অতঃপর তাদের অন্তঃকরণ কঠিন হয়ে গেছে। তাদের অধিকাংশই পাপাচারী।" (হাশর ১৬)

এই আয়াতে: "তারা তাদের মত যেন না হয়, যাদেরকে পূর্বে কিতাব দেয়া হয়েছিল", বিজাতিদের অনুকরণের বিরুদ্ধে একটি চূড়ান্ত নিষেধাজ্ঞা। ইবন কাসীর (রাহিমাহুল্লাহ) তাঁর তাফসীরে উল্লেখ করেছেন: "এ কারণেই আল্লাহ মুমিনদেরকে নিষেধ করেছেন তাদের (অবিশ্বাসীদের) অনুকরণ করতে"।

কুর'আনের শিক্ষা এবং রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রতি যাকিছু নাযিল হয়েছে তার অন্যতম শিক্ষা হল মুসলমানদের স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট রক্ষা করা। একারণেই আমাদের কথা, কর্ম, ইচ্ছা বাসন ইত্যাদি এবং শরীয়তের বিষয়াদি পর্যন্ত যেমন সালাত, জানাযা, সাওম, খাদ্যাভ্যাস নিয়ন্ত্রণ, পোশাক, চাল চলন, আচরণ, অভ্যাস ইত্যাদি সকল ক্ষেত্রে জাতীয় বৈশিষ্ট রক্ষা করার জন্যে আল্লাহর রাসূল বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন। এরপরেও যারা মুসলমানদের জাতিয় বৈশিষ্ট ত্যাগ করে অন্যদের অনুসরণ অনুকরণ করে তাদের প্রতি তিনি বলেছেন, "যে আমাদের সুন্নাহ পরিত্যাগ করে অন্যদের সুন্নাহ অনুসরণ করে সে আমাদের মধ্য হতে কেউ নয়।" [৭]

মদীনার ইহুদীরা এই উদ্দেশ্যগুলো বুঝতে পেরেছিল এবং অনুধাবন করেছিলো যে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাদের থেকে সকল বিষয়ে আলাদা হতে যাচ্ছেন এমনকি একেবারে ব্যক্তিগত কোন বিষয়েও। তারা মন্তব্য করেছিলো, "আমরা যা করি তার কোন কিছুরই বিরোধীতা না করে এই লোকটি (মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাদের ছাড়বে না।" [৮]

হাসান আল বাসরী বলেন, " এমন ঘটনা খুব বিরল যে কেউ কাউকে অনুকরণ করে অথচ সে তার অনুসরণ করে না (ইহকাল এবং পরকালে)।"

সম্মানিত আনসারদের থেকে কয়েকজন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে জিজ্ঞেস করলেন, " হে আল্লাহর রাসূল! আহলে কিতাবীরা তাদের দাড়ি কামিয়ে ফেলে এবং গোঁফ লম্বা করে।" জবাবে তিনি বলেন, "তোমরা তোমাদের গোঁফ ছাট এবং দাড়ি ছেড়ে দাও এবং আহলে কিতাবিদের সাথে বৈসাদৃশ্য গ্রহণ কর।"

তিনি আরও বলেন,"তোমরা গোঁফগুলো কর্তন কর এবং দাড়ি ছেড়ে দাও (অর্থাৎ বড় করো)। তোমরা অগ্নিপূজকদের বিপরীত কর"। [(মুসলিম ২,৫১০]

আরেকটি হাদীসে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, "গোঁফ ছোট কর (জুযযু), আর দাড়ি বাড়তে দাও, এবং মেজিয়ান (পৌত্তলিক)দের বিপরীত কর।" (মুসলিম)

জুযযু (সর্বোচ্চ পরিমাণ) গোঁফ কামানো। শায়খ নাসির উদ্দীন আলবানী বলেন, "ছেটে ফেলার অর্থ যাকিছু উপরের ঠোটের উপরে ছড়িয়ে থাকে, এবং সম্পূর্ণ গোঁফ কামিয়ে ফেলা নয়, কারণ এটা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বাস্তবিক এবং সুনিশ্চিত সুন্নাহর বিরুদ্ধাচারণ।" একারণেই যখন ইমাম মালিক(রাহিমাহুল্লাহ) এর কাছে যারা গোঁফ কামিয়ে ফেলে তাদের সম্পর্কে জানতে চাওয়া হয়েছিল, তিনি বলেন, "আমি মনে করি সে একটি কষ্টকর যুলুম করল"। গোঁফ কামিয়ে ফেলা সম্পর্কে তিনি আরও বলেন, "এটি একটি বিদ'আত (ধর্মের নামে নতুন উদ্ভাবিত বিষয়) যা লোকেদের মাঝে ছড়িয়ে পড়ছে।" (আল বায়হাকী, ১: ১৫১, আরও ফাতহুল বারী ১০: ২৮৫-২৮৬)

আল-কুথা, তীরের শেষভাগের পালকগুচ্ছ। 'আল-কুথাতি বিল কুথালি', পালকগুচ্ছ সেদিকেই যায় যেদিকে তীর ছুটে যায়। এই উপমার সাহায্যে অমুসলিমদের কাজকর্মের অন্ধ অনুকরণ অনুসরণের কথা বোঝানো হয়েছে। রাসুলুল্লাহ এই উপমার সাথে আরেকটি উপমা দিয়ে বুঝিয়েছেন, "তোমরা তোমাদের পূর্ববর্তীদের স্বভাবের অনুসরণ করবে, প্রতি পদে পদে, এমনকি তারা যদি কোন ধাব (গুইসাপের গর্ত) এও প্রবেশ করে তবে তোমরাও তাই করবে।" আমরা (সাহাবাগণ) জানতে চাইলাম, "হে আল্লাহর রাসূল! আপনি কি ইহুদী ও নাসারাদের অনুকরণের কথা বলছেন?" তিনি বললেন, "নয়তো কারা?" (বুখারী, মুসলিম)

কেন কুফফারদের থেকে আলাদা বৈশিষ্টের হতে হবে?

আচার আচরণ এবং সাজ পোশাক হচ্ছে এমন কিছু বিষয় যা নিয়তের উপর অনির্ভরশীল। যে অন্যদের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ আচরণ করে সে নিজেই তাদের সাথে নিজের আচরণকে মিলিয়ে নেয়, যদিও তার নিয়ত নাও থেকে থাকে। যদিওবা তার কোন উদ্দেশ্য না থেকে থাকে তবুও সে অনুকরণের দোষে হলে এর আনুষঙ্গিক প্রভাব থেকে নিজেকে মুক্ত করতে ব্যর্থ হয়। আর এ কারণেই রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সুনির্দিষ্টভাবে কিছু কাজকে নিষেধ করে গেছেন যদিও তার পিছনে কোন নিয়ত বা উদ্দেশ্য নাও থেকে থাকে অথবা ইচ্ছাকৃতভাবে অনুকরণের জন্য অনুকরণ নাও করা হয়। নির্দোষভাবেও এরূপ অনুকরণ করা নিষিদ্ধ। উদাহরণস্বরূপ: তিনি সূর্যোদয়ের সময়, মধ্যাত্বে এবং সূর্য ডোবার সময়ে সালাহ আদায়ে নিষেধ করেছেন, কারণ এই সময় গুলোতে মুশরিকরা সূর্যকে সিজদাহ করে থাকে। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ভালো করেই জানতেন মুসলিমরা সালাহ সূর্যকে উদ্দেশ্য করে নয়, আল্লাহকে উদ্দেশ্য করে আদায় করে থাকে। তবুও তিনি নিষেধ করেছেন এবং বিজাতি কুফফারদের থেকে সাদৃশ্যপূর্ণ আচরণ এবং একইভাবে নারী-পুরুষের পারস্পরিক সাদৃশ্যপূর্ণ আচরণকে নিষিদ্ধ করে গেছেন। এর কারণ কোন মানুষ অনুকরণের দোষে হলে, এক সময় সে যাকে অনুকরণ করে থাকে তার আনুষঙ্গিক কুপ্রভাব থেকে নিজেকে মুক্ত করতে ব্যর্থ হয়।

📘 ইসলামী শরীয়াতে দাড়ির পদমর্যাদা > 📄 অমুসলিম সম্প্রদায়ের মাঝে দাড়ি রাখার প্রচলন

📄 অমুসলিম সম্প্রদায়ের মাঝে দাড়ি রাখার প্রচলন


ওহী নাযিলের পূর্বে কিংবা পরেও রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সময়কার আরব মুশরিকদের লম্বা দাড়ি ছিল (সহীহ মুসলিম, হাদীস ১৮০০-আরবী) কারণ আরবরা তাদের সৌন্দর্য শ্মশ্রুমণ্ডিত চেহারার কোন বিকৃতি সাধন করেনি। বস্তুত, ইসলামে মুশরিকদের এই সৌন্দর্যকে স্বীকার করেছে। আরব মুশরিকরা ছিল প্রকৃতপক্ষে ইবরাহীম আলাইহি সালামের সুন্নাহ থেকে পথভ্রষ্ট হয়ে যাওয়া একটি জাতি, কিন্তু তখনও তাদের মাঝে এই সুন্নাহটি চালু ছিল। সময়ের সাথে সাথে ইসলামের অন্যান্য মূল বিষয় থেকে সরে আসলেও এক লক্ষ চব্বিশ হাজার মতান্তরে দুই লক্ষ চব্বিশ হাজার নবীর সুন্নাহ থেকে আরব মুশরিকরা পর্যন্ত সরে আসেনি।

পশ্চিমারাও তাদের দাড়ি লম্বা করত যতক্ষণ না সপ্তদশ শতকে রাশিয়ার শাসক পিটার, দাড়ি কামানোর চল ইউরোপে ছড়িয়ে দিয়েছিলেন। সেই সময়কার কিংবা তার পূর্বেকার বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ, বিজ্ঞানী, গবেষক, সভাসদ ও অন্যান্যদের আঁকা ছবি, ভাস্কর্য কিংবা প্রতিকৃতিতে আজও তার প্রমাণ মেলে। অধিকাংশই শ্মশ্রুমণ্ডিত ছিলেন।

পরবর্তীতে, মুসলিমদের মাঝেও পশ্চিমাদের অন্ধ অনুকরণের কারণে দাড়ি কামানোর এই কু-রীতিটির ব্যাপক প্রসার লাভ করে।

রাসুলুল্লাহর সময়কার মুশরিকদেরও দাড়ি ছিল, কিন্তু তাঁরা গোঁফ কামাতো না। মুসলিমরা তাদের থেকে আলাদা হলেন, মুসলিমরা ঠোটের উপরের গোঁফ ছাঁটতেন এবং দাড়ি ছেড়ে দিলেন, যেখানে মুশরিকরা তাদের দাড়ি ছোট করে রাখত সেখানে মুসলিমরা তাদের দাড়ি ছেড়ে দিলেন। এভাবেই সত্যানুসারীরা তাদের থেকে আলাদা হলেন যারা শিরকে লিপ্ত এবং পথভ্রষ্ট।

আবু শামাহ (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, "কিছু লোক দাড়ি কামানো করল, এবং এটা তো মেজিয়ানদের (একটি মুশরিক সম্প্রদায়) থেকেও নিকৃষ্ট কারণ তারা তো কেবল দাড়ি ছোট করা করেছিল! "

টীকাঃ এখানে জেনে রাখা প্রয়োজন, কিছু মুশরিকেরা দাড়ি রাখছে একারণে আমাদের মুসলিমদের দাড়ি কামিয়ে ফেলার মাধ্যমে তাদের থেকে আলাদা হওয়ার কোন সুযোগ নেই। কারণ;

* প্রথমত, তাদের স্বাভাবিক এবং অধিকাংশের অবস্থা হল, তারা দাড়ি কামিয়ে ফেলে এবং দাড়ি কামানোর বিষয়টি তাদের থেকেই উদ্ভাবিত একটি বিষয়।
* দ্বিতীয়ত, যে মুশরিকরা একারণে দাড়ি রাখছে যে এটা হচ্ছে পৌরুষ, অথবা তারা নবীদের অনুসরণের কারণে এটা করছে; তাহলে বুঝতে হবে তাদের এই ফিতরাগত ব্যাপারটি সুস্থ-স্বাভাবিক রয়েছে কারণ এই ব্যাপারে আমাদের শরীয়ার সাথে তাদের শরীয়া একমত হয়েছে। কিন্তু এরপরেও তাদের থেকে আমাদের আলাদা বৈশিষ্ট প্রকাশিত হয়েছে ঠোটের উপরের গোঁফ ছেটে ফেলার মাধ্যমে। হযরত যায়েদ বিন আকরাম রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, নিশ্চয়ই রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এরশাদ করেন, "যে ব্যক্তি স্বীয় গোঁফ ছাটবে না সে আমাদের দলভুক্ত নহে।" (তিরমিযি,সহীহ) [৯]

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00