📄 বিশ হাজার দিরহামের বিনিময়ে দাড়ি ক্রয় !
আনসারগণ কায়েস বিন সা'দ সম্পর্কে উচ্চ প্রশংসা করে বলতেন, " গোত্র প্রধান কায়েস কত মহান! তিনি একজন বীর ও সম্মানিত ব্যক্তি! কিন্তু তার কোন দাড়ি নেই। নিশ্চয়ই আল্লাহর কসম করে বলছি, যদি দিরহামের বিনিময়ে দাড়ি ক্রয় করা সম্ভব হত, আমরা তার পৌরুষকে পূর্ণ করার জন্যে তাই করতাম।"
প্রখ্যাত তাবেঈ আহনাফ বিন কায়স একজন বিচক্ষণ, বুদ্ধিমান ও জ্ঞানী লোক ছিলেন। তিনি সৃষ্টিগত দিক থেকে খোঁড়া ও এক চোখ অন্ধ ছিলেন। কিন্তু তাঁর দাড়ি উঠে নি। তিনি ছিলেন নিজ গোত্রের নেতা। লোকরা বলল, "বিশ হাজার দীনার খরচ করেও যদি যদি দাড়ী কিনে পাওয়া যেত তবে আমরা তাঁর জন্য তা খরিদ করতাম।" কি আশ্চর্য! লোকেরা তাঁর পা বা চোখের ত্রুটিকে ত্রুটি মনে করল না। কিন্তু তারা দাড়ি না থাকাটাকে অপছন্দ করল। কেননা তাঁরা দাড়িকে মনে রতেন পৌরুষত্বের পরিচয়, মুসলিমের সৌন্দর্য ও ব্যক্তিত্বের পূর্ণতার প্রতীক।
পরিহাসের বিষয় যেখানে ব্যক্তিত্বসম্পন্ন মুসলিমগণ তাদের দাড়ি না থাকাকে ব্যক্তিত্বের হানি বলে জ্ঞান করতেন এবং যেকোন মূল্যে হলেও তা ফিরে পাওয়ার চেষ্টা করতেন সেখানে আজকে বর্তমান যুগে মানুষ টাকা পয়সা খরচ করছে দাড়ি মুণ্ডন করার পিছনে ! এভাবেই শয়তানের ধোঁকায় মানুষের স্বভাবগত প্রকৃতি ধ্বংস হয়ে যায়। আল্লাহ আমাদেরকে সরল পথে চালিত করুন, আমিন।
📄 দাড়ি কামানো হারাম এবং কবীরা গুনাহ
ইমাম ইবনে তাইমিয়া (রহঃ) বলেন, দাড়ী মুন্ডন করা হারাম।
ইমাম কুরতুবী (রঃ) বলেন, দাড়ী মুন্ডন, উঠানো বা কর্তন করা কোনটাই জায়েয নয়।
শায়খ বিন বায (রঃ) বলেন, দাড়ীকে সংরক্ষণ করা, পরিপূর্ণ রাখা ও তা ছেড়ে দেয়া ফরয। এই ফরযের প্রতি অবহেলা করা জায়েয নয়।
শাইখ ইবনে উসাইমীন (রঃ) বলেন, দাড়ী রাখা ওয়াজিব, উহা মুন্ডন করা হারাম বা কাবীরা গুনাহ।
শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া রাহিমাহুল্লাহ আরো বলেন, "আল-কুরআন, সুন্নাহ এবং ইজমা ( আলেমগণের ঐকমত) হচ্ছে মুসলিমগণ কুফফারদের হতে সকল বিষয়ে স্বত্ত্ব হবে এবং তাদের অনুকরণ করবে না, কেননা তাদের তাদের বাহ্যিক অনুরকণও একসময় আমাদেরকে তাদের বদ অভ্যাস এবং কুকর্ম করতে বাধ্য করে, এমনকি তারা যা বিশ্বাস করে তাও বিশ্বাস করিয়ে ছাড়ে; তাই আমাদের অন্তর থেকে তাদের প্রতি বাৎসল্য দূর করতে হবে, কারণ তাদের প্রতি যদি কোন বাৎসল্য অন্তরে লুকানো থাকে তাহলে তার প্রকাশ ঘটে বাহ্যিকভাবে তাদের অনুকরণ অনুসরণের মাধ্যমে।" আল তিরমিযি হতে উল্লেখিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, "সে আমাদের দলভুক্ত নয়, যে আমাদের ব্যতীত অন্যদের অনুকরণ করে। ইহুদী এবং খ্রিষ্টানদের অনুকরণ করো না।" আরেকটি বর্ণনামতে, "যে যাকে অনুকরণ করে সে তাদের অন্তর্গত।" (আহমাদ)
উমর ইবন আল খাত্তাব সেই লোকের থেকে সাক্ষ্য গ্রহণ করতেন না যে তার দাড়ি কামিয়ে ফেলেছে। ইমাম ইবন আবদ আল বার 'আল তাহমিদ' গ্রন্থে বলেন, "দাড়ি কামানো হারাম। এবং এই কাজ সেই লোক ছাড়া আর কেউ করে না যে কিনা মেয়েলি স্বভাবের।"
তাই হে দাড়ি মুণ্ডনকারী, উলামাগণের মতে আপনি একজন মেয়েলি স্বভাবের পুরুষ! উপরন্তু, উমর ইবন খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু, ইবনে আবি ইয়ালা প্রমুখ সেই ব্যক্তির থেকে কোন সাক্ষ্য গ্রহণ করতেন না যে তার দাড়ি কামিয়ে ফেলে। কাজেই হে দাড়ি কামানো ব্যক্তি, ইসলামে আপনার কোন সাক্ষ্য গ্রহণ নেই, আপনি একজন অবিশ্বস্ত লোক !
এই সকল শরয়ী দলিল প্রমাণাদির পরিপ্রেক্ষিতে উম্মতের ফকীহগণ ঐক্যমত হয়েছেন যে, দাড়ি লম্বা করা ওয়াজিব এবং ইহা ইসলামের বৈশিষ্ট্য এবং ইহা মুণ্ডন কিংবা কর্তন করানো যেখন শরয়ী পরিমাণ থেকে কম করানো হয় তখন) হারাম এবং কবীরা গুনাহ, যার উপর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কঠোর শাস্তির ভয় প্রদর্শন করেছেন। আল্লাহ আমাদের সকলকে এই হারাম কর্ম থেকে বেঁচে থাকার তাওফীক দান করুন।
📄 রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এর নির্দেশ ওয়াজিব বা আবশ্যকতার দাবী রাখে
সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী আল্লাহ বলেন : "আল্লাহ ও তাঁর রসূল কোন কাজের আদেশ করলে কোন ঈমানদার পুরুষ ও ঈমানদার নারীর সে বিষয়ে ভিন্ন ক্ষমতা নেই যে, আল্লাহ ও তাঁর রসূলের আদেশ অমান্য করে সে প্রকাশ্য পথভ্রষ্ট তায় পতিত হয়। " (সূরা আহযাব ৩৬)
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সীগায়ে আমর তথা আদেশমূলক বচন দ্বারা উভয়টি হুকুম করেছেন। আর আমর তথা আদেশ বস্তুত কাজকে ওয়াজিব করার জন্যে হয়ে থাকে। এথেকে বুঝা গেল যে, উভয় হুকুমই ওয়াজিব। আর ওয়াজিব পরিত্যাগ করা হারাম। সুতরাং দাড়ি মুণ্ডন করানো এবং গোঁফ লম্বা করা উভয় কর্মই হারাম।
এথেকে আরো বিস্তারিত অপর হাদীস শরীফে উল্লেখ রয়েছে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন, "যে ব্যক্তি স্বীয় গোঁফ কর্তন করে না সে আমাদের দলভুক্ত নহে।" (আহমদ, নাসায়ী, তিরমিযি)। যখন এ কর্ম গুনাহ বলে প্রমাণিত হল, তখন যে ব্যক্তি এ কর্ম বারবার করতে থাকে এবং একে পছন্দ করে, আর দাড়ি লম্বা করাকে কলংক মনে করে বরং দাড়িওয়ালাগণের প্রতি বিদ্রুপ করে এবং এর ব্যংগ করে; এসকল কর্ম সম্পাদনকারীদের ঈমান নিরাপদ থাকা খুবই কঠিন। কাজেই তাদের জন্য ওয়াজিব যে, স্বীয় এ চলচ্ছকি থেকে তাওবা করা এবং ঈমান নবায়ন করা এবং নিজেদের আকৃতিকে মহান আল্লাহ তায়ালা ও তাঁর রাসূলের হুকুম মোতাবেক বানিয়ে নেয়া।
📄 রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের দাড়ি কেমন ছিল ?
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের দাড়ি খুব ঘন ছিল (মুসলিম, জাবির রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত)।
আবু মা'মর হতে বর্ণিত, আমি খাব্বার বিন আল-আরত এর কাছে জানতে চাইলাম নবীজী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কি যুহর এবং আসর সালাতে (যখন জামাতে নীরবে তিলাওয়াত করা হয়ে থাকে) কুর'আন তিলাওয়াত করেন? তিনি হ্যাঁ বোধক উত্তর করলেন। আমি বললাম, "আপনি কিভাবে তা নিশ্চিত হলেন?" তিনি বলেন," তাঁর দাড়ির নড়াচড়া থেকে" । (বুখারী, খণ্ড ১, অধ্যায় ১২, হাদীস নং ৭২৮)
যদি রাসুলুল্লাহর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) দাড়ি ছোট করে কামানো থাকত তাহলে কিভাবে তা বোঝা সম্ভবপর হতো?
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের দাড়ি ঘন ও বিস্তৃত ছিল। হযরত আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, "নবীজীর দাড়ি এখান থেকে এ পর্যন্ত পূর্ণ ছিল (নবীজীর চেহারা)" তিনি তাঁর হাত দিয়ে চিবুক পর্যন্ত ইশারা করে দেখান।
সাহাবাগণ রাদিয়াল্লাহু আনহুম যোহর ও আসর সালাতে যখন নীরবে ক্বেরাত পাঠ করা হয় তখন যখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ক্বেরাত পাঠ করতেন তা বুঝতে পারতেন, "তাঁর দাড়ির নড়াচড়া থেকে"। [২]