📄 পৌরুষ
আল্লাহ নারী-পুরুষকে সুন্দরতম আকৃতি দান করেছেন এবং উভয়ের মাঝেই সৌন্দর্যোপরকণ হিসেবে চুল দান করেছেন সমানভাবে, কিছুক্ষেত্রে পার্থক্য রয়েছে, যেমন দাড়ি এবং গোঁফ। নারী পুরুষের পোশাক দান করার পর বাহ্যিকভাবে তাদেরকে আলাদা করার জন্য এই পার্থক্যটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। একজন পুরুষের জন্য নারীদের পোশাক পরিধানের চেয়েও অধিক লজ্জাকর হল দাড়ি কামিয়ে ফেলা, কারণ সুন্দরভাবে ভদ্র শালীন পোশাকে সুসজ্জিত হবার পর বাহ্যিক যে পার্থক্য সর্বপ্রথমে ফুটে উঠে তা হল মুখাবয়ব। আল্লাহ সুবহানাহা ওয়া তায়ালা নিজে সমস্ত সৌন্দর্যের অধিকারী, তিনি সৌন্দর্য পছন্দ করেন, তাই তিনি নারী ও পুরুষকে সেই সকল সৌন্দর্যপকরণ দান করেছেন যা কিনা তাদের স্বভাবগত প্রকৃতি তথা ফিতরা'র সাথে মানানসই।
ইসলাম নারীদেরকে স্বর্ণ ও রৌপ্য ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছে যা তাদের সৌন্দর্য বর্ধনে সহায়ক অপরদিকে পুরুষদের জন্যে তা হারাম করেছে কেননা তা পৌরুষের সাথে বেমানান। অনুরূপ, কোন নারীর জন্য এটা সুদর্শনীয় নয় যে তার গোঁফ কিংবা দাড়ি থাকবে। এটা তার সম্মান, মর্যাদা ও সৌন্দর্যের হানি ঘটায় যা পুরুষের বিপরীত।
পরম করুণাময়ের বান্দাগণের একটি দুয়া হল, "তুমি আমাদের পরহেযগার লোকদের ইমাম বানিয়ে দাও" (আল ফুরকান ৭৪)
কিছু আলেমগণ উক্ত আয়াতের ব্যাখায় বলেছেন, "আমাদের পূর্বসূরীদের (যারা ছিল তাকওয়া অবলম্বনকারী) তাদের অনুসারী বানাও যাতে আমরা আমাদের পরবর্তী প্রজন্মের কাছে ভালো দৃষ্টান্ত রেখে যেতে পারি।" এমন কোন একটিও বর্ণনা নেই যেখানে সালফে সালেহীনগণের(সাহাবাগণ, তাবেয়ীগণ এবং যারা সরল পথের উপর প্রতিষ্ঠিত ছিলেন) একজনও নেই যিনি তাঁর দাড়ি কামিয়েছেন, কেননা এই কাজটি একটি হারাম কাজ। যদি এটি কোন ভাল কাজ হতো তাহলে তারাই সর্বাগ্রে তা সম্পাদন করতেন! কেননা, এমন কোন ভাল কাজ নেই যা করতে তারা একে অন্যের আগে প্রতিযোগিতা করেননি। 'মারাতিবুল ইজমা' নামক গ্রন্থে ইমাম ইবন হাজম রাহিলাহুল্লাহ বলেন, "তারা (সালফে সালেহীনগণ) একমত হয়েছেন যে, পুরো দাড়ি কামিয়ে ফেলা হচ্ছে মুথলা (আল্লাহর সৃষ্টির বিকৃতি ঘটানো) (ফলে) এর অনুমতি নেই।"
📄 সৌন্দর্য ও সম্মান
আল্লাহ তায়ালা বলেন, "এবং নিশ্চয়ই আমি আদম সন্তানদের সম্মানিত করেছি...।" (ইসরা ৭০)
কিছু তাফসীরকার বলেন, "সম্মানিত করার একটি রূপ হলো আদম সন্তানদেরকে সর্বোত্তম ও সুন্দরতম গঠনে অবয়ব দান করা হয়েছে।" অনুরুপ বলেছেন অনেকে, পুরুষদের দাড়ি এবং নারীদের কেশগুচ্ছ হচ্ছে সম্মানিত করার উদাহরণস্বরুপ। নিশ্চয়ই আল্লাহ মহামহিম বলেন, "আমাদের সিবগাহ(দীন) হল আল্লাহর সিবগাহ (ইসলাম) এবং কোন সিবগাহ (ধর্ম) আছে যা আল্লাহর দীনের থেকে উত্তম ...?" (বাকারাহ ১৮৮) এই সিবগাহ হচ্ছে ইসলাম, এবং মানুষের স্বভাবগত প্রকৃতি বা ফিতরা যার উপর তাকে সৃষ্টি করা হয়েছে; এমনটাই মন পেশ করেছেন অধিকাংশ মুফাসসির।
আল্লাহ সুবহানাহা ওয়া তায়ালা আরো বলেন, "অবশ্যই আমি মানুষকে সুন্দরতম অবয়বে সৃষ্টি করেছি" [সূরা তীন ৪]
"হে মানুষ, কোন জিনিসটি তোমাকে তোমার মহামহিম মালিকের ব্যাপারে ধোকায় ফেলে রাখলো?
যিনি তোমাকে সৃষ্টি করেছেন, অতঃপর তিনি তোমাকে সোজা সুঠাম করেছেন এবং তোমাকে সুসামঞ্জস্য করেছেন,
তিনি যেভাবে চেয়েছেন সে আংগিকেই তোমাকে গঠন করেছেন" (ইনফিতার ৬-৮)
"আল্লাহ তায়ালারই সৃষ্টির শৈল্পিক নিপূণতা।" (নামল ৮৮)
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, "আল্লাহর সমস্ত সৃষ্টিই পরিপূর্ণরূপে সুন্দর"। [১]
📄 দাড়ি বড় থাকা রোগমুক্তির সহায়ক
চিকিৎসা বিজ্ঞানে আজ একথা প্রমাণিত যে, পুরুষের মুখে দাড়ির বৃদ্ধি টেস্টোসটেরন নামক একটি পুং হরমোন নিঃসরণের অন্যতম সহায়ক। এই হরমোনের ঘাটতি হলে অনেকের (আর রুজুলাহ) বা (demasculinization) জনিত নানাবিধ রোগ দেখা দেয়, যা দাড়ি কামানোর ফলে হয়ে থাকে। যদি এই হরমোন কোন নারীদেহে প্রবেশ করানো হয় তবে তার নারীসুলভ আচরণের পরিবর্তন ঘটে থাকে। দেখা দেয় Istirjaal (Virilization or Masculinization)। এই লক্ষণগুলোর মধ্যে সবচেয়ে প্রকট হল ash-Sha'raaniyeeyah বা (Hirsuitism)। এর ফলে দেহের যেখানে স্বাভাবিকভাবে কোন চুল বা লোম গজায় না সেসব স্থানে তখন চুল বা লোম গজাতে করে।
📄 দাড়ির মূল্য সম্পর্কিত একটি ঘটনা
আনসারগণ কায়েস বিন সা'দ সম্পর্কে উচ্চ প্রশংসা করে বলতেন, " গোত্র প্রধান কায়েস কত মহান! তিনি একজন বীর ও সম্মানিত ব্যক্তি! কিন্তু তার কোন দাড়ি নেই। নিশ্চয়ই আল্লাহর কসম করে বলছি, যদি দিরহামের বিনিময়ে দাড়ি ক্রয় করা সম্ভব হত, আমরা তার পৌরুষকে পূর্ণ করার জন্যে তাই করতাম।"
প্রখ্যাত তাবেঈ আহনাফ বিন কায়স একজন বিচক্ষণ, বুদ্ধিমান ও জ্ঞানী লোক ছিলেন। তিনি সৃষ্টিগত দিক থেকে খোঁড়া ও এক চোখ অন্ধ ছিলেন। কিন্তু তাঁর দাড়ি উঠে নি। তিনি ছিলেন নিজ গোত্রের নেতা। লোকরা বলল, "বিশ হাজার দীনার খরচ করেও যদি যদি দাড়ী কিনে পাওয়া যেত তবে আমরা তাঁর জন্য তা খরিদ করতাম।" কি আশ্চর্য! লোকেরা তাঁর পা বা চোখের ত্রুটিকে ত্রুটি মনে করল না। কিন্তু তারা দাড়ি না থাকাটাকে অপছন্দ করল। কেননা তাঁরা দাড়িকে মনে রতেন পৌরুষত্বের পরিচয়, মুসলিমের সৌন্দর্য ও ব্যক্তিত্বের পূর্ণতার প্রতীক।
পরিহাসের বিষয় যেখানে ব্যক্তিত্বসম্পন্ন মুসলিমগণ তাদের দাড়ি না থাকাকে ব্যক্তিত্বের হানি বলে জ্ঞান করতেন এবং যেকোন মূল্যে হলেও তা ফিরে পাওয়ার চেষ্টা করতেন সেখানে আজকে বর্তমান যুগে মানুষ টাকা পয়সা খরচ করছে দাড়ি মুণ্ডন করার পিছনে ! এভাবেই শয়তানের ধোঁকায় মানুষের স্বভাবগত প্রকৃতি ধ্বংস হয়ে যায়। আল্লাহ আমাদেরকে সরল পথে চালিত করুন, আমিন।