📄 রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এর নির্দেশ ওয়াজিব বা আবশ্যকতার দাবী রাখে
সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী আল্লাহ বলেন : "আল্লাহ ও তাঁর রসূল কোন কাজের আদেশ করলে কোন ঈমানদার পুরুষ ও ঈমানদার নারীর সে বিষয়ে ভিন্ন ক্ষমতা নেই যে, আল্লাহ ও তাঁর রসূলের আদেশ অমান্য করে সে প্রকাশ্য পথভ্রষ্ট তায় পতিত হয়। " (সূরা আহযাব ৩৬)
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সীগায়ে আমর তথা আদেশমূলক বচন দ্বারা উভয়টি হুকুম করেছেন। আর আমর তথা আদেশ বস্তুত কাজকে ওয়াজিব করার জন্যে হয়ে থাকে। এথেকে বুঝা গেল যে, উভয় হুকুমই ওয়াজিব। আর ওয়াজিব পরিত্যাগ করা হারাম। সুতরাং দাড়ি মুণ্ডন করানো এবং গোঁফ লম্বা করা উভয় কর্মই হারাম।
এথেকে আরো বিস্তারিত অপর হাদীস শরীফে উল্লেখ রয়েছে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন, "যে ব্যক্তি স্বীয় গোঁফ কর্তন করে না সে আমাদের দলভুক্ত নহে।" (আহমদ, নাসায়ী, তিরমিযি)। যখন এ কর্ম গুনাহ বলে প্রমাণিত হল, তখন যে ব্যক্তি এ কর্ম বারবার করতে থাকে এবং একে পছন্দ করে, আর দাড়ি লম্বা করাকে কলংক মনে করে বরং দাড়িওয়ালাগণের প্রতি বিদ্রুপ করে এবং এর ব্যংগ করে; এসকল কর্ম সম্পাদনকারীদের ঈমান নিরাপদ থাকা খুবই কঠিন। কাজেই তাদের জন্য ওয়াজিব যে, স্বীয় এ চলচ্ছকি থেকে তাওবা করা এবং ঈমান নবায়ন করা এবং নিজেদের আকৃতিকে মহান আল্লাহ তায়ালা ও তাঁর রাসূলের হুকুম মোতাবেক বানিয়ে নেয়া।
📄 রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের দাড়ি কেমন ছিল ?
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের দাড়ি খুব ঘন ছিল (মুসলিম, জাবির রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত)।
আবু মা'মর হতে বর্ণিত, আমি খাব্বার বিন আল-আরত এর কাছে জানতে চাইলাম নবীজী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কি যুহর এবং আসর সালাতে (যখন জামাতে নীরবে তিলাওয়াত করা হয়ে থাকে) কুর'আন তিলাওয়াত করেন? তিনি হ্যাঁ বোধক উত্তর করলেন। আমি বললাম, "আপনি কিভাবে তা নিশ্চিত হলেন?" তিনি বলেন," তাঁর দাড়ির নড়াচড়া থেকে" । (বুখারী, খণ্ড ১, অধ্যায় ১২, হাদীস নং ৭২৮)
যদি রাসুলুল্লাহর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) দাড়ি ছোট করে কামানো থাকত তাহলে কিভাবে তা বোঝা সম্ভবপর হতো?
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের দাড়ি ঘন ও বিস্তৃত ছিল। হযরত আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, "নবীজীর দাড়ি এখান থেকে এ পর্যন্ত পূর্ণ ছিল (নবীজীর চেহারা)" তিনি তাঁর হাত দিয়ে চিবুক পর্যন্ত ইশারা করে দেখান।
সাহাবাগণ রাদিয়াল্লাহু আনহুম যোহর ও আসর সালাতে যখন নীরবে ক্বেরাত পাঠ করা হয় তখন যখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ক্বেরাত পাঠ করতেন তা বুঝতে পারতেন, "তাঁর দাড়ির নড়াচড়া থেকে"। [২]
📄 দাড়ি কামিয়ে ফেলার ফলে যে সকল গুনাহের দ্বার খুলে যায়
এই অধ্যায়ে কোনো কন্টেন্ট এখনো যোগ করা হয়নি।
📄 অবাধ্যতা
আল্লাহ রাব্বুল আলামিন বলেন, "আল্লাহ তায়ালা ও তাঁর রাসূল যখন কোনো ব্যাপারে কোনো সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেন তখন কোনো মুমিন পুরুষ ও কোনো মুমিন নারীর তাদের সে ব্যাপারে নিজেদের কোনো রকম এখতিয়ার থাকবে না - (যে তারা তাতে কোনো রদবদল করবে); যে ব্যক্তি আল্লাহ তায়ালা ও তাঁর রাসূলের নাফরমানী করবে, সে নিসন্দেহে সুস্পষ্ট গোমরাহীতে নিমজ্জিত হয়ে যাবে।" (আল-আহযাব ৩৬)
"তোমাদের মধ্যে যদি কেউ আল্লাহ তায়ালা এবং তাঁর রসূলকে অমান্য করে, তার জন্যে রয়েছে জাহান্নামের আগুন, সেখানে তারা চিরকাল থাকবে।" (সূরা জ্বিন ২৩)
"রাসূল তোমাদের যা কিছু দেয় তা তোমরা গ্রহণ করো এবং সে যা কিছু নিষেধ করে তা থেকে বিরত থাকো, আল্লাহ তায়ালাকেই ভয় করো; অবশ্যই আল্লাহ তায়ালা কঠোর শাস্তিদাতা।" (হাশর ৭)
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, "আর আমি যাকিছু নিষেধ করেছি তা থেকে বেঁচে থাকো" [৩]
হযরত আমর ইবন শুয়াইব রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, “বার্ধক্যে (সাদাচুলকে) উপড়ে ফেলো না। কেননা তা কিয়ামতের দিন মুসলমানের জন্য আলোকবর্তিকা হবে”। (তিরমিযি, আবু দাউদ, রিয়াদুস সালেহিন ১৬৪৬)
"যে আমার সুন্নাহর বিরাগভাজন হয়, তার আমার সাথে কোন লেনদেন নেই।" (বুখারী, ৪৬৭৫)
দাড়ি কিংবা মাথা থেকে চুল উপড়ে ফেলার মধ্যে কোন পার্থক্য নেই। প্রকৃতপক্ষে, যে তার দাড়ি কামিয়ে ফেলে সে কালো কিংবা সাদা উভয় প্রকার চুলের বৃদ্ধিকেই অপছন্দ করে থাকে, অথচ সাদা দাড়িকে কিয়ামতের দিন মুসলমানের জন্য নূর হিসেবে বলা হয়েছে। ইমাম গাযযালী এবং ইমাম নওয়াবী (রাহিমাহুল্লাহ) উভয়ে বলেছেন, "যখন দাড়ি গজাতে করে তখন তা উপড়ে ফেলা হল মুরদ'দের [৪] সাথে সাদৃশ্য এবং একটি বড় মুনকারাত(মন্দ কাজ)"