📄 দাড়ি সকল নবীদের সুন্নাহ
যা উপরে ব্যাখা করা হয়েছে তা হচ্ছে সকল নবীগণের সুন্নাত। আল্লাহ তায়ালা কুরআন মাজিদে বলেন, "যখন ইব্রাহীমকে তাঁর পালনকর্তা কয়েকটি বিষয়ে পরীক্ষা করলেন, অতঃপর তিনি তা পূর্ণ করে দিলেন.. " (সূরা বাকারাহ ১২৪)
ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু একটি সহীহ সনদে ব্যাখা করেন, আল্লাহ তায়ালা যে সকল কালিমাত এর দ্বারা ইবরাহীম আলাইহি সালামের পরীক্ষা নিয়েছিলেন, সেগুলো ছিল ফিতরার স্বাভাবিক গুণাবলীসমূহ।
কুরআন মাজিদের সুস্পষ্ট বর্ণনা হতে সহজেই প্রতীয়মান হয় যে, নবী হারুন আলাইহি সালামের দাড়ি ছিল দীর্ঘ এবং লম্বা। মূসা আলাইহি সালামের সাথে তাঁর ভাই হারুন আলাইহি সালামের কথোপকথনের উল্লেখ এভাবে এসেছে, " সে (হারুন) বলল, তিনি বললেনঃ হে আমার জননী-তনয়, আমার ও মাথার চুল ধরে আকর্ষণ করো না; " (সূরা ত্বহা ৯৪)
যদি তাঁর দাড়ি মুণ্ডনকৃত হতো কিংবা খুব ছোট ছোট হত তাহলে মুসা আলাইহি সালাম তা হাত দিয়ে ধরতে পারতেন না! সূরা আন'আমে ইবরাহীম আলাইহি সালাম ও হারুন আলাইহি সালাম সহ বেশ কয়েকজন আম্বিয়া আলাইহি সালামের নাম উল্লেখ করে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা বলেন, "এরা এমন ছিল, যাদেরকে আল্লাহ পথ প্রদর্শন করেছিলেন। অতএব, আপনিও তাদের পথ অনুসরণ করুন।" (আন'আম ৯০)
আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা আমাদের রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রতি আদেশ করেছিলেন তাঁর পূর্বের আম্বিয়া আলাইহি সালামের দেখানো পথের অনুসরণ করতে এবং এটা আমাদের উপরেও বর্তায়। কারণ যার অনুসরণ করার কথা বলা হয়েছে তাকে আদেশ করার অর্থ হল বাকি অনুসরণকারীদেরও সেই একই আদেশ করা। আল্লাহ মহামহিম আল কুর'আনে বলেন,
"তোমাদের জন্যে অবশ্যই আল্লাহর রাসূলের মাঝে (অনুকরণযোগ্য) উত্তম আদর্শ রয়েছে, (আদর্শ রয়েছে) এমন প্রতিটি ব্যক্তির জন্যে, যে আল্লাহ তায়ালার সাক্ষাৎ পেতে আগ্রহী এবং যে পরকালের(মুক্তির) আশা করে" (আল আহযাব ২১)
স্বাভাবিকভাবেই দাড়ি রাখার আদেশও এরকমই একটি আদেশ যা পূর্ণ করার জন্য নবীদেরকে এবং তাদের উম্মতকে আদেশ করা হয়েছে। এ হিসেবে মর্মার্থ এই হবে যে, গোঁফসমূহ কর্তন করা এবং দাড়ি লম্বা করা এক লক্ষ চব্বিশ হাজার আম্বিয়া আলাইহিমুস সালাম এর সম্মত সুন্নাত। আর তাঁরা সেই পবিত্র জামায়াত যাদের অনুকরণের জন্য আমাদের প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে (তথা উম্মতকে) নির্দেশ দেয়া হয়েছে। ইরশাদ হচ্ছে, "এরা এমন ছিল, যাদেরকে আল্লাহ তায়ালা পথ প্রদর্শন করেছিলেন। কাজেই আপনিও তাদের পথ অনুসরণ করুন।" (সূরা আনআম-৯০)
এই জন্যেই যে ব্যক্তি দাড়ি মুণ্ডন করে সে আম্বিয়া আলাইহিমুস সালাম এর প্রকৃতির বিরোধীতা করে। উক্ত হাদীস শরীফে যেন সতর্ক করা হয়েছে যে, দাড়ি মুণ্ডন করা তিনটি গুনাহের সমষ্টি।
* মানবিক প্রকৃতির বিপরীত করা
* শয়তানের প্ররোচনায় আল্লাহ তায়ালার সৃষ্ট প্রকৃতিকে পরিবর্তন করা
* আম্বিয়া আলাইহিমুস সালাম এর বিরোধিতা
অতএব, সহজেই বোঝা গেল দাড়ি মুণ্ডন করা হারাম।
📄 পৌরুষ
আল্লাহ নারী-পুরুষকে সুন্দরতম আকৃতি দান করেছেন এবং উভয়ের মাঝেই সৌন্দর্যোপরকণ হিসেবে চুল দান করেছেন সমানভাবে, কিছুক্ষেত্রে পার্থক্য রয়েছে, যেমন দাড়ি এবং গোঁফ। নারী পুরুষের পোশাক দান করার পর বাহ্যিকভাবে তাদেরকে আলাদা করার জন্য এই পার্থক্যটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। একজন পুরুষের জন্য নারীদের পোশাক পরিধানের চেয়েও অধিক লজ্জাকর হল দাড়ি কামিয়ে ফেলা, কারণ সুন্দরভাবে ভদ্র শালীন পোশাকে সুসজ্জিত হবার পর বাহ্যিক যে পার্থক্য সর্বপ্রথমে ফুটে উঠে তা হল মুখাবয়ব। আল্লাহ সুবহানাহা ওয়া তায়ালা নিজে সমস্ত সৌন্দর্যের অধিকারী, তিনি সৌন্দর্য পছন্দ করেন, তাই তিনি নারী ও পুরুষকে সেই সকল সৌন্দর্যপকরণ দান করেছেন যা কিনা তাদের স্বভাবগত প্রকৃতি তথা ফিতরা'র সাথে মানানসই।
ইসলাম নারীদেরকে স্বর্ণ ও রৌপ্য ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছে যা তাদের সৌন্দর্য বর্ধনে সহায়ক অপরদিকে পুরুষদের জন্যে তা হারাম করেছে কেননা তা পৌরুষের সাথে বেমানান। অনুরূপ, কোন নারীর জন্য এটা সুদর্শনীয় নয় যে তার গোঁফ কিংবা দাড়ি থাকবে। এটা তার সম্মান, মর্যাদা ও সৌন্দর্যের হানি ঘটায় যা পুরুষের বিপরীত।
পরম করুণাময়ের বান্দাগণের একটি দুয়া হল, "তুমি আমাদের পরহেযগার লোকদের ইমাম বানিয়ে দাও" (আল ফুরকান ৭৪)
কিছু আলেমগণ উক্ত আয়াতের ব্যাখায় বলেছেন, "আমাদের পূর্বসূরীদের (যারা ছিল তাকওয়া অবলম্বনকারী) তাদের অনুসারী বানাও যাতে আমরা আমাদের পরবর্তী প্রজন্মের কাছে ভালো দৃষ্টান্ত রেখে যেতে পারি।" এমন কোন একটিও বর্ণনা নেই যেখানে সালফে সালেহীনগণের(সাহাবাগণ, তাবেয়ীগণ এবং যারা সরল পথের উপর প্রতিষ্ঠিত ছিলেন) একজনও নেই যিনি তাঁর দাড়ি কামিয়েছেন, কেননা এই কাজটি একটি হারাম কাজ। যদি এটি কোন ভাল কাজ হতো তাহলে তারাই সর্বাগ্রে তা সম্পাদন করতেন! কেননা, এমন কোন ভাল কাজ নেই যা করতে তারা একে অন্যের আগে প্রতিযোগিতা করেননি। 'মারাতিবুল ইজমা' নামক গ্রন্থে ইমাম ইবন হাজম রাহিলাহুল্লাহ বলেন, "তারা (সালফে সালেহীনগণ) একমত হয়েছেন যে, পুরো দাড়ি কামিয়ে ফেলা হচ্ছে মুথলা (আল্লাহর সৃষ্টির বিকৃতি ঘটানো) (ফলে) এর অনুমতি নেই।"
📄 সৌন্দর্য ও সম্মান
আল্লাহ তায়ালা বলেন, "এবং নিশ্চয়ই আমি আদম সন্তানদের সম্মানিত করেছি...।" (ইসরা ৭০)
কিছু তাফসীরকার বলেন, "সম্মানিত করার একটি রূপ হলো আদম সন্তানদেরকে সর্বোত্তম ও সুন্দরতম গঠনে অবয়ব দান করা হয়েছে।" অনুরুপ বলেছেন অনেকে, পুরুষদের দাড়ি এবং নারীদের কেশগুচ্ছ হচ্ছে সম্মানিত করার উদাহরণস্বরুপ। নিশ্চয়ই আল্লাহ মহামহিম বলেন, "আমাদের সিবগাহ(দীন) হল আল্লাহর সিবগাহ (ইসলাম) এবং কোন সিবগাহ (ধর্ম) আছে যা আল্লাহর দীনের থেকে উত্তম ...?" (বাকারাহ ১৮৮) এই সিবগাহ হচ্ছে ইসলাম, এবং মানুষের স্বভাবগত প্রকৃতি বা ফিতরা যার উপর তাকে সৃষ্টি করা হয়েছে; এমনটাই মন পেশ করেছেন অধিকাংশ মুফাসসির।
আল্লাহ সুবহানাহা ওয়া তায়ালা আরো বলেন, "অবশ্যই আমি মানুষকে সুন্দরতম অবয়বে সৃষ্টি করেছি" [সূরা তীন ৪]
"হে মানুষ, কোন জিনিসটি তোমাকে তোমার মহামহিম মালিকের ব্যাপারে ধোকায় ফেলে রাখলো?
যিনি তোমাকে সৃষ্টি করেছেন, অতঃপর তিনি তোমাকে সোজা সুঠাম করেছেন এবং তোমাকে সুসামঞ্জস্য করেছেন,
তিনি যেভাবে চেয়েছেন সে আংগিকেই তোমাকে গঠন করেছেন" (ইনফিতার ৬-৮)
"আল্লাহ তায়ালারই সৃষ্টির শৈল্পিক নিপূণতা।" (নামল ৮৮)
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, "আল্লাহর সমস্ত সৃষ্টিই পরিপূর্ণরূপে সুন্দর"। [১]
📄 দাড়ি বড় থাকা রোগমুক্তির সহায়ক
চিকিৎসা বিজ্ঞানে আজ একথা প্রমাণিত যে, পুরুষের মুখে দাড়ির বৃদ্ধি টেস্টোসটেরন নামক একটি পুং হরমোন নিঃসরণের অন্যতম সহায়ক। এই হরমোনের ঘাটতি হলে অনেকের (আর রুজুলাহ) বা (demasculinization) জনিত নানাবিধ রোগ দেখা দেয়, যা দাড়ি কামানোর ফলে হয়ে থাকে। যদি এই হরমোন কোন নারীদেহে প্রবেশ করানো হয় তবে তার নারীসুলভ আচরণের পরিবর্তন ঘটে থাকে। দেখা দেয় Istirjaal (Virilization or Masculinization)। এই লক্ষণগুলোর মধ্যে সবচেয়ে প্রকট হল ash-Sha'raaniyeeyah বা (Hirsuitism)। এর ফলে দেহের যেখানে স্বাভাবিকভাবে কোন চুল বা লোম গজায় না সেসব স্থানে তখন চুল বা লোম গজাতে করে।